নারী, মাদক, সফটওয়্যার আর ম্যাকাফি

রহস্যময় বর্ণিল এক মানুষ জন ম্যাকাফি। কিন্তু কে আসল ম্যাকাফি? কুখ্যাত মাফিয়া, মাদক আর নারী কেলেঙ্কারির মতো অভিযোগ মাথায় নিয়ে বেড়ানো ব্যক্তিটি, নাকি বিশ্বের বিখ্যাত অ্যান্টিভাইরাস নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান ম্যাকাফির প্রতিষ্ঠাতা? সম্প্রতি বিবিসি অনলাইন জন ম্যাকাফিকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যাতে উঠে এসেছে ম্যাকাফির জীবনের নানা অধ্যায়।
গোপন একটি প্রকল্প নিয়ে আবারও আলোচনায় ম্যাকাফি। কয়েক বছর ধরেই তিনি গোপনে একটি যন্ত্র নির্মাণ করে যাচ্ছেন। ম্যাকাফির দাবি, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের নজরদারি থেকে আড়াল করতে পারবেন তিনি।
মার্কিন গোয়েন্দারা সবার ব্যক্তিগত তথ্যে নজরদারি করছেন এমন তথ্য ফাঁস করে দিয়েছিলেন সিআইএর সাবেক কর্মী অ্যাডওয়ার্ড স্নোডেন। এ তথ্য ফাঁস করার পর বিশ্বব্যাপী ব্যক্তিগত তথ্যে নজরদারির বিষয়টি নিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে। গোয়েন্দারা যাতে ব্যক্তিগত তথ্যে নজরদারি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে ১০০ মার্কিন ডলার দামের একটি প্রযুক্তিপণ্য তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন ম্যাকাফি। যন্ত্রটির নাম ‘ডি-সেন্ট্রাল’। যন্ত্রটি মুঠোফোন ও অন্যান্য পণ্যের নিরাপত্তাব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। যন্ত্রটি নিজস্ব ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা তৈরি করতে সক্ষম হবে, যাতে ব্যবহারকারী ছাড়া আর কারও পক্ষে নজরদারি সম্ভব হবে না বলেই দাবি করেন ম্যাকাফি।

ডি-সেন্ট্রাল তৈরির কথা জানানোর আগে থেকেই প্রযুক্তি বিশ্বে ‘কিংবদন্তি’ হিসেবে খ্যাতি জুটেছে তাঁর। কিন্তু ম্যাকাফির ‘গোপন’ জীবনের ঘটনার সঙ্গে মানুষের পরিচয় ঘটে ২০১২ সালে। এ সময় তাঁকে নতুন করে আবিষ্কার করে মানুষ। চুলে রং করা, বাঁধানো দাঁত আর ছদ্মবেশী এক মার্কিন নাগরিক হিসেবে তাঁকে পাওয়া যায়। এর আগে তাঁর জীবনে ঘটে যায় এক ঝড় তোলা ঘটনা। ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে মধ্য আমেরিকার দেশ বেলিজের বাসিন্দা থাকাকালে ম্যাকাফির এক পড়শি খুন হলেন। পুলিশের চোখে ম্যাকাফি হয়ে ওঠেন সন্দেহভাজন। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি পুলিশের চোখ এড়িয়ে, ছদ্মবেশে ঢুকে পড়েন প্রতিবেশী দেশ গুয়াতেমালায়। রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েও পাননি; বরং কারাগারে যেতে হয়েছিল তাঁকে। সেখান থেকে তিনি ফেরেন যুক্তরাষ্ট্রে এবং তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে অল্পবয়সী বান্ধবীদের সঙ্গে ম্যাকাফির খালি গায়ে তোলা ছবি আবারও নানা আলোচনার জন্ম দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রে ‘বিপজ্জনক’ ব্যক্তি হিসেবে সন্দেহের তালিকায় এখন ম্যাকাফি। বিবিসিকে অবশ্য ম্যাকাফি বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে যত অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর সত্যতা নেই। ম্যাকাফির সাক্ষাত্কার নেওয়া এক সাংবাদিক সব সময় তাঁকে ‘খামখেয়ালি’ বলে সম্বোধন করেন। ম্যাকাফি নিজের সম্পর্কে সিলিকন ভ্যালির সবচেয়ে বাজে লোকের তকমার কথা স্বীকারও করেন। তবে এর বাইরেও ম্যাকাফি নিজেকে পরিচয় দেন একজন উদ্যোক্তা হিসেবে।

ম্যাকাফি নিজের সম্পর্কে বলেন, ‘আমি কৌতূহলী এবং সমস্যা সমাধান করতে ভালোবাসি। তবে আমি নিজের নামে তৈরি কোনো পণ্য ব্যবহার করি না। নিজেকে নিরাপদ রাখতে সব সময় নিরাপদ কম্পিউটিং করি। পর্নো সাইটে যাই না, ভাইরাস থাকতে পারে, এমন লিংকে যাই না।’

ম্যাকাফি বলেন, আমরা যখন রাস্তা খুঁজে নিয়ে চলতে শুরু করি, খোলস ছেড়ে বের হই, তখনই কেবল আমরা নির্ভয়ে সে পথে যেতে পারি এবং এতে সাফল্য আসে এবং সত্যিকারের সৌন্দর্যের খোঁজ পাওয়া যায়।

জন ম্যাকাফি সম্পর্কে তাঁর বেলিজের এক নারী সঙ্গী জানিয়েছেন, অসাধারণ একজন মানুষ আর রোমাঞ্চপিয়াসী তিনি। তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা বলেন, খামখেয়ালি এই মানুষটাকে আসলে বোঝা খুব শক্ত। বয়স্ক একজন মানুষ কমবয়সী অনেকগুলো মেয়ে নিয়ে আনন্দ করছেন আবার কাজের ক্ষেত্রে দারুণ মনোযোগী। কে আসল জন ম্যাকাফি, সেটাই বোঝা কঠিন।

প্রযুক্তির ইতিহাসে বর্ণিল, রহস্যময় একজন মানুষ জন ম্যাকাফি। একদিকে নতুন নতুন উদ্ভাবন, অন্যদিকে মাদক তৈরিসহ বিশ্বের ভয়ংকর সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আছে বলে সন্দেহ করা হয়।

জন ম্যাকাফির সঙ্গে বর্তমানে ম্যাকাফি অ্যান্টিভাইরাস প্রতিষ্ঠানটির কোনো সম্পর্ক নেই। ১৯৯০ সালের শুরুর দিকে তিনি ম্যাকাফি বিক্রি করে দেন। ২০০৮ সাল থেকে তিনি বেলিজে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করেছিলেন। রোমাঞ্চপ্রত্যাশী জন ম্যাকাফি ছোটবেলা থেকেই নতুন নতুন উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসতেন। নব্বইয়ের দশকের পর তাঁর আচরণে খামখেয়ালিপনা দেখা দেয়। বিক্রি করে দেন ম্যাকাফি। তারপর প্রযুক্তি জগত্ থেকে দূরে সরে যেতে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে চলে যান বেলিজে। সেখানে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে এ অঞ্চলের বিখ্যাত মাদক চোরাচালানকারী আর সন্ত্রাসীদের সঙ্গে। এ সময় তিনি ভয়ংকর মাদক তৈরির চেষ্টা করছিলেন। কম্পিউটার জগত্ থেকে অনেকদিন ধরেই বিচ্ছিন্ন পড়েছিলেন ম্যাকাফি। ক্রমাগত বাড়ছিল তার খামখেয়ালি আচরণ। ম্যাকাফির পুরোনো সহকর্মী এবং বন্ধুদের অনেকেই জানিয়েছেন, নারীদের মধ্যে যৌন উদ্দীপনা বাড়াতে পারে এমন মাদকের প্রতি অনেক দিন ধরেই কৌতূহল ছিল ম্যাকাফির।

ম্যাকাফি বলেন, মাদকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অনেক পুরোনো। পরিবার থেকে লুকিয়ে তিনি মাদক নিতেন। মাদক গ্রহণের জন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁর চাকরি চলে গিয়েছিল। তবে এ ঘটনাটি ঘটেছিল আশির দশকে। ওই সময় প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার কারণে মাদক নেওয়া শুরু করেছিলেন। ১৯৮০ থেকে ’৮৪ সাল—এ চারটি বছর মাদক তাঁর জীবনের সবচেয়ে সর্বনাশ করেছে বলে উল্লেখ করেন ম্যাকাফি। তিনি জানান, তাঁকে নিয়ে এখনো মানুষ ভুল ধারণা করে। তাঁর গায়ে আশির দশকে আঁকা উলকি দেখে এখনো অনেক কিছু ভেবে বসে। তিনি ১৯৮৪ সালে মাদক ছেড়ে দিয়ে চিকিত্সকের কাছেও গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন।

ম্যাকাফি বলেন, ‘সব সময় দুই ধরনের মানুষ আমরা দেখতে পাই। কেউ আমাকে প্রশংসা করে এবং কেউ নিন্দা। কারও চোখে আমি নায়ক, আবার কারও চোখে ভিলেন।’

গণধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হত্যা করা হয় রুবীকে

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামের রুবী আক্তার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার রুবীর খালু সাভারের কলমা এলাকার এজাবুল হক ওরফে সাগর (৪২) গত শনিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে বলা হয়, গণধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধে রুবীকে (২২) হত্যা করা হয়।
মামলায় গ্রেপ্তার অন্য ব্যক্তিরা হলেন এজাবুলের প্রতিবেশী সাইফুল ইসলাম, ফরিদুজ্জামান, ইকবাল হোসেন ও রুবেল মিয়া।
রুবী কালিয়াকৈরের নলুয়া গ্রামের আলী আহাম্মদের মেয়ে। বছর দুয়েক আগে একই উপজেলার ভাতারিয়া গ্রামের স্কুলশিক্ষক মনসুর আলীর ছেলে ইউসুফ আলীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। এক বছর পর তাঁদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। গত মঙ্গলবার রাতে সাভারের দুগ্ধ খামার এলাকা থেকে পুলিশ রুবীর লাশ উদ্ধার করে।
সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রিপন বালা বলেন, ঘটনার সঙ্গে এজাবুলের জড়িত থাকার তথ্য পেয়ে শুক্রবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শনিবার অন্য চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এজাবুলের জবানবন্দির বরাত দিয়ে এসআই রিপন বালা বলেন, ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর ইউসুফের সঙ্গে পুনরায় ঘর বেঁধে দেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে রুবীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন এজাবুল। জানতে পেরে সাইফুল, ফরিদুজ্জামান, ইকবাল ও রুবেল বিষয়টি ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে রুবীকে তাঁদের কাছে এনে দেওয়ার জন্য এজাবুলকে চাপ দিতে থাকেন। ভয়ে এজাবুল তাঁদের কাছে রুবীকে এনে দিতে রাজি হন।
এসআই রিপন আরও বলেন, এজাবুলের কথামতে রুবী ১৩ জানুয়ারি বাড়ি থেকে বের হয়ে আশুলিয়ার নবীনগরে চলে আসেন। সন্ধ্যার পরে এজাবুলের সঙ্গে নবীনগর এলাকায় তাঁর দেখা হয়। এরপর রুবীর সম্মতিতে রাত সাড়ে নয়টার দিকে এজাবুল তাঁকে দুগ্ধ খামার এলাকার নির্জন স্থানে নিয়ে যান। একপর্যায়ে সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা সাইফুল, ফরিদুজ্জামান, ইকবাল ও রুবেল তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় রুবী চিৎকার দিলে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর তাঁর লাশ ফেলে চলে যান তাঁরা। ঘটনার সঙ্গে মনসুর ও তাঁর ছেলে ইউসুফ (রুবীর তালাকপ্রাপ্ত স্বামী) জড়িত নন বলেও জানান তাঁরা। মনসুর ও ইউসুফ এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে আছেন।
সাইফুল, ফরিদুজ্জামান, ইকবাল ও রুবেলকে রুবী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে গতকাল রোববার আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে শনিবার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করার পর এজাবুলকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতেও এজাবুল ও তাঁর অপর চার সহযোগী ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

কি করবেন ভালোবাসার পুরুষটি পরনারীতে আসক্ত হলে?

যখন আপনার সাথে তার সম্পর্ক হয়েছিল তখন তার এমন স্বভাব ছিলো না। দিন যত যাচ্ছে তার পরনারীতে আসক্তি বাড়ছে। প্রথম প্রথম এখানে ওখানে গিয়ে আশে পাশের নারীদের সাথে ফ্লার্ট করতো যখন, তখন ব্যাপারটাকে তেমন গুরুত্ব দেয়া হয় নি। কিন্তু এখন ধীরে ধীরে তা রীতিমতো পরকীয়ার দিকে এগুচ্ছে। ফোনে অন্য মেয়ের সাথে কথা বলা, লুকিয়ে ডেটিং-এ যাওয়া সবই চলছে সমান তালে। কিছুদিন এই মেয়ে তো কিছুদিন সেই মেয়ে, যদিও আপনার কাছে বার বার প্রতিজ্ঞা করছে সে যে এমনটা আর হবে না। কিন্তু তার পরেও আপনাকে না জানিয়েই এধরণের অনৈতিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে আপনার ভালোবাসার পুরুষটি প্রতিনিয়ত।

এমন পরিস্থিতে অনেক নারীই মানসিক অশান্তিতে ভোগেন। এই অবস্থায় না পারেন সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসতে আবার না পারেন সেটা ধরে রাখতে। যতবারই সম্পর্ক ভাঙ্গার কথা ভাবেন আপনার সঙ্গী ততবারই নিজেকে শুধরে নেয়ার প্রতিজ্ঞা করে। আর সেই আশার সম্পর্কটাকে আঁকড়ে ধরে থাকেন আপনি। কী করবেন এমন অবস্থায়? আসুন জেনে নেয়া যাক ভালোবাসার পুরুষটি পরনারীতে আসক্ত হলে কী করা উচিত।

প্রেমের সম্পর্কের মায়া ত্যাগ করুন

আপনার সম্পর্কটি যদি বিয়ে পর্যায়ে না গড়িয়ে থাকে তাহলে সম্পর্কটি থেকে সরে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কারণ এধরণের অভ্যাস যে সব পুরুষের থাকে তারা সাধারণত সারাজীবনেও শুধরাতে পারে না। যতই প্রতিজ্ঞা করুক না কেন নিজের অজান্তেই আবারো এধরণের কার্যকলাপে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে। তাই এধরণের সম্পর্ক ভেঙে ফেলা সম্ভব হলে ভেঙে ফেলুন। প্রথমে কিছুদিন মানসিক ভাবে ভেঙে পড়বেন আপনি। কিন্তু ভবিষ্যত জীবনের কথা চিন্তা করে এধরণের ক্ষতিকর সম্পর্ক থেকে সরে আসা উচিত।

সরাসরি কথা বলুন

এধরণের পরিস্থিতিতে অনেককেই মনে মনে কষ্ট পেলেও মুখে কিছু বলেন না সঙ্গীকে। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে ভালোবাসার পুরুষটির সাথে সরাসরি কথা বলে নেয়া উচিত। বিশেষ করে বিবাহিত সম্পর্ক যেহেতু চট করে ভেঙে ফেলা যায় না তাই কিছুটা ধৈর্য ধরে আপনার সঙ্গীকে বোঝাতে হবে আপনার বিষয়গুলো। তাকে সুন্দর করে জিজ্ঞেস করুন যে সে কেন এধরনের আচরণ করছে। তাকে বুঝিয়ে দিন যে এধরণের আচরণ গুলো সম্পূর্ণ অনৈতিক এবং আপনার জন্য মানসিক যন্ত্রণাদায়ক।

নিজের আত্মবিশ্বাস বজায় রাখুন

আপনার সাথে আপনার ভালোবাসার মানুষের সম্পর্কটি যেহেতু নৈতিক তাই আপনি নিজের আত্মবিশ্বাস হারাবেন না। আপনার অহেতুক ভয় কিংবা হিংসা করার প্রয়োজন নেই। কারণ নিজের অবস্থানে আপনি সঠিক আছেন। তাই ঘাবড়ে না গিয়ে সঙ্গীকে বুঝিয়ে দিন যে সে যা করছে সেটা ভুল।

আপনি আত্মবিশ্বাস ও সাহস বজায় রাখলে আপনার ভালোবাসার মানুষটি একসময় তার ভুল বুঝতে পারবে। তাছাড়া তিনি অন্য নারীর কাছে গেলেন বলেই আপনি ছোট হয়ে যান না, কিংবা আপনার যোগ্যতা কম হয়ে যায় না। টাই মোটেও হীনমন্যতায় ভুগবেন না। কিংবা নিজেকে দোষারোপ করবেন না।

মাথা ঠান্ডা রাখুন

এধরনের পরিস্থিতিতে কৌশলী হতে হবে। কারণ সঙ্গীর মন যেহেতু পরনারীর কাছে পড়ে আছে, তাই কারণে অকারনে সে আপনার সাথে ঝগড়া বাঁধাবে। আর ঝগড়া করলে পরিস্থিতি আরো বিগড়ে যাবে। তাই মাথা ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করুন। ঝগড়া হতে পারে এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলুন। নিজেদের সম্পর্কটাকে আবার প্রেমের প্রথম সময়ের মত মধুর করুন।

সঙ্গীকে সহযোগীতা করুন

ভালোবাসার পুরুষটির পরনারী আসক্তির কারণে ঝগড়াঝাঁটি না করে তাকে সাহস দিন। যে যদি প্রতিজ্ঞা করে যে এধরণের কাজ আর করবে না তাহলে তাকে বলুন যে তার উপরে আপনার পূর্ণ বিশ্বাস আছে। তাকে মানসিক ভাবে সাহায্য করলে আপনার বিশ্বাস ভাঙতে চাইবে না সে।

তবে এত কিছুরও পরেও যদি তাকে সংশোধন করতে না পারেন, তবে একটাই উপায়- সম্পর্ক ছেদ করুন।

আপনার যেসব আচরনে সঙ্গী জড়াতে পারে পরকীয়ায়!

62325_638123366249444_233631558_n

কিছুদিন ধরেই মনে হচ্ছে আপনার সঙ্গীটি সম্পর্ক থেকে কেমন যেন দূরে সরে গিয়েছে। মাঝে মাঝে ফোনে কার সাথে যেন কথা বলে, আবার ডায়াল লিস্ট থেকে নামটাও মুছে দেয়। আপনার প্রতি আগের সেই টান নেই তার। খুব বেশি বাইরে বাইরে থাকছে, প্রায়ই হয়তো বাইরে থেকে খেয়ে আসছে। তবে কি তার সাথে অন্য কেউ ছিলো? সে কি পরকীয়া করছে? কিন্তু কেন?

অনেক সময় আপনার সঙ্গীর পরকীয়ার জন্য দায়ী হতে পারেন আপনি নিজেই। না জেনেই নিজের সম্পর্কের সর্বনাশ ডেকে আনে অনেকে। নিজের কিছু স্বভাবের কারণে ধীরে ধীরে সঙ্গীর থেকে মন উঠে যায়। ফলে ভালোবাসার মানুষটি জড়িয়ে পড়ে অনৈতিক সম্পর্কে। আসুন জেনে নেয়া যাক ৫টি স্বভাব সম্পর্কে যেগুলো আপনার সঙ্গীকে ঠেলে দিতে পারে পরকীয়ার দিকে।

শারিরীক মিলনে অনীহা

বৈবাহিক সম্পর্কের সুখ শান্তি অনেকাংশেই নির্ভর করে যৌন জীবনের সুখ শান্তির ওপরে। স্বামী/স্ত্রীর শারীরিক মিলনে আগ্রহ কম থাকলে কিংবা আগ্রহ হারিয়ে ফেললে সঙ্গী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে অনেক সময়। এছাড়াও শারীরিক মিলনে অক্ষমতার কারনেও অনেক সময় সঙ্গী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে।

সঙ্গীর প্রতি ভালোবাসা না দেখানো

অনেকেই ভাবেন বিয়ে করলে আবার ভালোবাসা দেখানোর কি আছে? ভালোবাসা দেখায় তো প্রেমিক প্রেমিকারা। কিন্তু যারা মনে এ ধারণা পোষণ করেন তাদের সঙ্গীর পরকীয়ায় জড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। কারণ বিয়ের পরেও সারাজীবনই সঙ্গীর প্রতি ভালোবাসা দেখানো উচিত। প্রতিদিনই মুখে বলা উচিত আপনার সঙ্গীকে আপনি কতটুকু ভালোবাসেন। এছাড়াও ছোট খাটো উপহার দিয়ে মাঝে মাঝে ভালোবাসা প্রকাশ করুন। এতে সম্পর্কের উষ্ণতা বজায় থাকবে।

সঙ্গীর কাছে নিজেকে আকর্ষনীয় দেখনোর চেষ্টা না করা

প্রেম করার সময় কিংবা বিয়ের পর প্রথম প্রথম সঙ্গীর কাছে নিজেকে আকর্ষনীয় দেখানোর চেষ্টা তো সবাই করে। কিন্তু ধীরে ধীরে এই আগ্রহ অনেকটাই কমে যায় অনেকের। সময়ের সাথে সাথে সঙ্গীর সামনে নিজেকে গুছিয়ে রাখার চেষ্টা একেবারেই কমিয়ে দেয় কেউ কেউ। ফলে সঙ্গীর প্রতি কোনো আকর্ষনবোধ থাকে না এবং অনেকে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে নতুন আকর্ষনের খোজে।

তাই সঙ্গীর কাছে নিজেকে চিরকালই সুন্দর ও আকর্ষণীয় রাখার চেষ্টা করুন। নিজের ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন এবং ত্বকের যত্ন নিন সবসময়। এছাড়াও সুন্দর পোশাক পরুন এবং সুগন্ধি ব্যবহার করুন সবসময়।

নতুনত্ব না থাকা

প্রতিদিন একই রুটিনে ঘুম থেকে ওঠা, খাওয়া, কর্মস্থলে যাওয়া এবং আবার ঘুমিয়ে পড়ার কারণে অনেকের কাছেই জীবনকে একঘেয়ে মনে হয়। জীবনের এক ঘেয়েমীর কারণে অনেক সময় সঙ্গী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে নতুনত্বের স্বাদ খোঁজার জন্য। বিবাহিত জীবনটা যাতে একঘেয়ে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। দুজন মিলে গল্প করুন, বেড়াতে যান, নতুন কিছু শিখুন কিংবা বন্ধুদের দিয়ে আড্ডা দিন নিয়মিত। কোনো ভাবেই নিজেদের জীবনটাতে ‘একঘেয়েমি’ প্রবেশ করতে দিবেন না।

অতিরিক্ত সন্দেহ করা

অনেকেই নিজের সঙ্গীকে অতিরিক্ত সন্দেহ করে। সম্পর্কের শুরু থেকেই অতিরিক্ত সন্দেহ করে সঙ্গীর মনটা বিষিয়ে তোলে অনেকেই। এই অভ্যাস থাকলে তা ত্যাগ করার চেষ্টা করা জরুরী। কারণ এক্ষেত্রে অনেক সময় জেদের বশে নিজেকে পরকীয়ায় জড়িয়ে ফেলে সঙ্গী।

প্রকাশিত  নারী

আপনার ভালবাসার নারীটি যখন আপনার থেকে বয়সে বড়

প্রেম নাকি অন্ধ হয়! হয়তো এটাই সত্যি। কারণ একজন মানুষ যখন কাউকে সত্যিকারের ভালোবাসে, তখন সে চেহারা, গায়ের রং, জাত, এমনকি বয়সের ব্যাপারটাও গ্রাহ্য করে না! এ জন্যেই কুরূপা নারীর জোটে রূপবান বর, হয় দুটি আলাদা ধর্মের মানুষের বিয়ে, গড়ে ওঠে অসম বয়সের দুটি মানুষের মধ্যে মনের সম্পর্ক।

আমাদের সমাজে মেয়েরা তার চেয়ে বয়সে বড় ছেলেকে বিয়ে করবে, এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে কি ব্যতিক্রম হয় না? একজন ছেলে তার চেয়ে বয়সে বড় মেয়ের প্রেমে পড়তেই পারে, তাকে ভালোবাসতে পারে, বিয়েও করতে পারে। কিন্তু এমন অসম বয়সের সম্পর্ক আমাদের সমাজ ও পরিবার সহজে মেনে নিতে চায় না। ফলে তাদের যেতে হয় অসহনীয় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে। শুনতে হয় অসংখ্য কটু কথা, সইতে হয় হাজারো লাঞ্ছনা-গঞ্জনা। বয়সের পার্থক্যের কারণে মাঝে মাঝে সমস্যা দেখা দেয় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও। কী করে কাটিয়ে উঠবেন এসব? ভালোবাসায় বয়সটা কোনো ব্যাপার নয় অবশ্যই, তবে এই সব সমস্যা কাটিয়ে সফল ভাবে সংসার করতে পারে কয়জন? এর জন্য প্রয়োজন একে অপরের প্রতি আস্থা, বিশ্বাস আর অসীম ভালোবাসা। আসুন জেনে নিই এমন কিছু সমস্যার কথা, যখন সঙ্গিনী বা স্ত্রী হন বয়সে বড়।

লোকের নিন্দা :

স্ত্রী বা প্রেমিকা যখন বয়সে বড় হন তখন প্রথমেই যে ব্যাপারটির মুখোমুখি হতে হয় লোকজনের নিন্দা। প্রেমিকযুগল বা স্বামী-স্ত্রীর দিকে বাঁকা চোখে তাকান অনেকেই। হতে হয় অবজ্ঞার স্বীকার, হেয় করে অনেকেই। অনেকে পুরুষটিকে এমন কথাও বলে যে, সে বয়সে বড় নারীর সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে বা বিয়ে করে জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটি করেছে।

যে যাই বলুক না কেন, এটা মনে রাখবেন যে আপনাদের ভালোবাসাই আপনাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আর এই শক্তি পরাস্ত করে দিতে পারে সব কিছুকেই। তাই লোকের কথায় কান না দিয়ে একে অপরের প্রতি আস্থা রাখুন।

বন্ধুবান্ধবের কটুক্তি :

সবচেয়ে বেশি অসহায় লাগে যখন এমন পরিস্থিতিতে বন্ধুরাও পাশে থাকে না। বরং তারাও করে চলে কটুক্তি। স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য নিয়ে অনেকে আড়ালে, এমনকি সামনাসামনিও ঠাট্টা করে থাকে। বন্ধুদের এমন আচরণ মনে আঘাত হানার জন্য যথেষ্ট।

কী করবেন এমন হলে? এমন বন্ধুদের এড়িয়ে চলাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ তারা আপনাদের সম্পর্কে অশান্তি সৃষ্টি ছাড়া আর কিছুই করবে না। বরং যারা আপনাদের সমস্যাগুলো বুঝবে, পাশে দাঁড়াবে বন্ধুত্ব রক্ষার জন্য তাদেরকেই বেছে নিন।

পরিবারের অসহযোগিতা :

সঙ্গিনীর বেশি বয়স নিয়ে সবচেয়ে বেশি আপত্তি থাকে পরিবারের। পরিবারের সদস্যরা এ সম্পর্কের ব্যাপারে কোনো ধরনের সহযোগিতাই করেন না। খুব কম পরিবারই আছে যারা এমন বিয়ে সহজেই মেনে নেয়। আমাদের সমাজের পরিবারগুলো এখনো গতানুগতিক সম্পর্কের বাইরে বেরোতে পারেনি। তাই পরিবারের সদস্যরা যে সমস্যা করবে, এটাই স্বাভাবিক।

পরিবার যে সহযোগিতা করবে না, বিয়ের সময়েই এটা মাথায় রাখুন। তাহলে কষ্ট কম পাবেন। পরিবারে চাপ না দিয়ে ধীরে ধীরে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করুন যে আপনারা একে অপরকে কতখানি চান। এক সময় না এক সময় পরিবার মেনে নেবেই। পরে ধীরে ধীরে পারিবারিক সব সমস্যাও দূর হয়ে যাবে।

চেহারায় বয়সের ছাপ :

স্ত্রী যখন স্বামীর চেয়ে বয়সে বড় হবেন, তখন স্বাভাবিক ভাবেই স্ত্রীর চেহারায় বয়সের ছাপ আগে পড়বে। অনেকেই এটা নিয়ে অস্বস্তিতে ভোগেন। অনেক পুরুষই তখন স্ত্রীকে লোকজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে সংকোচবোধ করেন। আবার অনেক নারী স্বামীর সাথে কোথাও যেতে চান না। ফলে পরস্পরের মধ্য একটা টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়ে যায়।

চেহারায় বয়সের ছাপ পড়া খুব স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। সম্পর্ক গড়ে তোলার সময়ে এ জিনিসটা মাথায় না থাকলেও পরবর্তীতে এটা সমস্যার সৃষ্টি করে। এই সংকীর্ণতা থেকে বেরিয়ে আসুন, একজন আরেকজনের পাশে থাকুন। কারণ আপনাদের সম্পর্কে ভালোবাসাটাই মুখ্য, বয়স বা চেহারা নয়।

মানসিক চাপ :

স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্যের কারণে পারিবারিক ও সামাজিক নানা সমস্যার ফলে উভয়ের মধ্যেই মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে নারীর মনে তা গভীর প্রভাব ফেলে। ফলে সে নিজেকে দোষী ভাবা শুরু করে। এই মানসিক চাপ যেমন দুজনের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করে, তেমনি এর কারণে সম্পর্ক ভেঙেও যেতে পারে।

পরস্পরের সাথে অধিক সময় কাটান। একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করুন। দূরত্ব সৃষ্টি হলেও তা উত্তরণের চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে ম্যারেজ কাউন্সিলারের সহায়তা নিন।

যৌনজীবনে সমস্যা :

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বয়সের পার্থক্য খুব বেশি হলে একটা সময়ে গিয়ে যৌনজীবনে সমস্যার সৃষ্টি হয়। কারণ নারী-পুরুষের শারীরিক চাহিদা এক রকম হয় না। বিশেষ করে নারীদের বয়স বেড়ে গেলে তাদের শারীরিক চাহিদা দিন দিন কমে যায়। অপরদিকে পুরুষদের শারীরিক চাহিদা অনেক বয়স পর্যন্ত বহাল থাকে।

এখানেও একে অপরের মধ্যে সমঝোতার প্রয়োজন। কারণ শারীরিক ব্যাপারটি এমন একটি বিষয়, যা সহজে এড়ানো যায় না। তাই এ ব্যাপারে ধৈর্য ও সহনশীলতার প্রয়োজন হয়।

গর্ভধারণে সমস্যা :

নারীর জীবনে গর্ভধারণ করা অতি স্বাভাবিক একটি বিষয়। কিন্তু সাধারণ ৩৫ বছরের পরেই গর্ভধারণের ব্যাপারটি মেয়েদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। তাই বিয়ের আগে বা বিয়ের পর পরই ঠিক করে নিন যে আপনারা সন্তান কবে নিতে চান। বেশি দেরি না করাটাই ভালো। কেননা স্ত্রীর বয়স বেশি হলে তা আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যেতে পারে।Fazina_58

সমঝোতার সমস্যা :

সমবয়সী দুজন ছেলে এবং মেয়ের মধ্যে মেয়ের মানসিক বয়স ছেলের চেয়ে দু বছরের বেশি হয়। স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য বেশি হলে মানসিক বয়সের পার্থক্য আরো বেশি হবে। এই মানসিক বয়সের পার্থক্যের কারণে মাঝে মাঝেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমঝোতার অভাব হতে পারে, হতে পারে ভুল বোঝাবুঝিও। অনেক সময় স্ত্রীকে মনে হতে পারে অনেক বেশি পরিপক্ব আর স্বামীকে মনে হতে পারে অনেক বেশি ছেলেমানুষ। সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রেও হতে পারে অমিল। বিয়ের প্রথম দিকে তেমন কোনো সমস্যা না থাকলেও পরবর্তীতে এসব সমস্যা বাড়তে থাকে।

একে অপরের চিন্তাভাবনা, মতামত, সিদ্ধান্ত ইত্যাদিকে গুরুত্ব দিন। সমস্যা হলে খোলাখুলি আলোচনা করুন। একে অপরেয প্রতি আস্থা রাখলে আশা করা যায় সকল সমস্যা উতরে যাবে।

যে ৯ টি প্রবণতা এখনই ত্যাগ করতে হবে নারীদের!

আমরা প্রত্যেকেই চাই জীবনকে পরিশ্রম ও কাজের মাধ্যমে সুন্দর করে তুলতে। কিন্তু মাঝে মাঝে অনিচ্ছাকৃত ভাবে আর নিজের অজান্তেই প্রতিনিয়ত আমরা কিছু ভুল আচরণ বা কাজ করি বা ক্ষতিকর কিছু মানসিক প্রবণতা নিজের ভেতরে লালন করে থাকি। নারীদের এমন কিছু প্রবণতা যা দৈনন্দিন জীবনকে করে তোলে অসুখী আর যা থেকে উঠে আসা তেমন কঠিন কিছু নয়, এ বিষয়টি নিয়েই রইল কিছু টিপসঃ
68549_251162405029088_405118653_n
১) অন্যদের সাথে তুলনাঃ
অন্যের সাথে, বিশেষত নিজের বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী বা চারপাশের মানুষের জীবনের সাথে নিজের জীবনের তুলনা করাটা বিশাল বোকামী।আপনি জানেন কী? এভাবে আপনি কেবল অস্থিরতা আর হতাশায়ই ভুগবেন।আপনার চেনা আরেকজন নারী হয়তো একজন ধনী স্বামী পেয়েছেন কিন্তু আপনি পেয়েছেন অত্যন্ত ভালো একজন মানুষকে। কেন অযথা আফসোস করে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি ডেকে আনবেন?working-women-childlessjpg-1866107181a7c89a_large

২) একা থাকার ভয়ঃ

দূর্ভাগ্যজনকভাবে বেশিরভাগ নারীই দ্রুত কোন সম্পর্কে জড়ান এবং সেটা ধরে রাখার চেষ্টা করেন জীবনকে বা সম্পর্কটিকে উপভোগ করার জন্যে নয় বরং তারা একা হয়ে যাবেন এই ভয়ে। দেখা যায় কোন ব্রেক আপের পরে নারীরা যত জলদি সম্ভব নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন যদিও তারা জানেন সেই মানুষটি তার যোগ্য নন। এটি ঠিক নয়, জীবন কখনোই একার নয় বরং মা বাবা, বন্ধু, সহকর্মী সবাইকে নিয়েই আপনি সুখে থাকতে পারেন, সম্পর্কে জড়াবার আগে যৌক্তিক ভাবে চিন্তা করুন। নয়তো পরে পস্তাতে হবে।

৩) সবাইকে খুশি রাখার চেষ্টাঃ
সবাইকে খুশি রাখার চেষ্টায় নারীরা নিজের জীবনকেই বঞ্চিত করেন। ‘না’ বলতে শিখুন। নিজের কাজগুলোকে, নিজের জীবনকে ও আনন্দকে গুরুত্ব দিন। আপনি ‘না’ বললেই যে মানুষ আপনাকে অপছন্দ করা শুরু করবে তা কিন্তু নয়। যৌক্তিক আর আন্তরিক ভাবে বুঝিয়ে বললে মানুষ বুঝবে না কেন!প্রথমে নিজে খুশি থাকুন তারপরে অন্যের কথা ভাবুন।

৪) ছুটি না নেয়াঃ
হ্যাঁ, আপনি কাজ ভালোবাসেন, ভালোবাসেন পরিবারের সবার যত্ন নিতেও। কিন্তু এভাবে আপনি নিজেকে সময় দিচ্ছেন না। এভাবে আপনি নিজের শরীরকে ক্ষতিগ্রস্থ করছেন। মাঝে মাঝে ব্রেক নিন। ছুটি কাটান সমুদ্র বা পাহাড়ের কাছে। সংকীর্ণতা কেটে গিয়ে মন হবে উদার।

৫) জীবনের সবকিছুর ডেডলাইন ঠিক করে রাখাঃ

প্রতিদিন যেসব কাজ করবেন সেগুলোর ডেডলাইন থাকতেই পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে জীবনে সব কিছুই আপনার প্ল্যান মত নির্দিষ্ট সময়েই ঘটবে। মাঝে মাঝে ডেডলাইন ক্রস হতেই পারে, হয়ত তার জন্যে আপনি দায়ী নন। যেমন ২৫-২৬ বছরের মাঝে বিয়ে আর ৩০ বছরের ভেতর প্রথম সন্তান নেয়ার প্ল্যান আপনার থাকতেই পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, কোন কারনে তা না হলে জীবন এখানেই শেষ। বরং নতুন করে প্ল্যান করুন আবারো। গুছিয়ে নিন। হতাশ হবেন না।

shes৬) অন্য নারীদের যৌন বা দাম্পত্য জীবন নিয়ে ঈর্ষাঃ
পরিচিত বা অপরিচিত নারীদের যৌন বা দাম্পত্য জীবন নিয়ে ঈর্ষান্বিত হতে দেখা যায় অনেক নারীকেই। এই ঈর্ষা এক অসম্ভব আকাংক্ষার জন্ম দেয় যা তার নিজের বা জীবনসঙ্গীর পক্ষে পূরণ করা কঠিন হয়ে পরে। মনে রাখুন প্রত্যেকের দাম্পত্য জীবনের একটি নিজস্ব সুর আছে। অন্য কারো সুরে সেটাকে বাজানোর চেষ্টা করবেন না। এতে দাম্পত্যে কেবল অশান্তিই হবে।

৭) প্রতিদিন হাইহিল পরার অভ্যাসঃ
উচ্চতা নিয়ে হীনম্মণ্যতায় ভোগেন অনেক নারীই। তাই প্রতিদিন হাইহিল পরার অভ্যাস গড়ে ওঠে। কিন্তু এতে আপনাকে সাময়িকভাবে আকর্ষনীয় দেখা গেলেও এটি একটু একটু করে ক্ষয় করে ফেলে আপনার মেরুদন্ডের হাড়। ফলে আপনি অকালে পঙ্গু হয়ে যেতে পারেন।

৮) নিজেকে সুখী প্রমাণ করার চেষ্টাঃ

নিজেকে অন্যদের সামনে সুখী প্রমাণ করার চেষ্টা দেখা যায় অনেক নারীর মাঝেই। এজন্যে তাঁরা নানা ধরনের মিথ্যে কথা আশ্রয় নিতেও দ্বিধা করেন না। যেমন নিজের ব্যবহার্য জিনিসপত্রের দাম, স্বামী বা সন্তানের সাফল্য, যৌনজীবন নিয়ে বাড়িয়ে বলা। এ ধরনের আচরণ দ্বারা এক ধরনের সাময়িক আত্মতৃপ্তি পাওয়া গেলেও দিনশেষে তা মিথ্যে বলেই সবার সামনে প্রমাণিত হয়। তাই এই অভ্যাস ত্যাগ করা প্রয়োজন।

৯) নিন্দা করার অভ্যাসঃ
অনেকের মাঝেই অপরের নামে খারাপ কথা বলার প্রবণতা থাকে। হোক তা সত্যি বা মিথ্যা। এই নিন্দা করার ফলে আপনি যাদের নিন্দা করছেন তাদের সম্পর্কে মানুষের খারাপ ধারণা হবার পাশাপাশি আপনাকেও কিন্তু মানুষ নিন্দুক বলেই চিনবে। আর তাছাড়া যার নামে খারাপ কথা বলছেন তার কানে কথাগুলো গেলে তিনিও মনে কষ্ট পাবেন। এ অভ্যাসটি ত্যাগ করে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলুন।এতে আপনার শত্রুর চেয়ে বন্ধুর সংখ্যাই বাড়বে।বিপদের সময় পাশে পাবেন অনেককেই!

নিজের সমস্যাজনক দিকগুলো করে ফেলুন ঠিক ঠাক আর দেখুন কি প্রশান্তিময় এক ভোর অপেক্ষা করছে আপনারই জন্যে!

মাসিক নিয়মিতকরণ বা এম.আর (Menstrual Regulation)

“মাসিক নিয়মিতকরণ বা এম. আর.”

বর্তমানে প্রজনন স্বাস্থ্য সেবার অতি পরিচিত একটি শব্দ এম. আর (Menstrual Regulation) বা মাসিক নিয়মিতকরণ। এটি একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে জরায়ুর অভ্যন্তরীন পরিবেশ বিঘ্নিত হয়, ফলে জরায়ুতে ভ্রুন স্থাপিত হতে পারে না বা হতে দেয়া হয় না।

এম. আর কেন করা হয়?

অরক্ষিত যৌন মিলনের পর অনিয়মিত মাসিক এবং কনসেপ্ট হওয়ার প্রথম অবস্থার (যখন রক্ত কণিকাগুলো জমাট বাধতে শুরু করে) সমস্যা সমাধান হল এম. আর এর মূল উদ্দেশ্য। এম. আর করে নিলে পরে এ্যাবরশনের ঝুঁকি থাকেনা।

এছাড়াও অনিয়মিত রক্তস্রাব/মাসিকের জন্য এম. আর একটি চিকিৎসা পদ্ধতি যা অন্য কোন শারীরিক অসুস্থতার জন্যও করা হয়।

শল্য চিকিৎসায় এম. আরঃ

শল্য চিকিৎসায় এম. আর একটি সহজ ও নিরাপদ পদ্ধতি। একটি নমনীয় প্লাস্টিকের নল এবং সিরিঞ্জের সাহায্যে এম. আর সম্পাদন করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত: রোগীকে অজ্ঞান করার প্রয়োজন হয় না।

এম. আর করার উপযুক্ত সময়ঃ

নির্ধারিত মাসিক হওয়ার সময়ের ১৪ দিনের মধ্যে যে কোন সময় এম. আর করা যেতে পারে। সবচেয়ে ভালো সময় হচ্ছে শেষ মাসিক হওয়ার প্রথম দিন থেকে হিসাব করে ৩৫ দিনের পরে এবং ৪৫ দিনের পূর্বে। সবচেয়ে নিরাপদ সময় হচ্ছে ৪২তম থেকে ৪৯তম দিনের মধ্যে।

এম. আর করার পূর্বে প্রয়োজনীয় তথ্য

সাবধানতার সাথে রোগীর ইতিহাস জানা, বিশেষ করে মাসিকের নিয়মানুবর্তিতা সম্পর্কে, যৌন সম্পর্কের বিষয়ে, সহবাসের সময় সম্পর্কে, গর্ভধারণে ব্যর্থতার সম্ভাবনা, কোন কারণে দুঃশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ যা অনেক সময় মাসিক না হওয়ার কারণ হতে পারে অথবা যদি গর্ভধারণ করে থাকেন তবে সন্তান গ্রহণ না করার কারণ সমূহ ইত্যাদি। এম. আর সম্পাদনের পূর্বে নারীকে এম. আর এর ঝুঁকি ও জটিলতা সম্পর্কে অবহিত করা জরুরী। প্রয়োজনে গর্ভধারণ না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য আরেকবার নারীকে (Pregnancy Test) পরীক্ষা করা উচিত

কারা এম.আর সম্পাদন করতে পারেন?

স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ / গাইনী ডাক্তার

চিকিৎসক

নার্স এবং 

প্যারামেডিক নিরাপদ এবং কার্যকর এম. আর সম্পাদন করতে পারেন

এম.আর বা মাসিক নিয়মিতকরণ সেবা কেন্দ্রসমূহ

জেলা হাসপাতাল

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সমা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র

ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র

মেরীস্টোপ্স

সূর্যর হাসি চিহ্নিত ক্লিনিক

সাধারণ কিছু প্রশ্নোত্তরঃ

আমার স্ত্রীর বয়স ১৮। ওজন ৩৬ কেজী। আমরা সেক্স করার সময় কোন প্রটেকশন নেইনা। বিয়ে হযেছে প্রায় ৪ মাস। সপ্তাহে ২ থেকে ৪ বার সেক্স করি। ওর মাসিক হয় মাসের ১ থেকে ৫ তরিখের মধ্যে। কিন্তু আজ ১১ তারিখ এখনও তার মাসিক হচ্ছেনা এবং তল পেটে কোন ব্যথাও নেই। এখন আমরা কি করতে পারি?

প্রোটেকশন ব্যবহার না করলে প্রেগন্যান্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আপাতত প্রেগন্যান্সি টেস্ট করিয়ে নিন।আবার অনেক সময় অন্য কারণেও মাসিক কয়েকদিন এদিক-ওদিক হতে পারে। দুশ্চিন্তা করতে নিষেধ করবেন। খাওয়া-দাওয়া আর ঘুমের প্রতি খেয়াল রাখবেন।

আমার স্ত্রীর গর্ভবতী হয়েছিল। গত ১৫.৬.২০১২ তে ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে তা সেরে ফেলি। কিন্তু েএখনও তার যোনী দিয়ে রক্ত বেরুচ্ছে এবং তল পেটে ব্যথা হচ্ছে। দিন দিন সে দুর্বলও হয়ে যাচ্ছে। এখন কি করা যেতে পরে?

পূর্ণ বিশ্রামে রাখুন। নড়াচড়া যেন কম করে। অল্প অল্প করে ঘনঘন খাওয়াবেন। ডাক্তারের সাথে কথা বলে ব্যথানাশক ঔষধের ব্যবস্থা করতে পারেন। এছাড়া আয়রণ ট্যাবলেট খাওয়াতে পারেন।আয়রন, ভিটামিন বি১২ এবং ফলিক এসিড সম্বৃদ্ধ খাবার খাওয়াবেন। দুধ, দই, ডিম, মাছ, মাংশ, শাকসবজি, ফলমূল বেশি খাওয়াবেন।

আমার বয়স ২৭, ৬-৭ মাস থেকে বাচ্চা নেবার জন্য চেষ্টা করছি কিন্তু কোনো ফল না পাওয়ায় ডাক্তার দেখিয়ে ডাক্তার আমাকে (Giane-35, BoniD, Defaz, obid 500) ৩ মাস খেতে দিয়েছে, আমার প্রশ্ন হচ্ছে Giane-35 কি ধরনের ট্যাবলেট, এটা খেতে খেতে কি প্রেগনেন্ট হবার সম্ভাবনা আছে? এটা এক পাতা খাবার ৮ দিন পরে মাসিক হয়, কিন্তু যদি না হয়? আর মাসিক শুরু হবার ৫ দিন থেকে এটা খেতে শুরু করা লাগে যদি কোনো কারনবশত কয়েকদিন পর থেকে খাই তাইলে কি সমস্যা? আর এটা খেতে খেতে প্রেগনেন্ট হলে বাচ্চার কোনো সমস্যা হবে কি???

ঔষধগুলোতে আপনার মাসিক নিয়মিত হবে। এতে ডিম্বানুর হার বৃদ্ধি পাবে। তখন প্রেগন্যান্ট হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে। একটু কষ্ট হলেও ঔষধ নিয়ম মতো খাওয়ার চেষ্টা করবেন। মাসিক হোক বা না হোক, সেসব নিয়ে এখন চিন্তা করবেন না। বাচ্চার সমস্যা হবে না।

আমার বয়স সতের বছর। আমার মাসিক সবসময় অনিয়মীত। সবসময় মেয়াদ উত্তীর্ন হওয়ার অনেক দিন পর আমার মাসিক শুরু হয়। আমি অবিবাহিত। কি করতে পারি আমি এক্ষেত্রে?

বয়স অল্প বলে এখনো হয়তো হরমোন সুবিন্যস্ত হতে পারেনি। আর এই বয়সে এমন হতেই পারে। আপাতত চিন্তার কিছু দেখি না।

আমার বয়স ২৩, ২ বছর হল বিবাহ করেছি। আমার মাসিক নিয়মিত। কিন্তু মাসিকের সময় প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব কর। অসহ্য ব্যাথা। আমি এখন কি করতে পরি?

বিয়ের পরে মেয়েরা অনেকটাই টেনশন মুক্ত হয়ে যান বলে মাসিক তখন প্রায় নিয়মিত হয়ে যায়। সেই সাথে নিয়মিত সেক্স করলে পেলভিস পেশীর উপর চাপ পড়ে এবং সেটা ধীরে ধীরে সুগঠিত হয়। তাতে মাসিকের সময়ের ব্যথা চলে যাওয়ার কথা। চেষ্টা করবেন দীর্ঘক্ষণ ধরে মিলিত হতে। সেক্স ব্যাপারটা মনভরে উপভোগ করার চেষ্টা করবেন।বাড়তি হিসাবে কেজেল ব্যায়াম করতে পারেন। নিয়মিত হাঁটাচলা, দৌড়াদৌড়ি করলেও অনেক উপকার পাবেন।

মেয়েরা কি মাসিক চলাকালে সেক্স করতে পারে? যদি সমস্যা হয়ে থাকে, তাহলে কি করতে পারি?

মাসিক চলাকালে সেক্স করতে কোনো বাঁধা বা সমস্যা নেই। এটা দুজনের ইচ্ছা-অনিচ্ছার উপর নির্ভর করে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই সময়টাতে মেয়েদের যোনি অনেক ফুলে ফাঁপা হয়ে থাকে এবং ভিতরে রক্ত প্রবাহের কারণে সেক্স কালে তীব্র অনুভূতি হয়। সেক্সের সময় লিঙ্গের ঘর্ষণে ভিতরে জমে থাকা রক্ত সহজে বেরিয়ে এসে মাসিক হওয়ার সময়টা অনেক কমিয়ে দেয়। তবে অনেকে ধর্মীয় মতের কথা ভেবে সেক্স করতে চান না।এ সময় সেক্স করলে শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং প্রোটেকশন ব্যবহারের ব্যাপারে বাড়তি নজর দিতে হয়, কেননা রক্ত প্রবাহের কোনো জীবানু মিশে যোনি অভ্যন্তরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এম. আর করার কতদিন পর মাসিক হয়?

পরের দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে হওয়ার কথা। না হলে ডাক্তারের সাথে ফলোআপ করে নিশ্চিত হতে হয়।

মাসিক হওয়ার পর কতদিন পরযন্ত সেক্স করলে বাচ্চা হয়না?

আসলে নির্দিষ্ট কোনও সময় নেই। যে কোন সময়, এমনকি মাসিক চলাকালেও কোনও জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ছাড়া মিলিত হলে বাচ্চা এসে যেতে পারে। ১৩ থেকে ১৭তম দিন পর্যন্ত এই ঝুঁকিটা অনেক বেশী থাকে।

আমার মাসিক শুরু থেকেই অনিয়মিত, ৬ মাস পর পর হয়। একবার শুরু হলে আর বন্ধ হতে চায়না, ঔষধ খেয়ে বন্ধ করতে হয়। বিয়ে করার ৬ বছর হল কিন্তু কোন সন্তান হয়নি। ডাক্তার বলেছে আমার থাইরয়েডের সমস্যা হয়েছে। ডাক্তার Metformin থেকে দিয়েছে। এখন মাসিক নিয়মিত হচ্ছে কিন্তু বাচ্চা আসছেনা। এম. আর করলে কি মাসিক নিয়মিত হবে এবং বাচ্চা নিতে পারব?

এম. আরের ব্যাপারের আপনার ডাক্তারের সাথে আলাপ করে দেখতে পারেন। মাসিক নিয়মিত হতে শুরু করলে শরীরের অনেক সমস্যা কমে আসবে ধীরে ধীরে। সেই সাথে লাইফস্টাইল উন্নত করবেন। পুষ্টিকর খাবার খাবেন, পর্যাপ্ত ঘুমাবে, এবং পারলে নিয়মিত ব্যায়াম করবেন। মাসিক শুরু হওয়ার ১৩ থেকে ১৭ তম দিন পর্যন্ত প্রেগন্যান্ট হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। নিয়মিত মিলিত হবার পাশাপাশি এই সময়টাতে অবশ্যই আলাদা গুরুত্ব দেবেন। এরপরও বাচ্চা না হলে বাচ্চা না হওয়ার অন্যান্য পরীক্ষাগুলো করিয়ে নিশ্চিত হয়ে নেবেন। তবে এসব পরীক্ষা দুজনেই করাবেন। সমস্যাটা যে কারোর বা দুজনেরই হতে পারে।

আমার হাইপোথাইরয়েডিজম আছে। আমি রোজ একটা করে থাইরয়েড ঔষধ খাই, খালি পেটে। শুনেছি, থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে নাকি বাচ্চা হয়না, এটাকি সত্য?

হ্যাঁ, অনেকাংশে সত্য। ডাক্তারের পরামর্শ মেনে ঔষধ খেতে থাকেন। তাহলে ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে আসবে।তবে অবশ্যই দুশ্চিন্তামুক্ত থাকার চেষ্টা করবেন।

ডাক্তার বলেছে আমার হাইপোথাইরয়েডিজম নর্মাল পজিশনে আছে। এখন কি আমি মা হতে পারব? হাইপোথাইরয়েডিজন থাকলে কি ওজন বেড়ে যায়? আমি ৫ ফুট ১ িইঞ্চি লম্বা এবং ওজন ৫৪ কেজি। আমার ওজন কি ঠিক আছে?

হ্যাঁ, এটা হলে ওজন বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া বাচ্চা হতে সমস্যা, জয়েন্টে ব্যথা, হৃদরোগসহ অনেক সমস্যা হতে পারে। তবে এর পরিপূর্ণ চিকিৎসা আছে। তাই ভয় পাবার কিছু নাই। প্রথম পর্যায়ে ধরা পড়লে, সঠিক চিকিৎসা করলে পরে আর সমস্যা হয় না। ডাক্তার যদি পরীক্ষা করে বলেন যে এটা নর্মাল, তাহলে এদিক থেকে বাচ্চা নিতে কোনও সমস্যা হবে না। উচ্চতা অনুসারে আপনার ওজন ঠিক আছে।

আমার মাসিক নিয়মিতই ছিল। কিন্তু গত ২ বছর যাবৎ অনিয়মিত হয়ে গেছে। দুইআড়াই মাস পর পর হয় যদি আয়রন ট্যাবলেট খাই। গত এক মাস আগে আমার বিয়ে হয়েছে। এখন আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও মাসিক হচ্ছে না। প্রেগনেন্সি টেস্ট করিয়েছি নেগেটিভএসেছে। আয়রন ট্যাবলেট খাচ্ছি তবুও মাসিক হচ্ছে না।আমি এখন কি করতে পারি। আমার উচ্চতা ৫ফুট, ওজন ৫৫ কেজি।

খুব সম্ভবত বিবাহ পূর্ব দুশ্চিন্তা এবং সেটা এখনো চলছে মনে হচ্ছে। আর দুশ্চিন্তা হলেই খাওয়া-দাওয়া এলোমেলো হয়ে যায়। তখন নানা সমস্যা হয়। এরকম কিছু হলে দুশ্চিন্তা পরিহার করে রিলাক্সে থাকুন। খাওয়া-দাওয়া এবং ঘুমের প্রতি নজর দিন। বিবাহ উত্তর কোন সমস্যা হলে সেটা স্বামীর সাথে খোলাখুলি আলোচনা করুন, শারীরিক সমস্যা হলে অবশ্যই ডাক্তার দেখাবেন। মোট কথা, আপনাকে দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকতে হবে। এতেও সমাধান না পেলে ডাক্তার দেখিয়ে নেবেন।

বর্তমানে আমার বিলম্বিত মাসিক হচ্ছে। প্রটেকশন ছাড়াই একবার সেক্স করে ফেলেছিলাম। আমি এখনই বাচ্চা নিতে চাইছিনা। কি করতে পারি এখন?

কয়েকদিন এদিক-ওদিক হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। আরো কিছুদিন দেখতে হবে। তারপর টেস্ট করাবেন। বাচ্চা এসে গেলে নিজের শরীর স্বাস্থ্য এবং ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে ঠিক করবেন কি করলে ভালো হয়।

আমার মাসিক প্রতি মাসে ৫ দিন আগে হয়। আমি বিবাহিত। আমার স্বামী বিদেশে থাকে। সম্প্রতি সে দেশে এসেছে এবং আমরা প্রায় প্রতিদিন মিলিত হচ্ছি কিন্তু পেটে বাচ্ছা আসছেনা। এখন আমি কি করব?

মাসিকের সার্কেলটা মূলত ২৮ দিনের। সুতরাং ডেট চেঞ্জ হওয়াটাই স্বাভাবিক। কারো একটু আগে বা পরে হওয়াটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়।আপনার মাসিক শুরু হওয়ার ১৩ থেকে ১৭ তম দিনের মধ্যে নিয়মিত মিলিত হবেন। এই সময়টাকে গর্ভধারণের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। আর বীর্যটা আপনি ধারণ করবেন নিচে চিত হয়ে শুয়ে, স্বামীকে উপরে রেখে। স্বামীর বীর্যপাতের পর পরই লিঙ্গ বের করতে দেবেন না। ওই ভাবেই কিছুক্ষণ শুয়ে থাকবেন যাতে বীর্য বের হয়ে না যায়।খুব চিন্তিত হলে দুজনেই ডাক্তার দেখিয়ে পরীক্ষা করে নেবেন কোন সমস্যা আছে কিনা।

আমার মাসিক নিয়মিত হয়না। আমার যোনীর মুখে এ্যলার্জি জাতীয় কিছু আছে যা চুলকায়। আমার স্বামী বিদেশে থাকে। দুই বছর পর পর সে দেশে ফিরে। চেষ্ঠা করেও কোন সন্তান নিতে পারিনি আমরা। ডাক্তার পরীক্ষা করে বলেছে আমাদের দুই জনেরই কোন সমস্যা নেই। এখন আমি কি করব? এ্যালার্জি থাকা অবস্থায় সহবাস করলে কি কোন সমস্যা হবে?

আপনার দুইটা সমস্যার মধ্যেই খুব সম্ভবত কোন যোগ সূত্র আছে। অর্থাৎ একটা ঠিক হলেই আর সবও ঠিক হয়ে যাবে। তবে এগুলো ভালো ডাক্তার দেখিয়ে পরীক্ষা করে নেয়া উচিত। এবং সেই ভাবেই চিকিৎসা নেয়া উচিত। আপনার উচিত হবে অন্য কোন ডাক্তার দেখিয়ে পরীক্ষা করানোর। চুলকানিটা নিশ্চয়ই কোন কারণে হচ্ছে। এবং সেই একই কারণে মাসিক অনিয়মিত হতে পারে। এছাড়াও নিয়মিত একটু ব্যায়াম করতে পারলে মনে হয় ভালো হত।
না। সহবাস করতে কোন সমস্যা নাই। তবে কনডম ব্যবহার করাই ভালো।

আমার বয়স ১৫ বছর, আমার গত ৩মাস যাবত মাসিক হচ্ছে না। আমি ছাত্রী, খুব টেনশন করছি। আমি যাকে ভালবাসি তার সাথে মিলন হয়েছে ক্তিু কনডম ব্যবহার করতাম। আমি টেনশন করছি কোন ভুল হল কি না? এখন বাসায় মাসিক হচ্ছে না কাউকে বলতে পারছি না ভয়ে। তারা কি মনে করবে তাই। ডাক্তার দেখাতেো ভয় পাই। এমতবস্থায় কি করতে পারি‍ বললে উপকৃত হব। ডাক্তারের কাছে যাওয়া ছাড়া কি করতে পারি বাড়িতে।

দেখা দরকার, আপনি কবে মিলিত হয়েছিলেন। কতদিন আগে, এবং তারপর কয়বার মাসিক মিস হয়েছে।কনডম ব্যবহার করলে সমস্যা হওয়ার কথা না, যদিও কোন জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিই ১০০% নিশ্চয়তা দেয় না। তবে আপনার এই বয়সে মাসিক অনিয়মিত হওয়া অনেক স্বাভাবিক ঘটনা। সেই সাথে যদি দুশ্চিন্তা করেন, তাহলে এটাও মাসিক অনিয়মিত করে দিতে পারে।বাজারে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার এক ধরনের স্টিক পাওয়া যাওয়া। তার উপর প্রসাব ফেলে স্টিকের রঙ পরিবর্তন হওয়া দেখে মোটামুটি নিশ্চিত হতে পারবেন। বিস্তারিত ব্যবহারবিধি প্যাকেটের গায়ে পাবেন, বা বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করলে বলে দেবে। আপাতত এটা করতে পারেন।তাছাড়া বাচ্চা চলে আসলে নিজের শারীরিক অবস্থাও কিছু পরিবর্তন হওয়ার কথা। মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাব- এরকম কিছু না হলে মনে হয় না চিন্তার কিছু আছে।

আমারবয়স ১৮, আমার প্রতি মাসে মাসিক এর তারিখ থেকে ৫ দিন আগে মাসিক হয়। আমি এক জনকে ভালবাসি, তার সাথে আমার বিয়ে ও হয়েছে, কিন্তু তা আমাদের বাড়িতে জানেনা, তার সাথে আমার প্রতি মাসে সেক্স হয়। ২, ১ বার, সব সময় সে আমার সাথে সেক্স এর সময় কনডম ব্যবহার করতো। কিন্তু এবার মাসিকের ২৩ তম দিনে ওর সাথে আমার সেক্স হয়, তখন সে কনডম ব্যবহার করেনি! আমার গত মাসে মাসিকের তারিখ ছিল ১৫ ফেব্রুয়ারী সে হিসেবে এবার হয়ার কথা ১০ মার্চ, কিন্তু এখনো হয় নি। ওকে বলাতে আমাকে আজ ১৫ তারিখে ৫ টা আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ায তাতেও মনে হয় কনো কাজ হলনা। এখন যদি টেস্ট করি, আর টেস্ট এর রেজাল্ট পজিটিভ হলে কি করব? (আমার এখন বাচ্চা নেয়া অসম্ভব) রেজাল্ট আসলেই বা কি করব? এমতঅবস্থায় মাসিক নিয়মিত কি ভাবে করব?

নেগেটিভ এলে কিছুই করার দরকার নেই। তবে বাচ্চা নিতে না চাইলে সবসময় প্রোটেকশন ব্যবহার করা উচিত।বাচ্চা এসে গেছে মনে করলে আগে কোন ডাক্তারের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করে নেবেন। তারপর ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করবেন কি করলে ভালো হয়। ডাক্তার আপনাকে পরীক্ষা করে সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন। মাসিক এমন একটু আগে পরে হওয়াটা একেবারে অস্বাভাবিক কিছু নয়।কনডম ছাড়া সেক্স করলেই যে বাচ্চা আসবে, এমন কোন কথা নেই। দেখতে হবে, বীর্যপাত কোথায় করা হয়েছে।এখনই টেষ্ট করলে সঠিক ফলাফল পাবেন না। অন্তত ২ সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে। বাচ্চা এসে গেলে বাচ্চা না হওয়া পর্যন্ত আর মাসিক না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। বাচ্চা না নিতে চাইলে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে পরামর্শ নেবেন।

আমার বয়স ২২ বছর। আমার প্রেমিকার বয়স ২০, উচ্চতা ৫’৩”, ওজন ৩৫ কেজি। আমাদের সম্পর্ক ৩ বছরের। আমরা সেক্স করিনি, ঠিক করেছি বিয়ের আগে সেক্স করবনা। ওর সমস্যা হল মাসিক অনিয়মিত। আগে হয় অথবা পরে হয়। মাসিকের সময় পেটে খুব ব্যথা হয়। এটা কি কোন সমস্যা? মাসিকের পর সাদা স্রাব যায়। এর থেকে রেহাই পেতে কি করা দরকার?

ব্যাথা কমাতে গরম ছ্যাক নিতে হবে। কোন বোতলে গরম পানি ভরে বা কাপড় গরম করে তলপেটে ২০/২৫ মিনিট ছ্যাক লাগাতে বলবেন। এটা সপ্তাহে টানা ৩/৪ দিন করে করতে বলবেন। এতে ধীরে ধীরে মাসিকের সময় ব্যাথা কমে যাবে। এছাড়া আরেকটা পদ্ধতি আছে- সিজ বাথ। ৩ মিনিট গরম পানিতে কোমর ডুবিয়ে বসে থাকতে হবে। পরের ২/১ মিনিট ঠাণ্ডা পানিতে। এভাবে ২০/২৫ মিনিট সিজ বাথ নিতে হবে। এটাও সপ্তাহে টানা ৩/৪দিন নিতে হবে। শুধু পানি বা পানিতে কিছু লবন, বেকিং সোডা বা ভিনেগারও ব্যবহার করা যায়। আরেকটা পদ্ধতি আছে- কেজেল ব্যায়াম। এটাও খুব উপকারী। এগুলো করলে যোনি মধ্যে রক্ত চলাচল প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত না হয়ে আবার ঠিকঠাক হয়ে যাবে, ব্যাথাও কমে যাবে। আমাদের দেশের অনেক মেয়েদেরই শারীরিক ফিটনেস ভালো নয় বলে এরকম সমস্যা বেশি হয়। একে একে এই পদ্ধতিগুলোর কথা সবাইকে বলে দিন। একজন আরেকজনকে বলে দিন। মাসিকের সময় হিসাব রাখবেন মাসিক শুরুর দিন থেকে। সাদা স্রাবের নানা কারণ থাকতে পারে। ভালো হয় যদি ডাক্তার দেখিয়ে সঠিক কারণটা নির্ণয় করা যায়।

এম. আর কত বার করা যায়?

বয়স ত্রিশের দিকে হলে বছরে ২ বার, বিশের দিকে হলে বছরে ৩ বার করা যেতে পারে

আমার স্ত্রীর বয়স ২৬ বছর। আমাদের ৭ মাসের একটি ছেলে আছে। এমতবস্থায় আমার স্ত্রীর মাসিক বিলম্বিত হচ্ছে। প্রেগন্যান্সি টেস্ট রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছে। বাচ্চা হওয়ার পরে মাসিক বিলম্বিত হলে কি করা উচিৎ?

খুব সম্ভবত ব্রেস্টফিডিং-এর জন্য হচ্ছে। যত বেশি ব্রেস্টফিডিং, তত বেশি অনিয়মিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া হয়তো এখনো হরমোনগুলো সাম্যাবস্থায় আসেনি।এ নিয়ে দুশ্চিন্তা না করাই ভালো। কেননা দুশ্চিন্তাও মাসিককে আরো অনিয়মিত করে দেয়।খাওয়া-দাওয়ার আর ঘুমের উপর নজর রাখতে বলুন।

শেষ মাসিকের কতদিন পর টেস্ট করলে ফলাফল পাওয়া যায়?

শেষ মাসিকের ৪৫ দিন পর অর্থাৎ মাসিক মিস হওয়ার সপ্তাহ দুয়েক পর টেস্ট করলে ফলাফল পাবেন। এর পর ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হতে পারবেন। তারপর বাকিটা ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করবেন।

আমার বয়স ২৮। বিয়ে হয়েছে প্রায় ১.৫ মাস হল। আমার স্বামী সপ্তাহে ৩ দিন থাকে আমার সাথে। আমরা বাচ্চা নিতে চাইছি কিন্তু কনসেপ্ট হচ্ছেনা। বিয়ের পর থেকে কখনো প্রেটেকশন নিয়ে সেক্স করিনি। আমি জানতে চাইছি আমার সবকিচু নরমাল আছে কিনা। এখন আমার কি ধরনের পরীক্ষা করানো উচিৎ? এক্ষত্রে ইন্টারকোর্স করার সময় কি পুরোপুরি স্যাটিসফাই হওয়া প্রয়োজন? মিলন কিভাবে করা উচিৎ?

আমাদের মনে হয় আপনারা এখনো যথেষ্ঠ সময় দেন নাই। এখনি জরুরী ডাক্তারী পরীক্ষা করার কিছু হয়নি। আপাতত কয়েক মাসে মাসিক শুরু হওয়ার পর ১৩ থেকে ১৭তম দিন পর্যন্ত মিলিত হন বেশি করে। বীর্যপাতের সময় খেয়াল রাখবেন যাতে বীর্য আপনার যোনি মধ্যে থাকে। এসময়টাতে চিৎ হয়ে থাকবেন কিছুক্ষণ। আগে কয়েকবার চেষ্টা করে দেখুন, তারপর না হলে ডাক্তার দেখিয়ে দুজনেই পরীক্ষা করে নেবেন কোন শারীরিক সমস্যা আছে কিনা। ডাক্তার আপনাকে দেখে তবেই বলতে পারবেন কি ধরনের পরীক্ষা করানোর দরকার আছে বা আপনি বাচ্চা নেয়ার জন্য শারীরিক ভাবে ফিট আছেন কিনা। শুধু বাচ্চা নেয়ার জন্য মিলিত হলে যে দুজনেরই পরিপূর্ণ তৃপ্তি পেতে হবে, এমন কোন কথা নেই। তবে এমনিতে মিলিত হলে তৃপ্তির দরকার আছে। সম্পর্ক অবশ্যই বন্ধুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। সেই সাথে দুজনের প্রতি দুজনের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, বিশ্বাস- এগুলোও দরকার।

আমি একজন ছাত্রী। অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি। আমার প্রতি মাসে নিয়মিত ২ বার মাসিক হচেছ প্রায় ১২ দিন পর পর। কিন্তু স্বাভাবিক ভাবে তো মাসে ১বার হওয়ার কথা। প্রায় দেড় বৎসর যাবৎ এই সমস্যায় ভোগছি। আমি কোন ডাক্তার দেখাইনি দেখাতে ভয়/লজ্জা পাই। এটাকি বড় ধরণের কোন সমস্যা? আমি খুব ভয় পাচ্ছি। কিভাবে এটাকে মাসে ১বারে নিয়ে আসা যায়?

আপনার মন্তব্যে যদিও বয়স জানান নাই, তবুও আমরা সন্দেহ করেছিলাম যে আপনার বয়স কম। আপনার বয়স খুব কম হলে এটা নিয়ে চিন্তা করার কিছু নাই। প্রথম দিকে এমন হয়ে থাকে। বড় হলে ঠিক হয়ে যায়। এতে ভয় বা লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। মনে রাখবেন, রোগ-শোক নিয়ে কখনোই লজ্জা পেতে নাই। এতে বরং সমস্যা আরো বাড়ে। ডাক্তার দেখান বা না দেখান, অন্তত মা বা বড় বোন- এরকম কারো কাছে এসব লুকাবেন না।

আমার বয়স ১৭। প্রায় সবসময় আমার সাদা স্রাব যায়। ২৮ দিনই এমনটি হয়। মাসিক শুরু হয় ১৪ তারিখে একং এর সর্বাধিক সময় কম হয়। আমি হোমিও এবং এ্যলোপেথি দুটোই ট্রাই করেছি কিন্তু কোন ফল হয়নি। এখন কোন ঔষধ খাইনা। কি করলে প্রতিকার পাব?

খুব সম্ভবত আপনার বয়স কম বলে এমন হচ্ছে। যদি দুর্গন্ধ বা চুলকানি না হয়ে তাহলে এসব নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে রাতে ভালো ঘুমাবেন, নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া করবেন। সর্বোপরি শরীরের যত্ন নিবেন। ধীরে ধীরে এসব ঠিক হয়ে যাবে।

আমার স্ত্রীর বয়স ২৬ বছর। আমাদের ‍‍বিয়ে হয়েছে ৩ বছর এবং ১টি ১.৫ বছরের সন্তান রয়েছে। এখন আর কোন বাচ্চা নিতে চাইছি না কিন্তু আমার স্ত্রীর মাসিক হচ্ছে না যা প্রতিমাসে ১-২ তারিখে হয়। ২ বার গভর্ধারণ টেস্ট রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছে কিন্তু এখনো মাসিক হচ্ছে না তাই খুব চিন্তা হচ্ছে এবং গাইনী ডাক্তার ‍দেখালাম উনি বলেছেন মেডিসিন (Normes) দিচ্ছি পরবর্তী ১০দিনে না হলে এবোরশান করতে হবে। কিন্তু টেস্ট রেজাল্ট আবার নেগেটিভ আসলে এবোরশান করার প্রয়োজন আছে কি? আবার আমার স্ত্রীর অনেকদিন ধরে সেক্স সমস্যা হচ্ছে এবং প্রায় সময় জ্বর অনুভব করে এছাড়া তার মধ্যে সেক্সে কোন ইচ্ছা জাগে না কিন্তু আমি যেহেতু দূরে থাকি তাই মাত্র ৭-১৫ দিনে ১-২ দিন মিলিত হই তা সেটা সে বুঝতে চাই না। মাসিক ও সেক্সের সমস্যার জন্য কি করতে পারি?

অন্য কোন শারীরিক সমস্যার জন্যও এমন হতে পারে। সবকিছু একবার চেকআপ করে নিলে ভালো হয়।সব সময় জ্বর থাকাটায় মনে হয় শারীরিক ফিটনেস ভালো নয়। খাওয়া-দাওয়া আর ঘুম ঠিক রাখতে বলেন। এসব ঠিক হয়ে গেলে সেক্সে সমস্যা হবে না।

আমি আমার প্রেমিকার সাথে কনডম ছাড়া সেক্স করেছি। কনডম ছাড়া সেক্স করলে কি বাচ্চা হওয়ার ভয় থাকে?পিরিয়ড এর কতদিন পর সেক্স করলে গর্ভবতী হওয়ার আশংখা কম থাকে? বীর্যপাত হওয়ার আগে পিচ্ছিল যে পদার্থ বের হয়,তা থেকে কি গর্ভবতী হওয়ার আশংখা থাকে?

প্রটেকশন থাকা সেক্স করলে যে কোন সময়ই বাচ্চা হওয়ার ভয় থাকে। এখানে পিরিয়ড কোন ব্যাপার না। পিরিয়ড শুরুর ১৩ থেকে ১৭ তম দিন পর্যন্ত এ সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে। অন্যদিনেও আকাঙ্ক্ষা থাকতে পারে।বাচ্চা না চাইলে সবসময় প্রটেকশন ব্যবহার করা উচিত। নইলে বীর্যপাতের আগে লিঙ্গ বের করে বাইরে বীর্যপাত করা উচিত।এই জিনিসটা যোনি পথে পিচ্ছিল করার জন্য হয়। এতে যদি শুক্রানু থাকে তাহলে সম্ভাবনা থাকবে। এতে শুক্রানু থাকার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না।

মাসিকের সময় প্যাড এর সাথে টিস্যু ব্যবহার করলে কি ক্ষতি হয়? একটি প্যাড কি একাধিকবার ব্যবহার করা যায়?

না। পরিষ্কার হলে ব্যবহার করতে পারেন। বাজারে অনেক ভাল মানের প্যাড ও ন্যাপকিন পাওয়ার যায়। সাধারণ প্যাড এর তুলনায় ওগুলো ব্যবহার করা স্বাস্থ্য সম্মত।

কত সময় পর পর প্যাড পাল্ঠাতে হয়?

প্যাড পালটানো নির্ভর করে কি পরিমান স্রাব হচ্ছে, তার উপর। ভারী হয়ে গেলে বা অস্বস্তি লাগলে পালটে ফেলানো উচিত। এখানে সমস্যার কিছু নাই।

আমার বয়স ২২ । আমার শেষ মাসিক হয় ৩ এপ্রিল। গত মাসিকের পর থেকে আমি আমার প্রেমিকের সাথে কয়েক বের সেক্স করি। কিন্তু আমার গত কয়েকদিন ধরে হঠাৎ করে অনেক মাথা ঘুরে আসছে। পেটে ও বাথা করছে। প্রতি সেক্স এর সময়ই কনডম ব্যবহার করা হয়েছে। তবুও আমার অনেক দুশ্চিন্তা হছে প্রেগন্যান্সি নিয়ে।। এখন আমি কি করব??

কনডম ব্যবহার করলে তো দুশ্চিন্তার কারণ থাকার কথা না। টেনশন করলে আপনার এই সমস্যা আরো বাড়বে। তাছাড়া এখনো আপনার পরবর্তী মাসিকের সময় পার হয়ে যায় নাই। মাথা ঘুরানো গরমের জন্য হতে পারে। পেট ব্যথা খাবারের জন্য। দুশ্চিন্তা না করে একটু রেস্টে থাকেন। ঠিক হয়ে যাবে। পরবর্তী মাসিক হলেই চিন্তার কিছু থাকবে না।

সমালোচকঃ যারা যারা প্রেমিকের সাথে সেক্স করেন , সেক্স করার সময় দুশ্চিন্তা থাকেনা মাথায় ??? করার পর কেন এতো দুশ্চিন্তা আসে। থু আপনাদের মুখে। আপনাদের গর্ভ হয়ে বাজে অপবাদ পাওয়া উচিৎ বলে মনে করি।

একটা সুস্থ্য-স্বাভাবিক মানুষের একটা স্বাভাবিক চাহিদা হলো সেক্স। এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কিছু নাই। তবে হুটহাট করে করে ফেলা ঠিক না। একটু প্লান করে ব্যাপারটা এনজয় করা উচিত। সেজন্য ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে প্রটেকশন ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ। আমাদের দুশ্চিন্তা হয় কেননা আমাদের দেশে-সমাজে বিয়ের আগে বাচ্চা এসে গেলে সেটা ভালো চোখে নেয় না। অথচ কাউকে অপবাদ দেয়ার অধিকার কিন্তু অন্যের থাকা উচিত নয়।

আমি সঙ্গম করার সময় ১ম বার কনডম ছাড়া এবং পরে বীর্জপাতের কিছু আগে কনডম ব্যবহার করেছি। তার পর ২য় বার লিঙ্গ মুছে আবার একই ভাবে সঙ্গম করেছি। ৩য় বার লিঙ্গ মুছে আবার একই ভাবে সঙ্গম করেছি । এখন ওর মাসিক হচ্ছে না । ২৮ তারিখ ওর মাসিক হওয়ার কথা ছিল। এখন কি করতে পারি?

মুছলেও অনেক সময় বীর্য থেকে যেতে পারে, আর সেখানে একটা শুক্রানুই প্রেগন্যান্টের ঘটনা ঘটিয়ে দিতে পারে। তবে অনেক সময় বিভিন্ন কারণে মাসিক কিছুটা এদিক-ওদিক হতে পারে। এক্ষেত্রেও হয়তো এমন কিছু হয়ছে। ইমার্জেন্সি জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল পাওয়া যায়, ডাক্তারের পরামর্শ মেনে সেটা ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

আয়রন ট্যাবলেট খেলে মাসিক হওয়ার সম্ববনা কতটুকু?

শরীরের আয়রনের অভাব থাকলে আয়রন ট্যাবলেট খুব ভালো জিনিস। সেটা অবশ্য আপনার ডাক্তার বলতে পারবেন। প্রেগন্যান্সি রোধে এটা ততটা কার্যকরী নয়। তার চেয়ে বাজারে ইমার্জেন্সি জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল পাওয়া যায়, ডাক্তারের পরামর্শ মেনে সেটা ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

আমার মাসিক নিয়মিত, (২৬ দিনে) ৪দিন থাকে। বয়ছ ৩৬, ১২ বছ‍র আগে বিয়ে হয়। যেদিন স্বামীর সাথে মিলিন করি সে দিন পিল খাই, এই ভাবে তারিখ ঠিক ‍রাখতে কিছু পিল বাদ দিয়ে লাল পিলগুলা খাই। লাল পিল ৩/৪ টা খাওয়া হতেই মাসিক হয়ে যায়। এইভাবে ২/৩ বছর হল। এইমাসে লাল পিল সব খাওয়া শেষ হবার ৩দিন পর (৩৫ দিনে) ২/৩ ফোটার মত ব্লাড দেখলাম, তারপর আর ব্লাড আসেনাই, আজ ৭ম দিন অবস্থা অপরিবর্তিত, এখন কি করতে পারি?

পিল খেলে নিয়মিত ভাবেই খাওয়া উচিত। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এভাবে বাদ দেয়া ঠিক নয়।মাঝে মাঝে নানা কারণে মাসিক আগে বা পরে হতে পারে। দুশ্চিন্তা এটাকে আরো বেশি অনিয়মিত করে দেয়। খাওয়া-দাওয়া আর ঘুম ঠিক রাখুন।

মাসিকের পরিমান যদি কম হয় তাহলে কি আবার পেগনেন্ট হওয়ার সম্ববনা আছে?

না, মাসিক সব সময় সমান হবে, এমন কোন কথা নেই।

আমার এপ্রিল মাসের ৩০ তারিখে মাসিক হওয়ার কথা ছিল কিন্তু আমার মাসিক শুরু হয় ৯ই মে। ব্লাড খুব অল্প বের হচ্ছে আমি বিবাহিত। আমার এক বছর আগে ডান বেস্টে টিউমার ‍ছিল অপারেশন করেছি এখন ও মাঝে মাঝে আমার ডান বেস্ট ব্যাথা করে। আমার মাসিক ১-২ দিন দেরী হয় কিন্তু এবারের ম‍ত এত দেরী আর ব্লাড এত কম কখনো হয়‍ নাই। গতমাসে মাসিক হবার পর একবার মিলিত হই। কেন আমার মাসিক এমন হ‍ল? এ‍ তে কি প্রেগ‍ নেন্ট হবার সম্ভবনা আছে? Gynaecosid ট্যাবলেট খে‍ লে কি হয় এটা কি শরীরের জন্য ক্ষতিকর?

মাসিক ১-২ দিন দেরী হওয়া খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। মাঝে এর বেশি এদিক-ওদিক হলেও ভয় পাবার কিছু নাই। নানা কারণে এরকম হতে পারে। দুশ্চিন্তা একটা অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া লাইফস্টাইলে কোন পরিবর্তন এলেও এমন হতে পারে। আর মাসিকের অল্প-বেশিও এসব কারণে হতে পারে।যে কোন ঔষধেরই একটা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। তাই নিজ থেকে, ডাক্তারের পরামর্শ না মেনে কোন ঔষধ খাওয়া ঠিক নয়।

আমার বৌ এর মাসিক হইছে। আমি কি এখন কনডম ছাড়া মিলন করতে পারব? কনডম ছাড়া মাসিকএর সময় মিলন করলে কি গর্ভবতী হউয়ার সম্ভবনা আছে?

মাসিকের সময় মেয়েদের গর্ভাশয়ে ডিম্বানুর হার সবচেয়ে কম থাকে। অনেক সময় থাকেও না। তবে কথা হচ্ছে, গর্ভবতী হতে একটা মাত্র ডিম্বানুই যথেষ্ট হতে পারে। তাই বাচ্চা নিতে না চাইলে ঝুঁকি নেয়া ঠিক না। সবসময় কোন না কোন প্রোটেকশন ব্যবহার করা উচিত।এছাড়া মাসিকের সময় যোনিমধ্যে রক্তসঞ্চালনের মাত্রা বেড়ে যায়। তখন পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন না করলে ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি থাকে, তাই কনডম ব্যবহার করাই ভালো।

আমি আমার প্রেমিকার সাথে এখনও সেক্স করি নি । ঐ দিন প্রথম বারের মত ওর সাথে কথা বললাম এ ব্যাপারে ।ওর মাসিক এর প্রথম দিন ।আমি খুব সতর্কতার সাথে পরুষঅঙ্গ শুধু একটু ঢোকানুর চেষ্টা করছিলাম। ঢুকাই নি পুরুটা। কনডম ছাড়া বলে ভয় পাই । ইতিমধ্যেই বীর্য বের হয়ে যায় আর আমি টান দিয়ে বের করে ফেলি। তারপর ও ভয় পাই ওখানে লাগলো কিনা। সাথে সাথে ও টিস্যু পেপার দিয়ে মুছে ফেলে আর ওয়াশ করে আসে বাচ্চা হউয়ার কি সম্ভবনা আছে? আমি কি কনডম ছাড়া মাসিক হউয়ার সময় মিলিত হতে পারব?

বাইরে পড়লে ভালো ভাবে ধুয়ে ফেললে সমস্যা হবে না। বাচ্চা না নিতে চাইলে কখনোই কোন প্রোটেকশন ছাড়া সেক্স করা ঠিক নয়।

আমার গত মাসে সেক্স হয় এবং তারপর ১৭ দিন পর মাসিক হয়। কিন্তু এখন আমার প্রছন্দ মাথা বেথা , বমি বমি লাগসে। খুব চিন্তাই আছি। প্রেগ্নেন্ত হয়ার সম্ভাবনা নাইতো?

১৭ দিন পরে মাসিক হলে প্রেগন্যান্ট হবার ভয় নেই।মাথা ব্যথা গরমের জন্য হতে পারে। বমিও তাই। ঠাণ্ডায় বিশ্রাম নিন।

মাসিকের সময় তলপেটে ব্যথা – কী করণীয়?

মাসিকের সময় তলপেটে ব্যথা আমাদের দেশে একটা কমন ব্যাপার। কিন্তু একটু সচেতন হলেই এই ব্যথা এড়িয়ে চলা যায়।

কোন বোতলে গরম পানি ভরে বা কাপড় গরম করে তলপেটে ২০/২৫ মিনিট ছ্যাক লাগাতে হবে। এটা সপ্তাহে টানা ৩/৪ দিন করে করতে হবে। এতে ধীরে ধীরে মাসিকের সময় ব্যাথা কমে যাবে।

এছাড়া আরেকটা পদ্ধতি আছে- সিজ বাথ। ৩ মিনিট গরম পানিতে কোমর ডুবিয়ে বসে থাকতে হবে। পরের ২/১ মিনিট ঠাণ্ডা পানিতে। এভাবে ২০/২৫ মিনিট সিজ বাথ নিতে হবে। এটাও সপ্তাহে টানা ৩/৪দিন নিতে হবে। শুধু পানি বা পানিতে কিছু লবন, বেকিং সোডা বা ভিনেগারও ব্যবহার করা যায়।

আরেকটা পদ্ধতি আছে- কেজেল ব্যায়াম। এটাও খুব উপকারী।

এগুলো করলে যোনি মধ্যে রক্ত চলাচল প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত না হয়ে আবার ঠিকঠাক হয়ে যাবে, ব্যাথাও কমে যাবে।

আমাদের দেশের অনেক মেয়েদেরই শারীরিক ফিটনেস ভালো নয় বলে এরকম সমস্যা বেশি হয়। একে একে এই পদ্ধতিগুলোর কথা সবাইকে বলে দিন। একজন আরেকজনকে বলে দিন। এই অবাঞ্চিত সমস্যা থেকে মুক্ত থাকুক আমাদের নারী সমাজ।

কেজেল ব্যায়াম: পুরুষদের জন্য গাইড

আপনি হয়তো ভাবছেন কেজেল ব্যায়াম/ কেগেল ব্যায়াম (Kegel exercises) শুধু মহিলাদের জন্য হয়। আসলে তা নয়। মহিলারা এই ব্যায়াম থেকে যতটা সুবিধা লাভ করতে পারেন, পুরুষরাও ঠিক ততটা সুবিধা নিতে পারবেন।

কেগেল ব্যায়াম শ্রোণী মেঝের পেশী সুসংগঠিক করে মূত্রসংবহনতন্ত্র, বৃহদন্ত্র ও পায়ুপথের কার্যপ্রণালী জোরদার করে এবং যৌনক্রিয়া ক্ষমতাকে উন্নিত করতে পারে। মহিলাদের মত পুরুষেরাও যখন তখন এই ব্যায়াম করতে পারেন। কিন্তু সবারই উচিত ব্যায়ামটি করার আগে সঠিক মাংশপেশী সনাক্তকরণ এবং সঠিক পন্থা জেনে নেয়া।

পুরুষদের জন্য কেজেল ব্যায়ামের উপকারিতা

শ্রোণী মেঝের পেশী অনেক কারণে ক্ষতিগ্রস্থ বা দূর্বল হয়ে যেতে পারে। যেমন প্রোস্টেড গ্রাণ্ডে টিউমার বা অন্য কোনো সার্জারী, ডায়াবেটিস ইত্যাদি। কেজেল ব্যায়াম পুরুষদের পেলভিস ফ্লোরের মাসল শক্তিশালী করে যখন তখন প্রস্রাবের বেগ, ঠিক মতো প্রস্রাব না হওয়া সহ আরো অনেক রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে।

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে পুরুষদের জন্য কেজেল ব্যায়াম যৌনমিলনের সময় লিঙ্গ উত্থানে সমস্যা, অকাল বীর্যপাত, দ্রুত বীর্যপাতের মত সমস্যারও সমাধান দিতে পারে।

পুরুষেরা কিভাবে কেজেল ব্যায়াম করবেন

পেলভিস ফ্লোর মাসল অর্থাত শ্রোণী মেঝের পেশী খুঁজে বার করা এবং সেটা কিভাবে সংকুচন/প্রসারন করবেন- সেটা কিছুটা কষ্টসাধ্য হলেও অসম্ভব কিছু নয়।

১. সঠিক পেশী খুঁজে নিন
পেটে বায়ু জমলে সেটা বের হয়ে যাওয়া রোধ করতে গেলে বা প্রস্রাব করা কালে হঠাত প্রস্রাব বন্ধ করে দিলে পেটের নিম্ন ভাগে পিছনের দিকে যে পেশীগুলো আঁটসাঁট হয়ে যায় সেগুলোই পেলভিস ফ্লোর মাসল অর্থাত শ্রোণী মেঝের পেশী। আয়নায় দেখলে দেখবেন লিঙ্গ কিছুটা তলপেটের কাছাকাছি চলে আসে এবং অণ্ডথলি উপরের দিকে উঠে আসে।

২. পন্থা/পদ্ধতি/টেকনিক সঠিককরণ
ব্যায়ামের আগে ঠিকমতো প্রস্রাব করে নেবেন। প্রথম দিকে উচিত হবে মেঝেতে শুয়ে এই ব্যায়াম করা। মেঝেতে শুয়ে পেলভিস ফ্লোর মাসল ৩ সেকেণ্ড সংকুচন করে রাখুন, তারপর ৩ সেকেণ্ড প্রসারণ করে রাখুন। এভাবে টানা কয়েকবার করবেন। তবে খুব বেশী না। মাসল ধীরে ধীরে শক্তিশালী হতে শুরু করলে বসে, দাঁড়িয়ে বা চলন্ত অবস্থায়ও করতে পারবেন।

৩. মনোযোগ বজায় রাখুন
ভালো ফলাফলের জন্য যখন সংকুচন করবেন তখন গভীর ভাবে মনোযোগ দিয়ে করবেন। অনেকেই ভুল করে পেটের বা তলপেটের, উরু, এবং নিতম্বের পেশী সংকুচন করে ফেলেন। এটা ঠিক নয়। দম বন্ধ বা ধরে রাখবেন না। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখুন।

৪. কতবার করবেন
প্রত্যহ ৩ টা সময় (যেমন সকালে দুপুরে বিকেলে) চেষ্টা করবেন। প্রতিবার ১০ রেপস্-এর (repetitions) ৩ সেট করবেন।
(৩ সেকেণ্ড সংকুচন + ৩ সেকেণ্ড প্রসারণ = ১ রেপ। ১০ রেপ = ১ সেট)

মাঝে মাঝে অন্য কাজের সময় (যেমন দাঁত মাজা) এটা প্রাকটিস করে নিতে পারেন। তলপেটে চাপ পড়ে এমন কিছু কাজকর্মের সময়ও (যেমন হাঁচি, কাশি, হাসা, ভারী বস্তু উত্তোলন) আপনার পেলভিস ফ্লোর মাসল সংকুচন হতে পারে। এছাড়া যৌনমিলনের সময় পেলভিস ফ্লোর মাসল সংকুচন করে লিঙ্গ আরো অধিকক্ষণ উত্থিত রাখতে পারেন বা অকাল বীর্যপাত রোধ করতে পারেন।

সমস্যা হলে-
ব্যায়াম করতে গিয়ে সমস্যায় পড়লে সাহায্য চাইলে কার্পণ্য বা লজ্জা করবেন না। নিকটস্থ স্বাস্থ্যসেবা বা ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করবেন যাতে তারা আপনাকে সঠিক পেশী সনাক্তকরণ এবং ব্যায়ামের পদ্ধতি শিখিয়ে দিতে পারেন।

কিছু ক্ষেত্রে biofeedback প্রশিক্ষণ সাহায্য করতে পারে। এই ধরণের সেশনে, ডাক্তার বা অন্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীরা মলদ্বার দিয়ে একটি Monitoring Probe প্রবেশ করিয়ে পুরো ব্যাপারটা মনিটরে পর্যবেক্ষণ করেন। পেলভিস ফ্লোর মাসল সংকুচন করার পর একটা মনিটরে দেখা যাবে যে আপনি সঠিক পেশী সংকুচন করতে পারছেন কিনা, এবং পারলে কতক্ষণ পারছেন।

কখন ফলাফল পাবেন

নিয়মিত কেজেল ব্যায়াম করলে ৩ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে অনিয়ন্ত্রিত প্রস্রাবের সমস্যা দূর হয়ে যেতে পারে। লিঙ্গ উত্থানের সমস্যা সমাধান হতে ৩ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। অব্যাহত সুবিধার জন্য এই ব্যায়াম প্রত্যহ করে যাওয়া উচিত।

(কেগেল ব্যায়াম: মহিলাদের জন্য গাইড।)
মহিলাদের জন্য পেলভিস পেশীর ব্যায়ামের জন্য ৩টি আসন আছে। এগুলো পুরুষেরাও করতে পারেন।

গ্রেট সেক্স লাইফের পাঁচটা মন্ত্র

বেডরুমের রোমান্সকে আরও রোমাঞ্চকর করতে চান৷ একটা বই আপনাকে এই বিষয়ে ভীষণ ভাবেই সাহায্য করবে৷ লেখক বারবারা এবং এলান পিসের লেখা নতুন বইটাতে আপনার সেক্স লাইফকে মধুর করার সব রসদই মজুত রয়েছে৷ চলুন সেই বই অনুসারে পাঁচটা নিয়্ম জেনে নিই৷ যা মেনে চললে আপনার দাম্পত্য জীবনের সুখ আরও বাড়বে৷ এর সঙ্গে যারা বিয়ে করার বিষয়ে ভাবছেন তাদেরও বিবাহিত জীবন মধুর হবে৷

পুরুষদের মধ্যে হাস্যরস বোধ যথার্থ মাত্রায় থাকা উচিত৷ যদি বেডরুমে আপনি আপনার স্ত্রীকে প্রান খুলে হাসাতে পারেন তাহলে স্ত্রীর মন পেতে আপনার বেশী সময় লাগবে না৷

বেশীরভাগ স্মার্ট মহিলারাই প্রেমের ক্ষেত্রে ভুল মানুষটিকে বাঁছেন৷ অনেক গবেষণাতেই এই তথ্য প্রমানিত হয়েছে৷ হৃদয় গঠিত ব্যাপারে তারা একেবারেই ভুল সিদ্ধান্ত নেন৷ তাই স্মার্ট মহিলাকে জীবন সঙ্গী হিসাবে বাঁছার আগে তাঁকে একবার যাচাই করে নেবেন৷

মহিলারা সে সব পুরুষদের সঙ্গেই দৈহিক সম্পর্ক গড়তে পছন্দ করেন যারা দেখতে ভীষণই স্মার্ট৷ যারা আকর্ষক পোশাক পড়েন৷ পোশাকের সঙ্গে মানান সই টাই পড়েন৷ হাতে এক্সপেনসিভ ঘড়ি পড়েন৷ সেই সব পুরুষদের প্রতিই মহিলারা বেশী আকৃষ্ট হন৷ তাই প্রেমিকাকে মনের কথাটা জানানোর আগে নিজেকে বদলে ফেলুন৷ আপনার প্রেম কখনও বিফল হবে না৷ অপরদিকে হাবিরাও স্ত্রীর মন পেতে স্মার্ট লুক আনার চেষ্টা করুন৷

লেখকের মতে যে সব পুরুষরা ঘরের কাজকর্ম করেন৷ মহিলারা তাদের বেশী সেক্সী বলে মনে করেন৷ তাই বৌ এর মন পেতে মাঝে মধ্যে ঘরের কাজ করুন৷ এতে প্রেম বাড়বে৷

বেশীর ভাগ পুরুষই মনে করেন মহিলারা সব সময় কাজ করতে পারেন না৷ কিন্তু বর্তমান পুরুষদের এই চিন্তাধারা ভুল বলে প্রমাণিত হয়েছে৷ পুরুষদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মহিলারা এগিয়ে চলেছেন৷ আজও অনেক পুরুষরা বিয়ের পরে স্ত্রী কে চাকুরী করার অনুমতি দেন না৷ এক্ষেত্রে দাম্পত্য জীবনে অনেক স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি হয়৷ কিন্তু জীবনকে রঙীন করতে হলে পুরুষদের এই ধারনা বদলাতে হবে৷ নিজের মতের পাশাপাশি স্ত্রীর মতামতকেও প্রাধাণ্য দিতে হবে৷ লেখকের মতে এক্ষেত্রে মহিলাদের আরও দৃঢ় হতে হবে৷

বিবাহোন্মুখ পোলাপাইনদের জন্য অবশ্যপাঠ্যঃ প্রয়োজনীয় বিবাহ প্রস্তুতি

বয়স হয়ে গেলো, বসন্ত একের পর টা টা দিচ্ছে, অথচ অনেক এখন আবিয়াইত্যা। আমি পোলাপাইনদের কথা বলছি। যারা বিয়ে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখে বসে আছে, বিয়ের পর কি কি করবে তার উষ্ণ পরিকল্পনাও করে রেখেছে। গল্প-উপন্যাস-মুভি-নাটক পড়ে/দেখে বা বন্ধুদের কথা শুনে কল্পনার ফানুস উড়াচ্ছে, অথচ ফানুস কিন্তু হঠাৎই ফুসস্ হয়ে যাবে, যদি কল্পনাটা বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা না হয়।যেহেতু অনেকেরই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নাই দৈহিক সম্পর্ক বা বিবাহ পরিবর্তী প্রাথমিক কার্যকলাপের তাই অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই পোলাপাইনরা নানা রকম ভুল ধারনা নিয়ে বসে থাকে। তার সাথে পর্নোছবি-বই (চটি) আর অনেকের বাড়িয়ে বলা অভিজ্ঞতায় অনেকেই বিভ্রান্ত হয়। কেউবা একটা নির্দিষ্ট ফরম্যাটে চিন্তা ভেবে বসে থাকে, আর বিয়ের পর তার এদিক ওদিক হলে টেনশনে পরে। কেউ বা হীনমন্যতায় ভুগে বিয়ের দিকেই যেতে চায় না। দ্বিতীয় শ্রেনীর অবস্থা আরো কাহিল করে রাস্তায় বিলানো মঘা-ইউনানীর লিফলেটগুলো।এটা একটা ইন্ট্রো। বিস্তারিত পরের পর্ব গুলোতে আসবে। বিষয় গুলো আসবে বিয়ে ঠিক হবার পর কি কি করনীয় তার ভিত্তিতে।আবিয়াইত্যাদের জন্য বিবাহিত ভাইদের একটা উপহার সরুপ। তাই বিবাহিত ভাইদের মন খুলে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শমুলক কমেন্টের আহবান জানানো হচ্ছে। এদের ভয় না দেখিয়ে কিভাবে বিয়ের জন্য ভালোভাবে তৈরি করে দেয়া যায় সেই প্রচেষ্টা থাকা উচিত।

বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে, আংটি পড়ানো শেষ। এবার বিয়ের তোরজোর চলছে। গায়ে হলুদ-বিয়ে আর বৌভাতের ডেট ঠিক করা হবে, এরপর মোহরানা, কমিন্যুটি সেন্টার, ক’জন অতিথী, গেটে কত দিতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। ওসব মুলতঃ অভিভাবকরাই করবেন। পাত্র হিসেবে আপনার কাজ কি?

করনীয় ১:
মোবাইল নম্বর এতদিনে অবশ্যই আদান-প্রদান হয়েছে! এটা খুবই জরুরী। বিয়ের আগে অনেক কিছুই ফিক্স করা যাবে মোবাইলের মাধ্যমে। মানসিক-শারীরিক অনেক বিষয় আলোচনায় আসবে যা বিয়ে পরবর্তী জীবনের জন্য খুব প্রয়োজনীয়।অপশনালঃ বিয়ের ডেট ঠিক করা নিয়ে একটু বলি। অনেকেই বিয়ের রাতে আবিস্কার করে যে তার নববধুর পিরিয়ড চলছে। সো এতদিনের “প্রথম রাইতে বিলাই মারা”র প্ল্যান কুপোকাত। এটা যদিও খুব জরুরি কোন বিষয় না, পিরিয়ড শেষ হয়ে যাবে সর্বোচ্চ ৩-৪ দিনের মধ্যে। তারপর প্ল্যানমাফিক…তবে মেয়ে বা আত্মীয়াদের মধ্যে কারও সাথে যদি ফ্রি থাকেন তবে একটা ট্রাই করা যেতে পারে। যেমনঃ আপনার ভাবী আছে, তাকে বলুন যেনো বিয়ের সময় মেয়ের কোন শারীরিক সমস্যা না থাকে। ভাবীরা এই লাইনে “আকেলমন্দ”, তাই ইশারা বুঝে ঠিকই হবুবধুকে পরবর্তি পিরিয়ডের ডেট জিজ্ঞেস করে সেভাবে বিয়ের ডেট ফিক্সে ভুমিকা রাখতে পারেন। তারপরেও অনেক সময় বিয়ের টেনশনে অনেক সময় মেয়েদের অসময়ে পিরিয়ড শুরু হয়ে যায়। তাই আবারও বলছি এটা বড় কোন ইস্যু না।

করনীয় ২:
হবু বধুর সাথে ফ্রী হয়ে নিন। টেলিফোনে আলাপ যেহেতু শুরু হয়ে গেছে। এইবার তার সাথে শারীরিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ শুরু করুন। তবে রয়ে-সয়ে। সরাসরি প্রথম ১/২ দিনেই শুরু করলে কিন্তু বিপদ। কিভাবে শুরু করবেন নিজেই চিন্তা করুন। মনে রাখবেন এই আধুনিক যুগে মেয়েরা কিন্তু সবই জানে। জানার সোর্স আপনার মতই। এটাকে নেগেটিভলি দেখার কিছু নাই। বরং পজেটিভলি দেখুন, ভাবুন তার এই জানা আপনার কাজকে সহজ করে দেবে। তবে মেয়েরা জানলেও প্রকাশ করবে না, কারন তার মনে ভয় কাজ করবে যে আপনি তাকে ভুল বুঝতে পারেন। তাই প্রথম স্টেপ আপনি নিন। জানা বিষয় আলাপ শুরু করুন, তবে তত্ত্বীয় বিষয় গুলো।

করনীয় ৩:
শারিরীক ভাবে সুস্থ থাকুন ও শক্তিশালী হোন। না, কোন বটিকা বা সালসা খাওয়ার কথা বলবো না। স্রেফ মধু খান ডেইলি এক চামচ করে। দুধে মিশিয়ে খেলে আরো ভালো। আর স্বাভাবিক খাবারতো খাবেনই। ভুড়িটাকে বেশি বাড়তে দিয়েন না। বাসর রাতে ফার্স্ট ইম্প্রেশনটা খারাপ হয়ে যাবে তাইলে। আর প্রচুর পানি খান। চেহারা ফ্রেশ থাকবে। পরর্বতী পর্বে আলাপ হবে সরাসরি বাসর রাতের প্রস্তুতি নিয়ে। কি কি কিনতে হবে আর সাথে রাখতে হবে।এই পোষ্টের বিষয়ে কারও কোন প্রশ্ন থাকলে করার আহবান জানাচ্ছি। এবং এই লাইনের গাযীদের মতামত আশা করছি।

করনীয় ৪:
লুব্রিকেন্ট বা জেল কিনে রাখুন। ভালো কোন ফার্মেসী থেকে লুব্রিকেন্ট কিনে রাখুন। বন্ধুরাও অনেক সময় গিফট দেয়, কিন্তু সে আশায় বসে থাকলে বিপদ। এই লুব্রিকেন্ট বলতে গাড়ীর লুব্রিকেন্ট বুঝানো হয় নি। এটা সার্জিক্যাল জেল। ভালো মানের একটা লুব্রিকেন্টের নাম বলি। জনসন এন্ড জনসনের “KY Gelly”। বড় ফার্মসীগুলোতে পাবেন, KY Gelly বল্লেই দিবে। আর এক টিউব দিয়ে দশ-বারোজন বন্ধুর সংসার শুরু হয়ে যাবে। কারন একজনের বেশি লাগে না। এই সার্জিকেল জেল না পেয়ে অনেকে নারিকেল তেল, গ্লিসারিন ইত্যাদি ব্যবহার করে। এদুটোই কিন্তু রাফ, ইভেন কনডম ফেটে যেতে পারে। গ্লিসারিন কখনও র’ অবস্থায় ইউজ করবেন না। পানি মিশিয়ে ব্যবহার করুন। তবে গ্লিসারিনের ব্যবহার সাধারনত নিরুৎসাহিত করা হয়।কেন ও কি ভাবে ব্যবহার করবেন:আমরা সবাই কম বেশি জানি যে অনাঘ্রাতা মেয়েদের যৌনাংগের প্রবেশপথটা খুব সরু থাকে। অর্থ্যাৎ চাইলেই সহজে সেখানে আপনার অংগ প্রবেশ করবে না। এর সাথে আছে হাইমেন বা বা সতিচ্ছেদ বা পর্দার প্রতিরোধ। তাই প্রথমদিকে প্রবেশ করাতে ব্যর্থ হয়ে অনেক হতাশ হয়ে পড়ে। এটা নিয়ে টেনশন না করে আপনি প্রথমে আপনার এসাইনমেন্ট ঠিক করুন “প্রবেশ করাতে হবে”।এই সরু পথে জোর করেই প্রবেশ করতে হবে, জোর করা মানেই শক্তি প্রয়োগ, এবং স্বাভাবিক ভাবেই এতে আপনার সংগীনি ব্যাথা পাবে। তাই শক্তি প্রয়োগটা গোয়াড়ের মত না করে ভালোবাসার সাথে করুন। দুইস্থানেই জেল লাগিয়ে এবার চেষ্টা করুন, একদিনে না হলে দুইদিনে হবে। আরো এক/দুইদিন বেশি লাগলেও পরিশ্রম কমবে, দুঃশ্চিন্তা কমবে, ব্যাথা কম পাবে, শুরু করা যাবে তাড়াতাড়ি।কিছু ভুল ধারনাঃপ্রথমতঃ অনেকে প্রথম প্রবেশের সময় নববধুর কুমারিত্বের পরীক্ষা নেয়ার ইচ্ছাও মনে মনে পোষন করে। ভুলেও একাজ করবেন না। একটা প্রচলিত ধারনা আছে কুমারী বা অনাঘ্রাতা মেয়ে মানেই সতিচ্ছেদ বা হাইমেন থাকবে, তাই স্বামীই সেটা বিদীর্ন করে বউনি করবে। এটা এই যুগে হাস্যকর। সাইকেল চড়লে-দৌড়াদৌড়ি-খেলাধুলা করলে হাইমেন ফেটে যাবেই, তাই সেটা ন্যাচারাল, স্বামীকে দায়িত্ব নিতে হবে না। কেউ হাইমেনের উপস্থিতি না পেলে আবার নববধু সম্বন্ধে খারাপ ধারনা করে বসে থাকবেন না।দ্বিতীয়তঃ আর একটা ভুল ধারনা হলো রক্তপাত না হলে মেয়ে কুমারী না। এটা বিশ্বাস করা মুর্খতার সামিল। যদি হাইমেন ফেটে গিয়ে থাকে আগেই, বা আপনি যদি লুব্রিকেন্ট ইউজ করেন তবে অনেক সময়ই রক্তপাত নাও হতে পারে। তাই এসব কোন মানদন্ড না।তৃতীয়তঃ বিভিন্ন পর্নো কাহিনী পড়ে অনেকের ধারনা হয় যে সেক্স করার সময় যোনীপথ পিচ্ছিল কামরসে ভেজা থাকবে, তাই উঠো..যাতো, আলাদা লুব্রিকেন্ট ইউজের প্রয়োজন নেই। আসলে ব্যাপারটা তা না। এই ফ্লুইডটা বের হবে উত্তেজিত হলেই। আর নতুন নতুন বাবা-মাকে ছেড়ে আসা ভয়-শংকা-লজ্জায় থাকা একটা মেয়ের পক্ষে উত্তেজিত হওয়া এত সহজ না। ইভেন অনেকে তো প্রথম প্রথম কোন অনুভুতিই পায় না। তাই ফ্লুইড না বের হলে ভয়ের কিছু নেই, সময় নিন কয়েকদিন, এমনিই ঠিক হয়ে যাবে।চতুর্থতঃ স্তনের স্থিতিস্থাপকতা ও কোমলতা দেখেও অনেকে টাচড-আনটাচড কন্ডিশন বের করতে চান। শক্ত-টানটান হলে নাকি আনটাচড। এটা সবচে বড় বোকামী। আমাদের মেয়েরা এমনিতেই শারীরিকভাবে নরম প্রকৃতির। তাই স্তনও নরম হতে পারে। মুভির নায়িকার টান-টান বুক বউয়ের কাছে আশা করবেন না, কারন বুক টানটান রাখতে শোবিজের লোকেরা অনেক টাকা খরচ করে, কসরত করেপঞ্চমতঃ টিনএজ থেকেই হস্ত-মৈথুনে অভ্যস্ত ছেলেরা অনেক সময় বিয়ের করতে ভয় পায়। মঘা-ইউনানীর লিফলেট পড়ে আবিস্কার করে তার “আগা মোটা গোড়া চিকন”,তাই তাকে দিয়ে স্ত্রীকে সুখ দেয়া সম্ভব হবে না। এটা নির্মম রসিকতা। এসব নিয়ে টেনশন না করে লাফ দিয়ে নেমে যান বিয়ে করতে। এত মানুষ দেখেন আশে পাশে সবাই কি ধোয়া-তুলসি পাতা? সবাই অনাঘ্রাতা বউই চাই আমরা। আর নিজে যদি অভিজ্ঞতাহীন হই, তবে একই আশা করবো নববধুর কাছ থেকে। সর্বোপরি কারও যদি সন্দেহপ্রবন মন থাকে, তবে সব কিছু ক্লিয়ার হয়ে নেয়া উচিত আগেই। এনগেজমেন্ট বা বিয়ের আগেই মেয়ে সম্বন্ধে সব খোজ-খবর নিয়ে নিন। বিয়ের পর আর এসব নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। মনে রাখবেন, সন্দেহের পোকা একবার মনে ঢুকলে সেখানেই বাসা বেধে বসে যাবে। তাই আগে থেকেই সব ক্লিয়ার হোন। বিয়ের পর নো টেনশন আগের ব্যাপার নিয়ে। ভালবাসতে শুরু করুন যেভাবে পেয়েছেন সে অবস্থা থেকেই।

করনীয় ৫:
আত্মবিশ্বাসী হোন, অযথা ডাক্তারের কাছে দৌড়াবেন না। টিন-এজে স্বমেহনের কারনে অনেকেই অপরাধবোধে ভোগে, মনে শংকা তৈরি হয় শারীরিক ভালোবাসায় পারংগমতা দেখাতে পারবে কিনা। অনেকে দৌড়ায় ডাক্তারের কাছে। ডাক্তারের কাছে যাওয়া যাবে না তা নয়। তবে যদি নিজের দৈহিক সুস্থতা থাকে আর পুরুষাংগের প্রাত্যহিক উত্থান (সকালে, যাকে “মর্নিং গ্লোরী” বলা হয়।) হয় তবে ভয়ের কিছু নেই। ডাক্তারের কাছে যাওয়ার রিস্ক হচ্ছে অনেকে এই সুযোগে টু-পাইস কামানোর ধান্ধায় আপনার উল্টো ক্ষতি করে দিতে পারে। অনেকে আবার মঘা-ইউনানীর মত ফ্রডের কাছে যান, ওখানে গেলে নাকি লাইফ হেল করে দেয়।তবে পুরুষদের ক্ষেত্রে একটা বিষয় আমলে আনা হয় না, সেটা হলো ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা ইউরিন ইনফেকশন। ইউরিন ইনফেকশন হয় কিছু ব্যাকটেরিয়ার কারনে, এবং পুরুষরা এটাতে আক্রান্ত হয় টয়লেট ব্যবহারের মাধ্যমে। পুরুষদের সবাইকে কম-বেশি পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করতে হয়। ইউনি’র হল-অফিসের টয়লেটকেও পাবলিক টয়লেট হিসেবে ট্রিট করুন এখানে। এসব টয়লেট নানা ধরনের মানুষ ব্যবহার করে। এবং অনেক টয়লেটেই পানির সুব্যবস্থা থাকে না। এদের মধ্যে কারও যদি ইনফেকশন থেকে থাকে তবে সে টয়লেট ব্যবহারের পর ভালো ভাবে পানি না দিয়ে গেলে, বা নতুন ব্যবহারকারী পানি দিয়ে ফ্লাশ না করে ব্যবহার করলে প্যানে থাকা ব্যাক্টেরিয়া আক্রমন করে। এভবেই পানি ইউজ না করলে ইনফেকশন হয়। এটা একটা “যৌনবাহিত রোড (STD)”, এবং স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীরা এটা পেয়ে থাকে। তাই যদি আপনি প্রসাবে জ্বালাপোড়া বা পেইন অনুভব করেন তবে বিয়ের আগেই একবার টেষ্ট করুন, থাকলে ব্যবস্থা নিন। মনে রাখবেন আপনার স্ত্রী আক্রান্ত হলে প্রেগন্যান্সির সময় এটা এক্সট্রা টেনশন এড করবে। হাই এন্টিবায়োটিক খেতে হবে তখন।

করনীয় ৬:
যৌনমিলনের সেফ পিরিয়ডঃ নিজে জানুন, হবু বধুকে জানান। সেফ পিরিয়ড মানে যে সময় কোন প্রতিরোধক (কনডম বা এ জাতীয়) ছাড়াই দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবেন, এক্সিডেন্টালী প্রেগন্যান্ট হওয়ার ভয় থাকবে না। এটা অনেকেই জানেন, আবার একটু রিভাইস করে নেই।মেয়েদের মেন্স বা পিরিয়ডের সাথে সেফ পিরিয়ডের সম্পর্ক। ধরলাম কোন মেয়ের পিরিয়ড হয় ৩০ দিন পর পর (কম বেশিও হতে পারে) এবং এই মাসে তার পিরিয়ড শুরু হয়েছিলো ১ তারিখে। তার আগের মাসেও ১ তারিখে। এটাকে এক সাইকেল বলা হয়। নরম্যালি ওভুলেশন হয় সাইকেলের মাঝামাঝি সময়ে, ধরলাম ১৪ দিনে। তাহলে ১৪ তারিখে ওভুলেশন হচ্চে। এই ওভুলেশনের হওয়ার আগের এক সপ্তাহ ও পরের এক সপ্তাহ ফার্টাইল বা উর্বর সময়। এসময়ে প্রোটেকশন না নিলে প্রেগন্যান্ট হবেই। তাহলে মাসের ৭ তারিখ থেকে ২১ তারিখ প্রটেকশন ছাড়া এগোনো যাবে না। বাকী সময় সেফ, থিওরিটিক্যালী কোন প্রটেকশনের দরকার নেই।এটা ন্যাচারাল পদ্ধতি, তবে সমস্যা হলো পিরিয়ড এর ডেট বিয়ের পর বদল হতে দেখা যায়। এবং অনেকের ক্ষেত্রে সাইকেলটাও স্ট্যাবল থাকে না। তাই সাইকেল স্ট্যাবল না হওয়া পর্যন্ত প্রটেকশন নেয়াই উচিত। যদি দ্রুত বাচ্চা নেয়ার প্ল্যান না থাকে তাহলে প্রটেকশন নিয়েই শুরু করতে হবে। নো হান্কি পান্কি। তবে কখনই প্রথম বাচ্চা হবার আগে আপনার স্ত্রীকে বার্থকন্ট্রোল পিল খাওয়াবেননা। এটা স্বাভাবিক ডেলিভারিতে সমস্যা তৈরি করে থাকে বলে রিপোর্ট পাওয়া গেছে।

করনীয় ৭:
জানুন প্রি-ম্যাচ্যর ইজাকুলেশন কি? প্রি-ম্যাচুর ইজাকুলেশন মানে খুব দ্রুত বা সময়ের আগেই বীর্যপাত। সময়ের আগে মানে পার্টনারের অর্গাজমের আগেই আর দ্রুত সময় মানে ১.৫ মিনিটের কম সময়ের মধ্যে। অধিকাংশ পুরুষই (৯০-৯৫%) জীবনের প্রথম যৌনাভিজ্ঞতায় প্রি-ম্যাচুর ইজাকুলেশনের সম্মুখীন হয়। প্রথম দিকে এটা নরমাল, এবং সময়ের সাথে সাথে এটা ঠিক হয়ে যায়। কেন হয়?প্রথমেই দুটো কারন আসবে, অনভিজ্ঞতা ও অতিরিক্ত উত্তেজনা। অনভিজ্ঞ একজন পুরুষ তার প্রথম সেক্সের সময় প্রচন্ড উত্তেজিত থাকে। উত্তেজিত অবস্থায় নারী সংগীর সাথে শারীরিক খেলায় মেতে উঠার সময় থাকে তাড়াহুড়ার মধ্যে, অল্প সময়ে বেশি পথ বিচরনের চেষ্টায় নিজের উপর কন্ট্রল থাকে না। পাশাপাশি প্রবেশ করানোর পর যোনীর ভেতরের উচ্চ উষ্ণতায় দিশেহারা হয়ে যায় অনেক সময়ই। ফলাফল খুব অল্প সময়েই নারী সংগীর অরগাজম হবার আগেই বীর্যপাত।দ্বিতীয় কারন হিসেবে আসবে “টেনশন”। নতুন বিয়ে বা সম্পর্কে নিজেকে শারীরিক ভাবে সামর্থবান হিসেবে তুলে ধরতে চাওয়ার মানসিক চাপ থেকে সৃষ্টি হয় টেনশন, ফলে নিজের উপর কন্ট্রল থাকে না। তৃতীয় কারন হলো “সংগীনির তৈরি না হওয়া”। প্রথম দিকে শান্ত ও ধীর-স্থির ভাবে সংগীনিকে উত্তেজিত করার কাজটা অধিকাংশ পুরুষই করে না। ধরে নেয় তার নিজের মতই তার সংগীনিও উত্তেজিত হবে। ঘটনা উল্টা। মেয়েদের উত্তেজিত হতে পুরুষদের চেয়ে বেশি সময় লাগে। তাই সে তৈরি হবার আগেই পুরুষ সংগী উত্তেজনার চরমে পৌছে যায়। ফলাফল অকাল বীর্যপাত।সমাধানঃঅনভিজ্ঞতার সমস্যা সমাধানের দরকার নেই, এই খেলায় অভিজ্ঞতা কাম্য নয়। বাকি থাকলো অধিক উত্তেজনা ও টেনশন। নতুন বিয়ে, প্রথমবার কাছে পাওয়া, উত্তেজনা তো থাকবেই। এটা আপনার উপর এখন,অধিকাংশ পুরুষই উত্তেজনা নিয়ন্ত্রন করতে পারে না, যদি আপনি পারেন তাহলে “স্যালুট”। না পারলে কোন সমস্যা নেই। আপনি নিয়ন্ত্রন করতে পেরেছেন এটা পেপারে বা টিভিতেও আসবে না। তাই যা স্বাভাবিক তাই হোক।টেনশন কিভাবে দুর করবেন? প্রথমে ভাবুন আপনাকে কি আপনার সংগীনির সামনে নিজেকে বিশাল কিছু-প্রচন্ড সামর্থবান প্রমান করতে হবেই? নাকি স্বাভাবিক একজন মানুষ হিসেবে? যাই করুন না কেন আপনার স্ত্রী আপনারই থাকবে। সুপারম্যানের প্রতি মুগ্ধতা থাকে, ভালোবাসা থাকেনা, আপনি সুপারম্যান হতে চাচ্ছেন কিনা নিজেই ভাবুন।আর “সংগীনির তৈরি না হওয়ার” দোষটা পুরোপুরি পুরুষের উপর বর্তায় না। পুরুষকে ধৈর্য্য ধরে স্ত্রীকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করতে হবে, শরীরের স্পর্শকাতর অংশগুলোতে কোমল ভাবে স্পর্শ করে বা ঘষে, কিস করে। ব্যাকনেক, কানের আশে-পাশে, ঠোট-জিহবা, স্তন-নিপল, তলপেট-নাভী, যৌনাংগ-উরু, হাত-পায়ের আংগুল ইত্যাদি স্পর্শকাতর স্থান বলে পরিচিত। স্ত্রীর নিজেরও দায়িত্ব থাকে এ চেষ্টায় সাড়া দেয়ার। এক হাতে তালি বাজে না।
দীর্ঘায়িত করতে চাইলে সমাধানঃ
১। এর কোন স্বীকৃত ঔষধ নেই। তাই বাজারে প্রচলিত ঔষধ না খাওয়াই ভালো।
২। একটা কার্যকর এক্সারসাইজ আছে। এখন থেকেই নিজের বীর্যপাত ঠেকিয়ে রাখার প্র্যাক্টিস করতে পারেন। আমরা যে ভাবে প্রস্রাব আটকাই, সেভাবে ডেইলি বিভিন্ন সময় একলাগা ১০ বার প্রস্রাব আটকানোর কসরত করুন। যখন সময় পাবেন। প্রস্রাব না ধরলেও করুন।
৩। যখনই চরম মুহুর্ত আসবে মনে হয়, তার আগেই থেমে গিয়ে পুরুষাংগ বের করে নিন, প্রস্রাব আটকানোর মত করে বীর্যপাত আটকান।
৪। বীর্যপাত আটকানোর সাথে সাথে দীর্ঘায়িত করার জন্য অন্য কিছু চিন্তা করতে পারেন, এতে উত্তেজনা ডাইভার্ট হবে কিছুক্ষনের জন্য।
৫। আর একটা পদ্ধতি হলো আগেই একবার বীর্যপাত ঘটানো। এটা নিজে করে নিতে পারেন, অথবা সংগীনি যদি হেল্পফুল হয় তবে সেই হাত দিয়ে সাহায্য করবে। তবে এই পদ্ধতি জনপ্রিয় না। অনেকেই আগাম দুর্বল হতে চায় না।
৬। কনডমের ব্যবহার কিছুটা হেল্প করে সংবেদনশীলতা কমাতে, তাই উত্তেজনাও কিছুটা কমানো যায়।আর কোনো পদ্ধতি জানা থাকলে বলতে পারেন।

করনীয় ৭:
কনডম সম্বন্ধে জানুন। বাজারে অনেক ব্র্যান্ডের কনডম প্রচলিত আছে। সম্ভবত দেশে সবচে বেশি চলে সেনসেশন। এছাড়াও ইউ&মি, প্যান্থার, ল্যাটেক্স, টাইটানিক, ডুরেক্স, রাজাও ব্যবহৃত হয়। সেনসেশন সহ সব ব্র্যান্ডেরই কম বেশি নানা টাইপ/ফিচারড কনডম বাজারে পাওয়া যায়। যেমনঃ ডটেড, এক্সট্রা রিবড, সেন্টেড, প্লেইন, থিন, এক্সট্রা থিন, কন্ট্যুরড, লংলাস্টিং, ডটেড প্লাস রিবড, এক্সট্রা লং ইত্যাদি। এগুলো একেকটা একেক সময়ে/পর্যায়ে কার্যকর। সব সবার জন্য না, সব সময়ের জন্যও না।এক নতুন ব্যবহকারীর ক্ষেত্রে প্লেন অথবা ডটেড কনডম শুরু করার জন্য আদর্শ। অর্থ্যাৎ জাস্ট প্রটেকশনের জন্য। এক্সট্রা ফিচারড কনডম গুলো শুরুতে ব্যবহার না করাই ভালো, এতে প্রথমেই এক্সট্রা ফিচারডে অভ্যাস হয়ে গেলে কনডম ছাড়া বা নরমালী এত ভালো লাগবে না। এই কনডম গুলো সময়ের সাথে সাথে যৌনজীবনে বৈচিত্র্যতা আনার জন্য ব্যবহার করতে পারবেন।কিভাবে কনডম ব্যবহার করবেনঃএটা খুব কঠিন কিছু না। কনডমের প্যাকেটে লেখা থাকে ইন্সট্রাকশন। ফলো করলেই হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন ভেতরে কোন বাতাস না থাকে, তাই কনডমের টিপটা চেপে ধরে কনডম পড়তে হয়। বাতাস থাকলে সেক্সের সময় কনডম ফেটে যেতে পারে, তাতে প্রটেকশনের কাজ আর হলো না।এখানে পাবেন কিভাবে কনডম পড়তে হবে।

করনীয় ৮:
রোমান্টিক হউন, চিন্তা-চেতনায় বৈচিত্র্যতা আনুন। বিয়েটা শুধু সামাজিক ও ধর্মীয় ভাবে শারীরিক মিলনের অনুমোদন না, মনের মিলনের অনুমোদনও। ভালোবাসার এমন সহজ সুযোগ আর কোন সিস্টেমে নেই। তাই ভালোবাসুন, সুযোগটা কাজে লাগান। শরীরকে শুধু প্রাধান্য না দিয়ে মনের কথাও ভাবুন। একটা মানুষ সব ছেড়ে আপনার কাছে আসছে, এটা অনুভব করার চেষ্টা করুন, দেখবেন মনটা তার জন্য এমনিতেও নরম হয়ে আসছে। রোমান্টিক হোন, কবিতা পড়ুন, দু’একটা তার সামনে কোট করুন, রোমান্টিক গান শুনুন। গুনগুন করে গাইতে চেষ্টা করুন। বিয়ের পরে বাসর ঘরে প্রবেশের সময় যেনো সানাই বাজে সেই ব্যবস্থা করুন। রুমে ফুল রাখুন, হালকা সুগন্ধী ব্যবহার করুন, ডিমলাইট ব্যবহার করুন রাতে। কেয়ার করুন প্রথম দিন থেকেই, তাই বলে দৃষ্টিকটু ভাবে পিছু পিছু ঘুরে বেড়িয়ে তাকে সবার সামনে অস্বস্তিতে ফেলবেন না। ব্যালান্স রাখার চেষ্টা করুন। একলা থাকার অনুভুতিটা প্রথম কয়েকদিন যেনো না পায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। বাইরে যাচ্ছেন, সে তৈরি হলো, বলে দিন “খুব সুন্দর লাগছে তোমাকে”। ন্যাকামি না করেই বলে দিন তার সৌন্দর্যে আপনার মুগ্ধতার কথা, প্রকাশ করুন ভালোবাসার কথা, তবে লাউড স্পিকারে না, একান্ত ঘনিষ্ঠ মুহুর্তে। আর বাইরে যাওয়ার ৩-৫ ঘন্টা আগে জানিয়ে দিন কখন বেরোতে চান, নিজে তাড়া দিন যেনো তৈরি হয়। না হলে শাড়ি-গহনা চুজ করা-সাজগোজ করাতেই রাত হয়ে যাবে।শারীরিক মিলনের শুরুতেও ভালাবাসার প্রকাশ রাখুন, রোমান্টিকতা আগে, পড়ে পেরেক মারার কাজ।বাসর রাতে রোমান্টিক আলাপ দিয়েই শুরু করুন, এরপর ভবিষ্যত স্বপ্ন আর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কথা, পারিবারিক বিভিন্ন রীতি-নীতির কথা স্বাভাবিক টোনে বলে যান। জোর করার কিছু নেই, শুধু জানিয়ে দিন এসব দরকারী ব্যাপার। মন ভালো হলে সংসারের খারাপ চাইবেনা সে।হানিমুনের জন্য এক্সট্রা কিছু টাকা আগেই আলাদা করে রাখুন। বিয়ের ডামাডোলে সব টাকাই খরচ হয়ে যায়, তাই সাবধান।খুনসুটি করুন, মজা করুন, নরমাল ও ১৮+ কৌতুক গুলো বলার জন্য একজন রেডিমেড শ্রোতা পেয়ে গেছেন, কাজে লাগান। তবে বোকার মত নিজে অতীতে কি করেছেন, আপনি কত বাহাদুর তা একের পর এক না বলে গিয়ে তাকেও বলতে দিন। তার মজার কথা গুলো, বাবা-মা-ভাই-বোন-বন্ধু-বান্ধবী নিয়ে অভিজ্ঞতা গুলো বলার সুযোগ দিন। আপনি নিশ্চিত জেনে যাবেন তার পছন্দ-অপছন্দ-ভালো লাগা-দুর্বলতা। দুজন দুজনকে আবিস্কার করুন। জীবন আপনাদেরই, ভালোভাবে আপনাদেরই শুরু করতে হবে। তাকে বিশ্বাস করুন ১০০%। চিন্তা ভাবনায় বৈচিত্র্যতা আনুন। এটা আনন্দময় বিবাহিত জীবনের মুলমন্ত্র। বিবাহিত জীবনে অনেক সময়ই একঘেয়েমী চলে আসে। মন ও শরীর দুই ক্ষেত্রেই। বৈচিত্র্যতা আনুন দুই ক্ষেত্রেই। ঘুরতে যান, মুভি দেখুন। সেক্সের জন্য নানা রকম আসন ট্রাই করুন, নানা ধরনের কনডম ট্রাই করুন। অনেক সময় ভালো মানের পর্নো ছবিও যৌনজীবনে বৈচিত্র্যতা আনতে সাহায্য করে।

করনীয় ৯:
এন্টাসিড/ইমোটিল/ফ্ল্যাটামিল/ইনো সল্ট কিনে রাখুন। বিয়ে মানেই খাওয়া দাওয়া, জোর করেই খাওয়াবে। তেল-মসলার রকমারী। পেট কিন্তু বিদ্রোহ করে বসতে পারে। বদহজম কমন একটা ব্যাপার। এই ক্ষেত্রে ইনো সল্ট বা ফ্ল্যাটামিল খুব কাজে দেয়। মনে রাখবেন, পেটে শান্তি না থাকলে সেক্স করতে ইচ্ছেও করবে না। এসিডিটির প্রব্লেম মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে, ব্যবস্থা নিন।

করনীয় ১০:
মিষ্টি-ফল-দুধ-ডিম খান বেশি করে। সেক্সের পরেই মিষ্টি-মধু-দুধ-ডিম বা বিভিন্ন ধরনের ফল খান। প্রথম দিকে ক্লান্তিটা বেশি আসবে, তাই এসব শক্তিদায়ক খাবার সাথে রাখুন। পরে অভ্যাস হয়ে গেলে এত কিছু লাগবে না। বিয়ের আগের কয়েকদিন অযথা রাত না জেগে ঘুমানোর চেষ্টা করুন। অন্তত দিনে ৬ ঘন্টা যেনো পুরন হয়। নতুন জীবন সুস্থ-সবল ভাবে শুরু করুন। এর বাইরেও আর যদি আর কিছু জানার থাকে তবে প্রশ্ন করুন।

শুষ্ক চুলের যত্নে

প্রকৃতির মাঝেই লুকিয়ে রয়েছে রূপচর্চার সব ধরণের উপাদান। দিন দিন রূপচর্চার জন্য এসব প্রাকৃতিক বা ভেষজ উপাদানের উপর নির্ভরতাও বাড়ছে। ভেষজ উপায়ে তৈরি রূপচর্চার উপকরণ বেছে নিন এবং আপনার ত্বক ও চুলকে সুন্দর রাখুন।
বহু প্রাচীনকাল থেকেই রূপচর্চার জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছিল নানা রকম ভেষজ উপাদান। কিন্তু আধুনিকায়নের প্রভাবে ধীরে ধীরে মানুষ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে নানা রকম রাসায়নিক দ্রব্যাদির উপর। কারণ এর ফলাফল অনেক দ্রুত পাওয়া যায়। কিন্তু একবার ভেবে দেখেছেন এসব রাসায়নিক পণ্য ব্যবহারের সুদুরপ্রসারী ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে। তবে সুখবর হলো মানুষ এখন অনেক সচেতন হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে আবার ভেষজ উপাদানের উপর নির্ভর করা হচ্ছে।
ত্বকের যন্ত নেয়ার জন্য হারবাল বা ভেষজ পদ্ধতি ব্যবহারের উপর আলোচনা শুরুর আগে নিজের ত্বক সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন।
নিজেই নিজের ত্বক চিনুন
আপনার ত্বক সেনসিটিভ, শুষ্ক, তৈলাক্ত নাকি মিশ্র তা ভালো করে জানার জন্য আপনি নিজেই পরীক্ষা শুরু করে দিতে পারেন। সবার আগে এটি জানা জরুরী। কারণ তৈলাক্ত ত্বকের যা প্রয়োজন শুষ্ক ত্বকের তা প্রয়োজন হয় না, আবার ত্বক যদি সেনসিটিভ হয় তাহলে তার সব কিছু সহ্য হবে না।ত্বক ও চুলের যত্নে ভেষজ পদ্ধতি
এবার শুরু করা যাক। একটি টিসু পেপার বা ব্লটিং পেপার নিন। সকালে ঘুম থেকে উঠে টিসু বা ব্লটিং পেপার চেপে ধরুন। ত্বক তৈলাক্ত বা মিশ্র হলে তার ছাপ পড়বে পেপারে। ত্বক সেনসিটিভ কিনা বা তা কতটা সেটা বোঝা একটু কঠিন। তবে নিচের বেশকিছু বিষয় থেকেও আপনার ত্বকের ধরন সম্পর্কে জানতে পারবেন।
শুষ্ক ত্বক হলে বুঝবেন কিভাবে?
যদি আপনার ত্বকে অ্যালার্জি প্রবণতা থাকে তাহলে বুঝবেন ত্বক শুষ্ক।
চুল শুকনো হলে বুঝবেন ত্বকও শুষ্ক।
খুব বেশি খুসকির সমস্যা থাকলে তাহলেও বুঝতে হবে ত্বক শুষ্ক।
লেপ, কম্বল ইত্যাদিতে অ্যালার্জি থাকলে বা নতুন কিছু ব্যবহার করলে যদি অ্যালার্জির সমস্যা হয় তাহলে বুঝতে হবে ত্বক অবশ্যই শুকনো। তৈলাক্ত ত্বক বুঝবেন কিভাবে?
ত্বকে যখন তেলতেলে ভাব ফুটে ওঠে বিশেষ করে নাক, কপাল নিয়ে যে অংশ “T” এর মতো আকার নেয় তখন বুঝতে হবে সেটা তৈলাক্ত ত্বক।
তৈলাক্ত ত্বক-এ কানের পিছনে হাত দিলে তেলতেলে লাগে। আসলে এই তেল বের হয় সেবাসিয়াস গ্ল্যান্ড থেকে। আমাদের শরীরে শতকরা ৭০ ভাগ সেবাসিয়াস গ্ল্যান্ড থাকে মুখে। মুখ তেলতেলে থাকা তৈলাক্ত ত্বক চেনার প্রধান উপায়।
ব্রণ, ফুসকুড়ি সমস্যা তৈলাক্ত ত্বকে বেশি হয়। ত্বকে কালো ছোপেরও সমস্যা থাকে।
সেনসিটিভ ত্বক
ত্বকে, চুলকানো, লাল হওয়া, জ্বালা করার সমস্যা হয় খুব বেশি।
শুষ্ক ত্বকেরই আরেকটা দিক হল সেনসিটিভ হওয়া। এই ত্বকে কসমেটিক লাগানোর পর সমস্যা হয়।
কখনও কখনও কোন কারণ ছাড়াই ত্বকে ইরিটেশন হতে পারে।।
বিভিন্ন ত্বকের সমস্যা ও তার প্রতিকারের ঘরোয়া পদ্ধতিতে আসার আগে সব ত্বকেরই কিছু বিশেষ যত্নের কথা আগে জানা দরকার
যে কোন ঋতুতে ত্বকের যত্ন নেওয়ার প্রথম ধাপ পরিচ্ছন্নতা
যে ধরনের ত্বক হোক না কেন সাবান ব্যবহার করা উচিত নয়
ত্বক ভালো রাখার জন্য প্রচুর জল খাওয়া দরকার। ত্বক আর্দ্র ও সজীব রাখতে জল সাহায্য করে
স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। অবশ্যই তৈলাক্ত খাবার বাদ দিতে হবে। এতে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পাবে। রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পেলেই ত্বক সুন্দর হবে।
শীতকালে অনেকেই তেল ব্যবহার করেন। নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল মাখুন। কিছু ভুল ধারণা আছে অনেকের নারকেল তেল মাখলে ঠান্ডা লাগে। তাহলে বলি নারকেল তেল মাখলে ঠান্ডা লাগে না। যেমন সরষের তেল মাখলে শরীর গরম হয় না। কোন তেলই শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বদল ঘটাতে পারে না।
ঘরোয়া পদ্ধতিতে শীতকালে বিভিন্ন ত্বকের কিছু সমাধান জেনে নিন
ত্বকের গুরুত্বপূর্ণ ৩টি ধাপ হল ক্লেনজিং, টোনিং, ময়শ্চারাইজিং। মুখ ভালো করে পরিষ্কার করা, টোনার ও ময়েশ্চারাইজার লাগানো। এ তিনটি সারা বছর করা খুবই দরকার।
শীতকালে বাইরের আবহাওয়ায় ধুলো, ময়লা, জীবাণু অনেক বেশী থাকে। ত্বক অন্য ঋতুর থেকে বেশি ময়লা হয়।।
শুষ্ক ত্বকের জন্য
এই ত্বকের সমস্যা শীতে সবচেয়ে বেশী। শীতে এই ত্বক আরো বেশী শুষ্ক হয়ে যায় তাই এর যত্ন বিশেষ ভাবে দরকার।
সারাদিনে দুই বার বা তিন বার গ্লিসারিন ব্যবহার করতে পারেন।
সারাদিনে বা খুব ভালো হয় রাতে শুতে যাওয়ার আগে দুধের সঙ্গেঁ মধু মিশিয়ে হালকা ম্যাসাজ করে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। শুষ্কতা কমবে অনেকটাই।
মধু, দই, ডিম, গাজরের রস একসঙ্গেঁ মিশিয়ে মুখে লাগান, ২৫ মিনিট পর আলতো করে ঘসে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ৩দিন করতে পারলে শুষ্কতা কমে যাবে।
আমন্ড বাটা ও মধু দিয়ে প্যাক করে মুখে লাগান ১৫ মিনিট পর ধুয়ে নিন। সপ্তাহে ৩ দিন করলে অনেক উপকার পাবেন।
ঘরোয়াভাবে ময়শ্চারাইজার কিভাবে তৈরী করবেন
শুষ্ক ত্বকে অলিভ অয়েল, লেবুর রস ৪-৫ ফোঁটা, ডিম মিশিয়ে ১৫ মিনিট মুখে লাগিয়ে ম্যাসাজ করে ধুয়ে নিন বা তুলো ভিজিয়ে মুছে নিন।
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য আপেল কুরানো বেশ কিছুটা, মধু ১০ ফোঁটা মিশিয়ে ১০-১৫ মিনিট লাগান হালকা ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন বা তুলো দিয়ে মুছে ফেলুন।
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য
গোলাপের পাপড়ি বাটা, টক দই ও মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরী করে মুখে লাগিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট, উষ্ণ জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
সাধারণ ত্বকের জন্য
শশার রস, টক দই, কমলালেবু, মধু, মুলতানি মাটি (এটি অনেকের ত্বকে সহ্য হয় না তাই খুব ভাল হয় যদি সাজি মাটি ব্যবহার করুন)। প্যাক তৈরী করে ১৫-২০ মিনিট লাগিয়ে ধুয়ে নিন।
সেনসিটিভ ত্বকের জন্য
এই ত্বকের জন্য শীত ঋতু খুব সমস্যার। লাউ বাটা, গাঁদা ফুলের পাপড়ি বাটা, মুলতানি মাটি (আগেই জানান আছে সাজি মাটি হলে খুবই ভাল) প্যাক তৈরী করে সপ্তাহে ২-৩ দিন ত্বক ও চুলের যত্নে ভেষজ পদ্ধতিলাগান।।কে না জানে বাইরে হাজার প্রসাধনের ব্যবহারেও রূপের দরজা খোলে না, যদি না ভিতর থেকে সুন্দর হওয়া যায়। অনেকে আছেন ফর্সা, কেউ শ্যামবর্ণ, কেউ কালো। সকলেই চান সুন্দর হতে। তার জন্য বারবার বিউটি পার্লারে যাওয়া তাতে তার ব্যয় সাধ্যের মধ্যে হোক বা নাই হোক। টিভি, খবরে র কাগজে নানা বিজ্ঞাপন দেখে এটা সেটা কিনে মাখা, বুঝে না বুঝে এই সব কাজ আমরা সবসময় করি। এতে ক্ষতির পরিমাণ কত তা বুঝতে চাই না।
মিশ্র ত্বকের জন্য
এই ত্বকে অবশ্যই দুটি প্যাক তৈরী করে লাগাতে হবে। যে জায়গা তেলতেলে সেখানে- বাঁধাকপির পেষ্ট, নিম পাতার রস, কমলালেবুর রস ও মুলতানি মাটি (অবশ্যই ভাল সাজি মাটি) মিশিয়ে লাগান।
যদি ত্বক নরম করে রাখতে চান
ধনে পাতা বাটা, গাজরের রস, বিউলির ডাল, মধু, সামান্য চন্দন গুঁড়ো মিশিয়ে ১৫-২০ মিনিট লাগান। এর পর একটা বাটিতে অর্ধেক জল ও অর্ধেক দুধ মিশিয়ে ধুয়ে নিন বা মুঝে নিন তুলো দিয়ে।
এক নজরে কিছু প্রয়োজনীয় ভেষজ উপাদান
হলুদ : হলুদ ত্বকের জীবানু নাশ করতে সহায়তা করে। এছাড়া ত্বকের উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি করে।
মধু : মানব দেহের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গের জন্যেই মধু দরকারি। তবে ত্বকের জন্যে এর প্রয়োজনীয়তা আরো বেশি। মধু ত্বককে সতেজ এবং পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি রাখে জীবানুমুক্ত।
লবণ : লবণ এমনিতে কিছুরোগীর জন্যে ক্ষতিকর হলেও যাদের ত্বকে সমস্যা আছে, তাদের জন্যে বেশ উপকারি। কারণ লবণ ত্বকের মৃতকোষ বের করে আনতে সহায়তা করে।
লেবু : ত্বকে এসিডের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং ব্যাকটেরিয়া দূর করতে লেবু কাজ করে থাকে।
জায়ফল : মুখের ব্রণের দাগ দূর করতে জায়ফলের কোনো জুড়ি নেই।
চুলের যত্ন
চুল মেয়েদের অহংকার। চুল নিয়ে জীবনানন্দ থেকে শুরু করে অনেক বড় বড় কবি, সাহিত্যিকরা গানে , কবিতায়, নাটকে ফুটিয়ে তুলেছেন এর শিল্প। চুল যে শুধু মেয়েদেরই অহংকার তা নয়। ছেলেদের টাক পড়লেই বুঝা যায় চুলের মর্ম কতটা ছিল। তখন এই পদ্ধতি সেই পদ্ধতি ইত্যাদি। যাহোক ভেষজ উপায়ে চুলের যত্ন কিভাবে নেয়া যায় সে প্রসঙ্গে আসা যাক।
প্রথমেই চুলের ধরন সম্পর্কে জেনে নিন। চুল সাধারণত তিন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন স্বাভাবিক, শুষ্ক এবং তৈলাক্ত।
স্বাভাবিক চুলের যত্ন
প্রতি সপ্তাহে একদিন তেল উষ্ণ গরম করে মাথার তালুতে ম্যাসাজ করুন ১৫-২০ মিনিট। এরপর গরম পানিতে ভেজানো টাওয়েল ১৫-২০ মিনিট মাথায় পেঁচিয়ে রাখুন। এরপর একটি ডিম, ২ চা-চামচ মধু, ২ চা চামচ আমলকীর রস, ২ চা চামচ অলিভ অয়েল, জবা ফুলের রস, সামান্য গরম পানি একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে পুরো চুলে লাগিয়ে রাখুন ২৫-৩০ মিনিট। এরপর পরিষ্কার করে চুল ধুয়ে ফেলুন। পরে চায়ের লিকার, লেবুর রস ও আধা চামচ মধু মিশিয়ে পানিসহ একসাথে মিশ্রণ করুন। সেটি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন এবং চুল মুছে নিন।
শুষ্ক চুলের যত্ন
চুল শুষ্ক হলে একদিন বাদে একদিন অলিভ অয়েল বা নারিকেল তেলের সঙ্গে ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে উষ্ণ গরম করে পুরো চুলে ও স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন ২০-২৫ মিনিট। এরপর গরম পানিতে টাওয়েল ভিজিয়ে স্টিচ নিন। ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন এবং কন্ডিশনার লাগান। শেষে চায়ের লিকার দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। যাদের চুল রুক্ষ, শুষ্ক ও লালচে_ তারা একটি জবাফুল বাটা, ২ চামচ মধু ও এক চামচ আমলকী বাটা, টক দই, ডিমের কুসুম, মেথিগুঁড়া, ক্যাস্টর অয়েল একসঙ্গে মিশিয়ে পুরো চুলে ঘণ্টাখানেক লাগিয়ে রাখুন; তারপর ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন এবং কন্ডিশনার লাগিয়ে ৪-৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন হালকাভাবে। শুষ্ক চুলের কন্ডিশনার তৈরি করার জন্য একটি পাকা কলার সঙ্গে এক চা চামচ মধু, আধা চা চামচ দুধের সর ও এক চা চামচ আমন্ড অয়েল মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে পুরো চুলে লাগিয়ে রাখুন। একঘণ্টা পর চুল ধুয়ে ফেলুন।
তৈলাক্ত চুলের যত্ন
এক কাপ থেঁতো করা আঙ্গুরের রসের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে সারারাত রেখে দিন। পরের দিন এতে টকদই মিশিয়ে পুরো চুলে লাগিয়ে রাখুন। একঘণ্টা পর ঠাণ্ডা পানিতে চুল ধুয়ে ফেলুন।
খুশকি
খুশকি নিরাময়ের জন্য মেথিবাটা, পেঁয়াজের রস, নিমপাতাবাটা, লেবুর রস, টক দই, একসঙ্গে মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে রাখুন, ৩০-৪০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। ভিনেগার ও পানি মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগালেও খুশকি কমে যায়।
তবে পারফেক্ট চুলের জন্য আরো বাড়তি কিছু করা চাই। এর জন্য খাবারের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। ত্বক সুন্দর রাখতে ভেতর থেকে ভালো থাকা প্রয়োজন। এ জন্য প্রচুর পানি আর ফল খেতে হবে। শেষ কথা শুধু প্যাক তৈরি করে ত্বকে আর চুলে মাখলেই হবে না; খাবারের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। ত্বক সুন্দর রাখতে ভেতর থেকে ভালো থাকা প্রয়োজন। এ জন্য প্রচুর পানি আর ফল খেতে হবে। সকালে খালি পেটে থানকুনিপাতার রস কিংবা কাঁচা হলুদের রস খেলে পেট পরিষ্কার হয়, ত্বক ভালো থাকে।

দু-এক দিন পরপরই চুলে শ্যাম্পু করুন, তা না হলে হতে পারে খুশকি, আবার চুলের গোড়ায় ময়লাও জমে যেতে পারে।
শীতে তো এমনিতেই ত্বক আর চুলে আর্দ্রতার অভাব দেখা দেয়; আর যাঁদের চুল সারা বছরই রুক্ষ, তাঁরা এ মৌসুমে পড়েন আরও সমস্যায়। সাধারণত ত্বক শুষ্ক হলে তাঁদের চুলেও নিষ্প্রাণ ভাব দেখা যায়। তবে নিয়মিত যত্নে এ সমস্যা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা যায়।
রূপবিশেষজ্ঞ ফারজানা শাকিল দিয়েছেন কিছু পরামর্শ।
 সপ্তাহে অন্তত তিন দিন চুলে তেল লাগান। রাতে তেল লাগিয়ে রাখতে পারেন এবং পরদিন শ্যাম্পু করে ফেলতে পারেন।
 দু-এক দিন পরপরই চুলে শ্যাম্পু করুন, তা না হলে হতে পারে খুশকি, আবার চুলের গোড়ায় ময়লাও জমে যেতে পারে। খুশকি মাথার ত্বকের ক্ষতি করে, আবার খুশকি কপালে চলে এসে সেখানেকার ত্বকেরও ক্ষতি করতে পারে। তাই চুল ও মাথার ত্বক নিয়মিত পরিষ্কার করার বিকল্প নেই।
 শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার লাগাতে পারেন। চুলের গোড়ার দিকের আধা ইঞ্চির মতো অংশ বাদ দিয়ে বাকি অংশে কন্ডিশনার লাগান।
 চুলে তেল লাগানোর পর অর্ধেক পাকা কলা ও তিন টেবিল চামচ টকদই বা দুধের সঙ্গে দুই টেবিল চামচ পাউডারের মিশ্রণ মিশিয়ে চুলে লাগান। পাউডারের মিশ্রণটি তৈরি করতে হবে আমলা পাউডার, শিকাকাই পাউডার ও মেথির গুঁড়া দিয়ে। প্যাকটি চুলে লাগানোর পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। চুলের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে প্যাকটিতে একটি ডিম যোগ করতে পারেন।
 বাইরে বেরোলে চুল ঢেকে রাখুন।
অতিরিক্ত শুষ্ক চুলের যত্নের জন্য প্রতি ১০ দিন পর পর চুলের সমস্যা বুঝে হেয়ার ট্রিটমেন্ট করাতে পারেন।

শীতে সুস্থ ত্বক

শীতের বৈরী আবহাওয়া ত্বকের জন্য বয়ে আনে নানান ধরনের সমস্যা। পাশাপাশি অনেক সময় ত্বকে হতে পারে বিভিন্ন রোগও। কিছু চর্মরোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় এই সময়।
শীতে ত্বকের রোগবালাই নিয়ে কথা বলেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বখতিয়ার কামাল। তিনি বলেন, ‘শীতকালে ত্বকের কিছু রোগ দেকা দিতে পারে, যেমন—স্ক্যাবিস, ইমপেটিগো, জেরিয়াট্রিক ডার্মাটোসিস। তা ছাড়া চুলকানিজনিত সমস্যাগুলোও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে শীতে।’
এ রোগগুলো হলে যে ধরনের উপসর্গ দেখা যেতে পারে তা হলো—
 শুষ্ক লালচে ত্বকে চুলকানি
 ত্বক অস্বাভাবিকভাবে ফেটে যাওয়া
 রোদে পোড়া ভাব
 ত্বকে অস্বাভাবিক ভাঁজ পড়া
এসব সমস্যা প্রতিরোধে তাঁর পরামর্শ হলো—
 প্রচুর পানি, শাকসবজি ও সুষম খাবার খাবেন।
 হালকা গরম পানিতে গোসল করবেন।
 অল্প পানিতে ও অল্প সময়ে গোসল করবেন।
 অতিরিক্ত সাবান বা ক্লেনজার ব্যবহার করবেন না।
 গোসলের পর ও রাতে শোবার সময় ত্বকে অলিভ অয়েল, গ্লিসারিন বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগাবেন।
 নারকেল তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সরিষার তেল ব্যবহার না করাই ভালো।
 ঘর হালকা গরম রাখুন। প্রয়োজনে রুম হিটার অথবা হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন।
 ত্বকের সমস্যা খুব বেশি মনে হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
শীতে ত্বকের বিভিন্ন রোগবালাই নিয়ে কথা বলেছেন রূপবিশেষজ্ঞ ফারজানা শাকিল। জেনে নিন তার কিছু পরামর্শ—
 শীতের আলস্যে গোসল করা থেকে বিরত থাকবেন না, কারণ তাতে লোমকূপে ময়লা জমে ত্বকে কালো ছোপ ছোপ দাগ হতে পারে এবং হতে পারে বিভিন্ন অসুখও।
 নিয়মিত চুল এবং চুলের গোড়া পরিষ্কার করুন। চুল আঁচড়াতেও অলসতা করবেন না কখনোই।
 শীতের রোদে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। বাইরে বেরোলে ছাতা ব্যবহার করুন। ব্যবহার করতে পারেন সান প্রোটেকশন ক্রিম বা লোশনও।
 ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি মাসে অন্তত এক-দুবার ভালো কোন বিউটি পারলারে গিয়ে অভিজ্ঞ রূপবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
ত্বকের ধরন অনুযায়ী যত্নের কিছু উপায় জানিয়েছেন ফারজানা শাকিল।

তৈলাক্ত ত্বক
যাঁদের ত্বক তৈলাক্ত, তাঁরা ত্বকে তেল বাড়াবেন, যেমন—বাদাম বা দুধের সর এমন কিছু ব্যবহার করবেন না। এক টেবিল চামচ মসুরের ডাল বাটা ও এক টেবিল চামচ কাঁচা দুধ বা সর ছাড়া দুধের সঙ্গে আধা টেবিল চামচ মধু ও এক টেবিল চামচ ফলের রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে ত্বকে লাগাতে পারেন। বেছে নিতে পারেন সাইট্রিক অ্যাসিডসমৃদ্ধ ফল (টক ফল), যেমন—কাগজিলেবু, বাতাবিলেবু, কমলালেবু ইত্যাদি। আবার ব্যবহার করতে পারেন পাকা পেঁপে, যা মুখের দাগ দূর করতে সাহায্য করবে। তারপর হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগাবেন।

শুষ্ক ত্বক
তৈলাক্ত ত্বকের প্যাকটিই একটু পরিবর্তন করে ব্যবহার করতে পারেন। মসুর ডাল বাটার সঙ্গে মধু নিন এক টেবিল চামচ। আর ফলের রস নিতে হবে আধা টেবিল চামচ। সঙ্গে যোগ করুন একটু দুধের সর আর চারটি আমন্ড বাদাম বাটা। প্যাকটি তুলে ফেলার পর কোল্ড ক্রিম বা বেশি ময়েশ্চারযুক্ত কোনো ক্রিম লাগাবেন।

স্বাভাবিক ত্বক
স্বাভাবিক ত্বকের জন্য এই প্যাকে লেবুর রস বাদ দিতে হবে আর মধুর পরিমাণ হবে এক টেবিল চামচ।
এ ব্যাপারে আরও কথা বলেছেন রূপবিষয়ক পরামর্শদাতা তানজিমা শারমিন। তিনি বলেন, ‘শীতকালে ধুলাবালির কারণে ত্বকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এসব সমস্যা এড়াতে নিয়মিত ত্বকের যত্ন নিতে হবে।’
তানজিমা শারমিন দিয়েছেন আরও কিছু পরামর্শ—
 শীতের সময় নিয়মিত ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। সবার ত্বক এক রকম নয়। তাই যার যার ত্বকের ধরন বুঝে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে।
 গ্লিসারিনের সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়েও ত্বকে লাগাতে পারেন।
 যেকোনো ময়েশ্চারাইজার লাগানোর আগে ত্বক অবশ্যই ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
 অপরিষ্কার ঠোঁটে লিপবাম বা লিপগ্লস লাগাবেন না।

সকালে নাশতা না করলে চুল পড়ে, স্মৃতি কমে!

আজ বুয়া আসে নাই, কাল সাতসকালে অফিসে যেতে হলো, সেদিন ঘুম থেকে দেরি করে উঠলাম—প্রতিদিনই এমনতরো কোনো না কোনো ঝক্কির যেন শেষ নেই! আর এতসব ঝুটঝামেলায় শেষ পর্যন্ত সব করতে হলেও বাদ পড়ে গেল সকালের নাশতাটাই! কেউ কেউ তো ওজন কমানো বা স্লিম হওয়ার জন্যও ইচ্ছে করেই না খেয়ে থাকছেন সকালে। কিন্তু কথায় আছে, নাশতা করো রাজার মতো!
ব্যস্ত নগরজীবনে দিন দিন এমন নাশতা-ফাঁকিবাজের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরাও। মুম্বাইয়ের নির্মলা নিকেতন কলেজের এক সাম্প্রতিক গবেষণায়ও এমনই প্রমাণ মিলেছে। এদিকে, নাশতা না করলে নানা শারীরিক সমস্যায় পড়তে হতে পারে বলেও সতর্ক করে দিচ্ছেন পুষ্টিবিজ্ঞানীরা।
চিকিত্সা পুষ্টিবিজ্ঞানী নূপুর কৃষ্ণান জানিয়েছেন, ‘ওজন কমানোর জন্য নাশতা না খেলে কোনো লাভ তো হবেই না বরং তাতে অনেক সমস্যা ডেকে আনবে। এ অভ্যাসে খাবারে অরুচি থেকে শুরু করে চুল পড়া, স্মৃতি কমে যাওয়া এবং দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে।’
নাশতা না করার অন্যান্য বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন আরেক পুষ্টিবিজ্ঞানী সোনাল রাভাল। তিনি জানিয়েছেন, নিয়মিত নাশতা না খেলে মাথাব্যথায় ভোগা, দুর্বল লাগা, মুটিয়ে যাওয়া, পুষ্টিহীনতায় ভোগা এবং মাথা ঝিম ঝিম করতে পারে। আর সার্বিকভাবে কর্মক্ষমতাও কমে যেতে পারে।

সকালে নাশতা বানানোর ঝক্কি এড়াতে বা সময় বাঁচাতে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টিমান নিশ্চিত করতে ফলমূল, দুধ জাতীয় খাবার খেতে পারেন। খেতে পারেন দুধ বা দইয়ের সঙ্গে চিড়া বা মুড়ি। প্রয়োজনে নানা রকমের সিরিয়ালের মতো তৈরি খাবারও খাওয়া যেতে পারে। এসব সিরিয়াল সরাসরি দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেয়ে ফেলা যায় এবং এটা প্রস্তুত করতে খুবই কম সময় লাগে। তবে এমন ‘তৈরি খাবার’ কেনার সময় অবশ্যই সতর্ক হতে হবে এবং ভালো করে মোড়কের তথ্যগুলো দেখে নিতে হবে যাতে শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সিরিয়াল নিশ্চিত হয়। তবে, কোনো অবস্থাতেই নাশতা খাওয়া বাদ দেওয়াটা ঠিক হবে না।

মাথাব্যথা কী করি

মাথাব্যথা কার না হয়? শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই কখনো না কখনো মাথাব্যথায় ভোগেন।
মাথাব্যথার ধরন বা কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হয়। এ জন্য প্রথমে প্রয়োজন রোগ নির্ণয় করা।
মাথাব্যথা মূলত দুই প্রকার
ক. ব্যথার উৎস মাথার ভেতর: এমন সমস্যা প্রাইমারি হেডেক নামে পরিচিত। যেমন: মাইগ্রেন, টেনশন হেডেক, ক্লাস্টার হেডেক ইত্যাদি।
১. মাথাব্যথার তাৎক্ষণিক নিরাময় করার জন্য বিভিন্ন বেদনানাশক ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। আবার অতিরিক্ত বেদনানাশক ওষুধ সেবনও মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। তাই খুব প্রয়োজন না হলে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত যখন-তখন ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।
২. পরবর্তী সময়ে বারবার মাথাব্যথা যেন না হয় এবং ব্যথার তীব্রতা যেন কম থাকে, তার জন্য কিছু চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
ব্যথা কমাতে কিছু কিছু অভ্যাসও পরিবর্তন করতে হবে। অতিরিক্ত ধূমপান, মদ্যপান, মাদক সেবন, চ-কফি, অনিয়মিত এবং অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন, রোদ বা অতিরিক্ত গরম আবহাওয়ায় বেশিক্ষণ থাকা, অতিরিক্ত শারীরিক, মানসিক পরিশ্রম, ক্ষুধার্ত থাকা ও সময়মতো না খাওয়া, যেকোনো ধরনের মানসিক চাপ ইত্যাদি মাথাব্যথার কারণ। তাই এসব অভ্যাস পরিবর্তন করলে মাথাব্যথা অনেকাংশে কমে আসবে।
পাশাপাশি ইতিবাচক জীবনচর্চা, সুনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক বা মানসিক বিশ্রাম, পর্যাপ্ত ঘুম, মেডিটেশন ইত্যাদি মাথাব্যথার প্রকোপ কমাতে সাহায্য করে।
খ. ব্যথার উৎস যখন মাথার বাইরে: এটি সেকেন্ডারি হেডেক। এমন ব্যথার কারণটি বাইরে কোথাও রয়েছে, যাতে মাথাও আক্রান্ত হয়। যেমন: সাইনুসাইটিস, মাসটয়ডাইটিস, গ্লুকোমা, দাঁতের সমস্যা, আঘাত, মস্তিষ্কের টিউমার ইত্যাদি।
এ ক্ষেত্রে সাধারণত যে কারণে মাথাব্যথা হচ্ছে তা অনুসন্ধান করা জরুরি। একজন স্নায়ু বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা করলেই রোগ নিরাময় সম্ভব।  ক্লিনিক্যাল নিউরোলজি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস।