Category Archives: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসংবাদ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসংবাদ

২০১৩: সবচেয়ে বাজে পাসওয়ার্ড

কম্পিউটার বা ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ২০১৩ সালে যেসব পাসওয়ার্ড দিয়েছেন, সেগুলোর মধ্যে দুর্বলতম বা বাজে পাসওয়ার্ড দিয়েছেন সেসবের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা ও সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠার স্প্ল্যাশডেটা। এবার সবচেয়ে বাজে পাসওয়ার্ড তালিকার এক নম্বরে উঠে এসেছে 123456 পাসওয়ার্ডটি, যা ২০১২ সালের তালিকায় শীর্ষে থাকা বাজে পাসওয়ার্ডকে ঠেলে দিয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে। সবচেয়ে বাজে দশের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে আছে 12345678, চতুর্থ qwerty আর পঞ্চম স্থানে আছে abc123 পাসওয়ার্ডটি। অন্যান্য পাসওয়ার্ডের মধ্যে 111111 আছে সপ্তম আর iloveyou আছে নবম অবস্থানে। অনলাইনে প্রকাশিত অ্যাডোবি ব্যবহারকারীদের চুরি যাওয়া পাসওয়ার্ড গবেষণা করে স্প্ল্যাশডেটা তৈরি করেছে এই তালিকা। বেশি বেশি ব্যবহার করা পাসওয়ার্ডের এই তালিকা দেখে বোঝা যায় ব্যবহারকারীরা এখনো দুর্বল আর সহজে অনুমান করা যায় এমন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে নিজেদের এখনো ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন। স্প্ল্যাশডেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মরগ্যান স্লেইন বলেছেন, তালিকায় থাকা adobe123 বা photoshop-এর মতো পাসওয়ার্ড এটাই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যেন ওয়েবসাইটের নাম বা অ্যাপ্লিকেশনে প্রবেশ করা নামের ওপর ভিত্তি করে আপনার পাসওয়ার্ড তৈরি না করেন। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, ওয়েবসাইটে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড নীতিমালা আরোপ করার পরও তালিকায় ছোট সংখ্যার পাসওয়ার্ড দেখা গেছে। যেমন, তালিকার ১৬ নম্বরে আছে 1234, ২০ নম্বরে আছে 12345।
স্প্ল্যাশডেটার পরামর্শ হলো, সব ওয়েবসাইটে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার না করে প্রতিটির জন্য আলাদা পাসওয়ার্ড তৈরি করা। পাসওয়ার্ড এমন হতে হবে যেন ন্যূনতম আটটি বা তার বেশি অক্ষর থাকে, সেই সঙ্গে কোনো বিশেষ অক্ষর এবং সংখ্যা যুক্ত থাকে। পাসওয়ার্ডের পূর্ণাঙ্গ তালিকাটি পাওয়া যাবে goo.gl/JfrFNX ঠিকানার ওয়েবসাইটে।

স্টিফেন হকিংয়ের নতুন ভাবনা কৃষ্ণগহ্বরের অস্তিত্ব নেই?

‘কৃষ্ণগহ্বরের অস্তিত্ব নেই’—এমন দাবি করে গবেষকেরা নিবন্ধ লিখতেই পারেন। আর সেটাকে খামখেয়ালিপূর্ণ বিবেচনা করে বাতিল করে দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু স্বয়ং স্টিফেন হকিং যখন কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে নতুন কোনো ভাবনা নিয়ে আসেন, তখন সেটা নিঃসন্দেহে বাড়তি গুরুত্ব পায়। কারণ, মহাজাগতিক রহস্যময় কৃষ্ণগহ্বরের ধারণার প্রবক্তাদের মধ্যে তিনিও একজন।
বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী ও যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হকিংয়ের সঙ্গে আলাপচারিতার ভিত্তিতে তৈরি একটি নিবন্ধ সম্প্রতি অনলাইনে আলোচনায় এসেছে। এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়, ধ্রুপদি তত্ত্ব অনুযায়ী কৃষ্ণগহ্বর থেকে কোনো কিছুই বেরিয়ে আসার উপায় নেই। কিন্তু কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুযায়ী, কিছু শক্তিও বেরিয়ে যেতে পারে।
প্রতিটি কৃষ্ণগহ্বরের চারদিকে যে অদৃশ্য সীমানার কল্পিত আবরণ রয়েছে, তা ‘ইভেন্ট হরাইজন’ নামে পরিচিত। হকিং বলছেন, অদৃশ্য কৃষ্ণগহ্বরের প্রবল আকর্ষণ নয়, বরং একটি তুলনামূলক ‘অনুকূল দিগন্তের’ মাধ্যমে বস্তু ও শক্তি বন্দী হয়ে থাকে। পরে ঘটনাক্রমে সেগুলো বিমুক্ত হয়, তবে অনেকটা পরিবর্তিত বা বিকৃত রূপে। এর সঠিক পদ্ধতিটি এখনো রহস্য হয়ে আছে।
তবে ধারণাটির পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যার জন্য একটি মহাকর্ষীয় শক্তি ও প্রকৃতির অন্যান্য বলের সমন্বয়ে একটি সুনির্দিষ্ট তত্ত্ব প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা স্বীকার করেন। ফলে গত প্রায় এক শতকব্যাপী তাঁরা যে বিষয়ে ভাবনা এড়িয়ে গেছেন, এখন সেটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই গবেষণা করতে হবে।
নক্ষত্র যখন জ্বালানি পুড়িয়ে শেষ করে ফেলে, তখন তা সংকুচিত হতে থাকে। সাধারণ গ্যালাক্সিগুলোর মাঝে অবস্থানরত বড় বড় নক্ষত্র তাদের বিবর্তনের সর্বশেষ পরিণতিতে ব্ল্যাক হোল বা সৃষ্টি করে। নক্ষত্রগুলো অনেক বেশি সংকুচিত হয়েই ব্ল্যাক হোলের জন্ম দেয়।
কোনো নক্ষত্রের ঘনত্ব ও ভর অনেক বেশি হলে তার মহাকর্ষীয় শক্তি এতটাই শক্তিশালী হবে যে আলো পর্যন্ত সেখান থেকে বের হতে পারবে না। মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যবর্তী আকর্ষণই হচ্ছে মহাকর্ষীয় শক্তি। কৃষ্ণগহ্বর থেকে আলো কিছু দূর যাওয়ার আগেই সেই শক্তি তাকে পেছনে টেনে নেয়। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই রহস্যময় গহ্বর সম্পর্কে সামান্য হলেও অভাবনীয় কিছু তথ্য পেয়েছেন।
হকিংয়ের ভাবনাবিষয়ক একটি নিবন্ধ মুদ্রিত আকারে প্রকাশের আগে অনলাইনের একটি বিশেষ সার্ভারে রাখা হয়েছে। এটির কথিত শিরোনাম, ‘কৃষ্ণগহ্বরের জন্য তথ্য সংরক্ষণ ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস’। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান্টা বারবারায় অবস্থিত কালফি ইনস্টিটিউট ফর থিওরিটিক্যাল ফিজিক্সের গবেষকদের সঙ্গে স্কাইপির মাধ্যমে হকিংয়ের একটি আলাপচারিতার ভিত্তিতে রচিত ওই নিবন্ধটি এখন অন্য বিজ্ঞানীরা পর্যালোচনা করছেন। নিউ সায়েন্টিস্ট ও নেচার।

পেটেন্ট মামলার রায়: দোষী স্যামসাং

দক্ষিণ কোরিয় ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট স্যামসাং প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাপলের পেটেন্ট করা ‘ওয়ার্ড রিকমেন্ডেশন টেকনোলজি’-র অপব্যবহার করেছে বলে রায় দিয়েছে মার্কিন আদালত। পেটেন্টে আইন ভঙ্গের ওই মামলায় অ্যাপলের পক্ষে রায় দেন মার্কিন বিচারক লুসি কোহ, এর আগেও এই দুই প্রযুক্তি জায়ান্টের মামলার বিচারক ছিলেন তিনি।

বার্তাসংস্থা বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অ্যাপলের বিরুদ্ধে পেটেন্ট করা প্রযুক্তির অপব্যবহারের পাল্টা অভিযোগ আনলেও তা নাকচ করে দেন ওই বিচারক।

২০০৭ সালে স্টিভ জবস প্রথম আইফোন উন্মোচনের কয়েক মাস আগেই ‘অটো-ওয়ার্ড কমপ্লিট’ প্রযুক্তির পেটেন্টের জন্য আবেদন করেছিল অ্যাপল। পেটেন্ট আইন ভঙ্গের অভিযোগের বিপরীতে স্যামসাংয়ের দাবি ছিল অ্যাপলের ওই পেটেন্ট কেবল ‘ফিজিকাল কিবোর্ড’ আছে এমন স্মার্টফোন আর ট্যাবলেটের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

কিন্তু অ্যাপলের পেটেন্ট আবেদনে নির্দিষ্ট কোনো ডিভাইসের কথা উল্লেখ ছিল না বলে স্যামসাংয়ের দাবি প্রত্যাখ্যান করে মার্কিন আদালত।

আদালতের ‘রায় হতাশাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন স্যামসাংয়ের এক মুখপাত্র। তবে নিরবতা বজায় রাখছে অ্যাপল। আদালতের রায়ে মার্কিন বাজারে নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে স্যামসাংয়ের নেক্সাস স্মার্টফোন এবং গ্যালাক্সি নোট ফ্যাবলেটের উপর।