নারী, মাদক, সফটওয়্যার আর ম্যাকাফি

রহস্যময় বর্ণিল এক মানুষ জন ম্যাকাফি। কিন্তু কে আসল ম্যাকাফি? কুখ্যাত মাফিয়া, মাদক আর নারী কেলেঙ্কারির মতো অভিযোগ মাথায় নিয়ে বেড়ানো ব্যক্তিটি, নাকি বিশ্বের বিখ্যাত অ্যান্টিভাইরাস নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান ম্যাকাফির প্রতিষ্ঠাতা? সম্প্রতি বিবিসি অনলাইন জন ম্যাকাফিকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যাতে উঠে এসেছে ম্যাকাফির জীবনের নানা অধ্যায়।
গোপন একটি প্রকল্প নিয়ে আবারও আলোচনায় ম্যাকাফি। কয়েক বছর ধরেই তিনি গোপনে একটি যন্ত্র নির্মাণ করে যাচ্ছেন। ম্যাকাফির দাবি, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের নজরদারি থেকে আড়াল করতে পারবেন তিনি।
মার্কিন গোয়েন্দারা সবার ব্যক্তিগত তথ্যে নজরদারি করছেন এমন তথ্য ফাঁস করে দিয়েছিলেন সিআইএর সাবেক কর্মী অ্যাডওয়ার্ড স্নোডেন। এ তথ্য ফাঁস করার পর বিশ্বব্যাপী ব্যক্তিগত তথ্যে নজরদারির বিষয়টি নিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে। গোয়েন্দারা যাতে ব্যক্তিগত তথ্যে নজরদারি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে ১০০ মার্কিন ডলার দামের একটি প্রযুক্তিপণ্য তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন ম্যাকাফি। যন্ত্রটির নাম ‘ডি-সেন্ট্রাল’। যন্ত্রটি মুঠোফোন ও অন্যান্য পণ্যের নিরাপত্তাব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। যন্ত্রটি নিজস্ব ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা তৈরি করতে সক্ষম হবে, যাতে ব্যবহারকারী ছাড়া আর কারও পক্ষে নজরদারি সম্ভব হবে না বলেই দাবি করেন ম্যাকাফি।

ডি-সেন্ট্রাল তৈরির কথা জানানোর আগে থেকেই প্রযুক্তি বিশ্বে ‘কিংবদন্তি’ হিসেবে খ্যাতি জুটেছে তাঁর। কিন্তু ম্যাকাফির ‘গোপন’ জীবনের ঘটনার সঙ্গে মানুষের পরিচয় ঘটে ২০১২ সালে। এ সময় তাঁকে নতুন করে আবিষ্কার করে মানুষ। চুলে রং করা, বাঁধানো দাঁত আর ছদ্মবেশী এক মার্কিন নাগরিক হিসেবে তাঁকে পাওয়া যায়। এর আগে তাঁর জীবনে ঘটে যায় এক ঝড় তোলা ঘটনা। ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে মধ্য আমেরিকার দেশ বেলিজের বাসিন্দা থাকাকালে ম্যাকাফির এক পড়শি খুন হলেন। পুলিশের চোখে ম্যাকাফি হয়ে ওঠেন সন্দেহভাজন। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি পুলিশের চোখ এড়িয়ে, ছদ্মবেশে ঢুকে পড়েন প্রতিবেশী দেশ গুয়াতেমালায়। রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েও পাননি; বরং কারাগারে যেতে হয়েছিল তাঁকে। সেখান থেকে তিনি ফেরেন যুক্তরাষ্ট্রে এবং তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে অল্পবয়সী বান্ধবীদের সঙ্গে ম্যাকাফির খালি গায়ে তোলা ছবি আবারও নানা আলোচনার জন্ম দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রে ‘বিপজ্জনক’ ব্যক্তি হিসেবে সন্দেহের তালিকায় এখন ম্যাকাফি। বিবিসিকে অবশ্য ম্যাকাফি বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে যত অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর সত্যতা নেই। ম্যাকাফির সাক্ষাত্কার নেওয়া এক সাংবাদিক সব সময় তাঁকে ‘খামখেয়ালি’ বলে সম্বোধন করেন। ম্যাকাফি নিজের সম্পর্কে সিলিকন ভ্যালির সবচেয়ে বাজে লোকের তকমার কথা স্বীকারও করেন। তবে এর বাইরেও ম্যাকাফি নিজেকে পরিচয় দেন একজন উদ্যোক্তা হিসেবে।

ম্যাকাফি নিজের সম্পর্কে বলেন, ‘আমি কৌতূহলী এবং সমস্যা সমাধান করতে ভালোবাসি। তবে আমি নিজের নামে তৈরি কোনো পণ্য ব্যবহার করি না। নিজেকে নিরাপদ রাখতে সব সময় নিরাপদ কম্পিউটিং করি। পর্নো সাইটে যাই না, ভাইরাস থাকতে পারে, এমন লিংকে যাই না।’

ম্যাকাফি বলেন, আমরা যখন রাস্তা খুঁজে নিয়ে চলতে শুরু করি, খোলস ছেড়ে বের হই, তখনই কেবল আমরা নির্ভয়ে সে পথে যেতে পারি এবং এতে সাফল্য আসে এবং সত্যিকারের সৌন্দর্যের খোঁজ পাওয়া যায়।

জন ম্যাকাফি সম্পর্কে তাঁর বেলিজের এক নারী সঙ্গী জানিয়েছেন, অসাধারণ একজন মানুষ আর রোমাঞ্চপিয়াসী তিনি। তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা বলেন, খামখেয়ালি এই মানুষটাকে আসলে বোঝা খুব শক্ত। বয়স্ক একজন মানুষ কমবয়সী অনেকগুলো মেয়ে নিয়ে আনন্দ করছেন আবার কাজের ক্ষেত্রে দারুণ মনোযোগী। কে আসল জন ম্যাকাফি, সেটাই বোঝা কঠিন।

প্রযুক্তির ইতিহাসে বর্ণিল, রহস্যময় একজন মানুষ জন ম্যাকাফি। একদিকে নতুন নতুন উদ্ভাবন, অন্যদিকে মাদক তৈরিসহ বিশ্বের ভয়ংকর সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আছে বলে সন্দেহ করা হয়।

জন ম্যাকাফির সঙ্গে বর্তমানে ম্যাকাফি অ্যান্টিভাইরাস প্রতিষ্ঠানটির কোনো সম্পর্ক নেই। ১৯৯০ সালের শুরুর দিকে তিনি ম্যাকাফি বিক্রি করে দেন। ২০০৮ সাল থেকে তিনি বেলিজে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করেছিলেন। রোমাঞ্চপ্রত্যাশী জন ম্যাকাফি ছোটবেলা থেকেই নতুন নতুন উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসতেন। নব্বইয়ের দশকের পর তাঁর আচরণে খামখেয়ালিপনা দেখা দেয়। বিক্রি করে দেন ম্যাকাফি। তারপর প্রযুক্তি জগত্ থেকে দূরে সরে যেতে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে চলে যান বেলিজে। সেখানে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে এ অঞ্চলের বিখ্যাত মাদক চোরাচালানকারী আর সন্ত্রাসীদের সঙ্গে। এ সময় তিনি ভয়ংকর মাদক তৈরির চেষ্টা করছিলেন। কম্পিউটার জগত্ থেকে অনেকদিন ধরেই বিচ্ছিন্ন পড়েছিলেন ম্যাকাফি। ক্রমাগত বাড়ছিল তার খামখেয়ালি আচরণ। ম্যাকাফির পুরোনো সহকর্মী এবং বন্ধুদের অনেকেই জানিয়েছেন, নারীদের মধ্যে যৌন উদ্দীপনা বাড়াতে পারে এমন মাদকের প্রতি অনেক দিন ধরেই কৌতূহল ছিল ম্যাকাফির।

ম্যাকাফি বলেন, মাদকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অনেক পুরোনো। পরিবার থেকে লুকিয়ে তিনি মাদক নিতেন। মাদক গ্রহণের জন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁর চাকরি চলে গিয়েছিল। তবে এ ঘটনাটি ঘটেছিল আশির দশকে। ওই সময় প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার কারণে মাদক নেওয়া শুরু করেছিলেন। ১৯৮০ থেকে ’৮৪ সাল—এ চারটি বছর মাদক তাঁর জীবনের সবচেয়ে সর্বনাশ করেছে বলে উল্লেখ করেন ম্যাকাফি। তিনি জানান, তাঁকে নিয়ে এখনো মানুষ ভুল ধারণা করে। তাঁর গায়ে আশির দশকে আঁকা উলকি দেখে এখনো অনেক কিছু ভেবে বসে। তিনি ১৯৮৪ সালে মাদক ছেড়ে দিয়ে চিকিত্সকের কাছেও গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন।

ম্যাকাফি বলেন, ‘সব সময় দুই ধরনের মানুষ আমরা দেখতে পাই। কেউ আমাকে প্রশংসা করে এবং কেউ নিন্দা। কারও চোখে আমি নায়ক, আবার কারও চোখে ভিলেন।’

গণধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হত্যা করা হয় রুবীকে

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামের রুবী আক্তার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার রুবীর খালু সাভারের কলমা এলাকার এজাবুল হক ওরফে সাগর (৪২) গত শনিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে বলা হয়, গণধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধে রুবীকে (২২) হত্যা করা হয়।
মামলায় গ্রেপ্তার অন্য ব্যক্তিরা হলেন এজাবুলের প্রতিবেশী সাইফুল ইসলাম, ফরিদুজ্জামান, ইকবাল হোসেন ও রুবেল মিয়া।
রুবী কালিয়াকৈরের নলুয়া গ্রামের আলী আহাম্মদের মেয়ে। বছর দুয়েক আগে একই উপজেলার ভাতারিয়া গ্রামের স্কুলশিক্ষক মনসুর আলীর ছেলে ইউসুফ আলীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। এক বছর পর তাঁদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। গত মঙ্গলবার রাতে সাভারের দুগ্ধ খামার এলাকা থেকে পুলিশ রুবীর লাশ উদ্ধার করে।
সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রিপন বালা বলেন, ঘটনার সঙ্গে এজাবুলের জড়িত থাকার তথ্য পেয়ে শুক্রবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শনিবার অন্য চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এজাবুলের জবানবন্দির বরাত দিয়ে এসআই রিপন বালা বলেন, ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর ইউসুফের সঙ্গে পুনরায় ঘর বেঁধে দেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে রুবীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন এজাবুল। জানতে পেরে সাইফুল, ফরিদুজ্জামান, ইকবাল ও রুবেল বিষয়টি ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে রুবীকে তাঁদের কাছে এনে দেওয়ার জন্য এজাবুলকে চাপ দিতে থাকেন। ভয়ে এজাবুল তাঁদের কাছে রুবীকে এনে দিতে রাজি হন।
এসআই রিপন আরও বলেন, এজাবুলের কথামতে রুবী ১৩ জানুয়ারি বাড়ি থেকে বের হয়ে আশুলিয়ার নবীনগরে চলে আসেন। সন্ধ্যার পরে এজাবুলের সঙ্গে নবীনগর এলাকায় তাঁর দেখা হয়। এরপর রুবীর সম্মতিতে রাত সাড়ে নয়টার দিকে এজাবুল তাঁকে দুগ্ধ খামার এলাকার নির্জন স্থানে নিয়ে যান। একপর্যায়ে সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা সাইফুল, ফরিদুজ্জামান, ইকবাল ও রুবেল তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় রুবী চিৎকার দিলে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর তাঁর লাশ ফেলে চলে যান তাঁরা। ঘটনার সঙ্গে মনসুর ও তাঁর ছেলে ইউসুফ (রুবীর তালাকপ্রাপ্ত স্বামী) জড়িত নন বলেও জানান তাঁরা। মনসুর ও ইউসুফ এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে আছেন।
সাইফুল, ফরিদুজ্জামান, ইকবাল ও রুবেলকে রুবী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে গতকাল রোববার আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে শনিবার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করার পর এজাবুলকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতেও এজাবুল ও তাঁর অপর চার সহযোগী ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

আপনার যেসব আচরনে সঙ্গী জড়াতে পারে পরকীয়ায়!

62325_638123366249444_233631558_n

কিছুদিন ধরেই মনে হচ্ছে আপনার সঙ্গীটি সম্পর্ক থেকে কেমন যেন দূরে সরে গিয়েছে। মাঝে মাঝে ফোনে কার সাথে যেন কথা বলে, আবার ডায়াল লিস্ট থেকে নামটাও মুছে দেয়। আপনার প্রতি আগের সেই টান নেই তার। খুব বেশি বাইরে বাইরে থাকছে, প্রায়ই হয়তো বাইরে থেকে খেয়ে আসছে। তবে কি তার সাথে অন্য কেউ ছিলো? সে কি পরকীয়া করছে? কিন্তু কেন?

অনেক সময় আপনার সঙ্গীর পরকীয়ার জন্য দায়ী হতে পারেন আপনি নিজেই। না জেনেই নিজের সম্পর্কের সর্বনাশ ডেকে আনে অনেকে। নিজের কিছু স্বভাবের কারণে ধীরে ধীরে সঙ্গীর থেকে মন উঠে যায়। ফলে ভালোবাসার মানুষটি জড়িয়ে পড়ে অনৈতিক সম্পর্কে। আসুন জেনে নেয়া যাক ৫টি স্বভাব সম্পর্কে যেগুলো আপনার সঙ্গীকে ঠেলে দিতে পারে পরকীয়ার দিকে।

শারিরীক মিলনে অনীহা

বৈবাহিক সম্পর্কের সুখ শান্তি অনেকাংশেই নির্ভর করে যৌন জীবনের সুখ শান্তির ওপরে। স্বামী/স্ত্রীর শারীরিক মিলনে আগ্রহ কম থাকলে কিংবা আগ্রহ হারিয়ে ফেললে সঙ্গী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে অনেক সময়। এছাড়াও শারীরিক মিলনে অক্ষমতার কারনেও অনেক সময় সঙ্গী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে।

সঙ্গীর প্রতি ভালোবাসা না দেখানো

অনেকেই ভাবেন বিয়ে করলে আবার ভালোবাসা দেখানোর কি আছে? ভালোবাসা দেখায় তো প্রেমিক প্রেমিকারা। কিন্তু যারা মনে এ ধারণা পোষণ করেন তাদের সঙ্গীর পরকীয়ায় জড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। কারণ বিয়ের পরেও সারাজীবনই সঙ্গীর প্রতি ভালোবাসা দেখানো উচিত। প্রতিদিনই মুখে বলা উচিত আপনার সঙ্গীকে আপনি কতটুকু ভালোবাসেন। এছাড়াও ছোট খাটো উপহার দিয়ে মাঝে মাঝে ভালোবাসা প্রকাশ করুন। এতে সম্পর্কের উষ্ণতা বজায় থাকবে।

সঙ্গীর কাছে নিজেকে আকর্ষনীয় দেখনোর চেষ্টা না করা

প্রেম করার সময় কিংবা বিয়ের পর প্রথম প্রথম সঙ্গীর কাছে নিজেকে আকর্ষনীয় দেখানোর চেষ্টা তো সবাই করে। কিন্তু ধীরে ধীরে এই আগ্রহ অনেকটাই কমে যায় অনেকের। সময়ের সাথে সাথে সঙ্গীর সামনে নিজেকে গুছিয়ে রাখার চেষ্টা একেবারেই কমিয়ে দেয় কেউ কেউ। ফলে সঙ্গীর প্রতি কোনো আকর্ষনবোধ থাকে না এবং অনেকে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে নতুন আকর্ষনের খোজে।

তাই সঙ্গীর কাছে নিজেকে চিরকালই সুন্দর ও আকর্ষণীয় রাখার চেষ্টা করুন। নিজের ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন এবং ত্বকের যত্ন নিন সবসময়। এছাড়াও সুন্দর পোশাক পরুন এবং সুগন্ধি ব্যবহার করুন সবসময়।

নতুনত্ব না থাকা

প্রতিদিন একই রুটিনে ঘুম থেকে ওঠা, খাওয়া, কর্মস্থলে যাওয়া এবং আবার ঘুমিয়ে পড়ার কারণে অনেকের কাছেই জীবনকে একঘেয়ে মনে হয়। জীবনের এক ঘেয়েমীর কারণে অনেক সময় সঙ্গী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে নতুনত্বের স্বাদ খোঁজার জন্য। বিবাহিত জীবনটা যাতে একঘেয়ে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। দুজন মিলে গল্প করুন, বেড়াতে যান, নতুন কিছু শিখুন কিংবা বন্ধুদের দিয়ে আড্ডা দিন নিয়মিত। কোনো ভাবেই নিজেদের জীবনটাতে ‘একঘেয়েমি’ প্রবেশ করতে দিবেন না।

অতিরিক্ত সন্দেহ করা

অনেকেই নিজের সঙ্গীকে অতিরিক্ত সন্দেহ করে। সম্পর্কের শুরু থেকেই অতিরিক্ত সন্দেহ করে সঙ্গীর মনটা বিষিয়ে তোলে অনেকেই। এই অভ্যাস থাকলে তা ত্যাগ করার চেষ্টা করা জরুরী। কারণ এক্ষেত্রে অনেক সময় জেদের বশে নিজেকে পরকীয়ায় জড়িয়ে ফেলে সঙ্গী।

প্রকাশিত  নারী

মাসিক নিয়মিতকরণ বা এম.আর (Menstrual Regulation)

“মাসিক নিয়মিতকরণ বা এম. আর.”

বর্তমানে প্রজনন স্বাস্থ্য সেবার অতি পরিচিত একটি শব্দ এম. আর (Menstrual Regulation) বা মাসিক নিয়মিতকরণ। এটি একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে জরায়ুর অভ্যন্তরীন পরিবেশ বিঘ্নিত হয়, ফলে জরায়ুতে ভ্রুন স্থাপিত হতে পারে না বা হতে দেয়া হয় না।

এম. আর কেন করা হয়?

অরক্ষিত যৌন মিলনের পর অনিয়মিত মাসিক এবং কনসেপ্ট হওয়ার প্রথম অবস্থার (যখন রক্ত কণিকাগুলো জমাট বাধতে শুরু করে) সমস্যা সমাধান হল এম. আর এর মূল উদ্দেশ্য। এম. আর করে নিলে পরে এ্যাবরশনের ঝুঁকি থাকেনা।

এছাড়াও অনিয়মিত রক্তস্রাব/মাসিকের জন্য এম. আর একটি চিকিৎসা পদ্ধতি যা অন্য কোন শারীরিক অসুস্থতার জন্যও করা হয়।

শল্য চিকিৎসায় এম. আরঃ

শল্য চিকিৎসায় এম. আর একটি সহজ ও নিরাপদ পদ্ধতি। একটি নমনীয় প্লাস্টিকের নল এবং সিরিঞ্জের সাহায্যে এম. আর সম্পাদন করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত: রোগীকে অজ্ঞান করার প্রয়োজন হয় না।

এম. আর করার উপযুক্ত সময়ঃ

নির্ধারিত মাসিক হওয়ার সময়ের ১৪ দিনের মধ্যে যে কোন সময় এম. আর করা যেতে পারে। সবচেয়ে ভালো সময় হচ্ছে শেষ মাসিক হওয়ার প্রথম দিন থেকে হিসাব করে ৩৫ দিনের পরে এবং ৪৫ দিনের পূর্বে। সবচেয়ে নিরাপদ সময় হচ্ছে ৪২তম থেকে ৪৯তম দিনের মধ্যে।

এম. আর করার পূর্বে প্রয়োজনীয় তথ্য

সাবধানতার সাথে রোগীর ইতিহাস জানা, বিশেষ করে মাসিকের নিয়মানুবর্তিতা সম্পর্কে, যৌন সম্পর্কের বিষয়ে, সহবাসের সময় সম্পর্কে, গর্ভধারণে ব্যর্থতার সম্ভাবনা, কোন কারণে দুঃশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ যা অনেক সময় মাসিক না হওয়ার কারণ হতে পারে অথবা যদি গর্ভধারণ করে থাকেন তবে সন্তান গ্রহণ না করার কারণ সমূহ ইত্যাদি। এম. আর সম্পাদনের পূর্বে নারীকে এম. আর এর ঝুঁকি ও জটিলতা সম্পর্কে অবহিত করা জরুরী। প্রয়োজনে গর্ভধারণ না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য আরেকবার নারীকে (Pregnancy Test) পরীক্ষা করা উচিত

কারা এম.আর সম্পাদন করতে পারেন?

স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ / গাইনী ডাক্তার

চিকিৎসক

নার্স এবং 

প্যারামেডিক নিরাপদ এবং কার্যকর এম. আর সম্পাদন করতে পারেন

এম.আর বা মাসিক নিয়মিতকরণ সেবা কেন্দ্রসমূহ

জেলা হাসপাতাল

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সমা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র

ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র

মেরীস্টোপ্স

সূর্যর হাসি চিহ্নিত ক্লিনিক

সাধারণ কিছু প্রশ্নোত্তরঃ

আমার স্ত্রীর বয়স ১৮। ওজন ৩৬ কেজী। আমরা সেক্স করার সময় কোন প্রটেকশন নেইনা। বিয়ে হযেছে প্রায় ৪ মাস। সপ্তাহে ২ থেকে ৪ বার সেক্স করি। ওর মাসিক হয় মাসের ১ থেকে ৫ তরিখের মধ্যে। কিন্তু আজ ১১ তারিখ এখনও তার মাসিক হচ্ছেনা এবং তল পেটে কোন ব্যথাও নেই। এখন আমরা কি করতে পারি?

প্রোটেকশন ব্যবহার না করলে প্রেগন্যান্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আপাতত প্রেগন্যান্সি টেস্ট করিয়ে নিন।আবার অনেক সময় অন্য কারণেও মাসিক কয়েকদিন এদিক-ওদিক হতে পারে। দুশ্চিন্তা করতে নিষেধ করবেন। খাওয়া-দাওয়া আর ঘুমের প্রতি খেয়াল রাখবেন।

আমার স্ত্রীর গর্ভবতী হয়েছিল। গত ১৫.৬.২০১২ তে ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে তা সেরে ফেলি। কিন্তু েএখনও তার যোনী দিয়ে রক্ত বেরুচ্ছে এবং তল পেটে ব্যথা হচ্ছে। দিন দিন সে দুর্বলও হয়ে যাচ্ছে। এখন কি করা যেতে পরে?

পূর্ণ বিশ্রামে রাখুন। নড়াচড়া যেন কম করে। অল্প অল্প করে ঘনঘন খাওয়াবেন। ডাক্তারের সাথে কথা বলে ব্যথানাশক ঔষধের ব্যবস্থা করতে পারেন। এছাড়া আয়রণ ট্যাবলেট খাওয়াতে পারেন।আয়রন, ভিটামিন বি১২ এবং ফলিক এসিড সম্বৃদ্ধ খাবার খাওয়াবেন। দুধ, দই, ডিম, মাছ, মাংশ, শাকসবজি, ফলমূল বেশি খাওয়াবেন।

আমার বয়স ২৭, ৬-৭ মাস থেকে বাচ্চা নেবার জন্য চেষ্টা করছি কিন্তু কোনো ফল না পাওয়ায় ডাক্তার দেখিয়ে ডাক্তার আমাকে (Giane-35, BoniD, Defaz, obid 500) ৩ মাস খেতে দিয়েছে, আমার প্রশ্ন হচ্ছে Giane-35 কি ধরনের ট্যাবলেট, এটা খেতে খেতে কি প্রেগনেন্ট হবার সম্ভাবনা আছে? এটা এক পাতা খাবার ৮ দিন পরে মাসিক হয়, কিন্তু যদি না হয়? আর মাসিক শুরু হবার ৫ দিন থেকে এটা খেতে শুরু করা লাগে যদি কোনো কারনবশত কয়েকদিন পর থেকে খাই তাইলে কি সমস্যা? আর এটা খেতে খেতে প্রেগনেন্ট হলে বাচ্চার কোনো সমস্যা হবে কি???

ঔষধগুলোতে আপনার মাসিক নিয়মিত হবে। এতে ডিম্বানুর হার বৃদ্ধি পাবে। তখন প্রেগন্যান্ট হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে। একটু কষ্ট হলেও ঔষধ নিয়ম মতো খাওয়ার চেষ্টা করবেন। মাসিক হোক বা না হোক, সেসব নিয়ে এখন চিন্তা করবেন না। বাচ্চার সমস্যা হবে না।

আমার বয়স সতের বছর। আমার মাসিক সবসময় অনিয়মীত। সবসময় মেয়াদ উত্তীর্ন হওয়ার অনেক দিন পর আমার মাসিক শুরু হয়। আমি অবিবাহিত। কি করতে পারি আমি এক্ষেত্রে?

বয়স অল্প বলে এখনো হয়তো হরমোন সুবিন্যস্ত হতে পারেনি। আর এই বয়সে এমন হতেই পারে। আপাতত চিন্তার কিছু দেখি না।

আমার বয়স ২৩, ২ বছর হল বিবাহ করেছি। আমার মাসিক নিয়মিত। কিন্তু মাসিকের সময় প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব কর। অসহ্য ব্যাথা। আমি এখন কি করতে পরি?

বিয়ের পরে মেয়েরা অনেকটাই টেনশন মুক্ত হয়ে যান বলে মাসিক তখন প্রায় নিয়মিত হয়ে যায়। সেই সাথে নিয়মিত সেক্স করলে পেলভিস পেশীর উপর চাপ পড়ে এবং সেটা ধীরে ধীরে সুগঠিত হয়। তাতে মাসিকের সময়ের ব্যথা চলে যাওয়ার কথা। চেষ্টা করবেন দীর্ঘক্ষণ ধরে মিলিত হতে। সেক্স ব্যাপারটা মনভরে উপভোগ করার চেষ্টা করবেন।বাড়তি হিসাবে কেজেল ব্যায়াম করতে পারেন। নিয়মিত হাঁটাচলা, দৌড়াদৌড়ি করলেও অনেক উপকার পাবেন।

মেয়েরা কি মাসিক চলাকালে সেক্স করতে পারে? যদি সমস্যা হয়ে থাকে, তাহলে কি করতে পারি?

মাসিক চলাকালে সেক্স করতে কোনো বাঁধা বা সমস্যা নেই। এটা দুজনের ইচ্ছা-অনিচ্ছার উপর নির্ভর করে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই সময়টাতে মেয়েদের যোনি অনেক ফুলে ফাঁপা হয়ে থাকে এবং ভিতরে রক্ত প্রবাহের কারণে সেক্স কালে তীব্র অনুভূতি হয়। সেক্সের সময় লিঙ্গের ঘর্ষণে ভিতরে জমে থাকা রক্ত সহজে বেরিয়ে এসে মাসিক হওয়ার সময়টা অনেক কমিয়ে দেয়। তবে অনেকে ধর্মীয় মতের কথা ভেবে সেক্স করতে চান না।এ সময় সেক্স করলে শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং প্রোটেকশন ব্যবহারের ব্যাপারে বাড়তি নজর দিতে হয়, কেননা রক্ত প্রবাহের কোনো জীবানু মিশে যোনি অভ্যন্তরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এম. আর করার কতদিন পর মাসিক হয়?

পরের দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে হওয়ার কথা। না হলে ডাক্তারের সাথে ফলোআপ করে নিশ্চিত হতে হয়।

মাসিক হওয়ার পর কতদিন পরযন্ত সেক্স করলে বাচ্চা হয়না?

আসলে নির্দিষ্ট কোনও সময় নেই। যে কোন সময়, এমনকি মাসিক চলাকালেও কোনও জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ছাড়া মিলিত হলে বাচ্চা এসে যেতে পারে। ১৩ থেকে ১৭তম দিন পর্যন্ত এই ঝুঁকিটা অনেক বেশী থাকে।

আমার মাসিক শুরু থেকেই অনিয়মিত, ৬ মাস পর পর হয়। একবার শুরু হলে আর বন্ধ হতে চায়না, ঔষধ খেয়ে বন্ধ করতে হয়। বিয়ে করার ৬ বছর হল কিন্তু কোন সন্তান হয়নি। ডাক্তার বলেছে আমার থাইরয়েডের সমস্যা হয়েছে। ডাক্তার Metformin থেকে দিয়েছে। এখন মাসিক নিয়মিত হচ্ছে কিন্তু বাচ্চা আসছেনা। এম. আর করলে কি মাসিক নিয়মিত হবে এবং বাচ্চা নিতে পারব?

এম. আরের ব্যাপারের আপনার ডাক্তারের সাথে আলাপ করে দেখতে পারেন। মাসিক নিয়মিত হতে শুরু করলে শরীরের অনেক সমস্যা কমে আসবে ধীরে ধীরে। সেই সাথে লাইফস্টাইল উন্নত করবেন। পুষ্টিকর খাবার খাবেন, পর্যাপ্ত ঘুমাবে, এবং পারলে নিয়মিত ব্যায়াম করবেন। মাসিক শুরু হওয়ার ১৩ থেকে ১৭ তম দিন পর্যন্ত প্রেগন্যান্ট হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। নিয়মিত মিলিত হবার পাশাপাশি এই সময়টাতে অবশ্যই আলাদা গুরুত্ব দেবেন। এরপরও বাচ্চা না হলে বাচ্চা না হওয়ার অন্যান্য পরীক্ষাগুলো করিয়ে নিশ্চিত হয়ে নেবেন। তবে এসব পরীক্ষা দুজনেই করাবেন। সমস্যাটা যে কারোর বা দুজনেরই হতে পারে।

আমার হাইপোথাইরয়েডিজম আছে। আমি রোজ একটা করে থাইরয়েড ঔষধ খাই, খালি পেটে। শুনেছি, থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে নাকি বাচ্চা হয়না, এটাকি সত্য?

হ্যাঁ, অনেকাংশে সত্য। ডাক্তারের পরামর্শ মেনে ঔষধ খেতে থাকেন। তাহলে ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে আসবে।তবে অবশ্যই দুশ্চিন্তামুক্ত থাকার চেষ্টা করবেন।

ডাক্তার বলেছে আমার হাইপোথাইরয়েডিজম নর্মাল পজিশনে আছে। এখন কি আমি মা হতে পারব? হাইপোথাইরয়েডিজন থাকলে কি ওজন বেড়ে যায়? আমি ৫ ফুট ১ িইঞ্চি লম্বা এবং ওজন ৫৪ কেজি। আমার ওজন কি ঠিক আছে?

হ্যাঁ, এটা হলে ওজন বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া বাচ্চা হতে সমস্যা, জয়েন্টে ব্যথা, হৃদরোগসহ অনেক সমস্যা হতে পারে। তবে এর পরিপূর্ণ চিকিৎসা আছে। তাই ভয় পাবার কিছু নাই। প্রথম পর্যায়ে ধরা পড়লে, সঠিক চিকিৎসা করলে পরে আর সমস্যা হয় না। ডাক্তার যদি পরীক্ষা করে বলেন যে এটা নর্মাল, তাহলে এদিক থেকে বাচ্চা নিতে কোনও সমস্যা হবে না। উচ্চতা অনুসারে আপনার ওজন ঠিক আছে।

আমার মাসিক নিয়মিতই ছিল। কিন্তু গত ২ বছর যাবৎ অনিয়মিত হয়ে গেছে। দুইআড়াই মাস পর পর হয় যদি আয়রন ট্যাবলেট খাই। গত এক মাস আগে আমার বিয়ে হয়েছে। এখন আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও মাসিক হচ্ছে না। প্রেগনেন্সি টেস্ট করিয়েছি নেগেটিভএসেছে। আয়রন ট্যাবলেট খাচ্ছি তবুও মাসিক হচ্ছে না।আমি এখন কি করতে পারি। আমার উচ্চতা ৫ফুট, ওজন ৫৫ কেজি।

খুব সম্ভবত বিবাহ পূর্ব দুশ্চিন্তা এবং সেটা এখনো চলছে মনে হচ্ছে। আর দুশ্চিন্তা হলেই খাওয়া-দাওয়া এলোমেলো হয়ে যায়। তখন নানা সমস্যা হয়। এরকম কিছু হলে দুশ্চিন্তা পরিহার করে রিলাক্সে থাকুন। খাওয়া-দাওয়া এবং ঘুমের প্রতি নজর দিন। বিবাহ উত্তর কোন সমস্যা হলে সেটা স্বামীর সাথে খোলাখুলি আলোচনা করুন, শারীরিক সমস্যা হলে অবশ্যই ডাক্তার দেখাবেন। মোট কথা, আপনাকে দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকতে হবে। এতেও সমাধান না পেলে ডাক্তার দেখিয়ে নেবেন।

বর্তমানে আমার বিলম্বিত মাসিক হচ্ছে। প্রটেকশন ছাড়াই একবার সেক্স করে ফেলেছিলাম। আমি এখনই বাচ্চা নিতে চাইছিনা। কি করতে পারি এখন?

কয়েকদিন এদিক-ওদিক হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। আরো কিছুদিন দেখতে হবে। তারপর টেস্ট করাবেন। বাচ্চা এসে গেলে নিজের শরীর স্বাস্থ্য এবং ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে ঠিক করবেন কি করলে ভালো হয়।

আমার মাসিক প্রতি মাসে ৫ দিন আগে হয়। আমি বিবাহিত। আমার স্বামী বিদেশে থাকে। সম্প্রতি সে দেশে এসেছে এবং আমরা প্রায় প্রতিদিন মিলিত হচ্ছি কিন্তু পেটে বাচ্ছা আসছেনা। এখন আমি কি করব?

মাসিকের সার্কেলটা মূলত ২৮ দিনের। সুতরাং ডেট চেঞ্জ হওয়াটাই স্বাভাবিক। কারো একটু আগে বা পরে হওয়াটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়।আপনার মাসিক শুরু হওয়ার ১৩ থেকে ১৭ তম দিনের মধ্যে নিয়মিত মিলিত হবেন। এই সময়টাকে গর্ভধারণের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। আর বীর্যটা আপনি ধারণ করবেন নিচে চিত হয়ে শুয়ে, স্বামীকে উপরে রেখে। স্বামীর বীর্যপাতের পর পরই লিঙ্গ বের করতে দেবেন না। ওই ভাবেই কিছুক্ষণ শুয়ে থাকবেন যাতে বীর্য বের হয়ে না যায়।খুব চিন্তিত হলে দুজনেই ডাক্তার দেখিয়ে পরীক্ষা করে নেবেন কোন সমস্যা আছে কিনা।

আমার মাসিক নিয়মিত হয়না। আমার যোনীর মুখে এ্যলার্জি জাতীয় কিছু আছে যা চুলকায়। আমার স্বামী বিদেশে থাকে। দুই বছর পর পর সে দেশে ফিরে। চেষ্ঠা করেও কোন সন্তান নিতে পারিনি আমরা। ডাক্তার পরীক্ষা করে বলেছে আমাদের দুই জনেরই কোন সমস্যা নেই। এখন আমি কি করব? এ্যালার্জি থাকা অবস্থায় সহবাস করলে কি কোন সমস্যা হবে?

আপনার দুইটা সমস্যার মধ্যেই খুব সম্ভবত কোন যোগ সূত্র আছে। অর্থাৎ একটা ঠিক হলেই আর সবও ঠিক হয়ে যাবে। তবে এগুলো ভালো ডাক্তার দেখিয়ে পরীক্ষা করে নেয়া উচিত। এবং সেই ভাবেই চিকিৎসা নেয়া উচিত। আপনার উচিত হবে অন্য কোন ডাক্তার দেখিয়ে পরীক্ষা করানোর। চুলকানিটা নিশ্চয়ই কোন কারণে হচ্ছে। এবং সেই একই কারণে মাসিক অনিয়মিত হতে পারে। এছাড়াও নিয়মিত একটু ব্যায়াম করতে পারলে মনে হয় ভালো হত।
না। সহবাস করতে কোন সমস্যা নাই। তবে কনডম ব্যবহার করাই ভালো।

আমার বয়স ১৫ বছর, আমার গত ৩মাস যাবত মাসিক হচ্ছে না। আমি ছাত্রী, খুব টেনশন করছি। আমি যাকে ভালবাসি তার সাথে মিলন হয়েছে ক্তিু কনডম ব্যবহার করতাম। আমি টেনশন করছি কোন ভুল হল কি না? এখন বাসায় মাসিক হচ্ছে না কাউকে বলতে পারছি না ভয়ে। তারা কি মনে করবে তাই। ডাক্তার দেখাতেো ভয় পাই। এমতবস্থায় কি করতে পারি‍ বললে উপকৃত হব। ডাক্তারের কাছে যাওয়া ছাড়া কি করতে পারি বাড়িতে।

দেখা দরকার, আপনি কবে মিলিত হয়েছিলেন। কতদিন আগে, এবং তারপর কয়বার মাসিক মিস হয়েছে।কনডম ব্যবহার করলে সমস্যা হওয়ার কথা না, যদিও কোন জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিই ১০০% নিশ্চয়তা দেয় না। তবে আপনার এই বয়সে মাসিক অনিয়মিত হওয়া অনেক স্বাভাবিক ঘটনা। সেই সাথে যদি দুশ্চিন্তা করেন, তাহলে এটাও মাসিক অনিয়মিত করে দিতে পারে।বাজারে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার এক ধরনের স্টিক পাওয়া যাওয়া। তার উপর প্রসাব ফেলে স্টিকের রঙ পরিবর্তন হওয়া দেখে মোটামুটি নিশ্চিত হতে পারবেন। বিস্তারিত ব্যবহারবিধি প্যাকেটের গায়ে পাবেন, বা বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করলে বলে দেবে। আপাতত এটা করতে পারেন।তাছাড়া বাচ্চা চলে আসলে নিজের শারীরিক অবস্থাও কিছু পরিবর্তন হওয়ার কথা। মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাব- এরকম কিছু না হলে মনে হয় না চিন্তার কিছু আছে।

আমারবয়স ১৮, আমার প্রতি মাসে মাসিক এর তারিখ থেকে ৫ দিন আগে মাসিক হয়। আমি এক জনকে ভালবাসি, তার সাথে আমার বিয়ে ও হয়েছে, কিন্তু তা আমাদের বাড়িতে জানেনা, তার সাথে আমার প্রতি মাসে সেক্স হয়। ২, ১ বার, সব সময় সে আমার সাথে সেক্স এর সময় কনডম ব্যবহার করতো। কিন্তু এবার মাসিকের ২৩ তম দিনে ওর সাথে আমার সেক্স হয়, তখন সে কনডম ব্যবহার করেনি! আমার গত মাসে মাসিকের তারিখ ছিল ১৫ ফেব্রুয়ারী সে হিসেবে এবার হয়ার কথা ১০ মার্চ, কিন্তু এখনো হয় নি। ওকে বলাতে আমাকে আজ ১৫ তারিখে ৫ টা আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ায তাতেও মনে হয় কনো কাজ হলনা। এখন যদি টেস্ট করি, আর টেস্ট এর রেজাল্ট পজিটিভ হলে কি করব? (আমার এখন বাচ্চা নেয়া অসম্ভব) রেজাল্ট আসলেই বা কি করব? এমতঅবস্থায় মাসিক নিয়মিত কি ভাবে করব?

নেগেটিভ এলে কিছুই করার দরকার নেই। তবে বাচ্চা নিতে না চাইলে সবসময় প্রোটেকশন ব্যবহার করা উচিত।বাচ্চা এসে গেছে মনে করলে আগে কোন ডাক্তারের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করে নেবেন। তারপর ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করবেন কি করলে ভালো হয়। ডাক্তার আপনাকে পরীক্ষা করে সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন। মাসিক এমন একটু আগে পরে হওয়াটা একেবারে অস্বাভাবিক কিছু নয়।কনডম ছাড়া সেক্স করলেই যে বাচ্চা আসবে, এমন কোন কথা নেই। দেখতে হবে, বীর্যপাত কোথায় করা হয়েছে।এখনই টেষ্ট করলে সঠিক ফলাফল পাবেন না। অন্তত ২ সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে। বাচ্চা এসে গেলে বাচ্চা না হওয়া পর্যন্ত আর মাসিক না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। বাচ্চা না নিতে চাইলে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে পরামর্শ নেবেন।

আমার বয়স ২২ বছর। আমার প্রেমিকার বয়স ২০, উচ্চতা ৫’৩”, ওজন ৩৫ কেজি। আমাদের সম্পর্ক ৩ বছরের। আমরা সেক্স করিনি, ঠিক করেছি বিয়ের আগে সেক্স করবনা। ওর সমস্যা হল মাসিক অনিয়মিত। আগে হয় অথবা পরে হয়। মাসিকের সময় পেটে খুব ব্যথা হয়। এটা কি কোন সমস্যা? মাসিকের পর সাদা স্রাব যায়। এর থেকে রেহাই পেতে কি করা দরকার?

ব্যাথা কমাতে গরম ছ্যাক নিতে হবে। কোন বোতলে গরম পানি ভরে বা কাপড় গরম করে তলপেটে ২০/২৫ মিনিট ছ্যাক লাগাতে বলবেন। এটা সপ্তাহে টানা ৩/৪ দিন করে করতে বলবেন। এতে ধীরে ধীরে মাসিকের সময় ব্যাথা কমে যাবে। এছাড়া আরেকটা পদ্ধতি আছে- সিজ বাথ। ৩ মিনিট গরম পানিতে কোমর ডুবিয়ে বসে থাকতে হবে। পরের ২/১ মিনিট ঠাণ্ডা পানিতে। এভাবে ২০/২৫ মিনিট সিজ বাথ নিতে হবে। এটাও সপ্তাহে টানা ৩/৪দিন নিতে হবে। শুধু পানি বা পানিতে কিছু লবন, বেকিং সোডা বা ভিনেগারও ব্যবহার করা যায়। আরেকটা পদ্ধতি আছে- কেজেল ব্যায়াম। এটাও খুব উপকারী। এগুলো করলে যোনি মধ্যে রক্ত চলাচল প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত না হয়ে আবার ঠিকঠাক হয়ে যাবে, ব্যাথাও কমে যাবে। আমাদের দেশের অনেক মেয়েদেরই শারীরিক ফিটনেস ভালো নয় বলে এরকম সমস্যা বেশি হয়। একে একে এই পদ্ধতিগুলোর কথা সবাইকে বলে দিন। একজন আরেকজনকে বলে দিন। মাসিকের সময় হিসাব রাখবেন মাসিক শুরুর দিন থেকে। সাদা স্রাবের নানা কারণ থাকতে পারে। ভালো হয় যদি ডাক্তার দেখিয়ে সঠিক কারণটা নির্ণয় করা যায়।

এম. আর কত বার করা যায়?

বয়স ত্রিশের দিকে হলে বছরে ২ বার, বিশের দিকে হলে বছরে ৩ বার করা যেতে পারে

আমার স্ত্রীর বয়স ২৬ বছর। আমাদের ৭ মাসের একটি ছেলে আছে। এমতবস্থায় আমার স্ত্রীর মাসিক বিলম্বিত হচ্ছে। প্রেগন্যান্সি টেস্ট রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছে। বাচ্চা হওয়ার পরে মাসিক বিলম্বিত হলে কি করা উচিৎ?

খুব সম্ভবত ব্রেস্টফিডিং-এর জন্য হচ্ছে। যত বেশি ব্রেস্টফিডিং, তত বেশি অনিয়মিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া হয়তো এখনো হরমোনগুলো সাম্যাবস্থায় আসেনি।এ নিয়ে দুশ্চিন্তা না করাই ভালো। কেননা দুশ্চিন্তাও মাসিককে আরো অনিয়মিত করে দেয়।খাওয়া-দাওয়ার আর ঘুমের উপর নজর রাখতে বলুন।

শেষ মাসিকের কতদিন পর টেস্ট করলে ফলাফল পাওয়া যায়?

শেষ মাসিকের ৪৫ দিন পর অর্থাৎ মাসিক মিস হওয়ার সপ্তাহ দুয়েক পর টেস্ট করলে ফলাফল পাবেন। এর পর ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হতে পারবেন। তারপর বাকিটা ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করবেন।

আমার বয়স ২৮। বিয়ে হয়েছে প্রায় ১.৫ মাস হল। আমার স্বামী সপ্তাহে ৩ দিন থাকে আমার সাথে। আমরা বাচ্চা নিতে চাইছি কিন্তু কনসেপ্ট হচ্ছেনা। বিয়ের পর থেকে কখনো প্রেটেকশন নিয়ে সেক্স করিনি। আমি জানতে চাইছি আমার সবকিচু নরমাল আছে কিনা। এখন আমার কি ধরনের পরীক্ষা করানো উচিৎ? এক্ষত্রে ইন্টারকোর্স করার সময় কি পুরোপুরি স্যাটিসফাই হওয়া প্রয়োজন? মিলন কিভাবে করা উচিৎ?

আমাদের মনে হয় আপনারা এখনো যথেষ্ঠ সময় দেন নাই। এখনি জরুরী ডাক্তারী পরীক্ষা করার কিছু হয়নি। আপাতত কয়েক মাসে মাসিক শুরু হওয়ার পর ১৩ থেকে ১৭তম দিন পর্যন্ত মিলিত হন বেশি করে। বীর্যপাতের সময় খেয়াল রাখবেন যাতে বীর্য আপনার যোনি মধ্যে থাকে। এসময়টাতে চিৎ হয়ে থাকবেন কিছুক্ষণ। আগে কয়েকবার চেষ্টা করে দেখুন, তারপর না হলে ডাক্তার দেখিয়ে দুজনেই পরীক্ষা করে নেবেন কোন শারীরিক সমস্যা আছে কিনা। ডাক্তার আপনাকে দেখে তবেই বলতে পারবেন কি ধরনের পরীক্ষা করানোর দরকার আছে বা আপনি বাচ্চা নেয়ার জন্য শারীরিক ভাবে ফিট আছেন কিনা। শুধু বাচ্চা নেয়ার জন্য মিলিত হলে যে দুজনেরই পরিপূর্ণ তৃপ্তি পেতে হবে, এমন কোন কথা নেই। তবে এমনিতে মিলিত হলে তৃপ্তির দরকার আছে। সম্পর্ক অবশ্যই বন্ধুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। সেই সাথে দুজনের প্রতি দুজনের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, বিশ্বাস- এগুলোও দরকার।

আমি একজন ছাত্রী। অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি। আমার প্রতি মাসে নিয়মিত ২ বার মাসিক হচেছ প্রায় ১২ দিন পর পর। কিন্তু স্বাভাবিক ভাবে তো মাসে ১বার হওয়ার কথা। প্রায় দেড় বৎসর যাবৎ এই সমস্যায় ভোগছি। আমি কোন ডাক্তার দেখাইনি দেখাতে ভয়/লজ্জা পাই। এটাকি বড় ধরণের কোন সমস্যা? আমি খুব ভয় পাচ্ছি। কিভাবে এটাকে মাসে ১বারে নিয়ে আসা যায়?

আপনার মন্তব্যে যদিও বয়স জানান নাই, তবুও আমরা সন্দেহ করেছিলাম যে আপনার বয়স কম। আপনার বয়স খুব কম হলে এটা নিয়ে চিন্তা করার কিছু নাই। প্রথম দিকে এমন হয়ে থাকে। বড় হলে ঠিক হয়ে যায়। এতে ভয় বা লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। মনে রাখবেন, রোগ-শোক নিয়ে কখনোই লজ্জা পেতে নাই। এতে বরং সমস্যা আরো বাড়ে। ডাক্তার দেখান বা না দেখান, অন্তত মা বা বড় বোন- এরকম কারো কাছে এসব লুকাবেন না।

আমার বয়স ১৭। প্রায় সবসময় আমার সাদা স্রাব যায়। ২৮ দিনই এমনটি হয়। মাসিক শুরু হয় ১৪ তারিখে একং এর সর্বাধিক সময় কম হয়। আমি হোমিও এবং এ্যলোপেথি দুটোই ট্রাই করেছি কিন্তু কোন ফল হয়নি। এখন কোন ঔষধ খাইনা। কি করলে প্রতিকার পাব?

খুব সম্ভবত আপনার বয়স কম বলে এমন হচ্ছে। যদি দুর্গন্ধ বা চুলকানি না হয়ে তাহলে এসব নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে রাতে ভালো ঘুমাবেন, নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া করবেন। সর্বোপরি শরীরের যত্ন নিবেন। ধীরে ধীরে এসব ঠিক হয়ে যাবে।

আমার স্ত্রীর বয়স ২৬ বছর। আমাদের ‍‍বিয়ে হয়েছে ৩ বছর এবং ১টি ১.৫ বছরের সন্তান রয়েছে। এখন আর কোন বাচ্চা নিতে চাইছি না কিন্তু আমার স্ত্রীর মাসিক হচ্ছে না যা প্রতিমাসে ১-২ তারিখে হয়। ২ বার গভর্ধারণ টেস্ট রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছে কিন্তু এখনো মাসিক হচ্ছে না তাই খুব চিন্তা হচ্ছে এবং গাইনী ডাক্তার ‍দেখালাম উনি বলেছেন মেডিসিন (Normes) দিচ্ছি পরবর্তী ১০দিনে না হলে এবোরশান করতে হবে। কিন্তু টেস্ট রেজাল্ট আবার নেগেটিভ আসলে এবোরশান করার প্রয়োজন আছে কি? আবার আমার স্ত্রীর অনেকদিন ধরে সেক্স সমস্যা হচ্ছে এবং প্রায় সময় জ্বর অনুভব করে এছাড়া তার মধ্যে সেক্সে কোন ইচ্ছা জাগে না কিন্তু আমি যেহেতু দূরে থাকি তাই মাত্র ৭-১৫ দিনে ১-২ দিন মিলিত হই তা সেটা সে বুঝতে চাই না। মাসিক ও সেক্সের সমস্যার জন্য কি করতে পারি?

অন্য কোন শারীরিক সমস্যার জন্যও এমন হতে পারে। সবকিছু একবার চেকআপ করে নিলে ভালো হয়।সব সময় জ্বর থাকাটায় মনে হয় শারীরিক ফিটনেস ভালো নয়। খাওয়া-দাওয়া আর ঘুম ঠিক রাখতে বলেন। এসব ঠিক হয়ে গেলে সেক্সে সমস্যা হবে না।

আমি আমার প্রেমিকার সাথে কনডম ছাড়া সেক্স করেছি। কনডম ছাড়া সেক্স করলে কি বাচ্চা হওয়ার ভয় থাকে?পিরিয়ড এর কতদিন পর সেক্স করলে গর্ভবতী হওয়ার আশংখা কম থাকে? বীর্যপাত হওয়ার আগে পিচ্ছিল যে পদার্থ বের হয়,তা থেকে কি গর্ভবতী হওয়ার আশংখা থাকে?

প্রটেকশন থাকা সেক্স করলে যে কোন সময়ই বাচ্চা হওয়ার ভয় থাকে। এখানে পিরিয়ড কোন ব্যাপার না। পিরিয়ড শুরুর ১৩ থেকে ১৭ তম দিন পর্যন্ত এ সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে। অন্যদিনেও আকাঙ্ক্ষা থাকতে পারে।বাচ্চা না চাইলে সবসময় প্রটেকশন ব্যবহার করা উচিত। নইলে বীর্যপাতের আগে লিঙ্গ বের করে বাইরে বীর্যপাত করা উচিত।এই জিনিসটা যোনি পথে পিচ্ছিল করার জন্য হয়। এতে যদি শুক্রানু থাকে তাহলে সম্ভাবনা থাকবে। এতে শুক্রানু থাকার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না।

মাসিকের সময় প্যাড এর সাথে টিস্যু ব্যবহার করলে কি ক্ষতি হয়? একটি প্যাড কি একাধিকবার ব্যবহার করা যায়?

না। পরিষ্কার হলে ব্যবহার করতে পারেন। বাজারে অনেক ভাল মানের প্যাড ও ন্যাপকিন পাওয়ার যায়। সাধারণ প্যাড এর তুলনায় ওগুলো ব্যবহার করা স্বাস্থ্য সম্মত।

কত সময় পর পর প্যাড পাল্ঠাতে হয়?

প্যাড পালটানো নির্ভর করে কি পরিমান স্রাব হচ্ছে, তার উপর। ভারী হয়ে গেলে বা অস্বস্তি লাগলে পালটে ফেলানো উচিত। এখানে সমস্যার কিছু নাই।

আমার বয়স ২২ । আমার শেষ মাসিক হয় ৩ এপ্রিল। গত মাসিকের পর থেকে আমি আমার প্রেমিকের সাথে কয়েক বের সেক্স করি। কিন্তু আমার গত কয়েকদিন ধরে হঠাৎ করে অনেক মাথা ঘুরে আসছে। পেটে ও বাথা করছে। প্রতি সেক্স এর সময়ই কনডম ব্যবহার করা হয়েছে। তবুও আমার অনেক দুশ্চিন্তা হছে প্রেগন্যান্সি নিয়ে।। এখন আমি কি করব??

কনডম ব্যবহার করলে তো দুশ্চিন্তার কারণ থাকার কথা না। টেনশন করলে আপনার এই সমস্যা আরো বাড়বে। তাছাড়া এখনো আপনার পরবর্তী মাসিকের সময় পার হয়ে যায় নাই। মাথা ঘুরানো গরমের জন্য হতে পারে। পেট ব্যথা খাবারের জন্য। দুশ্চিন্তা না করে একটু রেস্টে থাকেন। ঠিক হয়ে যাবে। পরবর্তী মাসিক হলেই চিন্তার কিছু থাকবে না।

সমালোচকঃ যারা যারা প্রেমিকের সাথে সেক্স করেন , সেক্স করার সময় দুশ্চিন্তা থাকেনা মাথায় ??? করার পর কেন এতো দুশ্চিন্তা আসে। থু আপনাদের মুখে। আপনাদের গর্ভ হয়ে বাজে অপবাদ পাওয়া উচিৎ বলে মনে করি।

একটা সুস্থ্য-স্বাভাবিক মানুষের একটা স্বাভাবিক চাহিদা হলো সেক্স। এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কিছু নাই। তবে হুটহাট করে করে ফেলা ঠিক না। একটু প্লান করে ব্যাপারটা এনজয় করা উচিত। সেজন্য ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে প্রটেকশন ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ। আমাদের দুশ্চিন্তা হয় কেননা আমাদের দেশে-সমাজে বিয়ের আগে বাচ্চা এসে গেলে সেটা ভালো চোখে নেয় না। অথচ কাউকে অপবাদ দেয়ার অধিকার কিন্তু অন্যের থাকা উচিত নয়।

আমি সঙ্গম করার সময় ১ম বার কনডম ছাড়া এবং পরে বীর্জপাতের কিছু আগে কনডম ব্যবহার করেছি। তার পর ২য় বার লিঙ্গ মুছে আবার একই ভাবে সঙ্গম করেছি। ৩য় বার লিঙ্গ মুছে আবার একই ভাবে সঙ্গম করেছি । এখন ওর মাসিক হচ্ছে না । ২৮ তারিখ ওর মাসিক হওয়ার কথা ছিল। এখন কি করতে পারি?

মুছলেও অনেক সময় বীর্য থেকে যেতে পারে, আর সেখানে একটা শুক্রানুই প্রেগন্যান্টের ঘটনা ঘটিয়ে দিতে পারে। তবে অনেক সময় বিভিন্ন কারণে মাসিক কিছুটা এদিক-ওদিক হতে পারে। এক্ষেত্রেও হয়তো এমন কিছু হয়ছে। ইমার্জেন্সি জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল পাওয়া যায়, ডাক্তারের পরামর্শ মেনে সেটা ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

আয়রন ট্যাবলেট খেলে মাসিক হওয়ার সম্ববনা কতটুকু?

শরীরের আয়রনের অভাব থাকলে আয়রন ট্যাবলেট খুব ভালো জিনিস। সেটা অবশ্য আপনার ডাক্তার বলতে পারবেন। প্রেগন্যান্সি রোধে এটা ততটা কার্যকরী নয়। তার চেয়ে বাজারে ইমার্জেন্সি জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল পাওয়া যায়, ডাক্তারের পরামর্শ মেনে সেটা ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

আমার মাসিক নিয়মিত, (২৬ দিনে) ৪দিন থাকে। বয়ছ ৩৬, ১২ বছ‍র আগে বিয়ে হয়। যেদিন স্বামীর সাথে মিলিন করি সে দিন পিল খাই, এই ভাবে তারিখ ঠিক ‍রাখতে কিছু পিল বাদ দিয়ে লাল পিলগুলা খাই। লাল পিল ৩/৪ টা খাওয়া হতেই মাসিক হয়ে যায়। এইভাবে ২/৩ বছর হল। এইমাসে লাল পিল সব খাওয়া শেষ হবার ৩দিন পর (৩৫ দিনে) ২/৩ ফোটার মত ব্লাড দেখলাম, তারপর আর ব্লাড আসেনাই, আজ ৭ম দিন অবস্থা অপরিবর্তিত, এখন কি করতে পারি?

পিল খেলে নিয়মিত ভাবেই খাওয়া উচিত। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এভাবে বাদ দেয়া ঠিক নয়।মাঝে মাঝে নানা কারণে মাসিক আগে বা পরে হতে পারে। দুশ্চিন্তা এটাকে আরো বেশি অনিয়মিত করে দেয়। খাওয়া-দাওয়া আর ঘুম ঠিক রাখুন।

মাসিকের পরিমান যদি কম হয় তাহলে কি আবার পেগনেন্ট হওয়ার সম্ববনা আছে?

না, মাসিক সব সময় সমান হবে, এমন কোন কথা নেই।

আমার এপ্রিল মাসের ৩০ তারিখে মাসিক হওয়ার কথা ছিল কিন্তু আমার মাসিক শুরু হয় ৯ই মে। ব্লাড খুব অল্প বের হচ্ছে আমি বিবাহিত। আমার এক বছর আগে ডান বেস্টে টিউমার ‍ছিল অপারেশন করেছি এখন ও মাঝে মাঝে আমার ডান বেস্ট ব্যাথা করে। আমার মাসিক ১-২ দিন দেরী হয় কিন্তু এবারের ম‍ত এত দেরী আর ব্লাড এত কম কখনো হয়‍ নাই। গতমাসে মাসিক হবার পর একবার মিলিত হই। কেন আমার মাসিক এমন হ‍ল? এ‍ তে কি প্রেগ‍ নেন্ট হবার সম্ভবনা আছে? Gynaecosid ট্যাবলেট খে‍ লে কি হয় এটা কি শরীরের জন্য ক্ষতিকর?

মাসিক ১-২ দিন দেরী হওয়া খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। মাঝে এর বেশি এদিক-ওদিক হলেও ভয় পাবার কিছু নাই। নানা কারণে এরকম হতে পারে। দুশ্চিন্তা একটা অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া লাইফস্টাইলে কোন পরিবর্তন এলেও এমন হতে পারে। আর মাসিকের অল্প-বেশিও এসব কারণে হতে পারে।যে কোন ঔষধেরই একটা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। তাই নিজ থেকে, ডাক্তারের পরামর্শ না মেনে কোন ঔষধ খাওয়া ঠিক নয়।

আমার বৌ এর মাসিক হইছে। আমি কি এখন কনডম ছাড়া মিলন করতে পারব? কনডম ছাড়া মাসিকএর সময় মিলন করলে কি গর্ভবতী হউয়ার সম্ভবনা আছে?

মাসিকের সময় মেয়েদের গর্ভাশয়ে ডিম্বানুর হার সবচেয়ে কম থাকে। অনেক সময় থাকেও না। তবে কথা হচ্ছে, গর্ভবতী হতে একটা মাত্র ডিম্বানুই যথেষ্ট হতে পারে। তাই বাচ্চা নিতে না চাইলে ঝুঁকি নেয়া ঠিক না। সবসময় কোন না কোন প্রোটেকশন ব্যবহার করা উচিত।এছাড়া মাসিকের সময় যোনিমধ্যে রক্তসঞ্চালনের মাত্রা বেড়ে যায়। তখন পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন না করলে ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি থাকে, তাই কনডম ব্যবহার করাই ভালো।

আমি আমার প্রেমিকার সাথে এখনও সেক্স করি নি । ঐ দিন প্রথম বারের মত ওর সাথে কথা বললাম এ ব্যাপারে ।ওর মাসিক এর প্রথম দিন ।আমি খুব সতর্কতার সাথে পরুষঅঙ্গ শুধু একটু ঢোকানুর চেষ্টা করছিলাম। ঢুকাই নি পুরুটা। কনডম ছাড়া বলে ভয় পাই । ইতিমধ্যেই বীর্য বের হয়ে যায় আর আমি টান দিয়ে বের করে ফেলি। তারপর ও ভয় পাই ওখানে লাগলো কিনা। সাথে সাথে ও টিস্যু পেপার দিয়ে মুছে ফেলে আর ওয়াশ করে আসে বাচ্চা হউয়ার কি সম্ভবনা আছে? আমি কি কনডম ছাড়া মাসিক হউয়ার সময় মিলিত হতে পারব?

বাইরে পড়লে ভালো ভাবে ধুয়ে ফেললে সমস্যা হবে না। বাচ্চা না নিতে চাইলে কখনোই কোন প্রোটেকশন ছাড়া সেক্স করা ঠিক নয়।

আমার গত মাসে সেক্স হয় এবং তারপর ১৭ দিন পর মাসিক হয়। কিন্তু এখন আমার প্রছন্দ মাথা বেথা , বমি বমি লাগসে। খুব চিন্তাই আছি। প্রেগ্নেন্ত হয়ার সম্ভাবনা নাইতো?

১৭ দিন পরে মাসিক হলে প্রেগন্যান্ট হবার ভয় নেই।মাথা ব্যথা গরমের জন্য হতে পারে। বমিও তাই। ঠাণ্ডায় বিশ্রাম নিন।

মাসিকের সময় তলপেটে ব্যথা – কী করণীয়?

মাসিকের সময় তলপেটে ব্যথা আমাদের দেশে একটা কমন ব্যাপার। কিন্তু একটু সচেতন হলেই এই ব্যথা এড়িয়ে চলা যায়।

কোন বোতলে গরম পানি ভরে বা কাপড় গরম করে তলপেটে ২০/২৫ মিনিট ছ্যাক লাগাতে হবে। এটা সপ্তাহে টানা ৩/৪ দিন করে করতে হবে। এতে ধীরে ধীরে মাসিকের সময় ব্যাথা কমে যাবে।

এছাড়া আরেকটা পদ্ধতি আছে- সিজ বাথ। ৩ মিনিট গরম পানিতে কোমর ডুবিয়ে বসে থাকতে হবে। পরের ২/১ মিনিট ঠাণ্ডা পানিতে। এভাবে ২০/২৫ মিনিট সিজ বাথ নিতে হবে। এটাও সপ্তাহে টানা ৩/৪দিন নিতে হবে। শুধু পানি বা পানিতে কিছু লবন, বেকিং সোডা বা ভিনেগারও ব্যবহার করা যায়।

আরেকটা পদ্ধতি আছে- কেজেল ব্যায়াম। এটাও খুব উপকারী।

এগুলো করলে যোনি মধ্যে রক্ত চলাচল প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত না হয়ে আবার ঠিকঠাক হয়ে যাবে, ব্যাথাও কমে যাবে।

আমাদের দেশের অনেক মেয়েদেরই শারীরিক ফিটনেস ভালো নয় বলে এরকম সমস্যা বেশি হয়। একে একে এই পদ্ধতিগুলোর কথা সবাইকে বলে দিন। একজন আরেকজনকে বলে দিন। এই অবাঞ্চিত সমস্যা থেকে মুক্ত থাকুক আমাদের নারী সমাজ।

কেজেল ব্যায়াম: পুরুষদের জন্য গাইড

আপনি হয়তো ভাবছেন কেজেল ব্যায়াম/ কেগেল ব্যায়াম (Kegel exercises) শুধু মহিলাদের জন্য হয়। আসলে তা নয়। মহিলারা এই ব্যায়াম থেকে যতটা সুবিধা লাভ করতে পারেন, পুরুষরাও ঠিক ততটা সুবিধা নিতে পারবেন।

কেগেল ব্যায়াম শ্রোণী মেঝের পেশী সুসংগঠিক করে মূত্রসংবহনতন্ত্র, বৃহদন্ত্র ও পায়ুপথের কার্যপ্রণালী জোরদার করে এবং যৌনক্রিয়া ক্ষমতাকে উন্নিত করতে পারে। মহিলাদের মত পুরুষেরাও যখন তখন এই ব্যায়াম করতে পারেন। কিন্তু সবারই উচিত ব্যায়ামটি করার আগে সঠিক মাংশপেশী সনাক্তকরণ এবং সঠিক পন্থা জেনে নেয়া।

পুরুষদের জন্য কেজেল ব্যায়ামের উপকারিতা

শ্রোণী মেঝের পেশী অনেক কারণে ক্ষতিগ্রস্থ বা দূর্বল হয়ে যেতে পারে। যেমন প্রোস্টেড গ্রাণ্ডে টিউমার বা অন্য কোনো সার্জারী, ডায়াবেটিস ইত্যাদি। কেজেল ব্যায়াম পুরুষদের পেলভিস ফ্লোরের মাসল শক্তিশালী করে যখন তখন প্রস্রাবের বেগ, ঠিক মতো প্রস্রাব না হওয়া সহ আরো অনেক রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে।

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে পুরুষদের জন্য কেজেল ব্যায়াম যৌনমিলনের সময় লিঙ্গ উত্থানে সমস্যা, অকাল বীর্যপাত, দ্রুত বীর্যপাতের মত সমস্যারও সমাধান দিতে পারে।

পুরুষেরা কিভাবে কেজেল ব্যায়াম করবেন

পেলভিস ফ্লোর মাসল অর্থাত শ্রোণী মেঝের পেশী খুঁজে বার করা এবং সেটা কিভাবে সংকুচন/প্রসারন করবেন- সেটা কিছুটা কষ্টসাধ্য হলেও অসম্ভব কিছু নয়।

১. সঠিক পেশী খুঁজে নিন
পেটে বায়ু জমলে সেটা বের হয়ে যাওয়া রোধ করতে গেলে বা প্রস্রাব করা কালে হঠাত প্রস্রাব বন্ধ করে দিলে পেটের নিম্ন ভাগে পিছনের দিকে যে পেশীগুলো আঁটসাঁট হয়ে যায় সেগুলোই পেলভিস ফ্লোর মাসল অর্থাত শ্রোণী মেঝের পেশী। আয়নায় দেখলে দেখবেন লিঙ্গ কিছুটা তলপেটের কাছাকাছি চলে আসে এবং অণ্ডথলি উপরের দিকে উঠে আসে।

২. পন্থা/পদ্ধতি/টেকনিক সঠিককরণ
ব্যায়ামের আগে ঠিকমতো প্রস্রাব করে নেবেন। প্রথম দিকে উচিত হবে মেঝেতে শুয়ে এই ব্যায়াম করা। মেঝেতে শুয়ে পেলভিস ফ্লোর মাসল ৩ সেকেণ্ড সংকুচন করে রাখুন, তারপর ৩ সেকেণ্ড প্রসারণ করে রাখুন। এভাবে টানা কয়েকবার করবেন। তবে খুব বেশী না। মাসল ধীরে ধীরে শক্তিশালী হতে শুরু করলে বসে, দাঁড়িয়ে বা চলন্ত অবস্থায়ও করতে পারবেন।

৩. মনোযোগ বজায় রাখুন
ভালো ফলাফলের জন্য যখন সংকুচন করবেন তখন গভীর ভাবে মনোযোগ দিয়ে করবেন। অনেকেই ভুল করে পেটের বা তলপেটের, উরু, এবং নিতম্বের পেশী সংকুচন করে ফেলেন। এটা ঠিক নয়। দম বন্ধ বা ধরে রাখবেন না। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখুন।

৪. কতবার করবেন
প্রত্যহ ৩ টা সময় (যেমন সকালে দুপুরে বিকেলে) চেষ্টা করবেন। প্রতিবার ১০ রেপস্-এর (repetitions) ৩ সেট করবেন।
(৩ সেকেণ্ড সংকুচন + ৩ সেকেণ্ড প্রসারণ = ১ রেপ। ১০ রেপ = ১ সেট)

মাঝে মাঝে অন্য কাজের সময় (যেমন দাঁত মাজা) এটা প্রাকটিস করে নিতে পারেন। তলপেটে চাপ পড়ে এমন কিছু কাজকর্মের সময়ও (যেমন হাঁচি, কাশি, হাসা, ভারী বস্তু উত্তোলন) আপনার পেলভিস ফ্লোর মাসল সংকুচন হতে পারে। এছাড়া যৌনমিলনের সময় পেলভিস ফ্লোর মাসল সংকুচন করে লিঙ্গ আরো অধিকক্ষণ উত্থিত রাখতে পারেন বা অকাল বীর্যপাত রোধ করতে পারেন।

সমস্যা হলে-
ব্যায়াম করতে গিয়ে সমস্যায় পড়লে সাহায্য চাইলে কার্পণ্য বা লজ্জা করবেন না। নিকটস্থ স্বাস্থ্যসেবা বা ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করবেন যাতে তারা আপনাকে সঠিক পেশী সনাক্তকরণ এবং ব্যায়ামের পদ্ধতি শিখিয়ে দিতে পারেন।

কিছু ক্ষেত্রে biofeedback প্রশিক্ষণ সাহায্য করতে পারে। এই ধরণের সেশনে, ডাক্তার বা অন্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীরা মলদ্বার দিয়ে একটি Monitoring Probe প্রবেশ করিয়ে পুরো ব্যাপারটা মনিটরে পর্যবেক্ষণ করেন। পেলভিস ফ্লোর মাসল সংকুচন করার পর একটা মনিটরে দেখা যাবে যে আপনি সঠিক পেশী সংকুচন করতে পারছেন কিনা, এবং পারলে কতক্ষণ পারছেন।

কখন ফলাফল পাবেন

নিয়মিত কেজেল ব্যায়াম করলে ৩ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে অনিয়ন্ত্রিত প্রস্রাবের সমস্যা দূর হয়ে যেতে পারে। লিঙ্গ উত্থানের সমস্যা সমাধান হতে ৩ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। অব্যাহত সুবিধার জন্য এই ব্যায়াম প্রত্যহ করে যাওয়া উচিত।

(কেগেল ব্যায়াম: মহিলাদের জন্য গাইড।)
মহিলাদের জন্য পেলভিস পেশীর ব্যায়ামের জন্য ৩টি আসন আছে। এগুলো পুরুষেরাও করতে পারেন।

গ্রেট সেক্স লাইফের পাঁচটা মন্ত্র

বেডরুমের রোমান্সকে আরও রোমাঞ্চকর করতে চান৷ একটা বই আপনাকে এই বিষয়ে ভীষণ ভাবেই সাহায্য করবে৷ লেখক বারবারা এবং এলান পিসের লেখা নতুন বইটাতে আপনার সেক্স লাইফকে মধুর করার সব রসদই মজুত রয়েছে৷ চলুন সেই বই অনুসারে পাঁচটা নিয়্ম জেনে নিই৷ যা মেনে চললে আপনার দাম্পত্য জীবনের সুখ আরও বাড়বে৷ এর সঙ্গে যারা বিয়ে করার বিষয়ে ভাবছেন তাদেরও বিবাহিত জীবন মধুর হবে৷

পুরুষদের মধ্যে হাস্যরস বোধ যথার্থ মাত্রায় থাকা উচিত৷ যদি বেডরুমে আপনি আপনার স্ত্রীকে প্রান খুলে হাসাতে পারেন তাহলে স্ত্রীর মন পেতে আপনার বেশী সময় লাগবে না৷

বেশীরভাগ স্মার্ট মহিলারাই প্রেমের ক্ষেত্রে ভুল মানুষটিকে বাঁছেন৷ অনেক গবেষণাতেই এই তথ্য প্রমানিত হয়েছে৷ হৃদয় গঠিত ব্যাপারে তারা একেবারেই ভুল সিদ্ধান্ত নেন৷ তাই স্মার্ট মহিলাকে জীবন সঙ্গী হিসাবে বাঁছার আগে তাঁকে একবার যাচাই করে নেবেন৷

মহিলারা সে সব পুরুষদের সঙ্গেই দৈহিক সম্পর্ক গড়তে পছন্দ করেন যারা দেখতে ভীষণই স্মার্ট৷ যারা আকর্ষক পোশাক পড়েন৷ পোশাকের সঙ্গে মানান সই টাই পড়েন৷ হাতে এক্সপেনসিভ ঘড়ি পড়েন৷ সেই সব পুরুষদের প্রতিই মহিলারা বেশী আকৃষ্ট হন৷ তাই প্রেমিকাকে মনের কথাটা জানানোর আগে নিজেকে বদলে ফেলুন৷ আপনার প্রেম কখনও বিফল হবে না৷ অপরদিকে হাবিরাও স্ত্রীর মন পেতে স্মার্ট লুক আনার চেষ্টা করুন৷

লেখকের মতে যে সব পুরুষরা ঘরের কাজকর্ম করেন৷ মহিলারা তাদের বেশী সেক্সী বলে মনে করেন৷ তাই বৌ এর মন পেতে মাঝে মধ্যে ঘরের কাজ করুন৷ এতে প্রেম বাড়বে৷

বেশীর ভাগ পুরুষই মনে করেন মহিলারা সব সময় কাজ করতে পারেন না৷ কিন্তু বর্তমান পুরুষদের এই চিন্তাধারা ভুল বলে প্রমাণিত হয়েছে৷ পুরুষদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মহিলারা এগিয়ে চলেছেন৷ আজও অনেক পুরুষরা বিয়ের পরে স্ত্রী কে চাকুরী করার অনুমতি দেন না৷ এক্ষেত্রে দাম্পত্য জীবনে অনেক স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি হয়৷ কিন্তু জীবনকে রঙীন করতে হলে পুরুষদের এই ধারনা বদলাতে হবে৷ নিজের মতের পাশাপাশি স্ত্রীর মতামতকেও প্রাধাণ্য দিতে হবে৷ লেখকের মতে এক্ষেত্রে মহিলাদের আরও দৃঢ় হতে হবে৷