“কোয়েল মল্লিকের”

ভারতীয় বাংলা মুভির নায়িকা “কোয়েল মল্লিকের” ScAnDaL
প্রথমেই বলে রাখি যারা নিজ চোঁখে কিছু দেখেও বিশ্বাস করতে চান না তাদের এই ScAnDaL টি নামানোর কোন প্রয়োজন নেই। অনেকে আছেন তারা ঠিকি দেখতেছে যে এটা সত্যি তার পরেও বিশ্বাস করতে চান না বা শিকার করে না। তাই তাদের কাছে আমি কোন কিছু শেয়ার করতে আগ্রহী নই।
কিছু কথাঃ আমি চিন্তা ও করতে পারি নি যে “কোয়েল মল্লিক” এর ScAnDaL দেখবো!! আমি শুধু মনে করতাম আমাদের এপারের বাংলাই মনেহয় ScAnDaL এ ভর্তি হয়েগেছে এখন দেখি সব যায়গাতেই একি অবস্থা। ওপার আমাদের থেকে অনেক অংশেই এগিয়ে আছে তবে আর এই দিক দিয়েই বা পিছিয়ে থাকবে কেনো?
আর হ্যাঁ অবশ্যই কমেন্ট করবেন। আমি শুধু আপনাদের মাঝে শেয়ার করতেই থাকবো আর আপনারা মজা লুটতেই থাকবেন কিন্তু কোন ভালো/মন্দ কমেন্ট করবেন না তা হতে পারে না। আপনারা যদি কমেন্টকরেন আপনাদের মন্তব্য শেয়ার করেন তবে সামনে আপনাদের জন্য আরো আকর্ষণীয় কিছু নিয়ে হাজিরহবো!
ডাউনলোড করে নিন এখুনি  

ঐশী টেস্ট রিপোর্ট বদলে গেছে

পুরাই মাথা নষ্ট 一 Funny World BD . · 138,786 like this
August 22, 2013 at 9:10pm ·
ঐশীর বয়স ১৯ বছর ৬ দিন!
পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি)পরিদর্শক
মাহফুজুর রহমান ও স্ত্রী স্বপ্ন রহমানের
খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার মেয়ে ঐশী রহমান
শিশু নয়। তার বয়স ১৯ বছর ৬দিন।
বাংলাদেশের শিশু আইনেও সে শিশু নয়।
গোয়ন্দা পুলিশ ঐশীর এ বয়স
সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে। এরফলে ঐশী শিশু
না সাবালিকা সে বিতর্কের নিরসন হলো।
গেয়েন্দা সূত্র দাবি করেছে, মানবাধিকার
সংস্থার পক্ষে আপত্তি তোলার আগেই
তারা ঐশীর জন্মবৃত্তান্ত সংগ্রহ করেছেন।
বৃহস্পতিবার ঐশীর বয়স হবে ১৯ বছর ৬
দিন।
নাম প্রকামে অনিচ্ছুক পুলিশের এক
কর্মকর্তা জানায়, ঐশী রহমানের
বাবা মাহফুজুর রহমান ১৯৯৪ সালে খুলনায়
কর্মরত ছিলেন। আর ঐশীর জন্ম
হয়েছে খুলনাতেই। ১৯৯৪ সালের ১৭ আগস্ট
ঐশী রহমানের জন্ম হয়। তার জন্ম হয়
খুলনা প্রেস ক্লাব সংলগ্ন মিশু ক্লিনিকে।
ক্লিনিক মালিকের নাম আবদুর রহিম। ওই
সময় যে চিকিৎসক ঐশীর মায়ের
চিকিৎসা সেবার দায়িত্বে ছিলেন তার নামও
জানা গেছে।
গোয়েন্দারা জানায়, ঐশী রহমানের জন্ম
হওয়ার আগে তার মা ওই ক্লিনিকের
চিকিৎসক ডাক্তার নাসরীনের
তত্ত্বাবধানে ছিলেন। ১৯৯৪ সালের ১৭
আগস্ট স্বপ্না রহমান মিশু
ক্লিনিকে ভর্তি হলে তার সাধারণ
ডেলিভারি হয়।
ডা. নাসরীন জানান, ঐশী রহমানের
মা স্বপ্না রহমান তার পেশেন্ট ছিলেন। জন্ম
হওয়ার আগ থেকে তিনি তার তত্ত্বাবধান
করেন। তিনি ঐশীর পরিবারের সাথে পরিচিত।
মিশু ক্লিনিকে ৯৪ সালের নথিতেও মিলেছে এই
তথ্য।
তবে বয়স নির্ধারণ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার
জন্য ঐশী রহমান ও সুমীকে বুধবার
ঢাকা মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ঐশীর বয়স
পরীক্ষার জন্য তার দাঁতের পরীক্ষা ও
হাড়ের এক্স-রে করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের
সহকারী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন,
দ্রুত এ ফলাফল জানা যাবে।

পুলিশ কর্মকর্তার গুনধর মেয়ে ঐশী · 11,068 like this
September 21, 2013 at 5:37am ·
কুমারী মেয়ে ইউরিন টেস্ট করাতে গেছে!টেস্ট রিপোর্ট বদলে গেছে:
ডাক্তার:U ARE PREGNANT!

:

বিশ্বের সবচেয়ে পাতলা ডিসপ্লে

বিশ্বের সবচেয়ে পাতলা হাই ডেফিনেশন বা এইচডি ডিসপ্লে তৈরি করেছে এলজি।

পাঁচ দশমিক দুই ইঞ্চি মাপের এ ডিসপ্লে মাত্র দুই দশমিক দুই মিলিমিটার পুরু। হালকা-পাতলা স্মার্টফোন তৈরিতে এলজির এই পাতলা ডিসপ্লে ব্যবহূত হবে। এক খবরে এ তথ্য জানিয়েছে সিনেট।

প্রযুক্তি-বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, বর্তমান যুগ হচ্ছে হালকা-পাতলা মোবাইল পণ্যের যুগ। দীর্ঘদিন ধরেই মোবাইল পণ্যগুলোকে হালকা-পাতলা করার উপায় খুঁজছে স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।

১০ জুলাই বুধবার বিশ্বের সবচেয়ে পাতলা এইচডি এলসিডি প্যানেলের ঘোষণা দিয়ে এ সমস্যার সমাধান দিল এলজি। এলজির এ ডিসপ্লে ব্যবহারে স্মার্টফোন হবে আরও হালকা-পাতলা।

এলজি ডিসপ্লে ইউনিটের ভাইস প্রেসিডেন্ট বাইওং-কো কিম এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বিশ্বের সবচেয়ে পাতলা এইচডি এলসিডি প্যানেল তৈরির ফলে হাই এন্ড স্মার্টফোন বিভাগ আরও উন্নত হবে। স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট কম্পিউটারের কথা মাথায় রেখে ভবিষ্যতে আরও উন্নত ডিসপ্লে তৈরিতে কাজ করবে এলজি।

 

এলজির নমনীয় ডিসপ্লের স্মার্টফোন পরিকল্পনা

এইচডি এলসিডির পাশাপাশি নমনীয় ডিসপ্লে তৈরি করছে এলজি। নমনীয় ডিসপ্লে তৈরিতে কাচের পরিবর্তে নমনীয় প্লাস্টিক ফিল্ম ব্যবহার করা হয়। সাধারণত স্মার্টফোন তৈরিতে কাচ ব্যবহার করার কারণে তা পড়ে গেলে সহজেই ভেঙে যায় এবং ওজনে ভারী হয়। স্মার্টফোন প্রযুক্তির উন্নয়নে নমনীয় ডিসপ্লে তৈরির বিষয়টি বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবেই ধরা হচ্ছে। শিগগিরই নমনীয় বা বাঁকানো ডিসপ্লেযুক্ত স্মার্টফোন বাজারে আনবে এলজি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সহজে বাঁকানো সম্ভব ও নমনীয় ডিসপ্লেযুক্ত স্মার্টফোন তৈরিতে কাজ করছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান এলজি। এ ছাড়াও ২০১২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার আরেক প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান স্যামসাং বাঁকানো ডিসপ্লে প্রদর্শন করেছিল। স্যামসাং ছাড়াও নমনীয় ডিসপ্লে প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে নকিয়া।

এদিকে এলজি মোবাইল বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, এলজির ডিসপ্লে বিভাগের তৈরি নমনীয় ওএলইডি স্ক্রিনযুক্ত একটি স্মার্টফোন চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাজারে আসতে পারে। পাশাপাশি বাজার-বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, স্মার্টফোনের বাজারে শক্ত অবস্থান দখল করছে এলজি। বর্তমানে স্মার্টফোনের বাজারে স্যামসাং ও অ্যাপলের পরের স্থানটি এলজির।

উড়ুক্কু গাড়ি বানাচ্ছে চীন!

উড়ুক্কু গাড়ি তৈরিতে এগিয়ে এসেছে চীন। সম্প্রতি চীনে উড়ুক্কু গাড়ি তৈরির জন্য নতুন নকশার পেটেন্ট আবেদন করা হয়েছে। টেলিগ্রাফ অনলাইনের এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের কল্পনায় স্থান করে নিয়েছে উড়ুক্কু গাড়ি। যা এতদিন ছিল কেবল বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীতে এখন বাস্তবের জগতেও পরীক্ষামূলকভাবে চলে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেরাফুগিয়া এতদিন উড়ুক্কু গাড়ি তৈরির কথা জানিয়েছিল। এবার চীনের গবেষকেরা উড়ুক্কু গাড়ি তৈরির পরিকল্পনা করছেন।
সাউদার্ন চায়না এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি গ্রুপ সম্প্রতি উড়ুক্কু গাড়ির নকশা ও গাড়ির প্রযুক্তির জন্য পেটেন্ট আবেদন করেছে।
পেটেন্ট আবেদনে বলা হয়েছে, গাড়ি আকাশে ওড়ানোর জন্য দুটি বড় আকারের পাখা থাকবে। এই পাখা দুটি গাড়ির নীচে সামনে ও পেছনে দিকে পরস্পর বিপরীত দিকে ঘুরতে থাকবে। এ ছাড়াও গাড়ির মাঝ বরাবর দুটি ছোট আকারের পাখা পাশাপাশি ঘুরতে থাকবে। এই দুটি পাখা গাড়ি আকাশে ওড়ানোর সময় চালককে নিয়ন্ত্রণ সুবিধা দেবে। বড় দুটি পাখান নীচে বসানো বিশেষ প্লেট আকাশে গাড়িটির দিক ঠিক রাখবে।
চালক ও যাত্রীর জন্য এই উড়ুক্কু গাড়িতে কতখানি জায়গা থাকবে তা এখনই ধারণা করা সম্ভব নয়। তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা বলছেন, উড়ুক্কু গাড়ির এটি প্রাথমিক নকশা মাত্র। এর আরও উন্নতি করে শিগগিরই উড়ুক্কু গাড়ি তৈরির কাজ শুরু করতে পারে প্রতিষ্ঠানটি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান টেরাফুগিয়া ‘ট্রানজিশন’ নামে উড়ুক্কু গাড়ি তৈরির কথা জানিয়েছিল। টেরাফুগিয়ার দাবি, তারা ট্রানজিশনের পাশাপাশি টিএফ-এক্স নামে নতুন এক ধরনের উড়ুক্কু গাড়ির নকশা করছে যে রাস্তায় চলবে আবার দ্রুত গতিতে আকাশেও উড়বে। এর জন্য আলাদা রানওয়ের প্রয়োজন পড়বে না। এ গাড়ি চালানোর জন্য আলাদা করে বিমান চালনার প্রশিক্ষণ প্রয়োজন হবে না। গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে সাধারণ গাড়ি চালানো আর কম্পিউটার চালানোর দক্ষতা থাকলেই চলবে।

প্রযুক্তি গবেষকেরা আশা করছেন, সেদিন আর বেশি দূরে নয় যেদিন রাস্তার পাশাপাশি আকাশেও উড়বে গাড়ি।

অস্ট্রেলিয়ান ওপেন: নতুন চ্যাম্পিয়ন অপেক্ষা ফুরোল ভাভরিঙ্কার

‘চেষ্টা করেছ। ব্যর্থ হয়েছ। কোনো ব্যাপার না।
আবার চেষ্টা করো। আবার ব্যর্থ হও। এবার আরেকটু ভালোভাবে।’
স্তানিসলাস ভাভরিঙ্কার বাঁ হাতে খোদিত স্যামুয়েল বেকেটের এই বিখ্যাত পঙিক্ত। শুধু ট্যাটু এঁকেই নয়, রজার ফেদেরারের স্বদেশি নিরন্তর অনুপ্রেরণা হিসেবেই নিয়েছেন এটিকে। টুর্নামেন্টের পর টুর্নামেন্টে ব্যর্থতা, তবু মনোবল ভাঙেনি ভাভরিঙ্কার। লক্ষ্যে স্থির থেকে শেষ পর্যন্ত সফল এই সুইস। রড লেভার অ্যারেনায় কাল অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে রাফায়েল নাদালকে হারিয়েছেন ৬-৩, ৬-২, ৩-৬, ৬-৩ গেমে। ভাভরিঙ্কার অপেক্ষার অবসান। হাতে তুললেন প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা!
নাদালের বিপক্ষে এর আগে ১২ ম্যাচ খেলে সব কটিই হেরেছিলেন। কোনো ম্যাচে একটি সেটও জিততে পারেননি। সেই ভাভরিঙ্কা জিতলেন ১৩ নম্বর ম্যাচে এসে। প্রতিপক্ষ এই নাদাল অবশ্য সেরা ফর্মের নাদাল নন। চোটের সঙ্গে লড়াই করা এক নাদাল।
প্রথম দুই সেটে একরকম আত্মসমর্পণের পর মনে হচ্ছিল সরাসরি সেটেই হেরে যাচ্ছেন নাদাল। কিন্তু তৃতীয় সেটটা ঠিকই জিতে নিলেন অদম্য এই স্প্যানিয়ার্ড। এরপর অবশ্য চতুর্থ সেটে আর পেরে ওঠেননি, ভাভরিঙ্কার দেয়ালে আটকেই গেলেন এই লড়াইয়ে।
দ্বিতীয় সেট চলাকালে মেডিকেল টাইমআউট নিতে বাধ্য হয়েছিলেন নাদাল। মেজাজ হারিয়ে এ সময় চেয়ার আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন ভাভরিঙ্কা। ম্যাচের পর সেই ভাভরিঙ্কা শান্ত। নাদালের অবস্থা বুঝেই কিনা জয়ের পর উচ্ছ্বাসে না ভেসে পা রাখলেন মাটিতেই। শূন্যে হাত উঁচিয়ে উদ্যাপন করেই সান্ত্বনা দিতে ছুটে গেলেন নাদালের দিকে। পুরস্কার নিতে এসেও নাদালের স্তুতি গাইলেন ২৮ বছর বয়সী তারকা, ‘রাফা, প্রথমেই বলে নিই তোমার জন্য আমি সত্যিই দুঃখিত। আশা করছি, তোমার পিঠ ঠিক আছে। তুমি খুব ভালো বন্ধু ও গ্রেট চ্যাম্পিয়ন। গত বছর তুমি প্রত্যাবর্তনের অসাধারণ এক গল্প লিখেছ।’
এরপর মনের ভেতর চেপে থাকা আবেগ বেরিয়ে এল। ৩৬ বারের চেষ্টায় প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম জেতা—আবেগ তো ভাসিয়ে নেবেই ভাভরিঙ্কাকে, ‘আমার জন্য এটাই সেরা গ্র্যান্ড স্লাম। এখানে খেলাটা আমি দারুণ উপভোগ করছি।’ বলতে বলতে ফিরে তাকালেন পেছনে। গত বছর এই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেরই চতুর্থ রাউন্ডে নোভাক জোকোভিচের কাছে পাঁচ সেটে হারের কষ্ট ভুলে গাইলেন দিনবদলের গান, ‘গতবার হারের পর অনেক কেঁদেছি। গত এক বছরে অনেক কিছুই হয়েছে। এখন পর্যন্ত ঠিক জানি না, আমি স্বপ্ন দেখছি কি না। কাল সকালেই হয়তো বোঝা যাবে।’
ভাভরিঙ্কার দিনে নাদাল কেঁদেই ফেললেন ট্রফি নিতে এসে। ফোস্কা পড়া বাঁ হাত দিয়ে খেলেই ফাইনালে ওঠা ১৩টি গ্র্যান্ড স্লামের মালিক ভাভরিঙ্কাকে ধন্যবাদ দিলেন প্রথমে। তারপর দর্শকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন তাদের হতাশ করার জন্য, ‘সব দর্শককে বলছি, খুব আবেগের দুটি সপ্তাহ কাটালাম। শেষটা যেভাবে হলো আমি দুঃখিত। আমি চেষ্টা করেছি, খুব…খুব চেষ্টা করেছি।
এ হারে রড লেভার ও রয় এমারসনের সঙ্গে এক সারিতে বসার সুযোগ হারালেন নাদাল। সবগুলো গ্র্যান্ড স্লাম দুবার করে জেতা হলো না—নাদালের অপেক্ষা বাড়লই। এএফপি, রয়টার্স।
২১ বছর পর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে শীর্ষ দুই বাছাইকে হারালেন কেউ। ভাভরিঙ্কার আগে এই কৃতিত্ব ছিল সার্গি ব্রুগুয়েরার (১৯৯৩, ফ্রেঞ্চ ওপেন)।
৩৬ তম গ্র্যান্ড স্লামে এসে শিরোপার দেখা পেলেন ভাভরিঙ্কা। ক্যারিয়ারে প্রথম শিরোপা জিততে শুধু গোরান ইভানিসেভিচকে খেলতে হয়েছে এর চেয়ে বেশি গ্র্যান্ড স্লাম (৪৮টি)।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে মামলা

রাজধানীতে অবস্থিত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে থানায় মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে অভিযুক্ত দুজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে থানা কর্তৃপক্ষ বলছে একজনের নামে মামলা হয়েছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দাবি করেছে দুজনের নামেই মামলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে তেজগাঁও কলেজ কেন্দ্রে মুঠোফোনে উত্তরপত্র জালিয়াতির দায়ে মারুফ বিল্লাহ ও নাদিয়া আরেফিন নামে দুই পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়। এঁদের মধ্যে মারুফের নামে ওই দিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার নথিতে দেখা যায়, মুঠোফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে (০১৬৮৮৪২৫১৯২ থেকে ০১৭৪২৯৪৬৬৮৫) উত্তরপত্র আসার প্রমাণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কখন খুদে বার্তাটি এসেছে, তা উল্লেখ করা হয়নি।
অপর অভিযুক্ত পরীক্ষার্থী নাদিয়া আরেফিনের নামে মিরপুর থানায় মামলা দায়ের করার কথা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সাংবাদিকদের কাছে দাবি করলেও ওই থানায় যোগাযোগ করলে পরিদর্শক মইনুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ নামে কোনো মামলা হয়নি।
এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করলেও এ ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, কর্তৃপক্ষ বিষয়টি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আনোয়ারুল ইসলাম গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, থানায় মামলা করা হয়েছে, তাই তদন্ত কমিটির প্রয়োজন নেই।

 

জিএসপি স্থগিতাদেশ দ্রুত প্রত্যাহার হবে

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা (জিএসপি) এখন স্থগিত হয়ে আছে।
তবে শিগগিরই এ স্থগিত আদেশ প্রত্যাহার হয়ে যাবে বলে আশা করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘যেসব কারণে যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি স্থগিত করেছে, তার বেশির ভাগই সমাধান করা হয়েছে।’ তাই এপ্রিল মাসের মধ্যেই এ স্থগিত আদেশ প্রত্যাহার হয়ে যাবে বলে আশা করছেন তিনি। একই সঙ্গে আরও বেশি ক্ষেত্রে জিএসপি সুবিধাপ্রাপ্তির প্রচেষ্টাও চলছে বলে জানান।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) নতুন পরিচালনা পর্ষদ গতকাল রোববার বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দপ্তরে সাক্ষাৎ করতে এলে তাঁদের জিএসপি নিয়ে আশাবাদের কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, আগামী দিনে বিশ্বের যে পাঁচটি দেশের অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা আছে বাংলাদেশ তার একটি। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে। এ জন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পরামর্শ করে কর্মপদ্ধতি ঠিক করতে হবে।
বৈঠকে ঢাকা চেম্বার ব্যবসায় আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নসহ ১১ দফা সুপারিশ তুলে ধরে।
সংগঠনের সভাপতি শাহজাহান খান বলেন, কয়েক মাসের রাজনৈতিক আন্দোলন ও সহিংসতায় দেশে যে নেতিবাচক ভাবমূর্তির সৃষ্টি হয়েছে এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থাহীনতা দেখা দিয়েছে, তা ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা একান্ত প্রয়োজন।
বৈঠকে বাণিজ্যসচিব মাহবুব আহমেদ, ঢাকা চেম্বারের দুই সহসভাপতি ওসামা তাসীর, খন্দকার শহীদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী পরে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জন ডানিলোয়িজের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এ ছাড়া হস্তশিল্প প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বাংলাক্রাফ্ট) এবং বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

সুড়ঙ্গ খুঁড়ে ব্যাংকে ঢুকে সাড়ে ১৬ কোটি টাকা চুরি

কিশোরগঞ্জে সোনালী ব্যাংকের জেলা প্রধান শাখায় দুঃসাহসিক চুরি হয়েছে। দীর্ঘ সুড়ঙ্গ খুঁড়ে চোরের দল ব্যাংকের ভল্টে ঢুকে ১৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা চুরি করেছে। ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গতকাল রোববার ব্যাংকে গিয়ে চুরির বিষয়টি বুঝতে পারেন।
শাখাটির নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক পুলিশি পাহারার মধ্যেই এই চুরি হলো। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পুলিশের আট সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
পুলিশ ও ব্যাংক সূত্র জানায়, শহরের রথখোলায় সোনালী ব্যাংকের জেলা প্রধান শাখা অবস্থিত। সেখানে ট্রেজারি চালানসহ অন্য শাখাগুলোর টাকাও জমা রাখা হয়। গতকাল বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ ক্যাশ কর্মকর্তা মোহসিনুল হক ভল্টে ঢুকে মেঝেতে সুড়ঙ্গ দেখেন। তাৎক্ষণিক তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানালে তাঁরা পুলিশকে জানান। পুলিশ এসে ব্যাংকের পাশে মৃত আমিনুল হকের বাড়ির একজন ভাড়াটের কক্ষে সুড়ঙ্গের অন্য প্রান্তের সন্ধান পায়। পরে গণনা করে ১৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা খোয়া যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবীর ভূঁঞা।
মৃত আমিনুলের বাড়ির একটি কক্ষে দুই মেয়ে নিয়ে ভাড়া থাকেন মার্জিয়া আক্তার। সোহেল মিয়া পরিচয়ে অন্য এক ব্যক্তি পাশের কক্ষে থাকতেন। তাঁর কক্ষ থেকেই সুড়ঙ্গপথটি তৈরি করা হয়। এ কক্ষ থেকে প্রায় ১০০ ফুট দূরে ব্যাংকের ভল্টে ঢুকে টাকা লুট করা হয়। সোহেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মার্জিয়া বলেন, ঘটনার ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। তাঁর স্বামী সৌদি-প্রবাসী। পাশের কক্ষের ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর কখনো কথাবার্তা হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈশা খাঁ সড়কে ব্যাংকের এই শাখায় প্রবেশপথের ডানে একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ও শোরুম রয়েছে। বাঁয়ে ব্যাংকসংলগ্ন একটি গলি। গলির পথটি প্রায় ১০ ফুট চওড়া। ব্যাংকের পেছনে বাড়ি ও সামনে সড়ক। গলির কয়েক গজ দূরে বাঁ পাশে প্রয়াত আমিনুল হকের আধাপাকা বাড়ি।
পুলিশ বলছে, প্রায় ১০০ ফুট সুড়ঙ্গ তৈরি করতে অন্তত এক সপ্তাহ লেগেছে। গত শুক্রবার কিংবা শনিবার রাতের কোনো এক সময়ে চুরি করে সুড়ঙ্গ দিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো. শাহানশাহ জানান, ব্যাংকের ভল্টে একাধিক সিন্দুক ও আলমারি রয়েছে। ভল্টে ২৫ কোটি টাকার বেশি গচ্ছিত না রাখার নিয়ম থাকলেও এই শাখার ভল্টে অনেক বেশি টাকা রাখা হয়। সিন্দুক ও আলমারির বাইরে আরও টাকা রাখা ছিল। বাইরের সব টাকাই লুট হয়েছে। সুড়ঙ্গপথে বিদ্যুৎব্যবস্থাসহ কাঠ দিয়ে পিলার তৈরি করা ছিল।
পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান জানান, ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবাই তাঁদের নজরে রয়েছেন।
ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক শেখ মো. আমানুল্লাহ জানান, চুরির ঘটনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করা হবে।

এবার শ্রীলঙ্কার সামনে অন্য বাংলাদেশ

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ থেকে কী চান মুশফিকুর রহিম? বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ থেকে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের চাওয়াটাই বা কী?
—জয়।
হ্যাঁ, এক কথায়ই দিয়ে দেওয়া যাচ্ছে উত্তরটা। দুই অধিনায়কের চাওয়াতে যে কোনো পার্থক্য নেই।
কিন্তু মুশফিক সিরিজ জিততে চাইছেন মানে? বাংলাদেশ দল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে নামছে নাকি! না, তা নয়। বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কাই। প্রতিপক্ষ না বলে ‘প্রবল প্রতিপক্ষ’ বলাই ভালো। তাদের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের ইতিহাস কেবলই ‘নির্যাতিত’ হওয়ার। দেশের মাটিতে পেয়েছেন বলেই মুশফিক সেই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে জয়ের হুংকার দিয়ে মাঠে নামবেন, বড় বেশি কি কানে লাগছে ব্যাপারটা?
লাগলে লাগুক। মুশফিক আর তাঁর দল এবার মাথা উঁচু করেই মাঠে নামবে। মুশফিকদের সাহস জোগাচ্ছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বিস্মরণযোগ্য ইতিহাসেরই শেষ পাতাটি। গত বছরের মার্চে দুই দলের সর্বশেষ সিরিজটি হয়েছিল শ্রীলঙ্কার মাটিতে। কলম্বোর শেষ টেস্টে হারলেও গল টেস্টে বুক চিতিয়ে ড্র করার স্মৃতি নিজেদের সেরা দিনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও এনে দিচ্ছে সেরা সাফল্য পাওয়ার আত্মবিশ্বাস। কাল সিরিজ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মুশফিক বলছিলেন, ‘আমি বরাবরই বলেছি, আমরা প্রতিটি টেস্টই জেতার জন্য খেলি। এই মানসিকতা আমাদের ভেতরে এমনি এমনি তৈরি হয়নি। আমাদের সামর্থ্য আছে বলেই এটা তৈরি হয়েছে।’
বাংলাদেশ অধিনায়কেরই যেখানে জয়ের লক্ষ্য, শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক তো আরও বেশি করে চাইবেন সেটা। কাল দুপুরে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুশীলনে নামার আগে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস সোজাসাপ্টাই বললেন, ‘আমরা সব সময়ই জয়ের জন্য খেলি এবং আমরা সেটাই চাই। ড্রয়ের জন্য আমরা খেলি না, খেলি জয়ের জন্য। ম্যাচ জিততে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
সন্দেহ নেই, বরাবরের মতো এবারও বাংলাদেশের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে বড় অস্ত্র কুমার সাঙ্গাকারা আর মাহেলা জয়াবর্ধনেই। টেস্ট ক্রিকেটে দুজনেরই ১০ হাজারের বেশি রান। বাংলাদেশের বিপক্ষে অতীতটাও একই রকম উজ্জ্বল। আরেকটা সিরিজ খেলতে নেমে এই দুই ব্যাটসম্যানকে বাংলাদেশ দলের ভয় না পাওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে মুশফিক মনে করিয়ে দিচ্ছেন, যত ভালো ব্যাটসম্যানই হোক, সাঙ্গাকারা-জয়াবর্ধনেও রক্ত-মাংসেরই মানুষ। তাঁদের আউট করতেও দুটি বলই যথেষ্ট, ‘১০ হাজার রান করা সহজ কথা নয়। তাই বলে এমনও নয় যে, ওরা কখনো ব্যর্থ হয়নি। তাদের নিয়ে কিছু পরিকল্পনা আছে আমাদের।’
মিরপুরে আজ থেকে শুরু প্রথম টেস্টে তো বটেই, মুশফিকদের পরিকল্পনা কাজে লাগা না-লাগার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে এই সিরিজের। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যতেরও কি নয়? দুই টেস্টের সিরিজে শ্রীলঙ্কা দলকে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দিয়ে ‘বিগ থ্রি’র দ্বিস্তরবিশিষ্ট টেস্টের প্রস্তাবটাকেও একটা জবাব দিতে পারে বাংলাদেশ দল। তাতে বাংলাদেশ শিবিরে বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে অবচেতনে বেজে চলা অনিশ্চিত আবহ সংগীতের তীব্রতা কিছুটা হলেও কমে আসবে। মুশফিক অবশ্য বলেই দিয়েছেন, মাঠের বাইরের রাজনীতি-কূটনীতির সঙ্গে তিনি মেলাতে রাজি নন মাঠের খেলাকে। ‘বিগ থ্রি’র চক্রান্তও আপাতত ঝেড়ে ফেলতে চান মাথা থেকে। ভাবনায় এখন শুধুই শ্রীলঙ্কা সিরিজ।
সেই ভাবনার সবটুকুই অবশ্য সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার মতো নয়। সংবাদ সম্মেলনে দল নিয়ে প্রশ্ন হওয়াতে যেমন দারুণ এক রসিকতায় বল ছেড়ে দিলেন মুশফিক, ‘দলে যে ১৪ জন দেখেছেন, সবাই খেলার জন্য প্রস্তুত। সত্যি বলতে কি, এঁদের মাঝ থেকেই ১১ জন খেলবে। তিন পেসার খেলতে পারে। শুভ (শামসুর), ইমরুল দুজনই খেলতে পারে। আবার না-ও পারে (হাসি…)।’ মুশফিক সরাসরি না বললেও টিম হোটেলে ভাসা গুঞ্জন বলছে, প্রথম টেস্টে তিন পেসার নিয়ে খেলার সম্ভাবনাই বেশি। সে ক্ষেত্রে একাদশের বাইরে থাকবেন মাহমুদউল্লাহ, রাজ্জাক ও ইমরুল। আর দুই পেসার নিয়ে খেললে আল-আমিনকে বাইরে রেখে দলে ঢুকবেন রাজ্জাক।

নির্বাচনোত্তর সহিংসতা ৩১৫ মামলায় ৬৩ হাজার আসামি

৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের আগের রাত থেকে দেশজুড়ে সহিংসতায় ৩১৫টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় নামে-বেনামে আসামি করা হয়েছে ৬৩ হাজারের বেশি লোককে। এই আসামিদের ধরতে চলছে যৌথ বাহিনীর অভিযান।
এই অভিযানে পুলিশের হিসাব অনুসারে চলতি মাসের ১০ দিনেই গ্রেপ্তার হয়েছে ২২ হাজারের বেশি লোক। তবে পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, ২২ হাজারের মধ্যে নিয়মিত আসামিও রয়েছে।
এদিকে যৌথ বাহিনীর অভিযানকে কেন্দ্র করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনের পর থেকে এ পর্যন্ত কথিত বন্দুকযুদ্ধে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। গত শনিবার রাতে সাতক্ষীরা ও ঝিনাইদহে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত তিনজনই জামায়াত-শিবিরের কর্মী।
সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, ১৩ জনের মধ্যে নয়জন যৌথ বাহিনীর অভিযানের সময় কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা যান। আর চারজনের লাশ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে ১৮৭ নেতা-কর্মীকে গুম করার অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও এর কোনো পূর্ণাঙ্গ ও সুনির্দিষ্ট তালিকা বিএনপি দিতে পারেনি।
পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচন বানচাল করতে তফসিল ঘোষণার (২৫ নভেম্বর) দিন থেকেই দেশব্যাপী সহিংস তৎপরতা শুরু করেন বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা। আগুন ও ভাঙচুর করা হয় পাঁচ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। হামলা করা হয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। ভোটের পরে যশোর, সাতক্ষীরা, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুরসহ কয়েক জায়গায় হিন্দু বসতিতে হামলা চালানো হয়। এরপর সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে দেশব্যাপী অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তফসিল ঘোষণা থেকে ভোট গ্রহণের আগের দিন পর্যন্ত সহিংস ঘটনায় কত মামলা হয়েছে, আসামির সংখ্যা কত—সে সম্পর্কে সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে, অর্থাৎ তফসিল ঘোষণা থেকে নির্বাচনের পরদিন পর্যন্ত সারা দেশে নিহত হয়েছেন ১৪৬ জন। এর মধ্যে নির্বাচনের দিন ও পরদিন মারা গেছেন ২৪ জন। জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এত বিপুল প্রাণহানির ঘটনা দেশে আর কখনো ঘটেনি।
এখন আসামি গ্রেপ্তারের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। আছে গ্রেপ্তার-বাণিজ্যের অভিযোগও। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গতকাল প্রথম আলোকে বলেছেন, এভাবে সন্দেহভাজন আসামি গ্রেপ্তার স্রেফ ব্যবসার জন্য এবং লোক দেখানো।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার। প্রথম আলোকে তিনি বলেছেন, সুশৃঙ্খল বাহিনীর কার্যকলাপ নিয়ে এ রকম ঢালাও অভিযোগ করা সমীচীন নয়। পুলিশ কাজ করে আইনের আওতায়। কোথাও যদি তার ব্যত্যয় ঘটে, সে ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুসারে, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় দেশের ১৪টি স্থানে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় ১৮টি মামলা হয়েছে। ২৫ জেলায় মোট ৩১৫টি মামলার মধ্যে সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে যশোরে, ৬৩টি। গাইবান্ধায় ৫৩, দিনাজপুরে ৪৬, লক্ষ্মীপুরে ৩১ ও ঠাকুরগাঁওয়ে ২০টি মামলা হয়েছে। বেশির ভাগ মামলায় আসামি ‘অজ্ঞাত’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাবে নির্বাচনের পর ১৭ জানুয়ারি থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ১০ দিনেই গ্রেপ্তার হয়েছে ২২ হাজার ৪৮৯ জন। তবে এসব আসামির মধ্যে পুলিশের নিয়মিত গ্রেপ্তারের আসামিও রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে বিভিন্ন স্থানে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনা ‘ক্রসফায়ার’ নয় দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। গত রাতে বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘এগুলো ক্রসফায়ার নয়। অপারেশনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর আক্রমণ চালালে তারাও আত্মরক্ষার জন্য পাল্টা আক্রমণ চালায়। তখনই এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। সরকারবিরোধীদের ধরে নিয়ে হত্যা করার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ধরে নিয়ে হত্যা করার অভিযোগ সঠিক নয়।
নির্বাচনকেন্দ্রিক অস্থিরতার পাশাপাশি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের রায়কে কেন্দ্র করে সহিংসতায় ২০১৩ সালে ৫০৭ জন মারা যান। আহত হয়েছেন ২২ হাজার ৪০৭ জন। এর আগে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির একতরফা নির্বাচন-পূর্ব সহিংসতায় ৪১ জন মারা যান।

সা ভা রে রা না প্লা জা ধ স এখনো কেউ পাশে নেই

রানা প্লাজা ধসের পাঁচ দিন পর জীবিত উদ্ধার হন সুনীতা। হাসপাতালে পাঁচ দিন পর জ্ঞান ফিরেছিল তাঁর। অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় কাজও করতে পারছেন না।
সরকারের কাছ থেকে কোনো টাকাই পাননি সুনীতা। বিকাশের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা আর হাসপাতালে থাকাকালীন ২৭ হাজার টাকা পান তিনি। এর মধ্যে বিকাশের মাধ্যমে পান ক্রেতা প্রতিষ্ঠান প্রাইমার্কের দেওয়া অর্থ।
সুনীতা নিজের অসহায়ত্বের কথা বলেন এভাবে, ‘আমার ডান হাতের হাড় ভাঙা। তাতে রড ঢোকানো। মাথা ফেটে গিয়েছিল। পায়ে মেশিন পড়েছিল। সেই ব্যথা এখনো সারে নাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্বামী দিনমজুরি করে। আমি কাজ করতে পারি না। অনেক কষ্টে সংসার চলে।’
ব্র্যাক সেন্টারে গতকাল রোববার ‘রানা প্লাজা দুর্ঘটনা ও পরবর্তী পদক্ষেপসমূহ: প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের সর্বশেষ পরিস্থিতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসেছিলেন সুনীতা। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এই সভার আয়োজন করে।
আরও এসেছিলেন মুকুল বেগম। রানা প্লাজা ধসে নিউ ওয়েভ বটমের শ্রমিক মোজ্জামেল হোসেন মারা যান। তাঁরই স্ত্রী মুকুল বেগম এক মেয়ে নিয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছেন। তিনি বললেন, ‘২৪ তারিখ সকালে ভাত খাইয়া সেই যে গেল আমার স্বামী। আর ফিরে আইল না…।’
বলতে বলতে ঝরঝরিয়ে কেঁদে ফেলেন মুকুল বেগম। কাঁদতে কাঁদতে বলেন, সেদিন থেকে আমার ঘরে কোনো আলো জ্বলে না। আমার একটি মেয়ে আছে। স্বামীর স্বপ্ন ছিল মেয়েকে শিক্ষিত বানাবে। কিন্তু আমি এখন তাকে কীভাবে পড়াশোনা করাব। দিন যায় পাহাড়ের মতো।’
মুকুল বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী বেতন পেলেই মেয়ের জন্য ফলমূল নিয়ে আসতেন। কিন্তু এখন একটি কলাও কিনে দিতে পারি না মেয়েকে।’ মুকুল বেগমও দাফনের জন্য ২০ হাজার টাকা আর বিকাশের মাধ্যমে নির্ধারিত অর্থ ছাড়া কিছুই পাননি।
মুকুল বেগমের কান্না ছুঁয়ে যায় সবাইকে। শ্রমসচিব মিকাইল শিপার মুকুলের নাম টুকে নেন, আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে উপস্থিত সাংসদ ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি টিপু মুন্সী মুকুল বেগমের মেয়েকে পড়াশোনা বাবদ প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
হবিগঞ্জ থেকে এসেছিলেন রথীন্দ্রনাথ দাশ। তাঁর মেয়ে নির্মলা রানী দাশ এখনো নিখোঁজ। কাজ করতেন রানা প্লাজার নিউ ওয়েব বটম কারখানায়। দুর্ঘটনার পর লাশ পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত কোনো আর্থিক সহায়তাও পায়নি এই হতভাগা শ্রমিকের পরিবারটি।
রথীন্দ্রনাথ দাশনির্মলার বাবা রথীন্দ্রনাথ বলেন, ‘মেয়ের মজুরি দিয়েই সংসার চলত। আমার বয়স হয়ে গেছে। কাজ করতে পারি না। খুব কষ্টে সংসার চলছে।’ তিনি জানান, শুধু বিকাশের মাধ্যমে টাকা পেয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে কিছু পাননি। যদিও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছিলেন।
মরিয়ম বেগম ডান হাত হারান। দীর্ঘ চিকিৎসা করেও পুরোপুরি সুস্থ হননি। কৃত্রিম হাত লাগিয়েও ঘরের কাজ পর্যন্ত করতে পারেন না।
মরিয়ম বেগম বলেন, ‘আমি এখন কিছুই করতে পারি না। বাম না, ডান হাতটা থাকলে তো কিছু করতে পারতাম। কৃত্রিম হাত দিয়েছে। কিন্তু এত ভারী যে, পরলেই যন্ত্রণা হয়। তাই খুলে রাখি। আমার কাছে এটার কোনো মূল্য নাই। তিনি বলেন, ‘এমনিতে হয়তো দুই দিন বাঁচতাম। কিন্তু কৃত্রিম হাতটি পরলে মনে হয়, সেটিও আর পারব না।’ কৃত্রিম হাত নিয়ে সমস্যায় থাকা এই মরিয়ম অবশ্য সরকারের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা পেয়েছেন। মানুষের কাছ থেকেও পেয়েছেন কিছু সহায়তা।
এই মরিয়মের ডান হাত কেটে উদ্ধার করেছিলেন উদ্ধারকর্মী খোঁয়াজ আলী। বাড়ি মানিকগঞ্জ। কাজের জন্য অনেক দিন ধরেই সাভার থাকেন। বললেন, ‘২৪ এপ্রিল ঘটনার ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই আমি ঘটনাস্থলে যাই। উদ্ধারকাজ শুরু করি।’
খোঁয়াজ আলী বলেন, ‘উদ্ধারকর্মী অনেকেই এখন পর্যন্ত অসুস্থ। আমি নিজেও অসুস্থ। এখনো স্বাভাবিক জীবনে আসতে পারি নাই। ৮৫ শতাংশ উদ্ধারকর্মী শ্রমিক হওয়ায় অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না।’ তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত কারও কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পাননি উদ্ধারকর্মীরা। শুরুতে কিছু খরচ পেলেও বর্তমানে চিকিৎসার জন্য কেউ এগিয়ে আসছেন না।
মুকুল বেগমঅনুষ্ঠানে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করে সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম জানান, নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবারই সবচেয়ে খারাপ অবস্থার মধ্যে আছে। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় তাঁরা কোনো আর্থিক সহায়তা পাননি। অন্যদিকে আহত শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা যায়নি। দুই হাজার ৪৩৮ জন আহত শ্রমিকের মধ্যে মাত্র ৭১ জন আবার কাজে যোগ দিয়েছেন।
অথচ গত ১৪ জুলাই সংসদে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী জানিয়েছিলেন, রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পর্যায়ে এ পর্যন্ত প্রদান করা অর্থের পরিমাণ ১২৭ কোটি ৬৭ লাখ ৩৩ হাজার ৩৪৯ টাকা।
গতকালের অনুষ্ঠানে সিপিডি জানায়, এখন পর্যন্ত ১৮ কোটি ৮৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ করা হয়েছে। ৭৭৭ জন নিহত শ্রমিকের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে এককালীন এক লাখ করে টাকা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৪০ জন আহত শ্রমিককে ১০ থেকে ১৫ লাখ করে টাকা দেওয়া হয়। তবে এখনো অনেক শ্রমিক সহায়তার বাইরেই রয়ে গেছেন।
শ্রমসচিব মিকাইল শিপার বলেন, ডিএনএ পরীক্ষায় ১৫৭ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এখন তাদের একাধিক উত্তরাধিকার থাকায় কিছুটা সমস্যা আছে। তবে ১৩৬-১৩৮ জনকে শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রধানমন্ত্রীর তহবিলের অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করার দাবি জানান। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য শাহীন আনাম বলেন, ‘ক্ষতিপূরণসহ সব কাজে স্বচ্ছতা আনতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর তহবিলের টাকা কোথায় কীভাবে আছে সেটি আমরা জানি না। কিন্তু এই সরকার তথ্য অধিকার আইন পাস করেছে। তাই সরকারকে স্বপ্রণোদিত হয়ে এই তহবিলের তথ্য প্রকাশ করবে বলে আমরা আশা করি।’
প্রধানমন্ত্রীর তহবিলের অর্থ ব্যয়ের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করার আরও দাবি করেন সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, বিলসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাফরুল হাসান, উন্নয়নকর্মী মরিয়ম বেগম ও স্থপতি ইকবাল হাবিব।
ইকবাল হাবিব বলেন, ওয়েব বেইজ পোর্টাল করে সবকিছু প্রকাশ করা দরকার। এখানে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের তালিকার পাশাপাশি কে কত আর্থিক সহায়তা পেলেন তার সবই থাকবে। অন্য সব কর্মকাণ্ডের তথ্যও রাখতে হবে। এটি হলে কারও মধ্যে বিভ্রান্তি থাকবে না

গোপন কোড ভাঙতে আসছে এনএসএর নতুন কম্পিউটার

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) এমন একটি কম্পিউটার তৈরির চেষ্টা করছে, যা অন্য যেকোনো দেশের গোয়েন্দা কার্যক্রম বা ব্যাংক হিসাবের মতো গোপন নিরাপত্তা কোড ভাঙতে পারবে।
প্রভাবশালী মার্কিন পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট এ কথা জানিয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, এনএসএর সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেনের ফাঁস করা নথি থেকে তারা এ তথ্য পেয়েছে।
এনএসএর গোয়েন্দা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সাধারণ নাগরিকদের ফোনে আড়ি
পাতা বা ইন্টারনেটে নজরদারি নিয়ে চরম বিতর্কের মধ্যে নতুন এ খবর জানাল পত্রিকাটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গোপন নিরাপত্তা কোড ভেঙে স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই কোয়ান্টাম নামের ওই কম্পিউটার তৈরির চেষ্টা করে যাচ্ছে এনএসএ।
তবে এটি তৈরিতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।
প্রায় আট কোটি ডলার ব্যয়ে ‘পেনিট্রেটিং হার্ড টার্গেটস’ (দুর্ভেদ্য লক্ষ্য ভেদ করা) নামের একটি গবেষণা প্রকল্পের অধীনে এ কাজ করা হচ্ছে।
বিভিন্ন বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানও কোয়ান্টাম কম্পিউটার
তৈরির চেষ্টা করছে। তবে এনএসএর প্রকল্প ও বেসরকারি উদ্যোগের মধ্যে কারা এগিয়ে বা পিছিয়ে, সে বিষয়টি পরিষ্কার নয়।
এনএসএর সাবেক কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেন গত বছর সংস্থাটির বহু গোপন নথি ফাঁস করে হইচই ফেলে দেন।
দেশত্যাগের পর চীনের হংকং হয়ে এখন তিনি অস্থায়ী আশ্রয় পেয়ে রাশিয়ায় আছেন।
স্নোডেনের বিরুদ্ধেগুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া সামনে আরও অনেক অভিযোগ তোলা হতে পারে।
 স্নোডেনের ওই নথি ফাঁসের পর সন্ত্রাসবাদের কবল থেকে মার্কিন নাগরিকদের রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে এনএসএকে কোন পর্যায় পর্যন্ত গোয়েন্দাগিরি করতে দেওয়া উচিত, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু
হয়েছে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই। অনেকে এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপও দাবি করেছেন।

ফেসবুকের বিরুদ্ধে মামলা

ব্যবহারকারীর তথ্য  বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বিক্রি করছে ফেসবুক’ এমন অভিযোগে ফেসবুকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আরকানাসের ম্যাথিউ ক্যাম্পবেল ও ওরেগনের মাইকেল হার্লি।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ব্যবহারীদের মধ্যে আদান-প্রদান করা ওয়েবসাইট লিঙ্ক বা বার্তা পর্যবেক্ষণ করে সেগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী সংস্থা বা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বিক্রি করছে।
তাদের দাবি, ফেসবুক ইলেক্ট্রনিক কমিউনিকেশন অ্যাক্ট ও ক্যালিফোর্নিয়া গোপনীয়তা ও অন্যায় প্রতিযোগিতা আইনের লঙ্ঘন করেছে।
নিয়ম লঙ্ঘন করায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে তারা যতদিন ফেসবুক ব্যবহার করেছেন প্রত্যেক দিনের জন্য তারা ১০০ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন।
এ শর্তের বিকল্প হিসেবে তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের যাদের তথ্য চুরি করা হয়েছে তাদের প্রত্যেকে ১০ হাজার মার্কিন ডলার দিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটলে তারা সারা বিশ্বের ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ঘটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। ফেসবুকের এক মুখপাত্র বলেছেন, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। আমরা শক্তভাবে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করব।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে সম্মতি না নিয়ে ব্যবহারকারীর তথ্য ব্যবহার করায় ফেসবুককে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছিল। অভিযোগকারী ব্যবহারীদের প্রত্যেকে ২০ মার্কিন ডলার করে পেয়েছিলেন

সাইবার অপরাধীদের পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেফতার করা যাবে

সাইবার ক্রাইম এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন বিষয়ে কর্মশালার উদ্বোধন করলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার বেনজীর আহমেদ। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে এ কর্মশালার উদ্বোধন করেন তিনি।
ফেইসবুকে বাঁশের কেল্লা, নিউ বাঁশের কেল্লা পেইজ এর মতো সাইবার সন্ত্রাস প্রতিহত করতেও সবার প্রতি আহ্বান জানান ডিএমপি কমিশনার। তথ্য প্রযুক্তি আইনের আওতায় সাইবার অপরাধীকে পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেফতার করা যাবে বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, এটি জামিন অযোগ্য অপরাধ এবং সর্বনিম্ন ৭ থেকে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদন্ডের বিধান রয়েছে।

এনএসআইয়ের ডিএডি পদে ছাত্রলীগের ৩৭ জন

এনএসআইয়ের ডিএডি পদে ছাত্রলীগের ৩৭ জনআহমেদ জায়িফ | তারিখ: ০২-০২-২০১২

আগের সংবাদ জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) পদে ১৪২ জনের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এঁদের মধ্যে ৩৭ জনই ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক কমিটির নেতা-কর্মী।
গত ২৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এনএসআইয়ের ডিএডি পদে ১৪২ জনের নিয়োগপত্র ছাড়া হয়। তাতে ৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চাকরিতে যোগ দিতে বলা হয়।
নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের অনেকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান কমিটির নেতা-কর্মী। এঁদের নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার চেয়ে দলীয় বিবেচনাই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রথম আলোর অনুসন্ধানে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৭ জনের ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। এঁদের ১৩ জনই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা। তাঁরা বর্তমান কমিটির বিভিন্ন পদে রয়েছেন। বাকিদের মধ্যে ৩ জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল শাখার নেতা, একজন ইডেন কলেজ শাখার বর্তমান সাধারণ সম্পাদক, ১৪ জন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল শাখার সাবেক নেতা। বাকি ছয়জন ছাত্রলীগের ‘সক্রিয় কর্মী’।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এনএসআইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থাটির উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) পদে নিয়োগের জন্য ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে একটি তালিকাও পাঠানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এনএসআইয়ের ডিএডি পদে নিয়োগ পরীক্ষা হয় গত ২১ অক্টোবর। মিরপুর কমার্স কলেজে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় প্রায় তিন হাজার জন অংশ নেন। ২০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হয়।
পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছাত্রলীগের একাধিক নেতা-কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রবেশপত্র পাঠানো নিশ্চিত করতে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ১৪৫ জন নেতা-কর্মীর একটি তালিকা পাঠানো হয়। কিন্তু তালিকার অনেকেই প্রথম প্রবেশপত্র পাননি। এরপর ছাত্রলীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তদবির করে বাকিদের প্রবেশপত্র পাওয়ার ব্যবস্থা করে।
তবে এই সহযোগিতা করার কথা অস্বীকার করেছেন বর্তমান সভাপতি বদিউজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম। বদিউজ্জামান বলেন, ‘ছাত্রলীগের ৮-১০ জন নেতা-কর্মীর চাকরি হয়েছে বলে শুনেছি। মেধার ভিত্তিতেই তাঁরা নিয়োগ পেয়েছেন বলে জানি।’ আর সিদ্দিকী নাজমুল আলম বলেন, গোয়েন্দা সংস্থায় নিয়োগের সঙ্গে ছাত্রলীগের কোনো যোগাযোগ নেই।
নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী কয়েকজন প্রথম আলোকে বলেন, লিখিত পরীক্ষার পর উত্তীর্ণদের কোনো তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। তবে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে সংশ্লিষ্টদের সবার ঠিকানায় চিঠি পাঠানো হয়। গত ২৩ ডিসেম্বর মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগে ১৯ নভেম্বর ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার (সদ্য বিলুপ্ত কমিটি) সভাপতি শেখ সোহেল রানা ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ সাকিবের সই করা ৫২ জন নেতা-কর্মীর নামের একটি তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
জানতে চাইলে শেখ সোহেল রানা এ রকম তালিকা পাঠানোর কথা প্রথম আলোর কাছে অস্বীকার করেন। তবে সাজ্জাদ সাকিব এ রকম তালিকা পাঠানোর কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় নিজেদের নেতা-কর্মীদের জন্য কাজ করি। তাঁদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করি। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করেছেন, কিন্তু পদবি পাননি এবং যাঁদের পারিবারিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের নিয়ে তালিকাটি করা হয়েছিল।’
পরে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নামের তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়, ছাত্রলীগের প্যাডে পাঠানো তালিকা থেকে ২৪ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন। তাঁরা হলেন: ছাত্রলীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি সাজ্জাদ ইবনে রায়হান, মো. ফয়েজ উদ্দিন, মো. ওয়াসিম উদ্দিন, মো. মেজবাহ উদ্দিন ও মো. আজিজুল হক, যুগ্ম সম্পাদক এ জি এম সাদিদ জাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাজমুল হক, উপ-মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা সম্পাদক রাজীব কুমার দাস, উপ-প্রচার সম্পাদক মো. বাহারুল হুসাইন, ফজলুল হক মুসলিম হলের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, একই হলের সাংগঠনিক সম্পাদক তারিক হাসান, শহীদুল্লাহ হলের সহসভাপতি মো. ফরহাদ হোসেন, ‘সক্রিয় কর্মী’ সুমন বিশ্বাস, বিপুল চন্দ্র দাস ও আবদুল্লাহ আল মামুন, কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া কবীর, সাবেক সহসম্পাদক জিয়াউল হক, সাবেক উপ-কর্মসূচি প্রণয়ন ও পরিকল্পনা সম্পাদক দেওয়ান মনোয়ার হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সহসভাপতি পলাশ গোমস্তা, সাবেক প্রচার সম্পাদক আমজাদ হোসেন, সাবেক শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক মিয়া মাহমুদ হাসান, সাবেক সহসম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাবেক পরিবেশ সম্পাদক এফ এম ফয়সাল প্রমুখ।
ছাত্রলীগের পাঠানো ওই তালিকার বাইরে ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান কমিটিতে থাকা আরও ১৩ জন নিয়োগ পেয়েছেন। তাঁরা হলেন: বর্তমান কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সাইদ মাহমুদ, মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা সম্পাদক মো. আল-আমিন, তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মারুফ, উপ-প্রচার সম্পাদক দেবব্রত দাশ, ইডেন কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ফারজানা ইয়াসমিন, কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উপক্রীড়া সম্পাদক আজমুল হোসেন, সাবেক সহসম্পাদক আনোয়ার হোসেন মনির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক পরিকল্পনা সম্পাদক রেজাউল করিম, জিয়া হলের সাবেক সহসভাপতি মো. আহসান খান, ফজলুল হক হলের সাবেক সহসভাপতি সাইফ আহমেদ শাকিল, কেন্দ্রীয় সহসম্পাদক সাবেক এস কে সাইলক হোসেন, বঙ্গবন্ধু হল শাখার কর্মী শরীফুল আলম তানভীর ও জসীমউদ্দীন হল শাখার কর্মী মোহাম্মদ মেরাজুল ইসলাম।
জানতে চাইলে নিয়োগপ্রাপ্ত ছাত্রলীগের নেতা দেওয়ান মনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘তালিকা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে আমার নাম সেখানে আছে কি না, জানি না।’
নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় প্রাধান্য পাওয়ার কথাও অস্বীকার করে দেওয়ান মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘শুনেছি, পরীক্ষায় পাসের নম্বর প্রথমে ৮০ ধরা হয়েছিল। এরপর পাস নম্বর চার কমানো হয়েছে।’

টেস্টই খেলতে পারবে না বাংলাদেশ!

আইসিসির পূর্ণ সদস্য পদ থাকবে। থাকবে টেস্ট মর্যাদাও। তবু টেস্ট ক্রিকেট খেলতে পারবে না বাংলাদেশ! ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বোর্ড প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো সত্যিই বাস্তবায়িত হলে অভূতপূর্ব এই ঘটনা দেখবে ক্রিকেট বিশ্ব। টেস্ট ক্রিকেটের আঙিনায় বাংলাদেশের বিচরণ থমকে যেতে পারে এ বছরই। আগামী বছর থেকে আবার কবে টেস্ট খেলতে পারবেন মুশফিক-সাকিবরা, কিংবা আদৌ আর খেলতে পারবেন কি না, অনিশ্চিত সবই। একই ভাগ্য মেনে নিতে হবে জিম্বাবুয়েকেও।
‘তিন জমিদারের’ বিশ্ব ক্রিকেট শাসন করার প্রস্তাব ফাঁস হওয়ার পর থেকেই তোলপাড় চলছে ক্রিকেট বিশ্বে। তিন জমিদার ছাড়া নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ‘প্রজাদের’ বাকি সবাই। যদিও খবরটি ফাঁস করা ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো কিংবা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় বাংলাদেশ খুব একটা গুরুত্ব পায়নি। তবে প্রস্তাবিত খসড়ায় যা দেখা যাচ্ছে, তাতে সবচেয়ে করুণ পরিণতি অপেক্ষা করছে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের ভাগ্যেই।
প্রস্তাবিত ২১ পাতার খসড়ায় অনুচ্ছেদ আছে ছয়টি। ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ৩ নম্বর পয়েন্টের শিরোনাম—‘আইসিসি র‌্যাঙ্কিং সিস্টেম’।
এখানেই বলা হয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সময়কালে টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের ৯ ও ১০ নম্বর দলকে খেলতে হবে আইসিসি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে। আইসিসির শীর্ষ সহযোগী দেশগুলোর অংশগ্রহণে প্রথম শ্রেণীর ম্যাচের টুর্নামেন্ট এই ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ। বর্তমান টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে ৩৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ৯ নম্বরে আছে জিম্বাবুয়ে, ১৮ পয়েন্ট নিয়ে দশে বাংলাদেশ। র‌্যাঙ্কিংয়ের আটে থাকা নিউজিল্যান্ডের পয়েন্ট ৮২, সাতে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৮৭।
বছর শেষেও যে জিম্বাবুয়ে ও বাংলাদেশ নয় ও দশ নম্বরে থাকবে, সেটি নিশ্চিতই। টেস্ট ক্রিকেটের বদলে এই দুই দেশকেই তাই চার দিনের ম্যাচ খেলতে হবে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে। সর্বশেষ (২০১৩) এই টুর্নামেন্টে খেলেছে আয়ারল্যান্ড, আফগানিস্তান, স্কটল্যান্ড, আরব আমিরাত, নামিবিয়া, কানাডা, কেনিয়া ও নেদারল্যান্ডস। সহযোগী এই আট দেশের সঙ্গে এখন শিরোপা যুদ্ধে নামতে হবে পূর্ণ সদস্য দুটি দেশকে!
ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে শিরোপাজয়ী দল এরপর চ্যালেঞ্জ টেস্ট সিরিজ খেলার সুযোগ পাবে ওই সময় টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের আটে থাকা দলের বিপক্ষে। দুটি করে টেস্ট ম্যাচের দুটি সিরিজ হবে ‘হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে’ পদ্ধতিতে। এই চ্যালেঞ্জ সিরিজে জয়ী দেশ অষ্টম দল হিসেবে খেলার সুযোগ পাবে টেস্ট ক্রিকেট। হেরে যাওয়া দলকে খেলতে হবে পরবর্তী ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে। ২০১৫ থেকে ২০২৩, এই আট বছর সময়কালে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ হবে দুটি। নতুন নিয়মের প্রথম ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের শিরোপা নির্ধারিত হবে ২০১৯ সালে। এ বছরের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর ২০১৯ সাল পর্যন্ত অন্তত আর টেস্ট খেলতে পারবে না বাংলাদেশ।
২০১৯ সালে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে বাংলাদেশ যদি চ্যাম্পিয়ন হয়ও, টেস্ট আঙিনায় ফেরা সীমাবদ্ধ থাকতে পারে চ্যালেঞ্জ সিরিজের ওই চার টেস্টেই। চার বছর পর টেস্টে ফিরে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে সিরিজে টেস্টের ৮ নম্বর দলকে হারানো হবে অসম্ভবের কাছাকাছি। তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়া গেল, চ্যালেঞ্জ সিরিজও জিতে টেস্ট ক্রিকেটে আবার উত্তরণ হলো বাংলাদেশের। কিন্তু তখনো কয়টি টেস্ট খেলতে পারবে, সেই সংশয় থাকবেই। এফটিপি বাতিল হয়ে গেলে টেস্ট খেলার জন্য বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হবে অন্য দেশের দয়ার ওপর। ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ খেলে উঠে আসা দেশের জন্য অন্য দেশের কাছ থেকে সেই ‘দয়া’ আদায়ও খুব একটা সহজ হবে না। টেস্টে উত্তরণ হলেও তাই টিকে থাকা হবে দুরূহ।
এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের ওপর ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে খেলার খড়্গ নেমে আসছে আগামী বছরই। তবে অদূর ভবিষ্যৎ ভাবলে শঙ্কায় থাকবে নিউজিল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দেশগুলোও। র‌্যাঙ্কিংয়ের সাত-আটে ঘোরাফেরা তো তাদেরই। ২০১৯ সালে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া দল যদি তাদের হারিয়ে দেয়, কী হবে ভাবুন! হয়তো দেখা যাবে টেস্ট খেলবে আফগানিস্তান, আর ১৯২৮ সাল থেকে টেস্ট খেলে আসা, সত্তর-আশির দশকে বিশ্ব ক্রিকেটে রাজত্ব করা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে খেলতে হবে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ! শঙ্কায় আসলে ‘তিন জমিদার’ ছাড়া বাকি সব দেশই। চার বছর পর তো টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের আটে থাকতে পারে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার মতো দলও। কিংবা কে জানে, ক্রিকেটীয় অনিশ্চয়তায় চার বছর পর আটে নেমে যেতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকাও। তৃতীয় দেশ হিসেবে টেস্ট মর্যাদা পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকাকেও তখন খেলতে হতে পারে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে!
দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা তাই এককাট্টা হচ্ছে প্রস্তাবের বিপক্ষে। বাংলাদেশ কী ভাবছে? আপাতত এটা নিয়ে কথা বলতে নারাজ বিসিবির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, ‘এটি খুবই সেনসিটিভ (স্পর্শকাতর) একটি ইস্যু। প্রস্তাবটি বিস্তারিত পড়া ও আলোচনার ব্যাপার আছে। ২৩ জানুয়ারির (আগামী কাল) বোর্ড সভায় আলোচনা হবে, এরপর হয়তো মন্তব্য করা যাবে।’

কারাগারে আটক শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফ এখন কোথায়? ​কাকে হত্যা করতে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে?

শীর্ষ সন্ত্রাসী তোফায়েল আহমদ জোসেফ এখন কারাগারে নেই। কোথায় গেছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই সন্ত্রাসী? এই প্রশ্নটি এলে তথ্যানুসন্ধানে কিছু চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সুত্র জানিয়েছে, জোসেফকে নির্বাচনের পূর্বেই কৌশলে পিজি হাসপাতালে স্তানান্তরিত করা হয়।এমনকি নির্বাচনের আগের দিন জোসেফের জন্য একটি পাসপোর্ট তৈরী করা হয়েছে। তাকে খুব সামান্য সময়ই হাসপাতালে পাওয়া যাচ্ছে। অধিকাংশ সময় কাটে তার ঢাকায় বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের হত্যা চেষ্টার আওয়ামী মিশন বাস্তবায়নের প্রচেষ্টায়। আর রাত কাটে ভাই মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদের বাসায়।

জানা গেছে, বিজিবি মহাপরিচালক মে জেনারেল আজিজ আহমদ ইতিমধ্যেই জোসেফের মৃত্যুদণ্ডের ফাইল সরকারের শীর্ষ মহলের আশীর্বাদে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের জন্য বঙ্গভবনে পাঠিয়েছেন। ঐ ফাইল এখন রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে।

এদিকে জোসেফ আওয়ামী এক ওয়ার্ড কমিশনারের মিজানের ভাইকে হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত। এখন এই জোসেফকে যদি জেলের বাইরে কেউ হত্যা করে ফেলে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বা অন্য কোন সন্ত্রাসী গ্রুপ তার দায়ভার কে নেবে? এটি যেমন সত্যি তেমনি তাকে সাধারণ ক্ষমা দিয়ে বিদেশে পাঠানোর যে আয়োজন করা হচ্ছে, সেটি কি কাউকে হত্যার উদ্দেশ্যে নাকি অন্য কোন মিশনে? আমাদের হাতে জোসেফের নতুন পাসপোর্ট কপি পৌছে যাবে যে কোন সময়।

সেনাবাহিনীর দূর্দিন আসছেঃ লে. জেনারেল মইনুল ও শিব শংকরের গোপন বৈঠক হয়েছে

ছে

ভারত সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিব শংকর মেনন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লে জেনারেল মইনুল ইসলামের গোপন বৈঠক হয়েছে সিঙ্গাপুরে। ভোটার বিহীন নির্বাচন কালিন সময়ে সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়ার ভুমিকায় অসন্তুষ্ট ভারত সরকারের সাথে তাদের অনুগত বাংলাদেশী এই জেনারেলের বৈঠক এক আগাম সতর্ক সংকেত বলেই মনে করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সেনাপ্রধানকে সরিয়ে দিয়ে নতুন সেনাপ্রধান বানানো ও  সেনাবাহিনীকে ভারতীয় বাহিনীর সহায়ক বাহিনী বানানোর প্রক্রিয়া নিয়ে এই আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

 

সুত্র জানিয়েছে, এই মুহূর্তে সিংগাপুরে অবস্থানরত ভারতীয় এই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাথে আলোচনার জন্য বেড়ানোর উছিলায় সিজিএস লে জেনারেল মইনুল সিঙ্গাপুরে সপরিবারে যান। উল্লেখ্য চাকুরির রেকর্ডে ভারতীয়দের আশীর্বাদপুষ্ট এবং তাদের বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী বাংলাদেশী এ জেনারেল ইতিমধ্যেই সেনাবাহিনি ও দেশপ্রেমিক মহলে আলোচিত ও চিহ্নিত।

সহসাই সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়াকে সরিয়ে দিয়ে নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে লে জেনারেল মইনুলকে  নিয়োগ দেয়া এবং বাংলাদেশের প্রতি অনুগত দেশপ্রেমিক সেনা জেনারেল, ব্রিগেডিয়ার ও কর্নেল পদমর্যাদার বেশ কিছু কর্মকর্তাকে সরিয়ে দিতে একটি তালিকা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয় বলে সুত্র জানিয়েছে। এছাড়াও সেনাপ্রধান হলে মইনুল ভারতের পরামর্শ মোতাবেক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফরমেশনে ও লজিস্টিক বিষয়াদিতে পরিবর্তন আনবেন বলে শিব শংকরকে আশ্বস্ত করেছেন।

সামরিক সরঞ্জামাদি ও যুদ্ধাস্ত্র ক্রয়ে ভবিষ্যতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে ভারতের পরামর্শ মেনে রাশিয়া থেকে ক্রয়ের বিষয়টিও আলোচনায় স্থান পায়। কারণ সহায়ক বাহিনী হিসেবে একই যুদ্ধাস্ত্র না হলে ভবিষ্যতে চীন বা মায়ানমারের সাথে কোন সামরিক সংঘাত হলে সাপ্লাই পেতে বা দিতে সমস্যা হতে পারে মাথায় রেখেই এ কাজটি ভারত করতে চাচ্ছে।  ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ভারতীয় বাহিনীর কিছু অফিসারকে বাংলাদেশী সাজিয়ে নিযুক্ত করতে ভারত সক্ষম হয়েছে বলে অন্য একটি সুত্র জানিয়েছে। এই সকল ভারতীয় অফিসারদের দ্বারাই পদোন্নতি ও বদলির বিষয়ে তালিকা বানানো হয়, যা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বাস্তবায়ন করেন।

এদিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ধীরে ধীরে ভারতীয় বাহিনীর সহায়ক বাহিনীতে পরিণত করার বিষয়ে চীন ও মায়ানমার সেনাবাহিনী উৎকণ্ঠিত বলে জানা গেছে। এমনকি ন্যাটোও এ বিষয়টিকে সুনজরে দেখছে না বলে বিভিন্ন সুত্র জানিয়েছে।

সুইস ব্যাংকে জয়ের নামে ৩০বিলিয়ন ডলার ?

 

শেখ হাসিনা পুত্র সজীব জয়ের নামে সুইস ব্যাংকে ৩০ বিলিয়ন ডলার জমা হয়েছে বলে দাবী করেছেন এক সাংবাদিক। ঐ সাংবাদিক টুঁইটারে এবং সরাসরি ইমেইল  করে সজীব জয়কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছেন। এমনকি ঐ ইমেইলে জয়কে তার মা শেখ হাসিনা ওয়াজেদের রাষ্ট্রের জনগণের কাছ থেকে লুট করা এই অর্থ ফেরত দেয়ার দাবী জানিয়েছেন।

উইলিয়াম গোমেজ নামের নির্বাসিত ঐ বাংলাদেশী সাংবাদিকের এই সংক্রান্ত একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি অনলাইন নিউজে সাংবাদিক জেসিকা ফক্স একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। তিনি মিডিয়াগুলোকে সতর্ক করে এও বলেছেন যে জয় এই অর্থের বিষয়টিতে নীরব থাকবে। কিছুতেই মুখ খুলবে না।

উইলিয়ামের দাবী এবিষয়টি বাংলাদেশী মিডিয়াগুলোকে জানানো হলেও তারা নীরব রয়েছে। তার মতে বাংলাদেশের অধিকাংশ মিডিয়া শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের জনসংযোগ (পিআর) এর কাজ করে থাকে।ইমেইলে উইলিয়াম জয়কে লিখেছেন, আপনি নীরব থাকবেন কারন আপনি  চোর না হয় ডাকাত, যেমন মা তেমনি পুত্র আপনি। আপনার মাও হল যেমন বাপ তেমন কন্যা। জয়কে তিনি উপদেশ দিয়ে লিখেছেন, আপনি নিজেকে বাংলাদেশের যুবরাজ ঘোষণা দিন এবং বাংলাদেশকে ‘বানান রিপাবলিক’ বা ‘মামা রিপাবলিক’ নামকরন করুন। বাংলাদেশের সকল সমস্যার জন্য জয় ও তার পরিবারকে দায়ী উল্লেখ করে বলেন, হেফাজতের নিরীহ প্রতিবাদকারীদের হত্যার জন্য নেপথ্যে দায়ী শেখ হাসিনা।

ইন্ডিয়ান গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী (২)

মঈন ইউ আহমদ ছিল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার অতি বিশ্বস্ত। তাকে দীর্ঘ দিন থেকে ‘র’ নার্সিং করছিল। তাঁর নিজের লেখা বই-এ উল্লেখ করেছেন তখন তিনি সবে মাত্র ক্যাপ্টেন। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর। ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের সঙ্গে সেনা অভ্যুত্থানের লক্ষ্যে বঙ্গভবন আক্রমণ করেন। বঙ্গবভনে তাঁর দায়িত্ব ছিল তৎকালীন প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক আহমদকে বন্দী করা। তাঁর নেতৃত্বে খন্দকার মোশতাক বন্দী হন। খন্দকার মোশতাককে একটি রুমে ৩ দিন আটক রাখা হয়েছিল মঈন ইউ আহমদের নেতৃত্বে।

৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার সম্মিলিত বিপ্লবে পরাজিত হন খালেদ মোশাররফ। তখন বঙ্গভবন থেকে দেয়াল টপকে বের হয়ে বিপ্লবী জনতার কাতারে মিশে যান মঈন ইউ আহমদ। এসব কাহিনী তিনি নিজে লিখেছেন মঈন ইউ আহমদ তার বইয়ে। মঈন ইউ আহমদ তখন থেকেই ভারতীয় কব্জায়। কারন তখন খালেদ মোশাররফ ভারতের সহযোগিতায় ক্যু করেছিলেন। সেটা আঁচ করতে পেরেই সিপাহী জনতা সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করেছিল সেই ক্যু। সম্মিলিত বিপ্লবের কাছে পরাজিত হয়েছিল খালেদ মোশাররফ।

দুই,

চার দলীয় জোট সরকারের সময় ‘র’-এর অপারেশন সফল হয় মঈন ইউ আহমদ সেনা প্রধান নিয়োগ হওয়ার মাধ্যমে। এই নিয়োগের পর থেকেই জাতীয় সেনাবাহিনী ভারতের প্রতি পুরো ঝুঁকে পড়ে। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজি এফ আই-এর সহায়তায় ‘র’-এর জন্য পৃথক অফিস খোলা হয় তখনই। ‘র’-এর কৌশলি পরিকল্পনায়ই তখন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবরের মাধ্যমে র‍্যাবকে ব্যবহার করে ক্রস ফায়ারের নামে দেশ প্রেমিকদের হত্যা শুরু হয়। এই এনকাউন্টার পদ্ধতি ভারতেই প্রচলিত রয়েছে।

বিশেষ করে ইন্ডিয়া বিরোধী দেশ প্রেমিক বামপন্থি তাত্ত্বিক নেতা কামরুল মাস্টার, মোফাখখার চৌধুরীসহ অনেককে হত্যা করা হয় ক্রস ফায়ারের নামে। শেখ মহিউদ্দিন আহমদকেও লূতফুজ্জামান বাবর ক্রসফায়ারে পাঠায় তার ভারত বিরোধীতার জন্য। কিন্তু কয়েকজন জেনারেল সে পরিকল্পনা ভন্ডুল করে দেয়। তবে তার কয়েক ডজন কর্মীকে হত্যা করে বাবর। সর্বহারা দমনের নামে ইন্ডিয়া বিরোধী বাম পন্থিদের টার্গেট করে হত্যা মিশন চলতে থাকে তখন। চার দলীয় জোট ক্ষমতায় থাকা কালীন বিএনপির অনেক পরিক্ষীত যুব নেতাদের ক্রসফায়ার দিয়ে হত্যা করা হয়। কারন তারাই ছিল বিএনপি’র রাজপথ দখলের অন্যতম শক্তি। বিএনপি যাতে পরবর্তিতে রাজপথে দাড়াতে না পারে সেই ষড়যন্ত্রেই মূলত ক্রসফায়ারের নামে এসব হত্যাকান্ড চালানো হয়। সন্ত্রাস দমনের তাবিজ দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে তখন রাজি করানো হয় ক্রসফায়ারে সম্মত করা হয়।

ডিজিএফআই-এ তখন কৌশলে নিয়োগ দেয়া হয় জামায়াতে ইসলামীর পরিবারের সদস্য হিসাবে পরিচিত ‘র’-এর বিশ্বস্ত এজেন্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিনকে। আমিন তখন সেনা গোয়েন্দা সংস্থা ডি জি এফ আই-এর গুরুত্বপূর্ন কাউন্টার ইন্টিলিজেন্স এর ডাইরেক্টর পদে নিয়োগ পান। আমিনও ছিলেন ‘র’-এর নার্সিং-এ সরাসরি নিয়োগ প্রাপ্ত। বাহ্যিক দৃস্টিতে ব্রিগেডিয়ার আমিনকে জামায়াতে ইসলামী পরিবারের সদস্য এবং আলেমের ছেলে হিসাবে দেশপ্রেমিক ভাবতেন অনেকে। এমনকি জামায়াতও। কিন্তু আমিন ছিলেন মঈন ইউ আহমদের চেয়েও ভয়ানক ভারতপন্থি। ইসলামী মূল্যবোধ এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে ধ্বংসই ছিল তাঁর মূল এজেন্ডা। তাঁর এই মনোভাব বুঝতে পেরে দেশপ্রেমিক অনেক অফিসারের পক্ষ থেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে আপত্তি জানানো হয়। কিন্তু সেই আপত্তিতে বাধা দিতেন জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। তারা বলতেন আমিন তাদের পরিবারের সদস্য। কোন সমস্যা নেই।

বেগম খালেদা জিয়ার আরেক বিশ্বস্ত লে. কর্ণেল পদ থেকে চৌধুরী ফজলুল বারীকে রাতারাতি প্রমোশন দিয়ে বিগ্রেডিয়ার পদে উন্নীত করে নিয়োগ দেয়া হয় ডিজিএফআই-এর ডাইরেক্টর অপারেশন হিসাবে। এই পদে নিয়োগ দিতেই তাঁকে দেয়া হয় ডাবল প্রমোশন। ডিজিএফআই-এর ডাইরেক্টর অপারেশনের পদটিকে বলা হয় প্রধানমন্ত্রীর পর দ্বিতীয় পাওয়ারফুল চেয়ার। র‍্যাব-এ থাকাকালীন জাতীয়তাবাদী এবং দেশপ্রেমিক অনেক নেতাকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যাকান্ডে নেতৃত্ব দিয়েছেন এই চৌধুরী ফজলুল বারী। এছাড়া সাঈদ ইস্কান্দরের ভায়রা হিসাবে সূপরিচিত মাসুদ উদ্দীন চৌধুরীকে নিয়োগ দেয়া হয় সাভারের ৯ম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসাবে। মাসুদ চৌধুরী রক্ষীবাহিনীর সদস্য হলেও সে ছিল যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক নার্সিং পাওয়া অফিসার। মঈন, আমিন, বারী সকলেই ছিলেন সেনা বাহিনীতে ‘র’-এর এজেন্ট। ‘র’ কৌশলে তাদের বিশ্বস্ত এজেন্টদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিতে সক্ষম হয়ে শুরু করে দ্বিতীয় রাউন্ড। তাদের মাধ্যমে ২০০৭ সালে ১১ জানুয়ারী (১/১১) ‘র’ রাষ্ট্র ক্ষমতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

‘র’-এর তখন দ্বিতীয় রাউন্ড ছিল বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা তাদের পুরো নিয়ন্ত্রণে নেয়া। এই দ্বিতীয় খেলায় সফল হতে ব্যবহার করা হয় ইন্ডিয়াপন্থি পত্রিকা এবং টেলিভিশন চ্যানেল। চার দলীয় জোট সরকারের বিরুদ্ধে কাল্পনিক দুর্নীতির ফিরিস্তি প্রকাশ করা হতো তখন। মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছাড়ানোর লক্ষ্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গল্প প্রচার করা হতো ইন্ডিয়াপন্থি পত্রিকা গুলোতে। বিশেষ করে ইন্ডিয়াপন্থি প্রথম আলো এবং ডেইলিস্টার-এর মিশন ছিল মঈন ইউ আহমদকে ক্ষমতার কেন্দ্রে নিয়ে আসা। তাই ডেইলি স্টার, প্রথম আলো, চ্যানেল আই এবং সিপিডি’র তত্ত্বাবধানে তখন যোগ্য প্রার্থী আন্দোলন নামে একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়। তারা বিভিন্ন জেলায় জেলায় গিয়ে যোগ্যপ্রার্থী আন্দোলনের নামে সভা সেমিনার করতেন এবং রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে মানুষকে উস্কে দিতেন। ১/১১-এর মিশন সফল হওয়ার পর থেমে যায় তাদের যোগ্যপ্রার্থী আন্দোলনের নামে কর্মসূচি।—————————————-(চলবে)