মাথাব্যথা কার না হয়? শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই কখনো না কখনো মাথাব্যথায় ভোগেন।
মাথাব্যথার ধরন বা কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হয়। এ জন্য প্রথমে প্রয়োজন রোগ নির্ণয় করা।
মাথাব্যথা মূলত দুই প্রকার
ক. ব্যথার উৎস মাথার ভেতর: এমন সমস্যা প্রাইমারি হেডেক নামে পরিচিত। যেমন: মাইগ্রেন, টেনশন হেডেক, ক্লাস্টার হেডেক ইত্যাদি।
১. মাথাব্যথার তাৎক্ষণিক নিরাময় করার জন্য বিভিন্ন বেদনানাশক ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। আবার অতিরিক্ত বেদনানাশক ওষুধ সেবনও মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। তাই খুব প্রয়োজন না হলে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত যখন-তখন ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।
২. পরবর্তী সময়ে বারবার মাথাব্যথা যেন না হয় এবং ব্যথার তীব্রতা যেন কম থাকে, তার জন্য কিছু চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
ব্যথা কমাতে কিছু কিছু অভ্যাসও পরিবর্তন করতে হবে। অতিরিক্ত ধূমপান, মদ্যপান, মাদক সেবন, চ-কফি, অনিয়মিত এবং অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন, রোদ বা অতিরিক্ত গরম আবহাওয়ায় বেশিক্ষণ থাকা, অতিরিক্ত শারীরিক, মানসিক পরিশ্রম, ক্ষুধার্ত থাকা ও সময়মতো না খাওয়া, যেকোনো ধরনের মানসিক চাপ ইত্যাদি মাথাব্যথার কারণ। তাই এসব অভ্যাস পরিবর্তন করলে মাথাব্যথা অনেকাংশে কমে আসবে।
পাশাপাশি ইতিবাচক জীবনচর্চা, সুনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক বা মানসিক বিশ্রাম, পর্যাপ্ত ঘুম, মেডিটেশন ইত্যাদি মাথাব্যথার প্রকোপ কমাতে সাহায্য করে।
খ. ব্যথার উৎস যখন মাথার বাইরে: এটি সেকেন্ডারি হেডেক। এমন ব্যথার কারণটি বাইরে কোথাও রয়েছে, যাতে মাথাও আক্রান্ত হয়। যেমন: সাইনুসাইটিস, মাসটয়ডাইটিস, গ্লুকোমা, দাঁতের সমস্যা, আঘাত, মস্তিষ্কের টিউমার ইত্যাদি।
এ ক্ষেত্রে সাধারণত যে কারণে মাথাব্যথা হচ্ছে তা অনুসন্ধান করা জরুরি। একজন স্নায়ু বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা করলেই রোগ নিরাময় সম্ভব। ক্লিনিক্যাল নিউরোলজি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস।
Category Archives: খবর
২০১৩: সবচেয়ে বাজে পাসওয়ার্ড
কম্পিউটার বা ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ২০১৩ সালে যেসব পাসওয়ার্ড দিয়েছেন, সেগুলোর মধ্যে দুর্বলতম বা বাজে পাসওয়ার্ড দিয়েছেন সেসবের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা ও সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠার স্প্ল্যাশডেটা। এবার সবচেয়ে বাজে পাসওয়ার্ড তালিকার এক নম্বরে উঠে এসেছে 123456 পাসওয়ার্ডটি, যা ২০১২ সালের তালিকায় শীর্ষে থাকা বাজে পাসওয়ার্ডকে ঠেলে দিয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে। সবচেয়ে বাজে দশের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে আছে 12345678, চতুর্থ qwerty আর পঞ্চম স্থানে আছে abc123 পাসওয়ার্ডটি। অন্যান্য পাসওয়ার্ডের মধ্যে 111111 আছে সপ্তম আর iloveyou আছে নবম অবস্থানে। অনলাইনে প্রকাশিত অ্যাডোবি ব্যবহারকারীদের চুরি যাওয়া পাসওয়ার্ড গবেষণা করে স্প্ল্যাশডেটা তৈরি করেছে এই তালিকা। বেশি বেশি ব্যবহার করা পাসওয়ার্ডের এই তালিকা দেখে বোঝা যায় ব্যবহারকারীরা এখনো দুর্বল আর সহজে অনুমান করা যায় এমন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে নিজেদের এখনো ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন। স্প্ল্যাশডেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মরগ্যান স্লেইন বলেছেন, তালিকায় থাকা adobe123 বা photoshop-এর মতো পাসওয়ার্ড এটাই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যেন ওয়েবসাইটের নাম বা অ্যাপ্লিকেশনে প্রবেশ করা নামের ওপর ভিত্তি করে আপনার পাসওয়ার্ড তৈরি না করেন। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, ওয়েবসাইটে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড নীতিমালা আরোপ করার পরও তালিকায় ছোট সংখ্যার পাসওয়ার্ড দেখা গেছে। যেমন, তালিকার ১৬ নম্বরে আছে 1234, ২০ নম্বরে আছে 12345।
স্প্ল্যাশডেটার পরামর্শ হলো, সব ওয়েবসাইটে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার না করে প্রতিটির জন্য আলাদা পাসওয়ার্ড তৈরি করা। পাসওয়ার্ড এমন হতে হবে যেন ন্যূনতম আটটি বা তার বেশি অক্ষর থাকে, সেই সঙ্গে কোনো বিশেষ অক্ষর এবং সংখ্যা যুক্ত থাকে। পাসওয়ার্ডের পূর্ণাঙ্গ তালিকাটি পাওয়া যাবে goo.gl/JfrFNX ঠিকানার ওয়েবসাইটে।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেন এবার শেষ হাসি লি নার
অবশেষে আমি ইহা (অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ট্রফি) পাইলাম।’
লি না এমনটা তো বলবেনই। মেলবোর্নে আগের দুটি ফাইনালে হারের স্মৃতি ভুলে কাল নতুন ইতিহাস গড়লেন চীনের মেয়ে। স্লোভাকিয়ার ডমিনিকা সিবুলকোভাকে ৭-৬ (৭/৩), ৬-০ গেমে হারিয়ে প্রথম এশীয় হিসেবে জিতলেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেন।
লি না তো কাল শুধু সিবুলকোভার বিপক্ষেই খেলেননি। আগের দুটি ফাইনাল হারের তিক্ত স্মৃতির বিপক্ষেও লড়েছেন। এই ম্যাচের মতো আগের দুটি ফাইনালেও (কিম ক্লাইস্টার্স-২০১১ ও ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা-২০১৩) প্রথম সেটে জিতেছিলেন লি না-ই। তবে এবার আর অনভিজ্ঞ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করেননি। প্রতিপক্ষকে দুমড়ে-মুচড়েই জিতেছেন আরাধ্য শিরোপা। টাইব্রেকারে গড়ানো প্রথম সেটটা শেষ করতে ৭০ মিনিট লাগলেও, দ্বিতীয় সেটটা লি জিতে নিয়েছেন মাত্র ২৭ মিনিটেই।
‘ট্রফিটা কত কাছে’—ফাইনালের আগেই বলছিলেন লি না। সেই ট্রফিটা এবার হাতে তোলার পর কোর্টের মতো কোর্টের বাইরেও সপ্রতিভ লি না। আবেগে বলেই ফেললেন, ‘অবশেষে আমি এটাকে পেয়েছি। আগের দুটি ফাইনালে খুব কাছে গিয়েছিলাম।’
এরপরই আবেগ ছেড়ে বেরিয়ে এল চিরপরিচিত আমুদে এক মেয়ে। সিবুলকোভাকে ধন্যবাদ দেওয়ার পর নিজের সঙ্গী-সাথিদের ধন্যবাদ দিতে গিয়েই হাসির রোল ওঠালেন গ্যালারিতে। প্লেয়ার্স বক্সে বসা এজেন্ট ম্যাক্স আইজেনবাডকে উদ্দেশ করে বললেন, ‘এজেন্ট ম্যাক্স, তুমি আমাকে খুব ধনী বানিয়ে দিয়েছো। অনেক অনেক ধন্যবাদ।’
এরপর কোচ কার্লোস রদ্রিগেজকে প্রাপ্য ধন্যবাদটা দিয়ে মেতে উঠলেন স্বামী জিয়াং শানকে নিয়ে রসিকতায়, ‘ধন্যবাদ আমার স্বামীকে। সেও চীনে অনেক জনপ্রিয়। ওঁকে ধন্যবাদ সবকিছু ছেড়েছুড়ে আমার সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো জন্য। আমাকে অনুশীলনে সাহায্য তো আছেই, পানীয় বানিয়ে দিয়ে, র্যাকেটের তার মেরামত করে কত কাজই না তুমি করো। তুমি চমৎকার এক লোক, ধন্যবাদ তোমাকে। তুমি কত ভাগ্যবান আমাকে পেয়েছো।’
তিন বছর আগে ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়ের পর আবার গ্র্যান্ড স্লাম জয়, ৩১ বছর বয়সী লি না পেছনে ফেলে দিয়েছেন মার্গারেট কোর্টকে। লির আগে উন্মুক্ত যুগে সবচেয়ে বেশি বয়সে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতেছিলেন এই অস্ট্রেলীয় গ্রেটই। উন্মুক্ত যুগে বয়স ৩০ পেরিয়ে যাওয়ার পর গ্র্যান্ড স্লাম জেতা সপ্তম নারী খেলোয়াড় লি বয়সকে কোনো বাধাই মনে করছেন না, ‘আমি বলব বয়স-টয়স কিছুই না। এখনো আমি গ্র্যান্ড স্লাম জিততে পারি। তাই আমি আমার বয়স নিয়ে বেশ খুশি। কোর্টে অভিজ্ঞতা নিয়েই আমি নামতে পারি।’
এই জয়ে র্যাঙ্কিংয়েও এক ধাপ ওপরে উঠে তিনে আসছেন লি না। দুইয়ে থাকা আজারেঙ্কার সঙ্গে লিনার দূরত্ব ১১ পয়েন্ট। শীর্ষে সেরেনা উইলিয়ামসই।
হারলেও অতটা মন খারাপ ছিল না ‘পকেট রকেট’ সিবুলকোভার। ফাইনালে ওঠার পথে মারিয়া শারাপোভা ও আগ্নিয়েস্কা রাদভানস্কাকে হারিয়ে এরই মধ্যে অনেক গুণগ্রাহী পেয়ে গেছেন স্লোভাক মেয়ে। খুশি তা নিয়েই, ‘এটা ছিল আমার প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনাল। এটাকে যেভাবে সামলালাম, আমি খুশি। আমি চেয়েছিলাম নিজের সেরা খেলাটাই খেলতে। কিন্তু সে (লি না) এতই ভালোই খেলল যে, কাজটা সহজ ছিল না।’ এএফপি।
সবচেয়ে বেশি বেতন মেসির?
কে সেরা? ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, না লিওনেল মেসি? এই বিতর্কের মধ্যেই রোনালদো এক দিক দিয়ে একটু হলেও এগিয়ে। এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া ফুটবলার রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকাই। তবে স্প্যানিশ দৈনিক মার্কার দাবি সত্যি হলে মেসি শিগগিরই ছুঁয়ে ফেলবেন রোনালদোকে। এমনকি বার্সার নতুন সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ বলছেন, মেসিই হতে যাচ্ছেন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া খেলোয়াড়।
শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়ায় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কৌতূহলের বিষয়, বেতনের দিক দিয়ে মেসি কি রোনালদোকে ছুঁয়ে ফেলেন নাকি ছাড়িয়ে যান? এই মৌসুমে রিয়ালের সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছেন রোনালদো। ব্যালন ডি’অরজয়ী ফুটবলারের বার্ষিক আয় এখন ১ কোটি ৮০ লাখ ইউরো। মেসি বছরে পান ১ কোটি ৩০ লাখ ইউরো। বোনাসসহ ১ কোটি ৬০ লাখ ইউরো। নতুন চুক্তি হলে রোনালদোর সমানই বেতন পাবেন মেসি, জানিয়েছে মার্কা।
বলা প্রয়োজন, বার্সা সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানো সান্দ্রো রোসেল বহুদিন থেকেই চেষ্টা করে আসছিলেন মেসির সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে। একরকম পাকাপাকিও নাকি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু নেইমারের দলবদল বিতর্কে রোসেল পদত্যাগ করেছেন তিন দিন আগে। নতুন সভাপতি হাঁটতে চান রোসেলের পথেই। শিগগিরই মেসির সঙ্গে চুক্তি সেরে ফেলার ইচ্ছে তাঁর। পরশু সংবাদ সম্মেলনে সেটি জানিয়েও দিলেন।
প্রশ্ন উঠল, ‘রোসেল কেলেঙ্কারি’ চাপা দিতেই এত তড়িঘড়ি করছেন বার্তোমেউ? বার্সা সভাপতির আত্মপক্ষ সমর্থন, ‘মেসির চুক্তির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। সে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। খুব তাড়াতাড়ি আমরা ওর এজেন্ট হোর্হে মেসির (মেসির বাবা) সঙ্গে কথা বলব। আশা করছি, মেসিই হবে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া খেলোয়াড়।’ ওয়েবসাইট।
রাজীব হত্যা নর্থ সাউথের সাত ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে
ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যাকাণ্ডে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাত ছাত্রসহ আটজনের জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ রোববার বা কাল সোমবার এঁদের বিরুদ্ধে মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।
তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিবির উপকমিশনার শেখ নাজমুল আলম প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্তে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাত শিক্ষার্থী ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি মুহাম্মদ জসীমউদ্দিন রাহমানীর জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। গ্রেপ্তার হওয়া নর্থ সাউথের ছয় শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ, আদালতে দেওয়া তাঁদের জবানবন্দি এবং তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, জসীমউদ্দিন রাহমানীর বই পড়ে এবং সরাসরি তাঁর বয়ান ও খুতবায় অংশ নিয়ে ‘নাস্তিক ব্লগার’দের খুন করতে তাঁরা উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত হন। এরই ধারাবাহিকতায় ব্লগার রাজীব খুন হন। মামলার অভিযোগপত্রে রাহমানীকে ‘হত্যাকাণ্ডে অনুপ্রেরণাকারী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হলেন নর্থ সাউথের শিক্ষার্থী রেদোয়ানুল আজাদ ওরফে রানা। তাঁর গ্রামের বাড়ি ফেনীর দাগনভূঞার উত্তর জয়লস্করে। বাবার নাম আবুল কালাম আজাদ।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ও হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে আছেন মো. ফয়সাল বিন নাঈম ওরফে দীপ (২২), মাকসুদুল হাসান ওরফে অনিক (২৩), মো. এহসান রেজা ওরফে রুম্মান (২৩), নাঈম সিকদার ওরফে ইরাদ (১৯), নাফিস ইমতিয়াজ (২২) ও সাদমান ইয়াছির মাহমুদ (২০)। তাঁরা সবাই নর্থ সাউথের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের ছাত্র। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি তাঁদের বহিষ্কার করেছে।
মামলার আরেক তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিবির জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ অনুযায়ী, রেদোয়ানুলের পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থী গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পল্লবীর পলাশনগরের নিজ বাড়ির কাছে ব্লগার রাজীবকে (৩২) চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় হওয়া মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবি। ডিবি প্রথমে নর্থ সাউথের পাঁচ শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করে। ১ মার্চ রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর গ্রেপ্তার করা হয় আরেক শিক্ষার্থীকে। গ্রেপ্তার হওয়া ছয় শিক্ষার্থী ও জসীমউদ্দিন রাহমানী বর্তমানে কারাগারে আছেন। তবে মূল পরিকল্পনাকারী রেদোয়ানুল পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারের পর আসামিরা বলেন, রাজীব খুন হওয়ার দেড় মাস আগে তাঁরা তাঁদের ইউনিভার্সিটির বড় ভাই রেদোয়ানুলের কাছে শুনে ‘থাবা বাবা’র ব্লগ পড়তেন। রাজীব হায়দার ‘থাবা বাবা’ নামে ব্লগ লিখতেন। ‘মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) নিয়ে অবমাননাকর লেখা দেখে তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং লেখককে খুন করাটা তাঁদের ইমানি দায়িত্ব বলে মনে করেন।’ এরপর রেদোয়ানুলের নেতৃত্বে নর্থ সাউথের নামাজের ঘরে তাঁরা বৈঠক করে ব্লগার রাজীবকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। তাঁরা ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে রাজীবের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকেন। একপর্যায়ে শাহবাগের আন্দোলন শুরু হওয়ার পর তাঁরা রাজীবের ফেসবুকের স্ট্যাটাস থেকে জানতে পারেন, রাজীব শাহবাগে যাবেন। এরপর এহসান রেজা নামের তাঁদের একজন গত ৯ ফেব্রুয়ারি শাহবাগে গিয়ে রাজীবকে শনাক্তের চেষ্টা করেন। তিনি ফেসবুকের বন্ধুদের সূত্র ধরে দু-এক দিনের মধ্যে আবার শাহবাগে গিয়ে রাজীবকে শনাক্ত করেন।
মামলার তদন্তকারী ডিবির পরিদর্শক নিবারণ চন্দ্র বর্মণ বলেন, মামলার খুঁটিনাটি তদন্ত শেষে ১১ মাসের মাথায় আলোচিত এ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হচ্ছে। মামলার বাদী ও নিহতের বাবা নিজামউদ্দিন, হত্যাকাণ্ডস্থলের আশপাশের লোকজন, পুলিশ ও চিকিৎসকসহ ৫৫ জনকে মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে। হত্যার আগে যে দোকান থেকে আসামিরা সিমকার্ড ও চাপাতি-ছুরি কিনেছিলেন, দোকানমালিকেরা এ বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
ডিবির সূত্র জানায়, মামলাটি প্রথমে তদন্ত করেন ডিবির পরিদর্শক মো. মাইনুল ইসলাম। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ভিন্ন খাতে নেওয়ার অভিযোগ ওঠায় তাঁকে তদন্তভার থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
ডিবির কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, রাজীবের হত্যাকারীরা ধর্মভিত্তিক উগ্র মতাদর্শে বিশ্বাসী।
মামলার বাদী ও রাজীবের বাবা নিজামউদ্দিন গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, হত্যাকারীদের সঙ্গে রাজীবের কোনো বিরোধ ছিল না। তারা চিনতও না রাজীবকে। তিনি আরও জানান, পরিকল্পনাকারী রেদোয়ানুল ধরা পড়লে এর পেছনে প্রভাবশালী কারা আছে, হত্যার উদ্দেশ্য ও কারণ জানা যেত। তিনি মনে করেন, শাহবাগের আন্দোলন থামাতে একটি বড় চক্র রাজীবকে হত্যায় নর্থ সাউথের শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করেছে।
Devyani Khobragade Scandal: Why India Still Won’t Back Down
[advps-slideshow optset=”1″] Three weeks after the bilateral row began over the arrest of Indian diplomat Devyani Khobragade in New York City, the dust has yet to settle on the wintery streets of New Delhi. People may have stopped burning images of President Barack Obama, but India’s front pages still carry news of the ongoing fallout, detailing the tense exchanges between the U.S. and India over the strip search and detention of India’s deputy consul general in New York City, who India says had immunity at the time of her arrest.
On Dec. 12, U.S. State Department agents arrested Khobragade outside her children’s school in New York City, after which she was strip-searched and detained before being released on bail. She has been charged with making false declarations on a visa application for her Indian domestic worker, and has allegedly broken U.S. law by paying her employee below the minimum wage, among other alleged infractions.
Khobragade has denied all of the charges. In a letter to colleagues after her arrest, she wrote that she “broke down many times as the indignities of repeated handcuffing, stripping and cavity searches, swabbing, holdup with common criminals and drug addicts were all being imposed upon me.”
(MORE: Devyani Khobragade Scandal: The View From India)
U.S. officials have denied conducting a cavity search on the diplomat, and on Dec. 18, U.S. Attorney for the Southern District of New York Preet Bharara said in a statement that “Ms. Khobragade was accorded courtesies well beyond what other defendants, most of whom are American citizens, are accorded.” India claims, however, that because of Khobragade’s status at the time as an adviser to India’s U.N. mission, she was entitled to diplomatic immunity. On Dec. 30, a State Department deputy spokesperson said the government was “looking into it.”
The blowout has left Washington’s relationship with India on shaky and emotionally charged ground. New Delhi quickly retaliated with measures aimed at U.S. diplomats in India — among them the removal of traffic barriers outside the U.S. embassy in the Indian capital, restrictions on tax-free shipments and demands that the salaries of Indians employed by U.S. diplomatic staff be made public.
Indian officials have asked that the U.S. admit it was in the wrong, but U.S. Secretary of State John Kerry has so far said only that he expresses “regret” over the incident. To many Indians, that’s far from enough. U.S. handling of the affair has been “outrageous,” says Gopalaswami Parthasarathy, a former Indian ambassador who spent time in Washington. He says there was no reason to treat Khobragade so unceremoniously, and thinks the Indian government’s action has been in step with the national mood. “We cannot take this,” Parthasarathy says.
(VIDEO: Indian Diplomat’s New York City Arrest and Strip Search Sparks Fury at Home)
That the government has seized this particular moment to take a tough stand is probably not a coincidence. National elections are scheduled for a few months away, and the ruling Congress Party faces a tough fight to stay in power after a series of losses in recent state elections, most notably in New Delhi itself.
“This government has been criticized by its opponents as being excessively pro-American,” says Paranjoy Guha Thakurta, a political commentator in New Delhi. “This is a good opportunity for them to say, ‘O.K., we can act tough too. We want to know how much you are paying your gardener, and your person who works in the kitchen.’”
The jury is out on the long-term impact of that strategy. External Affairs Minister Salman Khurshid has sought to soften the tone, stressing the nations’ “valuable relationship.” Indeed, in 2011, the countries did some $86 billion in bilateral trade, and the world’s largest democracy is an increasingly crucial partner to Washington in a part of the world occupied by more unknown quantities like Pakistan and China, particularly as regional security gets ready to enter a new phase as when most foreign troops withdraw from Afghanistan this year. In a New Year’s message, U.S. Ambassador to India Nancy Powell ticked off the ways the nations have gotten along in recent years, while acknowledging ties have been “jolted by very different reactions to issues involving one of your consular officers and her domestic worker.” Like Kerry, Powell also expressed “regret” over the incident.
Will Washington and New Delhi dig their heels further into the sand, or find, as it were, a diplomatic solution? At this juncture, it’s hard to say. But some here argue that, pragmatically, India may not have a choice. “We bend over backwards for the U.S. in India and we expect the U.S. [to do the same],” says Mohan Guruswamy, founder and chairman of New Delhi think tank Centre for Policy Alternatives. That’s not going to happen, he says. “They are asking for reciprocity they won’t get.”
MORE: U.S. to Review Indian Diplomat’s Arrest and Strip Search After New Delhi Backlash
নেতাদের হাত সোনার নৌকায়, শিশুরা না খেয়ে রাস্তায়
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে মন্ত্রী-সাংসদদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার চলছেই। ছোট ছোট ছেলেমেয়েকে রাস্তায় কষ্ট দিয়ে মন্ত্রী-সাংসদেরা নিজ এলাকায় সংবর্ধনা নিচ্ছেন, গ্রহণ করছেন সোনার নৌকা উপহার।
গতকাল শুক্রবার রাজশাহীর বাঘায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাঁকে স্বাগত জানাতে গিয়ে কয়েক শ শিক্ষার্থী দুপুরে না খেয়ে রাস্তায় ছিল। এর আগে গত বৃহস্পতিবার মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া ও ফরিদপুর শহরেও সহস্রাধিক স্কুলশিক্ষার্থীকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। ত্রাণ ও দুর্যোগব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সংবর্ধনা দিতে গিয়ে তাদের রাস্তায় নামান আয়োজকেরা।
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ২০৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় আজ শনিবার ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কারণ, দিনাজপুর-৫ আসনের সাংসদ প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানকে সংবর্ধনা দেবে ওই সব বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
দুপুরে না খেয়ে রাস্তায়: নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমকে গতকাল রাজশাহীর বাঘা উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। প্রতিমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে রাজশাহীর চারঘাট ও বাঘা উপজেলার বিভিন্ন সড়কে অর্ধশতাধিক তোরণ নির্মাণ করা হয়। বাঘা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে অনুষ্ঠানস্থল পর্যন্ত দুই সারিতে দাঁড় করানো হয় বিভিন্ন বিদ্যালয়ের কয়েক শ শিক্ষার্থীকে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, দুপুরের আগেই তাদের নিজ নিজ বিদ্যালয়ে আসতে বলা হয়। রহমতুল্লাহ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী শারমিন সুলতানা ও আঞ্জুমান সিদ্দিকা বলে, তারা দুপুর ১২টায় বিদ্যালয়ে আসে। কিছু খায়নি। বাঘা ইসলামী একাডেমি উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র শাকিল আহাম্মেদ বলে, সে বিদ্যালয়ে এসেছে বেলা ১১টায়। তারও দুপুরে কিছু খাওয়া হয়নি।
জানতে চাইলে রহমতুল্লাহ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিশিপদ সরকার প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষার্থীদের বাড়ি থেকে একটু সকাল করে দুপুরের খাবার খেয়ে আসতে বলা হয়েছিল। সে জন্য তাদের বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে খাবারের আয়োজন করা হয়নি।








রাত আটটা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চললেও সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে উপস্থাপক উপজেলা যুবলীগের সভাপতি বাবুল ইসলাম ঘোষণা দেন, যেসব বিদ্যালয়ের বাচ্চারা দুপুরে না খেয়ে অনুষ্ঠানে এসেছে, তারা চলে যেতে পারে। এ ঘোষণার পর ছেলেমেয়েরা বাড়িতে ফিরে যায়।
দুটি সোনার নৌকা পেলেন তিনি: ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সাংসদ শরীফ আহমেদকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল তারাকান্দা উপজেলার সিঅ্যান্ডবি মাঠে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কয়েক হাজার লোক উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সাংসদকে দুটি সোনার নৌকা উপহার দেওয়া হয়। একটি দেন তারাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন এবং উপজেলার ১০ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা। অপরটি দেয় বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন তারাকান্দা-ফুলপুর উপজেলা শাখা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তারাকান্দা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান আকন্দ।
এর আগে সাংসদ ময়মনসিংহ থেকে গোপালপুরে পৌঁছালে দলীয় নেতা-কর্মীরা তাঁকে মোটর শোভাযাত্রা করে সংবর্ধনাস্থলে নিয়ে আসেন।
নাটোরেও সোনার নৌকা: সংবর্ধনা পেয়েছেন নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত সাংসদ আবুল কালাম আজাদও। দিয়েছে বাগাতিপাড়া উপজেলার গফুরাবাদ উচ্চবিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল বিকেলে গফুরাবাদ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ওই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সভাপতি আবদুস সাত্তার সাংসদের হাতে সোনার নৌকা তুলে দেন।








সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা জানান, আজ বেলা তিনটায় জ্ঞানাঙ্কুর পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। এ জন্য উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয় এক দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
পার্বতীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান আতিকুর রহমান বলেন, স্কুল ছুটি দিলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি হয়। তার পরও এলাকার মন্ত্রী হিসেবে শিক্ষকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) ছুটি মঞ্জুর করায় সব শিক্ষক সংবর্ধনা সভায় অংশ নিতে পারবেন।
[প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন আমাদের রাজশাহীর নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর, ফুলপুর (ময়মনসিংহ) ও পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি]
এবার পাঁচ নাবালকের ধর্ষণের শিকার নাবালিকা!
এবার ভারতের আসামের গুয়াহাটিতে এক নাবালিকা গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। আর পাঁচ ধর্ষকের সবাই মেয়েটির নাবালক প্রতিবেশী।
তার খেলার সাথিও। এদের প্রত্যেকের বয়স ১২ থেকে ১৬। এর মাধ্যমে আরো একবার কলঙ্কের জন্মদিলো ভারত। আরো একবার প্রশ্নের সম্মুখিন হলো নাবালকত্বের সংজ্ঞা। প্রশ্নের মুখে শৈশবের অর্থ।
১২ বছরের মেয়েটি খেলছিল তার পাঁচ বন্ধুর সাথে। সেই বন্ধুরাই তাকে একটি বাড়িতে ধরে নিয়ে গিয়ে সারারাত ধরে যৌন অত্যাচার ও ধর্ষণ চালায়!
ঘটনার পরের দিন কিশোরীর বাবা-মা তাকে বাড়িটি থেকে খুঁজে পেয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে মেডিক্যাল পরীক্ষায় ধর্ষণের বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
পাঁচ অভিযুক্ত কিশোর বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। বুধবার তাদের আদালতে হাজির করা হবে। নির্যাতনের শিকার মেয়েটি বর্তমানে আসামের ‘স্টেট হোম ফর উইমেন` এর পুনর্বাসণ কেন্দ্রে রয়েছে ।
দিল্লি গণধর্ষণে দোষী পাঁচ জনের মধ্যে যে নাবালক ছিল, তার ভূমিকা ছিল নৃশংসতম। চলন্ত বাসে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয়েনি সে। মেয়েটির গোপনাঙ্গে একটি লোহার রড ঢুকিয়ে মারাত্মক জখমও করেছিলো।
এই ঘটনার পরপরই ভারতে বিতর্ক শুরু হয় ‘নাবালকত্ব’র বয়সসীমা নিয়ে। জোরালো দাবি উঠেছিল সাবালক হওয়ার বয়স ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ করার। কিন্তু সংসদে সেই দাবি খারিজ হয়ে যায়।
আসামের এই ঘটনা আরো একবার সেই বিতর্ককেই চাগিয়ে দিল।
খেলা
খেলা
বাংলাদেশের ছেলে মুম্বাইয়ে সুপার মডেল
সেপ্টেম্বর ২০১৩। বলিউড দুনিয়ায় তোলপাড়। বিশ্বখ্যাত রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস’-এর উপস্থাপক হিসেবে আবার হাজির সুপারস্টার সালমান খান। সেই উত্তেজনা ফিকে না হতেই ‘বিগ বস’ ঘিরে আবারও হুলস্থুল। ‘বিগ বস’-এর ঘরে আসছেন নতুন এক অতিথি। কিন্তু কে তিনি? ইন্ডিয়া টুডে থেকে এনডিটিভি—সব সংবাদমাধ্যমে খবর আসছে একের পর এক। সম্ভাব্য অতিথি সম্পর্কে পত্রপত্রিকা আর ওয়েবসাইট আভাস দিতে শুরু করেছে, ‘তিনি ভারতের এযাবৎকালের সেরা মডেলদের একজন।’ ‘ভারত তো বটেই, বিশ্বের বহু নামীদামি ফ্যাশন ডিজাইনারের সঙ্গে কাজ করেছেন মুম্বাইয়ের বান্দ্রার বাসিন্দা এই মডেল।’
‘বিশ্বসেরা ফ্যাশন আর লাইফস্টাইল সাময়িকী ভোগ-এর পাতায় তাঁকে দেখা গেছে।’
অবশেষে ঘনিয়ে এল ‘বিগ বস’-এর সেই বিশেষ পর্ব। বলিউডের চেনা মুখ ‘বিগ বস’-এর সব প্রতিযোগী অপেক্ষমাণ।
চোখে উৎকণ্ঠা আর কৌতূহল। সুইমিংপুলের নীল পানি ঘিরে দানা বেঁধেছে রহস্য। ভেজা শরীর। খালি গা। উচ্চতা ঝাড়া ছয় ফুট। সাঁতারের পুকুর থেকে উঠে এলেন সুপার মডেল আসিফ আজিম!








সেখানে বেড়ে উঠছে এক দুরন্ত বালক। গ্রামের বাকি আট-দশটা ছেলের মতোই পুকুরে ঝাঁপিয়ে, দিনভর ছুটোছুটি করে দিন কাটে তার। পাঠক, আপনার অনুমান শতভাগ সঠিক। একটু অবিশ্বাস্য হয়তো ঠেকবে। কিন্তু আমাদের আমঝুপি গ্রামের সেই দুরন্ত কিশোরই আজকের সুপার মডেল আসিফ আজিম।
চলচ্চিত্রনগর মুম্বাইয়ে আসিফ আজিমের সাফল্যের খবর কানে আসছিল বহুদিন ধরেই। ‘বিগ বস’ অনুষ্ঠানেও তাঁকে দেখা যাচ্ছিল নিয়মিত। কিন্তু আসিফের নাগাল পাওয়ার উপায় কী? আসিফ আজিমের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো সাড়া নেই। খবরটা দিলেন নির্মাতা রেদওয়ান রনি। দেশে এসেছেন আসিফ আজিম।
২০ জানুয়ারি রাত প্রায় ১২টা। মাথায় ফ্যাশনেবল ক্যাপ। পরনে ধূসর ট্রাউজার। ধানমন্ডিতে উঠেছেন বোনের বাসায়। সেখান থেকে নিজেই গাড়ি চালিয়ে হাজির গুলশান, পপকর্ন এন্টারটেইনমেন্টের অফিসে। এসেই হাসিমুখে হাত বাড়িয়ে দিলেন:
‘আমি আসিফ।’
শুরুতেই ‘বিগ বস’ টিভি শোতে সেই ‘হট এন্ট্রি’ প্রসঙ্গ। ‘আসলে “বিগ বস”-এ আসার প্রস্তাব আগেও পেয়েছিলাম।’
‘এবার সব ঠিকঠাক মিলে গেছে। আমার আগমনটা বিশেষভাবে হবে—এটা ঠিক করা ছিল। আমার পানিতে নামার খুব ইচ্ছে ছিল না। তারপর ভাবলাম করি, এই আর কী। যে রকম হয়।’ আসিফের জবাব।
আসিফ মেহেরপুর থেকে ঢাকা এসেছিলেন মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে। উঠেছিলেন ঢাকায় বড় ভাইয়ের বাসায়।
ভর্তি পরীক্ষার প্রায় আগে আগেই খুব দুঃখজনক একটা ঘটনা ঘটে। হুট করে মারা যান তাঁর বড় ভাই। সেই দুঃখ সামলে নিয়ে আসিফ পড়ালেখা চালিয়ে যেতে থাকেন। ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে। মডেলিংয়ের দিকে আগ্রহ পরিচিত মানুষজনের কথা থেকেই।
‘সবাই এমনি কথায় কথায় বলত, আমাকে দেখতে মডেলদের মতো লাগে। আমি কেন ট্রাই করি না, এই সব। তো ভাবলাম, একটা ট্রাই করি। সে কারণেই একদিন গিয়েছিলাম ফ্যাশন হাউস আলতামিরার অফিসে। সেখান থেকেই শুরু। সঙ্গে ছবি নিয়ে যেতে হয় তাও জানি না। ওখানে একটা মেয়ে ছিল, তামান্না। ও-ই সব ঠিকঠাক করে দিয়েছিল।’
তারপর মডেলিং শেখা আর কাজের সন্ধানে ঘুরোঘুরি। চোখের সামনে আইকন বলতে ছিলেন বিবি রাসেল। বহু কাঠখড় পুড়িয়ে তাঁর দেখাও পেয়েছিলেন। কিন্তু আজকের সুপার মডেল আসিফ আজিমের সত্যিকার ‘টার্নিং পয়েন্ট’ কোনটা?
`নকশা।’ আসিফের ত্বরিত জবাব।
বটে? এটা কি কোনো রসিকতার অংশ?
সব্যসাচী মুখার্জি, মণীশ মালহোত্রা, রোহিত বাল—এঁরা কেউ নন?
‘মোটেও না। প্রথম আলোর লাইফস্টাইল পেজ নকশাই আমার টার্নিং পয়েন্ট।’ আসিফ রীতিমতো সিরিয়াস।
খুলে বললেন বাকিটা। ‘সম্ভবত ২০০০ সালের গোড়ার দিকে কোনো একটা সময়ে আমার একটা ছবি ছাপা হয়েছিল নকশার প্রথম পাতায়। গায়ে ছিল খয়েরি রঙের পাঞ্জাবি। নকশার প্রথম পাতায় ওই ছবিই আসলে আমাকে প্রথমবারের মতো বড় সুযোগ করে দেয়। এর পরপরই আমি আড়ং, অ্যাকটেল, ক্যাটস আইয়ের মতো দেশীয় বড় ব্র্যান্ডগুলোর মডেল হওয়ার ডাক পাই।’
দুই ‘তা’কে তাঁর ক্যারিয়ারে খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন আসিফ। একজন ব্র্যাকের তামারা আবেদ। আরেকজন আলতামিরার তামান্না নামের সেই মেয়ে, যাঁর দেখা আর কখনো পাননি আসিফ।
‘আড়ংয়ের পোশাকের মডেল হিসেবে একটা বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিংয়ে মুম্বাই গিয়েছিলাম। সেবারই প্রথম বিমানে চড়ার অভিজ্ঞতা। সঙ্গী নারী মডেল আমাকে দেখে ঠিক কেন যেন ভরসা পাচ্ছিলেন না। কিন্তু জানতাম, আমি কাজটা পারব। ভালোমতোই পারব।’








ঠিক সেই মুহূর্তে আসিফ মনে মনে ঠিক করেছিলেন, এই শহরে তিনি আবার আসবেন। হয়েছেও ঠিক তা-ই।
মুম্বাইয়ে সেই শুটিং দিয়ে শুরু। এখন আসিফের জীবনের বড় একটা সময় কাটে বিমানে। পৃথিবীর এমাথা-ওমাথা চষে বেড়িয়ে। কখনো স্পেন, কখনো সিডনি, কখনো ইন্দোনেশিয়ার বালি, কুয়ালালামপুর, দুবাই। সর্বভারতের ‘ফিটেস্ট মেল মডেল’দের তালিকায় তাঁর অবস্থান এখন চার। মোটামুটি দম ফেলার ফুরসত নেই। নয় কি দশ বছর হয়ে গেল মুম্বাইয়ে আবাস গড়েছেন আসিফ।
ভারতের বেঙ্গালুরু থেকে মুম্বাই-জয়ের অভিযান শুরু আসিফের। ২০০৬ সালে হেমেন ত্রিবেদীর একটি ফ্যাশন শো দিয়ে প্রথম সবার নজরে আসেন আসিফ। একই বছরে সাড়া ফেলে দেয় তাঁর করা মটোরোলা ফোনের বিজ্ঞাপনচিত্র। এখন তাঁর ঝুলিতে জমা হয়েছে ভারতের প্রথম সারির সব ডিজাইনারের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা। কদিন আগেও মুম্বাইয়ের আরেক নামী র্যাম্প মডেল ক্যান্ডিস পিন্টোর সঙ্গে তাঁর প্রেম নিয়ে বেশ সরব ছিল বলিউড মিডিয়া। আসিফের চোখ এখন বলিউডের বড় পর্দায়। ভারতের কয়েকটা পত্রিকায় এরই মধ্যে খবর বেরিয়েছে, বলিউডের সিনেমা-জগতে পা রাখতে চলেছেন সুপার মডেল আসিফ আজিম। আর আসিফ কী বলেন?
‘এখনই কিছু বলতে চাই না। তবে আশা করছি। খুব দ্রুত একটা ভালো খবর দিতে পারব।’
আলাপ-পর্ব ফুরোতে গভীর রাত। আসিফ উঠেছেন ঢাকায় তাঁর বোনের বাসায়। এত রাতে একা গাড়ি চালিয়ে যাবেন। তাই তাঁকে সঙ্গ দিতে যাচ্ছি ধানমন্ডি অবধি। আসিফ পেছনের আসনে।
তাঁকে একটা প্রশ্ন না করে পারি না। আসিফ আজিম হওয়ার মূলমন্ত্রটা কী? জবাব সম্ভবত তৈরিই ছিল, ‘স্বপ্ন। স্বপ্নটা বড় হওয়া চাই। কে না জানে একটা ঢিল দশতলা লক্ষ্য করে ছুড়লে সেটা কেবল দশতলা অবধিই পৌঁছাবে। আর আকাশের দিকে ছুড়লে সেটার সম্ভাবনা অসীম। স্বপ্নের সঙ্গে চাই সততাও। ‘বিগ বস’ আমার জীবনের ছোট একটা অংশ মাত্র। হার-জিতের চেয়েও আমি সবার আগে ভেবেছি, সবাই যেন আমার শিকড় সম্পর্কে খারাপ কিছু না ভাবে। এই শোতে অনেক ধরনের বাজে পরিস্থিতির মধ্যে আমি পড়েছি। এমন হয়েছে, গরম পানিতে গোসল করছি, হঠাৎ বরফঠান্ডা পানি গায়ে এসে পড়ল। বিগ বসের ঘরে প্রায় দিনই খাবার পেতাম না। অন্যরা খাবার লুকিয়ে রাখত। কিন্তু আমি সব সময় মাথা ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করেছি। নিজেকে বুঝিয়েছি। জীবনে অনেক কষ্ট সয়েছি, এই কষ্টও সইতে পারব। আমার দেশ বাংলাদেশ। বাংলাদেশিরা বড়দের সম্মান করে। আর শত অভাব-সংকটের মুখেও নিজের সম্মান বিসর্জন দেয় না।’








বিশ্বখ্যাত টিভি রিয়েলিটি শো ‘বিগ ব্রাদার’-এর ভারতীয় সংস্করণ ‘বিগ বস’। এই টিভি শোতে প্রতিযোগীরা বিশেষ একটি ঘরে বাস করেন। তাঁদের সঙ্গে বাইরের দুনিয়ার যোগাযোগ থাকে না বললেই চলে। প্রতিযোগীদের প্রায় সার্বক্ষণিক ক্যামেরায় ধারণ করা হয়। ‘বিগ বস’ থেকে আসিফ আজিমের বিদায় নেওয়ার ঘটনাতেও বড় ধরনের হুলস্থুল ছিল বলিউড মিডিয়ায়। আগের সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েও পরের দফায় আসিফের অপ্রত্যাশিত বিদায় মেনে নিতে পারছিলেন না অনেকেই। ‘বিগ বস’-এর ঘরে সালমানের প্রিয় পোষা কুকুরের সঙ্গে আসিফের সখ্য ছিল মুম্বাইয়ে ‘টক অব দ্য টাউন’। শোয়ের উপস্থাপক সালমান খান জড়িয়ে ধরেছিলেন বিদায়ী আসিফকে। সালমানের সেই ভ্রাতৃসুলভ আলিঙ্গন বানোয়াট কিছু ছিল না। প্রমাণ মিলল কদিন পরেই। সালমান খান তাঁর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন আসিফ আজিমকে। পুনের কাছাকাছি একটা জায়গায় সালমান খানের সুবিশাল খামারবাড়িতে ছিল জন্মদিনের উৎসব।
সেদিন প্রথম কথাটা কী ছিল সালমানের?
‘হিন্দি শেখা কেমন চলছে? এটাই ছিল সালমানের প্রথম কথা।’ বলছিলেন আসিফ। তাঁর ভাষায়, ‘হিন্দি শেখা খুব কঠিন। ইংরেজিতে কথা বলতে পারলে “বিগ বস”-এ আরও বেশি সুবিধা হতো আমার জন্য।’








