পাসওয়ার্ড ছাড়াই উইন্ডোজ চালু

কম্পিউটার ব্যবহারকারীকে যদি পাসওয়ার্ড দিয়ে সিস্টেমে ঢুকতে হয়, তাহলে সেটিকে এভাবেই রাখা উচিত। কারণ, কম্পিউটার নিরাপত্তায় পাসওয়ার্ড খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাসওয়ার্ড ছাড়া পুরো কম্পিউটার সিস্টেমই হয়ে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ। যে কেউ আপনার কম্পিউটারে সরাসরি ঢুকে ক্ষতি করতে পারে, ঢুঁ মারতে পারে গোপনীয় ফাইল বা ই-মেইলে। এমনকি আপনার হয়ে যে কাউকে ই-মেইলও পাঠিয়ে বসতে পারে। অন্যদিকে, কম্পিউটার চালু রেখে কিছু সময়ের জন্য একটু এদিক-সেদিক গেলেন, ফিরে এসে কম্পিউটারকে আবার কাজ করার মতো প্রস্তুত অবস্থায় দেখতে পেলেন। বারবার পাসওয়ার্ড চাপতে হলো না। কিন্তু আপনার অনুপস্থিতিতে যে কেউ চাইলে ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে ফেলতে পারে—এ বিষয়ও মাথায় রাখতে হবে।
এসব বিবেচনায় প্রতিবার কম্পিউটার চালু হওয়ার আগে লগঅন পর্দায় বারবার পাসওয়ার্ড দেওয়া ছাড়াই সরাসরি উইন্ডোজে ঢুকতে পারেন। এই ব্যবস্থায় পাসওয়ার্ড মুছে যাবে না। লগ-অন পর্দা এড়িয়ে যেতে চাইলে অ্যাডভান্সড ইউজার অ্যাকাউন্টসে ঢুকতে হবে।
উইন্ডোজ ৭ ও ভিসতার বেলায় স্টার্ট বাটনে ক্লিক করে লিখুন netplwiz এবং এন্টার করুন। উইন্ডোজ এক্সপিতে স্টার্ট চেপে রানে ক্লিক করুন, লিখুন control userpasswords2 এবং এন্টার করুন। উইন্ডোজ আটে স্টার্ট পর্দায় থাকা অবস্থায় লিখুন netplwiz এবং অ্যাপস সেকশন থেকে সেটি নির্বাচন করুন।
ডায়ালগ বক্সের উইন্ডো এলে আপনার অ্যাকাউন্ট (যেটি দিয়ে আপনি লগইন করেন) নির্বাচন করা আছে কি না, সেটি নিশ্চিত করুন। তারপর Users must enter a user name and password থেকে টিক উঠিয়ে দিন। এরপর OK চাপলে আপনার অ্যাকাউন্ট পাসওয়ার্ড চাইবে। দুবার পাসওয়ার্ড বসিয়ে OK করুন। পরেরবার কম্পিউটার চালু করলে উইন্ডোজ আপনার কাছে আর পাসওয়ার্ড চাইবে না। —মঈন চৌধুরী

শুরু হচ্ছে জাতীয় রোবোটিক্স উৎসব

বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের সংগঠন ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্যে শুরু হচ্ছে ‘জাতীয় রোবোটিক্স উৎসব-২০১৪’।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এ প্রতিযোগিতায় থাকছে চারটি বিভাগে অংশগ্রহণের সুযোগ। ‘আইএআরসি’ বিভাগে অংশগ্রহণকারী রোবটগুলোকে একটি নির্ধারিত ট্র্যাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘুরতে হবে। ‘ব্যাটল অব স্পিড’ বিভাগে দ্রুততম সময়ে নির্ধারিত ট্র্যাক পার হতে হবে। ‘রোবটস গট ফ্রিডম’ বিভাগে সব ধরনের রোবট প্রদর্শনের সুযোগ থাকবে। এ ছাড়াও স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এ প্রতিযোগিতায় থাকছে ‘এক্সপ্লোরিং দ্য ড্রিমস’ যেখানে আগামী প্রজন্মের মাঝে রোবোটিক্স বিষয়ে আগ্রহ, উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রণয়ন ও প্রশ্নোত্তরের আয়োজন থাকবে।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় রোবোটিক্স উৎসবের সেরা প্রতিযোগীরা আন্তর্জাতিক রোবোটিক্স প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করতে হবে  www.esab.org.bd/nrf অথবা, fb.com/esab.bd ঠিকানায়।

ঢাকায় ‘ওয়াটার হ্যাকাথন অ্যাপস’ উৎসব শুরু

রাজধানী ঢাকায় পানি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং সুশাসন বিষয়ে শুরু হচ্ছে অ্যাপস উৎসব। পানি, দুর্যোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সুশাসন বিষয়ের বিভিন্ন সমস্যার তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর নতুন সমাধান উদ্ভাবনের জন্য আগামী ১৪-১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আয়োজন করা হয়েছে ‘ওয়াটার হ্যাকাথন অ্যাপস’ শীর্ষক এই উৎসবের।

বিশ্ব ব্যাংকের ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন প্রোগ্রাম (ডব্লিউএসপি), ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ফান্ড ফর ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস-টু-ইনফরমেশন প্রোগ্রামের সহায়তায় বাংলাদেশে দ্বিতীয়বারের মতো এ উন্নয়ন বিষয়ক এ হ্যাকাথন অনুষ্ঠিত হবে।

এ আয়োজনের সহযোগিতায় রয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, বিডি ভেঞ্চার, ইল্যান্স ও স্টার্টআপ ঢাকা।

উৎসবে নিবন্ধন করা যাবে www.hackathonbd.com ঠিকানায়। সর্বশেষ খবর পাওয়া যাবে ফেসবুকে www.facebook.com/AppFestbd পেজে।

অস্ট্রেলিয়ান ওপেন: নতুন চ্যাম্পিয়ন অপেক্ষা ফুরোল ভাভরিঙ্কার

‘চেষ্টা করেছ। ব্যর্থ হয়েছ। কোনো ব্যাপার না।
আবার চেষ্টা করো। আবার ব্যর্থ হও। এবার আরেকটু ভালোভাবে।’
স্তানিসলাস ভাভরিঙ্কার বাঁ হাতে খোদিত স্যামুয়েল বেকেটের এই বিখ্যাত পঙিক্ত। শুধু ট্যাটু এঁকেই নয়, রজার ফেদেরারের স্বদেশি নিরন্তর অনুপ্রেরণা হিসেবেই নিয়েছেন এটিকে। টুর্নামেন্টের পর টুর্নামেন্টে ব্যর্থতা, তবু মনোবল ভাঙেনি ভাভরিঙ্কার। লক্ষ্যে স্থির থেকে শেষ পর্যন্ত সফল এই সুইস। রড লেভার অ্যারেনায় কাল অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে রাফায়েল নাদালকে হারিয়েছেন ৬-৩, ৬-২, ৩-৬, ৬-৩ গেমে। ভাভরিঙ্কার অপেক্ষার অবসান। হাতে তুললেন প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা!
নাদালের বিপক্ষে এর আগে ১২ ম্যাচ খেলে সব কটিই হেরেছিলেন। কোনো ম্যাচে একটি সেটও জিততে পারেননি। সেই ভাভরিঙ্কা জিতলেন ১৩ নম্বর ম্যাচে এসে। প্রতিপক্ষ এই নাদাল অবশ্য সেরা ফর্মের নাদাল নন। চোটের সঙ্গে লড়াই করা এক নাদাল।
প্রথম দুই সেটে একরকম আত্মসমর্পণের পর মনে হচ্ছিল সরাসরি সেটেই হেরে যাচ্ছেন নাদাল। কিন্তু তৃতীয় সেটটা ঠিকই জিতে নিলেন অদম্য এই স্প্যানিয়ার্ড। এরপর অবশ্য চতুর্থ সেটে আর পেরে ওঠেননি, ভাভরিঙ্কার দেয়ালে আটকেই গেলেন এই লড়াইয়ে।
দ্বিতীয় সেট চলাকালে মেডিকেল টাইমআউট নিতে বাধ্য হয়েছিলেন নাদাল। মেজাজ হারিয়ে এ সময় চেয়ার আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন ভাভরিঙ্কা। ম্যাচের পর সেই ভাভরিঙ্কা শান্ত। নাদালের অবস্থা বুঝেই কিনা জয়ের পর উচ্ছ্বাসে না ভেসে পা রাখলেন মাটিতেই। শূন্যে হাত উঁচিয়ে উদ্যাপন করেই সান্ত্বনা দিতে ছুটে গেলেন নাদালের দিকে। পুরস্কার নিতে এসেও নাদালের স্তুতি গাইলেন ২৮ বছর বয়সী তারকা, ‘রাফা, প্রথমেই বলে নিই তোমার জন্য আমি সত্যিই দুঃখিত। আশা করছি, তোমার পিঠ ঠিক আছে। তুমি খুব ভালো বন্ধু ও গ্রেট চ্যাম্পিয়ন। গত বছর তুমি প্রত্যাবর্তনের অসাধারণ এক গল্প লিখেছ।’
এরপর মনের ভেতর চেপে থাকা আবেগ বেরিয়ে এল। ৩৬ বারের চেষ্টায় প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম জেতা—আবেগ তো ভাসিয়ে নেবেই ভাভরিঙ্কাকে, ‘আমার জন্য এটাই সেরা গ্র্যান্ড স্লাম। এখানে খেলাটা আমি দারুণ উপভোগ করছি।’ বলতে বলতে ফিরে তাকালেন পেছনে। গত বছর এই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেরই চতুর্থ রাউন্ডে নোভাক জোকোভিচের কাছে পাঁচ সেটে হারের কষ্ট ভুলে গাইলেন দিনবদলের গান, ‘গতবার হারের পর অনেক কেঁদেছি। গত এক বছরে অনেক কিছুই হয়েছে। এখন পর্যন্ত ঠিক জানি না, আমি স্বপ্ন দেখছি কি না। কাল সকালেই হয়তো বোঝা যাবে।’
ভাভরিঙ্কার দিনে নাদাল কেঁদেই ফেললেন ট্রফি নিতে এসে। ফোস্কা পড়া বাঁ হাত দিয়ে খেলেই ফাইনালে ওঠা ১৩টি গ্র্যান্ড স্লামের মালিক ভাভরিঙ্কাকে ধন্যবাদ দিলেন প্রথমে। তারপর দর্শকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন তাদের হতাশ করার জন্য, ‘সব দর্শককে বলছি, খুব আবেগের দুটি সপ্তাহ কাটালাম। শেষটা যেভাবে হলো আমি দুঃখিত। আমি চেষ্টা করেছি, খুব…খুব চেষ্টা করেছি।
এ হারে রড লেভার ও রয় এমারসনের সঙ্গে এক সারিতে বসার সুযোগ হারালেন নাদাল। সবগুলো গ্র্যান্ড স্লাম দুবার করে জেতা হলো না—নাদালের অপেক্ষা বাড়লই। এএফপি, রয়টার্স।
২১ বছর পর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে শীর্ষ দুই বাছাইকে হারালেন কেউ। ভাভরিঙ্কার আগে এই কৃতিত্ব ছিল সার্গি ব্রুগুয়েরার (১৯৯৩, ফ্রেঞ্চ ওপেন)।
৩৬ তম গ্র্যান্ড স্লামে এসে শিরোপার দেখা পেলেন ভাভরিঙ্কা। ক্যারিয়ারে প্রথম শিরোপা জিততে শুধু গোরান ইভানিসেভিচকে খেলতে হয়েছে এর চেয়ে বেশি গ্র্যান্ড স্লাম (৪৮টি)।

এবার শ্রীলঙ্কার সামনে অন্য বাংলাদেশ

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ থেকে কী চান মুশফিকুর রহিম? বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ থেকে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের চাওয়াটাই বা কী?
—জয়।
হ্যাঁ, এক কথায়ই দিয়ে দেওয়া যাচ্ছে উত্তরটা। দুই অধিনায়কের চাওয়াতে যে কোনো পার্থক্য নেই।
কিন্তু মুশফিক সিরিজ জিততে চাইছেন মানে? বাংলাদেশ দল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে নামছে নাকি! না, তা নয়। বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কাই। প্রতিপক্ষ না বলে ‘প্রবল প্রতিপক্ষ’ বলাই ভালো। তাদের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের ইতিহাস কেবলই ‘নির্যাতিত’ হওয়ার। দেশের মাটিতে পেয়েছেন বলেই মুশফিক সেই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে জয়ের হুংকার দিয়ে মাঠে নামবেন, বড় বেশি কি কানে লাগছে ব্যাপারটা?
লাগলে লাগুক। মুশফিক আর তাঁর দল এবার মাথা উঁচু করেই মাঠে নামবে। মুশফিকদের সাহস জোগাচ্ছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বিস্মরণযোগ্য ইতিহাসেরই শেষ পাতাটি। গত বছরের মার্চে দুই দলের সর্বশেষ সিরিজটি হয়েছিল শ্রীলঙ্কার মাটিতে। কলম্বোর শেষ টেস্টে হারলেও গল টেস্টে বুক চিতিয়ে ড্র করার স্মৃতি নিজেদের সেরা দিনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও এনে দিচ্ছে সেরা সাফল্য পাওয়ার আত্মবিশ্বাস। কাল সিরিজ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মুশফিক বলছিলেন, ‘আমি বরাবরই বলেছি, আমরা প্রতিটি টেস্টই জেতার জন্য খেলি। এই মানসিকতা আমাদের ভেতরে এমনি এমনি তৈরি হয়নি। আমাদের সামর্থ্য আছে বলেই এটা তৈরি হয়েছে।’
বাংলাদেশ অধিনায়কেরই যেখানে জয়ের লক্ষ্য, শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক তো আরও বেশি করে চাইবেন সেটা। কাল দুপুরে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুশীলনে নামার আগে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস সোজাসাপ্টাই বললেন, ‘আমরা সব সময়ই জয়ের জন্য খেলি এবং আমরা সেটাই চাই। ড্রয়ের জন্য আমরা খেলি না, খেলি জয়ের জন্য। ম্যাচ জিততে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
সন্দেহ নেই, বরাবরের মতো এবারও বাংলাদেশের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে বড় অস্ত্র কুমার সাঙ্গাকারা আর মাহেলা জয়াবর্ধনেই। টেস্ট ক্রিকেটে দুজনেরই ১০ হাজারের বেশি রান। বাংলাদেশের বিপক্ষে অতীতটাও একই রকম উজ্জ্বল। আরেকটা সিরিজ খেলতে নেমে এই দুই ব্যাটসম্যানকে বাংলাদেশ দলের ভয় না পাওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে মুশফিক মনে করিয়ে দিচ্ছেন, যত ভালো ব্যাটসম্যানই হোক, সাঙ্গাকারা-জয়াবর্ধনেও রক্ত-মাংসেরই মানুষ। তাঁদের আউট করতেও দুটি বলই যথেষ্ট, ‘১০ হাজার রান করা সহজ কথা নয়। তাই বলে এমনও নয় যে, ওরা কখনো ব্যর্থ হয়নি। তাদের নিয়ে কিছু পরিকল্পনা আছে আমাদের।’
মিরপুরে আজ থেকে শুরু প্রথম টেস্টে তো বটেই, মুশফিকদের পরিকল্পনা কাজে লাগা না-লাগার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে এই সিরিজের। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যতেরও কি নয়? দুই টেস্টের সিরিজে শ্রীলঙ্কা দলকে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দিয়ে ‘বিগ থ্রি’র দ্বিস্তরবিশিষ্ট টেস্টের প্রস্তাবটাকেও একটা জবাব দিতে পারে বাংলাদেশ দল। তাতে বাংলাদেশ শিবিরে বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে অবচেতনে বেজে চলা অনিশ্চিত আবহ সংগীতের তীব্রতা কিছুটা হলেও কমে আসবে। মুশফিক অবশ্য বলেই দিয়েছেন, মাঠের বাইরের রাজনীতি-কূটনীতির সঙ্গে তিনি মেলাতে রাজি নন মাঠের খেলাকে। ‘বিগ থ্রি’র চক্রান্তও আপাতত ঝেড়ে ফেলতে চান মাথা থেকে। ভাবনায় এখন শুধুই শ্রীলঙ্কা সিরিজ।
সেই ভাবনার সবটুকুই অবশ্য সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার মতো নয়। সংবাদ সম্মেলনে দল নিয়ে প্রশ্ন হওয়াতে যেমন দারুণ এক রসিকতায় বল ছেড়ে দিলেন মুশফিক, ‘দলে যে ১৪ জন দেখেছেন, সবাই খেলার জন্য প্রস্তুত। সত্যি বলতে কি, এঁদের মাঝ থেকেই ১১ জন খেলবে। তিন পেসার খেলতে পারে। শুভ (শামসুর), ইমরুল দুজনই খেলতে পারে। আবার না-ও পারে (হাসি…)।’ মুশফিক সরাসরি না বললেও টিম হোটেলে ভাসা গুঞ্জন বলছে, প্রথম টেস্টে তিন পেসার নিয়ে খেলার সম্ভাবনাই বেশি। সে ক্ষেত্রে একাদশের বাইরে থাকবেন মাহমুদউল্লাহ, রাজ্জাক ও ইমরুল। আর দুই পেসার নিয়ে খেললে আল-আমিনকে বাইরে রেখে দলে ঢুকবেন রাজ্জাক।

টেস্টই খেলতে পারবে না বাংলাদেশ!

আইসিসির পূর্ণ সদস্য পদ থাকবে। থাকবে টেস্ট মর্যাদাও। তবু টেস্ট ক্রিকেট খেলতে পারবে না বাংলাদেশ! ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বোর্ড প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো সত্যিই বাস্তবায়িত হলে অভূতপূর্ব এই ঘটনা দেখবে ক্রিকেট বিশ্ব। টেস্ট ক্রিকেটের আঙিনায় বাংলাদেশের বিচরণ থমকে যেতে পারে এ বছরই। আগামী বছর থেকে আবার কবে টেস্ট খেলতে পারবেন মুশফিক-সাকিবরা, কিংবা আদৌ আর খেলতে পারবেন কি না, অনিশ্চিত সবই। একই ভাগ্য মেনে নিতে হবে জিম্বাবুয়েকেও।
‘তিন জমিদারের’ বিশ্ব ক্রিকেট শাসন করার প্রস্তাব ফাঁস হওয়ার পর থেকেই তোলপাড় চলছে ক্রিকেট বিশ্বে। তিন জমিদার ছাড়া নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ‘প্রজাদের’ বাকি সবাই। যদিও খবরটি ফাঁস করা ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো কিংবা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় বাংলাদেশ খুব একটা গুরুত্ব পায়নি। তবে প্রস্তাবিত খসড়ায় যা দেখা যাচ্ছে, তাতে সবচেয়ে করুণ পরিণতি অপেক্ষা করছে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের ভাগ্যেই।
প্রস্তাবিত ২১ পাতার খসড়ায় অনুচ্ছেদ আছে ছয়টি। ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ৩ নম্বর পয়েন্টের শিরোনাম—‘আইসিসি র‌্যাঙ্কিং সিস্টেম’।
এখানেই বলা হয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সময়কালে টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের ৯ ও ১০ নম্বর দলকে খেলতে হবে আইসিসি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে। আইসিসির শীর্ষ সহযোগী দেশগুলোর অংশগ্রহণে প্রথম শ্রেণীর ম্যাচের টুর্নামেন্ট এই ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ। বর্তমান টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে ৩৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ৯ নম্বরে আছে জিম্বাবুয়ে, ১৮ পয়েন্ট নিয়ে দশে বাংলাদেশ। র‌্যাঙ্কিংয়ের আটে থাকা নিউজিল্যান্ডের পয়েন্ট ৮২, সাতে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৮৭।
বছর শেষেও যে জিম্বাবুয়ে ও বাংলাদেশ নয় ও দশ নম্বরে থাকবে, সেটি নিশ্চিতই। টেস্ট ক্রিকেটের বদলে এই দুই দেশকেই তাই চার দিনের ম্যাচ খেলতে হবে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে। সর্বশেষ (২০১৩) এই টুর্নামেন্টে খেলেছে আয়ারল্যান্ড, আফগানিস্তান, স্কটল্যান্ড, আরব আমিরাত, নামিবিয়া, কানাডা, কেনিয়া ও নেদারল্যান্ডস। সহযোগী এই আট দেশের সঙ্গে এখন শিরোপা যুদ্ধে নামতে হবে পূর্ণ সদস্য দুটি দেশকে!
ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে শিরোপাজয়ী দল এরপর চ্যালেঞ্জ টেস্ট সিরিজ খেলার সুযোগ পাবে ওই সময় টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের আটে থাকা দলের বিপক্ষে। দুটি করে টেস্ট ম্যাচের দুটি সিরিজ হবে ‘হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে’ পদ্ধতিতে। এই চ্যালেঞ্জ সিরিজে জয়ী দেশ অষ্টম দল হিসেবে খেলার সুযোগ পাবে টেস্ট ক্রিকেট। হেরে যাওয়া দলকে খেলতে হবে পরবর্তী ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে। ২০১৫ থেকে ২০২৩, এই আট বছর সময়কালে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ হবে দুটি। নতুন নিয়মের প্রথম ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের শিরোপা নির্ধারিত হবে ২০১৯ সালে। এ বছরের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর ২০১৯ সাল পর্যন্ত অন্তত আর টেস্ট খেলতে পারবে না বাংলাদেশ।
২০১৯ সালে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে বাংলাদেশ যদি চ্যাম্পিয়ন হয়ও, টেস্ট আঙিনায় ফেরা সীমাবদ্ধ থাকতে পারে চ্যালেঞ্জ সিরিজের ওই চার টেস্টেই। চার বছর পর টেস্টে ফিরে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে সিরিজে টেস্টের ৮ নম্বর দলকে হারানো হবে অসম্ভবের কাছাকাছি। তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়া গেল, চ্যালেঞ্জ সিরিজও জিতে টেস্ট ক্রিকেটে আবার উত্তরণ হলো বাংলাদেশের। কিন্তু তখনো কয়টি টেস্ট খেলতে পারবে, সেই সংশয় থাকবেই। এফটিপি বাতিল হয়ে গেলে টেস্ট খেলার জন্য বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হবে অন্য দেশের দয়ার ওপর। ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ খেলে উঠে আসা দেশের জন্য অন্য দেশের কাছ থেকে সেই ‘দয়া’ আদায়ও খুব একটা সহজ হবে না। টেস্টে উত্তরণ হলেও তাই টিকে থাকা হবে দুরূহ।
এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের ওপর ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে খেলার খড়্গ নেমে আসছে আগামী বছরই। তবে অদূর ভবিষ্যৎ ভাবলে শঙ্কায় থাকবে নিউজিল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দেশগুলোও। র‌্যাঙ্কিংয়ের সাত-আটে ঘোরাফেরা তো তাদেরই। ২০১৯ সালে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া দল যদি তাদের হারিয়ে দেয়, কী হবে ভাবুন! হয়তো দেখা যাবে টেস্ট খেলবে আফগানিস্তান, আর ১৯২৮ সাল থেকে টেস্ট খেলে আসা, সত্তর-আশির দশকে বিশ্ব ক্রিকেটে রাজত্ব করা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে খেলতে হবে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ! শঙ্কায় আসলে ‘তিন জমিদার’ ছাড়া বাকি সব দেশই। চার বছর পর তো টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের আটে থাকতে পারে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার মতো দলও। কিংবা কে জানে, ক্রিকেটীয় অনিশ্চয়তায় চার বছর পর আটে নেমে যেতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকাও। তৃতীয় দেশ হিসেবে টেস্ট মর্যাদা পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকাকেও তখন খেলতে হতে পারে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে!
দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা তাই এককাট্টা হচ্ছে প্রস্তাবের বিপক্ষে। বাংলাদেশ কী ভাবছে? আপাতত এটা নিয়ে কথা বলতে নারাজ বিসিবির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, ‘এটি খুবই সেনসিটিভ (স্পর্শকাতর) একটি ইস্যু। প্রস্তাবটি বিস্তারিত পড়া ও আলোচনার ব্যাপার আছে। ২৩ জানুয়ারির (আগামী কাল) বোর্ড সভায় আলোচনা হবে, এরপর হয়তো মন্তব্য করা যাবে।’

অস্ট্রেলিয়ান ওপেন এবার শেষ হাসি লি নার

অবশেষে আমি ইহা (অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ট্রফি) পাইলাম।’
লি না এমনটা তো বলবেনই। মেলবোর্নে আগের দুটি ফাইনালে হারের স্মৃতি ভুলে কাল নতুন ইতিহাস গড়লেন চীনের মেয়ে। স্লোভাকিয়ার ডমিনিকা সিবুলকোভাকে ৭-৬ (৭/৩), ৬-০ গেমে হারিয়ে প্রথম এশীয় হিসেবে জিতলেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেন।
লি না তো কাল শুধু সিবুলকোভার বিপক্ষেই খেলেননি। আগের দুটি ফাইনাল হারের তিক্ত স্মৃতির বিপক্ষেও লড়েছেন। এই ম্যাচের মতো আগের দুটি ফাইনালেও (কিম ক্লাইস্টার্স-২০১১ ও ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা-২০১৩) প্রথম সেটে জিতেছিলেন লি না-ই। তবে এবার আর অনভিজ্ঞ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করেননি। প্রতিপক্ষকে দুমড়ে-মুচড়েই জিতেছেন আরাধ্য শিরোপা। টাইব্রেকারে গড়ানো প্রথম সেটটা শেষ করতে ৭০ মিনিট লাগলেও, দ্বিতীয় সেটটা লি জিতে নিয়েছেন মাত্র ২৭ মিনিটেই।
‘ট্রফিটা কত কাছে’—ফাইনালের আগেই বলছিলেন লি না। সেই ট্রফিটা এবার হাতে তোলার পর কোর্টের মতো কোর্টের বাইরেও সপ্রতিভ লি না। আবেগে বলেই ফেললেন, ‘অবশেষে আমি এটাকে পেয়েছি। আগের দুটি ফাইনালে খুব কাছে গিয়েছিলাম।’
এরপরই আবেগ ছেড়ে বেরিয়ে এল চিরপরিচিত আমুদে এক মেয়ে। সিবুলকোভাকে ধন্যবাদ দেওয়ার পর নিজের সঙ্গী-সাথিদের ধন্যবাদ দিতে গিয়েই হাসির রোল ওঠালেন গ্যালারিতে। প্লেয়ার্স বক্সে বসা এজেন্ট ম্যাক্স আইজেনবাডকে উদ্দেশ করে বললেন, ‘এজেন্ট ম্যাক্স, তুমি আমাকে খুব ধনী বানিয়ে দিয়েছো। অনেক অনেক ধন্যবাদ।’
এরপর কোচ কার্লোস রদ্রিগেজকে প্রাপ্য ধন্যবাদটা দিয়ে মেতে উঠলেন স্বামী জিয়াং শানকে নিয়ে রসিকতায়, ‘ধন্যবাদ আমার স্বামীকে। সেও চীনে অনেক জনপ্রিয়। ওঁকে ধন্যবাদ সবকিছু ছেড়েছুড়ে আমার সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো জন্য। আমাকে অনুশীলনে সাহায্য তো আছেই, পানীয় বানিয়ে দিয়ে, র‌্যাকেটের তার মেরামত করে কত কাজই না তুমি করো। তুমি চমৎকার এক লোক, ধন্যবাদ তোমাকে। তুমি কত ভাগ্যবান আমাকে পেয়েছো।’
তিন বছর আগে ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়ের পর আবার গ্র্যান্ড স্লাম জয়, ৩১ বছর বয়সী লি না পেছনে ফেলে দিয়েছেন মার্গারেট কোর্টকে। লির আগে উন্মুক্ত যুগে সবচেয়ে বেশি বয়সে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতেছিলেন এই অস্ট্রেলীয় গ্রেটই। উন্মুক্ত যুগে বয়স ৩০ পেরিয়ে যাওয়ার পর গ্র্যান্ড স্লাম জেতা সপ্তম নারী খেলোয়াড় লি বয়সকে কোনো বাধাই মনে করছেন না, ‘আমি বলব বয়স-টয়স কিছুই না। এখনো আমি গ্র্যান্ড স্লাম জিততে পারি। তাই আমি আমার বয়স নিয়ে বেশ খুশি। কোর্টে অভিজ্ঞতা নিয়েই আমি নামতে পারি।’
এই জয়ে র‌্যাঙ্কিংয়েও এক ধাপ ওপরে উঠে তিনে আসছেন লি না। দুইয়ে থাকা আজারেঙ্কার সঙ্গে লিনার দূরত্ব ১১ পয়েন্ট। শীর্ষে সেরেনা উইলিয়ামসই।
হারলেও অতটা মন খারাপ ছিল না ‘পকেট রকেট’ সিবুলকোভার। ফাইনালে ওঠার পথে মারিয়া শারাপোভা ও আগ্নিয়েস্কা রাদভানস্কাকে হারিয়ে এরই মধ্যে অনেক গুণগ্রাহী পেয়ে গেছেন স্লোভাক মেয়ে। খুশি তা নিয়েই, ‘এটা ছিল আমার প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনাল। এটাকে যেভাবে সামলালাম, আমি খুশি। আমি চেয়েছিলাম নিজের সেরা খেলাটাই খেলতে। কিন্তু সে (লি না) এতই ভালোই খেলল যে, কাজটা সহজ ছিল না।’ এএফপি।

সবচেয়ে বেশি বেতন মেসির?

কে সেরা? ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, না লিওনেল মেসি? এই বিতর্কের মধ্যেই রোনালদো এক দিক দিয়ে একটু হলেও এগিয়ে। এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া ফুটবলার রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকাই। তবে স্প্যানিশ দৈনিক মার্কার দাবি সত্যি হলে মেসি শিগগিরই ছুঁয়ে ফেলবেন রোনালদোকে। এমনকি বার্সার নতুন সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ বলছেন, মেসিই হতে যাচ্ছেন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া খেলোয়াড়।
শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়ায় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কৌতূহলের বিষয়, বেতনের দিক দিয়ে মেসি কি রোনালদোকে ছুঁয়ে ফেলেন নাকি ছাড়িয়ে যান? এই মৌসুমে রিয়ালের সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছেন রোনালদো। ব্যালন ডি’অরজয়ী ফুটবলারের বার্ষিক আয় এখন ১ কোটি ৮০ লাখ ইউরো। মেসি বছরে পান ১ কোটি ৩০ লাখ ইউরো। বোনাসসহ ১ কোটি ৬০ লাখ ইউরো। নতুন চুক্তি হলে রোনালদোর সমানই বেতন পাবেন মেসি, জানিয়েছে মার্কা।
বলা প্রয়োজন, বার্সা সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানো সান্দ্রো রোসেল বহুদিন থেকেই চেষ্টা করে আসছিলেন মেসির সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে। একরকম পাকাপাকিও নাকি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু নেইমারের দলবদল বিতর্কে রোসেল পদত্যাগ করেছেন তিন দিন আগে। নতুন সভাপতি হাঁটতে চান রোসেলের পথেই। শিগগিরই মেসির সঙ্গে চুক্তি সেরে ফেলার ইচ্ছে তাঁর। পরশু সংবাদ সম্মেলনে সেটি জানিয়েও দিলেন।
প্রশ্ন উঠল, ‘রোসেল কেলেঙ্কারি’ চাপা দিতেই এত তড়িঘড়ি করছেন বার্তোমেউ? বার্সা সভাপতির আত্মপক্ষ সমর্থন, ‘মেসির চুক্তির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। সে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। খুব তাড়াতাড়ি আমরা ওর এজেন্ট হোর্হে মেসির (মেসির বাবা) সঙ্গে কথা বলব। আশা করছি, মেসিই হবে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া খেলোয়াড়।’ ওয়েবসাইট।

পারিশ্রমিকে রোনালদোর বিশ্ব রেকর্ড ভাঙছেন মেসি?

দুজনের লড়াইটা চলে এখানেও। সেই লড়াইয়ে লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ফুটবলারের বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এবার মেসি সম্ভবত টেক্কা দিতে চলেছেন রোনালদোকেই। সে রকমই আভাস মিলছে বার্সেলোনার নতুন সভাপতি হোসেপ মারিয়া বার্তোমেউর কথায়।

মেসি-রোনালদোর বেতন আগে প্রায় সমানই ছিল। কিন্তু গত সেপ্টেম্বরে বার্ষিক ২১ মিলিয়ন ইউরো বেতনের নতুন চুক্তি হয় রোনালদো ও রিয়াল মাদ্রিদের। যেটি পারিশ্রমিকের বিশ্ব রেকর্ড। এরপর শোনা গিয়েছিল, মেসির তরফ থেকেও বেতন বাড়ানোর চাপ আছে। কিন্তু যেটি পরে গুঞ্জন বলে উড়িয়ে দেন তখনকার বার্সা সভাপতি সান্দ্রো রোসেল।

তবে বার্সারই নীতিনির্ধারকেরা মাঝেমধ্যেই মন্তব্য করেছেন, মেসিই বিশ্বের এক নম্বর ফুটবলার। এক নম্বর বেতনটাও তাঁর প্রাপ্য। এবার বার্তোমেউও একই রকম কথা বললেন। মেসির সঙ্গে বার্সা গত বছরই নতুন চুক্তি করেছে। যে চুক্তির মেয়াদ ২০১৮ পর্যন্ত। নতুন চুক্তির প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে, নতুন চুক্তি হচ্ছে। আর তাতেই সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকের ফুটবলার হতে চলেছেন মেসি।

বার্তোমেউ অবশ্য বলেছেন, নেইমারের চুক্তি নিয়ে চাপে পড়ার সঙ্গে মেসির সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে চাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই, ‘এর সঙ্গে মেসির চুক্তি নবায়নের কোনো সম্পর্ক নেই। ও বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। নিকট ভবিষ্যতে ওর এজেন্ট ওর বাবা হোর্হে মেসির সঙ্গে আমরা বসব, যাতে করে তাঁর ছেলে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া খেলোয়াড় হতে পারে।’

‘ওই দিন অনেক আগেই শেষ’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট খেলতে নামা বাংলাদেশ দলের জন্য আতঙ্কই ছিল। কিন্তু সর্বশেষ শ্রীলঙ্কা সফর সে ভয় কাটিয়ে দিয়েছে অনেকটাই। আরেকটি শ্রীলঙ্কা সিরিজের আগে কাল দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা সাকিব আল হাসানও মনে করিয়ে দিলেন সেটি। বাংলাদেশ দল এখন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জেতার জন্যই খেলবে
 ২০ উইকেট নেওয়ার সামর্থ্য কি আছে বাংলাদেশ দলের?
সাকিব আল হাসান: আমাদের বোলিং আক্রমণ তো ভালো। তার পরও নির্ভর করে উইকেটের ওপর। যত ভালো বোলিং আক্রমণই হোক, ফ্ল্যাট উইকেট হলে তো কঠিন। তবে আমার বিশ্বাস, স্পোর্টিং উইকেট হলে আমাদের সামর্থ্য আছে ২০ উইকেট নেওয়ার।
 সামর্থ্যটা কার বেশি? বোলারদের মধ্যে কাকে এগিয়ে রাখবেন—
সাকিব: সবাইকেই ভূমিকা রাখতে হবে। কেউ হয়তো ৫ উইকেট পাবে, কিন্তু বাকি সবাইকেও ১ উইকেট করে নিতে হবে। ফাস্ট বোলারদের বড় ভূমিকা থাকছে। আমাদের টেস্ট বোলিং আক্রমণ স্পিননির্ভর হলেও পেসারদেরও দায়িত্ব আছে। আর স্পিনারদেরও সামর্থ্য অনুযায়ী বল করতে হবে।
 শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশ দলের পার্থক্য—
সাকিব: শেষবার শ্রীলঙ্কায় টেস্টে খুবই ভালো খেলেছে বাংলাদেশ। এখন যেহেতু নিজেদের মাঠে খেলা, একটু সুবিধা থাকবেই। গত এক-দুই বছর আমরা দেশের মাটিতে খুবই ভালো ক্রিকেট খেলছি। ওটা ধরে রাখতে পারলে মনে হয় না খুব একটা পার্থক্য থাকবে।
 নিজেদের মাঠে যে ধরনের সুবিধা আশা করেন—
সাকিব: স্পোর্টিং উইকেটই ভালো। আমরা যদি স্পিন উইকেট বানাই এমন নয় যে, ওদের স্পিনার নেই বা ওদের ভালো ব্যাটসম্যান নেই যারা স্পিনের বিপক্ষে ভালো ব্যাটিং করতে পারে। সব মিলিয়ে স্পোর্টিং উইকেট হলেই ভালো। ভালো ব্যাট করলে ব্যাটসম্যানরা রান পাবে। ভালো বোলিং করলে বোলাররা উইকেট পাবে। দল হিসেবে আমরা এখন অনেক অভিজ্ঞ। সামপ্রতিক সময়ে ব্যক্তিগত ও দলগতভাবে ভালো খেলছি। স্পোর্টিং উইকেট হলে খারাপ হবে না।
 এবার কারও চোট বা ফর্ম নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। এটা কি আত্মবিশ্বাস বাড়াবে?
সাকিব: শেষ এক-দুই বছর ধরে আমাদের দল খুব ভালো খেলছে। স্বাভাবিকভাবে সবার আত্মবিশ্বাস অনেক বেশি। পারফরমারের সংখ্যাও অনেক বেশি। দলের ভেতর একটা ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা সব সময় চলছে। এমনকি যারা দলে নেই তারাও ভালো পারফর্ম করছে। এটা এক দিক থেকে চাপও। তবে এই চাপ দলের জন্য ভালো।
 শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে কে বড় হুমকি—
সাকিব: সবাই, আউট তো সবাইকেই করা লাগবে। টেস্ট জিততে হলে ২০ উইকেট নিতে হবে। তার পরও সাঙ্গাকারা, জয়াবর্ধনে, ম্যাথুস আছে। সর্বশেষ সিরিজে অনেকেই ভালো খেলেছে। ওপরের দিকের ৬-৭ ব্যাটসম্যান তো সব সময়ই হুমকি।
 সিরিজের প্রস্তুতি কেমন হলো—
সাকিব: আমার মনে হয় ভালো। খুব বেশি ম্যাচ খেললেই যে প্রস্তুতি ভালো হবে এমন নয়। দুটি ম্যাচ হয়েছে, কিন্তু ভালো মানের ম্যাচ খেলা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমার কাছে মনে হয় সেটা হয়েছে। যদিও আমি ছিলাম না, তবে পত্রিকায় দেখেছি, টেলিভিশনের খবরে দেখেছি।
 শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লক্ষ্য—
সাকিব: সব সময় আমরা জেতার জন্যই খেলি। ড্র কিংবা ভালো খেলব, ওই দিন অনেক আগেই শেষ। জেতার জন্য অবশ্যই খেলব। পুরো দলই সেভাবে চিন্তা করছে। তবে যেহেতু পাঁচ দিনের খেলা, অনেক সেশন আছে। খেলাটাকে ছোট ছোট সেশনে ভাগ করে নিতে হয়। সেশনগুলো জিততে পারলে ভালো ফলাফল করা সম্ভব।
 ওপেনিং জুটি নিয়ে মন্তব্য—
সাকিব: বলা মুশকিল কে খেলবে না খেলবে। মার্শাল কিছু ম্যাচ (দুটি টেস্ট) খেলেছে। শামসুর এখনো খেলেনি। ইমরুল খেলেছে, অভিজ্ঞতা আছে, যদিও অনেক দিন বাইরে ছিল। দায়িত্ব সবারই। যে নতুন এসেছে তারও দায়িত্ব আছে। বাংলাদেশের সেরা ১৫ জন খেলোয়াড়ই এখানে, এরা পারফর্ম করেই এসেছে। একটা দলে দু-একজন পারফর্ম করলে খুব কম ম্যাচই জেতা যায়।

ম্যাথুসের ভয় ঘরের মাঠের বাংলাদেশকে

প্রশ্নটা করতেই মাইকেল সয়সার দিকে মাইক্রোফোন ঘুরিয়ে দিলেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর তো অধিনায়কের চেয়ে ম্যানেজারেরই ভালো দেওয়ার কথা।
সয়সা দিলেনও খুব ভালো উত্তর, অন্তত বাংলাদেশের জন্য ভালো তো বটেই। ‘এখানকার নিরাপত্তাব্যবস্থা অসাধারণ। আমাদের দলের নিরাপত্তার জন্য তারা (বিসিবি) সম্ভাব্য সব ব্যবস্থাই নিয়েছে। আমরা এসব ব্যবস্থায় খুবই সন্তুষ্ট’—সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন শ্রীলঙ্কা দলের ম্যানেজার।
বাংলাদেশ সফরে তাহলে আপাতত কোনো ভয়-টয় নেই পরশু ঢাকার মাটিতে পা রাখা লংকানদের! ভয় একেবারেই যে পাচ্ছে না, তা অবশ্য নয়। অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের কথা ধরলে তাদের ভয়টা বাংলাদেশ দলকে নিয়েই।
শ্রীলঙ্কার সামনে যে মুশফিকুর রহিমরা আগের সেই ভয় কাতুরে ছোট্ট শিশুটি নয়, সেটি দেখা গেছে সর্বশেষ শ্রীলঙ্কা সফরের গল টেস্টেই। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলনে কাল সেই স্মৃতি মনে করে ম্যাথুস বললেন, ‘গত কয়েক বছরে অনেক উন্নতি করেছে বাংলাদেশ দল এবং আমরাও তাদের হালকাভাবে নিচ্ছি না। আত্মতৃপ্তিতে না ভুগে বাংলাদেশের কাছ থেকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা আশা করছি। ইতিবাচক খেলে জেতারই চেষ্টা করব আমরা।’
গত বছর শ্রীলঙ্কার মাটিতে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে করা ড্র আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ দলের। এবার তো খেলা নিজেদের মাঠে। ম্যাথুস মাথায় রাখছেন সেটিও, ‘খেলা এবার তাদের (বাংলাদেশ) মাটিতে এবং আমরা জানি, নিজেদের মাঠে বাংলাদেশকে হারানো অনেক কঠিন। সিরিজ জিততে আমাদের ভালো ক্রিকেটই খেলতে হবে। বাংলাদেশ দলে বেশ কয়েকজন ভালো খেলোয়াড় আছে। তাদের বিপক্ষে আমাদের শক্তভাবে দাঁড়াতে হবে।’
এই ‘তারা’ কারা সেটা আলাদাভাবে জানতে চাওয়া হয়েছিল শ্রীলঙ্কান অধিনায়কের কাছে। কিন্তু ম্যাথুস প্রশ্নটার সরাসরি উত্তর দিলেন না, ‘আমরা নির্দিষ্ট এক-দুজনকে নিয়ে ভাবছি না। ব্যাটিংয়ের কথা যদি ধরেন, তাদের ছয়-সাতজন ভালো ব্যাটসম্যান আছে। সবার দিকেই আমাদের দৃষ্টি আছে; কারণ তাঁদের মধ্যে যে কেউ ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে।’ একই কথা বললেন বাংলাদেশ দলের বোলিং আক্রমণ নিয়েও, ‘বাংলাদেশ দলে ভালো বোলারও আছে বেশ কয়েকজন। দলের বোলিং আক্রমণও বেশ ভালো। এটা নিয়েও আমরা ভেবেচিন্তে কৌশল ঠিক করব।’
শ্রীলঙ্কা দলে আছেন কুমার সাঙ্গাকারা-মাহেলা জয়াবর্ধনের মতো অভিজ্ঞ সেনানি। কৌশল সিলভা, দিমুথ করুনারত্নের মতো অপেক্ষাকৃত কম অভিজ্ঞরাও এই দলের সঙ্গী। সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১-১-এ টেস্ট সিরিজ ড্র করে আসার পর অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের মিশেলে গড়া এই দল নিয়ে আরও অনেক দূর যেতে চান অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস, ‘দলে কৌশল সিলভা আছে, আগেও সে কয়েকটা টেস্ট খেলেছে। পাকিস্তান সিরিজে দলের হয়ে বেশি রান করাদের মধ্যে সে একজন। দিমুথ করুনারত্নের কথাও বলতে হয়, ওপেনিংয়ে কৌশলের সঙ্গে ভালো জুটি হয়েছে ওর। সঙ্গে সাঙ্গাকারা-মাহেলা তো আছেই। দল হিসেবে আমরা খুব ভালো খেলছি এবং ভবিষ্যতেও তেমনই খেলতে চাই।’
বাংলাদেশের উইকেটে বোলিং আক্রমণে মূল ভরসা হওয়ার কথা স্পিনারদেরই। শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক সেটি ভেবেই কিনা রঙ্গনা হেরাথের কথা আলাদা করে বললেন। তবে তাঁর কথায় পরিষ্কার, শুধু স্পিনারদের দিকে তাকিয়ে নেই লংকানরা, ‘আমরা শুধু স্পিনারদের ওপর নির্ভর করছি না। আমাদের কিছু ভালো ফাস্ট বোলারও আছে। দুবাইয়ের ন্যাড়া উইকেটেও দারুণ বল করেছে ওরা।’
ম্যাথুসের ভান্ডারে স্পিন-ফাস্ট সব অস্ত্র থাকলেও মুশফিকুর রহিমকে স্পিনারদের ওপরই নির্ভর করতে হবে বেশি। শ্রীলঙ্কান অধিনায়কও তা জানেন। তবে বাংলাদেশি স্পিনারদের খেলার ব্যাপারে বেশ আত্মবিশ্বাসী মনে হলো ম্যাথুসকে, ‘বাংলাদেশের ভালো ভালো স্পিনার আছে। তবে অতীতে তাদের খুব ভালোভাবে সামলেছি আমরা।’

ক্রিকেট-শঙ্কায় বাংলাদেশ

ঝড় বইছে ক্রিকেট-বিশ্বজুড়েই। তবে বাংলাদেশে সেই ঝড়ের সঙ্গে যোগ হয়েছে ‘দমকা হাওয়া’।
টেস্ট খেলুড়ে অন্য সব দেশ লাভ-ক্ষতির অঙ্ক করছে। সম-অধিকার হারিয়ে তিন দেশের কর্তৃত্ব মেনে নেওয়ার ‘লজ্জা’ নিয়ে ভাবছে। বাংলাদেশের ভাবনা অত দূর বিস্তৃত হওয়ার সুযোগই পাচ্ছে না। এখানে জনমনে ফণা তুলছে শুধু একটাই প্রশ্ন—অনেক সাধনায় অর্জিত বাংলাদেশের টেস্ট খেলার অধিকার কি কেড়ে নেওয়া হবে?
এই প্রশ্নই কাল বিকেলে শাহবাগে টেনে আনল হাজারো জনতাকে। সেখানে একটা প্ল্যাকার্ড একটু বেশিই দৃষ্টি কাড়ল—‘তিন শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দিব না’। এখানে তিন ‘শিয়াল’ মানে ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। এই তিন দেশের ক্রিকেট বোর্ডের তিন প্রধান মিলে ‘পজিশন পেপার’ নামে যে প্রস্তাব তৈরি করেছেন, সেটি টান দিচ্ছে আইসিসির ভিত্তিমূল ধরেই। জাগিয়ে তুলেছে টেস্ট ক্রিকেট থেকে বাংলাদেশের অবনমনের শঙ্কাও।
গোপনে এই নকশা তৈরি হচ্ছিল অনেক দিন ধরেই। ৯ জানুয়ারি দুবাইয়ে আইসিসির এক বিশেষ সভায় এই প্রস্তাবের খসড়া ধরিয়ে দেওয়া হয় আইসিসির অন্য সব সদস্যদেশের হাতে। তার পরও এটি গোপনই ছিল। কদিন আগে একটি ওয়েবসাইট এটি ফাঁস করে দেওয়ার পরই ক্রিকেট-বিশ্বে তোলপাড় শুরু।
কাগজে-কলমে প্রস্তাবটা আইসিসির অর্থ ও বাণিজ্য (এফঅ্যান্ডসিএ) কমিটির ‘ওয়ার্কিং গ্রুপ’-এর। তবে ওই তিন বোর্ডের প্রধান ছাড়া এফঅ্যান্ডসিএ কমিটির বাকি ছয় সদস্যের কেউই এ ব্যাপারে অবগত ছিলেন না। সবার কাছে তাই বিস্ময় হয়েই এসেছে বিতর্কিত ও অগণতান্ত্রিক চিন্তাভাবনায় আচ্ছন্ন এই প্রস্তাব।
তা কী আছে ওই ‘পজিশন পেপারে’? মূল প্রস্তাবগুলোর প্রায় সব কটির একটাই লক্ষ্য, আইসিসিতে ওই তিন দেশের নিরঙ্কুশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা। যেটির প্রথমেই আছে, আইসিসির পূর্ণ সদস্যদেশগুলোর সম-অধিকার ক্ষুণ্ন করে এক্সকো নামে নতুন একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব। যেটির স্থায়ী সদস্য হিসেবে থাকবে বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই), ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) ও ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলশ ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। কমিটিতে বাকি সাতটি পূর্ণ সদস্যদেশের প্রতিনিধি হিসেবে থাকবেন শুধু একজন। আইসিসির বাকি সব কমিটির ওপর এটির কর্তৃত্ব থাকবে অর্থাৎ এটিই হবে বিশ্ব ক্রিকেটের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা।
টাকার লোভের কাছে খেলার মূল চেতনা অনেক দিন ধরেই গৌণ হয়ে যেতে বসেছে। প্রস্তাবিত ‘পজিশন পেপারে’ সেটি প্রকাশিত হয়েছে আরও উৎকট রূপে। এত দিন বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টগুলো থেকে আইসিসির আয়ের অঙ্কের ভাগটা টেস্ট খেলুড়ে সব দেশের জন্যই ছিল সমান। ওই তিন দেশের দাবি, এই আয়ের সিংহভাগেরই জোগান দেয় বলে তাদের বেশি ভাগ দিতে হবে। অনুমিতভাবেই বিসিসিআই এই দাবির পুরোভাগে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, আইসিসির রাজস্বের ৮০ শতাংশই আসে ভারত থেকে। তাহলে কেন তারা বেশি পাবে না? শুধু বেশি দাবি করেই ক্ষান্ত হয়নি বিসিসিআই। ওয়ার্কিং কমিটির সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তকে হুমকির আকারে জানিয়েও দিয়েছে—এই প্রস্তাব গৃহীত না হলে আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোয় ভারত অংশ নেবে না।
আইসিসির এত দিনের নিয়মনীতি বদলে দেওয়ার এমন আরও সব প্রস্তাব আছে ওই ‘পজিশন পেপারে’। তবে বাংলাদেশের সেসব নিয়ে খুব বেশি মাথাব্যথা নেই। বাংলাদেশের মূল দুশ্চিন্তা টেস্ট ক্রিকেটে উত্তরণ আর অবনমনের নিয়ম প্রবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে। যাতে বলা হয়েছে, টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে ৯ ও ১০ নম্বর দল অবনমিত হয়ে আইসিসির সহযোগী সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে চার দিনের ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে খেলবে। সেটিতে চ্যাম্পিয়ন হলে সুযোগ পাবে র‌্যাঙ্কিংয়ে ৮ নম্বর দলের সঙ্গে প্লে-অফ খেলার। হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে দুটি করে টেস্ট ম্যাচ খেলার পর জয়ী দল টিকে যাবে টেস্ট ক্রিকেটে। এই চিন্তার ভিত্তি বলা হচ্ছে ‘মেরিটোক্রেসি’কে। অর্থাৎ খেলার মানটাই এখানে বিবেচ্য। অথচ পরস্পর বিরোধিতার চূড়ান্ত রূপ বলা যায় সংযুক্ত ধারাটিকেই—ওই তিন দেশ, ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া কখনোই অবনমিত হবে না। এটির পক্ষে যুক্তি, এই তিন দেশ না থাকলে বাণিজ্যে ভাটা পড়বে। অর্থাৎ কোথাও হচ্ছে মানের বিচার, কোথাও বা কোন দল কোষাগারে কত বেশি অর্থ জোগান দিতে পারবে, সেই হিসাব।
বলা হচ্ছে, ৯ ও ১০ নম্বর দল। প্রকারান্তরে যা আসলে ‘জিম্বাবুয়ে ও বাংলাদেশ’ বলে দেওয়ার মতোই। অনেক দিন ধরে এই দুটি দলই টেস্ট ক্রিকেটের সবচেয়ে তলানির দুই দল এবং টেস্ট পরিবারের নবীনতম দুই সদস্য হিসেবে সেটি খুব অস্বাভাবিকও নয়। এমনিতেই ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রামে (এফটিপি) এই দুই দেশের প্রতি চরম বৈষম্য। এখন তো এফটিপিই তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হচ্ছে। উন্নতি করার একমাত্র পথ বড় দলগুলোর সঙ্গে আরও নিয়মিত খেলা। সেখানে উল্টো অবনমিত হয়ে গেলে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সামনে ঘোর অন্ধকার।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তাই এই প্রস্তাবের বিপক্ষে রুখে দাঁড়ানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। অথচ গত বৃহস্পতিবারের বোর্ড সভার পর সংবাদমাধ্যমে যা প্রকাশিত হয়েছে, তাতে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা রীতিমতো হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির সভাপতি কূটনৈতিক কথাবার্তা বললেও বিসিবিতে নাকি ২০-৩ ভোটে এই প্রস্তাব সমর্থন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটিকে ‘বিভ্রান্তিমূলক’ বলে অবশ্য পরদিনই ব্যাখ্যা দিয়েছে বিসিবি। আর গতকাল তো বিসিবির মুখপাত্র জালাল ইউনুস জানিয়ে দিলেন, টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবনমনের প্রস্তাবের ব্যাপারে বিসিবির অবস্থান স্পষ্ট। এটি মেনে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের মেনে নেওয়া না-নেওয়ার গুরুত্ব কতটুকু? বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর এতটা জোরালো নয় যে, সেটি সবাই শুনতে বাধ্য হবে। তবে এই ‘লড়াই’য়ে বাংলাদেশ বোধ হয় নিঃসঙ্গ নয়। দেশে ও দেশের বাইরে নানা সূত্রে যা আভাস পাওয়া গেছে, তাতে ওই তিন দেশ এবং প্রকাশ্যে এই প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানানো নিউজিল্যান্ড ছাড়া বাকি ছয়টি টেস্ট খেলুড়ে দেশের পাঁচটি এ ব্যাপারে আইসিসির সভায় এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। বিস্ময়কর হলো, বাংলাদেশের মতো একই পরিণতির আশঙ্কায় পড়া জিম্বাবুয়ে এই পাঁচ দেশের মধ্যে নেই। আর্থিক সংকটে জর্জরিত জিম্বাবুয়ে নাকি বাড়তি অর্থের আশায় বিনা প্রতিবাদে এই প্রস্তাব মেনেও নিতে পারে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অবশ্য অন্য—আগামী ২৮-২৯ জানুয়ারি দুবাইয়ে অনুষ্ঠেয় আইসিসির নির্বাহী বোর্ডের সভায় এই প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য টেবিলে উঠবে কি না? আইসিসির মুখপাত্র জন লংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তিন দেশের বিতর্কিত প্রস্তাবে যা আছে
১. আইসিসির নতুন নির্বাহী কমিটিতে (এক্সকো) স্থায়ী সদস্য থাকবে ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। আইসিসির সব কমিটিতে এর কর্তৃত্ব থাকবে
২. টেস্টে উত্তরণ ও অবনমন থাকবে। র‌্যাঙ্কিংয়ে ৯ ও ১০ নম্বর দল আইসিসির সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে খেলবে। জয়ী দল ৮ নম্বর দলের সঙ্গে প্লে-অফ খেলে ওপরে ওঠার সুযোগ পাবে। ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া অবনমিত হবে না
৩. ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম (এফটিপি) থাকবে না। দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে সিরিজ ঠিক হবে
৪. আইসিসির রাজস্ব বণ্টন হবে আয়ে সেই দেশের ভূমিকার ভিত্তিতে
৫. আইসিসির শীর্ষ পদ— আইসিসি চেয়ারম্যান, এক্সকো এবং অর্থ ও বাণিজ্য কমিটির চেয়ারম্যান হবেন ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিরা

পেলেকে আবার ম্যারাডোনা-তির

একই প্রশ্ন বারবার করলে অনেক সময় তো মুখ ফসকেও ভুল হয়! কেউবা বিনয়ী হয়েও প্রতিদ্বন্দ্বীর নাম বলেন। পেলে কিংবা ডিয়েগো ম্যারাডোনা অবশ্য সস্তা বিনয়ের ধার ধারেননি কখনোই। সর্বকালের সেরার প্রশ্নে তাঁদের মুখও কখনো ফসকায়নি! পেলের কাছে উত্তরটা যেমন পেলে, তেমনি ম্যারাডোনার কাছে ম্যারাডোনা। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি আরও একবার বললেন, ফুটবলে পেলে সব সময়ই দ্বিতীয় ছিল, এখনো তাই আছেন।
কথাটা পুরোনোই। তবে উপলক্ষটা অবশ্যই আলাদা। ১৩ জানুয়ারি জুরিখে বসে ছিল ফিফা-ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের অনুষ্ঠান। সেদিন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর হাতে ওঠে ফিফা-ব্যালন ডি’অর, পাশাপাশি পেলেকে দেওয়া হয় বিশেষ সম্মানসূচক ব্যালন ডি’অর। ব্রাজিলকে তিনবার (১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০) বিশ্বকাপ জেতালেও পেলে কখনোই ফিফা-ব্যালন ডি’অর পাননি। তখন পুরস্কারটা দেওয়া হতো শুধু ইউরোপিয়ান খেলোয়াড়দের। ফুটবলের রাজাকে সম্মান জানাতে এবারই প্রথম বিশেষ সম্মানসূচক ব্যালন ডি’অর দেওয়া হলো ৭৩ বছর বয়সী পেলেকে।
জুরিখ থেকে এই পুরস্কার নিয়েই ব্রাজিল কিংবদন্তি যান সংযুক্ত আরব আমিরাতে। বিশ্বব্যাপী এমিরেটস এয়ারলাইনসের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন সেখানে। দুবাইয়ের ক্রীড়াদূত ম্যারাডোনা বর্তমানে আছেন দুবাইয়েই। পরশু দুবাইয়ের তৃণমূল ফুটবলারদের জন্য এক কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সংবাদ সম্মেলনে ম্যারাডোনা পেয়ে সাংবাদিকেরা তুললেন পেলের পুরস্কার পাওয়ার প্রসঙ্গটা। আর যায় কোথায়! প্রশ্নকর্তাকে ম্যারোডোনার স্বভাবসুলভ জবাব, ‘আপনি কীভাবে বলতে পারলেন, পেলে আমার আগে ব্যালন ডি’অর পেয়েছে? আমি পুরস্কারটি প্যারিসে পেয়েছি (১৯৯৬ সালে)। কাজেই আমার আগে পেলে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে পুরস্কারটি পেল, এটা বড় ভুল।’
প্রায় একক নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনাকে ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জেতানো ম্যারাডোনা এরপরই যোগ করেছেন, ‘যখন ম্যারাডোনার সঙ্গে তুলনার কথা বলবেন, আমার মতে, ফুটবলে পেলে সব সময়ই দ্বিতীয় স্থানে ছিল। এমনকি ব্রাজিলেও আয়ারটন সেনার (তিনবারের ফর্মুলা ওয়ান চ্যাম্পিয়ন) পর ও দ্বিতীয় সেরা ক্রীড়াবিদ। দুঃখের বিষয়, পেলে সব সময়ই দ্বিতীয় ছিল, এখনো তাই আছে, ভবিষ্যতেও তাই থাকবে।’ অন্য রকম একটা খোঁচাও মেরেছেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে পুরস্কার দিতে গিয়ে পেলে ওর নাম বলেছে “ক্রিস্টিয়ানো লিওনার্দো”। এটাই প্রমাণ করে মানুষ হিসেবে তার মানসিক ভারসাম্য কোথায়।’
পেলেকে পুরস্কারটি দেওয়া ‘বড় ভুল’ হয়েছে, এমন দাবি করে ফিফাকেও একহাত নিয়েছেন ম্যারাডোনা, ‘আমি খুশি, আমি ফুটবল এবং আমার নিজের জন্য কাজ করছি। আমি দুবাইয়ে আমার বাড়িতেই আছি। কিন্তু পেলে তো থাকে ফিফায়।’ ওয়েবসাইট।