জেমস বন্ডের স্পাই বাগ: গুগল ক্রোম

জেমস বন্ড সিরিজের সিনেমার গুগপ্তচরবৃত্তির ‘স্পাই বাগ’-এর মতোই ব্যবহার করা সম্ভব গুগল ক্রোম ব্রাউজার। বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির ব্রাউজার হিসেবে পরিচিত গুগল ক্রোমে সম্প্রতি এমন এক বাগ আবিষ্কার করেছেন ইসারয়েলি কোডার তেল আতের যা ব্যবহার করে আড়িপাতা যাবে কম্পিউটারের আশপাশে উপস্থিতদের আলাপ আলোচনায়।

বার্তা সংস্থা বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নিজস্ব স্পিচ রিকগনিশান সফটওয়্যার বানানোর সময় ক্রোমের ওই বাগটি আবিষ্কার করেন আতের। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বাগটি কোনো হুমকির কারণ হবে না বলে দাবি করেছে গুগল।

আতের তার আবিষ্কার সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন এক ব্লগ পোস্টে। ব্লগ পোস্টটির পাশাপাশি পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করার জন্য ভিডিও পোস্ট করেছেন আতের। একজন হ্যাকার কিভাবে বিশেষ কোড ব্যবহার করে ক্রোমের স্পিচ রিকগনিশন সিস্টেমটি চালু করে দিয়ে কম্পিউটারের আশপাশে উপস্থিত ব্যক্তিদের আলাপ আলোচনায় আড়িপাততে পাড়বে তাও ওই ভিডিওতে দেখিয়েছেন আতের।

আতের আরও জানিয়েছেন ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসেই গুগলকে অবহিত করা হয়েছিল ক্রোম ব্রাউজারের বাগটি নিয়ে। গুগল বাগটি ঠিক করার উপায় খুব অল্প সময়ে বের করে ফেললেও ক্রোমের নতুন আপডেটে রয়ে গেছে বাগটি।

এ ব্যাপারে গুগলের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ওই বাগটি নিয়ে আবারও তদন্ত শুরু করেছি, তবে এটি বড় কোনো হুমকি নয় বলেই মনে করি আমরা।’

পেটেন্ট মামলার রায়: দোষী স্যামসাং

দক্ষিণ কোরিয় ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট স্যামসাং প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাপলের পেটেন্ট করা ‘ওয়ার্ড রিকমেন্ডেশন টেকনোলজি’-র অপব্যবহার করেছে বলে রায় দিয়েছে মার্কিন আদালত। পেটেন্টে আইন ভঙ্গের ওই মামলায় অ্যাপলের পক্ষে রায় দেন মার্কিন বিচারক লুসি কোহ, এর আগেও এই দুই প্রযুক্তি জায়ান্টের মামলার বিচারক ছিলেন তিনি।

বার্তাসংস্থা বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অ্যাপলের বিরুদ্ধে পেটেন্ট করা প্রযুক্তির অপব্যবহারের পাল্টা অভিযোগ আনলেও তা নাকচ করে দেন ওই বিচারক।

২০০৭ সালে স্টিভ জবস প্রথম আইফোন উন্মোচনের কয়েক মাস আগেই ‘অটো-ওয়ার্ড কমপ্লিট’ প্রযুক্তির পেটেন্টের জন্য আবেদন করেছিল অ্যাপল। পেটেন্ট আইন ভঙ্গের অভিযোগের বিপরীতে স্যামসাংয়ের দাবি ছিল অ্যাপলের ওই পেটেন্ট কেবল ‘ফিজিকাল কিবোর্ড’ আছে এমন স্মার্টফোন আর ট্যাবলেটের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

কিন্তু অ্যাপলের পেটেন্ট আবেদনে নির্দিষ্ট কোনো ডিভাইসের কথা উল্লেখ ছিল না বলে স্যামসাংয়ের দাবি প্রত্যাখ্যান করে মার্কিন আদালত।

আদালতের ‘রায় হতাশাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন স্যামসাংয়ের এক মুখপাত্র। তবে নিরবতা বজায় রাখছে অ্যাপল। আদালতের রায়ে মার্কিন বাজারে নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে স্যামসাংয়ের নেক্সাস স্মার্টফোন এবং গ্যালাক্সি নোট ফ্যাবলেটের উপর।

 

কক্সবাজারে ঘুড়ি উৎসব

কক্সবাজার সৈকতে সবচেয়ে বর্ণিল যে উৎসবটি হয়, সেটি সম্ভবত জাতীয় ঘুড়ি উৎসব। প্রতিবছর পৌষ সংক্রান্তির আগের শুক্র ও শনিবার বিশ্বের দীর্ঘতম বেলাভূমিতে এ উৎসবের আয়োজন করে বাংলাদেশ ঘুড়ি ফেডারেশন।

রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এ বছরের উৎসবটা বসছে নিয়মিত সময়ের কিছুটা পরে। এবারের জাতীয় ঘুড়ি উৎসব অনুষ্ঠিত হবে ৩১ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি।

ঘুড়ি উৎসবের প্রধান জায়গাটি হল কক্সবাজারের লাবনী ও সুগন্ধা সমুদ্র সৈকত। নানান আয়োজনে পালন করা হয় এ উৎসব। কক্সবাজার সৈকতের আকাশ রাঙিয়ে এ ২দিন উড়ে বেড়ায় রং-বেরংয়ের হাজার ঘুড়ি।

কক্সবাজারে পৌঁছে প্রথম দিন সকালে সৈকতে ঘুড়ি উড়ানোর প্রস্তুতি আর মহড়া চলে। এ দিন বিকালে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। এবারের উৎসবের সূচনা করবেন চীনের রাষ্ট্রদূত লি জুন।

উৎসবের আসল পর্বই হল সৈকতে ঘুড়ি উড়ানো। উৎসবের শুরুর দিনে উড়ানো হয় সহস্র ঘুড়ি, পকেট ঘুড়ি, ড্রাগন ঘুড়ি, ট্রেন ঘুড়ি, সিরিজ ঘুড়ি, স্ট্যান্ড ঘুড়িসহ নানান নামের, নানান রং ঢং-এর সব ঘুড়ি।

এছাড়া এদিন সন্ধ্যায় সৈকতে জ্বালানো হয় মঙ্গল প্রদীপ। আকাশে ওড়ানো হয় ফানুস আর আলোকিত ঘুড়ি। দাহ্য করা হয় প্রকৃতি বৈরী দানবের প্রতিকৃতি।

 

উৎসবের দ্বিতীয় দিনে থাকে ঘুড়ির কাটাকাটি প্রতিযোগিতা। আধুনিক ঘুড়ি প্রতিযোগিতা। মাইক্রো লাইট প্লেন উড্ডয়ন। পুস্প বর্ষণ আর সিংহ নাচ।

উৎসবের শেষে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

আয়োজকদের একজন আল মামুন মৃধা জানালেন উৎসবটি সবার জন্যই উম্মুক্ত। তবে আয়োজক দলের সঙ্গে ঢাকা থেকে গিয়ে এ উৎসবে অংশগ্রহন করতে চাইলে আগে থেকে যোগাযোগ করতে হবে।

যোগাযোগের ঠিকানা: বাংলাদেশ ঘুড়ি ফেডারেশন, ১, সিদ্ধেশ্বরী লেইন, ঢাকা। ফোন- ৮৩৫১৭৩৬।

বাংলাদেশের ছেলে মুম্বাইয়ে সুপার মডেল

সেপ্টেম্বর ২০১৩। বলিউড দুনিয়ায় তোলপাড়। বিশ্বখ্যাত রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস’-এর উপস্থাপক হিসেবে আবার হাজির সুপারস্টার সালমান খান। সেই উত্তেজনা ফিকে না হতেই ‘বিগ বস’ ঘিরে আবারও হুলস্থুল। ‘বিগ বস’-এর ঘরে আসছেন নতুন এক অতিথি। কিন্তু কে তিনি? ইন্ডিয়া টুডে থেকে এনডিটিভি—সব সংবাদমাধ্যমে খবর আসছে একের পর এক। সম্ভাব্য অতিথি সম্পর্কে পত্রপত্রিকা আর ওয়েবসাইট আভাস দিতে শুরু করেছে, ‘তিনি ভারতের এযাবৎকালের সেরা মডেলদের একজন।’ ‘ভারত তো বটেই, বিশ্বের বহু নামীদামি ফ্যাশন ডিজাইনারের সঙ্গে কাজ করেছেন মুম্বাইয়ের বান্দ্রার বাসিন্দা এই মডেল।’
‘বিশ্বসেরা ফ্যাশন আর লাইফস্টাইল সাময়িকী ভোগ-এর পাতায় তাঁকে দেখা গেছে।’
অবশেষে ঘনিয়ে এল ‘বিগ বস’-এর সেই বিশেষ পর্ব। বলিউডের চেনা মুখ ‘বিগ বস’-এর সব প্রতিযোগী অপেক্ষমাণ।
চোখে উৎকণ্ঠা আর কৌতূহল। সুইমিংপুলের নীল পানি ঘিরে দানা বেঁধেছে রহস্য। ভেজা শরীর। খালি গা। উচ্চতা ঝাড়া ছয় ফুট। সাঁতারের পুকুর থেকে উঠে এলেন সুপার মডেল আসিফ আজিম!
মেনজ হেলথ সাময়িকীর প্রচ্ছদে আসিফ‘বিগ বস’ পরিভাষায় আসিফের ‘ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি’ বা ‘বন্য আগমন’ ঘিরে এই উত্তেজনা বহাল থাকুক। চলুন ফিরে যাই বাংলাদেশের এক নিভৃত গ্রামে। মেহেরপুরের সেই গ্রামের নাম আমঝুপি। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়।
সেখানে বেড়ে উঠছে এক দুরন্ত বালক। গ্রামের বাকি আট-দশটা ছেলের মতোই পুকুরে ঝাঁপিয়ে, দিনভর ছুটোছুটি করে দিন কাটে তার। পাঠক, আপনার অনুমান শতভাগ সঠিক। একটু অবিশ্বাস্য হয়তো ঠেকবে। কিন্তু আমাদের আমঝুপি গ্রামের সেই দুরন্ত কিশোরই আজকের সুপার মডেল আসিফ আজিম।
চলচ্চিত্রনগর মুম্বাইয়ে আসিফ আজিমের সাফল্যের খবর কানে আসছিল বহুদিন ধরেই। ‘বিগ বস’ অনুষ্ঠানেও তাঁকে দেখা যাচ্ছিল নিয়মিত। কিন্তু আসিফের নাগাল পাওয়ার উপায় কী? আসিফ আজিমের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো সাড়া নেই। খবরটা দিলেন নির্মাতা রেদওয়ান রনি। দেশে এসেছেন আসিফ আজিম।
২০ জানুয়ারি রাত প্রায় ১২টা। মাথায় ফ্যাশনেবল ক্যাপ। পরনে ধূসর ট্রাউজার। ধানমন্ডিতে উঠেছেন বোনের বাসায়। সেখান থেকে নিজেই গাড়ি চালিয়ে হাজির গুলশান, পপকর্ন এন্টারটেইনমেন্টের অফিসে। এসেই হাসিমুখে হাত বাড়িয়ে দিলেন:
‘আমি আসিফ।’
শুরুতেই ‘বিগ বস’ টিভি শোতে সেই ‘হট এন্ট্রি’ প্রসঙ্গ। ‘আসলে “বিগ বস”-এ আসার প্রস্তাব আগেও পেয়েছিলাম।’
‘এবার সব ঠিকঠাক মিলে গেছে। আমার আগমনটা বিশেষভাবে হবে—এটা ঠিক করা ছিল। আমার পানিতে নামার খুব ইচ্ছে ছিল না। তারপর ভাবলাম করি, এই আর কী। যে রকম হয়।’ আসিফের জবাব।

আসিফ মেহেরপুর থেকে ঢাকা এসেছিলেন মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে। উঠেছিলেন ঢাকায় বড় ভাইয়ের বাসায়।
ভর্তি পরীক্ষার প্রায় আগে আগেই খুব দুঃখজনক একটা ঘটনা ঘটে। হুট করে মারা যান তাঁর বড় ভাই। সেই দুঃখ সামলে নিয়ে আসিফ পড়ালেখা চালিয়ে যেতে থাকেন। ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে। মডেলিংয়ের দিকে আগ্রহ পরিচিত মানুষজনের কথা থেকেই।
‘সবাই এমনি কথায় কথায় বলত, আমাকে দেখতে মডেলদের মতো লাগে। আমি কেন ট্রাই করি না, এই সব। তো ভাবলাম, একটা ট্রাই করি। সে কারণেই একদিন গিয়েছিলাম ফ্যাশন হাউস আলতামিরার অফিসে। সেখান থেকেই শুরু। সঙ্গে ছবি নিয়ে যেতে হয় তাও জানি না। ওখানে একটা মেয়ে ছিল, তামান্না। ও-ই সব ঠিকঠাক করে দিয়েছিল।’
তারপর মডেলিং শেখা আর কাজের সন্ধানে ঘুরোঘুরি। চোখের সামনে আইকন বলতে ছিলেন বিবি রাসেল। বহু কাঠখড় পুড়িয়ে তাঁর দেখাও পেয়েছিলেন। কিন্তু আজকের সুপার মডেল আসিফ আজিমের সত্যিকার ‘টার্নিং পয়েন্ট’ কোনটা?
`নকশা।’ আসিফের ত্বরিত জবাব।
বটে? এটা কি কোনো রসিকতার অংশ?
সব্যসাচী মুখার্জি, মণীশ মালহোত্রা, রোহিত বাল—এঁরা কেউ নন?
‘মোটেও না। প্রথম আলোর লাইফস্টাইল পেজ নকশাই আমার টার্নিং পয়েন্ট।’ আসিফ রীতিমতো সিরিয়াস।
খুলে বললেন বাকিটা। ‘সম্ভবত ২০০০ সালের গোড়ার দিকে কোনো একটা সময়ে আমার একটা ছবি ছাপা হয়েছিল নকশার প্রথম পাতায়। গায়ে ছিল খয়েরি রঙের পাঞ্জাবি। নকশার প্রথম পাতায় ওই ছবিই আসলে আমাকে প্রথমবারের মতো বড় সুযোগ করে দেয়। এর পরপরই আমি আড়ং, অ্যাকটেল, ক্যাটস আইয়ের মতো দেশীয় বড় ব্র্যান্ডগুলোর মডেল হওয়ার ডাক পাই।’
দুই ‘তা’কে তাঁর ক্যারিয়ারে খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন আসিফ। একজন ব্র্যাকের তামারা আবেদ। আরেকজন আলতামিরার তামান্না নামের সেই মেয়ে, যাঁর দেখা আর কখনো পাননি আসিফ।
‘আড়ংয়ের পোশাকের মডেল হিসেবে একটা বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিংয়ে মুম্বাই গিয়েছিলাম। সেবারই প্রথম বিমানে চড়ার অভিজ্ঞতা। সঙ্গী নারী মডেল আমাকে দেখে ঠিক কেন যেন ভরসা পাচ্ছিলেন না। কিন্তু জানতাম, আমি কাজটা পারব। ভালোমতোই পারব।’

‘জীবনের স্বপ্নটা বড় হওয়া চাই’ আসিফ আজিমসেবার শুটিং শেষে মুম্বাইয়ের সৈকতে বেড়াতে গিয়েছিলেন শুটিং ইউনিটের সবাই। সৈকত ধরে গাড়ি ছুটছে।
ঠিক সেই মুহূর্তে আসিফ মনে মনে ঠিক করেছিলেন, এই শহরে তিনি আবার আসবেন। হয়েছেও ঠিক তা-ই।
মুম্বাইয়ে সেই শুটিং দিয়ে শুরু। এখন আসিফের জীবনের বড় একটা সময় কাটে বিমানে। পৃথিবীর এমাথা-ওমাথা চষে বেড়িয়ে। কখনো স্পেন, কখনো সিডনি, কখনো ইন্দোনেশিয়ার বালি, কুয়ালালামপুর, দুবাই। সর্বভারতের ‘ফিটেস্ট মেল মডেল’দের তালিকায় তাঁর অবস্থান এখন চার। মোটামুটি দম ফেলার ফুরসত নেই। নয় কি দশ বছর হয়ে গেল মুম্বাইয়ে আবাস গড়েছেন আসিফ।
ভারতের বেঙ্গালুরু থেকে মুম্বাই-জয়ের অভিযান শুরু আসিফের। ২০০৬ সালে হেমেন ত্রিবেদীর একটি ফ্যাশন শো দিয়ে প্রথম সবার নজরে আসেন আসিফ। একই বছরে সাড়া ফেলে দেয় তাঁর করা মটোরোলা ফোনের বিজ্ঞাপনচিত্র। এখন তাঁর ঝুলিতে জমা হয়েছে ভারতের প্রথম সারির সব ডিজাইনারের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা। কদিন আগেও মুম্বাইয়ের আরেক নামী র‌্যাম্প মডেল ক্যান্ডিস পিন্টোর সঙ্গে তাঁর প্রেম নিয়ে বেশ সরব ছিল বলিউড মিডিয়া। আসিফের চোখ এখন বলিউডের বড় পর্দায়। ভারতের কয়েকটা পত্রিকায় এরই মধ্যে খবর বেরিয়েছে, বলিউডের সিনেমা-জগতে পা রাখতে চলেছেন সুপার মডেল আসিফ আজিম। আর আসিফ কী বলেন?
‘এখনই কিছু বলতে চাই না। তবে আশা করছি। খুব দ্রুত একটা ভালো খবর দিতে পারব।’

আলাপ-পর্ব ফুরোতে গভীর রাত। আসিফ উঠেছেন ঢাকায় তাঁর বোনের বাসায়। এত রাতে একা গাড়ি চালিয়ে যাবেন। তাই তাঁকে সঙ্গ দিতে যাচ্ছি ধানমন্ডি অবধি। আসিফ পেছনের আসনে।
তাঁকে একটা প্রশ্ন না করে পারি না। আসিফ আজিম হওয়ার মূলমন্ত্রটা কী? জবাব সম্ভবত তৈরিই ছিল, ‘স্বপ্ন। স্বপ্নটা বড় হওয়া চাই। কে না জানে একটা ঢিল দশতলা লক্ষ্য করে ছুড়লে সেটা কেবল দশতলা অবধিই পৌঁছাবে। আর আকাশের দিকে ছুড়লে সেটার সম্ভাবনা অসীম। স্বপ্নের সঙ্গে চাই সততাও। ‘বিগ বস’ আমার জীবনের ছোট একটা অংশ মাত্র। হার-জিতের চেয়েও আমি সবার আগে ভেবেছি, সবাই যেন আমার শিকড় সম্পর্কে খারাপ কিছু না ভাবে। এই শোতে অনেক ধরনের বাজে পরিস্থিতির মধ্যে আমি পড়েছি। এমন হয়েছে, গরম পানিতে গোসল করছি, হঠাৎ বরফঠান্ডা পানি গায়ে এসে পড়ল। বিগ বসের ঘরে প্রায় দিনই খাবার পেতাম না। অন্যরা খাবার লুকিয়ে রাখত। কিন্তু আমি সব সময় মাথা ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করেছি। নিজেকে বুঝিয়েছি। জীবনে অনেক কষ্ট সয়েছি, এই কষ্টও সইতে পারব। আমার দেশ বাংলাদেশ। বাংলাদেশিরা বড়দের সম্মান করে। আর শত অভাব-সংকটের মুখেও নিজের সম্মান বিসর্জন দেয় না।’


সালমান খানের সঙ্গে আবেগময় মুহূর্ত: বিগ বস থেকে বিদায় নেওয়ার দিনে আসিফ আজিমসালমানের সঙ্গে

বিশ্বখ্যাত টিভি রিয়েলিটি শো ‘বিগ ব্রাদার’-এর ভারতীয় সংস্করণ ‘বিগ বস’। এই টিভি শোতে প্রতিযোগীরা বিশেষ একটি ঘরে বাস করেন। তাঁদের সঙ্গে বাইরের দুনিয়ার যোগাযোগ থাকে না বললেই চলে। প্রতিযোগীদের প্রায় সার্বক্ষণিক ক্যামেরায় ধারণ করা হয়। ‘বিগ বস’ থেকে আসিফ আজিমের বিদায় নেওয়ার ঘটনাতেও বড় ধরনের হুলস্থুল ছিল বলিউড মিডিয়ায়। আগের সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েও পরের দফায় আসিফের অপ্রত্যাশিত বিদায় মেনে নিতে পারছিলেন না অনেকেই। ‘বিগ বস’-এর ঘরে সালমানের প্রিয় পোষা কুকুরের সঙ্গে আসিফের সখ্য ছিল মুম্বাইয়ে ‘টক অব দ্য টাউন’। শোয়ের উপস্থাপক সালমান খান জড়িয়ে ধরেছিলেন বিদায়ী আসিফকে। সালমানের সেই ভ্রাতৃসুলভ আলিঙ্গন বানোয়াট কিছু ছিল না। প্রমাণ মিলল কদিন পরেই। সালমান খান তাঁর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন আসিফ আজিমকে। পুনের কাছাকাছি একটা জায়গায় সালমান খানের সুবিশাল খামারবাড়িতে ছিল জন্মদিনের উৎসব।
সেদিন প্রথম কথাটা কী ছিল সালমানের?
‘হিন্দি শেখা কেমন চলছে? এটাই ছিল সালমানের প্রথম কথা।’ বলছিলেন আসিফ। তাঁর ভাষায়, ‘হিন্দি শেখা খুব কঠিন। ইংরেজিতে কথা বলতে পারলে “বিগ বস”-এ আরও বেশি সুবিধা হতো আমার জন্য।’

 

অদ্ভুত সুন্দর যত প্রাণী

আমাদের এই সুন্দর পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে কত অদ্ভুত বেশকিছু সুন্দর প্রাণী! কারও আছে সুন্দর দৈহিক গঠন, কেউ বা বয়ে বেড়ায় চোখ ধাঁধানো রং। আবার কিছু প্রাণী আছে, যারা সাধারণের মধ্যেও অসাধারণ। এমনি কিছু প্রাণীর গল্পই থাকছে আজ। Continue reading “অদ্ভুত সুন্দর যত প্রাণী”

মিশে যাক ফাটল

শীতে ঠোঁট, ত্বক ও পায়ের শুষ্ক হয়ে যায়। এরজন্য সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে পায়ে। পা ফাটার বিড়ম্বনা হতে রক্ষা পেতে জেনে নিন কয়েকটি চটজলদি টিপস। ঘরোয়া উপাদান দিয়ে সহজেই পরিচর্যা করা যায় এরকম কয়েকটি পদ্ধতি বাতলিয়েছেন আকাঙ্ক্ষা’স গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের কর্ণধার জুলিয়া আজাদ।

সুন্দর এক জোড়া পা-এর অধিকারী হওয়ার জন্য দরকার পা’য়ের নিয়মিত চর্চা। আর এ চর্চার জন্য ঘরোয়া উপাদানের তৈরি ফুট মাস্ক পায়ে লাগাতে পারেন।

লেবু, গ্লিসারিন ও গোলাপ জল মাস্ক : প্রথমে একটি গামলায় গরম পানি নিয়ে তাতে কাঁচা লবণ, লেবুর রস, গ্লিসারিন এবং কয়েকটি গোলাপ পাপড়ি যোগ করুন। এই পানিতে প্রায় ১৫-২০ মিনিটের জন্য পা ডুবিয়ে রাখতে হবে। এরপর একটি ঝামাপাথর বা পায়ের স্ক্রাবার ব্যবহার করে, পায়ের নিচের দিকে ঘষে ঘষে পরিষ্কার করুন। এবার গামলা থেকে পা তুলে পানি মুছে নিয়ে ১ টেবিল-চামচ  গ্লিসারিন, ১ কাপ গোলাপ জল এবং ১ টেবিল-চামচ লেবুর রস মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করে ফেটে যাওয়া পায়ে লাগিয়ে নিন। এভাবে দিনে দু’বার করা ভালো। এরপর মোজা পরে নিন। দেখবেন রাতারাতি পা ফাটা চলে যাবে। এটা পা ফাটা রোধে অত্যন্ত কার্যকরী একটা মিশ্রণ।

 

ভেজিটেবল তেল : পা ফাটার প্রধান কারণ হল শুকনো চামড়া। শুষ্ক ত্বকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে বাড়িতে থাকা ভেজিটেবল তেল যেমন- সয়াবিন, সূর্যমুখী, বাদাম ইত্যাদি প্রতিশোধক হিসেবে কাজ করে। পা পরিষ্কার করে ভালোভাবে শুকিয়ে ফাটা অংশে ভেজিটেবল তেল মালিশ করে মোটা একজোড়া মোজা পরে নিন। প্রতিদিন সকালে পা ধোয়ার পর ভেজিটেবল তেল ব্যবহার করে দেখুন ভালো উপকার পাবেন। 

কলা এবং আভাকাডোর মাস্ক : একটি পাকা কলা ভালো করে চোটকে নিন। গোড়ালি ও পায়ের ফাটা অংশের উপর তা লাগিয়ে প্রায় ১০ মিনিট রাখুন। এরপর পা ধুয়ে ফেলুন। এছাড়াও পাকা কলা ও আভাকাডো বা সবুজ নারিকেলের সাদা নরম অংশ ব্যবহার করে বাড়িতে পা’য়ের মাস্ক তৈরি করতে পারেন। মাস্ক তৈরি করতে একটি পাকা কলা ও আধা আভাকাডো নিন। এগুলো একসঙ্গে একটি পাত্রে মিশিয়ে পায়ে লাগান। এই পেস্ট পায়ের ত্বক কোমল ও মসৃণ রাখতে সাহায্য করবে।

পা ফাটা রোধে লেবু : ১৫-২০ মিনিটের জন্য গরম পানিতে পা ভিজিয়ে পরিষ্কার করে ১ টেবিল-চামচ ভ্যাজলিন ও ১টি আস্ত লেবুর রস নিন। পায়ের ফাটা অংশসহ অন্যান্য অংশের উপর এই মিশ্রণ ভালো করে মালিশ করে একটি পশমি মোজা পরে নিন। ঘুমোতে যাওয়ার আগে এই মিশ্রণ ব্যবহার করুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে পা পরিষ্কার করে নিন, উপকার পাবেন।

মধু : এটি পায়ের ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। একটি বালতির অর্ধেক পরিমাণ গরম পানিতে ১ কাপ মধু মেশান। প্রায় ১৫-২০ মিনিটের জন্য পা এই পানিতে ডুবিয়ে রাখুন। তারপর পা শুকিয়ে মোজা পরে নিন। নরম ও নমনীয় পায়ের জন্য এটা খুব ভালো কাজ করবে।

 

চালের গুঁড়া : পায়ের স্ক্রাবিংয়ের জন্য অত্যন্ত উপকারী উপাদান। স্ক্রাবিং পেস্ট তৈরি করতে একটি বাটিতে ৩-৬ টেবিল-চামচ চালের গুঁড়া নিন। এর সঙ্গে আপেল কুচি ও কয়েক চামচ মধু মেশান। এই পেস্ট দিয়ে পা ভালো করে স্ক্রাবিং করে নিন। এরপর ১০ মিনিটের জন্য গরম পানিতে পা ভিজিয়ে রাখুন। খেয়াল করে দেখবেন পা থেকে মৃত ত্বক সুন্দরভাবে উঠে যাচ্ছে। 

অলিভ তেল : ত্বক মসৃণ নরম সুস্থ রাখতে সবচেয়ে ভালো প্রাকৃতিক উপাদান হল অলিভ অয়েল। একটি বোতলে জলপাইয়ের তেল, লেবু বা ল্যাভেন্ডার তেল কয়েক ফোটা নিয়ে ভালোমতো মেশান। এবার একটি তুলোর বল করে এর সাহায্যে অলিভ তেলের মিশ্রণটি আলতো করে ১০-১৫ মিনিটের জন্য বৃত্তাকারে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পায়ে মালিশ করুন। এরপর পায়ে মোজা পরেন নিন। ১ ঘন্টা পর তা খুলে ফেলুন।

পা ফাটা রোধে এই পদ্ধতিগুলো নিয়ম করে পালন করলে ভালো ফল পাবেন। তবে শীতের সময় প্রচুর পরিমাণে পানি, ফল ও টটকা সবজি খেতে ভুলবেন না যেন।

চৌম্বকীয় ঝড় আসছে, তবে ঝুঁকি নেই

জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে মেরুঝড়ের প্রকোপ শেষ হতে না হতেই নতুন ঝড়ের খবর দিলেন বিজ্ঞানীরা। সূর্য থেকে বিশাল এক চৌম্বকীয় শকওয়েভ ধেয়ে আসছে পৃথিবীর দিকে, যাকে বিজ্ঞানীরা বলছেন করোনাল ম্যাস ইজেকশন বা সিএমই।

যাবতীয় ঘটনার কারিগরি ব্যাখ্যা দেওয়া পোর্টাল ‘হাও স্টাফ ওয়ার্কস’ ওয়েবসাইটে সিএমই সম্পর্কে বলা হয়েছে, সূর্যপৃষ্ঠে চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের অস্থিতিশীলতা বেড়ে গেলে সূর্যপৃষ্ঠের কোনো অংশ যখন দ্রুত প্রসারিত হয়, তখন সূর্য থেকে অগুনতি কণা নিক্ষেপ ঘটে বাইরের দিকে, যার ফলে তৈরি হয় চৌম্বকীয় শকওয়েভ।

এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সূর্য থেকে চৌম্বকীয় ঝড় ছড়িয়ে পড়েছে বাইরের দিকে, সেই ঝড়ের ঢেউ পেরিয়ে যাবে আমাদের পৃথিবীকে।

যদি এ শকওয়েভ আছড়ে পরে পৃথিবীতে তবে তার প্রভাবে পৃথিবীর ম্যাগনেটিক চৌম্বক ক্ষেত্রে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। তবে আশার কথা এতে প্রাণিকুলের কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

সম্ভ্যাব্য ঝুঁকির তালিকায় বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে যদি মহাকাশে কোনো নভোযান পাঠানোর চিন্তা থাকে, নিঃসন্দেহে তা বাতিল করতে হবে। পৃথিবীতে যোগাযোগ ব্যবস্থায় কিছুটা ব্যাঘাত ঘটতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এয়ারলাইনসের যাত্রাপথ খানিকটা পাল্টে নিতে হতে পারে।

পোড়া স্কুলের ক্লাস হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে

আগুনে গজারিয়া আদর্শ একাডেমী স্কুল ও সুলতানা মেমোরিয়াল গার্লস হাই স্কুলের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর নতুন বই ও স্কুলের বেঞ্চসহ সব আসবাবপত্র পুড়ে যায়।

গজারিয়া আদর্শ একাডেমীর অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির জানান, দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে তার স্কুলটি সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ায় স্কুল ভবনের সামনে পুরনো ভাঙাচোরা কয়েকটি বেঞ্চিতে বসিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে হচ্ছে।

রাস্তা সংলগ্ন স্কুল হওয়ায় গাড়ির বিকট শব্দ ও ধূলাবালিতে শিশুদের ভোগান্তি হচ্ছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কাছে স্কুলের বেঞ্চ, চেয়ার ও টেবিলসহ আনুষঙ্গিক মালমাল চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি বলে জানান প্রধান শিক্ষক।

সুলতানা মেমোরিয়াল গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনির আহম্মেদ জানান, আগুনে তার বিদ্যালয় ভবনের সব আসবাবপত্র পুড়ে যাওয়ায় ভবনসংলগ্ন পাশের একটি কমিউনিটি ক্লিনিক ও মক্তবে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।

মঙ্গলবার পর্যন্ত সরকারি কোনো সাহায্য না পেলেও শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে স্কুল ফান্ড থেকে ব্ঞ্চে ও ব্ল্যাকবোর্ড তৈরির কাজ শুরু করেছেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবদুল আজিজ জানান, ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ জানিয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করলেও ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়গুলোর সংস্কারের জন্য এখনো কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

বরাদ্দ পেলে দ্রত ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনি জানান।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট কেন্দ্র হওয়ায় গত ২ ও ৩ জানুয়ারি জেলার দাগনভূঞা ও সোনাগাজী উপজেলার ১০টি বিদ্যালয়ে আগুন দেয় নির্বাচনবিরোধীরা।

এদের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতি কম হওয়ায় বাকি আটটি বিদ্যালয় তাদের নিজস্ব ভবনে ক্লাস শুরু করেছে।

আগুনে ১০টি বিদ্যালয়ে পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় দাগনভূঞা ও সোনাগাজীতে দুটি করে চারটি মামলা দায়ের হয়েছে।

এ সকল মামলায় অজ্ঞাত পরিচয় দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করলেও সোনাগাজীতে দুই মামলায় পাঁচজন ও দাগনভূঞায় দুই মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এলজি আনছে জি৩

আগামী বছর স্মার্টফোনের বাজারে নতুন একটি মডেল যুক্ত করবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান এলজি। এলজি জি৩ নামের নতুন এ স্মার্টফোনটিতে থাকবে অক্টাকোরের প্রসেসর ও ১৬ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। সম্প্রতি প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট জেডনেট কোরিয়া এলজির নতুন স্মার্টফোনটির তথ্য প্রকাশ করেছে।

এলজির নতুন এ স্মার্টফোনটির বিশেষ ফিচার হবে এর কিউএইচডি বা কোয়াড এইচডি ডিসপ্লে। তবে স্মার্টফোনটিতে কত ইঞ্চি মাপের ডিসপ্লে ব্যবহূত হবে, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি। এলজির অক্টাকোরের চিপসেটটির কোড নাম এলজি ওডিন যা এলজি নিজেই তৈরি করবে।

এদিকে, বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, এলজির বর্তমানে বাজারে থাকা জি২ স্মার্টফোনটির পরবর্তী সংস্করণ হবে জি৩। এ বছরের আগস্ট মাসে এলজির জি২ স্মার্টফোনটি বাজারে এসেছে। বছরের শীর্ষ স্মার্টফোনের মধ্যে একটি এলজি জি২। এলজির দাবি, নকশার দিক থেকে স্মার্টফোনটি সবার চেয়ে এগিয়ে। বামহাতি বা ডানহাতি সবার জন্যই স্মার্টফোনটি ব্যবহার করা সহজ। জি২ স্মার্টফোনটিতে রয়েছে ১০৮০ পিক্সেলের পাঁচ ইঞ্চি মাপের ডিসপ্লে, ২.২ গিগাহার্টজের স্ন্যাপড্রাগন চিপসেট, ১৩ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা ও তিন হাজার অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি। অ্যান্ড্রয়েডের সর্বশেষ সংস্করণের অপারেটিং সিস্টেমনির্ভর স্মার্টফোনটিতে দুই গিগাবাইট র্যাম, এনএফসি, ১৬ ও ৩২ গিগা স্টোরেজ ও অপটিমাস ইউজার ইন্টারফেস রয়েছে।
জেডনেট কোরিয়ার ওয়েবসাইটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এলজির জি২ স্মার্টফোনটির চেয়ে আরও উন্নত ফিচার আসবে জি৩ স্মার্টফোনটিতে। এলজির জি৩ স্মার্টফোনটির পাশাপাশি জি২-এর একটি মিনি সংস্করণ নিয়ে কাজ চলছে বলেও প্রযুক্তিবিশ্বে গুঞ্জন রয়েছে।

ফেসবুকে আগ্রহ হারাচ্ছে তরুণরা?

সাম্প্রতিক এক গবেষণার ফল বলছে, যুক্তরাজ্যের অনেক তরুণ এখন ফেসবুক ছেড়ে দিচ্ছেন। কারণ? অনেকের মা-বাবাই এখন ফেসবুক ব্যবহার শিখে গেছেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ বিষয়ক গবেষকেরা জানিয়েছেন, তরুণদের মধ্যে ফেসবুক ব্যবহারের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। ফেসবুক ফেলে সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে অন্যান্য সহজতর মাধ্যমগুলো এবং মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশনের দিকে ঝুঁকছেন তাঁরা।
যুক্তরাজ্যে পরিচালিত এক গবেষণায় গবেষকেরা দেখেছেন যে, স্ন্যাপচ্যাট, হোয়াটসঅ্যাপ ও টুইটারের দিকে ঝুঁকে পড়ার কারণে ফেসবুকে আগ্রহ হারাচ্ছে তরুণরা। এ খবরে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের দ্য ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকা।
গবেষকেরা গ্লোবাল সোশাল মিডিয়া ইমপ্যাক্ট স্টাডি নামে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটের ব্যবহার নিয়ে একটি গবেষণা করেছেন।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষক ড্যানিয়েল মিলার এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, এক সময় সন্তানদের ফেসবুকে যোগদানের ব্যাপারে অভিভাবককে উত্কণ্ঠায় থাকতে দেখা যেত এখন ঘটছে ঠিক এর উল্টো। অভিভাবকের নজরদারির ভয়ে তরুণরা ফেসবুক ছেড়ে দিচ্ছেন।
গবেষক মিলার জানিয়েছেন, বর্তমানে অধিকাংশ অভিভাবক ফেসবুকের ব্যবহার শিখে গেছেন এবং তাঁরা এই সাইট থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারছেন। অভিভাবকদের ফেসবুক ব্যবহারের হার যেমন বাড়ছে তখনই তরুণদের আগ্রহ কমছে এতে। তরুণদের কাছে ফেসবুক এখন মরুভূমিতুল্য।
এই গবেষণায় অংশ নেওয়া যুক্তরাজ্যের তরুণদের অধিকাংশই স্বীকার করেছেন যে, প্রযুক্তি সুবিধার হিসেবে ফেসবুক এগিয়ে থাকলেও ফেসবুকে নতুন কিছু করার সুযোগ নেই বলে তরুণরা এটা ছেড়ে যাচ্ছেন। আবার অনেকে মা-বাবার নজরদারি থেকে বাঁচতেও ফেসবুক ছেড়ে দিচ্ছেন।

এ বছরে প্রযুক্তি-বিশ্বের আলোচিত পাঁচ

২০১৩ সালে প্রযুক্তি-বিশ্বের নতুন অনেক উদ্ভাবন আর পণ্য খবরের শিরোনাম হয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলো বিষয়ই বছর জুড়ে তুমুল আলোচনায় ছিল। জানুয়ারি মাসে কনজুমার ইলেকট্রনিক শো (সিইএস) মেলার প্রযুক্তিপণ্য, সামাজিক যোগাযোগ, সহজে মুছে যায় এমন বার্তা পাঠানোর অ্যাপ্লিকেশন, রোবট, চালকবিহীন বিমানসহ নতুন উদ্ভাবনী পণ্য ও প্রযুক্তির দেখা মিলেছে এ বছর। ২০১৩ সালে যেসব প্রযুক্তি মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল সেগুলো নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট ভেঞ্চারবিট।

গোপন নজরদারি
এ বছর আলোচনার কেন্দ্রে ছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার গোপন নজরদারির তথ্য ফাঁসের ঘটনাটি। তথ্য ফাঁসকারী মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মী অ্যাডওয়ার্ড স্নোডেন ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে। যুক্তরাজ্যের গার্ডিয়ান ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন পোস্ট মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার গোপন নজরদারি ও ফোন রেকর্ডের তথ্য ফাঁস করে হইচই ফেলে দিয়েছিল। প্রযুক্তি বিশ্বে আলোড়ন তুলেছে এরকম ঘটনার অন্যতম ঘটনা ছিল এটি। ধারণা করা হচ্ছে, ২০১৪ সালেও এ ঘটনার রেশ থাকবে।

থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি
এ বছর আলোচনায় ছিল থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি। কিডনি থেকে শুরু করে বন্দুক, গাড়ি, কৃত্রিম হাত-পা সংযোজন, শিল্পকর্মের প্রতিরূপ (রেপ্লিকা) তৈরির মতো কাজে থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে এ বছর আলোচনা হয়েছে। গবেষকেরা ধারণা করছেন, থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির ব্যবহারে আগামী কয়েক দশকে আমাদের জীবনযাত্রায় অভাবনীয় পরিবর্তন হবে। ডিজিটাল অনুরূপ থেকে ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) কঠিন বস্তু হুবহু তৈরি করতে পারে এই বিশেষ প্রিন্টার। যন্ত্রাংশ উত্পাদন শিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে এই প্রযুক্তি।

থ্রিডি প্রিন্টিং
গুগল গ্লাসপরিধেয় প্রযুক্তিপণ্য
এ বছর আলোচিত ছিল নতুন নতুন পরিধেয় প্রযুক্তিপণ্য। এ বছর বাজারে এসেছে বেশ কিছু পরিধেয় প্রযুক্তিপণ্য। এগুলোর কোনোটি সমালোচিত হয়েছে আবার কোনোটি হয়েছে প্রশংসিত। এমনই বেশ কয়েকটি পরিধেয় প্রযুক্তি হচ্ছে গুগল গ্লাস, ফিটনেস ট্র্যাকার, স্মার্টওয়াচ। বাজার-বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ বছরের মতো আগামী বছরটি হবে পরিধেয় প্রযুক্তিপণ্যের। এ সময় স্মার্টওয়াচ, স্মার্টগ্লাস, স্মার্ট আংটি, স্মার্ট ব্যান্ড, স্মার্ট পরচুলার মতো নানা পরিধেয় প্রযুক্তিপণ্যের দেখা মিলতে পারে। এরমধ্যেই গুগল ও স্যামসাং পরিধেয় প্রযুক্তিপণ্যের সঙ্গে প্রযুক্তিপ্রেমীদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। বাজার গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ফ্রস্ট অ্যান্ড সুলিভানের গবেষক অ্যান্ড্রু মিলরয় জানিয়েছেন, আগামী দুই বছরে পরিধেয় প্রযুক্তিপণ্যের চাহিদা বাড়বে।


ব্ল্যাকবেরির পতনব্ল্যাকবেরি

এ বছর করপোরেট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল মাইক্রোসফটের কাছে নকিয়ার মোবাইল ইউনিটটি বিক্রি হয়ে যাওয়ার ঘটনা ও কানাডার মোবাইল ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকবেরির বিপাকে পড়ার ঘটনাটি। লোকসান, কর্মী ছাঁটাইসহ বাজারে পিছিয়ে গিয়ে এবছর করপোরেট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিপাকে পড়েছিল এক সময়ের জনপ্রিয় ব্ল্যাকবেরি স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। স্মার্টফোনের বাজারে একসময়ের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ব্ল্যাকবেরি ওএস নির্ভর ফোন তৈরি করতো রিসার্চ ইন মোশন বা রিম। অ্যান্ড্রয়েড, আইওএসের জনপ্রিয়তার কাছে ক্রমশ পিছিয়ে পড়ে পড়ে ব্ল্যাকবেরি চলতি বছরে কর্মী ছাঁটাই, নতুন অপারেটিং সিস্টেম ব্ল্যাকবেরি ১০ ও প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে ‘ব্ল্যাকবেরি’ রেখেছে। ধারণা করা হচ্ছিল, ব্ল্যাকবেরি ১০ অপারেটিং সিস্টেমনির্ভর স্মার্টফোন ‘জেড১০’ ব্ল্যাকবেরিকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে। তবে ব্ল্যাকবেরি ১০ অপারেটিং সিস্টেম চালিত জেড ১০ আশানুরূপ বিক্রি করতে পারেনি ব্ল্যাকবেরি। লোকসানের ধারায় থাকা প্রতিষ্ঠানটি শেষ নাগাদ বিক্রি হতে বসেছিল ব্যক্তিগত কোনো ক্রেতার কাছে। তবে শেষ নাগাদ প্রতিষ্ঠানটি কর্মকর্তাদের মধ্যে রদবদল করে টিকে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। জনপ্রিয় ব্ল্যাকবেরি মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশনটি অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএসের জন্য উন্মুক্ত করার মতো ঘটনাও ঘটেছে এ বছর।


ইন্টারনেটসব কিছুতেই ইন্টারনেট

এ বছর প্রযুক্তি বিশ্বে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি ছিল সব কিছুতেই ইন্টারনেট প্রযুক্তির ব্যবহারের বিষয়টি। সাশ্রয়ী ইন্টারনেট ব্যবস্থার ফলে যদি ঘর গেরস্থালির সব পণ্য থেকে শুরু করে ব্যবসার কাজের উপযোগী পণ্যগুলোতে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয় ডিজিটাল জীবনব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলেই মনে করেন গবেষকেরা।

বাংলাদেশে এ “র” এর অপারেশন ও কার্যক্রম

বাংলাদেশে কমপক্ষে ১ লক্ষ ‘র” কর্মী ও ইনফর্মার সক্রিয় আছে বলে জানা যায় এর মধ্যে ভারতীয় ৪,০০০ এর মত (স্পেকুলেশন) আর বাকিরা ইনফর্মার ,ধর্মীয় ও মতাদর্শগতভাবে ‘র” এর প্রতি চরম সহানুভুতিশীল যাদের যেকোন কাজে লাগানো সম্ভব।

বাংলাদেশে যে সব বড় ঘটনার সাথে রিসার্চ অ্যান্ড এনালাইসিস উইং এর সংশ্লিস্টতা নিয়ে আঙ্গুল তোলা হয়ঃ

বাংলাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি বাহিনী গঠন ও পরিচালনায় “র” জরিত আছে বলে ধারনা করা হয়।
১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান হত্যা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে র” এর সংশ্লিস্টতা ছিলো বলে ধরা হয়।
এরশাদের ক্ষমতায় আরোহন এ সহযোগীতা ও তাকে ডবল এজেন্ট সন্দেহে এরশাদের পতনে সহায়তা।

১৯৯৬ এর জেনারেল নাসিমের ব্যার্থ অভ্যুত্থান প্রচেস্টা।

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এম এস কিবরিয়া হত্যাকান্ড।

১/১১ বি্ডিআর বিদ্রোহ

ইলি্য়াস আলী নিরুদ্দেশ

এছাড়া বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টরে অস্থিরতা তৈরীর জন্য রিসার্চ অ্যান্ড এনালাইসিস উইং কে দায়ি করা হয়।

অসর্মথিত সুত্র
বাংলাদেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল,এন জিও,সরকারী প্রতিস্টান,বানিজ্য অ্যাসোসিয়েশন থেকে শুরু করে প্রতিটি সরকারী বেসরকারি গুরুত্বপুর্ন প্রতিস্টানের মধ্যে রিসার্চ অ্যান্ড এনালাইসিস উইং এর কর্মীরা সক্রিয় আছেন। বাংলাদেশে তাদের প্রধানতম রিক্রুটিং মাধ্যম হচ্ছে “ইন্ডিয়ান কালচারাল সেন্টার”। ঢাকা শহরের অন্তত দুইটি মসজিদ এর ইমাম অথবা সহকারি হিসাবে “র” কর্মকর্তা কাজ করছেন। চট্টগ্রাম, সৈয়দপুর, গোপালগঞ্জ ও সিলেটের একাধিক মাদ্রাসার শিক্ষক কভারে “র” অফিসার কর্মরত আছেন।বাংলাদেশের প্রতিটা গ্যারিসন শহরের প্রবেশ মুখে এবং আশেপাশে একাধিক “র” সার্ভেইলেন্স পোস্ট এ “র” অফিসাররা কর্মরত আছেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিচারের মুখামুখি হওয়া জামাতের একজন নেতা(এখনো চার্জ গঠন করা হয় নি) “র” এর পুরানো সক্রিয় কর্মী।

এই পোস্টের মূল লিঙ্কঃ