স্বাধীনতার মহানায়কের জন্মদিন শনিবার

বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মদিন শনিবার (১৭ মার্চ)। গোপালগঞ্জের নিভৃত গ্রাম টুঙ্গিপাড়ায় শেখ বাড়িতে ১৯২০ সালের এই দিনে বাংলার রাখাল রাজা শেখ মুজিবুর রহমান জন্মগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার মহানায়কের এ জন্ম দিনটিকে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালন করা হয়।টুঙ্গিপাড়ার সেই অজপাড়া গাঁয়ে জন্ম নেয়া এই শেখ মুজিবই একদিন বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনে দেন। দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের পথ পেরিয়ে তিনি বাঙালিকে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেন। যার বহি:প্রকাশ ঘটে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে। ৭১ এর ৭ মার্চ তিনি ঐতিহাসিক ভাষণে বাঙালিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দেন।

‘এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তি সংগ্রাম, তোমাদের যার কাছে যা কিছু আছে তাই নিয়েই প্রস্তুত থাক, আমি যদি হুকুম দিতে নাও পারি ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোলো’ -বঙ্গবন্ধুর এই চূড়ান্ত আহ্বানই জাতিকে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে শক্তি ও সাহস জোগায়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেফতারের আগে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন।

ব্রিটিশ আমলে শৈশব থেকেই শেখ মুজিব জমিদার, তালুকদার ও মহাজনদের অত্যাচার, শোষণ ও নির্যাতন দেখেছেন। মানুষের দুঃখ, কষ্ট দেখে তাদের মুক্তির সংগ্রামে তিনি নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন।
চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন পিতা শেখ লুৎফর রহমান ও মাতা সায়রা খাতুনের তৃতীয় সন্তান। ৭ বছর বয়সে তিনি পার্শ্ববর্তী গিমাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। পরবর্তীতে তিনি মাদারীপুর ইসলামিয়া হাইস্কুল, গোপালগঞ্জ সরকারি পাইলট স্কুল ও পরে গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে লেখাপড়া করেন।

১৯৪২ সালে তিনি ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চ শিক্ষার্থে কলকাতায় গিয়ে বিখ্যাত ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন এবং বেকার হোস্টেলে আবাসন গ্রহণ করেন। ১৯৪৬ সালে তিনি বিএ পাস করেন। শেখ মুজিবুর রহমান এই সময়ে ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এই সময়ে তিনি হোসেন সোহরাওয়ার্দী, আবুল হাশিমের মতো নেতাদের সংস্পর্শে আসেন। ১৯৪৬ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় শান্তি স্থাপনে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অসম সাহসী ভূমিকা পালন করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।
১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর তিনি পূর্ব বাংলায় চলে আসেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন। তখন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের আন্দোলনে সমর্থন দেন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।

ভ্রান্ত দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে গড়ে উঠা পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পূর্ব বাংলা সফরে এসে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দিলে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রসমাজ তথা বাঙালি জাতি প্রতিবাদ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয়। তার উপর নেমে আসে জেল-জুলুম নির্যাতন। রাজনৈতিক জীবনে এক যুগেরও বেশি সময় তিনি কারাগারে কাটিয়েছেন। দুইবার তিনি ফাঁসির কাষ্ঠে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন, ১৮ বার কারাবরণ করেছেন। পাকিস্তানি শাসক চক্রের রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে সব আন্দোলন-সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়ে জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য তৈরি করেছেন। ১৯৫২, ৫৪, ৬২, ৬৬ আর ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ৭০-এর নির্বাচনে বিজয় সবই জাতির সংগ্রামী ইতিহাসের একেকটি মাইলফলক। আর এই সংগ্রামের নেতৃত্ব ও প্রেরণার উৎস ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

স্বাধীনতা যুদ্ধের বিজয় লাভের পর পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তি লাভ করে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ ভূমিতে ফিরে আসেন। দেশে এসেই যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনায় আত্মনিয়োগ করেন। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের এই মহান স্থপতিকে মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় মানবতার শত্রু ঘৃণ্য ঘাতকের দল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাকে নির্মমভাবে সপরিবারে হত্যা করে।

ফ্লাইট বিএস২১১ দুর্ঘটনা: হতাহতদের জন্য দোয়া-প্রার্থনা

নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে প্লেন দুর্ঘটনায় হতাহতদের জন্য সারাদেশে সব ধর্মের উপাসনালয়ে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা আদায় করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা ও আরোগ্য কামনা করা হয়।শুক্রবার (১৬ মার্চ) দুপুরে জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। সকালে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আয়োজন করা হয় বিশেষ প্রার্থনার। নগরীর অন্যান্য মসজিদ-মন্দির-গির্জা ও প্যাগোডায়ও হতাহতদের স্মরণে দোয়া ও প্রার্থনা করা হয়েছে।এর আগে গত ১২ মার্চ প্লেন দুর্ঘটনায় ১৫ মার্চ (বৃহস্পতিবার) সারা দেশে রাষ্ট্রীয় শোক এবং ১৬ মার্চ (শুক্রবার) মসজিদ-মন্দিরসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে দোয়া-প্রার্থনা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। গত ১৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপনে জানায়, গত ১২ মার্চ (সোমবার) নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার বিএস২১১ নম্বর ফ্লাইট বিধ্বস্ত হয়ে দেশি-বিদেশি ৫১ জন আরোহীর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং তাদের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও সহমর্তিতা প্রকাশ করা হয়েছে।

রাজনীতি এবং খালেদার যাত্রাপথ

মানসিক প্রস্তুতি ছিল। রায় ঘোষণার আগেই গুছিয়ে নিয়েছিলেন সব। গৃহকর্মী ফাতেমাকেও বলেছিলেন, সেমতে প্রস্তুত হতে। কয়েকমাস থাকতে হতে পারে। ৮ই ফেব্রুয়ারি থেকে নাজিম উদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারে বন্দি সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তার পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপির আইনজীবীদের একটি দল।পরামর্শ দিচ্ছেন বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই এমন কয়েকজন আইনজীবীও। খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের কথিত ভুল নিয়ে এরই মধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছু আলোচনা হয়েছে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও একবার বলেছিলেন, আইনজীবীদের ভুলের কারণেই খালেদা জিয়া কারাগারে। কী ভুল তা অবশ্য তিনি খোলাসা করেননি। যদিও নিজেদের কোনো ভুল মানতে রাজি নন বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবীরা।
সে যাই হোক, গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকবার ‘বিস্ময়ের’ মুখোমুখি হয়েছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। প্রথমবার তারা বিস্মিত হন যখন হাইকোর্ট জানায়, নথি দেখে জামিন আবেদনের ব্যাপারে আদেশ দেয়া হবে। এ ধরনের আদেশের জন্য তারা প্রস্তুত ছিলেন না। সিনিয়র আইনজীবীরা এ আদেশকে বলেছেন, নজিরবিহীন। পরে অবশ্য হাইকোর্ট জামিন দিলে বিএনপির আইনজীবীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে। দলটির আইনজীবীদের কেউ কেউ আশা করেছিলেন, হাইকোর্ট জামিন আবেদন মঞ্জুর করার পর শিগগিরই খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন। কিন্তু দ্রুতই তাদের সে আশা ভাঙে। যখন জামিন মঞ্জুরের দিনই কুমিল্লার একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে তাদের জন্য
আরো বিস্ময় অপেক্ষা করেছিল। যখন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করে দেন তখন আক্ষরিক অর্থেই হতবাক হয়ে পড়েন তার আইনজীবীরা। শুনানির সুযোগ না পাওয়ায় এজলাস কক্ষেই তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
এখন খালেদা জিয়ার জন্য কী অপেক্ষা করছে? জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় তার জামিনের বিরুদ্ধে দুদক ও সরকারের লিভ টু আপিলের ওপর আপিল বিভাগে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে রোববার। এ মামলায় আপিল বিভাগ কী সিদ্ধান্ত দেয় তার ওপর নির্ভর করছে বহু কিছু। তবে এ মামলায় জামিন বহাল থাকলেও সহসাই তার কারামুক্তি ঘটছে না। কারণ, কুমিল্লার সহিংসতার মামলায় তাকে জামিন পেতে হবে। ২৮শে মার্চ কুমিল্লার আদালতে ওই মামলার শুনানির কথা রয়েছে। এ ছাড়া, আরো অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে যেসব মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, কারাগারে খালেদা জিয়ার পথ বেশ দীর্ঘ।
দুই ডজনের মতো বেশি মামলা দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে খালেদা জিয়াকে। তার দল অবশ্য এখন এগুচ্ছে ধীরে সুস্থে। কারাগারে যাওয়ার আগে খালেদা জিয়া দলকে কড়া নির্দেশনা দিয়ে গিয়েছিলেন যে, কোনো ধরনের হটকারিতায় জড়ানো যাবে না। সহিংস বা কঠোর কোনো কর্মসূচিও দেয়া যাবে না। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে যতটা সম্ভব এগুনোর চেষ্টা করতে হবে। বিএনপি অবশ্য নেতার এ নির্দেশ পালন করেছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে তারা কঠোর কোনো কর্মসূচিতে যায়নি। উসকানি সত্ত্বেও পরিচয় দিচ্ছে ধৈর্যের। তবে দলটির মধ্যে নানা বিষয়ে অস্বস্তি এবং আতঙ্কও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা হেফাজতে ছাত্রদল নেতা জাকিরের মৃত্যু দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে। রিমান্ড শেষে কারাগারে নেয়ার পর মৃত্যু হয় ঢাকা মহানগরের এই ছাত্রদল নেতার। তার দল এবং পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
এই যখন অবস্থা তখন কী করবে বিএনপি। এটা ঠিক, বিএনপির সামনে আসলে বেশি কিছু করার পথও খোলা নেই। নানা সূত্রে জানা যাচ্ছে, দলটি আরো কিছু দিন ধৈর্য ধরবে। পরিস্থিতি যাই হোক কঠোর কোনো কর্মসূচিতে যাবে না। আগামী জুন-জুলাই মাস থেকে সর্বাত্মক আন্দোলনে যাওয়ার চেষ্টা করবে বিএনপি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রচলিত হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচিও তখন দেয়া হতে পারে। কিন্তু এতেও কতটা কাজ দেবে তা নিয়ে সন্দিহান বিএনপি। যদিও রাজনীতিতে কখনো কখনো পরিস্থিতি খুবই দ্রুত বদলায়।
ঢাকার একজন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি আইনি নয়, বরং রাজনৈতিক। রাজনীতির গতিপথই ঠিক করবে শেষ পর্যন্ত তিনি কোথায় থাকবেন।

ফাইনাল-ওভার-ড্রামায় ফাইনালে বাংলাদেশ

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের অসাধারণ সাহসী ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে দিলো বাংলাদেশ। আর এতে রোববার ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার ১৫৯ রানের জবাবে বাংলাদেশ ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬০ রান করে। এক বল বাকি থাকতেই ছক্কা হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিত করেন মাহমুদুল্লাহ। শেষ পর্যন্ত মাহমুদুল্লাহ অপরাজিত থাকলেন ৪৩ বলে। তিনি দুটি ছক্কা আর তিনটি চার মারেন তিনি।আর চারটি রান করতে পারলে টি-২০তে চতুর্থ বাংলাদেশী হিসেবে এক হাজার রানও হয়ে যেতো ম্যাচসেরা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের। শেষ ওভারের প্রথম দুই বল মোস্তাফিজুর রহমানের মাথার ওপর দিয়ে গেলেও আম্পয়াররা নো না দিলে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন রিয়াদ। কিন্তু তারপরেও তিন বলে ১২ রান তুলে স্তব্ধ করে দেন মাঠভর্তি দর্শককে। এ আসরে দুটি টি-২০তেই শ্রীলঙ্কাকে হারালো বাংলাদেশ।
৬ বলে চাই ১২ রান ১৮তম ওভারের শেষ বলে আউট হযে গেলেন সাকিব। ৯ বলে ৭ রান করেন তিনি। সংশয়ে পড়ে গেল বাংলাদেশ। ১৩৭ রান ৬ উইকেটে।১৮ বলে চাই ২৯ ১৮ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ১৩১। অধিনায়ক সাকিব আর সহ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ লড়ছেন। হঠাৎ চাপে বাংলাদেশ কাছাকাছি এসে দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গেল বাংলাদেশ। প্রথমে মুশফিক। এরপর তামিম ও সৌম্য আউট। ১৪.৫ ওভারে বাংলাদেশ ১০৯/৫। ফিফটি করে আউট তামিম ঠিক ৫০ রান করেই আউট হয়ে গেলেন তামিম ইকবাল। ৪২ বল খেলেছিলেন তিনি। পঞ্চম ফিফটি করলেন তামিম। ১৪ ওভারে বাংলাদেশ ১০৫/৪। ৩৬ বলে চাই ৫৫ রান। বাংলাদেশের চার উইকেটের দুটিতে ক্যাচ নিয়েছেন থিসারা পেরেরা। আর একটি ক্যাচ ও স্টাম্পড করেন কুসাল পেরেরা। ২৮ রান করে আউট হয়ে গেলেন দুই খেলায় অপরাজিত থাকা মুশফিকুর রহীম। ১৩ ওভারে বাংলাদেশ ১০০/৩। ৪২ বলে চাই আর ৬০ রান।

এক ট্রাক থেকে ১২শ’ বাস

এক সময় মাত্র একটি ট্রাক ছিল তার। এখন তিনি একে একে ১২শ’ বাসের মালিক। দেশের বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে সেতুবন্ধন তৈরি করে চলেছে তার বাসগুলো। এলাকায় তিনি ‘ফাদার অব ট্রান্সপোর্টেশন’ হিসেবেই পরিচিত।

সংগ্রামী ও সফল এই মানুষটির নাম জয়নাল আবেদীন। হানিফ এন্টারপ্রাইজের স্বপ্নদ্রষ্টা তিনি। জীবনের শুরুটা বেশ বন্ধুর ছিল তার। তবে তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হন নিরলস শ্রম আর কঠোর অধ্যাবসায়ে।

তার হাত ধরেই বিকশিত হয়েছে দেশের পরিবহন খাত। গণপরিবহনে তার ভূমিকা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে সবাই। এলাকার মানুষ তাকে ডাকেন জয়না মহাজন নামে।

জয়নাল আবেদীনের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকার সাভারে। মাত্র একটি ট্রাক নিয়ে পথ চলা শুরু। পরবর্তীতে শুরু কোচ ব্যবসা। গড়ে তোলেন পরিবহন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ‌‘হানিফ এন্টারপ্রাইজ’। ছোট ছেলে হানিফের নামেই গড়ে তুলেছিলেন হানিফ এন্টারপ্রাইজ। তারপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি।

পেট্রোল পাম্প, সিএনজি স্টেশন, ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং, কোল্ডস্টোরেজ, পানীয় ও প্রকাশনা ব্যবসাও গড়ে তুলেছেন এ স্বপ্নবাজ মানুষ। পরবর্তীতে যেখানেই হাত দিয়েছেন সোনা ফলিয়েছেন সেখানেই।

বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ করিডোর পাচ্ছে ভারত

বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ করিডোর পাচ্ছে ভারত। এর আওতায় দেশটির এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদুৎ সঞ্চালনের সুবিধা পাবে। এ বিষয়ে দুই দেশের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আগামী ৬ মাসের মধ্যে প্রাকসমীক্ষা যাচাই শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। প্রাথমিকভাবে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সঞ্চালিত হবে। তবে করিডোরে বাংলাদেশের প্রাপ্য সুবিধা সম্পর্কে এখনও কোনো পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার রূপসী বাংলা হোটেলে অনুষ্ঠিত ভারত-বাংলাদেশ যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির সপ্তম বৈঠক শেষে বাংলাদেশের বিদ্যুৎসচিব মনোয়ার ইসলাম সাংবাদিকদের এ কথা জানান। বিদ্যুৎ করিডোর, ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিসহ নানা বিষয়ে অবহিত করেন সচিব। এসময় ভারতের বিদ্যুৎসচিব পিকে সিনহা উপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যুতের করিডোর দিয়ে বাংলাদেশের কী লাভ হবে এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সচিব বলেন, ‘বিষয়টিতে এখনই লাভ-লোকসান কষা হয়নি।’

আর ভারতের বিদ্যুৎসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ পাওয়ার একটা সম্ভাবনা রয়েছে, তবে বিষয়টি নির্ভর করছে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের পরিমাণের ওপর।’

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে পিকে সিনহা বলেন, ‘প্রকল্পটিতে বাংলাদেশ এবং ভারতের ১৫ শতাংশ করে মোট ৩০ শতাংশ অর্থায়ন থাকছে। বাকি ৭০ শতাংশ অর্থ আসবে ঋণের মাধ্যমে। তবে, ভারত ১৫ শতাংশ বিনিয়োগ করলেও এখান থেকে কোনো বিদ্যুৎ নেবে না।’

বৈঠকে বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক নিলুফার আহমেদ, বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব আনোয়ার হোসেন, পিডিবি’র বোর্ড সদস্য তমাল চক্রবর্তী, পিজিসিবি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুম আল বেরুনী।

অপরপক্ষে ভারতের প্রতিনিধি দলে ছিলেন- বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ, ভারতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব যুথি আরোরা, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনার সন্দীপ চক্রবর্তী, ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কোম্পানির (এনটিপিসি) চেয়ারম্যান অরূপ রায় চৌধুরী প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ভারতের বিদ্যুৎ সচিবের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধি দল গত ১ এপ্রিল সকালে ঢাকায় আসে। প্রতিনিধিদলটি বাগেরহাটে সুন্দরবনের কাছে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকাও পরিদর্শন করে।

বিজয়ীদের শপথ গ্রহণে বাধা দিচ্ছে সরকার : বিএনপি

উপজেলা নির্বাচনে বিরোধীদল সমর্থিত বিজয়ী চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগদানে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।

সালাহউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা নির্বাচনে বিরোধীদল সমর্থিত বিজয়ী চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগদানের আগে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনেকেই মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারছেন না।

তিনি বলেন, অনেকের বিরুদ্ধেই সাজানো ও বানোয়াট মামলা দেয়া হচ্ছে, যাতে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে না পারে। মনে হচ্ছে আওয়ামী বাকশালীদের ক্ষমতার শেষ বসন্ত উৎযাপিত হচ্ছে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন জনগণ বর্জন করলেও উপজেলা নির্বাচনগুলো অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য, শান্তিপূর্ণ এবং সবার অংশগ্রহনের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে ভেবে জনগণ নির্বাচনী মহোৎসবে মেতে ওঠার আশা বুকে ধারণ করেছিল। কিন্তু তা নিরাশায় পর্যবসিত হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও সরকারের অত্যন্ত আজ্ঞাবহ ক্রীতদাসের ভূমিকা পালন করেছে। এখানে সরকার কিংবা নির্বাচন কমিশনের নিকট জনগণ, বিরোধী রাজনৈতিক দল, বিশিষ্ট নাগরিক সমাজ এবং বিদ্বজ্জন কারো মতামত বা সমালোচনা বিবেচ্য বিষয় নয়।

এছাড়া উপজেলা নির্বাচনের প্রতিটি ধাপেই আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীকে নিষ্ক্রিয় রেখে সরকার সমর্থিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের জেতাতে অপদার্থ নির্বাচন কমিশন নির্লজ্জ ভূমিকা পালন করেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

খবরের কাগজের বরাত দিয়ে তিনি বলেন,নোয়াখালীর হাতিয়া, সুবর্ণচর, বাগেরহাটের রামপাল, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি ও চৌহালী, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর, কক্সবাজারের উখিয়া, ঝিনাইদহের কালিগঞ্জসহ সারাদেশে বিভিন্ন উপজেলায় বিরোধী দল সমর্থিত প্রার্থী ও নেতা-কর্মীদের বাড়িঘর, দোকান-পাট লুটপাট, ভাঙচুর, দলীয় কার্যালয় ভাংচুর, নেতা-কর্মীদের মারধর, মামলা-হামলা অব্যাহত রয়েছে।

আশা প্রকাশ করে তিন বলেন, দেশের মুক্তিকামী জনগণ ধৈর্য, সংযম, এবং শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করে গণআন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতালোভীদের চিরকাল ক্ষমতাভোগের দিবাস্বপ্নকে চুরমার করে দেবে।

এ সময় ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমান, খায়রুল কবির খোকন, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, আব্দুল লতিফ জনি, আসুদুল করিম শাহীন ও আব্দুস সালাম।

চট্টগ্রামে শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষক্রিয়ায় নিহত ৪

সীতাকুণ্ডের কদম রসুল এলাকায় আরেফিন শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় অজ্ঞান হয়ে পড়ে আরও ৪ জন।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার সহকারী পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানান, শিপ ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ চারজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম জানা যায়নি।

ঘটনাস্থলে থাকা ইয়ার্ডের মালিক কামাল উদ্দিনের ছোট ভাই গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘কাটার জন্য পুরনো একটি জাহাজ শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে রাখা হয়। পুরনো ইলেকট্রিক মালামাল ক্রয় করার জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে ৮ জনের একটি ব্যবসায়ী দল জাহাজটিতে উঠেন। তারা নিজ থেকে সেখানে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা কার্বন-ডাই-অক্সাইডের বোতলের চিপ খুলেন। এসময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত সবাই অজ্ঞান হয়ে জাহাজে লুটিয়ে পড়েন। তাদের উদ্ধার করে নগরীর অক্সিজেন আল আমিন বেসরকারি ক্লিনিকে নেয়া হয়েছে।’

৬০ হাজার কোটি টাকার সংশোধিত এডিপি অনুমোদন

পাঁচ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে ৬০ হাজার কোটি টাকার সংশোধিত এডিপি (আরএডিপি) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ৩৮ হাজার আটশ কোটি এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ২১ হাজার দুইশ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।

পাঁচ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে ৬০ হাজার কোটি টাকার সংশোধিত এডিপি (আরএডিপি) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ৩৮ হাজার আটশ কোটি এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ২১ হাজার দুইশ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। সংশোধিত এডিপিকে পদ্মা সেতুর বরাদ্দ দুই হাজার ৪২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা কমানো হয়েছে। মূল এডিপিতে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ছয় হাজার আটশ ৮৮ কোটি টাকা।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে বৃহস্পতিবার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ সময় পরিকল্পনা সচিব ভুঁইয়া সফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘বাড়তি পাঁচ হাজার কোটি টাকা পরবর্তীতে ভালো কাজে বরাদ্দ দেওয়া হবে।’ অর্থমন্ত্রীকে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘তিনি অত্যন্ত মুরব্বি মানুষ। তিনি এ বয়সে যা করেন সেটি অনেক। তাই এ বিষয়ে আমি কিছু বলব না।’

৫৫ হাজার কোটি টাকা ধরে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পরিবহন খাতে। এ খাতের সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলওয়ে, নৌ ও বেসামরিক পরিবহনসহ মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৯ হাজার চারশ ৫০ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ছয় হাজার ৯৩৮ কোটি ৮৭ লাখ এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে দুই হাজার পাঁচশ ১১ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বিদ্যুৎ খাত। এ খাতে মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সাত হাজার আটশ চার কোটি ১১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের চার হাজার পাঁচশ ৯৫ কোটি এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে তিন হাজার দুইশ ৯ কোটি ১১ লাখ টাকা।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা শিক্ষা ও ধর্ম খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সাত হাজার একশ ৮৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের পাঁচ হাজার পাঁচশ ৭৩ কোটি ৪৬ লাখ এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে এক হাজার ছয়শ ১৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

অন্যান্য খাতে বরাদ্দ হচ্ছে, কৃষি খাতে তিন হাজার একশ ৮৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের দুই হাজার একশ ১০ কোটি ৮৫ লাখ এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে এক হাজার ৭২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতে মোট ছয় হাজার ৭০ কোটি ১১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের তিন হাজার ৯৪৩ কোটি ৭০ লাখ এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে দুই হাজার একশ ২৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা। পানিসম্পদ খাতে মোট বরাদ্দ এক হাজার ছয়শ ৩২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের এক হাজার একশ ৮৭ কোটি ৯৪ লাখ এবং বৈদেশিকসহায়তা থেকে চারশ ৪৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

শিল্প খাতে মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে দুই হাজার সাতশ ১৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের পাঁচশ ২৩ কোটি পাঁচ লাখ এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে দুই হাজার একশ ৯৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। তৈল, গ্যাস ও প্রাকৃতিক সম্পদ খাতে মোট বরাদ্দ এক হাজার ছয়শ ৪২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের এক হাজার ৬৫ কোটি এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে পাঁচশ ৭৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

যোগাযোগ খাতে মোট বরাদ্দ ৭৮৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ১৭৮ কোটি ৯৬ লাখ এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৬০৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা। ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ন খাতে মোট প্রস্তাবিত বরাদ্দ ৪ হাজার ৭২৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ৩ হাজার ৩১ কোটি ৩১ লাখ এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ১ হাজার ৬৯৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা। ক্রীড়া ও সংস্কৃতি খাতে মোট ২৫৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ২৪১ কোটি ২৮ লাখ এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ১৪ কোটি ৬৪ টাকা।

স্বাস্থ্য, পুষ্টি, জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ খাতে মোট বরাদ্দ ৪ হাজার ১০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ১ হাজার ৫০৮ কোটি ৮০ লাখ এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ২ হ্জাার ৫০১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। গণসংযোগ খাতে মোট বরাদ্দ ৮১ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ৬৮ কোটি ৯০ লাখ এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ১৩ কোটি টাকা। সমাজকল্যাণ, মহিলা বিষয়ক ও যুব উন্নয়ন খাতে মোট বরাদ্দ ৪৪৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ২৩৪ কোটি ৪২ লাখ এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ২১৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। জনপ্রশাসন খাতে মোট বরাদ্দ ১ হাজার ৩১০ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ৩৬৬ কোটি ৯ লাখ এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৯৪৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে ১ হাজার ৫২১ কোটি ৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ৪৯২ কোটি ২৫ লাখ এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ১ হাজার ২৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এ ছাড়া শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে মোট বরাদ্দ ৩৩১ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ২২৪ কোটি এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ১০৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

সাদ হত্যাকাণ্ড : বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই অধ্যাপকের পদত্যাগ

ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়াদ ইবনে মোমতাজকে হত্যাসংক্রান্ত চলমান ইস্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুলতান উদ্দীন ভূঁইয়া এবং ছাত্রবিষয়ক বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান পদত্যাগ করেছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টার দিকে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে দ্বিতীয় দিনের মত ক্লাশ-পরীক্ষা বর্জন করে সকল অনুষদের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

জানা যায়, ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষী ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন থেকে উপাচার্যের বাসার সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। পরে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে তিন দফা দাবি পেশ করেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

এদিকে আগামী সোমবারের মধ্যে অভিযুক্তদের আটক ও উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীরা সব ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন বন্ধের দাবি জানান তারা।

সোমবারের মধ্যে দাবি কার্যকর না হলে সোমবারের পর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা।

ঐশী টেস্ট রিপোর্ট বদলে গেছে

পুরাই মাথা নষ্ট 一 Funny World BD . · 138,786 like this
August 22, 2013 at 9:10pm ·
ঐশীর বয়স ১৯ বছর ৬ দিন!
পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি)পরিদর্শক
মাহফুজুর রহমান ও স্ত্রী স্বপ্ন রহমানের
খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার মেয়ে ঐশী রহমান
শিশু নয়। তার বয়স ১৯ বছর ৬দিন।
বাংলাদেশের শিশু আইনেও সে শিশু নয়।
গোয়ন্দা পুলিশ ঐশীর এ বয়স
সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে। এরফলে ঐশী শিশু
না সাবালিকা সে বিতর্কের নিরসন হলো।
গেয়েন্দা সূত্র দাবি করেছে, মানবাধিকার
সংস্থার পক্ষে আপত্তি তোলার আগেই
তারা ঐশীর জন্মবৃত্তান্ত সংগ্রহ করেছেন।
বৃহস্পতিবার ঐশীর বয়স হবে ১৯ বছর ৬
দিন।
নাম প্রকামে অনিচ্ছুক পুলিশের এক
কর্মকর্তা জানায়, ঐশী রহমানের
বাবা মাহফুজুর রহমান ১৯৯৪ সালে খুলনায়
কর্মরত ছিলেন। আর ঐশীর জন্ম
হয়েছে খুলনাতেই। ১৯৯৪ সালের ১৭ আগস্ট
ঐশী রহমানের জন্ম হয়। তার জন্ম হয়
খুলনা প্রেস ক্লাব সংলগ্ন মিশু ক্লিনিকে।
ক্লিনিক মালিকের নাম আবদুর রহিম। ওই
সময় যে চিকিৎসক ঐশীর মায়ের
চিকিৎসা সেবার দায়িত্বে ছিলেন তার নামও
জানা গেছে।
গোয়েন্দারা জানায়, ঐশী রহমানের জন্ম
হওয়ার আগে তার মা ওই ক্লিনিকের
চিকিৎসক ডাক্তার নাসরীনের
তত্ত্বাবধানে ছিলেন। ১৯৯৪ সালের ১৭
আগস্ট স্বপ্না রহমান মিশু
ক্লিনিকে ভর্তি হলে তার সাধারণ
ডেলিভারি হয়।
ডা. নাসরীন জানান, ঐশী রহমানের
মা স্বপ্না রহমান তার পেশেন্ট ছিলেন। জন্ম
হওয়ার আগ থেকে তিনি তার তত্ত্বাবধান
করেন। তিনি ঐশীর পরিবারের সাথে পরিচিত।
মিশু ক্লিনিকে ৯৪ সালের নথিতেও মিলেছে এই
তথ্য।
তবে বয়স নির্ধারণ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার
জন্য ঐশী রহমান ও সুমীকে বুধবার
ঢাকা মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ঐশীর বয়স
পরীক্ষার জন্য তার দাঁতের পরীক্ষা ও
হাড়ের এক্স-রে করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের
সহকারী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন,
দ্রুত এ ফলাফল জানা যাবে।

পুলিশ কর্মকর্তার গুনধর মেয়ে ঐশী · 11,068 like this
September 21, 2013 at 5:37am ·
কুমারী মেয়ে ইউরিন টেস্ট করাতে গেছে!টেস্ট রিপোর্ট বদলে গেছে:
ডাক্তার:U ARE PREGNANT!

:

পাসওয়ার্ড ছাড়াই উইন্ডোজ চালু

কম্পিউটার ব্যবহারকারীকে যদি পাসওয়ার্ড দিয়ে সিস্টেমে ঢুকতে হয়, তাহলে সেটিকে এভাবেই রাখা উচিত। কারণ, কম্পিউটার নিরাপত্তায় পাসওয়ার্ড খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাসওয়ার্ড ছাড়া পুরো কম্পিউটার সিস্টেমই হয়ে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ। যে কেউ আপনার কম্পিউটারে সরাসরি ঢুকে ক্ষতি করতে পারে, ঢুঁ মারতে পারে গোপনীয় ফাইল বা ই-মেইলে। এমনকি আপনার হয়ে যে কাউকে ই-মেইলও পাঠিয়ে বসতে পারে। অন্যদিকে, কম্পিউটার চালু রেখে কিছু সময়ের জন্য একটু এদিক-সেদিক গেলেন, ফিরে এসে কম্পিউটারকে আবার কাজ করার মতো প্রস্তুত অবস্থায় দেখতে পেলেন। বারবার পাসওয়ার্ড চাপতে হলো না। কিন্তু আপনার অনুপস্থিতিতে যে কেউ চাইলে ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে ফেলতে পারে—এ বিষয়ও মাথায় রাখতে হবে।
এসব বিবেচনায় প্রতিবার কম্পিউটার চালু হওয়ার আগে লগঅন পর্দায় বারবার পাসওয়ার্ড দেওয়া ছাড়াই সরাসরি উইন্ডোজে ঢুকতে পারেন। এই ব্যবস্থায় পাসওয়ার্ড মুছে যাবে না। লগ-অন পর্দা এড়িয়ে যেতে চাইলে অ্যাডভান্সড ইউজার অ্যাকাউন্টসে ঢুকতে হবে।
উইন্ডোজ ৭ ও ভিসতার বেলায় স্টার্ট বাটনে ক্লিক করে লিখুন netplwiz এবং এন্টার করুন। উইন্ডোজ এক্সপিতে স্টার্ট চেপে রানে ক্লিক করুন, লিখুন control userpasswords2 এবং এন্টার করুন। উইন্ডোজ আটে স্টার্ট পর্দায় থাকা অবস্থায় লিখুন netplwiz এবং অ্যাপস সেকশন থেকে সেটি নির্বাচন করুন।
ডায়ালগ বক্সের উইন্ডো এলে আপনার অ্যাকাউন্ট (যেটি দিয়ে আপনি লগইন করেন) নির্বাচন করা আছে কি না, সেটি নিশ্চিত করুন। তারপর Users must enter a user name and password থেকে টিক উঠিয়ে দিন। এরপর OK চাপলে আপনার অ্যাকাউন্ট পাসওয়ার্ড চাইবে। দুবার পাসওয়ার্ড বসিয়ে OK করুন। পরেরবার কম্পিউটার চালু করলে উইন্ডোজ আপনার কাছে আর পাসওয়ার্ড চাইবে না। —মঈন চৌধুরী

শুরু হচ্ছে জাতীয় রোবোটিক্স উৎসব

বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের সংগঠন ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্যে শুরু হচ্ছে ‘জাতীয় রোবোটিক্স উৎসব-২০১৪’।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এ প্রতিযোগিতায় থাকছে চারটি বিভাগে অংশগ্রহণের সুযোগ। ‘আইএআরসি’ বিভাগে অংশগ্রহণকারী রোবটগুলোকে একটি নির্ধারিত ট্র্যাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘুরতে হবে। ‘ব্যাটল অব স্পিড’ বিভাগে দ্রুততম সময়ে নির্ধারিত ট্র্যাক পার হতে হবে। ‘রোবটস গট ফ্রিডম’ বিভাগে সব ধরনের রোবট প্রদর্শনের সুযোগ থাকবে। এ ছাড়াও স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এ প্রতিযোগিতায় থাকছে ‘এক্সপ্লোরিং দ্য ড্রিমস’ যেখানে আগামী প্রজন্মের মাঝে রোবোটিক্স বিষয়ে আগ্রহ, উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রণয়ন ও প্রশ্নোত্তরের আয়োজন থাকবে।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় রোবোটিক্স উৎসবের সেরা প্রতিযোগীরা আন্তর্জাতিক রোবোটিক্স প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করতে হবে  www.esab.org.bd/nrf অথবা, fb.com/esab.bd ঠিকানায়।

জিএসপি স্থগিতাদেশ দ্রুত প্রত্যাহার হবে

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা (জিএসপি) এখন স্থগিত হয়ে আছে।
তবে শিগগিরই এ স্থগিত আদেশ প্রত্যাহার হয়ে যাবে বলে আশা করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘যেসব কারণে যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি স্থগিত করেছে, তার বেশির ভাগই সমাধান করা হয়েছে।’ তাই এপ্রিল মাসের মধ্যেই এ স্থগিত আদেশ প্রত্যাহার হয়ে যাবে বলে আশা করছেন তিনি। একই সঙ্গে আরও বেশি ক্ষেত্রে জিএসপি সুবিধাপ্রাপ্তির প্রচেষ্টাও চলছে বলে জানান।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) নতুন পরিচালনা পর্ষদ গতকাল রোববার বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দপ্তরে সাক্ষাৎ করতে এলে তাঁদের জিএসপি নিয়ে আশাবাদের কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, আগামী দিনে বিশ্বের যে পাঁচটি দেশের অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা আছে বাংলাদেশ তার একটি। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে। এ জন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পরামর্শ করে কর্মপদ্ধতি ঠিক করতে হবে।
বৈঠকে ঢাকা চেম্বার ব্যবসায় আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নসহ ১১ দফা সুপারিশ তুলে ধরে।
সংগঠনের সভাপতি শাহজাহান খান বলেন, কয়েক মাসের রাজনৈতিক আন্দোলন ও সহিংসতায় দেশে যে নেতিবাচক ভাবমূর্তির সৃষ্টি হয়েছে এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থাহীনতা দেখা দিয়েছে, তা ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা একান্ত প্রয়োজন।
বৈঠকে বাণিজ্যসচিব মাহবুব আহমেদ, ঢাকা চেম্বারের দুই সহসভাপতি ওসামা তাসীর, খন্দকার শহীদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী পরে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জন ডানিলোয়িজের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এ ছাড়া হস্তশিল্প প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বাংলাক্রাফ্ট) এবং বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

সুড়ঙ্গ খুঁড়ে ব্যাংকে ঢুকে সাড়ে ১৬ কোটি টাকা চুরি

কিশোরগঞ্জে সোনালী ব্যাংকের জেলা প্রধান শাখায় দুঃসাহসিক চুরি হয়েছে। দীর্ঘ সুড়ঙ্গ খুঁড়ে চোরের দল ব্যাংকের ভল্টে ঢুকে ১৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা চুরি করেছে। ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গতকাল রোববার ব্যাংকে গিয়ে চুরির বিষয়টি বুঝতে পারেন।
শাখাটির নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক পুলিশি পাহারার মধ্যেই এই চুরি হলো। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পুলিশের আট সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
পুলিশ ও ব্যাংক সূত্র জানায়, শহরের রথখোলায় সোনালী ব্যাংকের জেলা প্রধান শাখা অবস্থিত। সেখানে ট্রেজারি চালানসহ অন্য শাখাগুলোর টাকাও জমা রাখা হয়। গতকাল বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ ক্যাশ কর্মকর্তা মোহসিনুল হক ভল্টে ঢুকে মেঝেতে সুড়ঙ্গ দেখেন। তাৎক্ষণিক তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানালে তাঁরা পুলিশকে জানান। পুলিশ এসে ব্যাংকের পাশে মৃত আমিনুল হকের বাড়ির একজন ভাড়াটের কক্ষে সুড়ঙ্গের অন্য প্রান্তের সন্ধান পায়। পরে গণনা করে ১৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা খোয়া যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবীর ভূঁঞা।
মৃত আমিনুলের বাড়ির একটি কক্ষে দুই মেয়ে নিয়ে ভাড়া থাকেন মার্জিয়া আক্তার। সোহেল মিয়া পরিচয়ে অন্য এক ব্যক্তি পাশের কক্ষে থাকতেন। তাঁর কক্ষ থেকেই সুড়ঙ্গপথটি তৈরি করা হয়। এ কক্ষ থেকে প্রায় ১০০ ফুট দূরে ব্যাংকের ভল্টে ঢুকে টাকা লুট করা হয়। সোহেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মার্জিয়া বলেন, ঘটনার ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। তাঁর স্বামী সৌদি-প্রবাসী। পাশের কক্ষের ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর কখনো কথাবার্তা হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈশা খাঁ সড়কে ব্যাংকের এই শাখায় প্রবেশপথের ডানে একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ও শোরুম রয়েছে। বাঁয়ে ব্যাংকসংলগ্ন একটি গলি। গলির পথটি প্রায় ১০ ফুট চওড়া। ব্যাংকের পেছনে বাড়ি ও সামনে সড়ক। গলির কয়েক গজ দূরে বাঁ পাশে প্রয়াত আমিনুল হকের আধাপাকা বাড়ি।
পুলিশ বলছে, প্রায় ১০০ ফুট সুড়ঙ্গ তৈরি করতে অন্তত এক সপ্তাহ লেগেছে। গত শুক্রবার কিংবা শনিবার রাতের কোনো এক সময়ে চুরি করে সুড়ঙ্গ দিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো. শাহানশাহ জানান, ব্যাংকের ভল্টে একাধিক সিন্দুক ও আলমারি রয়েছে। ভল্টে ২৫ কোটি টাকার বেশি গচ্ছিত না রাখার নিয়ম থাকলেও এই শাখার ভল্টে অনেক বেশি টাকা রাখা হয়। সিন্দুক ও আলমারির বাইরে আরও টাকা রাখা ছিল। বাইরের সব টাকাই লুট হয়েছে। সুড়ঙ্গপথে বিদ্যুৎব্যবস্থাসহ কাঠ দিয়ে পিলার তৈরি করা ছিল।
পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান জানান, ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবাই তাঁদের নজরে রয়েছেন।
ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক শেখ মো. আমানুল্লাহ জানান, চুরির ঘটনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করা হবে।

নির্বাচনোত্তর সহিংসতা ৩১৫ মামলায় ৬৩ হাজার আসামি

৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের আগের রাত থেকে দেশজুড়ে সহিংসতায় ৩১৫টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় নামে-বেনামে আসামি করা হয়েছে ৬৩ হাজারের বেশি লোককে। এই আসামিদের ধরতে চলছে যৌথ বাহিনীর অভিযান।
এই অভিযানে পুলিশের হিসাব অনুসারে চলতি মাসের ১০ দিনেই গ্রেপ্তার হয়েছে ২২ হাজারের বেশি লোক। তবে পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, ২২ হাজারের মধ্যে নিয়মিত আসামিও রয়েছে।
এদিকে যৌথ বাহিনীর অভিযানকে কেন্দ্র করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনের পর থেকে এ পর্যন্ত কথিত বন্দুকযুদ্ধে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। গত শনিবার রাতে সাতক্ষীরা ও ঝিনাইদহে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত তিনজনই জামায়াত-শিবিরের কর্মী।
সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, ১৩ জনের মধ্যে নয়জন যৌথ বাহিনীর অভিযানের সময় কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা যান। আর চারজনের লাশ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে ১৮৭ নেতা-কর্মীকে গুম করার অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও এর কোনো পূর্ণাঙ্গ ও সুনির্দিষ্ট তালিকা বিএনপি দিতে পারেনি।
পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচন বানচাল করতে তফসিল ঘোষণার (২৫ নভেম্বর) দিন থেকেই দেশব্যাপী সহিংস তৎপরতা শুরু করেন বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা। আগুন ও ভাঙচুর করা হয় পাঁচ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। হামলা করা হয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। ভোটের পরে যশোর, সাতক্ষীরা, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুরসহ কয়েক জায়গায় হিন্দু বসতিতে হামলা চালানো হয়। এরপর সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে দেশব্যাপী অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তফসিল ঘোষণা থেকে ভোট গ্রহণের আগের দিন পর্যন্ত সহিংস ঘটনায় কত মামলা হয়েছে, আসামির সংখ্যা কত—সে সম্পর্কে সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে, অর্থাৎ তফসিল ঘোষণা থেকে নির্বাচনের পরদিন পর্যন্ত সারা দেশে নিহত হয়েছেন ১৪৬ জন। এর মধ্যে নির্বাচনের দিন ও পরদিন মারা গেছেন ২৪ জন। জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এত বিপুল প্রাণহানির ঘটনা দেশে আর কখনো ঘটেনি।
এখন আসামি গ্রেপ্তারের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। আছে গ্রেপ্তার-বাণিজ্যের অভিযোগও। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গতকাল প্রথম আলোকে বলেছেন, এভাবে সন্দেহভাজন আসামি গ্রেপ্তার স্রেফ ব্যবসার জন্য এবং লোক দেখানো।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার। প্রথম আলোকে তিনি বলেছেন, সুশৃঙ্খল বাহিনীর কার্যকলাপ নিয়ে এ রকম ঢালাও অভিযোগ করা সমীচীন নয়। পুলিশ কাজ করে আইনের আওতায়। কোথাও যদি তার ব্যত্যয় ঘটে, সে ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুসারে, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় দেশের ১৪টি স্থানে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় ১৮টি মামলা হয়েছে। ২৫ জেলায় মোট ৩১৫টি মামলার মধ্যে সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে যশোরে, ৬৩টি। গাইবান্ধায় ৫৩, দিনাজপুরে ৪৬, লক্ষ্মীপুরে ৩১ ও ঠাকুরগাঁওয়ে ২০টি মামলা হয়েছে। বেশির ভাগ মামলায় আসামি ‘অজ্ঞাত’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাবে নির্বাচনের পর ১৭ জানুয়ারি থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ১০ দিনেই গ্রেপ্তার হয়েছে ২২ হাজার ৪৮৯ জন। তবে এসব আসামির মধ্যে পুলিশের নিয়মিত গ্রেপ্তারের আসামিও রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে বিভিন্ন স্থানে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনা ‘ক্রসফায়ার’ নয় দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। গত রাতে বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘এগুলো ক্রসফায়ার নয়। অপারেশনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর আক্রমণ চালালে তারাও আত্মরক্ষার জন্য পাল্টা আক্রমণ চালায়। তখনই এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। সরকারবিরোধীদের ধরে নিয়ে হত্যা করার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ধরে নিয়ে হত্যা করার অভিযোগ সঠিক নয়।
নির্বাচনকেন্দ্রিক অস্থিরতার পাশাপাশি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের রায়কে কেন্দ্র করে সহিংসতায় ২০১৩ সালে ৫০৭ জন মারা যান। আহত হয়েছেন ২২ হাজার ৪০৭ জন। এর আগে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির একতরফা নির্বাচন-পূর্ব সহিংসতায় ৪১ জন মারা যান।

সা ভা রে রা না প্লা জা ধ স এখনো কেউ পাশে নেই

রানা প্লাজা ধসের পাঁচ দিন পর জীবিত উদ্ধার হন সুনীতা। হাসপাতালে পাঁচ দিন পর জ্ঞান ফিরেছিল তাঁর। অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় কাজও করতে পারছেন না।
সরকারের কাছ থেকে কোনো টাকাই পাননি সুনীতা। বিকাশের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা আর হাসপাতালে থাকাকালীন ২৭ হাজার টাকা পান তিনি। এর মধ্যে বিকাশের মাধ্যমে পান ক্রেতা প্রতিষ্ঠান প্রাইমার্কের দেওয়া অর্থ।
সুনীতা নিজের অসহায়ত্বের কথা বলেন এভাবে, ‘আমার ডান হাতের হাড় ভাঙা। তাতে রড ঢোকানো। মাথা ফেটে গিয়েছিল। পায়ে মেশিন পড়েছিল। সেই ব্যথা এখনো সারে নাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্বামী দিনমজুরি করে। আমি কাজ করতে পারি না। অনেক কষ্টে সংসার চলে।’
ব্র্যাক সেন্টারে গতকাল রোববার ‘রানা প্লাজা দুর্ঘটনা ও পরবর্তী পদক্ষেপসমূহ: প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের সর্বশেষ পরিস্থিতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসেছিলেন সুনীতা। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এই সভার আয়োজন করে।
আরও এসেছিলেন মুকুল বেগম। রানা প্লাজা ধসে নিউ ওয়েভ বটমের শ্রমিক মোজ্জামেল হোসেন মারা যান। তাঁরই স্ত্রী মুকুল বেগম এক মেয়ে নিয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছেন। তিনি বললেন, ‘২৪ তারিখ সকালে ভাত খাইয়া সেই যে গেল আমার স্বামী। আর ফিরে আইল না…।’
বলতে বলতে ঝরঝরিয়ে কেঁদে ফেলেন মুকুল বেগম। কাঁদতে কাঁদতে বলেন, সেদিন থেকে আমার ঘরে কোনো আলো জ্বলে না। আমার একটি মেয়ে আছে। স্বামীর স্বপ্ন ছিল মেয়েকে শিক্ষিত বানাবে। কিন্তু আমি এখন তাকে কীভাবে পড়াশোনা করাব। দিন যায় পাহাড়ের মতো।’
মুকুল বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী বেতন পেলেই মেয়ের জন্য ফলমূল নিয়ে আসতেন। কিন্তু এখন একটি কলাও কিনে দিতে পারি না মেয়েকে।’ মুকুল বেগমও দাফনের জন্য ২০ হাজার টাকা আর বিকাশের মাধ্যমে নির্ধারিত অর্থ ছাড়া কিছুই পাননি।
মুকুল বেগমের কান্না ছুঁয়ে যায় সবাইকে। শ্রমসচিব মিকাইল শিপার মুকুলের নাম টুকে নেন, আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে উপস্থিত সাংসদ ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি টিপু মুন্সী মুকুল বেগমের মেয়েকে পড়াশোনা বাবদ প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
হবিগঞ্জ থেকে এসেছিলেন রথীন্দ্রনাথ দাশ। তাঁর মেয়ে নির্মলা রানী দাশ এখনো নিখোঁজ। কাজ করতেন রানা প্লাজার নিউ ওয়েব বটম কারখানায়। দুর্ঘটনার পর লাশ পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত কোনো আর্থিক সহায়তাও পায়নি এই হতভাগা শ্রমিকের পরিবারটি।
রথীন্দ্রনাথ দাশনির্মলার বাবা রথীন্দ্রনাথ বলেন, ‘মেয়ের মজুরি দিয়েই সংসার চলত। আমার বয়স হয়ে গেছে। কাজ করতে পারি না। খুব কষ্টে সংসার চলছে।’ তিনি জানান, শুধু বিকাশের মাধ্যমে টাকা পেয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে কিছু পাননি। যদিও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছিলেন।
মরিয়ম বেগম ডান হাত হারান। দীর্ঘ চিকিৎসা করেও পুরোপুরি সুস্থ হননি। কৃত্রিম হাত লাগিয়েও ঘরের কাজ পর্যন্ত করতে পারেন না।
মরিয়ম বেগম বলেন, ‘আমি এখন কিছুই করতে পারি না। বাম না, ডান হাতটা থাকলে তো কিছু করতে পারতাম। কৃত্রিম হাত দিয়েছে। কিন্তু এত ভারী যে, পরলেই যন্ত্রণা হয়। তাই খুলে রাখি। আমার কাছে এটার কোনো মূল্য নাই। তিনি বলেন, ‘এমনিতে হয়তো দুই দিন বাঁচতাম। কিন্তু কৃত্রিম হাতটি পরলে মনে হয়, সেটিও আর পারব না।’ কৃত্রিম হাত নিয়ে সমস্যায় থাকা এই মরিয়ম অবশ্য সরকারের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা পেয়েছেন। মানুষের কাছ থেকেও পেয়েছেন কিছু সহায়তা।
এই মরিয়মের ডান হাত কেটে উদ্ধার করেছিলেন উদ্ধারকর্মী খোঁয়াজ আলী। বাড়ি মানিকগঞ্জ। কাজের জন্য অনেক দিন ধরেই সাভার থাকেন। বললেন, ‘২৪ এপ্রিল ঘটনার ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই আমি ঘটনাস্থলে যাই। উদ্ধারকাজ শুরু করি।’
খোঁয়াজ আলী বলেন, ‘উদ্ধারকর্মী অনেকেই এখন পর্যন্ত অসুস্থ। আমি নিজেও অসুস্থ। এখনো স্বাভাবিক জীবনে আসতে পারি নাই। ৮৫ শতাংশ উদ্ধারকর্মী শ্রমিক হওয়ায় অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না।’ তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত কারও কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পাননি উদ্ধারকর্মীরা। শুরুতে কিছু খরচ পেলেও বর্তমানে চিকিৎসার জন্য কেউ এগিয়ে আসছেন না।
মুকুল বেগমঅনুষ্ঠানে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করে সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম জানান, নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবারই সবচেয়ে খারাপ অবস্থার মধ্যে আছে। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় তাঁরা কোনো আর্থিক সহায়তা পাননি। অন্যদিকে আহত শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা যায়নি। দুই হাজার ৪৩৮ জন আহত শ্রমিকের মধ্যে মাত্র ৭১ জন আবার কাজে যোগ দিয়েছেন।
অথচ গত ১৪ জুলাই সংসদে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী জানিয়েছিলেন, রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পর্যায়ে এ পর্যন্ত প্রদান করা অর্থের পরিমাণ ১২৭ কোটি ৬৭ লাখ ৩৩ হাজার ৩৪৯ টাকা।
গতকালের অনুষ্ঠানে সিপিডি জানায়, এখন পর্যন্ত ১৮ কোটি ৮৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ করা হয়েছে। ৭৭৭ জন নিহত শ্রমিকের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে এককালীন এক লাখ করে টাকা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৪০ জন আহত শ্রমিককে ১০ থেকে ১৫ লাখ করে টাকা দেওয়া হয়। তবে এখনো অনেক শ্রমিক সহায়তার বাইরেই রয়ে গেছেন।
শ্রমসচিব মিকাইল শিপার বলেন, ডিএনএ পরীক্ষায় ১৫৭ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এখন তাদের একাধিক উত্তরাধিকার থাকায় কিছুটা সমস্যা আছে। তবে ১৩৬-১৩৮ জনকে শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রধানমন্ত্রীর তহবিলের অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করার দাবি জানান। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য শাহীন আনাম বলেন, ‘ক্ষতিপূরণসহ সব কাজে স্বচ্ছতা আনতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর তহবিলের টাকা কোথায় কীভাবে আছে সেটি আমরা জানি না। কিন্তু এই সরকার তথ্য অধিকার আইন পাস করেছে। তাই সরকারকে স্বপ্রণোদিত হয়ে এই তহবিলের তথ্য প্রকাশ করবে বলে আমরা আশা করি।’
প্রধানমন্ত্রীর তহবিলের অর্থ ব্যয়ের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করার আরও দাবি করেন সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, বিলসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাফরুল হাসান, উন্নয়নকর্মী মরিয়ম বেগম ও স্থপতি ইকবাল হাবিব।
ইকবাল হাবিব বলেন, ওয়েব বেইজ পোর্টাল করে সবকিছু প্রকাশ করা দরকার। এখানে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের তালিকার পাশাপাশি কে কত আর্থিক সহায়তা পেলেন তার সবই থাকবে। অন্য সব কর্মকাণ্ডের তথ্যও রাখতে হবে। এটি হলে কারও মধ্যে বিভ্রান্তি থাকবে না

সাইবার অপরাধীদের পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেফতার করা যাবে

সাইবার ক্রাইম এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন বিষয়ে কর্মশালার উদ্বোধন করলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার বেনজীর আহমেদ। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে এ কর্মশালার উদ্বোধন করেন তিনি।
ফেইসবুকে বাঁশের কেল্লা, নিউ বাঁশের কেল্লা পেইজ এর মতো সাইবার সন্ত্রাস প্রতিহত করতেও সবার প্রতি আহ্বান জানান ডিএমপি কমিশনার। তথ্য প্রযুক্তি আইনের আওতায় সাইবার অপরাধীকে পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেফতার করা যাবে বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, এটি জামিন অযোগ্য অপরাধ এবং সর্বনিম্ন ৭ থেকে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদন্ডের বিধান রয়েছে।

এনএসআইয়ের ডিএডি পদে ছাত্রলীগের ৩৭ জন

এনএসআইয়ের ডিএডি পদে ছাত্রলীগের ৩৭ জনআহমেদ জায়িফ | তারিখ: ০২-০২-২০১২

আগের সংবাদ জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) পদে ১৪২ জনের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এঁদের মধ্যে ৩৭ জনই ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক কমিটির নেতা-কর্মী।
গত ২৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এনএসআইয়ের ডিএডি পদে ১৪২ জনের নিয়োগপত্র ছাড়া হয়। তাতে ৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চাকরিতে যোগ দিতে বলা হয়।
নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের অনেকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান কমিটির নেতা-কর্মী। এঁদের নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার চেয়ে দলীয় বিবেচনাই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রথম আলোর অনুসন্ধানে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৭ জনের ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। এঁদের ১৩ জনই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা। তাঁরা বর্তমান কমিটির বিভিন্ন পদে রয়েছেন। বাকিদের মধ্যে ৩ জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল শাখার নেতা, একজন ইডেন কলেজ শাখার বর্তমান সাধারণ সম্পাদক, ১৪ জন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল শাখার সাবেক নেতা। বাকি ছয়জন ছাত্রলীগের ‘সক্রিয় কর্মী’।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এনএসআইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থাটির উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) পদে নিয়োগের জন্য ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে একটি তালিকাও পাঠানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এনএসআইয়ের ডিএডি পদে নিয়োগ পরীক্ষা হয় গত ২১ অক্টোবর। মিরপুর কমার্স কলেজে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় প্রায় তিন হাজার জন অংশ নেন। ২০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হয়।
পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছাত্রলীগের একাধিক নেতা-কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রবেশপত্র পাঠানো নিশ্চিত করতে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ১৪৫ জন নেতা-কর্মীর একটি তালিকা পাঠানো হয়। কিন্তু তালিকার অনেকেই প্রথম প্রবেশপত্র পাননি। এরপর ছাত্রলীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তদবির করে বাকিদের প্রবেশপত্র পাওয়ার ব্যবস্থা করে।
তবে এই সহযোগিতা করার কথা অস্বীকার করেছেন বর্তমান সভাপতি বদিউজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম। বদিউজ্জামান বলেন, ‘ছাত্রলীগের ৮-১০ জন নেতা-কর্মীর চাকরি হয়েছে বলে শুনেছি। মেধার ভিত্তিতেই তাঁরা নিয়োগ পেয়েছেন বলে জানি।’ আর সিদ্দিকী নাজমুল আলম বলেন, গোয়েন্দা সংস্থায় নিয়োগের সঙ্গে ছাত্রলীগের কোনো যোগাযোগ নেই।
নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী কয়েকজন প্রথম আলোকে বলেন, লিখিত পরীক্ষার পর উত্তীর্ণদের কোনো তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। তবে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে সংশ্লিষ্টদের সবার ঠিকানায় চিঠি পাঠানো হয়। গত ২৩ ডিসেম্বর মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগে ১৯ নভেম্বর ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার (সদ্য বিলুপ্ত কমিটি) সভাপতি শেখ সোহেল রানা ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ সাকিবের সই করা ৫২ জন নেতা-কর্মীর নামের একটি তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
জানতে চাইলে শেখ সোহেল রানা এ রকম তালিকা পাঠানোর কথা প্রথম আলোর কাছে অস্বীকার করেন। তবে সাজ্জাদ সাকিব এ রকম তালিকা পাঠানোর কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় নিজেদের নেতা-কর্মীদের জন্য কাজ করি। তাঁদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করি। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করেছেন, কিন্তু পদবি পাননি এবং যাঁদের পারিবারিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের নিয়ে তালিকাটি করা হয়েছিল।’
পরে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নামের তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়, ছাত্রলীগের প্যাডে পাঠানো তালিকা থেকে ২৪ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন। তাঁরা হলেন: ছাত্রলীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি সাজ্জাদ ইবনে রায়হান, মো. ফয়েজ উদ্দিন, মো. ওয়াসিম উদ্দিন, মো. মেজবাহ উদ্দিন ও মো. আজিজুল হক, যুগ্ম সম্পাদক এ জি এম সাদিদ জাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাজমুল হক, উপ-মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা সম্পাদক রাজীব কুমার দাস, উপ-প্রচার সম্পাদক মো. বাহারুল হুসাইন, ফজলুল হক মুসলিম হলের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, একই হলের সাংগঠনিক সম্পাদক তারিক হাসান, শহীদুল্লাহ হলের সহসভাপতি মো. ফরহাদ হোসেন, ‘সক্রিয় কর্মী’ সুমন বিশ্বাস, বিপুল চন্দ্র দাস ও আবদুল্লাহ আল মামুন, কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া কবীর, সাবেক সহসম্পাদক জিয়াউল হক, সাবেক উপ-কর্মসূচি প্রণয়ন ও পরিকল্পনা সম্পাদক দেওয়ান মনোয়ার হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সহসভাপতি পলাশ গোমস্তা, সাবেক প্রচার সম্পাদক আমজাদ হোসেন, সাবেক শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক মিয়া মাহমুদ হাসান, সাবেক সহসম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাবেক পরিবেশ সম্পাদক এফ এম ফয়সাল প্রমুখ।
ছাত্রলীগের পাঠানো ওই তালিকার বাইরে ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান কমিটিতে থাকা আরও ১৩ জন নিয়োগ পেয়েছেন। তাঁরা হলেন: বর্তমান কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সাইদ মাহমুদ, মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা সম্পাদক মো. আল-আমিন, তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মারুফ, উপ-প্রচার সম্পাদক দেবব্রত দাশ, ইডেন কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ফারজানা ইয়াসমিন, কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উপক্রীড়া সম্পাদক আজমুল হোসেন, সাবেক সহসম্পাদক আনোয়ার হোসেন মনির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক পরিকল্পনা সম্পাদক রেজাউল করিম, জিয়া হলের সাবেক সহসভাপতি মো. আহসান খান, ফজলুল হক হলের সাবেক সহসভাপতি সাইফ আহমেদ শাকিল, কেন্দ্রীয় সহসম্পাদক সাবেক এস কে সাইলক হোসেন, বঙ্গবন্ধু হল শাখার কর্মী শরীফুল আলম তানভীর ও জসীমউদ্দীন হল শাখার কর্মী মোহাম্মদ মেরাজুল ইসলাম।
জানতে চাইলে নিয়োগপ্রাপ্ত ছাত্রলীগের নেতা দেওয়ান মনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘তালিকা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে আমার নাম সেখানে আছে কি না, জানি না।’
নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় প্রাধান্য পাওয়ার কথাও অস্বীকার করে দেওয়ান মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘শুনেছি, পরীক্ষায় পাসের নম্বর প্রথমে ৮০ ধরা হয়েছিল। এরপর পাস নম্বর চার কমানো হয়েছে।’

ইন্ডিয়ান গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী (২)

মঈন ইউ আহমদ ছিল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার অতি বিশ্বস্ত। তাকে দীর্ঘ দিন থেকে ‘র’ নার্সিং করছিল। তাঁর নিজের লেখা বই-এ উল্লেখ করেছেন তখন তিনি সবে মাত্র ক্যাপ্টেন। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর। ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের সঙ্গে সেনা অভ্যুত্থানের লক্ষ্যে বঙ্গভবন আক্রমণ করেন। বঙ্গবভনে তাঁর দায়িত্ব ছিল তৎকালীন প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক আহমদকে বন্দী করা। তাঁর নেতৃত্বে খন্দকার মোশতাক বন্দী হন। খন্দকার মোশতাককে একটি রুমে ৩ দিন আটক রাখা হয়েছিল মঈন ইউ আহমদের নেতৃত্বে।

৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার সম্মিলিত বিপ্লবে পরাজিত হন খালেদ মোশাররফ। তখন বঙ্গভবন থেকে দেয়াল টপকে বের হয়ে বিপ্লবী জনতার কাতারে মিশে যান মঈন ইউ আহমদ। এসব কাহিনী তিনি নিজে লিখেছেন মঈন ইউ আহমদ তার বইয়ে। মঈন ইউ আহমদ তখন থেকেই ভারতীয় কব্জায়। কারন তখন খালেদ মোশাররফ ভারতের সহযোগিতায় ক্যু করেছিলেন। সেটা আঁচ করতে পেরেই সিপাহী জনতা সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করেছিল সেই ক্যু। সম্মিলিত বিপ্লবের কাছে পরাজিত হয়েছিল খালেদ মোশাররফ।

দুই,

চার দলীয় জোট সরকারের সময় ‘র’-এর অপারেশন সফল হয় মঈন ইউ আহমদ সেনা প্রধান নিয়োগ হওয়ার মাধ্যমে। এই নিয়োগের পর থেকেই জাতীয় সেনাবাহিনী ভারতের প্রতি পুরো ঝুঁকে পড়ে। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজি এফ আই-এর সহায়তায় ‘র’-এর জন্য পৃথক অফিস খোলা হয় তখনই। ‘র’-এর কৌশলি পরিকল্পনায়ই তখন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবরের মাধ্যমে র‍্যাবকে ব্যবহার করে ক্রস ফায়ারের নামে দেশ প্রেমিকদের হত্যা শুরু হয়। এই এনকাউন্টার পদ্ধতি ভারতেই প্রচলিত রয়েছে।

বিশেষ করে ইন্ডিয়া বিরোধী দেশ প্রেমিক বামপন্থি তাত্ত্বিক নেতা কামরুল মাস্টার, মোফাখখার চৌধুরীসহ অনেককে হত্যা করা হয় ক্রস ফায়ারের নামে। শেখ মহিউদ্দিন আহমদকেও লূতফুজ্জামান বাবর ক্রসফায়ারে পাঠায় তার ভারত বিরোধীতার জন্য। কিন্তু কয়েকজন জেনারেল সে পরিকল্পনা ভন্ডুল করে দেয়। তবে তার কয়েক ডজন কর্মীকে হত্যা করে বাবর। সর্বহারা দমনের নামে ইন্ডিয়া বিরোধী বাম পন্থিদের টার্গেট করে হত্যা মিশন চলতে থাকে তখন। চার দলীয় জোট ক্ষমতায় থাকা কালীন বিএনপির অনেক পরিক্ষীত যুব নেতাদের ক্রসফায়ার দিয়ে হত্যা করা হয়। কারন তারাই ছিল বিএনপি’র রাজপথ দখলের অন্যতম শক্তি। বিএনপি যাতে পরবর্তিতে রাজপথে দাড়াতে না পারে সেই ষড়যন্ত্রেই মূলত ক্রসফায়ারের নামে এসব হত্যাকান্ড চালানো হয়। সন্ত্রাস দমনের তাবিজ দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে তখন রাজি করানো হয় ক্রসফায়ারে সম্মত করা হয়।

ডিজিএফআই-এ তখন কৌশলে নিয়োগ দেয়া হয় জামায়াতে ইসলামীর পরিবারের সদস্য হিসাবে পরিচিত ‘র’-এর বিশ্বস্ত এজেন্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিনকে। আমিন তখন সেনা গোয়েন্দা সংস্থা ডি জি এফ আই-এর গুরুত্বপূর্ন কাউন্টার ইন্টিলিজেন্স এর ডাইরেক্টর পদে নিয়োগ পান। আমিনও ছিলেন ‘র’-এর নার্সিং-এ সরাসরি নিয়োগ প্রাপ্ত। বাহ্যিক দৃস্টিতে ব্রিগেডিয়ার আমিনকে জামায়াতে ইসলামী পরিবারের সদস্য এবং আলেমের ছেলে হিসাবে দেশপ্রেমিক ভাবতেন অনেকে। এমনকি জামায়াতও। কিন্তু আমিন ছিলেন মঈন ইউ আহমদের চেয়েও ভয়ানক ভারতপন্থি। ইসলামী মূল্যবোধ এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে ধ্বংসই ছিল তাঁর মূল এজেন্ডা। তাঁর এই মনোভাব বুঝতে পেরে দেশপ্রেমিক অনেক অফিসারের পক্ষ থেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে আপত্তি জানানো হয়। কিন্তু সেই আপত্তিতে বাধা দিতেন জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। তারা বলতেন আমিন তাদের পরিবারের সদস্য। কোন সমস্যা নেই।

বেগম খালেদা জিয়ার আরেক বিশ্বস্ত লে. কর্ণেল পদ থেকে চৌধুরী ফজলুল বারীকে রাতারাতি প্রমোশন দিয়ে বিগ্রেডিয়ার পদে উন্নীত করে নিয়োগ দেয়া হয় ডিজিএফআই-এর ডাইরেক্টর অপারেশন হিসাবে। এই পদে নিয়োগ দিতেই তাঁকে দেয়া হয় ডাবল প্রমোশন। ডিজিএফআই-এর ডাইরেক্টর অপারেশনের পদটিকে বলা হয় প্রধানমন্ত্রীর পর দ্বিতীয় পাওয়ারফুল চেয়ার। র‍্যাব-এ থাকাকালীন জাতীয়তাবাদী এবং দেশপ্রেমিক অনেক নেতাকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যাকান্ডে নেতৃত্ব দিয়েছেন এই চৌধুরী ফজলুল বারী। এছাড়া সাঈদ ইস্কান্দরের ভায়রা হিসাবে সূপরিচিত মাসুদ উদ্দীন চৌধুরীকে নিয়োগ দেয়া হয় সাভারের ৯ম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসাবে। মাসুদ চৌধুরী রক্ষীবাহিনীর সদস্য হলেও সে ছিল যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক নার্সিং পাওয়া অফিসার। মঈন, আমিন, বারী সকলেই ছিলেন সেনা বাহিনীতে ‘র’-এর এজেন্ট। ‘র’ কৌশলে তাদের বিশ্বস্ত এজেন্টদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিতে সক্ষম হয়ে শুরু করে দ্বিতীয় রাউন্ড। তাদের মাধ্যমে ২০০৭ সালে ১১ জানুয়ারী (১/১১) ‘র’ রাষ্ট্র ক্ষমতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

‘র’-এর তখন দ্বিতীয় রাউন্ড ছিল বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা তাদের পুরো নিয়ন্ত্রণে নেয়া। এই দ্বিতীয় খেলায় সফল হতে ব্যবহার করা হয় ইন্ডিয়াপন্থি পত্রিকা এবং টেলিভিশন চ্যানেল। চার দলীয় জোট সরকারের বিরুদ্ধে কাল্পনিক দুর্নীতির ফিরিস্তি প্রকাশ করা হতো তখন। মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছাড়ানোর লক্ষ্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গল্প প্রচার করা হতো ইন্ডিয়াপন্থি পত্রিকা গুলোতে। বিশেষ করে ইন্ডিয়াপন্থি প্রথম আলো এবং ডেইলিস্টার-এর মিশন ছিল মঈন ইউ আহমদকে ক্ষমতার কেন্দ্রে নিয়ে আসা। তাই ডেইলি স্টার, প্রথম আলো, চ্যানেল আই এবং সিপিডি’র তত্ত্বাবধানে তখন যোগ্য প্রার্থী আন্দোলন নামে একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়। তারা বিভিন্ন জেলায় জেলায় গিয়ে যোগ্যপ্রার্থী আন্দোলনের নামে সভা সেমিনার করতেন এবং রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে মানুষকে উস্কে দিতেন। ১/১১-এর মিশন সফল হওয়ার পর থেমে যায় তাদের যোগ্যপ্রার্থী আন্দোলনের নামে কর্মসূচি।—————————————-(চলবে)