শুরু হচ্ছে জাতীয় রোবোটিক্স উৎসব

বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের সংগঠন ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্যে শুরু হচ্ছে ‘জাতীয় রোবোটিক্স উৎসব-২০১৪’।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এ প্রতিযোগিতায় থাকছে চারটি বিভাগে অংশগ্রহণের সুযোগ। ‘আইএআরসি’ বিভাগে অংশগ্রহণকারী রোবটগুলোকে একটি নির্ধারিত ট্র্যাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘুরতে হবে। ‘ব্যাটল অব স্পিড’ বিভাগে দ্রুততম সময়ে নির্ধারিত ট্র্যাক পার হতে হবে। ‘রোবটস গট ফ্রিডম’ বিভাগে সব ধরনের রোবট প্রদর্শনের সুযোগ থাকবে। এ ছাড়াও স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এ প্রতিযোগিতায় থাকছে ‘এক্সপ্লোরিং দ্য ড্রিমস’ যেখানে আগামী প্রজন্মের মাঝে রোবোটিক্স বিষয়ে আগ্রহ, উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রণয়ন ও প্রশ্নোত্তরের আয়োজন থাকবে।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় রোবোটিক্স উৎসবের সেরা প্রতিযোগীরা আন্তর্জাতিক রোবোটিক্স প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করতে হবে  www.esab.org.bd/nrf অথবা, fb.com/esab.bd ঠিকানায়।

ঢাকায় ‘ওয়াটার হ্যাকাথন অ্যাপস’ উৎসব শুরু

রাজধানী ঢাকায় পানি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং সুশাসন বিষয়ে শুরু হচ্ছে অ্যাপস উৎসব। পানি, দুর্যোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সুশাসন বিষয়ের বিভিন্ন সমস্যার তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর নতুন সমাধান উদ্ভাবনের জন্য আগামী ১৪-১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আয়োজন করা হয়েছে ‘ওয়াটার হ্যাকাথন অ্যাপস’ শীর্ষক এই উৎসবের।

বিশ্ব ব্যাংকের ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন প্রোগ্রাম (ডব্লিউএসপি), ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ফান্ড ফর ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস-টু-ইনফরমেশন প্রোগ্রামের সহায়তায় বাংলাদেশে দ্বিতীয়বারের মতো এ উন্নয়ন বিষয়ক এ হ্যাকাথন অনুষ্ঠিত হবে।

এ আয়োজনের সহযোগিতায় রয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, বিডি ভেঞ্চার, ইল্যান্স ও স্টার্টআপ ঢাকা।

উৎসবে নিবন্ধন করা যাবে www.hackathonbd.com ঠিকানায়। সর্বশেষ খবর পাওয়া যাবে ফেসবুকে www.facebook.com/AppFestbd পেজে।

অস্ট্রেলিয়ান ওপেন: নতুন চ্যাম্পিয়ন অপেক্ষা ফুরোল ভাভরিঙ্কার

‘চেষ্টা করেছ। ব্যর্থ হয়েছ। কোনো ব্যাপার না।
আবার চেষ্টা করো। আবার ব্যর্থ হও। এবার আরেকটু ভালোভাবে।’
স্তানিসলাস ভাভরিঙ্কার বাঁ হাতে খোদিত স্যামুয়েল বেকেটের এই বিখ্যাত পঙিক্ত। শুধু ট্যাটু এঁকেই নয়, রজার ফেদেরারের স্বদেশি নিরন্তর অনুপ্রেরণা হিসেবেই নিয়েছেন এটিকে। টুর্নামেন্টের পর টুর্নামেন্টে ব্যর্থতা, তবু মনোবল ভাঙেনি ভাভরিঙ্কার। লক্ষ্যে স্থির থেকে শেষ পর্যন্ত সফল এই সুইস। রড লেভার অ্যারেনায় কাল অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে রাফায়েল নাদালকে হারিয়েছেন ৬-৩, ৬-২, ৩-৬, ৬-৩ গেমে। ভাভরিঙ্কার অপেক্ষার অবসান। হাতে তুললেন প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা!
নাদালের বিপক্ষে এর আগে ১২ ম্যাচ খেলে সব কটিই হেরেছিলেন। কোনো ম্যাচে একটি সেটও জিততে পারেননি। সেই ভাভরিঙ্কা জিতলেন ১৩ নম্বর ম্যাচে এসে। প্রতিপক্ষ এই নাদাল অবশ্য সেরা ফর্মের নাদাল নন। চোটের সঙ্গে লড়াই করা এক নাদাল।
প্রথম দুই সেটে একরকম আত্মসমর্পণের পর মনে হচ্ছিল সরাসরি সেটেই হেরে যাচ্ছেন নাদাল। কিন্তু তৃতীয় সেটটা ঠিকই জিতে নিলেন অদম্য এই স্প্যানিয়ার্ড। এরপর অবশ্য চতুর্থ সেটে আর পেরে ওঠেননি, ভাভরিঙ্কার দেয়ালে আটকেই গেলেন এই লড়াইয়ে।
দ্বিতীয় সেট চলাকালে মেডিকেল টাইমআউট নিতে বাধ্য হয়েছিলেন নাদাল। মেজাজ হারিয়ে এ সময় চেয়ার আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন ভাভরিঙ্কা। ম্যাচের পর সেই ভাভরিঙ্কা শান্ত। নাদালের অবস্থা বুঝেই কিনা জয়ের পর উচ্ছ্বাসে না ভেসে পা রাখলেন মাটিতেই। শূন্যে হাত উঁচিয়ে উদ্যাপন করেই সান্ত্বনা দিতে ছুটে গেলেন নাদালের দিকে। পুরস্কার নিতে এসেও নাদালের স্তুতি গাইলেন ২৮ বছর বয়সী তারকা, ‘রাফা, প্রথমেই বলে নিই তোমার জন্য আমি সত্যিই দুঃখিত। আশা করছি, তোমার পিঠ ঠিক আছে। তুমি খুব ভালো বন্ধু ও গ্রেট চ্যাম্পিয়ন। গত বছর তুমি প্রত্যাবর্তনের অসাধারণ এক গল্প লিখেছ।’
এরপর মনের ভেতর চেপে থাকা আবেগ বেরিয়ে এল। ৩৬ বারের চেষ্টায় প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম জেতা—আবেগ তো ভাসিয়ে নেবেই ভাভরিঙ্কাকে, ‘আমার জন্য এটাই সেরা গ্র্যান্ড স্লাম। এখানে খেলাটা আমি দারুণ উপভোগ করছি।’ বলতে বলতে ফিরে তাকালেন পেছনে। গত বছর এই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেরই চতুর্থ রাউন্ডে নোভাক জোকোভিচের কাছে পাঁচ সেটে হারের কষ্ট ভুলে গাইলেন দিনবদলের গান, ‘গতবার হারের পর অনেক কেঁদেছি। গত এক বছরে অনেক কিছুই হয়েছে। এখন পর্যন্ত ঠিক জানি না, আমি স্বপ্ন দেখছি কি না। কাল সকালেই হয়তো বোঝা যাবে।’
ভাভরিঙ্কার দিনে নাদাল কেঁদেই ফেললেন ট্রফি নিতে এসে। ফোস্কা পড়া বাঁ হাত দিয়ে খেলেই ফাইনালে ওঠা ১৩টি গ্র্যান্ড স্লামের মালিক ভাভরিঙ্কাকে ধন্যবাদ দিলেন প্রথমে। তারপর দর্শকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন তাদের হতাশ করার জন্য, ‘সব দর্শককে বলছি, খুব আবেগের দুটি সপ্তাহ কাটালাম। শেষটা যেভাবে হলো আমি দুঃখিত। আমি চেষ্টা করেছি, খুব…খুব চেষ্টা করেছি।
এ হারে রড লেভার ও রয় এমারসনের সঙ্গে এক সারিতে বসার সুযোগ হারালেন নাদাল। সবগুলো গ্র্যান্ড স্লাম দুবার করে জেতা হলো না—নাদালের অপেক্ষা বাড়লই। এএফপি, রয়টার্স।
২১ বছর পর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে শীর্ষ দুই বাছাইকে হারালেন কেউ। ভাভরিঙ্কার আগে এই কৃতিত্ব ছিল সার্গি ব্রুগুয়েরার (১৯৯৩, ফ্রেঞ্চ ওপেন)।
৩৬ তম গ্র্যান্ড স্লামে এসে শিরোপার দেখা পেলেন ভাভরিঙ্কা। ক্যারিয়ারে প্রথম শিরোপা জিততে শুধু গোরান ইভানিসেভিচকে খেলতে হয়েছে এর চেয়ে বেশি গ্র্যান্ড স্লাম (৪৮টি)।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে মামলা

রাজধানীতে অবস্থিত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে থানায় মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে অভিযুক্ত দুজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে থানা কর্তৃপক্ষ বলছে একজনের নামে মামলা হয়েছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দাবি করেছে দুজনের নামেই মামলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে তেজগাঁও কলেজ কেন্দ্রে মুঠোফোনে উত্তরপত্র জালিয়াতির দায়ে মারুফ বিল্লাহ ও নাদিয়া আরেফিন নামে দুই পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়। এঁদের মধ্যে মারুফের নামে ওই দিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার নথিতে দেখা যায়, মুঠোফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে (০১৬৮৮৪২৫১৯২ থেকে ০১৭৪২৯৪৬৬৮৫) উত্তরপত্র আসার প্রমাণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কখন খুদে বার্তাটি এসেছে, তা উল্লেখ করা হয়নি।
অপর অভিযুক্ত পরীক্ষার্থী নাদিয়া আরেফিনের নামে মিরপুর থানায় মামলা দায়ের করার কথা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সাংবাদিকদের কাছে দাবি করলেও ওই থানায় যোগাযোগ করলে পরিদর্শক মইনুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ নামে কোনো মামলা হয়নি।
এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করলেও এ ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, কর্তৃপক্ষ বিষয়টি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আনোয়ারুল ইসলাম গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, থানায় মামলা করা হয়েছে, তাই তদন্ত কমিটির প্রয়োজন নেই।

 

সুউচ্চ ভবনজুড়ে কৃষি খামার!

its-alive-03-640x384কল্পনা করুন, সুউচ্চ অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের বাইরে পা দিয়েই আপনি সূর্যালোকে উজ্জ্বল একটি খামারের দৃশ্য দেখতে পেলেন। বারান্দার কাছেই গাছের সারি। চারতলার একটি বাগান থেকে আপেল পেড়ে কামড় দিচ্ছেন। পাঁচতলায় দুধের খামারে কর্মরত একজন কৃষকের সঙ্গে আপনার কুশল বিনিময় হলো।
কাচের দেয়ালঘেরা লিফটে চড়ে ভবনের নির্দিষ্ট কর্মস্থলে যেতে গিয়ে হয়তো পেতে পারেন আরও কিছু। যেমন: একটি তলায় ধানখেত আর অন্যটিতে ফলের বাগান। এই সুউচ্চ বাগানবাড়িটির রয়েছে নিজস্ব তাপনিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা। এটি বৃষ্টির পানি ধরে রাখার পাশাপাশি ঘরোয়া আবর্জনাকে উদ্ভিদের খাবারে রূপান্তর করতে পারে।
এসব কিন্তু ভবিষ্যতে ভিনগ্রহে বসতি স্থাপনের মতো কোনো কল্প-চলচ্চিত্রের দৃশ্যের বিবরণ নয়; বেলজিয়ামের স্থপতি ভাঁসোঁ কলোবোর তৈরি একটি ‘নাগরিক খামারের’ নকশা। তিনি মনে করেন, ১৩২ তলা ওই কৃষি খামারটি হবে কল্পনার চেয়েও বেশি স্বাস্থ্যকর, সুখী ও আরামদায়ক নাগরিক জীবনের বাস্তবায়ন।
গবেষকদের আনুমানিক হিসাবে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ৬০০ কোটি মানুষ শহরের বাসিন্দা হবে। সম্ভাব্য ওই বিপুল জনসংখ্যার জন্য শহর এলাকায় পর্যাপ্ত খাবার, পানি ও জ্বালানির উৎস ক্রমে কমে আসছে। তাই জনবহুল শহরের জন্য এসব চাহিদা পূরণে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও ‘জীবন্ত ব্যবস্থা’ অর্জনের বিষয়টি জরুরি।
৩৬ বছর বয়সী কলোবো বলেন, ভবিষ্যতে বেঁচে থাকার নতুন নতুন পদ্ধতির খোঁজ করা দরকার। আগামীর শহরটি হবে ঘনবসতিপূর্ণ, সবুজ ও সংযুক্ত। কৃষি ও প্রকৃতিকে ২০৫০ সালের মধ্যে নাগরিক পরিমণ্ডলে ফিরিয়ে আনাটাই এখনকার লক্ষ্য। সবুজ ও টেকসই শহরে মানুষ ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। আর ভবিষ্যৎ শহরের প্রতিটি ভবনে অবশ্যই ‘স্বয়ংসম্পূর্ণ, ছোট বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থা’ রাখতে হবে।
কলোবোর প্রস্তাবিত খামারে মাংস, দুধ ও ডিম উৎপাদনের পাশাপশি থাকবে বাগান, তৃণভূমি ও ধানের মাঠ। আর অফিস ও ফ্ল্যাট বাড়ি এবং গণবিনোদনকেন্দ্রও থাকছে অন্য অনেক ভবনের মতোই। সৌরশক্তিকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো হবে ওই খামার ভবনে।
টেকসই নাগরিক জীবনব্যবস্থা অর্জনের ব্যাপারটি মানুষ এখন পর্যন্ত কলোবোর দাবি, তাঁর ‘ড্রাগনফ্লাই’ প্রকল্পটি কোনো অংশেই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি নিউইয়র্কের রুজভেল্ট আইল্যান্ডে নির্মাণের উপযোগী করে ওই সুবিশাল ‘উল্লম্ব খামারের’ নকশা তৈরি করেছেন। এএফপি।

গণধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হত্যা করা হয় রুবীকে

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামের রুবী আক্তার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার রুবীর খালু সাভারের কলমা এলাকার এজাবুল হক ওরফে সাগর (৪২) গত শনিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে বলা হয়, গণধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধে রুবীকে (২২) হত্যা করা হয়।
মামলায় গ্রেপ্তার অন্য ব্যক্তিরা হলেন এজাবুলের প্রতিবেশী সাইফুল ইসলাম, ফরিদুজ্জামান, ইকবাল হোসেন ও রুবেল মিয়া।
রুবী কালিয়াকৈরের নলুয়া গ্রামের আলী আহাম্মদের মেয়ে। বছর দুয়েক আগে একই উপজেলার ভাতারিয়া গ্রামের স্কুলশিক্ষক মনসুর আলীর ছেলে ইউসুফ আলীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। এক বছর পর তাঁদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। গত মঙ্গলবার রাতে সাভারের দুগ্ধ খামার এলাকা থেকে পুলিশ রুবীর লাশ উদ্ধার করে।
সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রিপন বালা বলেন, ঘটনার সঙ্গে এজাবুলের জড়িত থাকার তথ্য পেয়ে শুক্রবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শনিবার অন্য চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এজাবুলের জবানবন্দির বরাত দিয়ে এসআই রিপন বালা বলেন, ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর ইউসুফের সঙ্গে পুনরায় ঘর বেঁধে দেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে রুবীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন এজাবুল। জানতে পেরে সাইফুল, ফরিদুজ্জামান, ইকবাল ও রুবেল বিষয়টি ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে রুবীকে তাঁদের কাছে এনে দেওয়ার জন্য এজাবুলকে চাপ দিতে থাকেন। ভয়ে এজাবুল তাঁদের কাছে রুবীকে এনে দিতে রাজি হন।
এসআই রিপন আরও বলেন, এজাবুলের কথামতে রুবী ১৩ জানুয়ারি বাড়ি থেকে বের হয়ে আশুলিয়ার নবীনগরে চলে আসেন। সন্ধ্যার পরে এজাবুলের সঙ্গে নবীনগর এলাকায় তাঁর দেখা হয়। এরপর রুবীর সম্মতিতে রাত সাড়ে নয়টার দিকে এজাবুল তাঁকে দুগ্ধ খামার এলাকার নির্জন স্থানে নিয়ে যান। একপর্যায়ে সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা সাইফুল, ফরিদুজ্জামান, ইকবাল ও রুবেল তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় রুবী চিৎকার দিলে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর তাঁর লাশ ফেলে চলে যান তাঁরা। ঘটনার সঙ্গে মনসুর ও তাঁর ছেলে ইউসুফ (রুবীর তালাকপ্রাপ্ত স্বামী) জড়িত নন বলেও জানান তাঁরা। মনসুর ও ইউসুফ এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে আছেন।
সাইফুল, ফরিদুজ্জামান, ইকবাল ও রুবেলকে রুবী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে গতকাল রোববার আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে শনিবার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করার পর এজাবুলকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতেও এজাবুল ও তাঁর অপর চার সহযোগী ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

জিএসপি স্থগিতাদেশ দ্রুত প্রত্যাহার হবে

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা (জিএসপি) এখন স্থগিত হয়ে আছে।
তবে শিগগিরই এ স্থগিত আদেশ প্রত্যাহার হয়ে যাবে বলে আশা করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘যেসব কারণে যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি স্থগিত করেছে, তার বেশির ভাগই সমাধান করা হয়েছে।’ তাই এপ্রিল মাসের মধ্যেই এ স্থগিত আদেশ প্রত্যাহার হয়ে যাবে বলে আশা করছেন তিনি। একই সঙ্গে আরও বেশি ক্ষেত্রে জিএসপি সুবিধাপ্রাপ্তির প্রচেষ্টাও চলছে বলে জানান।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) নতুন পরিচালনা পর্ষদ গতকাল রোববার বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দপ্তরে সাক্ষাৎ করতে এলে তাঁদের জিএসপি নিয়ে আশাবাদের কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, আগামী দিনে বিশ্বের যে পাঁচটি দেশের অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা আছে বাংলাদেশ তার একটি। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে। এ জন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পরামর্শ করে কর্মপদ্ধতি ঠিক করতে হবে।
বৈঠকে ঢাকা চেম্বার ব্যবসায় আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নসহ ১১ দফা সুপারিশ তুলে ধরে।
সংগঠনের সভাপতি শাহজাহান খান বলেন, কয়েক মাসের রাজনৈতিক আন্দোলন ও সহিংসতায় দেশে যে নেতিবাচক ভাবমূর্তির সৃষ্টি হয়েছে এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থাহীনতা দেখা দিয়েছে, তা ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা একান্ত প্রয়োজন।
বৈঠকে বাণিজ্যসচিব মাহবুব আহমেদ, ঢাকা চেম্বারের দুই সহসভাপতি ওসামা তাসীর, খন্দকার শহীদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী পরে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জন ডানিলোয়িজের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এ ছাড়া হস্তশিল্প প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বাংলাক্রাফ্ট) এবং বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

সঙ্গিনীর সঙ্গে বিচ্ছেদের কথা নিশ্চিত করলেন ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ

দীর্ঘদিনের সঙ্গিনী ভ্যালেরি ত্রিয়াবেলারের সঙ্গে বিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফাঁসোয়া ওলাঁদ। প্রথমে এ-সংক্রান্ত খবরকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছিল প্রেসিডেন্টের দপ্তর। তবে গত শনিবার বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেন প্রেসিডেন্ট নিজেই।
প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বিচ্ছেদ সত্ত্বেও দাতব্যকাজে ভারত সফরে যাচ্ছেন কাগজে-কলমে এত দিন ফার্স্ট লেডি থাকা ভ্যালেরি ত্রিয়াবেলার। গতকাল রোববার রাতেই তাঁর ভারতের মুম্বাইয়ে পৌঁছানোর কথা।
জুলি গায়েত—যাঁর সঙ্গে ওলাঁদের সম্পর্কের কথা ফাঁস করেছে ক্লোজার সাময়িকীবার্তা সংস্থা এএফপিকে প্রেসিডেন্ট ওলাঁদ শনিবার টেলিফোনে বলেন, ‘সবাইকে জানাতে চাই যে আমি ভ্যালেরি ত্রিয়াবেলারের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি ঘটিয়েছি।’ তিনি বলেন, বিষয়টি ব্যক্তিগত বলে তিনি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নন, বরং কথা বলছেন একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অ্যাকশন এগেইনস্ট হাঙ্গারের কার্যক্রম দেখতে গতকাল রাতে ভারতের মুম্বাইয়ে পৌঁছার কথা ত্রিয়াবেলারের। সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওলাঁদের সঙ্গে বিচ্ছেদের ঘোষণা সত্ত্বেও ত্রিয়াবেলারের মুম্বাই সফর নিয়ে কোনো সংশয় নেই। তবে তাঁর সফরসূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
সদ্য সাবেক ফার্স্ট লেডি ভ্যালেরি ত্রিয়াবেলারগত মাসে ফরাসি বিনোদন সাময়িকী ক্লোজার অভিনেত্রী জুলি গায়েতের সঙ্গে ওলাঁদের পরকীয়ার খবর ফাঁস করার পর এই প্রথম জনসমক্ষে আসছেন ত্রিয়াবেলার। প্রেসিডেন্টের পরকীয়ার খবর প্রকাশ হওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।
দীর্ঘদিনের জুটি ওলাঁদ ও ত্রিয়াবেলার ২০০৭ সাল থেকে একত্রে বসবাস করছিলেন। এএফপি।

ওয়েবসাইটে না ঢুকেই তথ্যপ্রাপ্তি!

তথ্য পাওয়া যাবে ওয়েবসাইটে না ঢুকেই। তথ্য খোঁজার সুবিধাকে আরও সহজ করতে এবার এ সুবিধা পাওয়া যাবে। ব্যবহারকারীদের জন্য এ সুবিধা নিয়ে আসছে বিশ্বখ্যাত সার্চ ইঞ্জিন গুগল।
এ সুবিধাটি চালু করতে সর্বশেষ হালনাগাদ হিসেবে তথ্য খোঁজার ক্ষেত্রে আসছে বিশেষ কিছু পরিবর্তন। এর আগে গত বছর গুগলের নলেজ গ্রাফ প্রকল্প নামে একটি সেবা চালু হয়। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের গুগলের প্রতি আকৃষ্ট করা গেছে। এ গ্রাফ প্রকল্প চালুর ফলে কোনো বিষয়ে তথ্য খুঁজলে সেটি সার্চ ইঞ্জিনের ডান পাশে দেখা যায়। এতে দরকার তথ্যগুলো গুগলেই পেয়ে যান ব্যবহারকারীরা। এ সুবিধাটি আরও বিস্তৃত করে তথ্য খুঁজলে সেখানেই যাতে ওয়েবসাইটের প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়, সে সুবিধা করার ব্যাপারে কাজ চলছে বলে জানা গেছে। নতুন এই সুবিধার ফলে গুগলে অনুসন্ধান ফলাফলে কোনো একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশের আগেই ওই ওয়েবসাইট-সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত তথ্য প্রদর্শিত হবে।
নতুন এ সুবিধার ফলে আগের মতোই গুগলে অনুসন্ধান ফলাফলে পাওয়া মূল প্রত্যাশিত তথ্য কিংবা ওয়েবসাইটের নাম ও লিংক বিশেষ রঙে দেখা যাবে। তার নিচেই সবুজ রঙে থাকবে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের নাম। এরপর ধূসর রঙে ওয়েবসাইটের নাম দেখানো হবে, যেখানে ওই সাইট সম্পর্কে তথ্য ছোট করে তুলে ধরা হবে ব্যবহারকারীদের জন্য। এর ফলে ব্যবহারকারীর সেই ওয়েবসাইট সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা না থাকলেও তিনি মূল অনুসন্ধান ফলাফল থেকেই তা জেনে নিতে পারবেন। এ জন্য ব্যবহারকারীকে মূল ওয়েবসাইটে ঢুকতে হবে না।

সুড়ঙ্গ খুঁড়ে ব্যাংকে ঢুকে সাড়ে ১৬ কোটি টাকা চুরি

কিশোরগঞ্জে সোনালী ব্যাংকের জেলা প্রধান শাখায় দুঃসাহসিক চুরি হয়েছে। দীর্ঘ সুড়ঙ্গ খুঁড়ে চোরের দল ব্যাংকের ভল্টে ঢুকে ১৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা চুরি করেছে। ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গতকাল রোববার ব্যাংকে গিয়ে চুরির বিষয়টি বুঝতে পারেন।
শাখাটির নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক পুলিশি পাহারার মধ্যেই এই চুরি হলো। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পুলিশের আট সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
পুলিশ ও ব্যাংক সূত্র জানায়, শহরের রথখোলায় সোনালী ব্যাংকের জেলা প্রধান শাখা অবস্থিত। সেখানে ট্রেজারি চালানসহ অন্য শাখাগুলোর টাকাও জমা রাখা হয়। গতকাল বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ ক্যাশ কর্মকর্তা মোহসিনুল হক ভল্টে ঢুকে মেঝেতে সুড়ঙ্গ দেখেন। তাৎক্ষণিক তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানালে তাঁরা পুলিশকে জানান। পুলিশ এসে ব্যাংকের পাশে মৃত আমিনুল হকের বাড়ির একজন ভাড়াটের কক্ষে সুড়ঙ্গের অন্য প্রান্তের সন্ধান পায়। পরে গণনা করে ১৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা খোয়া যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবীর ভূঁঞা।
মৃত আমিনুলের বাড়ির একটি কক্ষে দুই মেয়ে নিয়ে ভাড়া থাকেন মার্জিয়া আক্তার। সোহেল মিয়া পরিচয়ে অন্য এক ব্যক্তি পাশের কক্ষে থাকতেন। তাঁর কক্ষ থেকেই সুড়ঙ্গপথটি তৈরি করা হয়। এ কক্ষ থেকে প্রায় ১০০ ফুট দূরে ব্যাংকের ভল্টে ঢুকে টাকা লুট করা হয়। সোহেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মার্জিয়া বলেন, ঘটনার ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। তাঁর স্বামী সৌদি-প্রবাসী। পাশের কক্ষের ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর কখনো কথাবার্তা হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈশা খাঁ সড়কে ব্যাংকের এই শাখায় প্রবেশপথের ডানে একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ও শোরুম রয়েছে। বাঁয়ে ব্যাংকসংলগ্ন একটি গলি। গলির পথটি প্রায় ১০ ফুট চওড়া। ব্যাংকের পেছনে বাড়ি ও সামনে সড়ক। গলির কয়েক গজ দূরে বাঁ পাশে প্রয়াত আমিনুল হকের আধাপাকা বাড়ি।
পুলিশ বলছে, প্রায় ১০০ ফুট সুড়ঙ্গ তৈরি করতে অন্তত এক সপ্তাহ লেগেছে। গত শুক্রবার কিংবা শনিবার রাতের কোনো এক সময়ে চুরি করে সুড়ঙ্গ দিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো. শাহানশাহ জানান, ব্যাংকের ভল্টে একাধিক সিন্দুক ও আলমারি রয়েছে। ভল্টে ২৫ কোটি টাকার বেশি গচ্ছিত না রাখার নিয়ম থাকলেও এই শাখার ভল্টে অনেক বেশি টাকা রাখা হয়। সিন্দুক ও আলমারির বাইরে আরও টাকা রাখা ছিল। বাইরের সব টাকাই লুট হয়েছে। সুড়ঙ্গপথে বিদ্যুৎব্যবস্থাসহ কাঠ দিয়ে পিলার তৈরি করা ছিল।
পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান জানান, ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবাই তাঁদের নজরে রয়েছেন।
ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক শেখ মো. আমানুল্লাহ জানান, চুরির ঘটনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করা হবে।

এবার শ্রীলঙ্কার সামনে অন্য বাংলাদেশ

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ থেকে কী চান মুশফিকুর রহিম? বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ থেকে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের চাওয়াটাই বা কী?
—জয়।
হ্যাঁ, এক কথায়ই দিয়ে দেওয়া যাচ্ছে উত্তরটা। দুই অধিনায়কের চাওয়াতে যে কোনো পার্থক্য নেই।
কিন্তু মুশফিক সিরিজ জিততে চাইছেন মানে? বাংলাদেশ দল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে নামছে নাকি! না, তা নয়। বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কাই। প্রতিপক্ষ না বলে ‘প্রবল প্রতিপক্ষ’ বলাই ভালো। তাদের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের ইতিহাস কেবলই ‘নির্যাতিত’ হওয়ার। দেশের মাটিতে পেয়েছেন বলেই মুশফিক সেই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে জয়ের হুংকার দিয়ে মাঠে নামবেন, বড় বেশি কি কানে লাগছে ব্যাপারটা?
লাগলে লাগুক। মুশফিক আর তাঁর দল এবার মাথা উঁচু করেই মাঠে নামবে। মুশফিকদের সাহস জোগাচ্ছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বিস্মরণযোগ্য ইতিহাসেরই শেষ পাতাটি। গত বছরের মার্চে দুই দলের সর্বশেষ সিরিজটি হয়েছিল শ্রীলঙ্কার মাটিতে। কলম্বোর শেষ টেস্টে হারলেও গল টেস্টে বুক চিতিয়ে ড্র করার স্মৃতি নিজেদের সেরা দিনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও এনে দিচ্ছে সেরা সাফল্য পাওয়ার আত্মবিশ্বাস। কাল সিরিজ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মুশফিক বলছিলেন, ‘আমি বরাবরই বলেছি, আমরা প্রতিটি টেস্টই জেতার জন্য খেলি। এই মানসিকতা আমাদের ভেতরে এমনি এমনি তৈরি হয়নি। আমাদের সামর্থ্য আছে বলেই এটা তৈরি হয়েছে।’
বাংলাদেশ অধিনায়কেরই যেখানে জয়ের লক্ষ্য, শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক তো আরও বেশি করে চাইবেন সেটা। কাল দুপুরে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুশীলনে নামার আগে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস সোজাসাপ্টাই বললেন, ‘আমরা সব সময়ই জয়ের জন্য খেলি এবং আমরা সেটাই চাই। ড্রয়ের জন্য আমরা খেলি না, খেলি জয়ের জন্য। ম্যাচ জিততে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
সন্দেহ নেই, বরাবরের মতো এবারও বাংলাদেশের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে বড় অস্ত্র কুমার সাঙ্গাকারা আর মাহেলা জয়াবর্ধনেই। টেস্ট ক্রিকেটে দুজনেরই ১০ হাজারের বেশি রান। বাংলাদেশের বিপক্ষে অতীতটাও একই রকম উজ্জ্বল। আরেকটা সিরিজ খেলতে নেমে এই দুই ব্যাটসম্যানকে বাংলাদেশ দলের ভয় না পাওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে মুশফিক মনে করিয়ে দিচ্ছেন, যত ভালো ব্যাটসম্যানই হোক, সাঙ্গাকারা-জয়াবর্ধনেও রক্ত-মাংসেরই মানুষ। তাঁদের আউট করতেও দুটি বলই যথেষ্ট, ‘১০ হাজার রান করা সহজ কথা নয়। তাই বলে এমনও নয় যে, ওরা কখনো ব্যর্থ হয়নি। তাদের নিয়ে কিছু পরিকল্পনা আছে আমাদের।’
মিরপুরে আজ থেকে শুরু প্রথম টেস্টে তো বটেই, মুশফিকদের পরিকল্পনা কাজে লাগা না-লাগার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে এই সিরিজের। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যতেরও কি নয়? দুই টেস্টের সিরিজে শ্রীলঙ্কা দলকে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দিয়ে ‘বিগ থ্রি’র দ্বিস্তরবিশিষ্ট টেস্টের প্রস্তাবটাকেও একটা জবাব দিতে পারে বাংলাদেশ দল। তাতে বাংলাদেশ শিবিরে বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে অবচেতনে বেজে চলা অনিশ্চিত আবহ সংগীতের তীব্রতা কিছুটা হলেও কমে আসবে। মুশফিক অবশ্য বলেই দিয়েছেন, মাঠের বাইরের রাজনীতি-কূটনীতির সঙ্গে তিনি মেলাতে রাজি নন মাঠের খেলাকে। ‘বিগ থ্রি’র চক্রান্তও আপাতত ঝেড়ে ফেলতে চান মাথা থেকে। ভাবনায় এখন শুধুই শ্রীলঙ্কা সিরিজ।
সেই ভাবনার সবটুকুই অবশ্য সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার মতো নয়। সংবাদ সম্মেলনে দল নিয়ে প্রশ্ন হওয়াতে যেমন দারুণ এক রসিকতায় বল ছেড়ে দিলেন মুশফিক, ‘দলে যে ১৪ জন দেখেছেন, সবাই খেলার জন্য প্রস্তুত। সত্যি বলতে কি, এঁদের মাঝ থেকেই ১১ জন খেলবে। তিন পেসার খেলতে পারে। শুভ (শামসুর), ইমরুল দুজনই খেলতে পারে। আবার না-ও পারে (হাসি…)।’ মুশফিক সরাসরি না বললেও টিম হোটেলে ভাসা গুঞ্জন বলছে, প্রথম টেস্টে তিন পেসার নিয়ে খেলার সম্ভাবনাই বেশি। সে ক্ষেত্রে একাদশের বাইরে থাকবেন মাহমুদউল্লাহ, রাজ্জাক ও ইমরুল। আর দুই পেসার নিয়ে খেললে আল-আমিনকে বাইরে রেখে দলে ঢুকবেন রাজ্জাক।

নির্বাচনোত্তর সহিংসতা ৩১৫ মামলায় ৬৩ হাজার আসামি

৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের আগের রাত থেকে দেশজুড়ে সহিংসতায় ৩১৫টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় নামে-বেনামে আসামি করা হয়েছে ৬৩ হাজারের বেশি লোককে। এই আসামিদের ধরতে চলছে যৌথ বাহিনীর অভিযান।
এই অভিযানে পুলিশের হিসাব অনুসারে চলতি মাসের ১০ দিনেই গ্রেপ্তার হয়েছে ২২ হাজারের বেশি লোক। তবে পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, ২২ হাজারের মধ্যে নিয়মিত আসামিও রয়েছে।
এদিকে যৌথ বাহিনীর অভিযানকে কেন্দ্র করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনের পর থেকে এ পর্যন্ত কথিত বন্দুকযুদ্ধে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। গত শনিবার রাতে সাতক্ষীরা ও ঝিনাইদহে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত তিনজনই জামায়াত-শিবিরের কর্মী।
সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, ১৩ জনের মধ্যে নয়জন যৌথ বাহিনীর অভিযানের সময় কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা যান। আর চারজনের লাশ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে ১৮৭ নেতা-কর্মীকে গুম করার অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও এর কোনো পূর্ণাঙ্গ ও সুনির্দিষ্ট তালিকা বিএনপি দিতে পারেনি।
পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচন বানচাল করতে তফসিল ঘোষণার (২৫ নভেম্বর) দিন থেকেই দেশব্যাপী সহিংস তৎপরতা শুরু করেন বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা। আগুন ও ভাঙচুর করা হয় পাঁচ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। হামলা করা হয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। ভোটের পরে যশোর, সাতক্ষীরা, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুরসহ কয়েক জায়গায় হিন্দু বসতিতে হামলা চালানো হয়। এরপর সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে দেশব্যাপী অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তফসিল ঘোষণা থেকে ভোট গ্রহণের আগের দিন পর্যন্ত সহিংস ঘটনায় কত মামলা হয়েছে, আসামির সংখ্যা কত—সে সম্পর্কে সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে, অর্থাৎ তফসিল ঘোষণা থেকে নির্বাচনের পরদিন পর্যন্ত সারা দেশে নিহত হয়েছেন ১৪৬ জন। এর মধ্যে নির্বাচনের দিন ও পরদিন মারা গেছেন ২৪ জন। জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এত বিপুল প্রাণহানির ঘটনা দেশে আর কখনো ঘটেনি।
এখন আসামি গ্রেপ্তারের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। আছে গ্রেপ্তার-বাণিজ্যের অভিযোগও। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গতকাল প্রথম আলোকে বলেছেন, এভাবে সন্দেহভাজন আসামি গ্রেপ্তার স্রেফ ব্যবসার জন্য এবং লোক দেখানো।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার। প্রথম আলোকে তিনি বলেছেন, সুশৃঙ্খল বাহিনীর কার্যকলাপ নিয়ে এ রকম ঢালাও অভিযোগ করা সমীচীন নয়। পুলিশ কাজ করে আইনের আওতায়। কোথাও যদি তার ব্যত্যয় ঘটে, সে ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুসারে, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় দেশের ১৪টি স্থানে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় ১৮টি মামলা হয়েছে। ২৫ জেলায় মোট ৩১৫টি মামলার মধ্যে সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে যশোরে, ৬৩টি। গাইবান্ধায় ৫৩, দিনাজপুরে ৪৬, লক্ষ্মীপুরে ৩১ ও ঠাকুরগাঁওয়ে ২০টি মামলা হয়েছে। বেশির ভাগ মামলায় আসামি ‘অজ্ঞাত’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাবে নির্বাচনের পর ১৭ জানুয়ারি থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ১০ দিনেই গ্রেপ্তার হয়েছে ২২ হাজার ৪৮৯ জন। তবে এসব আসামির মধ্যে পুলিশের নিয়মিত গ্রেপ্তারের আসামিও রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে বিভিন্ন স্থানে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনা ‘ক্রসফায়ার’ নয় দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। গত রাতে বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘এগুলো ক্রসফায়ার নয়। অপারেশনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর আক্রমণ চালালে তারাও আত্মরক্ষার জন্য পাল্টা আক্রমণ চালায়। তখনই এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। সরকারবিরোধীদের ধরে নিয়ে হত্যা করার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ধরে নিয়ে হত্যা করার অভিযোগ সঠিক নয়।
নির্বাচনকেন্দ্রিক অস্থিরতার পাশাপাশি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের রায়কে কেন্দ্র করে সহিংসতায় ২০১৩ সালে ৫০৭ জন মারা যান। আহত হয়েছেন ২২ হাজার ৪০৭ জন। এর আগে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির একতরফা নির্বাচন-পূর্ব সহিংসতায় ৪১ জন মারা যান।

সা ভা রে রা না প্লা জা ধ স এখনো কেউ পাশে নেই

রানা প্লাজা ধসের পাঁচ দিন পর জীবিত উদ্ধার হন সুনীতা। হাসপাতালে পাঁচ দিন পর জ্ঞান ফিরেছিল তাঁর। অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় কাজও করতে পারছেন না।
সরকারের কাছ থেকে কোনো টাকাই পাননি সুনীতা। বিকাশের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা আর হাসপাতালে থাকাকালীন ২৭ হাজার টাকা পান তিনি। এর মধ্যে বিকাশের মাধ্যমে পান ক্রেতা প্রতিষ্ঠান প্রাইমার্কের দেওয়া অর্থ।
সুনীতা নিজের অসহায়ত্বের কথা বলেন এভাবে, ‘আমার ডান হাতের হাড় ভাঙা। তাতে রড ঢোকানো। মাথা ফেটে গিয়েছিল। পায়ে মেশিন পড়েছিল। সেই ব্যথা এখনো সারে নাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্বামী দিনমজুরি করে। আমি কাজ করতে পারি না। অনেক কষ্টে সংসার চলে।’
ব্র্যাক সেন্টারে গতকাল রোববার ‘রানা প্লাজা দুর্ঘটনা ও পরবর্তী পদক্ষেপসমূহ: প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের সর্বশেষ পরিস্থিতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসেছিলেন সুনীতা। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এই সভার আয়োজন করে।
আরও এসেছিলেন মুকুল বেগম। রানা প্লাজা ধসে নিউ ওয়েভ বটমের শ্রমিক মোজ্জামেল হোসেন মারা যান। তাঁরই স্ত্রী মুকুল বেগম এক মেয়ে নিয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছেন। তিনি বললেন, ‘২৪ তারিখ সকালে ভাত খাইয়া সেই যে গেল আমার স্বামী। আর ফিরে আইল না…।’
বলতে বলতে ঝরঝরিয়ে কেঁদে ফেলেন মুকুল বেগম। কাঁদতে কাঁদতে বলেন, সেদিন থেকে আমার ঘরে কোনো আলো জ্বলে না। আমার একটি মেয়ে আছে। স্বামীর স্বপ্ন ছিল মেয়েকে শিক্ষিত বানাবে। কিন্তু আমি এখন তাকে কীভাবে পড়াশোনা করাব। দিন যায় পাহাড়ের মতো।’
মুকুল বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী বেতন পেলেই মেয়ের জন্য ফলমূল নিয়ে আসতেন। কিন্তু এখন একটি কলাও কিনে দিতে পারি না মেয়েকে।’ মুকুল বেগমও দাফনের জন্য ২০ হাজার টাকা আর বিকাশের মাধ্যমে নির্ধারিত অর্থ ছাড়া কিছুই পাননি।
মুকুল বেগমের কান্না ছুঁয়ে যায় সবাইকে। শ্রমসচিব মিকাইল শিপার মুকুলের নাম টুকে নেন, আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে উপস্থিত সাংসদ ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি টিপু মুন্সী মুকুল বেগমের মেয়েকে পড়াশোনা বাবদ প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
হবিগঞ্জ থেকে এসেছিলেন রথীন্দ্রনাথ দাশ। তাঁর মেয়ে নির্মলা রানী দাশ এখনো নিখোঁজ। কাজ করতেন রানা প্লাজার নিউ ওয়েব বটম কারখানায়। দুর্ঘটনার পর লাশ পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত কোনো আর্থিক সহায়তাও পায়নি এই হতভাগা শ্রমিকের পরিবারটি।
রথীন্দ্রনাথ দাশনির্মলার বাবা রথীন্দ্রনাথ বলেন, ‘মেয়ের মজুরি দিয়েই সংসার চলত। আমার বয়স হয়ে গেছে। কাজ করতে পারি না। খুব কষ্টে সংসার চলছে।’ তিনি জানান, শুধু বিকাশের মাধ্যমে টাকা পেয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে কিছু পাননি। যদিও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছিলেন।
মরিয়ম বেগম ডান হাত হারান। দীর্ঘ চিকিৎসা করেও পুরোপুরি সুস্থ হননি। কৃত্রিম হাত লাগিয়েও ঘরের কাজ পর্যন্ত করতে পারেন না।
মরিয়ম বেগম বলেন, ‘আমি এখন কিছুই করতে পারি না। বাম না, ডান হাতটা থাকলে তো কিছু করতে পারতাম। কৃত্রিম হাত দিয়েছে। কিন্তু এত ভারী যে, পরলেই যন্ত্রণা হয়। তাই খুলে রাখি। আমার কাছে এটার কোনো মূল্য নাই। তিনি বলেন, ‘এমনিতে হয়তো দুই দিন বাঁচতাম। কিন্তু কৃত্রিম হাতটি পরলে মনে হয়, সেটিও আর পারব না।’ কৃত্রিম হাত নিয়ে সমস্যায় থাকা এই মরিয়ম অবশ্য সরকারের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা পেয়েছেন। মানুষের কাছ থেকেও পেয়েছেন কিছু সহায়তা।
এই মরিয়মের ডান হাত কেটে উদ্ধার করেছিলেন উদ্ধারকর্মী খোঁয়াজ আলী। বাড়ি মানিকগঞ্জ। কাজের জন্য অনেক দিন ধরেই সাভার থাকেন। বললেন, ‘২৪ এপ্রিল ঘটনার ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই আমি ঘটনাস্থলে যাই। উদ্ধারকাজ শুরু করি।’
খোঁয়াজ আলী বলেন, ‘উদ্ধারকর্মী অনেকেই এখন পর্যন্ত অসুস্থ। আমি নিজেও অসুস্থ। এখনো স্বাভাবিক জীবনে আসতে পারি নাই। ৮৫ শতাংশ উদ্ধারকর্মী শ্রমিক হওয়ায় অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না।’ তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত কারও কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পাননি উদ্ধারকর্মীরা। শুরুতে কিছু খরচ পেলেও বর্তমানে চিকিৎসার জন্য কেউ এগিয়ে আসছেন না।
মুকুল বেগমঅনুষ্ঠানে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করে সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম জানান, নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবারই সবচেয়ে খারাপ অবস্থার মধ্যে আছে। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় তাঁরা কোনো আর্থিক সহায়তা পাননি। অন্যদিকে আহত শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা যায়নি। দুই হাজার ৪৩৮ জন আহত শ্রমিকের মধ্যে মাত্র ৭১ জন আবার কাজে যোগ দিয়েছেন।
অথচ গত ১৪ জুলাই সংসদে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী জানিয়েছিলেন, রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পর্যায়ে এ পর্যন্ত প্রদান করা অর্থের পরিমাণ ১২৭ কোটি ৬৭ লাখ ৩৩ হাজার ৩৪৯ টাকা।
গতকালের অনুষ্ঠানে সিপিডি জানায়, এখন পর্যন্ত ১৮ কোটি ৮৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ করা হয়েছে। ৭৭৭ জন নিহত শ্রমিকের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে এককালীন এক লাখ করে টাকা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৪০ জন আহত শ্রমিককে ১০ থেকে ১৫ লাখ করে টাকা দেওয়া হয়। তবে এখনো অনেক শ্রমিক সহায়তার বাইরেই রয়ে গেছেন।
শ্রমসচিব মিকাইল শিপার বলেন, ডিএনএ পরীক্ষায় ১৫৭ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এখন তাদের একাধিক উত্তরাধিকার থাকায় কিছুটা সমস্যা আছে। তবে ১৩৬-১৩৮ জনকে শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রধানমন্ত্রীর তহবিলের অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করার দাবি জানান। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য শাহীন আনাম বলেন, ‘ক্ষতিপূরণসহ সব কাজে স্বচ্ছতা আনতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর তহবিলের টাকা কোথায় কীভাবে আছে সেটি আমরা জানি না। কিন্তু এই সরকার তথ্য অধিকার আইন পাস করেছে। তাই সরকারকে স্বপ্রণোদিত হয়ে এই তহবিলের তথ্য প্রকাশ করবে বলে আমরা আশা করি।’
প্রধানমন্ত্রীর তহবিলের অর্থ ব্যয়ের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করার আরও দাবি করেন সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, বিলসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাফরুল হাসান, উন্নয়নকর্মী মরিয়ম বেগম ও স্থপতি ইকবাল হাবিব।
ইকবাল হাবিব বলেন, ওয়েব বেইজ পোর্টাল করে সবকিছু প্রকাশ করা দরকার। এখানে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের তালিকার পাশাপাশি কে কত আর্থিক সহায়তা পেলেন তার সবই থাকবে। অন্য সব কর্মকাণ্ডের তথ্যও রাখতে হবে। এটি হলে কারও মধ্যে বিভ্রান্তি থাকবে না

গ্রেফতার হয়েছেন পপ তারকা জাস্টিন বিবার

নেশাগ্রস্থ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অপরাধে গ্রেফতার হয়েছেন কানাডিয়ান পপ তারকা জ্যাস্টিন বিবার। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মিয়ামি পুলিশ জানিয়েছে, বিবারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
১৯ বছর বয়সী এই সঙ্গীতশিল্পী সম্প্রতি পুলিশের সঙ্গে বেশ কয়েকটি ঝামেলায় জড়িয়েছেন।
লস অ্যাঞ্জেলসের এক প্রতিবেশীর বাড়িতে ডিম ছুঁড়ে সম্পদ নষ্ট করার দায়ে এক সপ্তাহ আগে বিবারকে অভিযুক্ত করা হয়। সে সময় পুলিশ বিবারের বাড়ি তল্লাশিও করে।
গত বছর অস্ট্রেলিয়ার এক হোটেলের দেয়ালের ছবি নষ্ট করেও বেকায়দায় পড়েন বিবার। তার এক মাস পরে ব্রাজিলে যেয়েও ঝামেলা পাকান এই বিতর্কিত গায়ক।
পুলিশ জানায়, বিবার আজ হলুদ রঙের একটি গাড়ি চালাচ্ছিলেন। পেছনে থাকা লাল রঙের একটি ফেরারি থেকে অন্য একজন চালককেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

গোপন কোড ভাঙতে আসছে এনএসএর নতুন কম্পিউটার

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) এমন একটি কম্পিউটার তৈরির চেষ্টা করছে, যা অন্য যেকোনো দেশের গোয়েন্দা কার্যক্রম বা ব্যাংক হিসাবের মতো গোপন নিরাপত্তা কোড ভাঙতে পারবে।
প্রভাবশালী মার্কিন পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট এ কথা জানিয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, এনএসএর সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেনের ফাঁস করা নথি থেকে তারা এ তথ্য পেয়েছে।
এনএসএর গোয়েন্দা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সাধারণ নাগরিকদের ফোনে আড়ি
পাতা বা ইন্টারনেটে নজরদারি নিয়ে চরম বিতর্কের মধ্যে নতুন এ খবর জানাল পত্রিকাটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গোপন নিরাপত্তা কোড ভেঙে স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই কোয়ান্টাম নামের ওই কম্পিউটার তৈরির চেষ্টা করে যাচ্ছে এনএসএ।
তবে এটি তৈরিতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।
প্রায় আট কোটি ডলার ব্যয়ে ‘পেনিট্রেটিং হার্ড টার্গেটস’ (দুর্ভেদ্য লক্ষ্য ভেদ করা) নামের একটি গবেষণা প্রকল্পের অধীনে এ কাজ করা হচ্ছে।
বিভিন্ন বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানও কোয়ান্টাম কম্পিউটার
তৈরির চেষ্টা করছে। তবে এনএসএর প্রকল্প ও বেসরকারি উদ্যোগের মধ্যে কারা এগিয়ে বা পিছিয়ে, সে বিষয়টি পরিষ্কার নয়।
এনএসএর সাবেক কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেন গত বছর সংস্থাটির বহু গোপন নথি ফাঁস করে হইচই ফেলে দেন।
দেশত্যাগের পর চীনের হংকং হয়ে এখন তিনি অস্থায়ী আশ্রয় পেয়ে রাশিয়ায় আছেন।
স্নোডেনের বিরুদ্ধেগুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া সামনে আরও অনেক অভিযোগ তোলা হতে পারে।
 স্নোডেনের ওই নথি ফাঁসের পর সন্ত্রাসবাদের কবল থেকে মার্কিন নাগরিকদের রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে এনএসএকে কোন পর্যায় পর্যন্ত গোয়েন্দাগিরি করতে দেওয়া উচিত, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু
হয়েছে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই। অনেকে এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপও দাবি করেছেন।

ফেসবুকের বিরুদ্ধে মামলা

ব্যবহারকারীর তথ্য  বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বিক্রি করছে ফেসবুক’ এমন অভিযোগে ফেসবুকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আরকানাসের ম্যাথিউ ক্যাম্পবেল ও ওরেগনের মাইকেল হার্লি।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ব্যবহারীদের মধ্যে আদান-প্রদান করা ওয়েবসাইট লিঙ্ক বা বার্তা পর্যবেক্ষণ করে সেগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী সংস্থা বা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বিক্রি করছে।
তাদের দাবি, ফেসবুক ইলেক্ট্রনিক কমিউনিকেশন অ্যাক্ট ও ক্যালিফোর্নিয়া গোপনীয়তা ও অন্যায় প্রতিযোগিতা আইনের লঙ্ঘন করেছে।
নিয়ম লঙ্ঘন করায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে তারা যতদিন ফেসবুক ব্যবহার করেছেন প্রত্যেক দিনের জন্য তারা ১০০ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন।
এ শর্তের বিকল্প হিসেবে তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের যাদের তথ্য চুরি করা হয়েছে তাদের প্রত্যেকে ১০ হাজার মার্কিন ডলার দিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটলে তারা সারা বিশ্বের ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ঘটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। ফেসবুকের এক মুখপাত্র বলেছেন, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। আমরা শক্তভাবে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করব।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে সম্মতি না নিয়ে ব্যবহারকারীর তথ্য ব্যবহার করায় ফেসবুককে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছিল। অভিযোগকারী ব্যবহারীদের প্রত্যেকে ২০ মার্কিন ডলার করে পেয়েছিলেন

সাইবার অপরাধীদের পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেফতার করা যাবে

সাইবার ক্রাইম এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন বিষয়ে কর্মশালার উদ্বোধন করলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার বেনজীর আহমেদ। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে এ কর্মশালার উদ্বোধন করেন তিনি।
ফেইসবুকে বাঁশের কেল্লা, নিউ বাঁশের কেল্লা পেইজ এর মতো সাইবার সন্ত্রাস প্রতিহত করতেও সবার প্রতি আহ্বান জানান ডিএমপি কমিশনার। তথ্য প্রযুক্তি আইনের আওতায় সাইবার অপরাধীকে পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেফতার করা যাবে বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, এটি জামিন অযোগ্য অপরাধ এবং সর্বনিম্ন ৭ থেকে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদন্ডের বিধান রয়েছে।

এনএসআইয়ের ডিএডি পদে ছাত্রলীগের ৩৭ জন

এনএসআইয়ের ডিএডি পদে ছাত্রলীগের ৩৭ জনআহমেদ জায়িফ | তারিখ: ০২-০২-২০১২

আগের সংবাদ জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) পদে ১৪২ জনের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এঁদের মধ্যে ৩৭ জনই ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক কমিটির নেতা-কর্মী।
গত ২৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এনএসআইয়ের ডিএডি পদে ১৪২ জনের নিয়োগপত্র ছাড়া হয়। তাতে ৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চাকরিতে যোগ দিতে বলা হয়।
নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের অনেকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান কমিটির নেতা-কর্মী। এঁদের নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার চেয়ে দলীয় বিবেচনাই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রথম আলোর অনুসন্ধানে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৭ জনের ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। এঁদের ১৩ জনই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা। তাঁরা বর্তমান কমিটির বিভিন্ন পদে রয়েছেন। বাকিদের মধ্যে ৩ জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল শাখার নেতা, একজন ইডেন কলেজ শাখার বর্তমান সাধারণ সম্পাদক, ১৪ জন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল শাখার সাবেক নেতা। বাকি ছয়জন ছাত্রলীগের ‘সক্রিয় কর্মী’।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এনএসআইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থাটির উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) পদে নিয়োগের জন্য ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে একটি তালিকাও পাঠানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এনএসআইয়ের ডিএডি পদে নিয়োগ পরীক্ষা হয় গত ২১ অক্টোবর। মিরপুর কমার্স কলেজে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় প্রায় তিন হাজার জন অংশ নেন। ২০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হয়।
পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছাত্রলীগের একাধিক নেতা-কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রবেশপত্র পাঠানো নিশ্চিত করতে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ১৪৫ জন নেতা-কর্মীর একটি তালিকা পাঠানো হয়। কিন্তু তালিকার অনেকেই প্রথম প্রবেশপত্র পাননি। এরপর ছাত্রলীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তদবির করে বাকিদের প্রবেশপত্র পাওয়ার ব্যবস্থা করে।
তবে এই সহযোগিতা করার কথা অস্বীকার করেছেন বর্তমান সভাপতি বদিউজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম। বদিউজ্জামান বলেন, ‘ছাত্রলীগের ৮-১০ জন নেতা-কর্মীর চাকরি হয়েছে বলে শুনেছি। মেধার ভিত্তিতেই তাঁরা নিয়োগ পেয়েছেন বলে জানি।’ আর সিদ্দিকী নাজমুল আলম বলেন, গোয়েন্দা সংস্থায় নিয়োগের সঙ্গে ছাত্রলীগের কোনো যোগাযোগ নেই।
নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী কয়েকজন প্রথম আলোকে বলেন, লিখিত পরীক্ষার পর উত্তীর্ণদের কোনো তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। তবে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে সংশ্লিষ্টদের সবার ঠিকানায় চিঠি পাঠানো হয়। গত ২৩ ডিসেম্বর মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগে ১৯ নভেম্বর ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার (সদ্য বিলুপ্ত কমিটি) সভাপতি শেখ সোহেল রানা ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ সাকিবের সই করা ৫২ জন নেতা-কর্মীর নামের একটি তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
জানতে চাইলে শেখ সোহেল রানা এ রকম তালিকা পাঠানোর কথা প্রথম আলোর কাছে অস্বীকার করেন। তবে সাজ্জাদ সাকিব এ রকম তালিকা পাঠানোর কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় নিজেদের নেতা-কর্মীদের জন্য কাজ করি। তাঁদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করি। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করেছেন, কিন্তু পদবি পাননি এবং যাঁদের পারিবারিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের নিয়ে তালিকাটি করা হয়েছিল।’
পরে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নামের তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়, ছাত্রলীগের প্যাডে পাঠানো তালিকা থেকে ২৪ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন। তাঁরা হলেন: ছাত্রলীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি সাজ্জাদ ইবনে রায়হান, মো. ফয়েজ উদ্দিন, মো. ওয়াসিম উদ্দিন, মো. মেজবাহ উদ্দিন ও মো. আজিজুল হক, যুগ্ম সম্পাদক এ জি এম সাদিদ জাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাজমুল হক, উপ-মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা সম্পাদক রাজীব কুমার দাস, উপ-প্রচার সম্পাদক মো. বাহারুল হুসাইন, ফজলুল হক মুসলিম হলের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, একই হলের সাংগঠনিক সম্পাদক তারিক হাসান, শহীদুল্লাহ হলের সহসভাপতি মো. ফরহাদ হোসেন, ‘সক্রিয় কর্মী’ সুমন বিশ্বাস, বিপুল চন্দ্র দাস ও আবদুল্লাহ আল মামুন, কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া কবীর, সাবেক সহসম্পাদক জিয়াউল হক, সাবেক উপ-কর্মসূচি প্রণয়ন ও পরিকল্পনা সম্পাদক দেওয়ান মনোয়ার হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সহসভাপতি পলাশ গোমস্তা, সাবেক প্রচার সম্পাদক আমজাদ হোসেন, সাবেক শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক মিয়া মাহমুদ হাসান, সাবেক সহসম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাবেক পরিবেশ সম্পাদক এফ এম ফয়সাল প্রমুখ।
ছাত্রলীগের পাঠানো ওই তালিকার বাইরে ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান কমিটিতে থাকা আরও ১৩ জন নিয়োগ পেয়েছেন। তাঁরা হলেন: বর্তমান কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সাইদ মাহমুদ, মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা সম্পাদক মো. আল-আমিন, তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মারুফ, উপ-প্রচার সম্পাদক দেবব্রত দাশ, ইডেন কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ফারজানা ইয়াসমিন, কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উপক্রীড়া সম্পাদক আজমুল হোসেন, সাবেক সহসম্পাদক আনোয়ার হোসেন মনির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক পরিকল্পনা সম্পাদক রেজাউল করিম, জিয়া হলের সাবেক সহসভাপতি মো. আহসান খান, ফজলুল হক হলের সাবেক সহসভাপতি সাইফ আহমেদ শাকিল, কেন্দ্রীয় সহসম্পাদক সাবেক এস কে সাইলক হোসেন, বঙ্গবন্ধু হল শাখার কর্মী শরীফুল আলম তানভীর ও জসীমউদ্দীন হল শাখার কর্মী মোহাম্মদ মেরাজুল ইসলাম।
জানতে চাইলে নিয়োগপ্রাপ্ত ছাত্রলীগের নেতা দেওয়ান মনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘তালিকা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে আমার নাম সেখানে আছে কি না, জানি না।’
নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় প্রাধান্য পাওয়ার কথাও অস্বীকার করে দেওয়ান মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘শুনেছি, পরীক্ষায় পাসের নম্বর প্রথমে ৮০ ধরা হয়েছিল। এরপর পাস নম্বর চার কমানো হয়েছে।’

টেস্টই খেলতে পারবে না বাংলাদেশ!

আইসিসির পূর্ণ সদস্য পদ থাকবে। থাকবে টেস্ট মর্যাদাও। তবু টেস্ট ক্রিকেট খেলতে পারবে না বাংলাদেশ! ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বোর্ড প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো সত্যিই বাস্তবায়িত হলে অভূতপূর্ব এই ঘটনা দেখবে ক্রিকেট বিশ্ব। টেস্ট ক্রিকেটের আঙিনায় বাংলাদেশের বিচরণ থমকে যেতে পারে এ বছরই। আগামী বছর থেকে আবার কবে টেস্ট খেলতে পারবেন মুশফিক-সাকিবরা, কিংবা আদৌ আর খেলতে পারবেন কি না, অনিশ্চিত সবই। একই ভাগ্য মেনে নিতে হবে জিম্বাবুয়েকেও।
‘তিন জমিদারের’ বিশ্ব ক্রিকেট শাসন করার প্রস্তাব ফাঁস হওয়ার পর থেকেই তোলপাড় চলছে ক্রিকেট বিশ্বে। তিন জমিদার ছাড়া নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ‘প্রজাদের’ বাকি সবাই। যদিও খবরটি ফাঁস করা ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো কিংবা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় বাংলাদেশ খুব একটা গুরুত্ব পায়নি। তবে প্রস্তাবিত খসড়ায় যা দেখা যাচ্ছে, তাতে সবচেয়ে করুণ পরিণতি অপেক্ষা করছে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের ভাগ্যেই।
প্রস্তাবিত ২১ পাতার খসড়ায় অনুচ্ছেদ আছে ছয়টি। ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ৩ নম্বর পয়েন্টের শিরোনাম—‘আইসিসি র‌্যাঙ্কিং সিস্টেম’।
এখানেই বলা হয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সময়কালে টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের ৯ ও ১০ নম্বর দলকে খেলতে হবে আইসিসি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে। আইসিসির শীর্ষ সহযোগী দেশগুলোর অংশগ্রহণে প্রথম শ্রেণীর ম্যাচের টুর্নামেন্ট এই ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ। বর্তমান টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে ৩৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ৯ নম্বরে আছে জিম্বাবুয়ে, ১৮ পয়েন্ট নিয়ে দশে বাংলাদেশ। র‌্যাঙ্কিংয়ের আটে থাকা নিউজিল্যান্ডের পয়েন্ট ৮২, সাতে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৮৭।
বছর শেষেও যে জিম্বাবুয়ে ও বাংলাদেশ নয় ও দশ নম্বরে থাকবে, সেটি নিশ্চিতই। টেস্ট ক্রিকেটের বদলে এই দুই দেশকেই তাই চার দিনের ম্যাচ খেলতে হবে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে। সর্বশেষ (২০১৩) এই টুর্নামেন্টে খেলেছে আয়ারল্যান্ড, আফগানিস্তান, স্কটল্যান্ড, আরব আমিরাত, নামিবিয়া, কানাডা, কেনিয়া ও নেদারল্যান্ডস। সহযোগী এই আট দেশের সঙ্গে এখন শিরোপা যুদ্ধে নামতে হবে পূর্ণ সদস্য দুটি দেশকে!
ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে শিরোপাজয়ী দল এরপর চ্যালেঞ্জ টেস্ট সিরিজ খেলার সুযোগ পাবে ওই সময় টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের আটে থাকা দলের বিপক্ষে। দুটি করে টেস্ট ম্যাচের দুটি সিরিজ হবে ‘হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে’ পদ্ধতিতে। এই চ্যালেঞ্জ সিরিজে জয়ী দেশ অষ্টম দল হিসেবে খেলার সুযোগ পাবে টেস্ট ক্রিকেট। হেরে যাওয়া দলকে খেলতে হবে পরবর্তী ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে। ২০১৫ থেকে ২০২৩, এই আট বছর সময়কালে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ হবে দুটি। নতুন নিয়মের প্রথম ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের শিরোপা নির্ধারিত হবে ২০১৯ সালে। এ বছরের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর ২০১৯ সাল পর্যন্ত অন্তত আর টেস্ট খেলতে পারবে না বাংলাদেশ।
২০১৯ সালে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে বাংলাদেশ যদি চ্যাম্পিয়ন হয়ও, টেস্ট আঙিনায় ফেরা সীমাবদ্ধ থাকতে পারে চ্যালেঞ্জ সিরিজের ওই চার টেস্টেই। চার বছর পর টেস্টে ফিরে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে সিরিজে টেস্টের ৮ নম্বর দলকে হারানো হবে অসম্ভবের কাছাকাছি। তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়া গেল, চ্যালেঞ্জ সিরিজও জিতে টেস্ট ক্রিকেটে আবার উত্তরণ হলো বাংলাদেশের। কিন্তু তখনো কয়টি টেস্ট খেলতে পারবে, সেই সংশয় থাকবেই। এফটিপি বাতিল হয়ে গেলে টেস্ট খেলার জন্য বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হবে অন্য দেশের দয়ার ওপর। ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ খেলে উঠে আসা দেশের জন্য অন্য দেশের কাছ থেকে সেই ‘দয়া’ আদায়ও খুব একটা সহজ হবে না। টেস্টে উত্তরণ হলেও তাই টিকে থাকা হবে দুরূহ।
এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের ওপর ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে খেলার খড়্গ নেমে আসছে আগামী বছরই। তবে অদূর ভবিষ্যৎ ভাবলে শঙ্কায় থাকবে নিউজিল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দেশগুলোও। র‌্যাঙ্কিংয়ের সাত-আটে ঘোরাফেরা তো তাদেরই। ২০১৯ সালে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া দল যদি তাদের হারিয়ে দেয়, কী হবে ভাবুন! হয়তো দেখা যাবে টেস্ট খেলবে আফগানিস্তান, আর ১৯২৮ সাল থেকে টেস্ট খেলে আসা, সত্তর-আশির দশকে বিশ্ব ক্রিকেটে রাজত্ব করা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে খেলতে হবে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ! শঙ্কায় আসলে ‘তিন জমিদার’ ছাড়া বাকি সব দেশই। চার বছর পর তো টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের আটে থাকতে পারে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার মতো দলও। কিংবা কে জানে, ক্রিকেটীয় অনিশ্চয়তায় চার বছর পর আটে নেমে যেতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকাও। তৃতীয় দেশ হিসেবে টেস্ট মর্যাদা পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকাকেও তখন খেলতে হতে পারে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে!
দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা তাই এককাট্টা হচ্ছে প্রস্তাবের বিপক্ষে। বাংলাদেশ কী ভাবছে? আপাতত এটা নিয়ে কথা বলতে নারাজ বিসিবির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, ‘এটি খুবই সেনসিটিভ (স্পর্শকাতর) একটি ইস্যু। প্রস্তাবটি বিস্তারিত পড়া ও আলোচনার ব্যাপার আছে। ২৩ জানুয়ারির (আগামী কাল) বোর্ড সভায় আলোচনা হবে, এরপর হয়তো মন্তব্য করা যাবে।’

কারাগারে আটক শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফ এখন কোথায়? ​কাকে হত্যা করতে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে?

শীর্ষ সন্ত্রাসী তোফায়েল আহমদ জোসেফ এখন কারাগারে নেই। কোথায় গেছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই সন্ত্রাসী? এই প্রশ্নটি এলে তথ্যানুসন্ধানে কিছু চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সুত্র জানিয়েছে, জোসেফকে নির্বাচনের পূর্বেই কৌশলে পিজি হাসপাতালে স্তানান্তরিত করা হয়।এমনকি নির্বাচনের আগের দিন জোসেফের জন্য একটি পাসপোর্ট তৈরী করা হয়েছে। তাকে খুব সামান্য সময়ই হাসপাতালে পাওয়া যাচ্ছে। অধিকাংশ সময় কাটে তার ঢাকায় বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের হত্যা চেষ্টার আওয়ামী মিশন বাস্তবায়নের প্রচেষ্টায়। আর রাত কাটে ভাই মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদের বাসায়।

জানা গেছে, বিজিবি মহাপরিচালক মে জেনারেল আজিজ আহমদ ইতিমধ্যেই জোসেফের মৃত্যুদণ্ডের ফাইল সরকারের শীর্ষ মহলের আশীর্বাদে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের জন্য বঙ্গভবনে পাঠিয়েছেন। ঐ ফাইল এখন রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে।

এদিকে জোসেফ আওয়ামী এক ওয়ার্ড কমিশনারের মিজানের ভাইকে হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত। এখন এই জোসেফকে যদি জেলের বাইরে কেউ হত্যা করে ফেলে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বা অন্য কোন সন্ত্রাসী গ্রুপ তার দায়ভার কে নেবে? এটি যেমন সত্যি তেমনি তাকে সাধারণ ক্ষমা দিয়ে বিদেশে পাঠানোর যে আয়োজন করা হচ্ছে, সেটি কি কাউকে হত্যার উদ্দেশ্যে নাকি অন্য কোন মিশনে? আমাদের হাতে জোসেফের নতুন পাসপোর্ট কপি পৌছে যাবে যে কোন সময়।