২০১৩: সবচেয়ে বাজে পাসওয়ার্ড

কম্পিউটার বা ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ২০১৩ সালে যেসব পাসওয়ার্ড দিয়েছেন, সেগুলোর মধ্যে দুর্বলতম বা বাজে পাসওয়ার্ড দিয়েছেন সেসবের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা ও সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠার স্প্ল্যাশডেটা। এবার সবচেয়ে বাজে পাসওয়ার্ড তালিকার এক নম্বরে উঠে এসেছে 123456 পাসওয়ার্ডটি, যা ২০১২ সালের তালিকায় শীর্ষে থাকা বাজে পাসওয়ার্ডকে ঠেলে দিয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে। সবচেয়ে বাজে দশের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে আছে 12345678, চতুর্থ qwerty আর পঞ্চম স্থানে আছে abc123 পাসওয়ার্ডটি। অন্যান্য পাসওয়ার্ডের মধ্যে 111111 আছে সপ্তম আর iloveyou আছে নবম অবস্থানে। অনলাইনে প্রকাশিত অ্যাডোবি ব্যবহারকারীদের চুরি যাওয়া পাসওয়ার্ড গবেষণা করে স্প্ল্যাশডেটা তৈরি করেছে এই তালিকা। বেশি বেশি ব্যবহার করা পাসওয়ার্ডের এই তালিকা দেখে বোঝা যায় ব্যবহারকারীরা এখনো দুর্বল আর সহজে অনুমান করা যায় এমন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে নিজেদের এখনো ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন। স্প্ল্যাশডেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মরগ্যান স্লেইন বলেছেন, তালিকায় থাকা adobe123 বা photoshop-এর মতো পাসওয়ার্ড এটাই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যেন ওয়েবসাইটের নাম বা অ্যাপ্লিকেশনে প্রবেশ করা নামের ওপর ভিত্তি করে আপনার পাসওয়ার্ড তৈরি না করেন। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, ওয়েবসাইটে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড নীতিমালা আরোপ করার পরও তালিকায় ছোট সংখ্যার পাসওয়ার্ড দেখা গেছে। যেমন, তালিকার ১৬ নম্বরে আছে 1234, ২০ নম্বরে আছে 12345।
স্প্ল্যাশডেটার পরামর্শ হলো, সব ওয়েবসাইটে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার না করে প্রতিটির জন্য আলাদা পাসওয়ার্ড তৈরি করা। পাসওয়ার্ড এমন হতে হবে যেন ন্যূনতম আটটি বা তার বেশি অক্ষর থাকে, সেই সঙ্গে কোনো বিশেষ অক্ষর এবং সংখ্যা যুক্ত থাকে। পাসওয়ার্ডের পূর্ণাঙ্গ তালিকাটি পাওয়া যাবে goo.gl/JfrFNX ঠিকানার ওয়েবসাইটে।

স্টিফেন হকিংয়ের নতুন ভাবনা কৃষ্ণগহ্বরের অস্তিত্ব নেই?

‘কৃষ্ণগহ্বরের অস্তিত্ব নেই’—এমন দাবি করে গবেষকেরা নিবন্ধ লিখতেই পারেন। আর সেটাকে খামখেয়ালিপূর্ণ বিবেচনা করে বাতিল করে দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু স্বয়ং স্টিফেন হকিং যখন কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে নতুন কোনো ভাবনা নিয়ে আসেন, তখন সেটা নিঃসন্দেহে বাড়তি গুরুত্ব পায়। কারণ, মহাজাগতিক রহস্যময় কৃষ্ণগহ্বরের ধারণার প্রবক্তাদের মধ্যে তিনিও একজন।
বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী ও যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হকিংয়ের সঙ্গে আলাপচারিতার ভিত্তিতে তৈরি একটি নিবন্ধ সম্প্রতি অনলাইনে আলোচনায় এসেছে। এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়, ধ্রুপদি তত্ত্ব অনুযায়ী কৃষ্ণগহ্বর থেকে কোনো কিছুই বেরিয়ে আসার উপায় নেই। কিন্তু কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুযায়ী, কিছু শক্তিও বেরিয়ে যেতে পারে।
প্রতিটি কৃষ্ণগহ্বরের চারদিকে যে অদৃশ্য সীমানার কল্পিত আবরণ রয়েছে, তা ‘ইভেন্ট হরাইজন’ নামে পরিচিত। হকিং বলছেন, অদৃশ্য কৃষ্ণগহ্বরের প্রবল আকর্ষণ নয়, বরং একটি তুলনামূলক ‘অনুকূল দিগন্তের’ মাধ্যমে বস্তু ও শক্তি বন্দী হয়ে থাকে। পরে ঘটনাক্রমে সেগুলো বিমুক্ত হয়, তবে অনেকটা পরিবর্তিত বা বিকৃত রূপে। এর সঠিক পদ্ধতিটি এখনো রহস্য হয়ে আছে।
তবে ধারণাটির পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যার জন্য একটি মহাকর্ষীয় শক্তি ও প্রকৃতির অন্যান্য বলের সমন্বয়ে একটি সুনির্দিষ্ট তত্ত্ব প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা স্বীকার করেন। ফলে গত প্রায় এক শতকব্যাপী তাঁরা যে বিষয়ে ভাবনা এড়িয়ে গেছেন, এখন সেটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই গবেষণা করতে হবে।
নক্ষত্র যখন জ্বালানি পুড়িয়ে শেষ করে ফেলে, তখন তা সংকুচিত হতে থাকে। সাধারণ গ্যালাক্সিগুলোর মাঝে অবস্থানরত বড় বড় নক্ষত্র তাদের বিবর্তনের সর্বশেষ পরিণতিতে ব্ল্যাক হোল বা সৃষ্টি করে। নক্ষত্রগুলো অনেক বেশি সংকুচিত হয়েই ব্ল্যাক হোলের জন্ম দেয়।
কোনো নক্ষত্রের ঘনত্ব ও ভর অনেক বেশি হলে তার মহাকর্ষীয় শক্তি এতটাই শক্তিশালী হবে যে আলো পর্যন্ত সেখান থেকে বের হতে পারবে না। মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যবর্তী আকর্ষণই হচ্ছে মহাকর্ষীয় শক্তি। কৃষ্ণগহ্বর থেকে আলো কিছু দূর যাওয়ার আগেই সেই শক্তি তাকে পেছনে টেনে নেয়। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই রহস্যময় গহ্বর সম্পর্কে সামান্য হলেও অভাবনীয় কিছু তথ্য পেয়েছেন।
হকিংয়ের ভাবনাবিষয়ক একটি নিবন্ধ মুদ্রিত আকারে প্রকাশের আগে অনলাইনের একটি বিশেষ সার্ভারে রাখা হয়েছে। এটির কথিত শিরোনাম, ‘কৃষ্ণগহ্বরের জন্য তথ্য সংরক্ষণ ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস’। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান্টা বারবারায় অবস্থিত কালফি ইনস্টিটিউট ফর থিওরিটিক্যাল ফিজিক্সের গবেষকদের সঙ্গে স্কাইপির মাধ্যমে হকিংয়ের একটি আলাপচারিতার ভিত্তিতে রচিত ওই নিবন্ধটি এখন অন্য বিজ্ঞানীরা পর্যালোচনা করছেন। নিউ সায়েন্টিস্ট ও নেচার।

অস্ট্রেলিয়ান ওপেন এবার শেষ হাসি লি নার

অবশেষে আমি ইহা (অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ট্রফি) পাইলাম।’
লি না এমনটা তো বলবেনই। মেলবোর্নে আগের দুটি ফাইনালে হারের স্মৃতি ভুলে কাল নতুন ইতিহাস গড়লেন চীনের মেয়ে। স্লোভাকিয়ার ডমিনিকা সিবুলকোভাকে ৭-৬ (৭/৩), ৬-০ গেমে হারিয়ে প্রথম এশীয় হিসেবে জিতলেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেন।
লি না তো কাল শুধু সিবুলকোভার বিপক্ষেই খেলেননি। আগের দুটি ফাইনাল হারের তিক্ত স্মৃতির বিপক্ষেও লড়েছেন। এই ম্যাচের মতো আগের দুটি ফাইনালেও (কিম ক্লাইস্টার্স-২০১১ ও ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা-২০১৩) প্রথম সেটে জিতেছিলেন লি না-ই। তবে এবার আর অনভিজ্ঞ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করেননি। প্রতিপক্ষকে দুমড়ে-মুচড়েই জিতেছেন আরাধ্য শিরোপা। টাইব্রেকারে গড়ানো প্রথম সেটটা শেষ করতে ৭০ মিনিট লাগলেও, দ্বিতীয় সেটটা লি জিতে নিয়েছেন মাত্র ২৭ মিনিটেই।
‘ট্রফিটা কত কাছে’—ফাইনালের আগেই বলছিলেন লি না। সেই ট্রফিটা এবার হাতে তোলার পর কোর্টের মতো কোর্টের বাইরেও সপ্রতিভ লি না। আবেগে বলেই ফেললেন, ‘অবশেষে আমি এটাকে পেয়েছি। আগের দুটি ফাইনালে খুব কাছে গিয়েছিলাম।’
এরপরই আবেগ ছেড়ে বেরিয়ে এল চিরপরিচিত আমুদে এক মেয়ে। সিবুলকোভাকে ধন্যবাদ দেওয়ার পর নিজের সঙ্গী-সাথিদের ধন্যবাদ দিতে গিয়েই হাসির রোল ওঠালেন গ্যালারিতে। প্লেয়ার্স বক্সে বসা এজেন্ট ম্যাক্স আইজেনবাডকে উদ্দেশ করে বললেন, ‘এজেন্ট ম্যাক্স, তুমি আমাকে খুব ধনী বানিয়ে দিয়েছো। অনেক অনেক ধন্যবাদ।’
এরপর কোচ কার্লোস রদ্রিগেজকে প্রাপ্য ধন্যবাদটা দিয়ে মেতে উঠলেন স্বামী জিয়াং শানকে নিয়ে রসিকতায়, ‘ধন্যবাদ আমার স্বামীকে। সেও চীনে অনেক জনপ্রিয়। ওঁকে ধন্যবাদ সবকিছু ছেড়েছুড়ে আমার সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো জন্য। আমাকে অনুশীলনে সাহায্য তো আছেই, পানীয় বানিয়ে দিয়ে, র‌্যাকেটের তার মেরামত করে কত কাজই না তুমি করো। তুমি চমৎকার এক লোক, ধন্যবাদ তোমাকে। তুমি কত ভাগ্যবান আমাকে পেয়েছো।’
তিন বছর আগে ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়ের পর আবার গ্র্যান্ড স্লাম জয়, ৩১ বছর বয়সী লি না পেছনে ফেলে দিয়েছেন মার্গারেট কোর্টকে। লির আগে উন্মুক্ত যুগে সবচেয়ে বেশি বয়সে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতেছিলেন এই অস্ট্রেলীয় গ্রেটই। উন্মুক্ত যুগে বয়স ৩০ পেরিয়ে যাওয়ার পর গ্র্যান্ড স্লাম জেতা সপ্তম নারী খেলোয়াড় লি বয়সকে কোনো বাধাই মনে করছেন না, ‘আমি বলব বয়স-টয়স কিছুই না। এখনো আমি গ্র্যান্ড স্লাম জিততে পারি। তাই আমি আমার বয়স নিয়ে বেশ খুশি। কোর্টে অভিজ্ঞতা নিয়েই আমি নামতে পারি।’
এই জয়ে র‌্যাঙ্কিংয়েও এক ধাপ ওপরে উঠে তিনে আসছেন লি না। দুইয়ে থাকা আজারেঙ্কার সঙ্গে লিনার দূরত্ব ১১ পয়েন্ট। শীর্ষে সেরেনা উইলিয়ামসই।
হারলেও অতটা মন খারাপ ছিল না ‘পকেট রকেট’ সিবুলকোভার। ফাইনালে ওঠার পথে মারিয়া শারাপোভা ও আগ্নিয়েস্কা রাদভানস্কাকে হারিয়ে এরই মধ্যে অনেক গুণগ্রাহী পেয়ে গেছেন স্লোভাক মেয়ে। খুশি তা নিয়েই, ‘এটা ছিল আমার প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনাল। এটাকে যেভাবে সামলালাম, আমি খুশি। আমি চেয়েছিলাম নিজের সেরা খেলাটাই খেলতে। কিন্তু সে (লি না) এতই ভালোই খেলল যে, কাজটা সহজ ছিল না।’ এএফপি।

সবচেয়ে বেশি বেতন মেসির?

কে সেরা? ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, না লিওনেল মেসি? এই বিতর্কের মধ্যেই রোনালদো এক দিক দিয়ে একটু হলেও এগিয়ে। এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া ফুটবলার রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকাই। তবে স্প্যানিশ দৈনিক মার্কার দাবি সত্যি হলে মেসি শিগগিরই ছুঁয়ে ফেলবেন রোনালদোকে। এমনকি বার্সার নতুন সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ বলছেন, মেসিই হতে যাচ্ছেন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া খেলোয়াড়।
শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়ায় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কৌতূহলের বিষয়, বেতনের দিক দিয়ে মেসি কি রোনালদোকে ছুঁয়ে ফেলেন নাকি ছাড়িয়ে যান? এই মৌসুমে রিয়ালের সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছেন রোনালদো। ব্যালন ডি’অরজয়ী ফুটবলারের বার্ষিক আয় এখন ১ কোটি ৮০ লাখ ইউরো। মেসি বছরে পান ১ কোটি ৩০ লাখ ইউরো। বোনাসসহ ১ কোটি ৬০ লাখ ইউরো। নতুন চুক্তি হলে রোনালদোর সমানই বেতন পাবেন মেসি, জানিয়েছে মার্কা।
বলা প্রয়োজন, বার্সা সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানো সান্দ্রো রোসেল বহুদিন থেকেই চেষ্টা করে আসছিলেন মেসির সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে। একরকম পাকাপাকিও নাকি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু নেইমারের দলবদল বিতর্কে রোসেল পদত্যাগ করেছেন তিন দিন আগে। নতুন সভাপতি হাঁটতে চান রোসেলের পথেই। শিগগিরই মেসির সঙ্গে চুক্তি সেরে ফেলার ইচ্ছে তাঁর। পরশু সংবাদ সম্মেলনে সেটি জানিয়েও দিলেন।
প্রশ্ন উঠল, ‘রোসেল কেলেঙ্কারি’ চাপা দিতেই এত তড়িঘড়ি করছেন বার্তোমেউ? বার্সা সভাপতির আত্মপক্ষ সমর্থন, ‘মেসির চুক্তির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। সে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। খুব তাড়াতাড়ি আমরা ওর এজেন্ট হোর্হে মেসির (মেসির বাবা) সঙ্গে কথা বলব। আশা করছি, মেসিই হবে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া খেলোয়াড়।’ ওয়েবসাইট।

পারিশ্রমিকে রোনালদোর বিশ্ব রেকর্ড ভাঙছেন মেসি?

দুজনের লড়াইটা চলে এখানেও। সেই লড়াইয়ে লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ফুটবলারের বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এবার মেসি সম্ভবত টেক্কা দিতে চলেছেন রোনালদোকেই। সে রকমই আভাস মিলছে বার্সেলোনার নতুন সভাপতি হোসেপ মারিয়া বার্তোমেউর কথায়।

মেসি-রোনালদোর বেতন আগে প্রায় সমানই ছিল। কিন্তু গত সেপ্টেম্বরে বার্ষিক ২১ মিলিয়ন ইউরো বেতনের নতুন চুক্তি হয় রোনালদো ও রিয়াল মাদ্রিদের। যেটি পারিশ্রমিকের বিশ্ব রেকর্ড। এরপর শোনা গিয়েছিল, মেসির তরফ থেকেও বেতন বাড়ানোর চাপ আছে। কিন্তু যেটি পরে গুঞ্জন বলে উড়িয়ে দেন তখনকার বার্সা সভাপতি সান্দ্রো রোসেল।

তবে বার্সারই নীতিনির্ধারকেরা মাঝেমধ্যেই মন্তব্য করেছেন, মেসিই বিশ্বের এক নম্বর ফুটবলার। এক নম্বর বেতনটাও তাঁর প্রাপ্য। এবার বার্তোমেউও একই রকম কথা বললেন। মেসির সঙ্গে বার্সা গত বছরই নতুন চুক্তি করেছে। যে চুক্তির মেয়াদ ২০১৮ পর্যন্ত। নতুন চুক্তির প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে, নতুন চুক্তি হচ্ছে। আর তাতেই সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকের ফুটবলার হতে চলেছেন মেসি।

বার্তোমেউ অবশ্য বলেছেন, নেইমারের চুক্তি নিয়ে চাপে পড়ার সঙ্গে মেসির সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে চাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই, ‘এর সঙ্গে মেসির চুক্তি নবায়নের কোনো সম্পর্ক নেই। ও বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। নিকট ভবিষ্যতে ওর এজেন্ট ওর বাবা হোর্হে মেসির সঙ্গে আমরা বসব, যাতে করে তাঁর ছেলে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া খেলোয়াড় হতে পারে।’

‘ওই দিন অনেক আগেই শেষ’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট খেলতে নামা বাংলাদেশ দলের জন্য আতঙ্কই ছিল। কিন্তু সর্বশেষ শ্রীলঙ্কা সফর সে ভয় কাটিয়ে দিয়েছে অনেকটাই। আরেকটি শ্রীলঙ্কা সিরিজের আগে কাল দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা সাকিব আল হাসানও মনে করিয়ে দিলেন সেটি। বাংলাদেশ দল এখন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জেতার জন্যই খেলবে
 ২০ উইকেট নেওয়ার সামর্থ্য কি আছে বাংলাদেশ দলের?
সাকিব আল হাসান: আমাদের বোলিং আক্রমণ তো ভালো। তার পরও নির্ভর করে উইকেটের ওপর। যত ভালো বোলিং আক্রমণই হোক, ফ্ল্যাট উইকেট হলে তো কঠিন। তবে আমার বিশ্বাস, স্পোর্টিং উইকেট হলে আমাদের সামর্থ্য আছে ২০ উইকেট নেওয়ার।
 সামর্থ্যটা কার বেশি? বোলারদের মধ্যে কাকে এগিয়ে রাখবেন—
সাকিব: সবাইকেই ভূমিকা রাখতে হবে। কেউ হয়তো ৫ উইকেট পাবে, কিন্তু বাকি সবাইকেও ১ উইকেট করে নিতে হবে। ফাস্ট বোলারদের বড় ভূমিকা থাকছে। আমাদের টেস্ট বোলিং আক্রমণ স্পিননির্ভর হলেও পেসারদেরও দায়িত্ব আছে। আর স্পিনারদেরও সামর্থ্য অনুযায়ী বল করতে হবে।
 শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশ দলের পার্থক্য—
সাকিব: শেষবার শ্রীলঙ্কায় টেস্টে খুবই ভালো খেলেছে বাংলাদেশ। এখন যেহেতু নিজেদের মাঠে খেলা, একটু সুবিধা থাকবেই। গত এক-দুই বছর আমরা দেশের মাটিতে খুবই ভালো ক্রিকেট খেলছি। ওটা ধরে রাখতে পারলে মনে হয় না খুব একটা পার্থক্য থাকবে।
 নিজেদের মাঠে যে ধরনের সুবিধা আশা করেন—
সাকিব: স্পোর্টিং উইকেটই ভালো। আমরা যদি স্পিন উইকেট বানাই এমন নয় যে, ওদের স্পিনার নেই বা ওদের ভালো ব্যাটসম্যান নেই যারা স্পিনের বিপক্ষে ভালো ব্যাটিং করতে পারে। সব মিলিয়ে স্পোর্টিং উইকেট হলেই ভালো। ভালো ব্যাট করলে ব্যাটসম্যানরা রান পাবে। ভালো বোলিং করলে বোলাররা উইকেট পাবে। দল হিসেবে আমরা এখন অনেক অভিজ্ঞ। সামপ্রতিক সময়ে ব্যক্তিগত ও দলগতভাবে ভালো খেলছি। স্পোর্টিং উইকেট হলে খারাপ হবে না।
 এবার কারও চোট বা ফর্ম নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। এটা কি আত্মবিশ্বাস বাড়াবে?
সাকিব: শেষ এক-দুই বছর ধরে আমাদের দল খুব ভালো খেলছে। স্বাভাবিকভাবে সবার আত্মবিশ্বাস অনেক বেশি। পারফরমারের সংখ্যাও অনেক বেশি। দলের ভেতর একটা ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা সব সময় চলছে। এমনকি যারা দলে নেই তারাও ভালো পারফর্ম করছে। এটা এক দিক থেকে চাপও। তবে এই চাপ দলের জন্য ভালো।
 শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে কে বড় হুমকি—
সাকিব: সবাই, আউট তো সবাইকেই করা লাগবে। টেস্ট জিততে হলে ২০ উইকেট নিতে হবে। তার পরও সাঙ্গাকারা, জয়াবর্ধনে, ম্যাথুস আছে। সর্বশেষ সিরিজে অনেকেই ভালো খেলেছে। ওপরের দিকের ৬-৭ ব্যাটসম্যান তো সব সময়ই হুমকি।
 সিরিজের প্রস্তুতি কেমন হলো—
সাকিব: আমার মনে হয় ভালো। খুব বেশি ম্যাচ খেললেই যে প্রস্তুতি ভালো হবে এমন নয়। দুটি ম্যাচ হয়েছে, কিন্তু ভালো মানের ম্যাচ খেলা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমার কাছে মনে হয় সেটা হয়েছে। যদিও আমি ছিলাম না, তবে পত্রিকায় দেখেছি, টেলিভিশনের খবরে দেখেছি।
 শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লক্ষ্য—
সাকিব: সব সময় আমরা জেতার জন্যই খেলি। ড্র কিংবা ভালো খেলব, ওই দিন অনেক আগেই শেষ। জেতার জন্য অবশ্যই খেলব। পুরো দলই সেভাবে চিন্তা করছে। তবে যেহেতু পাঁচ দিনের খেলা, অনেক সেশন আছে। খেলাটাকে ছোট ছোট সেশনে ভাগ করে নিতে হয়। সেশনগুলো জিততে পারলে ভালো ফলাফল করা সম্ভব।
 ওপেনিং জুটি নিয়ে মন্তব্য—
সাকিব: বলা মুশকিল কে খেলবে না খেলবে। মার্শাল কিছু ম্যাচ (দুটি টেস্ট) খেলেছে। শামসুর এখনো খেলেনি। ইমরুল খেলেছে, অভিজ্ঞতা আছে, যদিও অনেক দিন বাইরে ছিল। দায়িত্ব সবারই। যে নতুন এসেছে তারও দায়িত্ব আছে। বাংলাদেশের সেরা ১৫ জন খেলোয়াড়ই এখানে, এরা পারফর্ম করেই এসেছে। একটা দলে দু-একজন পারফর্ম করলে খুব কম ম্যাচই জেতা যায়।

ম্যাথুসের ভয় ঘরের মাঠের বাংলাদেশকে

প্রশ্নটা করতেই মাইকেল সয়সার দিকে মাইক্রোফোন ঘুরিয়ে দিলেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর তো অধিনায়কের চেয়ে ম্যানেজারেরই ভালো দেওয়ার কথা।
সয়সা দিলেনও খুব ভালো উত্তর, অন্তত বাংলাদেশের জন্য ভালো তো বটেই। ‘এখানকার নিরাপত্তাব্যবস্থা অসাধারণ। আমাদের দলের নিরাপত্তার জন্য তারা (বিসিবি) সম্ভাব্য সব ব্যবস্থাই নিয়েছে। আমরা এসব ব্যবস্থায় খুবই সন্তুষ্ট’—সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন শ্রীলঙ্কা দলের ম্যানেজার।
বাংলাদেশ সফরে তাহলে আপাতত কোনো ভয়-টয় নেই পরশু ঢাকার মাটিতে পা রাখা লংকানদের! ভয় একেবারেই যে পাচ্ছে না, তা অবশ্য নয়। অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের কথা ধরলে তাদের ভয়টা বাংলাদেশ দলকে নিয়েই।
শ্রীলঙ্কার সামনে যে মুশফিকুর রহিমরা আগের সেই ভয় কাতুরে ছোট্ট শিশুটি নয়, সেটি দেখা গেছে সর্বশেষ শ্রীলঙ্কা সফরের গল টেস্টেই। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলনে কাল সেই স্মৃতি মনে করে ম্যাথুস বললেন, ‘গত কয়েক বছরে অনেক উন্নতি করেছে বাংলাদেশ দল এবং আমরাও তাদের হালকাভাবে নিচ্ছি না। আত্মতৃপ্তিতে না ভুগে বাংলাদেশের কাছ থেকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা আশা করছি। ইতিবাচক খেলে জেতারই চেষ্টা করব আমরা।’
গত বছর শ্রীলঙ্কার মাটিতে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে করা ড্র আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ দলের। এবার তো খেলা নিজেদের মাঠে। ম্যাথুস মাথায় রাখছেন সেটিও, ‘খেলা এবার তাদের (বাংলাদেশ) মাটিতে এবং আমরা জানি, নিজেদের মাঠে বাংলাদেশকে হারানো অনেক কঠিন। সিরিজ জিততে আমাদের ভালো ক্রিকেটই খেলতে হবে। বাংলাদেশ দলে বেশ কয়েকজন ভালো খেলোয়াড় আছে। তাদের বিপক্ষে আমাদের শক্তভাবে দাঁড়াতে হবে।’
এই ‘তারা’ কারা সেটা আলাদাভাবে জানতে চাওয়া হয়েছিল শ্রীলঙ্কান অধিনায়কের কাছে। কিন্তু ম্যাথুস প্রশ্নটার সরাসরি উত্তর দিলেন না, ‘আমরা নির্দিষ্ট এক-দুজনকে নিয়ে ভাবছি না। ব্যাটিংয়ের কথা যদি ধরেন, তাদের ছয়-সাতজন ভালো ব্যাটসম্যান আছে। সবার দিকেই আমাদের দৃষ্টি আছে; কারণ তাঁদের মধ্যে যে কেউ ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে।’ একই কথা বললেন বাংলাদেশ দলের বোলিং আক্রমণ নিয়েও, ‘বাংলাদেশ দলে ভালো বোলারও আছে বেশ কয়েকজন। দলের বোলিং আক্রমণও বেশ ভালো। এটা নিয়েও আমরা ভেবেচিন্তে কৌশল ঠিক করব।’
শ্রীলঙ্কা দলে আছেন কুমার সাঙ্গাকারা-মাহেলা জয়াবর্ধনের মতো অভিজ্ঞ সেনানি। কৌশল সিলভা, দিমুথ করুনারত্নের মতো অপেক্ষাকৃত কম অভিজ্ঞরাও এই দলের সঙ্গী। সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১-১-এ টেস্ট সিরিজ ড্র করে আসার পর অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের মিশেলে গড়া এই দল নিয়ে আরও অনেক দূর যেতে চান অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস, ‘দলে কৌশল সিলভা আছে, আগেও সে কয়েকটা টেস্ট খেলেছে। পাকিস্তান সিরিজে দলের হয়ে বেশি রান করাদের মধ্যে সে একজন। দিমুথ করুনারত্নের কথাও বলতে হয়, ওপেনিংয়ে কৌশলের সঙ্গে ভালো জুটি হয়েছে ওর। সঙ্গে সাঙ্গাকারা-মাহেলা তো আছেই। দল হিসেবে আমরা খুব ভালো খেলছি এবং ভবিষ্যতেও তেমনই খেলতে চাই।’
বাংলাদেশের উইকেটে বোলিং আক্রমণে মূল ভরসা হওয়ার কথা স্পিনারদেরই। শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক সেটি ভেবেই কিনা রঙ্গনা হেরাথের কথা আলাদা করে বললেন। তবে তাঁর কথায় পরিষ্কার, শুধু স্পিনারদের দিকে তাকিয়ে নেই লংকানরা, ‘আমরা শুধু স্পিনারদের ওপর নির্ভর করছি না। আমাদের কিছু ভালো ফাস্ট বোলারও আছে। দুবাইয়ের ন্যাড়া উইকেটেও দারুণ বল করেছে ওরা।’
ম্যাথুসের ভান্ডারে স্পিন-ফাস্ট সব অস্ত্র থাকলেও মুশফিকুর রহিমকে স্পিনারদের ওপরই নির্ভর করতে হবে বেশি। শ্রীলঙ্কান অধিনায়কও তা জানেন। তবে বাংলাদেশি স্পিনারদের খেলার ব্যাপারে বেশ আত্মবিশ্বাসী মনে হলো ম্যাথুসকে, ‘বাংলাদেশের ভালো ভালো স্পিনার আছে। তবে অতীতে তাদের খুব ভালোভাবে সামলেছি আমরা।’

বাণিজ্য মেলায় তরুণীদের গয়নায় আগ্রহ বেশি তৈজসপত্র বিক্রি জমজমাট

beta I ব্যবহারবিধি FacebookTwitterGoogle+
Bangla Font Help
LoginRegister
Prothom Aloঅর্থনীতি
প্রচ্ছদআজকের পত্রিকাবাংলাদেশআন্তর্জাতিকঅর্থনীতিশেয়ারবাজারবাণিজ্য সংবাদবিশ্লেষণবিদেশের খবরপোশাক শিল্পমানবসম্পদঅপরাধবিবিধমতামতখেলাবিনোদনফিচারবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিজীবনযাপনআরও…
প্রচ্ছদঅর্থনীতিসংবাদ

বাণিজ্য মেলায় তরুণীদের গয়নায় আগ্রহ বেশি

তৈজসপত্র বিক্রি জমজমাট
নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ০১:৫০, জানুয়ারি ২৬, ২০১৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাণিজ্য মেলায় একটি স্টলে তৈজসপত্র কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতারা -ফোকাস বাংলাঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় নিত্যব্যবহার্য তৈজসপত্র এবং গয়না ও প্রসাধনসামগ্রী কেনার ধুম পড়েছে। আর মূল্য ছাড় ঘোষণা দিয়ে অবিরাম ক্রেতা আকর্ষণের চেষ্টা করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের প্যাভিলিয়ন ও স্টলে ক্রেতাদের ভিড় অন্য দোকানগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। আবার এসব দোকানে পুরুষদের চেয়ে নারী ক্রেতাই বেশি।
মেলায় ভারত, ইরান, তুরস্ক, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের বাহারি পণ্যের স্টলগুলোয়ও চলছে বেশ বেচাকেনা।
গতকাল শনিবার শেরেবাংলা নগরের বাণিজ্য মেলায় সরেজমিনে গিয়ে এই চিত্র পাওয়া গেছে। শুক্রবারের মতো গতকালও দুপুরের পর থেকে মেলায় ভিড় বাড়তে থাকে। শেষ বিকেলে তা জনারণ্যে পরিণত হয়।
মেলায় রয়েছে হাঁড়িপাতিল, ওভেন, থালাবাটি, সসপেন, ননস্টিকি হাঁড়িপাতিল, প্রেসার কুকার, হটপট, চামচসহ নানা ধরনের তৈজসপত্র। ঘর সাজানোর রয়েছে শোপিস, বেডশিট, পর্দা, পাপস ইত্যাদি। এ ছাড়া প্লাস্টিক পণ্যের চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক।
বিদেশি তৈজসপত্রে আগ্রহ: মেলা ঘুরে দেখা গেছে, তৈজসপত্রগুলোর মধ্যে নতুন ও ব্যতিক্রমী পণ্যের দিকে আগ্রহ বেশি ক্রেতাদের
ভারতীয় পণ্যের স্টলে দেখা গেছে, ভেজিটেবল চপার ৩০০ টাকা, ভেজিটেবল স্লাইসার ৪০০ টাকা ও টমোটো চপার ২০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। তাই এই দোকানে ক্রেতাদের ভিড় একটু বেশি।
আবার ইরানি পণ্যের স্টলে তিনটি হটপট একসঙ্গে নিলে এক হাজার ৩৫০ টাকায় ছেড়ে দিচ্ছেন বিক্রেতারা। মেলামাইনের একটি থালার দাম রাখা হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। আর ভাতের ডিশের দাম ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। মেলায় একাধিক ইরানি পণ্যের স্টল রয়েছে।
অন্যদিকে দিল্লি অ্যালুমিনিয়ামের দোকানে একটি মাঝারি আকারের ননস্টিকি কড়াইয়ের দাম ৬০০ টাকা হাঁকছেন বিক্রেতা।
মেলায় আসা মিরপুরের গৃহিণী ফারহানা শারমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিদেশী পণ্য তো আর এভাবে সারা বছর পাওয়া যায় না। তাই মেলায় এসে একসঙ্গে বিদেশি অনেক প্রতিষ্ঠানের তৈজসপত্র পাওয়া যায়। প্রতিবছরই কোনো না কোনো তৈজসপত্র কিনি। এবার ভারতীয় দোকান থেকে ভেজিটেবল ও টমেটো চপার কিনলাম।’
তবে শুধু বিদেশি নয়, দেশি তৈজসপত্রের দোকানে বেশ ভিড়। এ ক্ষেত্রে একটু দামি ব্র্যান্ডের দোকানেই বেশি ক্রেতা ঝুঁকছেন।
আরএফএল প্লাষ্টিকপণ্যের প্যাভিলিয়নে গিয়ে দেখা গেছে, পণ্যের মূল্য পরিশোধের একাধিক কাউন্টারে ক্রেতাদের ভিড়। এই দোকানে মূলত প্লাষ্টিকের বোল, বাটি, ঝুড়ি, বালতি, মগ ইত্যাদি বেশি বিক্রি হচ্ছে।
তবে মেলায় বিছানার চাদর, পর্দা, পাপসসহ এই ধরনের নিত্যপণ্যের চাহিদাও বেশ। খ্যাতনামা জাবের অ্যান্ড জুবায়েরের মাঝারি আকারের তিনটি বিছানার চাদর বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫০০ টাকায়।
কুমিল্লা এন্টারপ্রাইজে গিয়ে দেখা গেছে, ৪২ পিসের একটি ডিনারসেটের দাম সাড়ে আট হাজার টাকা। আর ৩১ পিসের সেটের দাম চার হাজার ২০০ টাকা।
ক্রেতা আকর্ষণে মূল্য ছাড়:
বিক্রি বাড়াতে বিভিন্ন হারে মূল্যছাড় দিয়ে হাঁকডাক করছেন বিক্রেতারা। আবার কেউ কেউ দোকানের সামনেই মূল্যছাড়ের ঘোষণাপত্র ঝুলিয়ে দিয়েছেন।
ওভেন, সসপেন, ননস্টিকি হাঁড়িপাতিলসহ বিভিন্ন পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে সুমি এন্টারপ্রাইজ। কেন এত ছাড় দেওয়া হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে বিক্রয় প্রতিনিধি জানান, মূলত পণ্যের বিক্রি বাড়াতেই এই ছাড়। মেলায় এতে খরচ করে স্টল নেওয়া হয়েছে, সেই খরচ তো পুষিয়ে আনতে হবে।
আর কুমিল্লা এন্টারপ্রাইজ ১০ শতাংশ মূল্য ছাড় ঘোষণা করেছে। এই দোকানের বেশির ভাগই ডিনারসেট বিক্রি হচ্ছে।
দিল্লি অ্যালুমিনিয়াম তাদের সব পণ্যে ১০ শতাংশ ছাড় দিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় সব দোকানেই ১০ থেকে ২০ শতাংশ মূল্যছাড় দিয়ে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে।
তরুণীদের আগ্রহ গয়নায়: দেশি-বিদেশি গয়নার দোকানে তরুণীদের সারা দিনই ভিড় লেগে থাকে। বিশেষ করে ইরান, তুরস্ক ও ভারতীয় প্রসাধনের স্টলে এই ভিড় একটু বেশি।
তুরস্কের স্টলে ক্রিস্টালের গয়না বিক্রি হচ্ছে। এই দোকানে একটি আংটি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা, গলার চেইন ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা, কানের দুল ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর পাশাপাশি থাইল্যান্ড, ইরান ও মালয়েশিয়ার গয়নার চাহিদাও বেশ।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী কায়নাজ মোস্তফা জানান, বছরের অন্য সময় একসঙ্গে এত বিদেশি গয়নার দোকান পাওয়া যায় না। তাই মেলা থেকে পছন্দমতো গয়না কেনা যায়।

সরকারি পাটকলে পণ্যের স্তূপ

দেশের সরকারি পাটকলগুলোয় উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের পাটজাত পণ্যের বিক্রি ও রপ্তানি সম্প্রতি কমে গেছে। সে কারণে এসব পাটকলে এখন জমে গেছে পণ্যের স্তূপ।
বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি পাটকলে ৮৩ হাজার ৬০০ টন পাটজাত পণ্য অবিক্রীত পড়ে আছে। এসব পণ্যের বাজারদর ৬০০ কোটি থেকে ৬৫০ কোটি টাকা।
বিশ্বব্যাপী পাটজাত পণ্যের রপ্তানি কমে যাওয়ার কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছে বিজেএমসি। এর মধ্যে আছে থাইল্যান্ড, সুদান ও মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সিরিয়ার বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়ে যাওয়া, ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার মান কমে যাওয়া।
বিজেএমসির চেয়ারম্যান হুমায়ুন খালেদ প্রথম আলোকে বলেন, দেশে গত বেশ কয়েক মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতা, বড় বাজার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অস্থিরতায় চাহিদা কমে যাওয়া, ডলারের বিপরীতে ভারতে রুপির দরপতন ঘটায় সে দেশের আমদানিকারকদের আমদানিতে অনীহাসহ কয়েকটি কারণে পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বেশ কমেছে। আবার দেশীয় পাটকলগুলো বস্তা তৈরি করে বসে আছে। কিন্তু দেশীয় উদ্যোক্তারা এসব কিনছেন না। অথচ, সরকার বাধ্যতামূলক পাটের ব্যাগ ব্যবহারের জন্য আইনও করেছে। এসব কারণেই অনেক পাটকলে এখন উৎপাদিত পণ্যের মজুত পড়ে আছে।
দেশে এখন ২৬টি সরকারি পাটকল বিজেএমসির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে ২৩টি পাটকলে শুধুই পাটজাত পণ্য (যেমন—হেসিয়ান, পাটের বস্তা ও পাটের সুতা, কার্পেট ব্যাকিং ক্লথ—সিবিসি) তৈরি হয়। একটি পাটকলে অন্য সব পাটকলের জন্য যন্ত্রপাতি তৈরি হয়। আরেকটি পাটকলে জিও জুট ও টেক্সটাইল (মাটিকে সুরক্ষা দেওয়া একধরনের পাটের কাপড়) এবং পাট ও প্লাস্টিকের লেয়ারের চেয়ার-টেবিল তৈরি হয়। আরেকটি পাটকলে তৈরি হয় পাটের সুতা রাখার জন্য নলসহ কিছু সরঞ্জাম।
বিজেএমসির হিসাবে, বিজেএমসির আওতাধীন পাটকলগুলোতে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের ৬৭৮ টন পাটজাত পণ্য উৎপাদিত হয়। এর ৫০ শতাংশই পাটের বস্তা। আর ১৫ থেকে ২০ শতাংশ উৎপাদিত হয় হেসিয়ান কাপড় ও ব্যাগ। এসব পাটকলে প্রতিবছরই পণ্য উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে যেখানে এক লাখ নয় হাজার ৮২১ টন পণ্য উৎপাদিত হয়েছিল, সেখানে গেল ২০১২-১৩ অর্থবছরে উৎপাদিত হয়েছে এক লাখ ৯২ হাজার ৪০৮ টন পণ্য।
বিজেএমসি সূত্র জানায়, বিভিন্ন সরকারি পাটকলে বর্তমানে ২৩ হাজার ২৮ টন হেসিয়ান কাপড় ও ব্যাগ পড়ে আছে। পাটের বস্তা পড়ে আছে ৫২ হাজার ২৩ টন। কার্পেট ব্যাকিং ক্লথ (সিবিসি) জমেছে চার হাজার ৮৬৬ টন। সুতা জমে আছে দুই হাজার ৮৮৬ টন। আর জিও জুটজাত পণ্য, পাট ও প্লাস্টিকের লেয়ারের টেবিল-চেয়ারসহ অন্যান্য পণ্য জমেছে ৭৩২ টন।
পাটজাত পণ্যের উৎপাদন প্রতিবছর বাড়তে থাকলেও এ বছর ভাটার টান পড়েছে রপ্তানিতে। অবশ্য কয়েক বছর ধরে রপ্তানির পরিমাণ বাড়ছিল। ২০১২-১৩ অর্থবছরে এক হাজার ৩৬৩ কোটি ১৯ লাখ টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছে। তবে চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৩০৫ কোটি টাকার পণ্য। বিজেএমসি বলছে, ৯৫টি দেশে তাদের উৎপাদিত পাটপণ্য রপ্তানি হয়।
রপ্তানিকারকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, দেশে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে যে আয় হয় তার প্রায় অর্ধেকই আসে পাটের সুতা থেকে। বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি পাটের সুতা রপ্তানি হয় তুরস্কে। সেখানে বছরে গড়ে এক লাখ ৩০ হাজার টন পাটের সুতা রপ্তানি হতো। এ ছাড়া সিরিয়ায় ২৫ হাজার টন, মিসরে ২০ হাজার টন, ইরানে ৭৫ হাজার টন, ভারতে ৫০ হাজার টন ও চীনে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টন পাটের সুতা রপ্তানি হয়ে থাকে।
কিন্তু মিসর, সিরিয়া, তুরস্ক ও ইরানের বাজারের অবস্থা গত প্রায় এক বছর ধরেই খারাপ। সব সময় সহিংসতা চলতে থাকায় পাটপণ্যের রপ্তানিও কমে গেছে। চুক্তি করার পরও ওই সব দেশের আমদানিকারকেরা পণ্য জাহাজীকরণ করতে নিষেধ করছেন—এমন ঘটনাও ঘটেছে। এসব কারণে পাটপণ্যের দামও কমে গেছে।
আবার ভারতে ডলারের বিপরীতে রুপির দরপতনের প্রভাবে সে দেশে পণ্য রপ্তানিতেও ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পণ্য আমদানিতে বেশি খরচ পড়ছে বলে আমদানিতে আগ্রহ হারাচ্ছে ভারতীয়রা।
বিজেএমসির চেয়ারম্যান হুমায়ুন খালেদ বলেন, ‘তুরস্ক আমাদের পণ্যের বড় ক্রেতা ছিল। সেখানে আমরা অন্যান্য পাটপণ্যের পাশাপাশি কার্পেট ব্যাকিং ক্লথ রপ্তানি করতাম। তারা এখন আর এই পণ্যটি নিচ্ছে না। কার্পেটের বদলে এখন টাইলসের দিকে চলে যাচ্ছে’। তিনি বলেন, ভারত সরকার সে দেশের পাট খাতে ভর্তুকি দিচ্ছে। ফলে তারা নিজেরা কম দামে পণ্য তৈরি করতে পারছে। এতে তাদের রপ্তানি যেমন বাড়ছে, তেমনি এ দেশ থেকে পণ্য আমদানিও কমিয়ে দিচ্ছে তারা।

ইউক্রেনে সংঘর্ষ চলছেই

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে পুলিশ ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ গতকাল শনিবারও অব্যাহত ছিল। এর আগে সাময়িক বিরতি এবং কিছু ছাড়ের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের প্রস্তাব সত্ত্বেও রাতভর বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়েছে।
১৯৯১ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সংকট চলছে ইউক্রেনে।
দুই মাস ধরে বিক্ষোভ চললেও গতকালের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল। তবে শত শত বিক্ষোভকারী অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখে। দক্ষিণ কিয়েভে একজন পুলিশ সদস্যের লাশ উদ্ধারের পর অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধির জন্য কর্তৃপক্ষ ও বিরোধীরা পরস্পরকে দায়ী করছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিক্ষোভকারীদের বেশ কয়েকজনকে দুই মাসের সাজা দিয়েছেন একটি আদালত।
কিয়েভের গ্রাশেভস্কি স্ট্রিটে বিক্ষোভকারীরা শুক্রবার রাতে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা জবাব দেয়। এএফপি।

রাজীব হত্যা নর্থ সাউথের সাত ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে

ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যাকাণ্ডে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাত ছাত্রসহ আটজনের জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ রোববার বা কাল সোমবার এঁদের বিরুদ্ধে মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।
তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিবির উপকমিশনার শেখ নাজমুল আলম প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্তে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাত শিক্ষার্থী ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি মুহাম্মদ জসীমউদ্দিন রাহমানীর জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। গ্রেপ্তার হওয়া নর্থ সাউথের ছয় শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ, আদালতে দেওয়া তাঁদের জবানবন্দি এবং তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, জসীমউদ্দিন রাহমানীর বই পড়ে এবং সরাসরি তাঁর বয়ান ও খুতবায় অংশ নিয়ে ‘নাস্তিক ব্লগার’দের খুন করতে তাঁরা উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত হন। এরই ধারাবাহিকতায় ব্লগার রাজীব খুন হন। মামলার অভিযোগপত্রে রাহমানীকে ‘হত্যাকাণ্ডে অনুপ্রেরণাকারী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হলেন নর্থ সাউথের শিক্ষার্থী রেদোয়ানুল আজাদ ওরফে রানা। তাঁর গ্রামের বাড়ি ফেনীর দাগনভূঞার উত্তর জয়লস্করে। বাবার নাম আবুল কালাম আজাদ।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ও হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে আছেন মো. ফয়সাল বিন নাঈম ওরফে দীপ (২২), মাকসুদুল হাসান ওরফে অনিক (২৩), মো. এহসান রেজা ওরফে রুম্মান (২৩), নাঈম সিকদার ওরফে ইরাদ (১৯), নাফিস ইমতিয়াজ (২২) ও সাদমান ইয়াছির মাহমুদ (২০)। তাঁরা সবাই নর্থ সাউথের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের ছাত্র। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি তাঁদের বহিষ্কার করেছে।
মামলার আরেক তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিবির জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ অনুযায়ী, রেদোয়ানুলের পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থী গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পল্লবীর পলাশনগরের নিজ বাড়ির কাছে ব্লগার রাজীবকে (৩২) চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় হওয়া মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবি। ডিবি প্রথমে নর্থ সাউথের পাঁচ শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করে। ১ মার্চ রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর গ্রেপ্তার করা হয় আরেক শিক্ষার্থীকে। গ্রেপ্তার হওয়া ছয় শিক্ষার্থী ও জসীমউদ্দিন রাহমানী বর্তমানে কারাগারে আছেন। তবে মূল পরিকল্পনাকারী রেদোয়ানুল পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারের পর আসামিরা বলেন, রাজীব খুন হওয়ার দেড় মাস আগে তাঁরা তাঁদের ইউনিভার্সিটির বড় ভাই রেদোয়ানুলের কাছে শুনে ‘থাবা বাবা’র ব্লগ পড়তেন। রাজীব হায়দার ‘থাবা বাবা’ নামে ব্লগ লিখতেন। ‘মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) নিয়ে অবমাননাকর লেখা দেখে তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং লেখককে খুন করাটা তাঁদের ইমানি দায়িত্ব বলে মনে করেন।’ এরপর রেদোয়ানুলের নেতৃত্বে নর্থ সাউথের নামাজের ঘরে তাঁরা বৈঠক করে ব্লগার রাজীবকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। তাঁরা ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে রাজীবের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকেন। একপর্যায়ে শাহবাগের আন্দোলন শুরু হওয়ার পর তাঁরা রাজীবের ফেসবুকের স্ট্যাটাস থেকে জানতে পারেন, রাজীব শাহবাগে যাবেন। এরপর এহসান রেজা নামের তাঁদের একজন গত ৯ ফেব্রুয়ারি শাহবাগে গিয়ে রাজীবকে শনাক্তের চেষ্টা করেন। তিনি ফেসবুকের বন্ধুদের সূত্র ধরে দু-এক দিনের মধ্যে আবার শাহবাগে গিয়ে রাজীবকে শনাক্ত করেন।
মামলার তদন্তকারী ডিবির পরিদর্শক নিবারণ চন্দ্র বর্মণ বলেন, মামলার খুঁটিনাটি তদন্ত শেষে ১১ মাসের মাথায় আলোচিত এ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হচ্ছে। মামলার বাদী ও নিহতের বাবা নিজামউদ্দিন, হত্যাকাণ্ডস্থলের আশপাশের লোকজন, পুলিশ ও চিকিৎসকসহ ৫৫ জনকে মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে। হত্যার আগে যে দোকান থেকে আসামিরা সিমকার্ড ও চাপাতি-ছুরি কিনেছিলেন, দোকানমালিকেরা এ বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
ডিবির সূত্র জানায়, মামলাটি প্রথমে তদন্ত করেন ডিবির পরিদর্শক মো. মাইনুল ইসলাম। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ভিন্ন খাতে নেওয়ার অভিযোগ ওঠায় তাঁকে তদন্তভার থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
ডিবির কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, রাজীবের হত্যাকারীরা ধর্মভিত্তিক উগ্র মতাদর্শে বিশ্বাসী।
মামলার বাদী ও রাজীবের বাবা নিজামউদ্দিন গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, হত্যাকারীদের সঙ্গে রাজীবের কোনো বিরোধ ছিল না। তারা চিনতও না রাজীবকে। তিনি আরও জানান, পরিকল্পনাকারী রেদোয়ানুল ধরা পড়লে এর পেছনে প্রভাবশালী কারা আছে, হত্যার উদ্দেশ্য ও কারণ জানা যেত। তিনি মনে করেন, শাহবাগের আন্দোলন থামাতে একটি বড় চক্র রাজীবকে হত্যায় নর্থ সাউথের শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করেছে।

সহিংসতায় ক্ষতি ৪৯ হাজার কোটি টাকা

গত জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে দেশে হরতাল, অবরোধ ও রাজনৈতিক সহিংসতায় চার খাতে প্রায় ৪৯ হাজার ১৮ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতির পরিমাণ মোট দেশজ আয়ের ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। ওই সময়ে দেশে ৫৫ দিন হরতাল ও অবরোধ হয়েছে।
গতকাল শনিবার বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অর্থনৈতিক এক পর্যালোচনায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশ অর্থনীতি-২০১৩-১৪’ শিরোনামে রাজধানীর ধানমন্ডির সিপিডি কার্যালয়ে দ্বিতীয় অন্তর্বর্তীকালীন এই পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়। তাতে চলতি অর্থবছর শেষে ৫ দশমিক ৬ থেকে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধি হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। সিপিডি বলছে, জিডিপির নতুন ভিত্তি বছর হিসাবে এই প্রাক্কলন করা হয়েছে। যদিও অর্থমন্ত্রী এবারের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৩ শতাংশের কম হবে না বলে জানিয়েছেন।
অর্থবছরের প্রথমার্ধে চার খাতের আর্থিক ক্ষতির হিসাব দিয়ে সিপিডি বলেছে, রেল ও সড়ক যোগাযোগ খাতে ১৬ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা, কৃষি ও কৃষিজাত শিল্প খাতে ১৫ হাজার ৮২৯ কোটি, রপ্তানিমুখী বস্ত্রশিল্পে ১৩ হাজার ৭৫০ কোটি এবং পর্যটন খাতে দুই হাজার ৭৫০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির পর্যালোচনা তুলে ধরেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান আর বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন গবেষণা পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, পরিচালক (সংলাপ ও যোগাযোগ) আনিসাতুল ফাতেমা ইউসুফ, অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে সিপিডি বলছে, জনপ্রত্যাশা ও অর্থনীতির শক্তির ভিত্তিতে উচ্চ প্রবৃদ্ধির যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল, সেটি হারিয়ে গেছে। উচ্চ প্রবৃদ্ধির সেই ত্বরণ ফিরিয়ে আনা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধির স্বার্থে রাজনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয় সিপিডির পর্যালোচনায়। বলা হয়েছে, রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া বিনিয়োগ আকর্ষক নীতি ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না। সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর করা সম্ভব নয়।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, অর্থনীতিতে বর্তমানে যে আপাত শান্তি বা স্থিতি বিরাজ করছে, তার ফলে কিছু শিল্পের চলমান কার্যকারিতার দক্ষতা বাড়বে। কিন্তু আগামী দিনের নতুন বিনিয়োগকে নিশ্চিত করতে পারবে বলে মনে হয় না। তাই অর্থনীতিকে সম্প্রসারণ করতে হলে নীতি অনিশ্চয়তা দূর করতে হবে। নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য অবশ্যই সামাজিক সংলাপ করতে হবে। রাজনৈতিক বিরোধীদের সঙ্গেও আলোচনা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা কাটবে না।
দেবপ্রিয় বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত একটি সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক এবং আস্থাভাজন নির্বাচন হবে না ততক্ষণ পর্যন্ত রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সম্পূর্ণভাবে কাটবে না। দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগে দ্বিধা থেকে যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান ও গবেষণা পরিচালক ফাহমিদা খাতুন । ছবি: প্রথম আলোপ্রতিবেদন: স্বল্প মেয়াদে অর্থনীতিকে গতিময় করতে সিপিডির পক্ষ থেকে চার দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো—সরকারের আয়-ব্যয়ের কাঠামো দ্রুত ও বাস্তবতার ভিত্তিতে পুনর্নির্ধারণ, বোরো চাষ ও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ অর্থনীতিকে সমর্থন, রপ্তানিমুখী শিল্পসহ রাজনৈতিক সহিংসতায় যেসব শিল্প লোকসানে পড়েছে সেগুলোকে সহায়তা এবং বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে নীতি অনিশ্চতয়তা দূর।
নীতি অনিশ্চয়তা দূর করতে হলে রাজনৈতিক ও সামাজিক সমঝোতা প্রয়োজন বলে মত দেয় সিপিডি। সংস্থাটির মতে, রাজনৈতিক বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনা না করে কোনো নীতি গ্রহণ করা হলে সেটির বাস্তবায়ন নিয়ে একধরনের অনিশ্চয়তা থেকে যায়। সবার অংশগ্রহণের ভিত্তিতে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন না হলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটবে না।
রাজস্ব খাত: সংস্থাটির পর্যালোচনায় বলা হয়, অর্থবছরের প্রথমার্ধে রাজনৈতিক সহিংসতায় শিল্প, অর্থনীতি ও সেবা খাতের কর্মকাণ্ডের শ্লথ গতির কারণে রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চলতি বছর ২৫ দশমিক ৩ শতাংশ রাজস্ব প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) মাত্র ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ফলে বছর শেষে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না বলে মনে করছে সিপিডি।
সিপিডির মতে, রাজস্ব আদায় কমার পাশাপাশি সরকারি ব্যয়ও কমে গেছে। এ কারণে সরকারের আয়-ব্যয় কাঠামোটি বাস্তবতার ভিত্তিতে দ্রুত পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। উন্নয়ন ব্যয়ের ক্ষেত্রে বড় ও এ বছর সমাপ্য প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
কৃষি খাত: আউশ ও আমনের প্রবৃদ্ধিকে সন্তোষজনক উল্লেখ করলেও বোরোর প্রবৃদ্ধি নিয়ে শঙ্কা সিপিডির। সিপিডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোরো বপন বা রোপণের কাজটি এখনো চলমান, এতে কিছুটা বিলম্ব ঘটেছে। এখন প্রয়োজনীয় উপকরণ যথাযথ ও সঠিক সময়ে সরবরাহের মাধ্যমে চাষের নিশ্চয়তা দিতে হবে। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ অর্থনীতির সহায়তায় প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে। পোলট্রি শিল্পের ক্ষতি পোষাতে এ খাতের ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার সুপারিশ করেছে সিপিডি।
ব্যাংক খাত: পর্যালোচনায় বলা হয়, ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য বা অলস অর্থের পরিমাণ প্রায় ৭৪ শতাংশ বেড়েছে। টাকা নিয়ে ব্যাংকগুলো বসে আছে। এতে ব্যাংকগুলোর তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় (কস্ট অব ফান্ড) বেড়ে যাচ্ছে, যা সুদের হারে প্রভাব ফেলছে। অর্থনীতির জন্য এটি দুশ্চিন্তার বিষয়।
রপ্তানি খাত: যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হলেও রপ্তানির ক্ষেত্রে সরকারের বাজারভিত্তিক নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করে সিপিডি। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতায় তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা আকাশপথে পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে রপ্তানির বাজার ধরে রেখেছে। এতে লাভের পরিমাণ কমেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত খাত: সিপিডি বলছে, রাজনৈতিক সহিংসতায় কৃষি, পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতের ক্ষুদ্র উৎপাদকেরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। রপ্তানিমুখী শিল্পের চেয়ে দেশীয় বাজারনির্ভর শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এ ক্ষেত্রে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এতে এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার কমেছে। অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রপ্তানিনির্ভর শিল্পে প্রায় ১২ শতাংশ হলেও দেশীয় বাজারনির্ভর শিল্পে প্রবৃদ্ধির এ হার ছিল প্রায় সাড়ে সাত শতাংশ।
তাই সরকারের পক্ষ থেকে নীতি সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত সবার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। যাদের পক্ষে জোরালোভাবে ক্ষতির চিত্র তুলে ধরার শক্তি নেই তাদের কাছেও সরকারের প্রণোদনা পৌঁছে দিতে হবে। বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা দিতে গিয়ে তার দায় যেন ব্যাংকের ওপর এসে না পড়ে সে জন্য আলাদা তহবিল গঠনের পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, জাতীয় সম্পদের এক শতাংশ ক্ষতি হলে প্রবৃদ্ধির শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ পতন ঘটে। ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে দেবপ্রিয় বলেন, বেশির ভাগ সময় মনে করা হয় রপ্তানিমুখী শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু আমাদের হিসাবে প্রথমে এসেছে কৃষি ও কৃষিজাত খাত, রপ্তানিমুখী শিল্প তৃতীয় অবস্থানে ছিল। সরকার যদি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তা দিতে চায় তাহলে কারা বেশি এই সহায়তা পাওয়ার যোগ্য তা এই বিশ্লেষণের মাধ্যমে পরিষ্কার হয়ে উঠেছে।

ক্রিকেট-শঙ্কায় বাংলাদেশ

ঝড় বইছে ক্রিকেট-বিশ্বজুড়েই। তবে বাংলাদেশে সেই ঝড়ের সঙ্গে যোগ হয়েছে ‘দমকা হাওয়া’।
টেস্ট খেলুড়ে অন্য সব দেশ লাভ-ক্ষতির অঙ্ক করছে। সম-অধিকার হারিয়ে তিন দেশের কর্তৃত্ব মেনে নেওয়ার ‘লজ্জা’ নিয়ে ভাবছে। বাংলাদেশের ভাবনা অত দূর বিস্তৃত হওয়ার সুযোগই পাচ্ছে না। এখানে জনমনে ফণা তুলছে শুধু একটাই প্রশ্ন—অনেক সাধনায় অর্জিত বাংলাদেশের টেস্ট খেলার অধিকার কি কেড়ে নেওয়া হবে?
এই প্রশ্নই কাল বিকেলে শাহবাগে টেনে আনল হাজারো জনতাকে। সেখানে একটা প্ল্যাকার্ড একটু বেশিই দৃষ্টি কাড়ল—‘তিন শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দিব না’। এখানে তিন ‘শিয়াল’ মানে ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। এই তিন দেশের ক্রিকেট বোর্ডের তিন প্রধান মিলে ‘পজিশন পেপার’ নামে যে প্রস্তাব তৈরি করেছেন, সেটি টান দিচ্ছে আইসিসির ভিত্তিমূল ধরেই। জাগিয়ে তুলেছে টেস্ট ক্রিকেট থেকে বাংলাদেশের অবনমনের শঙ্কাও।
গোপনে এই নকশা তৈরি হচ্ছিল অনেক দিন ধরেই। ৯ জানুয়ারি দুবাইয়ে আইসিসির এক বিশেষ সভায় এই প্রস্তাবের খসড়া ধরিয়ে দেওয়া হয় আইসিসির অন্য সব সদস্যদেশের হাতে। তার পরও এটি গোপনই ছিল। কদিন আগে একটি ওয়েবসাইট এটি ফাঁস করে দেওয়ার পরই ক্রিকেট-বিশ্বে তোলপাড় শুরু।
কাগজে-কলমে প্রস্তাবটা আইসিসির অর্থ ও বাণিজ্য (এফঅ্যান্ডসিএ) কমিটির ‘ওয়ার্কিং গ্রুপ’-এর। তবে ওই তিন বোর্ডের প্রধান ছাড়া এফঅ্যান্ডসিএ কমিটির বাকি ছয় সদস্যের কেউই এ ব্যাপারে অবগত ছিলেন না। সবার কাছে তাই বিস্ময় হয়েই এসেছে বিতর্কিত ও অগণতান্ত্রিক চিন্তাভাবনায় আচ্ছন্ন এই প্রস্তাব।
তা কী আছে ওই ‘পজিশন পেপারে’? মূল প্রস্তাবগুলোর প্রায় সব কটির একটাই লক্ষ্য, আইসিসিতে ওই তিন দেশের নিরঙ্কুশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা। যেটির প্রথমেই আছে, আইসিসির পূর্ণ সদস্যদেশগুলোর সম-অধিকার ক্ষুণ্ন করে এক্সকো নামে নতুন একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব। যেটির স্থায়ী সদস্য হিসেবে থাকবে বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই), ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) ও ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলশ ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। কমিটিতে বাকি সাতটি পূর্ণ সদস্যদেশের প্রতিনিধি হিসেবে থাকবেন শুধু একজন। আইসিসির বাকি সব কমিটির ওপর এটির কর্তৃত্ব থাকবে অর্থাৎ এটিই হবে বিশ্ব ক্রিকেটের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা।
টাকার লোভের কাছে খেলার মূল চেতনা অনেক দিন ধরেই গৌণ হয়ে যেতে বসেছে। প্রস্তাবিত ‘পজিশন পেপারে’ সেটি প্রকাশিত হয়েছে আরও উৎকট রূপে। এত দিন বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টগুলো থেকে আইসিসির আয়ের অঙ্কের ভাগটা টেস্ট খেলুড়ে সব দেশের জন্যই ছিল সমান। ওই তিন দেশের দাবি, এই আয়ের সিংহভাগেরই জোগান দেয় বলে তাদের বেশি ভাগ দিতে হবে। অনুমিতভাবেই বিসিসিআই এই দাবির পুরোভাগে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, আইসিসির রাজস্বের ৮০ শতাংশই আসে ভারত থেকে। তাহলে কেন তারা বেশি পাবে না? শুধু বেশি দাবি করেই ক্ষান্ত হয়নি বিসিসিআই। ওয়ার্কিং কমিটির সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তকে হুমকির আকারে জানিয়েও দিয়েছে—এই প্রস্তাব গৃহীত না হলে আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোয় ভারত অংশ নেবে না।
আইসিসির এত দিনের নিয়মনীতি বদলে দেওয়ার এমন আরও সব প্রস্তাব আছে ওই ‘পজিশন পেপারে’। তবে বাংলাদেশের সেসব নিয়ে খুব বেশি মাথাব্যথা নেই। বাংলাদেশের মূল দুশ্চিন্তা টেস্ট ক্রিকেটে উত্তরণ আর অবনমনের নিয়ম প্রবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে। যাতে বলা হয়েছে, টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে ৯ ও ১০ নম্বর দল অবনমিত হয়ে আইসিসির সহযোগী সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে চার দিনের ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে খেলবে। সেটিতে চ্যাম্পিয়ন হলে সুযোগ পাবে র‌্যাঙ্কিংয়ে ৮ নম্বর দলের সঙ্গে প্লে-অফ খেলার। হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে দুটি করে টেস্ট ম্যাচ খেলার পর জয়ী দল টিকে যাবে টেস্ট ক্রিকেটে। এই চিন্তার ভিত্তি বলা হচ্ছে ‘মেরিটোক্রেসি’কে। অর্থাৎ খেলার মানটাই এখানে বিবেচ্য। অথচ পরস্পর বিরোধিতার চূড়ান্ত রূপ বলা যায় সংযুক্ত ধারাটিকেই—ওই তিন দেশ, ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া কখনোই অবনমিত হবে না। এটির পক্ষে যুক্তি, এই তিন দেশ না থাকলে বাণিজ্যে ভাটা পড়বে। অর্থাৎ কোথাও হচ্ছে মানের বিচার, কোথাও বা কোন দল কোষাগারে কত বেশি অর্থ জোগান দিতে পারবে, সেই হিসাব।
বলা হচ্ছে, ৯ ও ১০ নম্বর দল। প্রকারান্তরে যা আসলে ‘জিম্বাবুয়ে ও বাংলাদেশ’ বলে দেওয়ার মতোই। অনেক দিন ধরে এই দুটি দলই টেস্ট ক্রিকেটের সবচেয়ে তলানির দুই দল এবং টেস্ট পরিবারের নবীনতম দুই সদস্য হিসেবে সেটি খুব অস্বাভাবিকও নয়। এমনিতেই ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রামে (এফটিপি) এই দুই দেশের প্রতি চরম বৈষম্য। এখন তো এফটিপিই তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হচ্ছে। উন্নতি করার একমাত্র পথ বড় দলগুলোর সঙ্গে আরও নিয়মিত খেলা। সেখানে উল্টো অবনমিত হয়ে গেলে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সামনে ঘোর অন্ধকার।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তাই এই প্রস্তাবের বিপক্ষে রুখে দাঁড়ানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। অথচ গত বৃহস্পতিবারের বোর্ড সভার পর সংবাদমাধ্যমে যা প্রকাশিত হয়েছে, তাতে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা রীতিমতো হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির সভাপতি কূটনৈতিক কথাবার্তা বললেও বিসিবিতে নাকি ২০-৩ ভোটে এই প্রস্তাব সমর্থন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটিকে ‘বিভ্রান্তিমূলক’ বলে অবশ্য পরদিনই ব্যাখ্যা দিয়েছে বিসিবি। আর গতকাল তো বিসিবির মুখপাত্র জালাল ইউনুস জানিয়ে দিলেন, টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবনমনের প্রস্তাবের ব্যাপারে বিসিবির অবস্থান স্পষ্ট। এটি মেনে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের মেনে নেওয়া না-নেওয়ার গুরুত্ব কতটুকু? বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর এতটা জোরালো নয় যে, সেটি সবাই শুনতে বাধ্য হবে। তবে এই ‘লড়াই’য়ে বাংলাদেশ বোধ হয় নিঃসঙ্গ নয়। দেশে ও দেশের বাইরে নানা সূত্রে যা আভাস পাওয়া গেছে, তাতে ওই তিন দেশ এবং প্রকাশ্যে এই প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানানো নিউজিল্যান্ড ছাড়া বাকি ছয়টি টেস্ট খেলুড়ে দেশের পাঁচটি এ ব্যাপারে আইসিসির সভায় এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। বিস্ময়কর হলো, বাংলাদেশের মতো একই পরিণতির আশঙ্কায় পড়া জিম্বাবুয়ে এই পাঁচ দেশের মধ্যে নেই। আর্থিক সংকটে জর্জরিত জিম্বাবুয়ে নাকি বাড়তি অর্থের আশায় বিনা প্রতিবাদে এই প্রস্তাব মেনেও নিতে পারে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অবশ্য অন্য—আগামী ২৮-২৯ জানুয়ারি দুবাইয়ে অনুষ্ঠেয় আইসিসির নির্বাহী বোর্ডের সভায় এই প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য টেবিলে উঠবে কি না? আইসিসির মুখপাত্র জন লংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তিন দেশের বিতর্কিত প্রস্তাবে যা আছে
১. আইসিসির নতুন নির্বাহী কমিটিতে (এক্সকো) স্থায়ী সদস্য থাকবে ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। আইসিসির সব কমিটিতে এর কর্তৃত্ব থাকবে
২. টেস্টে উত্তরণ ও অবনমন থাকবে। র‌্যাঙ্কিংয়ে ৯ ও ১০ নম্বর দল আইসিসির সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে খেলবে। জয়ী দল ৮ নম্বর দলের সঙ্গে প্লে-অফ খেলে ওপরে ওঠার সুযোগ পাবে। ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া অবনমিত হবে না
৩. ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম (এফটিপি) থাকবে না। দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে সিরিজ ঠিক হবে
৪. আইসিসির রাজস্ব বণ্টন হবে আয়ে সেই দেশের ভূমিকার ভিত্তিতে
৫. আইসিসির শীর্ষ পদ— আইসিসি চেয়ারম্যান, এক্সকো এবং অর্থ ও বাণিজ্য কমিটির চেয়ারম্যান হবেন ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিরা

20 Breathtaking Images Of The Earth As Seen From Space

[advps-slideshow optset=”1″] From a Medieval palace in Syria to a giant rubber duck floating in Hong Kong, DigitalGlobe features its best satellite imagery of the year.Digital Globe, a provider of commercial satellite pictures, gathers 1 billion square kilometers of Earth imagery every year. That’s nearly enough to cover the globe twice — and some of it is downright beautiful. Several years ago, employees at the Colorado-based organization decided to pick their favorite to share Earth’s beauty with the public. This year, they’ve collected 20 awe-inspiring scenes, and they want you to pick your favorite of the bunch.

Devyani Khobragade Scandal: Why India Still Won’t Back Down

[advps-slideshow optset=”1″] Three weeks after the bilateral row began over the arrest of Indian diplomat Devyani Khobragade in New York City, the dust has yet to settle on the wintery streets of New Delhi. People may have stopped burning images of President Barack Obama, but India’s front pages still carry news of the ongoing fallout, detailing the tense exchanges between the U.S. and India over the strip search and detention of India’s deputy consul general in New York City, who India says had immunity at the time of her arrest.

On Dec. 12, U.S. State Department agents arrested Khobragade outside her children’s school in New York City, after which she was strip-searched and detained before being released on bail. She has been charged with making false declarations on a visa application for her Indian domestic worker, and has allegedly broken U.S. law by paying her employee below the minimum wage, among other alleged infractions.

Khobragade has denied all of the charges. In a letter to colleagues after her arrest, she wrote that she “broke down many times as the indignities of repeated handcuffing, stripping and cavity searches, swabbing, holdup with common criminals and drug addicts were all being imposed upon me.”

(MORE: Devyani Khobragade Scandal: The View From India)

U.S. officials have denied conducting a cavity search on the diplomat, and on Dec. 18, U.S. Attorney for the Southern District of New York Preet Bharara said in a statement that “Ms. Khobragade was accorded courtesies well beyond what other defendants, most of whom are American citizens, are accorded.” India claims, however, that because of Khobragade’s status at the time as an adviser to India’s U.N. mission, she was entitled to diplomatic immunity. On Dec. 30, a State Department deputy spokesperson said the government was “looking into it.”

 

The blowout has left Washington’s relationship with India on shaky and emotionally charged ground. New Delhi quickly retaliated with measures aimed at U.S. diplomats in India — among them the removal of traffic barriers outside the U.S. embassy in the Indian capital, restrictions on tax-free shipments and demands that the salaries of Indians employed by U.S. diplomatic staff be made public.

Indian officials have asked that the U.S. admit it was in the wrong, but U.S. Secretary of State John Kerry has so far said only that he expresses “regret” over the incident. To many Indians, that’s far from enough. U.S. handling of the affair has been “outrageous,” says Gopalaswami Parthasarathy, a former Indian ambassador who spent time in Washington. He says there was no reason to treat Khobragade so unceremoniously, and thinks the Indian government’s action has been in step with the national mood. “We cannot take this,” Parthasarathy says.

(VIDEO: Indian Diplomat’s New York City Arrest and Strip Search Sparks Fury at Home)

That the government has seized this particular moment to take a tough stand is probably not a coincidence. National elections are scheduled for a few months away, and the ruling Congress Party faces a tough fight to stay in power after a series of losses in recent state elections, most notably in New Delhi itself.

“This government has been criticized by its opponents as being excessively pro-American,” says Paranjoy Guha Thakurta, a political commentator in New Delhi. “This is a good opportunity for them to say, ‘O.K., we can act tough too. We want to know how much you are paying your gardener, and your person who works in the kitchen.’”

The jury is out on the long-term impact of that strategy. External Affairs Minister Salman Khurshid has sought to soften the tone, stressing the nations’ “valuable relationship.” Indeed, in 2011, the countries did some $86 billion in bilateral trade, and the world’s largest democracy is an increasingly crucial partner to Washington in a part of the world occupied by more unknown quantities like Pakistan and China, particularly as regional security gets ready to enter a new phase as when most foreign troops withdraw from Afghanistan this year. In a New Year’s message, U.S. Ambassador to India Nancy Powell ticked off the ways the nations have gotten along in recent years, while acknowledging ties have been “jolted by very different reactions to issues involving one of your consular officers and her domestic worker.” Like Kerry, Powell also expressed “regret” over the incident.

Will Washington and New Delhi dig their heels further into the sand, or find, as it were, a diplomatic solution? At this juncture, it’s hard to say. But some here argue that, pragmatically, India may not have a choice. “We bend over backwards for the U.S. in India and we expect the U.S. [to do the same],” says Mohan Guruswamy, founder and chairman of New Delhi think tank Centre for Policy Alternatives. That’s not going to happen, he says. “They are asking for reciprocity they won’t get.”

MORE: U.S. to Review Indian Diplomat’s Arrest and Strip Search After New Delhi Backlash

 

ইউনূস ক্লোজড চ্যাপ্টার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

[advps-slideshow optset=”1″] সরকারের কাছে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইস্যু শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। ‘প্রথম আলো’র সঙ্গে গত মঙ্গলবার এক একান্ত সাক্ষাত্কারে নতুন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। শাহরিয়ার আলম বলেন, ড. ইউনূস ইস্যুকে বাদ নিয়ে তিনি তাঁর সময়টাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজে লাগাতে চান।

এই সাক্ষাত্কারে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর চাপ, নির্বাচন ও বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের অবস্থান, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব, বাংলাদেশ ও ভারতের অমীমাংসিত বিভিন্ন বিষয়, আঞ্চলিক রাজনীতি, সরকারের গত মেয়াদে কোনো কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের শীতলতা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিদেশ সফর নিয়ে মন্ত্রণালয়ের অবস্থান, শ্রমবাজার, যুদ্ধাপরাধের বিচারে আন্তর্জাতিক জনমত কাজে লাগানোসহ নানা বিষয়ে সরকারের মনোভাব।

গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের আগ্রহ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শাহরিয়ার বলেন, ‘এজ পার এজ বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট ইজ কনসার্ন, দ্যাট ইস্যু ইজ ডান অ্যান্ড ড্রাস্টেড। এটা ক্লোজড চ্যাপ্টার।’ (বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান থেকে বলতে গেলে, ওই বিষয়টির যা হওয়ার হয়ে গেছে। ওই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে।)

ক্যাটরিনার হৃদয়ে কার ঠাঁই?

[advps-slideshow optset=”1″] সালমান, রণবীর নাকি হৃতিক? কার সঙ্গে সম্পর্ক রাখছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ? সালমান-রণবীরের সঙ্গে ক্যাটরিনার সম্পর্কের কথা এত দিনে বলিউডপ্রেমীরা নিশ্চয় জেনেছেন। কিন্তু হৃতিক?
সালমান-ক্যাটরিনার সম্পর্কের খাতা আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। এখন নাকি রণবীরের কাছ থেকেও দূরে সরে গেছেন ক্যাটরিনা! তবে কি নতুন মনের মানুষ খুঁজে পেয়েছেন ক্যাটরিনা? বলিউডপাড়ার হালের গুঞ্জন যদি সত্যি হয়, তবে ক্যাটরিনার সেই মনের মানুষ হতে পারেন হৃতিক রোশন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বলিউডে রটেছে হৃতিক রোশন আর ক্যাটরিনা এখন আর শুধু বন্ধু নন। সম্পর্কের গভীরতা বেড়েছে তাঁদের মধ্যে।
গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকেই ব্যক্তিগত এবং পেশাগত জীবনে সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন ‘কৃশ’খ্যাত হৃতিক। সম্প্রতি মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করিয়েছেন তিনি। স্ত্রী সুজানের সঙ্গে দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের ইতিও ঘটেছে তাঁর। অনেকেই ধারণা করেন, ক্যাটরিনার সঙ্গে হৃতিকের ঘনিষ্ঠতা আর সুজানের সঙ্গে অর্জুন রামপালের ঘনিষ্ঠতার কারণে ভেঙেছে এই জুটির সংসার।
তবে বলিউডপাড়ায় জোর গুঞ্জন, পর্দার পাশাপাশি বাস্তব জীবনে হৃতিকের সঙ্গে ক্যাটরিনার ঘনিষ্ঠতা মোটেও মেনে নিতে পারছিলেন না সুজান। ‘ব্যাং ব্যাং’ ছবির সেটে ক্যাটরিনার সঙ্গে হৃতিকের উপস্থিতি নিয়ে সুজানের সঙ্গে শুরু হয়েছিল বাগবিতণ্ডা।

জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা ছবির পর থেকেই হৃতিকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে চলেছেন ক্যাটরিনা। তবে এ দুজনের গভীর সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে হৃতিকের ঘর ভাঙা আর রণবীরের সঙ্গে ক্যাটরিনার দূরত্ব তৈরির পর। সম্প্রতি রণবীরকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ক্যাটরিনা। এমনকি দুজন এখন এতটাই দূরত্ব বজায় রেখে চলছেন যে ধারণা করা হচ্ছে সালমানের পর এবার বোধ হয় রণবীরেরও হৃদয় ভাঙল।

সুচিত্রার বাড়ি উদ্ধার করা হবে

[advps-slideshow optset=”1″] সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, পাবনায় সুচিত্রা সেনের পৈতৃক বাড়ি উদ্ধারে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সরকারিভাবে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বাড়িটি উদ্ধার করা হবে।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে কিংবদন্তি অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন স্মরণসভায় তিনি এ কথা বলেন। শিল্পকলা একাডেমী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আসাদুজ্জামান নূর আরও বলেন, দুই বাংলার মানুষের প্রিয় নায়িকা সুচিত্রা সেন। তাঁর বাংলাদেশের বাড়িতে ‘সুচিত্রা সেন সংগ্রহশালা’ গঠন করা হবে। সেখানে মহানায়িকার ব্যবহূত দ্রব্যাদি আনা হবে ভারত থেকে।
স্মরণসভায় পাবনার সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রামদুলাল ভৌমিক বলেন, বর্তমানে বাড়িটি ইমাম গাযযালী ইনস্টিটিউটের দখলে। পাবনাবাসীর অনেক দিনের চাওয়া এই বাড়িতে সুচিত্রা সেন সংগ্রহশালা করা হোক। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংস্কৃতিসচিব রণজিৎ কুমার বিশ্বাস।
সভাপতির বক্তব্যে একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী জানান, সুচিত্রা সেনকে নিয়ে একাডেমীর পরবর্তী কার্যক্রমে থাকবে পাবনায় তাঁর বাড়ি উদ্ধার, তাঁর জীবন ও কর্মের আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন, স্মারকগ্রন্থ রচনা এবং ৬৪ জেলায় ‘সুচিত্রা সেন চলচ্চিত্র উৎসব’ আয়োজন।
গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে সন্ধ্যায় একাডেমীর সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানে ছিল উপচে পড়া ভিড়। আলোচনার পর দেখানো হয় মহানায়িকার অভিনীত ছবি উত্তর ফাল্গুনী। আজ শনিবার উৎসবের শেষ দিনে বিকেল চারটা ও সন্ধ্যা ছয়টায় দেখানো হবে সুচিত্রা সেন অভিনীত হিন্দি ছবি দেবদাস ।

নেতাদের হাত সোনার নৌকায়, শিশুরা না খেয়ে রাস্তায়

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে মন্ত্রী-সাংসদদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার চলছেই। ছোট ছোট ছেলেমেয়েকে রাস্তায় কষ্ট দিয়ে মন্ত্রী-সাংসদেরা নিজ এলাকায় সংবর্ধনা নিচ্ছেন, গ্রহণ করছেন সোনার নৌকা উপহার।
গতকাল শুক্রবার রাজশাহীর বাঘায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাঁকে স্বাগত জানাতে গিয়ে কয়েক শ শিক্ষার্থী দুপুরে না খেয়ে রাস্তায় ছিল। এর আগে গত বৃহস্পতিবার মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া ও ফরিদপুর শহরেও সহস্রাধিক স্কুলশিক্ষার্থীকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। ত্রাণ ও দুর্যোগব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সংবর্ধনা দিতে গিয়ে তাদের রাস্তায় নামান আয়োজকেরা।
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ২০৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় আজ শনিবার ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কারণ, দিনাজপুর-৫ আসনের সাংসদ প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানকে সংবর্ধনা দেবে ওই সব বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
দুপুরে না খেয়ে রাস্তায়: নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমকে গতকাল রাজশাহীর বাঘা উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। প্রতিমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে রাজশাহীর চারঘাট ও বাঘা উপজেলার বিভিন্ন সড়কে অর্ধশতাধিক তোরণ নির্মাণ করা হয়। বাঘা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে অনুষ্ঠানস্থল পর্যন্ত দুই সারিতে দাঁড় করানো হয় বিভিন্ন বিদ্যালয়ের কয়েক শ শিক্ষার্থীকে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, দুপুরের আগেই তাদের নিজ নিজ বিদ্যালয়ে আসতে বলা হয়। রহমতুল্লাহ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী শারমিন সুলতানা ও আঞ্জুমান সিদ্দিকা বলে, তারা দুপুর ১২টায় বিদ্যালয়ে আসে। কিছু খায়নি। বাঘা ইসলামী একাডেমি উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র শাকিল আহাম্মেদ বলে, সে বিদ্যালয়ে এসেছে বেলা ১১টায়। তারও দুপুরে কিছু খাওয়া হয়নি।
জানতে চাইলে রহমতুল্লাহ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিশিপদ সরকার প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষার্থীদের বাড়ি থেকে একটু সকাল করে দুপুরের খাবার খেয়ে আসতে বলা হয়েছিল। সে জন্য তাদের বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে খাবারের আয়োজন করা হয়নি।
নাটোর-১ আসনের সাংসদ আবুল কালাম আজাদকে (ডানে) বাগাতিপাড়ার গফুরাবাদ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গতকাল সোনার নৌকা উপহার দেন ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি আবদুস সাত্তার—প্রথম আলোনেতা-কর্মীদের নিয়ে দুপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আজিজুল আলমের বাসায় খান প্রতিমন্ত্রী। সেখান থেকে বিকেল চারটা ৩৮ মিনিটে অনুষ্ঠানমঞ্চে আসেন তিনি। শুরুতেই তাঁকে সোনার নৌকা ও সোনার কোটপিন উপহার দেওয়া হয়। এ সময় প্রতিমন্ত্রী আয়োজকদের প্রতি ভবিষ্যতে তাঁকে সোনার নৌকা উপহার না দেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি এই উপহারের সমপরিমাণ অর্থ স্থানীয় একটি প্রতিবন্ধী সংস্থায় দান করার ঘোষণা দেন। প্রতিমন্ত্রী রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ।
রাত আটটা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চললেও সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে উপস্থাপক উপজেলা যুবলীগের সভাপতি বাবুল ইসলাম ঘোষণা দেন, যেসব বিদ্যালয়ের বাচ্চারা দুপুরে না খেয়ে অনুষ্ঠানে এসেছে, তারা চলে যেতে পারে। এ ঘোষণার পর ছেলেমেয়েরা বাড়িতে ফিরে যায়।
দুটি সোনার নৌকা পেলেন তিনি: ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সাংসদ শরীফ আহমেদকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল তারাকান্দা উপজেলার সিঅ্যান্ডবি মাঠে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কয়েক হাজার লোক উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সাংসদকে দুটি সোনার নৌকা উপহার দেওয়া হয়। একটি দেন তারাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন এবং উপজেলার ১০ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা। অপরটি দেয় বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন তারাকান্দা-ফুলপুর উপজেলা শাখা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তারাকান্দা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান আকন্দ।
এর আগে সাংসদ ময়মনসিংহ থেকে গোপালপুরে পৌঁছালে দলীয় নেতা-কর্মীরা তাঁকে মোটর শোভাযাত্রা করে সংবর্ধনাস্থলে নিয়ে আসেন।
নাটোরেও সোনার নৌকা: সংবর্ধনা পেয়েছেন নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত সাংসদ আবুল কালাম আজাদও। দিয়েছে বাগাতিপাড়া উপজেলার গফুরাবাদ উচ্চবিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল বিকেলে গফুরাবাদ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ওই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সভাপতি আবদুস সাত্তার সাংসদের হাতে সোনার নৌকা তুলে দেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমকে স্বাগত জানাতে গতকাল রাজশাহীর বাঘা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাঁড় করিয়ে রাখা হয়—প্রথম আলোসংবর্ধনা, তাই বিদ্যালয়ে ছুটি: দিনাজপুরের পার্বতীপুরের ২০৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করে দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) আসনের সাংসদ প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানকে আজ সংবর্ধনা দিচ্ছেন ওই সব বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। আর এতে সহযোগিতা করছেন উপজেলা ও দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা জানান, আজ বেলা তিনটায় জ্ঞানাঙ্কুর পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। এ জন্য উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয় এক দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
পার্বতীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান আতিকুর রহমান বলেন, স্কুল ছুটি দিলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি হয়। তার পরও এলাকার মন্ত্রী হিসেবে শিক্ষকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) ছুটি মঞ্জুর করায় সব শিক্ষক সংবর্ধনা সভায় অংশ নিতে পারবেন।
[প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন আমাদের রাজশাহীর নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর, ফুলপুর (ময়মনসিংহ) ও পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি]