“কোয়েল মল্লিকের”

ভারতীয় বাংলা মুভির নায়িকা “কোয়েল মল্লিকের” ScAnDaL
প্রথমেই বলে রাখি যারা নিজ চোঁখে কিছু দেখেও বিশ্বাস করতে চান না তাদের এই ScAnDaL টি নামানোর কোন প্রয়োজন নেই। অনেকে আছেন তারা ঠিকি দেখতেছে যে এটা সত্যি তার পরেও বিশ্বাস করতে চান না বা শিকার করে না। তাই তাদের কাছে আমি কোন কিছু শেয়ার করতে আগ্রহী নই।
কিছু কথাঃ আমি চিন্তা ও করতে পারি নি যে “কোয়েল মল্লিক” এর ScAnDaL দেখবো!! আমি শুধু মনে করতাম আমাদের এপারের বাংলাই মনেহয় ScAnDaL এ ভর্তি হয়েগেছে এখন দেখি সব যায়গাতেই একি অবস্থা। ওপার আমাদের থেকে অনেক অংশেই এগিয়ে আছে তবে আর এই দিক দিয়েই বা পিছিয়ে থাকবে কেনো?
আর হ্যাঁ অবশ্যই কমেন্ট করবেন। আমি শুধু আপনাদের মাঝে শেয়ার করতেই থাকবো আর আপনারা মজা লুটতেই থাকবেন কিন্তু কোন ভালো/মন্দ কমেন্ট করবেন না তা হতে পারে না। আপনারা যদি কমেন্টকরেন আপনাদের মন্তব্য শেয়ার করেন তবে সামনে আপনাদের জন্য আরো আকর্ষণীয় কিছু নিয়ে হাজিরহবো!
ডাউনলোড করে নিন এখুনি  

ঐশী টেস্ট রিপোর্ট বদলে গেছে

পুরাই মাথা নষ্ট 一 Funny World BD . · 138,786 like this
August 22, 2013 at 9:10pm ·
ঐশীর বয়স ১৯ বছর ৬ দিন!
পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি)পরিদর্শক
মাহফুজুর রহমান ও স্ত্রী স্বপ্ন রহমানের
খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার মেয়ে ঐশী রহমান
শিশু নয়। তার বয়স ১৯ বছর ৬দিন।
বাংলাদেশের শিশু আইনেও সে শিশু নয়।
গোয়ন্দা পুলিশ ঐশীর এ বয়স
সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে। এরফলে ঐশী শিশু
না সাবালিকা সে বিতর্কের নিরসন হলো।
গেয়েন্দা সূত্র দাবি করেছে, মানবাধিকার
সংস্থার পক্ষে আপত্তি তোলার আগেই
তারা ঐশীর জন্মবৃত্তান্ত সংগ্রহ করেছেন।
বৃহস্পতিবার ঐশীর বয়স হবে ১৯ বছর ৬
দিন।
নাম প্রকামে অনিচ্ছুক পুলিশের এক
কর্মকর্তা জানায়, ঐশী রহমানের
বাবা মাহফুজুর রহমান ১৯৯৪ সালে খুলনায়
কর্মরত ছিলেন। আর ঐশীর জন্ম
হয়েছে খুলনাতেই। ১৯৯৪ সালের ১৭ আগস্ট
ঐশী রহমানের জন্ম হয়। তার জন্ম হয়
খুলনা প্রেস ক্লাব সংলগ্ন মিশু ক্লিনিকে।
ক্লিনিক মালিকের নাম আবদুর রহিম। ওই
সময় যে চিকিৎসক ঐশীর মায়ের
চিকিৎসা সেবার দায়িত্বে ছিলেন তার নামও
জানা গেছে।
গোয়েন্দারা জানায়, ঐশী রহমানের জন্ম
হওয়ার আগে তার মা ওই ক্লিনিকের
চিকিৎসক ডাক্তার নাসরীনের
তত্ত্বাবধানে ছিলেন। ১৯৯৪ সালের ১৭
আগস্ট স্বপ্না রহমান মিশু
ক্লিনিকে ভর্তি হলে তার সাধারণ
ডেলিভারি হয়।
ডা. নাসরীন জানান, ঐশী রহমানের
মা স্বপ্না রহমান তার পেশেন্ট ছিলেন। জন্ম
হওয়ার আগ থেকে তিনি তার তত্ত্বাবধান
করেন। তিনি ঐশীর পরিবারের সাথে পরিচিত।
মিশু ক্লিনিকে ৯৪ সালের নথিতেও মিলেছে এই
তথ্য।
তবে বয়স নির্ধারণ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার
জন্য ঐশী রহমান ও সুমীকে বুধবার
ঢাকা মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ঐশীর বয়স
পরীক্ষার জন্য তার দাঁতের পরীক্ষা ও
হাড়ের এক্স-রে করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের
সহকারী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন,
দ্রুত এ ফলাফল জানা যাবে।

পুলিশ কর্মকর্তার গুনধর মেয়ে ঐশী · 11,068 like this
September 21, 2013 at 5:37am ·
কুমারী মেয়ে ইউরিন টেস্ট করাতে গেছে!টেস্ট রিপোর্ট বদলে গেছে:
ডাক্তার:U ARE PREGNANT!

:

নারী, মাদক, সফটওয়্যার আর ম্যাকাফি

রহস্যময় বর্ণিল এক মানুষ জন ম্যাকাফি। কিন্তু কে আসল ম্যাকাফি? কুখ্যাত মাফিয়া, মাদক আর নারী কেলেঙ্কারির মতো অভিযোগ মাথায় নিয়ে বেড়ানো ব্যক্তিটি, নাকি বিশ্বের বিখ্যাত অ্যান্টিভাইরাস নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান ম্যাকাফির প্রতিষ্ঠাতা? সম্প্রতি বিবিসি অনলাইন জন ম্যাকাফিকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যাতে উঠে এসেছে ম্যাকাফির জীবনের নানা অধ্যায়।
গোপন একটি প্রকল্প নিয়ে আবারও আলোচনায় ম্যাকাফি। কয়েক বছর ধরেই তিনি গোপনে একটি যন্ত্র নির্মাণ করে যাচ্ছেন। ম্যাকাফির দাবি, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের নজরদারি থেকে আড়াল করতে পারবেন তিনি।
মার্কিন গোয়েন্দারা সবার ব্যক্তিগত তথ্যে নজরদারি করছেন এমন তথ্য ফাঁস করে দিয়েছিলেন সিআইএর সাবেক কর্মী অ্যাডওয়ার্ড স্নোডেন। এ তথ্য ফাঁস করার পর বিশ্বব্যাপী ব্যক্তিগত তথ্যে নজরদারির বিষয়টি নিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে। গোয়েন্দারা যাতে ব্যক্তিগত তথ্যে নজরদারি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে ১০০ মার্কিন ডলার দামের একটি প্রযুক্তিপণ্য তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন ম্যাকাফি। যন্ত্রটির নাম ‘ডি-সেন্ট্রাল’। যন্ত্রটি মুঠোফোন ও অন্যান্য পণ্যের নিরাপত্তাব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। যন্ত্রটি নিজস্ব ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা তৈরি করতে সক্ষম হবে, যাতে ব্যবহারকারী ছাড়া আর কারও পক্ষে নজরদারি সম্ভব হবে না বলেই দাবি করেন ম্যাকাফি।

ডি-সেন্ট্রাল তৈরির কথা জানানোর আগে থেকেই প্রযুক্তি বিশ্বে ‘কিংবদন্তি’ হিসেবে খ্যাতি জুটেছে তাঁর। কিন্তু ম্যাকাফির ‘গোপন’ জীবনের ঘটনার সঙ্গে মানুষের পরিচয় ঘটে ২০১২ সালে। এ সময় তাঁকে নতুন করে আবিষ্কার করে মানুষ। চুলে রং করা, বাঁধানো দাঁত আর ছদ্মবেশী এক মার্কিন নাগরিক হিসেবে তাঁকে পাওয়া যায়। এর আগে তাঁর জীবনে ঘটে যায় এক ঝড় তোলা ঘটনা। ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে মধ্য আমেরিকার দেশ বেলিজের বাসিন্দা থাকাকালে ম্যাকাফির এক পড়শি খুন হলেন। পুলিশের চোখে ম্যাকাফি হয়ে ওঠেন সন্দেহভাজন। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি পুলিশের চোখ এড়িয়ে, ছদ্মবেশে ঢুকে পড়েন প্রতিবেশী দেশ গুয়াতেমালায়। রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েও পাননি; বরং কারাগারে যেতে হয়েছিল তাঁকে। সেখান থেকে তিনি ফেরেন যুক্তরাষ্ট্রে এবং তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে অল্পবয়সী বান্ধবীদের সঙ্গে ম্যাকাফির খালি গায়ে তোলা ছবি আবারও নানা আলোচনার জন্ম দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রে ‘বিপজ্জনক’ ব্যক্তি হিসেবে সন্দেহের তালিকায় এখন ম্যাকাফি। বিবিসিকে অবশ্য ম্যাকাফি বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে যত অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর সত্যতা নেই। ম্যাকাফির সাক্ষাত্কার নেওয়া এক সাংবাদিক সব সময় তাঁকে ‘খামখেয়ালি’ বলে সম্বোধন করেন। ম্যাকাফি নিজের সম্পর্কে সিলিকন ভ্যালির সবচেয়ে বাজে লোকের তকমার কথা স্বীকারও করেন। তবে এর বাইরেও ম্যাকাফি নিজেকে পরিচয় দেন একজন উদ্যোক্তা হিসেবে।

ম্যাকাফি নিজের সম্পর্কে বলেন, ‘আমি কৌতূহলী এবং সমস্যা সমাধান করতে ভালোবাসি। তবে আমি নিজের নামে তৈরি কোনো পণ্য ব্যবহার করি না। নিজেকে নিরাপদ রাখতে সব সময় নিরাপদ কম্পিউটিং করি। পর্নো সাইটে যাই না, ভাইরাস থাকতে পারে, এমন লিংকে যাই না।’

ম্যাকাফি বলেন, আমরা যখন রাস্তা খুঁজে নিয়ে চলতে শুরু করি, খোলস ছেড়ে বের হই, তখনই কেবল আমরা নির্ভয়ে সে পথে যেতে পারি এবং এতে সাফল্য আসে এবং সত্যিকারের সৌন্দর্যের খোঁজ পাওয়া যায়।

জন ম্যাকাফি সম্পর্কে তাঁর বেলিজের এক নারী সঙ্গী জানিয়েছেন, অসাধারণ একজন মানুষ আর রোমাঞ্চপিয়াসী তিনি। তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা বলেন, খামখেয়ালি এই মানুষটাকে আসলে বোঝা খুব শক্ত। বয়স্ক একজন মানুষ কমবয়সী অনেকগুলো মেয়ে নিয়ে আনন্দ করছেন আবার কাজের ক্ষেত্রে দারুণ মনোযোগী। কে আসল জন ম্যাকাফি, সেটাই বোঝা কঠিন।

প্রযুক্তির ইতিহাসে বর্ণিল, রহস্যময় একজন মানুষ জন ম্যাকাফি। একদিকে নতুন নতুন উদ্ভাবন, অন্যদিকে মাদক তৈরিসহ বিশ্বের ভয়ংকর সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আছে বলে সন্দেহ করা হয়।

জন ম্যাকাফির সঙ্গে বর্তমানে ম্যাকাফি অ্যান্টিভাইরাস প্রতিষ্ঠানটির কোনো সম্পর্ক নেই। ১৯৯০ সালের শুরুর দিকে তিনি ম্যাকাফি বিক্রি করে দেন। ২০০৮ সাল থেকে তিনি বেলিজে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করেছিলেন। রোমাঞ্চপ্রত্যাশী জন ম্যাকাফি ছোটবেলা থেকেই নতুন নতুন উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসতেন। নব্বইয়ের দশকের পর তাঁর আচরণে খামখেয়ালিপনা দেখা দেয়। বিক্রি করে দেন ম্যাকাফি। তারপর প্রযুক্তি জগত্ থেকে দূরে সরে যেতে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে চলে যান বেলিজে। সেখানে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে এ অঞ্চলের বিখ্যাত মাদক চোরাচালানকারী আর সন্ত্রাসীদের সঙ্গে। এ সময় তিনি ভয়ংকর মাদক তৈরির চেষ্টা করছিলেন। কম্পিউটার জগত্ থেকে অনেকদিন ধরেই বিচ্ছিন্ন পড়েছিলেন ম্যাকাফি। ক্রমাগত বাড়ছিল তার খামখেয়ালি আচরণ। ম্যাকাফির পুরোনো সহকর্মী এবং বন্ধুদের অনেকেই জানিয়েছেন, নারীদের মধ্যে যৌন উদ্দীপনা বাড়াতে পারে এমন মাদকের প্রতি অনেক দিন ধরেই কৌতূহল ছিল ম্যাকাফির।

ম্যাকাফি বলেন, মাদকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অনেক পুরোনো। পরিবার থেকে লুকিয়ে তিনি মাদক নিতেন। মাদক গ্রহণের জন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁর চাকরি চলে গিয়েছিল। তবে এ ঘটনাটি ঘটেছিল আশির দশকে। ওই সময় প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার কারণে মাদক নেওয়া শুরু করেছিলেন। ১৯৮০ থেকে ’৮৪ সাল—এ চারটি বছর মাদক তাঁর জীবনের সবচেয়ে সর্বনাশ করেছে বলে উল্লেখ করেন ম্যাকাফি। তিনি জানান, তাঁকে নিয়ে এখনো মানুষ ভুল ধারণা করে। তাঁর গায়ে আশির দশকে আঁকা উলকি দেখে এখনো অনেক কিছু ভেবে বসে। তিনি ১৯৮৪ সালে মাদক ছেড়ে দিয়ে চিকিত্সকের কাছেও গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন।

ম্যাকাফি বলেন, ‘সব সময় দুই ধরনের মানুষ আমরা দেখতে পাই। কেউ আমাকে প্রশংসা করে এবং কেউ নিন্দা। কারও চোখে আমি নায়ক, আবার কারও চোখে ভিলেন।’

কম্পিউটারের সাধারণ ১০ সমস্যার সমাধান

কম্পিউটার বা ল্যাপটপে কাজ করতে গেলে মাঝেমধ্যে কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। প্রায়ই হয় এমন সাধারণ সমস্যার সমাধান নিজে নিজেই করা যায়। এমন ১০টি সমস্যার সমাধান নিয়ে এ আয়োজন। আজ থাকছে তিনটি সমাধান। লিখেছেন মঈন চৌধুরী

কম্পিউটারশুরুতেই যা করণীয়
কোনো সমস্যা হলে অন্য কিছু করার আগে প্রথম কাজটিই হবে কম্পিউটার পুনরায় চালু বা রিস্টার্ট করা। এই কাজটি অনেক সমস্যার সমাধান করে দেয়। কম্পিউটারে সংযুক্ত কোনো যন্ত্রপাতি সমস্যা করলে সেটি বন্ধ করে আবার চালু করুন। তাতে কাজ না হলে যন্ত্রটি প্রথমে কম্পিউটার থেকে খুলে আবার লাগিয়ে নিন, তারপর সেটির সর্বশেষ সংস্করণের চালক সফটওয়্যার বা ড্রাইভার ইন্টারনেট থেকে নামিয়ে আবার ইনস্টল করুন।
১. ধীরগতির কম্পিউটার
কম্পিউটার খুব ধীরগতির হলে প্রথমে চিহ্নিত করতে হবে এটি আসলে কম্পিউটারের নিজের সমস্যা কি না। ওয়েবসাইট দেখতে সময় বেশি লাগা বা অনলাইনে ভিডিও দেখার সময় বাফারিং অবিরাম চলতে থাকাটা কম্পিউটারের সমস্যা না-ও হতে পারে। যদি মনে হয় কম্পিউটারেই সমস্যা, তাহলে দেখে নিন হার্ডডিস্কের যে ড্রাইভে অপারেটিং সিস্টেম ইনস্টল করা আছে (সাধারণত C:), তাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা আছে কি না। অপারেটিং সিস্টেম চলার সময় উইন্ডোজের ফাইল তৈরিতে খালি জায়গার প্রয়োজন হয়। অপর্যাপ্ত থাকলে ড্রাইভের কিছু জায়গা খালি করে ফেলুন। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো সমাধান হলো ডিস্কম্যাক্স নামের একটি প্রোগ্রাম। নামানোর ঠিকানা http://goo.gl/rgcY4Q। রিসাইকল বিন, ইনস্টলেশন রেমন্যান্ট, ইউজার হিস্ট্রি, টেম্পরারি ফাইল, কুকিজ, উইন্ডোজ ক্যাশ ইত্যাদি অপ্রয়োজনীয় সবকিছু মুছে সিস্টেম ড্রাইভসহ পুরো হার্ডডিস্ক পরিষ্কার করে ফেলবে।
ধীরগতির আরেকটি সমাধান হলো মাইক্রোসফট সিস্টেম কনফিগারেশন টুল। অনেক অ্যাপলিকেশন আছে যেগুলো কম্পিউটার চালু হওয়ার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে কম্পিউটার পুরোপুরি প্রস্তুত হতে বাড়তি সময় লাগায়। এ জন্য Windows Key + R কি চেপে তাতে msconfig লিখে এন্টার চাপুন। এখান থেকে যেসব স্টার্টআপ আইটেম অপ্রয়োজনীয় মনে হয়, সেগুলো থেকে টিক উঠিয়ে দিন। তবে ম্যানুফ্যাকচারার ট্যাবে মাইক্রোসফট করপোরেশন লেখা আইটেমগুলো থেকে টিক ওঠাবেন না। এবার ওকে চেপে কম্পিউটার রিস্টার্ট করুন।
ইন্টারনেট সংযোগ২. ইন্টারনেট সংযোগে সমস্যা
ইন্টারনেট সংযোগের সমস্যা হলে ভালো সমাধান হলো www.speedtest.net ওয়েব ঠিকানা। এখানে স্পিড টেস্ট চালিয়ে দেখুন ইন্টারনেটের গতি কেমন। ইন্টারনেট সেবাদাতার দেওয়া সংযোগের গতির অন্তত অর্ধেক পাচ্ছেন কি না, পিং করলে ১০০ মিলিসেকেন্ডের কম থাকে কি না। আশানুরূপ না হলে পরীক্ষা করে দেখুন, কোনো কিছু ডাউনলোড বা আপলোড হচ্ছে কি না। অনেক টরেন্ট ডাউনলোডিং প্রোগ্রাম টাস্কবারের বদলে সিস্টেম ট্রেতে থেকে নেপথ্যে ডেটা ডাউনলোড বা আপলোড করতে থাকে। উইন্ডোজের অটোমেটিক আপডেট নির্বাচন করা থাকলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে ডাউনলোড চলতে থাকে। এটি বন্ধ করতে চাইলে স্টার্ট বাটন চেপে সার্চ বক্সে লিখুন windows update এবং এন্টার চাপুন। ‘চেঞ্জ সেটিংস’ ক্লিক করে ‘নেভার চেক ফর আপডেটস’ অপশনটি নির্বাচন করে ওকে করুন। নেটওয়ার্কে ব্যবহূত হার্ডওয়্যারও পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। রাউটার বা সুইচের রিসেট বাটন চেপে সংযোগ সমস্যার সমাধান পাওয়া যায়। অথবা দু-এক সেকেন্ডের জন্য পাওয়ার কেবল বিচ্ছিন্ন করেও এটা করা যায়।
৩. কম্পিউটার বারবার রিস্টার্ট
হার্ডওয়্যার সমস্যা করলে সেটা শনাক্ত করে সমাধান করা একটু কঠিনই। প্রথমে নিশ্চিত হতে হবে, উইন্ডোজ হালনাগাদ হচ্ছে কি না। এসব আপডেট ইনস্টল হওয়ার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে কম্পিউটার রিস্টার্ট হয়। অনেক সময় ভাইরাস বা অ্যাডওয়্যারের কারণে এমনটা হতে পারে। অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার অথবা বিনা মূল্যের মাইক্রোসফট সিকিউরিটি এসেনশিয়ালস সর্বশেষ হালনাগাদসহ ইন্টারনেট থেকে নামিয়ে ইনস্টল করে স্ক্যান করে নিতে পারেন। নামানোর ঠিকানা http://goo.gl/EW85AC আর এর সর্বশেষ ডেফিনিশন আপডেট ফাইল নামানোর ঠিকানা http://goo.gl/8TnmU5। কম্পিউটারের ধরন অনুযায়ী (৩২ বা ৬৪ বিট) ‘ম্যানুয়ালি ডাউনলোড দ্য লেটেস্ট আপডেটস’ সেকশন থেকে এই সফটওয়্যারটির হালনাগাদ ফাইল নামাতে হবে অথবা ইন্টারনেটে সরাসরি হালনাগা করে নিতে পারেন।
কম্পিউটারের কোনো যন্ত্রাংশ মাত্রাতিরিক্ত গরম হলেও কম্পিউটার বারবার রিস্টার্ট নিতে পারে। আধুনিক অনেক কম্পিউটারে সেফগার্ড থাকে, যা যন্ত্রপাতি গরম হলে নিজে নিজেই কম্পিউটার বন্ধ করে দেয়। সিপিইউ খোলার অভিজ্ঞতা থাকলে এবং তাতে কোনো ওয়ারেন্টি সিল না থাকলে সেটি খুলে অনেক দিনের জমা ধুলোবালি ব্রাশ দিয়ে সাবধানে পরিষ্কার করে নিতে পারেন। তারপর র‌্যাম খুলে পরিষ্কার করে আবার লাগিয়ে নিন এবং হার্ডডিস্ক, ডিভিডি-রম ড্রাইভে সংযুক্ত তারগুলো ভালোভাবে লাগিয়ে রিস্টার্ট হওয়ার সমস্যা থেকে রেহাই পেতে পারেন।

 

৪. ডেস্কটপে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন

ওয়েব সাইট দেখার সফটওয়্যার (ব্রাউজার) খোলা না রাখলেও যদি ডেস্কটপে পপ-আপ উইন্ডো এসে অবাঞ্ছিত বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে, তবে বুঝতে হবে আপনার কম্পিউটারে কোনো অ্যাডওয়্যার ইনস্টল হয়ে আছে। এ থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ কাজ নয়। ইন্টারনেটে পিসি স্পিড-আপ, পিসি অপটিমাইজার ইত্যাদি নামে প্রচুর সিস্টেম ইউটিলিট টুলস আছে কিন্তু বাস্তবে কাজের কাজ করে খুব কমই। এ ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত এবং বিনা মূল্যে কাজের অ্যাডওয়্যার স্ক্যানার হচ্ছে ম্যালওয়্যারবাইটস অ্যান্টি ম্যালওয়্যার টুল। প্রথম কাজ হবে আগে থেকে ইনস্টল করা অ্যান্টি ভাইরাস সফটওয়্যার দিয়ে পুরো সিস্টেম স্ক্যান করা।

এতে কাজ না হলে সব ধরনের ম্যালওয়্যার মোছার জন্য কার্যকর ম্যালওয়্যারবাইটস অ্যান্টি ম্যালওয়ার প্রোগ্রামটি ইন্টারনেটের www.malwarebytes.org এই ওয়েব ঠিকানা থেকে বিনা মূল্যের সংস্করণটি নামিয়ে ইনস্টল করুন। স্ক্যান করার আগে বর্তমানে কোনো অ্যান্টি ভাইরাস সফটওয়্যার ইনস্টল করা থাকলে প্রথমে নিষ্ক্রিয় করে নিন। এর পরও কাজ না হলে সিস্টেম ড্রাইভে (সাধারণত সি ড্রাইভ) রাখা আপনার গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলো অন্যত্র সরিয়ে অপারেটিং সিস্টেম পুরোপুরি নতুন করে ইনস্টল করতে হবে।

 

৫. গুগল ঠিকমতো কাজ না করা

ব্রাউজার হাইজ্যাক হওয়া ম্যালওয়্যারেরই আরেকটি ধরন। কিছু প্রোগ্রাম আছে, যা ওয়েব ব্রাউজারটি দখলে নিয়ে আপনার করা গুগল সার্চ গোপনে অন্য কোনো ভুয়া ওয়েবসাইটের পেজে নিয়ে যায়। তারপর কোনো কিছু জানতে চেয়ে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়াসহ আপনার সিস্টেমকে আক্রান্ত করতে পারে। হালের সব ইন্টারনেট সিকিউরিটি অথবা অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারে রিয়েল-টাইম স্ক্যানার সংযুক্ত থাকে। প্রোগ্রামটির সেটিংস ঘেঁটে সেটি কার্যকর আছে কি না দেখে নিন। কাজ না হলে কন্ট্রোল প্যানেলের প্রোগ্রামস অ্যান্ড ফিচারস অপশন থেকে ব্রাউজারটি বেছে নিয়ে আনইনস্টল করে ফেলুন। পছন্দসই ব্রাউজারের সর্বশেষ সংস্করণ ইন্টারনেট থেকে নামিয়ে ইনস্টল করুন।

অনেক সফটওয়্যার ইনস্টল করার সময় বাড়তি অপশন হিসেবে তাদের নির্ধারিত টুলবার ইনস্টল করতে বলে। টুলবার ইনস্টল হয়ে গেলে ব্রাউজারে ব্যবহূত ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিনের বদলে তাদের কাস্টম সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহূত হয়ে আপনার তথ্য অনুসন্ধানে সঠিক ফল নাও দিতে পারে। সে জন্য অপরিচিত সফটওয়্যার ইনস্টল করার সময় কাস্টম অপশন নির্বাচন করে ধৈর্যসহকারে নির্দেশনা দেখে দেখে সফটওয়্যারটি ইনস্টল করুন। বিনা মূল্যে কোনো সেবা নেওয়ার অফার থাকলে সেগুলো পরিহার করুন। তার পরও যদি দেখেন, আপনার ব্রাউজারে অযাচিত অনেক অপশনে ভরপুর হয়ে আছে, তাহলে কন্ট্রোল প্যানেলের প্রোগ্রামস অ্যান্ড ফিচারস অপশন থেকে টুলবার প্রোগ্রামটি চিহ্নিত করে মুছে ফেলুন।

 

৬. ওয়াই-ফাই সংযোগ বারবার বিচ্ছিন্ন

ওয়াই-ফাইয়ের সংযোগ নিয়ে সমস্যায় পড়লে একটু ধাঁধায়ই পড়তে হয়। এটা কি নিজের কম্পিউটারে সমস্যা?

রাউটারে সমস্যা?

নাকি আইএসপির সমস্যা? এ ক্ষেত্রে ইন্টারনেট সেবাদাতা বা আইএসপিকে ফোন করার আগে নিজে নিজে কিছুটা চেষ্টা করা যেতে পারে। নিশ্চিত করুন, আপনার কম্পিউটারটি ওয়াই-ফাই রাউটারের আওতার ভেতরেই আছে কি না। তারপর দেখুন কম্পিউটারের তারহীন কার্ডটির সর্বশেষ ড্রাইভার ইনস্টল করা আছে কি না। এবার উইন্ডোজ ট্রাবলশুট ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

টাস্কবারের সিস্টেম ট্রেতে থাকা ওয়াই-ফাই আইকনে ডান ক্লিক করে ‘ট্রাবলশুট প্রবলেমস’ অপশনটি নির্বাচন করুন।

উইন্ডোজের নিজস্ব প্রোগ্রাম উইন্ডোজ নেটওয়ার্ক ডায়াগনস্টিক নামের টুলসটি সমস্যার সমাধান যদি না-ও করে, কিছু নির্দেশনা তো অন্তত পাওয়া যাবে।

Continue reading “কম্পিউটারের সাধারণ ১০ সমস্যার সমাধান”

পাসওয়ার্ড ছাড়াই উইন্ডোজ চালু

কম্পিউটার ব্যবহারকারীকে যদি পাসওয়ার্ড দিয়ে সিস্টেমে ঢুকতে হয়, তাহলে সেটিকে এভাবেই রাখা উচিত। কারণ, কম্পিউটার নিরাপত্তায় পাসওয়ার্ড খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাসওয়ার্ড ছাড়া পুরো কম্পিউটার সিস্টেমই হয়ে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ। যে কেউ আপনার কম্পিউটারে সরাসরি ঢুকে ক্ষতি করতে পারে, ঢুঁ মারতে পারে গোপনীয় ফাইল বা ই-মেইলে। এমনকি আপনার হয়ে যে কাউকে ই-মেইলও পাঠিয়ে বসতে পারে। অন্যদিকে, কম্পিউটার চালু রেখে কিছু সময়ের জন্য একটু এদিক-সেদিক গেলেন, ফিরে এসে কম্পিউটারকে আবার কাজ করার মতো প্রস্তুত অবস্থায় দেখতে পেলেন। বারবার পাসওয়ার্ড চাপতে হলো না। কিন্তু আপনার অনুপস্থিতিতে যে কেউ চাইলে ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে ফেলতে পারে—এ বিষয়ও মাথায় রাখতে হবে।
এসব বিবেচনায় প্রতিবার কম্পিউটার চালু হওয়ার আগে লগঅন পর্দায় বারবার পাসওয়ার্ড দেওয়া ছাড়াই সরাসরি উইন্ডোজে ঢুকতে পারেন। এই ব্যবস্থায় পাসওয়ার্ড মুছে যাবে না। লগ-অন পর্দা এড়িয়ে যেতে চাইলে অ্যাডভান্সড ইউজার অ্যাকাউন্টসে ঢুকতে হবে।
উইন্ডোজ ৭ ও ভিসতার বেলায় স্টার্ট বাটনে ক্লিক করে লিখুন netplwiz এবং এন্টার করুন। উইন্ডোজ এক্সপিতে স্টার্ট চেপে রানে ক্লিক করুন, লিখুন control userpasswords2 এবং এন্টার করুন। উইন্ডোজ আটে স্টার্ট পর্দায় থাকা অবস্থায় লিখুন netplwiz এবং অ্যাপস সেকশন থেকে সেটি নির্বাচন করুন।
ডায়ালগ বক্সের উইন্ডো এলে আপনার অ্যাকাউন্ট (যেটি দিয়ে আপনি লগইন করেন) নির্বাচন করা আছে কি না, সেটি নিশ্চিত করুন। তারপর Users must enter a user name and password থেকে টিক উঠিয়ে দিন। এরপর OK চাপলে আপনার অ্যাকাউন্ট পাসওয়ার্ড চাইবে। দুবার পাসওয়ার্ড বসিয়ে OK করুন। পরেরবার কম্পিউটার চালু করলে উইন্ডোজ আপনার কাছে আর পাসওয়ার্ড চাইবে না। —মঈন চৌধুরী

গণধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হত্যা করা হয় রুবীকে

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামের রুবী আক্তার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার রুবীর খালু সাভারের কলমা এলাকার এজাবুল হক ওরফে সাগর (৪২) গত শনিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে বলা হয়, গণধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধে রুবীকে (২২) হত্যা করা হয়।
মামলায় গ্রেপ্তার অন্য ব্যক্তিরা হলেন এজাবুলের প্রতিবেশী সাইফুল ইসলাম, ফরিদুজ্জামান, ইকবাল হোসেন ও রুবেল মিয়া।
রুবী কালিয়াকৈরের নলুয়া গ্রামের আলী আহাম্মদের মেয়ে। বছর দুয়েক আগে একই উপজেলার ভাতারিয়া গ্রামের স্কুলশিক্ষক মনসুর আলীর ছেলে ইউসুফ আলীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। এক বছর পর তাঁদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। গত মঙ্গলবার রাতে সাভারের দুগ্ধ খামার এলাকা থেকে পুলিশ রুবীর লাশ উদ্ধার করে।
সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রিপন বালা বলেন, ঘটনার সঙ্গে এজাবুলের জড়িত থাকার তথ্য পেয়ে শুক্রবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শনিবার অন্য চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এজাবুলের জবানবন্দির বরাত দিয়ে এসআই রিপন বালা বলেন, ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর ইউসুফের সঙ্গে পুনরায় ঘর বেঁধে দেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে রুবীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন এজাবুল। জানতে পেরে সাইফুল, ফরিদুজ্জামান, ইকবাল ও রুবেল বিষয়টি ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে রুবীকে তাঁদের কাছে এনে দেওয়ার জন্য এজাবুলকে চাপ দিতে থাকেন। ভয়ে এজাবুল তাঁদের কাছে রুবীকে এনে দিতে রাজি হন।
এসআই রিপন আরও বলেন, এজাবুলের কথামতে রুবী ১৩ জানুয়ারি বাড়ি থেকে বের হয়ে আশুলিয়ার নবীনগরে চলে আসেন। সন্ধ্যার পরে এজাবুলের সঙ্গে নবীনগর এলাকায় তাঁর দেখা হয়। এরপর রুবীর সম্মতিতে রাত সাড়ে নয়টার দিকে এজাবুল তাঁকে দুগ্ধ খামার এলাকার নির্জন স্থানে নিয়ে যান। একপর্যায়ে সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা সাইফুল, ফরিদুজ্জামান, ইকবাল ও রুবেল তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় রুবী চিৎকার দিলে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর তাঁর লাশ ফেলে চলে যান তাঁরা। ঘটনার সঙ্গে মনসুর ও তাঁর ছেলে ইউসুফ (রুবীর তালাকপ্রাপ্ত স্বামী) জড়িত নন বলেও জানান তাঁরা। মনসুর ও ইউসুফ এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে আছেন।
সাইফুল, ফরিদুজ্জামান, ইকবাল ও রুবেলকে রুবী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে গতকাল রোববার আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে শনিবার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করার পর এজাবুলকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতেও এজাবুল ও তাঁর অপর চার সহযোগী ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

ওয়েবসাইটে না ঢুকেই তথ্যপ্রাপ্তি!

তথ্য পাওয়া যাবে ওয়েবসাইটে না ঢুকেই। তথ্য খোঁজার সুবিধাকে আরও সহজ করতে এবার এ সুবিধা পাওয়া যাবে। ব্যবহারকারীদের জন্য এ সুবিধা নিয়ে আসছে বিশ্বখ্যাত সার্চ ইঞ্জিন গুগল।
এ সুবিধাটি চালু করতে সর্বশেষ হালনাগাদ হিসেবে তথ্য খোঁজার ক্ষেত্রে আসছে বিশেষ কিছু পরিবর্তন। এর আগে গত বছর গুগলের নলেজ গ্রাফ প্রকল্প নামে একটি সেবা চালু হয়। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের গুগলের প্রতি আকৃষ্ট করা গেছে। এ গ্রাফ প্রকল্প চালুর ফলে কোনো বিষয়ে তথ্য খুঁজলে সেটি সার্চ ইঞ্জিনের ডান পাশে দেখা যায়। এতে দরকার তথ্যগুলো গুগলেই পেয়ে যান ব্যবহারকারীরা। এ সুবিধাটি আরও বিস্তৃত করে তথ্য খুঁজলে সেখানেই যাতে ওয়েবসাইটের প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়, সে সুবিধা করার ব্যাপারে কাজ চলছে বলে জানা গেছে। নতুন এই সুবিধার ফলে গুগলে অনুসন্ধান ফলাফলে কোনো একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশের আগেই ওই ওয়েবসাইট-সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত তথ্য প্রদর্শিত হবে।
নতুন এ সুবিধার ফলে আগের মতোই গুগলে অনুসন্ধান ফলাফলে পাওয়া মূল প্রত্যাশিত তথ্য কিংবা ওয়েবসাইটের নাম ও লিংক বিশেষ রঙে দেখা যাবে। তার নিচেই সবুজ রঙে থাকবে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের নাম। এরপর ধূসর রঙে ওয়েবসাইটের নাম দেখানো হবে, যেখানে ওই সাইট সম্পর্কে তথ্য ছোট করে তুলে ধরা হবে ব্যবহারকারীদের জন্য। এর ফলে ব্যবহারকারীর সেই ওয়েবসাইট সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা না থাকলেও তিনি মূল অনুসন্ধান ফলাফল থেকেই তা জেনে নিতে পারবেন। এ জন্য ব্যবহারকারীকে মূল ওয়েবসাইটে ঢুকতে হবে না।

কি করবেন ভালোবাসার পুরুষটি পরনারীতে আসক্ত হলে?

যখন আপনার সাথে তার সম্পর্ক হয়েছিল তখন তার এমন স্বভাব ছিলো না। দিন যত যাচ্ছে তার পরনারীতে আসক্তি বাড়ছে। প্রথম প্রথম এখানে ওখানে গিয়ে আশে পাশের নারীদের সাথে ফ্লার্ট করতো যখন, তখন ব্যাপারটাকে তেমন গুরুত্ব দেয়া হয় নি। কিন্তু এখন ধীরে ধীরে তা রীতিমতো পরকীয়ার দিকে এগুচ্ছে। ফোনে অন্য মেয়ের সাথে কথা বলা, লুকিয়ে ডেটিং-এ যাওয়া সবই চলছে সমান তালে। কিছুদিন এই মেয়ে তো কিছুদিন সেই মেয়ে, যদিও আপনার কাছে বার বার প্রতিজ্ঞা করছে সে যে এমনটা আর হবে না। কিন্তু তার পরেও আপনাকে না জানিয়েই এধরণের অনৈতিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে আপনার ভালোবাসার পুরুষটি প্রতিনিয়ত।

এমন পরিস্থিতে অনেক নারীই মানসিক অশান্তিতে ভোগেন। এই অবস্থায় না পারেন সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসতে আবার না পারেন সেটা ধরে রাখতে। যতবারই সম্পর্ক ভাঙ্গার কথা ভাবেন আপনার সঙ্গী ততবারই নিজেকে শুধরে নেয়ার প্রতিজ্ঞা করে। আর সেই আশার সম্পর্কটাকে আঁকড়ে ধরে থাকেন আপনি। কী করবেন এমন অবস্থায়? আসুন জেনে নেয়া যাক ভালোবাসার পুরুষটি পরনারীতে আসক্ত হলে কী করা উচিত।

প্রেমের সম্পর্কের মায়া ত্যাগ করুন

আপনার সম্পর্কটি যদি বিয়ে পর্যায়ে না গড়িয়ে থাকে তাহলে সম্পর্কটি থেকে সরে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কারণ এধরণের অভ্যাস যে সব পুরুষের থাকে তারা সাধারণত সারাজীবনেও শুধরাতে পারে না। যতই প্রতিজ্ঞা করুক না কেন নিজের অজান্তেই আবারো এধরণের কার্যকলাপে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে। তাই এধরণের সম্পর্ক ভেঙে ফেলা সম্ভব হলে ভেঙে ফেলুন। প্রথমে কিছুদিন মানসিক ভাবে ভেঙে পড়বেন আপনি। কিন্তু ভবিষ্যত জীবনের কথা চিন্তা করে এধরণের ক্ষতিকর সম্পর্ক থেকে সরে আসা উচিত।

সরাসরি কথা বলুন

এধরণের পরিস্থিতিতে অনেককেই মনে মনে কষ্ট পেলেও মুখে কিছু বলেন না সঙ্গীকে। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে ভালোবাসার পুরুষটির সাথে সরাসরি কথা বলে নেয়া উচিত। বিশেষ করে বিবাহিত সম্পর্ক যেহেতু চট করে ভেঙে ফেলা যায় না তাই কিছুটা ধৈর্য ধরে আপনার সঙ্গীকে বোঝাতে হবে আপনার বিষয়গুলো। তাকে সুন্দর করে জিজ্ঞেস করুন যে সে কেন এধরনের আচরণ করছে। তাকে বুঝিয়ে দিন যে এধরণের আচরণ গুলো সম্পূর্ণ অনৈতিক এবং আপনার জন্য মানসিক যন্ত্রণাদায়ক।

নিজের আত্মবিশ্বাস বজায় রাখুন

আপনার সাথে আপনার ভালোবাসার মানুষের সম্পর্কটি যেহেতু নৈতিক তাই আপনি নিজের আত্মবিশ্বাস হারাবেন না। আপনার অহেতুক ভয় কিংবা হিংসা করার প্রয়োজন নেই। কারণ নিজের অবস্থানে আপনি সঠিক আছেন। তাই ঘাবড়ে না গিয়ে সঙ্গীকে বুঝিয়ে দিন যে সে যা করছে সেটা ভুল।

আপনি আত্মবিশ্বাস ও সাহস বজায় রাখলে আপনার ভালোবাসার মানুষটি একসময় তার ভুল বুঝতে পারবে। তাছাড়া তিনি অন্য নারীর কাছে গেলেন বলেই আপনি ছোট হয়ে যান না, কিংবা আপনার যোগ্যতা কম হয়ে যায় না। টাই মোটেও হীনমন্যতায় ভুগবেন না। কিংবা নিজেকে দোষারোপ করবেন না।

মাথা ঠান্ডা রাখুন

এধরনের পরিস্থিতিতে কৌশলী হতে হবে। কারণ সঙ্গীর মন যেহেতু পরনারীর কাছে পড়ে আছে, তাই কারণে অকারনে সে আপনার সাথে ঝগড়া বাঁধাবে। আর ঝগড়া করলে পরিস্থিতি আরো বিগড়ে যাবে। তাই মাথা ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করুন। ঝগড়া হতে পারে এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলুন। নিজেদের সম্পর্কটাকে আবার প্রেমের প্রথম সময়ের মত মধুর করুন।

সঙ্গীকে সহযোগীতা করুন

ভালোবাসার পুরুষটির পরনারী আসক্তির কারণে ঝগড়াঝাঁটি না করে তাকে সাহস দিন। যে যদি প্রতিজ্ঞা করে যে এধরণের কাজ আর করবে না তাহলে তাকে বলুন যে তার উপরে আপনার পূর্ণ বিশ্বাস আছে। তাকে মানসিক ভাবে সাহায্য করলে আপনার বিশ্বাস ভাঙতে চাইবে না সে।

তবে এত কিছুরও পরেও যদি তাকে সংশোধন করতে না পারেন, তবে একটাই উপায়- সম্পর্ক ছেদ করুন।

যে ৯ টি প্রবণতা এখনই ত্যাগ করতে হবে নারীদের!

আমরা প্রত্যেকেই চাই জীবনকে পরিশ্রম ও কাজের মাধ্যমে সুন্দর করে তুলতে। কিন্তু মাঝে মাঝে অনিচ্ছাকৃত ভাবে আর নিজের অজান্তেই প্রতিনিয়ত আমরা কিছু ভুল আচরণ বা কাজ করি বা ক্ষতিকর কিছু মানসিক প্রবণতা নিজের ভেতরে লালন করে থাকি। নারীদের এমন কিছু প্রবণতা যা দৈনন্দিন জীবনকে করে তোলে অসুখী আর যা থেকে উঠে আসা তেমন কঠিন কিছু নয়, এ বিষয়টি নিয়েই রইল কিছু টিপসঃ
68549_251162405029088_405118653_n
১) অন্যদের সাথে তুলনাঃ
অন্যের সাথে, বিশেষত নিজের বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী বা চারপাশের মানুষের জীবনের সাথে নিজের জীবনের তুলনা করাটা বিশাল বোকামী।আপনি জানেন কী? এভাবে আপনি কেবল অস্থিরতা আর হতাশায়ই ভুগবেন।আপনার চেনা আরেকজন নারী হয়তো একজন ধনী স্বামী পেয়েছেন কিন্তু আপনি পেয়েছেন অত্যন্ত ভালো একজন মানুষকে। কেন অযথা আফসোস করে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি ডেকে আনবেন?working-women-childlessjpg-1866107181a7c89a_large

২) একা থাকার ভয়ঃ

দূর্ভাগ্যজনকভাবে বেশিরভাগ নারীই দ্রুত কোন সম্পর্কে জড়ান এবং সেটা ধরে রাখার চেষ্টা করেন জীবনকে বা সম্পর্কটিকে উপভোগ করার জন্যে নয় বরং তারা একা হয়ে যাবেন এই ভয়ে। দেখা যায় কোন ব্রেক আপের পরে নারীরা যত জলদি সম্ভব নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন যদিও তারা জানেন সেই মানুষটি তার যোগ্য নন। এটি ঠিক নয়, জীবন কখনোই একার নয় বরং মা বাবা, বন্ধু, সহকর্মী সবাইকে নিয়েই আপনি সুখে থাকতে পারেন, সম্পর্কে জড়াবার আগে যৌক্তিক ভাবে চিন্তা করুন। নয়তো পরে পস্তাতে হবে।

৩) সবাইকে খুশি রাখার চেষ্টাঃ
সবাইকে খুশি রাখার চেষ্টায় নারীরা নিজের জীবনকেই বঞ্চিত করেন। ‘না’ বলতে শিখুন। নিজের কাজগুলোকে, নিজের জীবনকে ও আনন্দকে গুরুত্ব দিন। আপনি ‘না’ বললেই যে মানুষ আপনাকে অপছন্দ করা শুরু করবে তা কিন্তু নয়। যৌক্তিক আর আন্তরিক ভাবে বুঝিয়ে বললে মানুষ বুঝবে না কেন!প্রথমে নিজে খুশি থাকুন তারপরে অন্যের কথা ভাবুন।

৪) ছুটি না নেয়াঃ
হ্যাঁ, আপনি কাজ ভালোবাসেন, ভালোবাসেন পরিবারের সবার যত্ন নিতেও। কিন্তু এভাবে আপনি নিজেকে সময় দিচ্ছেন না। এভাবে আপনি নিজের শরীরকে ক্ষতিগ্রস্থ করছেন। মাঝে মাঝে ব্রেক নিন। ছুটি কাটান সমুদ্র বা পাহাড়ের কাছে। সংকীর্ণতা কেটে গিয়ে মন হবে উদার।

৫) জীবনের সবকিছুর ডেডলাইন ঠিক করে রাখাঃ

প্রতিদিন যেসব কাজ করবেন সেগুলোর ডেডলাইন থাকতেই পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে জীবনে সব কিছুই আপনার প্ল্যান মত নির্দিষ্ট সময়েই ঘটবে। মাঝে মাঝে ডেডলাইন ক্রস হতেই পারে, হয়ত তার জন্যে আপনি দায়ী নন। যেমন ২৫-২৬ বছরের মাঝে বিয়ে আর ৩০ বছরের ভেতর প্রথম সন্তান নেয়ার প্ল্যান আপনার থাকতেই পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, কোন কারনে তা না হলে জীবন এখানেই শেষ। বরং নতুন করে প্ল্যান করুন আবারো। গুছিয়ে নিন। হতাশ হবেন না।

shes৬) অন্য নারীদের যৌন বা দাম্পত্য জীবন নিয়ে ঈর্ষাঃ
পরিচিত বা অপরিচিত নারীদের যৌন বা দাম্পত্য জীবন নিয়ে ঈর্ষান্বিত হতে দেখা যায় অনেক নারীকেই। এই ঈর্ষা এক অসম্ভব আকাংক্ষার জন্ম দেয় যা তার নিজের বা জীবনসঙ্গীর পক্ষে পূরণ করা কঠিন হয়ে পরে। মনে রাখুন প্রত্যেকের দাম্পত্য জীবনের একটি নিজস্ব সুর আছে। অন্য কারো সুরে সেটাকে বাজানোর চেষ্টা করবেন না। এতে দাম্পত্যে কেবল অশান্তিই হবে।

৭) প্রতিদিন হাইহিল পরার অভ্যাসঃ
উচ্চতা নিয়ে হীনম্মণ্যতায় ভোগেন অনেক নারীই। তাই প্রতিদিন হাইহিল পরার অভ্যাস গড়ে ওঠে। কিন্তু এতে আপনাকে সাময়িকভাবে আকর্ষনীয় দেখা গেলেও এটি একটু একটু করে ক্ষয় করে ফেলে আপনার মেরুদন্ডের হাড়। ফলে আপনি অকালে পঙ্গু হয়ে যেতে পারেন।

৮) নিজেকে সুখী প্রমাণ করার চেষ্টাঃ

নিজেকে অন্যদের সামনে সুখী প্রমাণ করার চেষ্টা দেখা যায় অনেক নারীর মাঝেই। এজন্যে তাঁরা নানা ধরনের মিথ্যে কথা আশ্রয় নিতেও দ্বিধা করেন না। যেমন নিজের ব্যবহার্য জিনিসপত্রের দাম, স্বামী বা সন্তানের সাফল্য, যৌনজীবন নিয়ে বাড়িয়ে বলা। এ ধরনের আচরণ দ্বারা এক ধরনের সাময়িক আত্মতৃপ্তি পাওয়া গেলেও দিনশেষে তা মিথ্যে বলেই সবার সামনে প্রমাণিত হয়। তাই এই অভ্যাস ত্যাগ করা প্রয়োজন।

৯) নিন্দা করার অভ্যাসঃ
অনেকের মাঝেই অপরের নামে খারাপ কথা বলার প্রবণতা থাকে। হোক তা সত্যি বা মিথ্যা। এই নিন্দা করার ফলে আপনি যাদের নিন্দা করছেন তাদের সম্পর্কে মানুষের খারাপ ধারণা হবার পাশাপাশি আপনাকেও কিন্তু মানুষ নিন্দুক বলেই চিনবে। আর তাছাড়া যার নামে খারাপ কথা বলছেন তার কানে কথাগুলো গেলে তিনিও মনে কষ্ট পাবেন। এ অভ্যাসটি ত্যাগ করে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলুন।এতে আপনার শত্রুর চেয়ে বন্ধুর সংখ্যাই বাড়বে।বিপদের সময় পাশে পাবেন অনেককেই!

নিজের সমস্যাজনক দিকগুলো করে ফেলুন ঠিক ঠাক আর দেখুন কি প্রশান্তিময় এক ভোর অপেক্ষা করছে আপনারই জন্যে!

পুরুষের স্বাস্থ্য: ১০টি স্বাস্থ্যঝুঁকি

পুরুষের স্বাস্থ্যের যে বড় ঝুঁকি রয়েছে, এগুলোর সবই প্রতিরোধ করা যায়। দীর্ঘ, সুস্থ জীবনের জন্য জানা চাই:
মাত্র ১০টি স্বাস্থ্যঝুঁকি সামলালেই হলো। বিখ্যাত সংস্থা সিডিসি এবং আরও কয়েকটি স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান থেকে জানা গেল।

১. হূদরোগ
পুরুষের স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রধান ঝুঁকি তো বটেই। আর স্বাস্থ্যকর জীবন পছন্দ মানলে হূদস্বাস্থ্য ভালো থাকবে অবশ্যই।
 ধূমপান করা যাবে না। তামাক, জর্দা, গুল চিবানো চলবে না। কেউ ধূমপান যদি করে, তার পাশে থাকা যাবে না। বারণ করতে ব্যর্থ হলে দূরে সরে যেতে হবে।  স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। প্রচুর শাকসবজি, টাটকা ফল, গোটা শস্যদানা, আঁশ ও মাছ। যেসব খাবারে চর্বি বেশি, নুন বেশি সেসব খাবার বর্জন করা ভালো।  রক্তে যদি থাকে উঁচুমান কোলেস্টেরল, থাকে যদি উচ্চরক্তচাপ তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো চিকিৎসা নিতে হবে।  প্রতিদিন জীবনযাপনের অংশ হবে শরীরচর্চা।  স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে হবে।
 মদ্যপান করে থাকলে বর্জন করতে হবে। ডায়াবেটিস যদি থাকে, তাহলে রক্তের সুগার মান বজায় রাখতে হবে।
 মানসিক চাপকে মোকাবিলা করতে হবে।

২. ক্যানসার
পুরুষের মধ্যে ক্যানসারের কারণে যাদের মৃত্যু হয়, শীর্ষে রয়েছে ফুসফুসের ক্যানসার। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির অভিমত: এর কারণ হলো ধূমপান। এরপর রয়েছে প্রোস্টেট ক্যানসার ও কোলেস্টেরল ক্যানসার।
ক্যানসার প্রতিরোধ করতে হলে—
 ধূমপান করা যাবে না। তামাকপাতা, জর্দা, গুল চিবানো যাবে না।
 পাশে কেউ ধূমপান করলে দূরে সরে যেতে হবে।  দৈনন্দিন জীবনে শরীরচর্চা থাকতেই হবে।
 স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে হবে।  ফল ও শাকসবজিসমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর আহার। এড়িয়ে যেতে হবে চর্বিবহুল খাবার।  কড়া রোদে বেশিক্ষণ থাকা ঠিক নয়। ছাতা ও মাথাল ব্যবহার, সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত।  মদ্যপান বর্জন করতে হবে।  নিয়মিত ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ও সাহায্য নিতে হবে।
 ক্যানসার জনক বস্তু অর্থাৎ কার্সিনোজেন যেমন, রেড়ন, এসবেসটস বিকিরণ ও বায়ুদূষণের মুখোমুখি যাতে না হতে হয়, সে রকম ব্যবস্থা করা।

৩. আঘাত
সেন্টার ফর ডিজিজ কনট্রোল সিডিসির মত অনুযায়ী পুরুষের মধ্যে মারাত্মক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হলো, মোটরগাড়ি দুর্ঘটনা। ভয়ানক দুর্ঘটনা এড়াতে হলে—
 গাড়িতে সিটবেল্ট পরতে হবে।  গাড়ি চালানোর সময় গতিসীমা মেনে চলা উচিত।  মদ বা অন্য কোনো নেশা করে গাড়ি চালানো উচিত নয়।  ঘুম ঘুম চোখে গাড়ি চালানো ঠিক নয়।
মারাত্মক দুর্ঘটনার অন্যান্য বড় কারণ হলো, পতন, পিছলে পড়ে যাওয়া, বিষক্রিয়া। বায়ু চলাচল হয় এমন স্থানে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা উচিত, স্নানঘরে পিছলে যায় না এমন ম্যাট ব্যবহার করা উচিত।
৪. স্ট্রোক
স্ট্রোকের কিছু ঝুঁক আছে, যা পরিবর্তন করা যায় না যেমন, পারিবারিক ইতিহাস, বয়স ও গোত্র। তবে আরও কিছু ঝুঁকি আছে যেগুলো বেশ বদলানো যায়।
 ধূমপান করা ঠিক নয়।  রক্তচাপ বেশি হলে বা রক্তে কোলেস্টেরল মান বেশি থাকলে চিকিৎসকের চিকিৎসা ও পরামর্শ মেনে চলা উচিত।  খাবারে যদদূর সম্ভব স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও কোলেস্টেরল কম থাকা ভালো। ট্রান্সফ্যাট একেবারে বাদ দিলেই মঙ্গল।  স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা উচিত।  প্রতিদিনের দিন যাপনে ব্যায়াম অবশ্যই থাকা উচিত।  ডায়াবেটিস যদি থাকে, তাহলে রক্তের সুগার যেন থাকে নিয়ন্ত্রণে।  মদ্যপান করে থাকলে বর্জন করা উচিত।

৫. সিওপিডি
শ্বাসযন্ত্রের ক্রনিক রোগ যেমন ব্রংকাইটস এবং এমফাইসেমা-এদের বলে সিওপিডি। পুরো মনে করলে দাঁড়ায় কুনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ। এ রোগ ঠেকাতে হলে—
 ধূমপান কখনই নয়। কেউ ধূমপান করলে পাশে, সে ধোঁয়াও গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা উচিত।  রাসায়নিক বস্তু এবং বায়ু দূষণের মুখোমুখি যত কম হওয়া যায়, ততই মঙ্গল।
৬. টাইপ ২ ডায়াবেটিস
সবচেয়ে সচরাচর ডায়াবেটিস টাইপ ২ ডায়াবেটিস রক্তে বেড়ে যায় সুগার।
একে নিয়ন্ত্রণ না করলে হয় নানা রকমের জটিলতা, হূদরোগ, অন্ধত্ব, স্নায়ু রোগ, কিডনির রোগ।
একে প্রতিরোধ করতে হলে—
 শরীরে বেশি ওজন থাকলে বাড়তি ওজন ঝরাতে হবে।
 ফল, শাকসবজি ও কম চর্বি খাবারে সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে।  দৈনন্দিন জীবনযাপনে থাকবে অবশ্যই ব্যায়াম।

৭. ফ্লু
ইনফ্লুয়েঞ্জা হলো সচরাচর একটি ভাইরাস সংক্রমণ। সুস্থ শরীরের মানুষের জন্য ফ্লু এত গুরুতর নয় বটে, তবে ফ্লুর জটিলতা মারাত্মক হতে পারে, বিশেষ করে যাদের দেহ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল বা যাদের ক্রনিক রোগ রয়েছে।
ফ্লু থেকে রক্ষা পেতে হলে বছরে একবার ফ্লুর টিকা নিতে হবে।

৮. আত্মহত্যার মতো দুর্ঘটনা
পুরুষের স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে বড় একটি হলো আত্মহত্যা। অনেক দেশে, সমাজে পুরুষের মধ্যে আত্মহত্যার কারণ হলো বিষণ্ন্নতা। মন বিষণ্ন মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। চিকিৎসা তো রয়েছেই। নিজের সর্বনাশ করা কেন? যতই প্রতিকূল অবস্থাই হোক, যত বিপদই হোক, একে অতিক্রম করাই তো মানুষের কাজ।

৯. কিডনির রোগ
ডায়াবেটিস বা উচ্চরক্তচাপের প্রথম জটিলতা হলো কিডনি বিকল হওয়া। ডায়াবেটিস বা উচ্চরক্তচাপ থাকলে চিকিৎসকের চিকিৎসা ও পরামর্শ নিতে হবে।
 স্বাস্থ্যকর আহার। নুন কম খেতে হবে।
 প্রতিদিন ব্যায়াম
 ওজন বেশি থাকলে ওজন ঝরানো।
 ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ।

১০. আলঝাইমারস রোগ
এই রোগ প্রতিরোধ করার কোনো প্রমাণিত উপায় নেই। তবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া যায়—
 হূদযন্ত্রের যত্ন নেওয়া ভালো। উচ্চরক্তচাপ থাকলে হূদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস উঁচুমান কোলেস্টেরল থাকলে আলঝাইমার রোগের ঝুঁকি বাড়ে।  মাথায় যাতে আঘাত না লাগে, দেখা উচিত। মাথায় আঘাত লাগার সঙ্গে ভবিষ্যতে আলঝাইমার রোগ হওয়ার একটি সম্পর্ক আছে, বলেন অনেকে।  স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা উচিত।
 প্রতিদিন ব্যায়াম।  ধূমপান বর্জন।  মদ্যপান বর্জন।
 সামাজিক মেলামেশা চালিয়ে যান।
 মানসিক ফিটনেস বজায় রাখতে হবে। মগজ খেলানোর জন্য চর্চা, ব্যায়াম। নতুন জিনিস শেখার চেষ্টা করা।

শেষ কথা
স্বাস্থ্যের ঝুঁকিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।
ঝুঁকিগুলোকে মনে হবে ভয়ের কিছু, তবে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, বরং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য যা কিছু দরকার করা উচিত।
স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ, দৈহিকভাবে সক্রিয় থাকা, ধূমপান করে থাকলে ছেড়ে দেওয়া, নিয়মিত চেকআপ এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম ও চলাফেরায় সতর্ক থাকা, সবই করা ভালো। প্রতিরোধমূলক এসব কাজকর্ম চালিয়ে গেলে দীর্ঘ, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।

অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
পরিচালক, ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস, বারডেম হাসপাতাল
সাম্মানিক অধ্যাপক, ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, জানুয়ারী ০৫, ২০১০

মূত্রনালির কিছু সমস্যা ও সমাধান

শরীর থেকে বর্জ্য নিঃসরণ কিডনি ও মূত্রতন্ত্রের মূল কাজ। শরীরে পানি ও লবণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও কিডনি মূত্রতন্ত্র রাখে বিশেষ অবদান। বর্জ্য নিঃসরণে মূত্রতন্ত্রের অপর্যাপ্ত ক্ষমতা বা অক্ষমতায় এসব বর্জ্য শরীরে জমা হয়ে আমাদের শরীরের সুস্থ আবহকে বিঘ্নিত করে।

স্বাভাবিক প্রস্রাবের অভ্যাস কেমন?
একজন মানুষ ২৪ ঘণ্টায় সাধারণত ২ দশমিক ৫ থেকে তিন লিটার পানি বা পানীয় পান করে থাকে।
কিডনির কাজ করার ক্ষমতা স্বাভাবিক থাকলে, পারিপার্শ্বিক আবহাওয়ার খুব বড় তারতম্য না হলে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৫০০ সিসি প্রস্রাব কিডনি তৈরি করে থাকে। আমাদের শরীর থেকে কিছু পানি ঘাম আকারে, কিছু পানি শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে, কিছু পানি মলের সঙ্গে বের হয়ে যায়।
যেহেতু আমাদের প্রস্রাবের থলির স্বাভাবিক ধারণক্ষমতা ৩০০ সিসি, তাই স্বাভাবিকভাবে একজন মানুষ ২৪ ঘণ্টায় পাঁচবার প্রস্রাব করে থাকে।
সাধারণত দিনে চারবার আর রাতে একবার।
তবে নানাবিধ স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক কারণে বারবার প্রস্রাবের প্রবণতা দেখা দিতে পারে, আবার কমেও যেতে পারে। যদি আমরা অতিরিক্ত পানি বা তরলজাতীয় খাবার খাই, তবে প্রস্রাবের পরিমাণ বেশি হয়, বারবার প্রস্রাব হয়। বারবার প্রস্রাব হয় ডায়াবেটিসেও। অন্যদিকে পুরুষের ক্ষেত্রে বয়োবৃদ্ধির সঙ্গে বয়সজনিত স্বাভাবিক পরিবর্তন হিসেবেই বৃদ্ধি ঘটে প্রোস্টেট গ্রন্থির। প্রোস্টেট গ্রন্থি প্রস্রাব প্রবাহে বাধার সৃষ্টি করে। ফলে প্রস্রাবের থলি সব সময় সম্পূর্ণ খালি হয় না। আর বৃদ্ধি পাওয়া প্রোস্টেট সৃষ্টি করে প্রস্রাবের থলির মুখে এক ধরনের অস্বস্তি।
বয়োবৃদ্ধির কারণে নারী-পুরুষনির্বিশেষে সবার প্রস্রাবের থলিরই ধারণক্ষমতা কমে যায়। বারবার প্রস্রাব করার প্রবণতা বেড়ে যায়।

প্রস্রাব করা বা না করার এই নিয়ন্ত্রণ কি সব সময় রক্ষা করা সম্ভব?
না। তবে অবশ্যই তা স্বাভাবিক নয়। নানা ধরনের স্নায়ুবিক অসুস্থতা, প্রস্রাবের থলির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে যেসব স্নায়ু তার বৈকল্য বা সমন্বয়হীনতা, প্রস্রাব প্রদাহে, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বৃদ্ধি ও প্রস্রাবের থলির নানাবিধ অসুস্থতায় এ নিয়ন্ত্রণ সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। ব্যক্তি যখন এ নিয়ন্ত্রণ হারায়, তখন সে আর পারে না নিজ ইচ্ছানুসারে প্রস্রাব করতে। কখনো কখনো কারও কারও ক্ষেত্রে ঘটে অনভিপ্রেত অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিজের অজান্তে প্রস্রাব ঝরে যাওয়ার মতো বিব্রতকর ঘটনা, যা কেবল অসুস্থতাই নয়, সামাজিকভাবে বিব্রতকরও বটে। তবে এসবই নিয়ন্ত্রণযোগ্য ও নিরাময়যোগ্য। প্রয়োজন শুধু সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

স্বাভাবিক প্রস্রাব কেমন?
স্বাভাবিক প্রস্রাব পরিষ্কার, রংহীন বা হলুদাভ। প্রস্রাব পরিত্যাগের প্রক্রিয়াটি বাধাহীন, ব্যথাশূন্য সম্পূর্ণই স্বস্তিকর। প্রক্রিয়াটি শুরু করা যায় নিজ ইচ্ছায়, প্রয়োজন হয় না কোনো চাপ দেওয়ার। গতি থাকে একটানা, শেষ হয় ২০ সেকেন্ডে।
প্রক্রিয়াটি শেষ করে অনুভব করা যায় এক স্বাভাবিক পরিতৃপ্তি।
যদি প্রস্রাব হয় ঘোলা, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত বা অস্বাভাবিক দুর্গন্ধযুক্ত, প্রক্রিয়াটি যদি হয় ব্যথা, জ্বালা-যন্ত্রণাপূর্ণ, তাহলে এটি স্বাভাবিক নয়। এমনটা হতে পারে প্রস্রাবের প্রদাহসহ নানাবিধ অসুস্থতায়। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন সঠিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ। প্রস্রাবের রং যদি লাল হয় বা থাকে, তাতে রক্তের অস্তিত্বের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। ব্যথাশূন্য প্রস্রাব পরিত্যাগ-প্রক্রিয়ায় যদি প্রস্রাবে রক্ত থাকে, তবে তা নিতে হবে অতীব জরুরি ও ঝুঁকিপূর্ণ স্বাস্থ্যসমস্যা হিসেবে। সামান্য কালক্ষেপণও এ ক্ষেত্রে হতে পারে অসামান্য ক্ষতির কারণ। অথচ সময়োপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ, রোগনির্ণয় ও উপযুক্ত চিকিৎসায় এ ধরনের জীবনঘাতী অসুস্থতা নিয়ন্ত্রণ নয় শুধু, অনেক ক্ষেত্রেই নিরাময় সম্ভব।

কাজী রফিকুল আবেদীন
সহকারী অধ্যাপক, ইউরোলজি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, নভেম্বর ০২, ২০১১

কেজেল ব্যায়াম: পুরুষদের জন্য গাইড

আপনি হয়তো ভাবছেন কেজেল ব্যায়াম/ কেগেল ব্যায়াম (Kegel exercises) শুধু মহিলাদের জন্য হয়। আসলে তা নয়। মহিলারা এই ব্যায়াম থেকে যতটা সুবিধা লাভ করতে পারেন, পুরুষরাও ঠিক ততটা সুবিধা নিতে পারবেন।

কেগেল ব্যায়াম শ্রোণী মেঝের পেশী সুসংগঠিক করে মূত্রসংবহনতন্ত্র, বৃহদন্ত্র ও পায়ুপথের কার্যপ্রণালী জোরদার করে এবং যৌনক্রিয়া ক্ষমতাকে উন্নিত করতে পারে। মহিলাদের মত পুরুষেরাও যখন তখন এই ব্যায়াম করতে পারেন। কিন্তু সবারই উচিত ব্যায়ামটি করার আগে সঠিক মাংশপেশী সনাক্তকরণ এবং সঠিক পন্থা জেনে নেয়া।

পুরুষদের জন্য কেজেল ব্যায়ামের উপকারিতা

শ্রোণী মেঝের পেশী অনেক কারণে ক্ষতিগ্রস্থ বা দূর্বল হয়ে যেতে পারে। যেমন প্রোস্টেড গ্রাণ্ডে টিউমার বা অন্য কোনো সার্জারী, ডায়াবেটিস ইত্যাদি। কেজেল ব্যায়াম পুরুষদের পেলভিস ফ্লোরের মাসল শক্তিশালী করে যখন তখন প্রস্রাবের বেগ, ঠিক মতো প্রস্রাব না হওয়া সহ আরো অনেক রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে।

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে পুরুষদের জন্য কেজেল ব্যায়াম যৌনমিলনের সময় লিঙ্গ উত্থানে সমস্যা, অকাল বীর্যপাত, দ্রুত বীর্যপাতের মত সমস্যারও সমাধান দিতে পারে।

পুরুষেরা কিভাবে কেজেল ব্যায়াম করবেন

পেলভিস ফ্লোর মাসল অর্থাত শ্রোণী মেঝের পেশী খুঁজে বার করা এবং সেটা কিভাবে সংকুচন/প্রসারন করবেন- সেটা কিছুটা কষ্টসাধ্য হলেও অসম্ভব কিছু নয়।

১. সঠিক পেশী খুঁজে নিন
পেটে বায়ু জমলে সেটা বের হয়ে যাওয়া রোধ করতে গেলে বা প্রস্রাব করা কালে হঠাত প্রস্রাব বন্ধ করে দিলে পেটের নিম্ন ভাগে পিছনের দিকে যে পেশীগুলো আঁটসাঁট হয়ে যায় সেগুলোই পেলভিস ফ্লোর মাসল অর্থাত শ্রোণী মেঝের পেশী। আয়নায় দেখলে দেখবেন লিঙ্গ কিছুটা তলপেটের কাছাকাছি চলে আসে এবং অণ্ডথলি উপরের দিকে উঠে আসে।

২. পন্থা/পদ্ধতি/টেকনিক সঠিককরণ
ব্যায়ামের আগে ঠিকমতো প্রস্রাব করে নেবেন। প্রথম দিকে উচিত হবে মেঝেতে শুয়ে এই ব্যায়াম করা। মেঝেতে শুয়ে পেলভিস ফ্লোর মাসল ৩ সেকেণ্ড সংকুচন করে রাখুন, তারপর ৩ সেকেণ্ড প্রসারণ করে রাখুন। এভাবে টানা কয়েকবার করবেন। তবে খুব বেশী না। মাসল ধীরে ধীরে শক্তিশালী হতে শুরু করলে বসে, দাঁড়িয়ে বা চলন্ত অবস্থায়ও করতে পারবেন।

৩. মনোযোগ বজায় রাখুন
ভালো ফলাফলের জন্য যখন সংকুচন করবেন তখন গভীর ভাবে মনোযোগ দিয়ে করবেন। অনেকেই ভুল করে পেটের বা তলপেটের, উরু, এবং নিতম্বের পেশী সংকুচন করে ফেলেন। এটা ঠিক নয়। দম বন্ধ বা ধরে রাখবেন না। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখুন।

৪. কতবার করবেন
প্রত্যহ ৩ টা সময় (যেমন সকালে দুপুরে বিকেলে) চেষ্টা করবেন। প্রতিবার ১০ রেপস্-এর (repetitions) ৩ সেট করবেন।
(৩ সেকেণ্ড সংকুচন + ৩ সেকেণ্ড প্রসারণ = ১ রেপ। ১০ রেপ = ১ সেট)

মাঝে মাঝে অন্য কাজের সময় (যেমন দাঁত মাজা) এটা প্রাকটিস করে নিতে পারেন। তলপেটে চাপ পড়ে এমন কিছু কাজকর্মের সময়ও (যেমন হাঁচি, কাশি, হাসা, ভারী বস্তু উত্তোলন) আপনার পেলভিস ফ্লোর মাসল সংকুচন হতে পারে। এছাড়া যৌনমিলনের সময় পেলভিস ফ্লোর মাসল সংকুচন করে লিঙ্গ আরো অধিকক্ষণ উত্থিত রাখতে পারেন বা অকাল বীর্যপাত রোধ করতে পারেন।

সমস্যা হলে-
ব্যায়াম করতে গিয়ে সমস্যায় পড়লে সাহায্য চাইলে কার্পণ্য বা লজ্জা করবেন না। নিকটস্থ স্বাস্থ্যসেবা বা ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করবেন যাতে তারা আপনাকে সঠিক পেশী সনাক্তকরণ এবং ব্যায়ামের পদ্ধতি শিখিয়ে দিতে পারেন।

কিছু ক্ষেত্রে biofeedback প্রশিক্ষণ সাহায্য করতে পারে। এই ধরণের সেশনে, ডাক্তার বা অন্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীরা মলদ্বার দিয়ে একটি Monitoring Probe প্রবেশ করিয়ে পুরো ব্যাপারটা মনিটরে পর্যবেক্ষণ করেন। পেলভিস ফ্লোর মাসল সংকুচন করার পর একটা মনিটরে দেখা যাবে যে আপনি সঠিক পেশী সংকুচন করতে পারছেন কিনা, এবং পারলে কতক্ষণ পারছেন।

কখন ফলাফল পাবেন

নিয়মিত কেজেল ব্যায়াম করলে ৩ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে অনিয়ন্ত্রিত প্রস্রাবের সমস্যা দূর হয়ে যেতে পারে। লিঙ্গ উত্থানের সমস্যা সমাধান হতে ৩ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। অব্যাহত সুবিধার জন্য এই ব্যায়াম প্রত্যহ করে যাওয়া উচিত।

(কেগেল ব্যায়াম: মহিলাদের জন্য গাইড।)
মহিলাদের জন্য পেলভিস পেশীর ব্যায়ামের জন্য ৩টি আসন আছে। এগুলো পুরুষেরাও করতে পারেন।

গ্রেট সেক্স লাইফের পাঁচটা মন্ত্র

বেডরুমের রোমান্সকে আরও রোমাঞ্চকর করতে চান৷ একটা বই আপনাকে এই বিষয়ে ভীষণ ভাবেই সাহায্য করবে৷ লেখক বারবারা এবং এলান পিসের লেখা নতুন বইটাতে আপনার সেক্স লাইফকে মধুর করার সব রসদই মজুত রয়েছে৷ চলুন সেই বই অনুসারে পাঁচটা নিয়্ম জেনে নিই৷ যা মেনে চললে আপনার দাম্পত্য জীবনের সুখ আরও বাড়বে৷ এর সঙ্গে যারা বিয়ে করার বিষয়ে ভাবছেন তাদেরও বিবাহিত জীবন মধুর হবে৷

পুরুষদের মধ্যে হাস্যরস বোধ যথার্থ মাত্রায় থাকা উচিত৷ যদি বেডরুমে আপনি আপনার স্ত্রীকে প্রান খুলে হাসাতে পারেন তাহলে স্ত্রীর মন পেতে আপনার বেশী সময় লাগবে না৷

বেশীরভাগ স্মার্ট মহিলারাই প্রেমের ক্ষেত্রে ভুল মানুষটিকে বাঁছেন৷ অনেক গবেষণাতেই এই তথ্য প্রমানিত হয়েছে৷ হৃদয় গঠিত ব্যাপারে তারা একেবারেই ভুল সিদ্ধান্ত নেন৷ তাই স্মার্ট মহিলাকে জীবন সঙ্গী হিসাবে বাঁছার আগে তাঁকে একবার যাচাই করে নেবেন৷

মহিলারা সে সব পুরুষদের সঙ্গেই দৈহিক সম্পর্ক গড়তে পছন্দ করেন যারা দেখতে ভীষণই স্মার্ট৷ যারা আকর্ষক পোশাক পড়েন৷ পোশাকের সঙ্গে মানান সই টাই পড়েন৷ হাতে এক্সপেনসিভ ঘড়ি পড়েন৷ সেই সব পুরুষদের প্রতিই মহিলারা বেশী আকৃষ্ট হন৷ তাই প্রেমিকাকে মনের কথাটা জানানোর আগে নিজেকে বদলে ফেলুন৷ আপনার প্রেম কখনও বিফল হবে না৷ অপরদিকে হাবিরাও স্ত্রীর মন পেতে স্মার্ট লুক আনার চেষ্টা করুন৷

লেখকের মতে যে সব পুরুষরা ঘরের কাজকর্ম করেন৷ মহিলারা তাদের বেশী সেক্সী বলে মনে করেন৷ তাই বৌ এর মন পেতে মাঝে মধ্যে ঘরের কাজ করুন৷ এতে প্রেম বাড়বে৷

বেশীর ভাগ পুরুষই মনে করেন মহিলারা সব সময় কাজ করতে পারেন না৷ কিন্তু বর্তমান পুরুষদের এই চিন্তাধারা ভুল বলে প্রমাণিত হয়েছে৷ পুরুষদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মহিলারা এগিয়ে চলেছেন৷ আজও অনেক পুরুষরা বিয়ের পরে স্ত্রী কে চাকুরী করার অনুমতি দেন না৷ এক্ষেত্রে দাম্পত্য জীবনে অনেক স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি হয়৷ কিন্তু জীবনকে রঙীন করতে হলে পুরুষদের এই ধারনা বদলাতে হবে৷ নিজের মতের পাশাপাশি স্ত্রীর মতামতকেও প্রাধাণ্য দিতে হবে৷ লেখকের মতে এক্ষেত্রে মহিলাদের আরও দৃঢ় হতে হবে৷

বিবাহোন্মুখ পোলাপাইনদের জন্য অবশ্যপাঠ্যঃ প্রয়োজনীয় বিবাহ প্রস্তুতি

বয়স হয়ে গেলো, বসন্ত একের পর টা টা দিচ্ছে, অথচ অনেক এখন আবিয়াইত্যা। আমি পোলাপাইনদের কথা বলছি। যারা বিয়ে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখে বসে আছে, বিয়ের পর কি কি করবে তার উষ্ণ পরিকল্পনাও করে রেখেছে। গল্প-উপন্যাস-মুভি-নাটক পড়ে/দেখে বা বন্ধুদের কথা শুনে কল্পনার ফানুস উড়াচ্ছে, অথচ ফানুস কিন্তু হঠাৎই ফুসস্ হয়ে যাবে, যদি কল্পনাটা বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা না হয়।যেহেতু অনেকেরই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নাই দৈহিক সম্পর্ক বা বিবাহ পরিবর্তী প্রাথমিক কার্যকলাপের তাই অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই পোলাপাইনরা নানা রকম ভুল ধারনা নিয়ে বসে থাকে। তার সাথে পর্নোছবি-বই (চটি) আর অনেকের বাড়িয়ে বলা অভিজ্ঞতায় অনেকেই বিভ্রান্ত হয়। কেউবা একটা নির্দিষ্ট ফরম্যাটে চিন্তা ভেবে বসে থাকে, আর বিয়ের পর তার এদিক ওদিক হলে টেনশনে পরে। কেউ বা হীনমন্যতায় ভুগে বিয়ের দিকেই যেতে চায় না। দ্বিতীয় শ্রেনীর অবস্থা আরো কাহিল করে রাস্তায় বিলানো মঘা-ইউনানীর লিফলেটগুলো।এটা একটা ইন্ট্রো। বিস্তারিত পরের পর্ব গুলোতে আসবে। বিষয় গুলো আসবে বিয়ে ঠিক হবার পর কি কি করনীয় তার ভিত্তিতে।আবিয়াইত্যাদের জন্য বিবাহিত ভাইদের একটা উপহার সরুপ। তাই বিবাহিত ভাইদের মন খুলে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শমুলক কমেন্টের আহবান জানানো হচ্ছে। এদের ভয় না দেখিয়ে কিভাবে বিয়ের জন্য ভালোভাবে তৈরি করে দেয়া যায় সেই প্রচেষ্টা থাকা উচিত।

বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে, আংটি পড়ানো শেষ। এবার বিয়ের তোরজোর চলছে। গায়ে হলুদ-বিয়ে আর বৌভাতের ডেট ঠিক করা হবে, এরপর মোহরানা, কমিন্যুটি সেন্টার, ক’জন অতিথী, গেটে কত দিতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। ওসব মুলতঃ অভিভাবকরাই করবেন। পাত্র হিসেবে আপনার কাজ কি?

করনীয় ১:
মোবাইল নম্বর এতদিনে অবশ্যই আদান-প্রদান হয়েছে! এটা খুবই জরুরী। বিয়ের আগে অনেক কিছুই ফিক্স করা যাবে মোবাইলের মাধ্যমে। মানসিক-শারীরিক অনেক বিষয় আলোচনায় আসবে যা বিয়ে পরবর্তী জীবনের জন্য খুব প্রয়োজনীয়।অপশনালঃ বিয়ের ডেট ঠিক করা নিয়ে একটু বলি। অনেকেই বিয়ের রাতে আবিস্কার করে যে তার নববধুর পিরিয়ড চলছে। সো এতদিনের “প্রথম রাইতে বিলাই মারা”র প্ল্যান কুপোকাত। এটা যদিও খুব জরুরি কোন বিষয় না, পিরিয়ড শেষ হয়ে যাবে সর্বোচ্চ ৩-৪ দিনের মধ্যে। তারপর প্ল্যানমাফিক…তবে মেয়ে বা আত্মীয়াদের মধ্যে কারও সাথে যদি ফ্রি থাকেন তবে একটা ট্রাই করা যেতে পারে। যেমনঃ আপনার ভাবী আছে, তাকে বলুন যেনো বিয়ের সময় মেয়ের কোন শারীরিক সমস্যা না থাকে। ভাবীরা এই লাইনে “আকেলমন্দ”, তাই ইশারা বুঝে ঠিকই হবুবধুকে পরবর্তি পিরিয়ডের ডেট জিজ্ঞেস করে সেভাবে বিয়ের ডেট ফিক্সে ভুমিকা রাখতে পারেন। তারপরেও অনেক সময় বিয়ের টেনশনে অনেক সময় মেয়েদের অসময়ে পিরিয়ড শুরু হয়ে যায়। তাই আবারও বলছি এটা বড় কোন ইস্যু না।

করনীয় ২:
হবু বধুর সাথে ফ্রী হয়ে নিন। টেলিফোনে আলাপ যেহেতু শুরু হয়ে গেছে। এইবার তার সাথে শারীরিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ শুরু করুন। তবে রয়ে-সয়ে। সরাসরি প্রথম ১/২ দিনেই শুরু করলে কিন্তু বিপদ। কিভাবে শুরু করবেন নিজেই চিন্তা করুন। মনে রাখবেন এই আধুনিক যুগে মেয়েরা কিন্তু সবই জানে। জানার সোর্স আপনার মতই। এটাকে নেগেটিভলি দেখার কিছু নাই। বরং পজেটিভলি দেখুন, ভাবুন তার এই জানা আপনার কাজকে সহজ করে দেবে। তবে মেয়েরা জানলেও প্রকাশ করবে না, কারন তার মনে ভয় কাজ করবে যে আপনি তাকে ভুল বুঝতে পারেন। তাই প্রথম স্টেপ আপনি নিন। জানা বিষয় আলাপ শুরু করুন, তবে তত্ত্বীয় বিষয় গুলো।

করনীয় ৩:
শারিরীক ভাবে সুস্থ থাকুন ও শক্তিশালী হোন। না, কোন বটিকা বা সালসা খাওয়ার কথা বলবো না। স্রেফ মধু খান ডেইলি এক চামচ করে। দুধে মিশিয়ে খেলে আরো ভালো। আর স্বাভাবিক খাবারতো খাবেনই। ভুড়িটাকে বেশি বাড়তে দিয়েন না। বাসর রাতে ফার্স্ট ইম্প্রেশনটা খারাপ হয়ে যাবে তাইলে। আর প্রচুর পানি খান। চেহারা ফ্রেশ থাকবে। পরর্বতী পর্বে আলাপ হবে সরাসরি বাসর রাতের প্রস্তুতি নিয়ে। কি কি কিনতে হবে আর সাথে রাখতে হবে।এই পোষ্টের বিষয়ে কারও কোন প্রশ্ন থাকলে করার আহবান জানাচ্ছি। এবং এই লাইনের গাযীদের মতামত আশা করছি।

করনীয় ৪:
লুব্রিকেন্ট বা জেল কিনে রাখুন। ভালো কোন ফার্মেসী থেকে লুব্রিকেন্ট কিনে রাখুন। বন্ধুরাও অনেক সময় গিফট দেয়, কিন্তু সে আশায় বসে থাকলে বিপদ। এই লুব্রিকেন্ট বলতে গাড়ীর লুব্রিকেন্ট বুঝানো হয় নি। এটা সার্জিক্যাল জেল। ভালো মানের একটা লুব্রিকেন্টের নাম বলি। জনসন এন্ড জনসনের “KY Gelly”। বড় ফার্মসীগুলোতে পাবেন, KY Gelly বল্লেই দিবে। আর এক টিউব দিয়ে দশ-বারোজন বন্ধুর সংসার শুরু হয়ে যাবে। কারন একজনের বেশি লাগে না। এই সার্জিকেল জেল না পেয়ে অনেকে নারিকেল তেল, গ্লিসারিন ইত্যাদি ব্যবহার করে। এদুটোই কিন্তু রাফ, ইভেন কনডম ফেটে যেতে পারে। গ্লিসারিন কখনও র’ অবস্থায় ইউজ করবেন না। পানি মিশিয়ে ব্যবহার করুন। তবে গ্লিসারিনের ব্যবহার সাধারনত নিরুৎসাহিত করা হয়।কেন ও কি ভাবে ব্যবহার করবেন:আমরা সবাই কম বেশি জানি যে অনাঘ্রাতা মেয়েদের যৌনাংগের প্রবেশপথটা খুব সরু থাকে। অর্থ্যাৎ চাইলেই সহজে সেখানে আপনার অংগ প্রবেশ করবে না। এর সাথে আছে হাইমেন বা বা সতিচ্ছেদ বা পর্দার প্রতিরোধ। তাই প্রথমদিকে প্রবেশ করাতে ব্যর্থ হয়ে অনেক হতাশ হয়ে পড়ে। এটা নিয়ে টেনশন না করে আপনি প্রথমে আপনার এসাইনমেন্ট ঠিক করুন “প্রবেশ করাতে হবে”।এই সরু পথে জোর করেই প্রবেশ করতে হবে, জোর করা মানেই শক্তি প্রয়োগ, এবং স্বাভাবিক ভাবেই এতে আপনার সংগীনি ব্যাথা পাবে। তাই শক্তি প্রয়োগটা গোয়াড়ের মত না করে ভালোবাসার সাথে করুন। দুইস্থানেই জেল লাগিয়ে এবার চেষ্টা করুন, একদিনে না হলে দুইদিনে হবে। আরো এক/দুইদিন বেশি লাগলেও পরিশ্রম কমবে, দুঃশ্চিন্তা কমবে, ব্যাথা কম পাবে, শুরু করা যাবে তাড়াতাড়ি।কিছু ভুল ধারনাঃপ্রথমতঃ অনেকে প্রথম প্রবেশের সময় নববধুর কুমারিত্বের পরীক্ষা নেয়ার ইচ্ছাও মনে মনে পোষন করে। ভুলেও একাজ করবেন না। একটা প্রচলিত ধারনা আছে কুমারী বা অনাঘ্রাতা মেয়ে মানেই সতিচ্ছেদ বা হাইমেন থাকবে, তাই স্বামীই সেটা বিদীর্ন করে বউনি করবে। এটা এই যুগে হাস্যকর। সাইকেল চড়লে-দৌড়াদৌড়ি-খেলাধুলা করলে হাইমেন ফেটে যাবেই, তাই সেটা ন্যাচারাল, স্বামীকে দায়িত্ব নিতে হবে না। কেউ হাইমেনের উপস্থিতি না পেলে আবার নববধু সম্বন্ধে খারাপ ধারনা করে বসে থাকবেন না।দ্বিতীয়তঃ আর একটা ভুল ধারনা হলো রক্তপাত না হলে মেয়ে কুমারী না। এটা বিশ্বাস করা মুর্খতার সামিল। যদি হাইমেন ফেটে গিয়ে থাকে আগেই, বা আপনি যদি লুব্রিকেন্ট ইউজ করেন তবে অনেক সময়ই রক্তপাত নাও হতে পারে। তাই এসব কোন মানদন্ড না।তৃতীয়তঃ বিভিন্ন পর্নো কাহিনী পড়ে অনেকের ধারনা হয় যে সেক্স করার সময় যোনীপথ পিচ্ছিল কামরসে ভেজা থাকবে, তাই উঠো..যাতো, আলাদা লুব্রিকেন্ট ইউজের প্রয়োজন নেই। আসলে ব্যাপারটা তা না। এই ফ্লুইডটা বের হবে উত্তেজিত হলেই। আর নতুন নতুন বাবা-মাকে ছেড়ে আসা ভয়-শংকা-লজ্জায় থাকা একটা মেয়ের পক্ষে উত্তেজিত হওয়া এত সহজ না। ইভেন অনেকে তো প্রথম প্রথম কোন অনুভুতিই পায় না। তাই ফ্লুইড না বের হলে ভয়ের কিছু নেই, সময় নিন কয়েকদিন, এমনিই ঠিক হয়ে যাবে।চতুর্থতঃ স্তনের স্থিতিস্থাপকতা ও কোমলতা দেখেও অনেকে টাচড-আনটাচড কন্ডিশন বের করতে চান। শক্ত-টানটান হলে নাকি আনটাচড। এটা সবচে বড় বোকামী। আমাদের মেয়েরা এমনিতেই শারীরিকভাবে নরম প্রকৃতির। তাই স্তনও নরম হতে পারে। মুভির নায়িকার টান-টান বুক বউয়ের কাছে আশা করবেন না, কারন বুক টানটান রাখতে শোবিজের লোকেরা অনেক টাকা খরচ করে, কসরত করেপঞ্চমতঃ টিনএজ থেকেই হস্ত-মৈথুনে অভ্যস্ত ছেলেরা অনেক সময় বিয়ের করতে ভয় পায়। মঘা-ইউনানীর লিফলেট পড়ে আবিস্কার করে তার “আগা মোটা গোড়া চিকন”,তাই তাকে দিয়ে স্ত্রীকে সুখ দেয়া সম্ভব হবে না। এটা নির্মম রসিকতা। এসব নিয়ে টেনশন না করে লাফ দিয়ে নেমে যান বিয়ে করতে। এত মানুষ দেখেন আশে পাশে সবাই কি ধোয়া-তুলসি পাতা? সবাই অনাঘ্রাতা বউই চাই আমরা। আর নিজে যদি অভিজ্ঞতাহীন হই, তবে একই আশা করবো নববধুর কাছ থেকে। সর্বোপরি কারও যদি সন্দেহপ্রবন মন থাকে, তবে সব কিছু ক্লিয়ার হয়ে নেয়া উচিত আগেই। এনগেজমেন্ট বা বিয়ের আগেই মেয়ে সম্বন্ধে সব খোজ-খবর নিয়ে নিন। বিয়ের পর আর এসব নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। মনে রাখবেন, সন্দেহের পোকা একবার মনে ঢুকলে সেখানেই বাসা বেধে বসে যাবে। তাই আগে থেকেই সব ক্লিয়ার হোন। বিয়ের পর নো টেনশন আগের ব্যাপার নিয়ে। ভালবাসতে শুরু করুন যেভাবে পেয়েছেন সে অবস্থা থেকেই।

করনীয় ৫:
আত্মবিশ্বাসী হোন, অযথা ডাক্তারের কাছে দৌড়াবেন না। টিন-এজে স্বমেহনের কারনে অনেকেই অপরাধবোধে ভোগে, মনে শংকা তৈরি হয় শারীরিক ভালোবাসায় পারংগমতা দেখাতে পারবে কিনা। অনেকে দৌড়ায় ডাক্তারের কাছে। ডাক্তারের কাছে যাওয়া যাবে না তা নয়। তবে যদি নিজের দৈহিক সুস্থতা থাকে আর পুরুষাংগের প্রাত্যহিক উত্থান (সকালে, যাকে “মর্নিং গ্লোরী” বলা হয়।) হয় তবে ভয়ের কিছু নেই। ডাক্তারের কাছে যাওয়ার রিস্ক হচ্ছে অনেকে এই সুযোগে টু-পাইস কামানোর ধান্ধায় আপনার উল্টো ক্ষতি করে দিতে পারে। অনেকে আবার মঘা-ইউনানীর মত ফ্রডের কাছে যান, ওখানে গেলে নাকি লাইফ হেল করে দেয়।তবে পুরুষদের ক্ষেত্রে একটা বিষয় আমলে আনা হয় না, সেটা হলো ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা ইউরিন ইনফেকশন। ইউরিন ইনফেকশন হয় কিছু ব্যাকটেরিয়ার কারনে, এবং পুরুষরা এটাতে আক্রান্ত হয় টয়লেট ব্যবহারের মাধ্যমে। পুরুষদের সবাইকে কম-বেশি পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করতে হয়। ইউনি’র হল-অফিসের টয়লেটকেও পাবলিক টয়লেট হিসেবে ট্রিট করুন এখানে। এসব টয়লেট নানা ধরনের মানুষ ব্যবহার করে। এবং অনেক টয়লেটেই পানির সুব্যবস্থা থাকে না। এদের মধ্যে কারও যদি ইনফেকশন থেকে থাকে তবে সে টয়লেট ব্যবহারের পর ভালো ভাবে পানি না দিয়ে গেলে, বা নতুন ব্যবহারকারী পানি দিয়ে ফ্লাশ না করে ব্যবহার করলে প্যানে থাকা ব্যাক্টেরিয়া আক্রমন করে। এভবেই পানি ইউজ না করলে ইনফেকশন হয়। এটা একটা “যৌনবাহিত রোড (STD)”, এবং স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীরা এটা পেয়ে থাকে। তাই যদি আপনি প্রসাবে জ্বালাপোড়া বা পেইন অনুভব করেন তবে বিয়ের আগেই একবার টেষ্ট করুন, থাকলে ব্যবস্থা নিন। মনে রাখবেন আপনার স্ত্রী আক্রান্ত হলে প্রেগন্যান্সির সময় এটা এক্সট্রা টেনশন এড করবে। হাই এন্টিবায়োটিক খেতে হবে তখন।

করনীয় ৬:
যৌনমিলনের সেফ পিরিয়ডঃ নিজে জানুন, হবু বধুকে জানান। সেফ পিরিয়ড মানে যে সময় কোন প্রতিরোধক (কনডম বা এ জাতীয়) ছাড়াই দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবেন, এক্সিডেন্টালী প্রেগন্যান্ট হওয়ার ভয় থাকবে না। এটা অনেকেই জানেন, আবার একটু রিভাইস করে নেই।মেয়েদের মেন্স বা পিরিয়ডের সাথে সেফ পিরিয়ডের সম্পর্ক। ধরলাম কোন মেয়ের পিরিয়ড হয় ৩০ দিন পর পর (কম বেশিও হতে পারে) এবং এই মাসে তার পিরিয়ড শুরু হয়েছিলো ১ তারিখে। তার আগের মাসেও ১ তারিখে। এটাকে এক সাইকেল বলা হয়। নরম্যালি ওভুলেশন হয় সাইকেলের মাঝামাঝি সময়ে, ধরলাম ১৪ দিনে। তাহলে ১৪ তারিখে ওভুলেশন হচ্চে। এই ওভুলেশনের হওয়ার আগের এক সপ্তাহ ও পরের এক সপ্তাহ ফার্টাইল বা উর্বর সময়। এসময়ে প্রোটেকশন না নিলে প্রেগন্যান্ট হবেই। তাহলে মাসের ৭ তারিখ থেকে ২১ তারিখ প্রটেকশন ছাড়া এগোনো যাবে না। বাকী সময় সেফ, থিওরিটিক্যালী কোন প্রটেকশনের দরকার নেই।এটা ন্যাচারাল পদ্ধতি, তবে সমস্যা হলো পিরিয়ড এর ডেট বিয়ের পর বদল হতে দেখা যায়। এবং অনেকের ক্ষেত্রে সাইকেলটাও স্ট্যাবল থাকে না। তাই সাইকেল স্ট্যাবল না হওয়া পর্যন্ত প্রটেকশন নেয়াই উচিত। যদি দ্রুত বাচ্চা নেয়ার প্ল্যান না থাকে তাহলে প্রটেকশন নিয়েই শুরু করতে হবে। নো হান্কি পান্কি। তবে কখনই প্রথম বাচ্চা হবার আগে আপনার স্ত্রীকে বার্থকন্ট্রোল পিল খাওয়াবেননা। এটা স্বাভাবিক ডেলিভারিতে সমস্যা তৈরি করে থাকে বলে রিপোর্ট পাওয়া গেছে।

করনীয় ৭:
জানুন প্রি-ম্যাচ্যর ইজাকুলেশন কি? প্রি-ম্যাচুর ইজাকুলেশন মানে খুব দ্রুত বা সময়ের আগেই বীর্যপাত। সময়ের আগে মানে পার্টনারের অর্গাজমের আগেই আর দ্রুত সময় মানে ১.৫ মিনিটের কম সময়ের মধ্যে। অধিকাংশ পুরুষই (৯০-৯৫%) জীবনের প্রথম যৌনাভিজ্ঞতায় প্রি-ম্যাচুর ইজাকুলেশনের সম্মুখীন হয়। প্রথম দিকে এটা নরমাল, এবং সময়ের সাথে সাথে এটা ঠিক হয়ে যায়। কেন হয়?প্রথমেই দুটো কারন আসবে, অনভিজ্ঞতা ও অতিরিক্ত উত্তেজনা। অনভিজ্ঞ একজন পুরুষ তার প্রথম সেক্সের সময় প্রচন্ড উত্তেজিত থাকে। উত্তেজিত অবস্থায় নারী সংগীর সাথে শারীরিক খেলায় মেতে উঠার সময় থাকে তাড়াহুড়ার মধ্যে, অল্প সময়ে বেশি পথ বিচরনের চেষ্টায় নিজের উপর কন্ট্রল থাকে না। পাশাপাশি প্রবেশ করানোর পর যোনীর ভেতরের উচ্চ উষ্ণতায় দিশেহারা হয়ে যায় অনেক সময়ই। ফলাফল খুব অল্প সময়েই নারী সংগীর অরগাজম হবার আগেই বীর্যপাত।দ্বিতীয় কারন হিসেবে আসবে “টেনশন”। নতুন বিয়ে বা সম্পর্কে নিজেকে শারীরিক ভাবে সামর্থবান হিসেবে তুলে ধরতে চাওয়ার মানসিক চাপ থেকে সৃষ্টি হয় টেনশন, ফলে নিজের উপর কন্ট্রল থাকে না। তৃতীয় কারন হলো “সংগীনির তৈরি না হওয়া”। প্রথম দিকে শান্ত ও ধীর-স্থির ভাবে সংগীনিকে উত্তেজিত করার কাজটা অধিকাংশ পুরুষই করে না। ধরে নেয় তার নিজের মতই তার সংগীনিও উত্তেজিত হবে। ঘটনা উল্টা। মেয়েদের উত্তেজিত হতে পুরুষদের চেয়ে বেশি সময় লাগে। তাই সে তৈরি হবার আগেই পুরুষ সংগী উত্তেজনার চরমে পৌছে যায়। ফলাফল অকাল বীর্যপাত।সমাধানঃঅনভিজ্ঞতার সমস্যা সমাধানের দরকার নেই, এই খেলায় অভিজ্ঞতা কাম্য নয়। বাকি থাকলো অধিক উত্তেজনা ও টেনশন। নতুন বিয়ে, প্রথমবার কাছে পাওয়া, উত্তেজনা তো থাকবেই। এটা আপনার উপর এখন,অধিকাংশ পুরুষই উত্তেজনা নিয়ন্ত্রন করতে পারে না, যদি আপনি পারেন তাহলে “স্যালুট”। না পারলে কোন সমস্যা নেই। আপনি নিয়ন্ত্রন করতে পেরেছেন এটা পেপারে বা টিভিতেও আসবে না। তাই যা স্বাভাবিক তাই হোক।টেনশন কিভাবে দুর করবেন? প্রথমে ভাবুন আপনাকে কি আপনার সংগীনির সামনে নিজেকে বিশাল কিছু-প্রচন্ড সামর্থবান প্রমান করতে হবেই? নাকি স্বাভাবিক একজন মানুষ হিসেবে? যাই করুন না কেন আপনার স্ত্রী আপনারই থাকবে। সুপারম্যানের প্রতি মুগ্ধতা থাকে, ভালোবাসা থাকেনা, আপনি সুপারম্যান হতে চাচ্ছেন কিনা নিজেই ভাবুন।আর “সংগীনির তৈরি না হওয়ার” দোষটা পুরোপুরি পুরুষের উপর বর্তায় না। পুরুষকে ধৈর্য্য ধরে স্ত্রীকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করতে হবে, শরীরের স্পর্শকাতর অংশগুলোতে কোমল ভাবে স্পর্শ করে বা ঘষে, কিস করে। ব্যাকনেক, কানের আশে-পাশে, ঠোট-জিহবা, স্তন-নিপল, তলপেট-নাভী, যৌনাংগ-উরু, হাত-পায়ের আংগুল ইত্যাদি স্পর্শকাতর স্থান বলে পরিচিত। স্ত্রীর নিজেরও দায়িত্ব থাকে এ চেষ্টায় সাড়া দেয়ার। এক হাতে তালি বাজে না।
দীর্ঘায়িত করতে চাইলে সমাধানঃ
১। এর কোন স্বীকৃত ঔষধ নেই। তাই বাজারে প্রচলিত ঔষধ না খাওয়াই ভালো।
২। একটা কার্যকর এক্সারসাইজ আছে। এখন থেকেই নিজের বীর্যপাত ঠেকিয়ে রাখার প্র্যাক্টিস করতে পারেন। আমরা যে ভাবে প্রস্রাব আটকাই, সেভাবে ডেইলি বিভিন্ন সময় একলাগা ১০ বার প্রস্রাব আটকানোর কসরত করুন। যখন সময় পাবেন। প্রস্রাব না ধরলেও করুন।
৩। যখনই চরম মুহুর্ত আসবে মনে হয়, তার আগেই থেমে গিয়ে পুরুষাংগ বের করে নিন, প্রস্রাব আটকানোর মত করে বীর্যপাত আটকান।
৪। বীর্যপাত আটকানোর সাথে সাথে দীর্ঘায়িত করার জন্য অন্য কিছু চিন্তা করতে পারেন, এতে উত্তেজনা ডাইভার্ট হবে কিছুক্ষনের জন্য।
৫। আর একটা পদ্ধতি হলো আগেই একবার বীর্যপাত ঘটানো। এটা নিজে করে নিতে পারেন, অথবা সংগীনি যদি হেল্পফুল হয় তবে সেই হাত দিয়ে সাহায্য করবে। তবে এই পদ্ধতি জনপ্রিয় না। অনেকেই আগাম দুর্বল হতে চায় না।
৬। কনডমের ব্যবহার কিছুটা হেল্প করে সংবেদনশীলতা কমাতে, তাই উত্তেজনাও কিছুটা কমানো যায়।আর কোনো পদ্ধতি জানা থাকলে বলতে পারেন।

করনীয় ৭:
কনডম সম্বন্ধে জানুন। বাজারে অনেক ব্র্যান্ডের কনডম প্রচলিত আছে। সম্ভবত দেশে সবচে বেশি চলে সেনসেশন। এছাড়াও ইউ&মি, প্যান্থার, ল্যাটেক্স, টাইটানিক, ডুরেক্স, রাজাও ব্যবহৃত হয়। সেনসেশন সহ সব ব্র্যান্ডেরই কম বেশি নানা টাইপ/ফিচারড কনডম বাজারে পাওয়া যায়। যেমনঃ ডটেড, এক্সট্রা রিবড, সেন্টেড, প্লেইন, থিন, এক্সট্রা থিন, কন্ট্যুরড, লংলাস্টিং, ডটেড প্লাস রিবড, এক্সট্রা লং ইত্যাদি। এগুলো একেকটা একেক সময়ে/পর্যায়ে কার্যকর। সব সবার জন্য না, সব সময়ের জন্যও না।এক নতুন ব্যবহকারীর ক্ষেত্রে প্লেন অথবা ডটেড কনডম শুরু করার জন্য আদর্শ। অর্থ্যাৎ জাস্ট প্রটেকশনের জন্য। এক্সট্রা ফিচারড কনডম গুলো শুরুতে ব্যবহার না করাই ভালো, এতে প্রথমেই এক্সট্রা ফিচারডে অভ্যাস হয়ে গেলে কনডম ছাড়া বা নরমালী এত ভালো লাগবে না। এই কনডম গুলো সময়ের সাথে সাথে যৌনজীবনে বৈচিত্র্যতা আনার জন্য ব্যবহার করতে পারবেন।কিভাবে কনডম ব্যবহার করবেনঃএটা খুব কঠিন কিছু না। কনডমের প্যাকেটে লেখা থাকে ইন্সট্রাকশন। ফলো করলেই হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন ভেতরে কোন বাতাস না থাকে, তাই কনডমের টিপটা চেপে ধরে কনডম পড়তে হয়। বাতাস থাকলে সেক্সের সময় কনডম ফেটে যেতে পারে, তাতে প্রটেকশনের কাজ আর হলো না।এখানে পাবেন কিভাবে কনডম পড়তে হবে।

করনীয় ৮:
রোমান্টিক হউন, চিন্তা-চেতনায় বৈচিত্র্যতা আনুন। বিয়েটা শুধু সামাজিক ও ধর্মীয় ভাবে শারীরিক মিলনের অনুমোদন না, মনের মিলনের অনুমোদনও। ভালোবাসার এমন সহজ সুযোগ আর কোন সিস্টেমে নেই। তাই ভালোবাসুন, সুযোগটা কাজে লাগান। শরীরকে শুধু প্রাধান্য না দিয়ে মনের কথাও ভাবুন। একটা মানুষ সব ছেড়ে আপনার কাছে আসছে, এটা অনুভব করার চেষ্টা করুন, দেখবেন মনটা তার জন্য এমনিতেও নরম হয়ে আসছে। রোমান্টিক হোন, কবিতা পড়ুন, দু’একটা তার সামনে কোট করুন, রোমান্টিক গান শুনুন। গুনগুন করে গাইতে চেষ্টা করুন। বিয়ের পরে বাসর ঘরে প্রবেশের সময় যেনো সানাই বাজে সেই ব্যবস্থা করুন। রুমে ফুল রাখুন, হালকা সুগন্ধী ব্যবহার করুন, ডিমলাইট ব্যবহার করুন রাতে। কেয়ার করুন প্রথম দিন থেকেই, তাই বলে দৃষ্টিকটু ভাবে পিছু পিছু ঘুরে বেড়িয়ে তাকে সবার সামনে অস্বস্তিতে ফেলবেন না। ব্যালান্স রাখার চেষ্টা করুন। একলা থাকার অনুভুতিটা প্রথম কয়েকদিন যেনো না পায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। বাইরে যাচ্ছেন, সে তৈরি হলো, বলে দিন “খুব সুন্দর লাগছে তোমাকে”। ন্যাকামি না করেই বলে দিন তার সৌন্দর্যে আপনার মুগ্ধতার কথা, প্রকাশ করুন ভালোবাসার কথা, তবে লাউড স্পিকারে না, একান্ত ঘনিষ্ঠ মুহুর্তে। আর বাইরে যাওয়ার ৩-৫ ঘন্টা আগে জানিয়ে দিন কখন বেরোতে চান, নিজে তাড়া দিন যেনো তৈরি হয়। না হলে শাড়ি-গহনা চুজ করা-সাজগোজ করাতেই রাত হয়ে যাবে।শারীরিক মিলনের শুরুতেও ভালাবাসার প্রকাশ রাখুন, রোমান্টিকতা আগে, পড়ে পেরেক মারার কাজ।বাসর রাতে রোমান্টিক আলাপ দিয়েই শুরু করুন, এরপর ভবিষ্যত স্বপ্ন আর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কথা, পারিবারিক বিভিন্ন রীতি-নীতির কথা স্বাভাবিক টোনে বলে যান। জোর করার কিছু নেই, শুধু জানিয়ে দিন এসব দরকারী ব্যাপার। মন ভালো হলে সংসারের খারাপ চাইবেনা সে।হানিমুনের জন্য এক্সট্রা কিছু টাকা আগেই আলাদা করে রাখুন। বিয়ের ডামাডোলে সব টাকাই খরচ হয়ে যায়, তাই সাবধান।খুনসুটি করুন, মজা করুন, নরমাল ও ১৮+ কৌতুক গুলো বলার জন্য একজন রেডিমেড শ্রোতা পেয়ে গেছেন, কাজে লাগান। তবে বোকার মত নিজে অতীতে কি করেছেন, আপনি কত বাহাদুর তা একের পর এক না বলে গিয়ে তাকেও বলতে দিন। তার মজার কথা গুলো, বাবা-মা-ভাই-বোন-বন্ধু-বান্ধবী নিয়ে অভিজ্ঞতা গুলো বলার সুযোগ দিন। আপনি নিশ্চিত জেনে যাবেন তার পছন্দ-অপছন্দ-ভালো লাগা-দুর্বলতা। দুজন দুজনকে আবিস্কার করুন। জীবন আপনাদেরই, ভালোভাবে আপনাদেরই শুরু করতে হবে। তাকে বিশ্বাস করুন ১০০%। চিন্তা ভাবনায় বৈচিত্র্যতা আনুন। এটা আনন্দময় বিবাহিত জীবনের মুলমন্ত্র। বিবাহিত জীবনে অনেক সময়ই একঘেয়েমী চলে আসে। মন ও শরীর দুই ক্ষেত্রেই। বৈচিত্র্যতা আনুন দুই ক্ষেত্রেই। ঘুরতে যান, মুভি দেখুন। সেক্সের জন্য নানা রকম আসন ট্রাই করুন, নানা ধরনের কনডম ট্রাই করুন। অনেক সময় ভালো মানের পর্নো ছবিও যৌনজীবনে বৈচিত্র্যতা আনতে সাহায্য করে।

করনীয় ৯:
এন্টাসিড/ইমোটিল/ফ্ল্যাটামিল/ইনো সল্ট কিনে রাখুন। বিয়ে মানেই খাওয়া দাওয়া, জোর করেই খাওয়াবে। তেল-মসলার রকমারী। পেট কিন্তু বিদ্রোহ করে বসতে পারে। বদহজম কমন একটা ব্যাপার। এই ক্ষেত্রে ইনো সল্ট বা ফ্ল্যাটামিল খুব কাজে দেয়। মনে রাখবেন, পেটে শান্তি না থাকলে সেক্স করতে ইচ্ছেও করবে না। এসিডিটির প্রব্লেম মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে, ব্যবস্থা নিন।

করনীয় ১০:
মিষ্টি-ফল-দুধ-ডিম খান বেশি করে। সেক্সের পরেই মিষ্টি-মধু-দুধ-ডিম বা বিভিন্ন ধরনের ফল খান। প্রথম দিকে ক্লান্তিটা বেশি আসবে, তাই এসব শক্তিদায়ক খাবার সাথে রাখুন। পরে অভ্যাস হয়ে গেলে এত কিছু লাগবে না। বিয়ের আগের কয়েকদিন অযথা রাত না জেগে ঘুমানোর চেষ্টা করুন। অন্তত দিনে ৬ ঘন্টা যেনো পুরন হয়। নতুন জীবন সুস্থ-সবল ভাবে শুরু করুন। এর বাইরেও আর যদি আর কিছু জানার থাকে তবে প্রশ্ন করুন।

শুষ্ক চুলের যত্নে

প্রকৃতির মাঝেই লুকিয়ে রয়েছে রূপচর্চার সব ধরণের উপাদান। দিন দিন রূপচর্চার জন্য এসব প্রাকৃতিক বা ভেষজ উপাদানের উপর নির্ভরতাও বাড়ছে। ভেষজ উপায়ে তৈরি রূপচর্চার উপকরণ বেছে নিন এবং আপনার ত্বক ও চুলকে সুন্দর রাখুন।
বহু প্রাচীনকাল থেকেই রূপচর্চার জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছিল নানা রকম ভেষজ উপাদান। কিন্তু আধুনিকায়নের প্রভাবে ধীরে ধীরে মানুষ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে নানা রকম রাসায়নিক দ্রব্যাদির উপর। কারণ এর ফলাফল অনেক দ্রুত পাওয়া যায়। কিন্তু একবার ভেবে দেখেছেন এসব রাসায়নিক পণ্য ব্যবহারের সুদুরপ্রসারী ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে। তবে সুখবর হলো মানুষ এখন অনেক সচেতন হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে আবার ভেষজ উপাদানের উপর নির্ভর করা হচ্ছে।
ত্বকের যন্ত নেয়ার জন্য হারবাল বা ভেষজ পদ্ধতি ব্যবহারের উপর আলোচনা শুরুর আগে নিজের ত্বক সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন।
নিজেই নিজের ত্বক চিনুন
আপনার ত্বক সেনসিটিভ, শুষ্ক, তৈলাক্ত নাকি মিশ্র তা ভালো করে জানার জন্য আপনি নিজেই পরীক্ষা শুরু করে দিতে পারেন। সবার আগে এটি জানা জরুরী। কারণ তৈলাক্ত ত্বকের যা প্রয়োজন শুষ্ক ত্বকের তা প্রয়োজন হয় না, আবার ত্বক যদি সেনসিটিভ হয় তাহলে তার সব কিছু সহ্য হবে না।ত্বক ও চুলের যত্নে ভেষজ পদ্ধতি
এবার শুরু করা যাক। একটি টিসু পেপার বা ব্লটিং পেপার নিন। সকালে ঘুম থেকে উঠে টিসু বা ব্লটিং পেপার চেপে ধরুন। ত্বক তৈলাক্ত বা মিশ্র হলে তার ছাপ পড়বে পেপারে। ত্বক সেনসিটিভ কিনা বা তা কতটা সেটা বোঝা একটু কঠিন। তবে নিচের বেশকিছু বিষয় থেকেও আপনার ত্বকের ধরন সম্পর্কে জানতে পারবেন।
শুষ্ক ত্বক হলে বুঝবেন কিভাবে?
যদি আপনার ত্বকে অ্যালার্জি প্রবণতা থাকে তাহলে বুঝবেন ত্বক শুষ্ক।
চুল শুকনো হলে বুঝবেন ত্বকও শুষ্ক।
খুব বেশি খুসকির সমস্যা থাকলে তাহলেও বুঝতে হবে ত্বক শুষ্ক।
লেপ, কম্বল ইত্যাদিতে অ্যালার্জি থাকলে বা নতুন কিছু ব্যবহার করলে যদি অ্যালার্জির সমস্যা হয় তাহলে বুঝতে হবে ত্বক অবশ্যই শুকনো। তৈলাক্ত ত্বক বুঝবেন কিভাবে?
ত্বকে যখন তেলতেলে ভাব ফুটে ওঠে বিশেষ করে নাক, কপাল নিয়ে যে অংশ “T” এর মতো আকার নেয় তখন বুঝতে হবে সেটা তৈলাক্ত ত্বক।
তৈলাক্ত ত্বক-এ কানের পিছনে হাত দিলে তেলতেলে লাগে। আসলে এই তেল বের হয় সেবাসিয়াস গ্ল্যান্ড থেকে। আমাদের শরীরে শতকরা ৭০ ভাগ সেবাসিয়াস গ্ল্যান্ড থাকে মুখে। মুখ তেলতেলে থাকা তৈলাক্ত ত্বক চেনার প্রধান উপায়।
ব্রণ, ফুসকুড়ি সমস্যা তৈলাক্ত ত্বকে বেশি হয়। ত্বকে কালো ছোপেরও সমস্যা থাকে।
সেনসিটিভ ত্বক
ত্বকে, চুলকানো, লাল হওয়া, জ্বালা করার সমস্যা হয় খুব বেশি।
শুষ্ক ত্বকেরই আরেকটা দিক হল সেনসিটিভ হওয়া। এই ত্বকে কসমেটিক লাগানোর পর সমস্যা হয়।
কখনও কখনও কোন কারণ ছাড়াই ত্বকে ইরিটেশন হতে পারে।।
বিভিন্ন ত্বকের সমস্যা ও তার প্রতিকারের ঘরোয়া পদ্ধতিতে আসার আগে সব ত্বকেরই কিছু বিশেষ যত্নের কথা আগে জানা দরকার
যে কোন ঋতুতে ত্বকের যত্ন নেওয়ার প্রথম ধাপ পরিচ্ছন্নতা
যে ধরনের ত্বক হোক না কেন সাবান ব্যবহার করা উচিত নয়
ত্বক ভালো রাখার জন্য প্রচুর জল খাওয়া দরকার। ত্বক আর্দ্র ও সজীব রাখতে জল সাহায্য করে
স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। অবশ্যই তৈলাক্ত খাবার বাদ দিতে হবে। এতে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পাবে। রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পেলেই ত্বক সুন্দর হবে।
শীতকালে অনেকেই তেল ব্যবহার করেন। নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল মাখুন। কিছু ভুল ধারণা আছে অনেকের নারকেল তেল মাখলে ঠান্ডা লাগে। তাহলে বলি নারকেল তেল মাখলে ঠান্ডা লাগে না। যেমন সরষের তেল মাখলে শরীর গরম হয় না। কোন তেলই শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বদল ঘটাতে পারে না।
ঘরোয়া পদ্ধতিতে শীতকালে বিভিন্ন ত্বকের কিছু সমাধান জেনে নিন
ত্বকের গুরুত্বপূর্ণ ৩টি ধাপ হল ক্লেনজিং, টোনিং, ময়শ্চারাইজিং। মুখ ভালো করে পরিষ্কার করা, টোনার ও ময়েশ্চারাইজার লাগানো। এ তিনটি সারা বছর করা খুবই দরকার।
শীতকালে বাইরের আবহাওয়ায় ধুলো, ময়লা, জীবাণু অনেক বেশী থাকে। ত্বক অন্য ঋতুর থেকে বেশি ময়লা হয়।।
শুষ্ক ত্বকের জন্য
এই ত্বকের সমস্যা শীতে সবচেয়ে বেশী। শীতে এই ত্বক আরো বেশী শুষ্ক হয়ে যায় তাই এর যত্ন বিশেষ ভাবে দরকার।
সারাদিনে দুই বার বা তিন বার গ্লিসারিন ব্যবহার করতে পারেন।
সারাদিনে বা খুব ভালো হয় রাতে শুতে যাওয়ার আগে দুধের সঙ্গেঁ মধু মিশিয়ে হালকা ম্যাসাজ করে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। শুষ্কতা কমবে অনেকটাই।
মধু, দই, ডিম, গাজরের রস একসঙ্গেঁ মিশিয়ে মুখে লাগান, ২৫ মিনিট পর আলতো করে ঘসে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ৩দিন করতে পারলে শুষ্কতা কমে যাবে।
আমন্ড বাটা ও মধু দিয়ে প্যাক করে মুখে লাগান ১৫ মিনিট পর ধুয়ে নিন। সপ্তাহে ৩ দিন করলে অনেক উপকার পাবেন।
ঘরোয়াভাবে ময়শ্চারাইজার কিভাবে তৈরী করবেন
শুষ্ক ত্বকে অলিভ অয়েল, লেবুর রস ৪-৫ ফোঁটা, ডিম মিশিয়ে ১৫ মিনিট মুখে লাগিয়ে ম্যাসাজ করে ধুয়ে নিন বা তুলো ভিজিয়ে মুছে নিন।
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য আপেল কুরানো বেশ কিছুটা, মধু ১০ ফোঁটা মিশিয়ে ১০-১৫ মিনিট লাগান হালকা ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন বা তুলো দিয়ে মুছে ফেলুন।
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য
গোলাপের পাপড়ি বাটা, টক দই ও মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরী করে মুখে লাগিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট, উষ্ণ জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
সাধারণ ত্বকের জন্য
শশার রস, টক দই, কমলালেবু, মধু, মুলতানি মাটি (এটি অনেকের ত্বকে সহ্য হয় না তাই খুব ভাল হয় যদি সাজি মাটি ব্যবহার করুন)। প্যাক তৈরী করে ১৫-২০ মিনিট লাগিয়ে ধুয়ে নিন।
সেনসিটিভ ত্বকের জন্য
এই ত্বকের জন্য শীত ঋতু খুব সমস্যার। লাউ বাটা, গাঁদা ফুলের পাপড়ি বাটা, মুলতানি মাটি (আগেই জানান আছে সাজি মাটি হলে খুবই ভাল) প্যাক তৈরী করে সপ্তাহে ২-৩ দিন ত্বক ও চুলের যত্নে ভেষজ পদ্ধতিলাগান।।কে না জানে বাইরে হাজার প্রসাধনের ব্যবহারেও রূপের দরজা খোলে না, যদি না ভিতর থেকে সুন্দর হওয়া যায়। অনেকে আছেন ফর্সা, কেউ শ্যামবর্ণ, কেউ কালো। সকলেই চান সুন্দর হতে। তার জন্য বারবার বিউটি পার্লারে যাওয়া তাতে তার ব্যয় সাধ্যের মধ্যে হোক বা নাই হোক। টিভি, খবরে র কাগজে নানা বিজ্ঞাপন দেখে এটা সেটা কিনে মাখা, বুঝে না বুঝে এই সব কাজ আমরা সবসময় করি। এতে ক্ষতির পরিমাণ কত তা বুঝতে চাই না।
মিশ্র ত্বকের জন্য
এই ত্বকে অবশ্যই দুটি প্যাক তৈরী করে লাগাতে হবে। যে জায়গা তেলতেলে সেখানে- বাঁধাকপির পেষ্ট, নিম পাতার রস, কমলালেবুর রস ও মুলতানি মাটি (অবশ্যই ভাল সাজি মাটি) মিশিয়ে লাগান।
যদি ত্বক নরম করে রাখতে চান
ধনে পাতা বাটা, গাজরের রস, বিউলির ডাল, মধু, সামান্য চন্দন গুঁড়ো মিশিয়ে ১৫-২০ মিনিট লাগান। এর পর একটা বাটিতে অর্ধেক জল ও অর্ধেক দুধ মিশিয়ে ধুয়ে নিন বা মুঝে নিন তুলো দিয়ে।
এক নজরে কিছু প্রয়োজনীয় ভেষজ উপাদান
হলুদ : হলুদ ত্বকের জীবানু নাশ করতে সহায়তা করে। এছাড়া ত্বকের উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি করে।
মধু : মানব দেহের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গের জন্যেই মধু দরকারি। তবে ত্বকের জন্যে এর প্রয়োজনীয়তা আরো বেশি। মধু ত্বককে সতেজ এবং পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি রাখে জীবানুমুক্ত।
লবণ : লবণ এমনিতে কিছুরোগীর জন্যে ক্ষতিকর হলেও যাদের ত্বকে সমস্যা আছে, তাদের জন্যে বেশ উপকারি। কারণ লবণ ত্বকের মৃতকোষ বের করে আনতে সহায়তা করে।
লেবু : ত্বকে এসিডের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং ব্যাকটেরিয়া দূর করতে লেবু কাজ করে থাকে।
জায়ফল : মুখের ব্রণের দাগ দূর করতে জায়ফলের কোনো জুড়ি নেই।
চুলের যত্ন
চুল মেয়েদের অহংকার। চুল নিয়ে জীবনানন্দ থেকে শুরু করে অনেক বড় বড় কবি, সাহিত্যিকরা গানে , কবিতায়, নাটকে ফুটিয়ে তুলেছেন এর শিল্প। চুল যে শুধু মেয়েদেরই অহংকার তা নয়। ছেলেদের টাক পড়লেই বুঝা যায় চুলের মর্ম কতটা ছিল। তখন এই পদ্ধতি সেই পদ্ধতি ইত্যাদি। যাহোক ভেষজ উপায়ে চুলের যত্ন কিভাবে নেয়া যায় সে প্রসঙ্গে আসা যাক।
প্রথমেই চুলের ধরন সম্পর্কে জেনে নিন। চুল সাধারণত তিন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন স্বাভাবিক, শুষ্ক এবং তৈলাক্ত।
স্বাভাবিক চুলের যত্ন
প্রতি সপ্তাহে একদিন তেল উষ্ণ গরম করে মাথার তালুতে ম্যাসাজ করুন ১৫-২০ মিনিট। এরপর গরম পানিতে ভেজানো টাওয়েল ১৫-২০ মিনিট মাথায় পেঁচিয়ে রাখুন। এরপর একটি ডিম, ২ চা-চামচ মধু, ২ চা চামচ আমলকীর রস, ২ চা চামচ অলিভ অয়েল, জবা ফুলের রস, সামান্য গরম পানি একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে পুরো চুলে লাগিয়ে রাখুন ২৫-৩০ মিনিট। এরপর পরিষ্কার করে চুল ধুয়ে ফেলুন। পরে চায়ের লিকার, লেবুর রস ও আধা চামচ মধু মিশিয়ে পানিসহ একসাথে মিশ্রণ করুন। সেটি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন এবং চুল মুছে নিন।
শুষ্ক চুলের যত্ন
চুল শুষ্ক হলে একদিন বাদে একদিন অলিভ অয়েল বা নারিকেল তেলের সঙ্গে ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে উষ্ণ গরম করে পুরো চুলে ও স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন ২০-২৫ মিনিট। এরপর গরম পানিতে টাওয়েল ভিজিয়ে স্টিচ নিন। ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন এবং কন্ডিশনার লাগান। শেষে চায়ের লিকার দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। যাদের চুল রুক্ষ, শুষ্ক ও লালচে_ তারা একটি জবাফুল বাটা, ২ চামচ মধু ও এক চামচ আমলকী বাটা, টক দই, ডিমের কুসুম, মেথিগুঁড়া, ক্যাস্টর অয়েল একসঙ্গে মিশিয়ে পুরো চুলে ঘণ্টাখানেক লাগিয়ে রাখুন; তারপর ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন এবং কন্ডিশনার লাগিয়ে ৪-৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন হালকাভাবে। শুষ্ক চুলের কন্ডিশনার তৈরি করার জন্য একটি পাকা কলার সঙ্গে এক চা চামচ মধু, আধা চা চামচ দুধের সর ও এক চা চামচ আমন্ড অয়েল মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে পুরো চুলে লাগিয়ে রাখুন। একঘণ্টা পর চুল ধুয়ে ফেলুন।
তৈলাক্ত চুলের যত্ন
এক কাপ থেঁতো করা আঙ্গুরের রসের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে সারারাত রেখে দিন। পরের দিন এতে টকদই মিশিয়ে পুরো চুলে লাগিয়ে রাখুন। একঘণ্টা পর ঠাণ্ডা পানিতে চুল ধুয়ে ফেলুন।
খুশকি
খুশকি নিরাময়ের জন্য মেথিবাটা, পেঁয়াজের রস, নিমপাতাবাটা, লেবুর রস, টক দই, একসঙ্গে মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে রাখুন, ৩০-৪০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। ভিনেগার ও পানি মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগালেও খুশকি কমে যায়।
তবে পারফেক্ট চুলের জন্য আরো বাড়তি কিছু করা চাই। এর জন্য খাবারের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। ত্বক সুন্দর রাখতে ভেতর থেকে ভালো থাকা প্রয়োজন। এ জন্য প্রচুর পানি আর ফল খেতে হবে। শেষ কথা শুধু প্যাক তৈরি করে ত্বকে আর চুলে মাখলেই হবে না; খাবারের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। ত্বক সুন্দর রাখতে ভেতর থেকে ভালো থাকা প্রয়োজন। এ জন্য প্রচুর পানি আর ফল খেতে হবে। সকালে খালি পেটে থানকুনিপাতার রস কিংবা কাঁচা হলুদের রস খেলে পেট পরিষ্কার হয়, ত্বক ভালো থাকে।

দু-এক দিন পরপরই চুলে শ্যাম্পু করুন, তা না হলে হতে পারে খুশকি, আবার চুলের গোড়ায় ময়লাও জমে যেতে পারে।
শীতে তো এমনিতেই ত্বক আর চুলে আর্দ্রতার অভাব দেখা দেয়; আর যাঁদের চুল সারা বছরই রুক্ষ, তাঁরা এ মৌসুমে পড়েন আরও সমস্যায়। সাধারণত ত্বক শুষ্ক হলে তাঁদের চুলেও নিষ্প্রাণ ভাব দেখা যায়। তবে নিয়মিত যত্নে এ সমস্যা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা যায়।
রূপবিশেষজ্ঞ ফারজানা শাকিল দিয়েছেন কিছু পরামর্শ।
 সপ্তাহে অন্তত তিন দিন চুলে তেল লাগান। রাতে তেল লাগিয়ে রাখতে পারেন এবং পরদিন শ্যাম্পু করে ফেলতে পারেন।
 দু-এক দিন পরপরই চুলে শ্যাম্পু করুন, তা না হলে হতে পারে খুশকি, আবার চুলের গোড়ায় ময়লাও জমে যেতে পারে। খুশকি মাথার ত্বকের ক্ষতি করে, আবার খুশকি কপালে চলে এসে সেখানেকার ত্বকেরও ক্ষতি করতে পারে। তাই চুল ও মাথার ত্বক নিয়মিত পরিষ্কার করার বিকল্প নেই।
 শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার লাগাতে পারেন। চুলের গোড়ার দিকের আধা ইঞ্চির মতো অংশ বাদ দিয়ে বাকি অংশে কন্ডিশনার লাগান।
 চুলে তেল লাগানোর পর অর্ধেক পাকা কলা ও তিন টেবিল চামচ টকদই বা দুধের সঙ্গে দুই টেবিল চামচ পাউডারের মিশ্রণ মিশিয়ে চুলে লাগান। পাউডারের মিশ্রণটি তৈরি করতে হবে আমলা পাউডার, শিকাকাই পাউডার ও মেথির গুঁড়া দিয়ে। প্যাকটি চুলে লাগানোর পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। চুলের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে প্যাকটিতে একটি ডিম যোগ করতে পারেন।
 বাইরে বেরোলে চুল ঢেকে রাখুন।
অতিরিক্ত শুষ্ক চুলের যত্নের জন্য প্রতি ১০ দিন পর পর চুলের সমস্যা বুঝে হেয়ার ট্রিটমেন্ট করাতে পারেন।

শীতে সুস্থ ত্বক

শীতের বৈরী আবহাওয়া ত্বকের জন্য বয়ে আনে নানান ধরনের সমস্যা। পাশাপাশি অনেক সময় ত্বকে হতে পারে বিভিন্ন রোগও। কিছু চর্মরোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় এই সময়।
শীতে ত্বকের রোগবালাই নিয়ে কথা বলেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বখতিয়ার কামাল। তিনি বলেন, ‘শীতকালে ত্বকের কিছু রোগ দেকা দিতে পারে, যেমন—স্ক্যাবিস, ইমপেটিগো, জেরিয়াট্রিক ডার্মাটোসিস। তা ছাড়া চুলকানিজনিত সমস্যাগুলোও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে শীতে।’
এ রোগগুলো হলে যে ধরনের উপসর্গ দেখা যেতে পারে তা হলো—
 শুষ্ক লালচে ত্বকে চুলকানি
 ত্বক অস্বাভাবিকভাবে ফেটে যাওয়া
 রোদে পোড়া ভাব
 ত্বকে অস্বাভাবিক ভাঁজ পড়া
এসব সমস্যা প্রতিরোধে তাঁর পরামর্শ হলো—
 প্রচুর পানি, শাকসবজি ও সুষম খাবার খাবেন।
 হালকা গরম পানিতে গোসল করবেন।
 অল্প পানিতে ও অল্প সময়ে গোসল করবেন।
 অতিরিক্ত সাবান বা ক্লেনজার ব্যবহার করবেন না।
 গোসলের পর ও রাতে শোবার সময় ত্বকে অলিভ অয়েল, গ্লিসারিন বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগাবেন।
 নারকেল তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সরিষার তেল ব্যবহার না করাই ভালো।
 ঘর হালকা গরম রাখুন। প্রয়োজনে রুম হিটার অথবা হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন।
 ত্বকের সমস্যা খুব বেশি মনে হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
শীতে ত্বকের বিভিন্ন রোগবালাই নিয়ে কথা বলেছেন রূপবিশেষজ্ঞ ফারজানা শাকিল। জেনে নিন তার কিছু পরামর্শ—
 শীতের আলস্যে গোসল করা থেকে বিরত থাকবেন না, কারণ তাতে লোমকূপে ময়লা জমে ত্বকে কালো ছোপ ছোপ দাগ হতে পারে এবং হতে পারে বিভিন্ন অসুখও।
 নিয়মিত চুল এবং চুলের গোড়া পরিষ্কার করুন। চুল আঁচড়াতেও অলসতা করবেন না কখনোই।
 শীতের রোদে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। বাইরে বেরোলে ছাতা ব্যবহার করুন। ব্যবহার করতে পারেন সান প্রোটেকশন ক্রিম বা লোশনও।
 ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি মাসে অন্তত এক-দুবার ভালো কোন বিউটি পারলারে গিয়ে অভিজ্ঞ রূপবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
ত্বকের ধরন অনুযায়ী যত্নের কিছু উপায় জানিয়েছেন ফারজানা শাকিল।

তৈলাক্ত ত্বক
যাঁদের ত্বক তৈলাক্ত, তাঁরা ত্বকে তেল বাড়াবেন, যেমন—বাদাম বা দুধের সর এমন কিছু ব্যবহার করবেন না। এক টেবিল চামচ মসুরের ডাল বাটা ও এক টেবিল চামচ কাঁচা দুধ বা সর ছাড়া দুধের সঙ্গে আধা টেবিল চামচ মধু ও এক টেবিল চামচ ফলের রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে ত্বকে লাগাতে পারেন। বেছে নিতে পারেন সাইট্রিক অ্যাসিডসমৃদ্ধ ফল (টক ফল), যেমন—কাগজিলেবু, বাতাবিলেবু, কমলালেবু ইত্যাদি। আবার ব্যবহার করতে পারেন পাকা পেঁপে, যা মুখের দাগ দূর করতে সাহায্য করবে। তারপর হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগাবেন।

শুষ্ক ত্বক
তৈলাক্ত ত্বকের প্যাকটিই একটু পরিবর্তন করে ব্যবহার করতে পারেন। মসুর ডাল বাটার সঙ্গে মধু নিন এক টেবিল চামচ। আর ফলের রস নিতে হবে আধা টেবিল চামচ। সঙ্গে যোগ করুন একটু দুধের সর আর চারটি আমন্ড বাদাম বাটা। প্যাকটি তুলে ফেলার পর কোল্ড ক্রিম বা বেশি ময়েশ্চারযুক্ত কোনো ক্রিম লাগাবেন।

স্বাভাবিক ত্বক
স্বাভাবিক ত্বকের জন্য এই প্যাকে লেবুর রস বাদ দিতে হবে আর মধুর পরিমাণ হবে এক টেবিল চামচ।
এ ব্যাপারে আরও কথা বলেছেন রূপবিষয়ক পরামর্শদাতা তানজিমা শারমিন। তিনি বলেন, ‘শীতকালে ধুলাবালির কারণে ত্বকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এসব সমস্যা এড়াতে নিয়মিত ত্বকের যত্ন নিতে হবে।’
তানজিমা শারমিন দিয়েছেন আরও কিছু পরামর্শ—
 শীতের সময় নিয়মিত ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। সবার ত্বক এক রকম নয়। তাই যার যার ত্বকের ধরন বুঝে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে।
 গ্লিসারিনের সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়েও ত্বকে লাগাতে পারেন।
 যেকোনো ময়েশ্চারাইজার লাগানোর আগে ত্বক অবশ্যই ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
 অপরিষ্কার ঠোঁটে লিপবাম বা লিপগ্লস লাগাবেন না।

মাথাব্যথা কী করি

মাথাব্যথা কার না হয়? শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই কখনো না কখনো মাথাব্যথায় ভোগেন।
মাথাব্যথার ধরন বা কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হয়। এ জন্য প্রথমে প্রয়োজন রোগ নির্ণয় করা।
মাথাব্যথা মূলত দুই প্রকার
ক. ব্যথার উৎস মাথার ভেতর: এমন সমস্যা প্রাইমারি হেডেক নামে পরিচিত। যেমন: মাইগ্রেন, টেনশন হেডেক, ক্লাস্টার হেডেক ইত্যাদি।
১. মাথাব্যথার তাৎক্ষণিক নিরাময় করার জন্য বিভিন্ন বেদনানাশক ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। আবার অতিরিক্ত বেদনানাশক ওষুধ সেবনও মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। তাই খুব প্রয়োজন না হলে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত যখন-তখন ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।
২. পরবর্তী সময়ে বারবার মাথাব্যথা যেন না হয় এবং ব্যথার তীব্রতা যেন কম থাকে, তার জন্য কিছু চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
ব্যথা কমাতে কিছু কিছু অভ্যাসও পরিবর্তন করতে হবে। অতিরিক্ত ধূমপান, মদ্যপান, মাদক সেবন, চ-কফি, অনিয়মিত এবং অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন, রোদ বা অতিরিক্ত গরম আবহাওয়ায় বেশিক্ষণ থাকা, অতিরিক্ত শারীরিক, মানসিক পরিশ্রম, ক্ষুধার্ত থাকা ও সময়মতো না খাওয়া, যেকোনো ধরনের মানসিক চাপ ইত্যাদি মাথাব্যথার কারণ। তাই এসব অভ্যাস পরিবর্তন করলে মাথাব্যথা অনেকাংশে কমে আসবে।
পাশাপাশি ইতিবাচক জীবনচর্চা, সুনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক বা মানসিক বিশ্রাম, পর্যাপ্ত ঘুম, মেডিটেশন ইত্যাদি মাথাব্যথার প্রকোপ কমাতে সাহায্য করে।
খ. ব্যথার উৎস যখন মাথার বাইরে: এটি সেকেন্ডারি হেডেক। এমন ব্যথার কারণটি বাইরে কোথাও রয়েছে, যাতে মাথাও আক্রান্ত হয়। যেমন: সাইনুসাইটিস, মাসটয়ডাইটিস, গ্লুকোমা, দাঁতের সমস্যা, আঘাত, মস্তিষ্কের টিউমার ইত্যাদি।
এ ক্ষেত্রে সাধারণত যে কারণে মাথাব্যথা হচ্ছে তা অনুসন্ধান করা জরুরি। একজন স্নায়ু বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা করলেই রোগ নিরাময় সম্ভব।  ক্লিনিক্যাল নিউরোলজি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস।

সুন্দরী-প্রযুক্তিবিদ না প্রযুক্তিবিদ-সুন্দরী!

যিনি রাঁধেন তিনি চুলও বাঁধেন। কিন্তু একজন সুন্দরী প্রযুক্তিবিদ ও সুপার মডেল নিজের ক্ষেত্রে কোন পরিচয়টা দেবেন? তিনি যে র‌্যাম্পেও হাঁটেন আবার কোডও লেখেন! যুক্তরাষ্ট্রের লিন্ডসে স্কটের এমনই এক পরিচয় সংকট সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। একে তো তিনি সুন্দরী ফ্যাশন মডেল, তায় আবার প্রযুক্তিবিদও। লোকে যা বলে বলুক, চলুন বিষয়টি নিয়ে স্কটের মুখেই শোনা যাক। সুপার মডেল ও কোডার স্কটকে নিয়ে সম্প্রতি সিএনএন একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে।
‘সফটওয়্যার প্রকৌশলী’ বলতে কি শুধু গোমড়ামুখের সারা দিন কম্পিউটার নিয়ে কাজ করা কিংবা সামাজিক যোগাযোগ-বিচ্ছিন্ন কোনো তরুণকেই ভাবতে হবে? আবার সুন্দরী ফ্যাশন মডেলকে কেবল বুদ্ধিহীন দেহ-সৌষ্ঠবের অধিকারীই মনে করতে হবে? অনেক ক্ষেত্রেই সফটওয়্যার প্রকৌশলী ও সুপার মডেলদের এ রকমই মনে করা হয়। কিন্তু সুন্দরী লিন্ডসে স্কট এবার সেই বাঁধাধরা ধারণাকে ভেঙে দিয়েছেন।ফ্যাশন হাউস প্রাডা আর ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের সুপার মডেল লিন্ডসে স্কট তাঁর অবসর সময় কাটান মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে। ২৯ বছর বয়সী লিন্ডসে মার্কিন ফ্যাশন ম্যাগাজিন ‘হার্পার বাজার’, যুক্তরাজ্যের ‘ভোগ’ ম্যাগাজিনেও মডেল হয়েছেন। কিন্তু তিনি তাঁর অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে দক্ষতা নিয়েই গর্ব করেন। অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরে তাঁর তৈরি কয়েকটি অ্যাপ্লিকেশন অনুমোদন পেয়েছে। লিন্ডসে স্কট জানিয়েছেন, ‘একজন ফ্যাশন মডেল হিসেবে কোনো কিছুর ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। কিন্তু একজন অ্যাপ্লিকেশন নির্মাতা হিসেবে আমার তৈরি লিন্ডসে স্কটঅ্যাপ্লিকেশনগুলোর মাধ্যমে আমি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারি।’ আইওএস প্ল্যাটফর্মে স্কটের তৈরি দুটি অ্যাপ্লিকেশন বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে। শিগগিরই একটি সামাজিক যোগাযোগের অ্যাপ উন্মুক্ত করবেন তিনি। তাঁর তৈরি অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে রয়েছে ‘এডুকেট!’ ও ‘আইপোর্ট’। এডুকেট অ্যাপ্লিকেশনটি উগান্ডার শিক্ষার্থীর কল্যাণে একটি দাতব্য বিষয়-সংশ্লিষ্ট আর আইপোর্ট হচ্ছে মডেল বা তারকাদের প্রোফাইল সংরক্ষণের জন্য অ্যাপ। স্কট জানিয়েছেন, ‘যদি স্মার্টনেস আর ভালো প্রোগ্রামারের মধ্যে আমাকে একটি হতে বলা হয়, তবে আমি প্রযুক্তির বিষয়টিই বেছে নেব।’ কোথা থেকে এসব শিখেছেন লিন্ডসে স্কট? কোড লেখার এ বিদ্যা নিজে থেকেই রপ্ত করেছেন সুন্দরী এই সুপার মডেল। মাধ্যমিকে পড়ার সময় তিনি সফটওয়্যার ডকুমেন্টেশন শেখেন এবং তাঁর টিআই-৮৯ ক্যালকুলেটরে প্রোগ্রামিংয়ের বিষয়টিও শেখেন। নিউ জার্সির একজন তরুণী হিসেবে তিনি ক্যালকুলেটরে গেম খেলতে পছন্দ করতেন। তাঁর ভাষ্য, তিনি প্রথমে জানতেনই না যে এগুলো কোনো কাজে লাগবে বা এগুলো কোডিং জাতীয় কিছু। তিনি স্রেফ মজা করার জন্য এগুলো শিখেছিলেন। স্কট আরও জানিয়েছেন, স্কুলে তিনি মোটেও ভালো শিক্ষার্থী ছিলেন না। সব সময় পালিয়ে পালিয়ে বেড়াতেন। আমহার্টস কলেজ থেকে জাভা ল্যাংগুয়েজ, সি++ ও এমআইপিএস শেখেন। কম্পিউটার ও থিয়েটার মেজর হিসেবে নিয়েছিলেন পাঁচ ফুট নয় ইঞ্চি উচ্চতার এই সুন্দরী মডেল। কম্পিউটার প্রোগ্রামিংকে পেশা হিসেবে নেওয়ার বদলে মডেলিংকেই বেছে নেন তিনি। ২০০৯ সালে আফ্রিকান-আমেরিকান এই নারী মডেল কেলভিন ক্লেইনের হয়ে নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকে প্রথম সুযোগ পান। স্কটের ভাষ্য, ‘যখন মডেলিংয়ের সুযোগ এল, তখন মোটেও মডেল হিসেবে কাজ করার ইচ্ছা ছিল না। আমার মডেলিংয়ে আকাঙ্ক্ষা থাকলেও আমার কাছে হঠাত্ই যেন সুযোগ হয়ে গিয়েছিল। এরপর একে একে বড় বড় ফ্যাশন হাউসের কাছ থেকে ডাক আসতেই থাকল।’ তবে মডেলিং নিয়ে কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেও প্রোগ্রামিং একেবারেই ছেড়ে দেননি তিনি। এ সময় তিনি নিজে নিজে পাইথন, অবজেকটিভ-সির মতো প্রোগ্রামিং-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো শিখেছিলেন। বর্তমানে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন নিয়েও কাজ করছেন তিনি। লিন্ডসে স্কট জানান, ‘আমি মডেলিং নিয়েও অনেক ভেবেছি। কিন্তু অনেক মডেলের মধ্যেও যখন আমি কোলে ল্যাপটপ নিয়ে কোড লিখতে থাকি, তখন অন্যদের চেয়ে একটু আলাদাই হয়ে পড়ি। মডেলিংয়ের ক্ষেত্রগুলোতে আমি কখনো আমার এই কোডিংয়ের দক্ষতার বিষয়টিকে জড়াই না। আমি দুটি বিষয়কে আলাদা রাখি।’ লিন্ডসের ভাই ম্যাথু তাঁর বিশাল ভক্ত। ম্যাথু মনে করেন, তাঁর বোন মাইক্রোসফট সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস আর ব্রাজিলের সুপার মডেল গিজেলের মিশ্রণ। তাঁর মতে, লিন্ডসে মডেলিং আর কোডিংয়ের প্রতি লিন্ডসের এই আগ্রহ বিশ্বকে উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

সম্প্রতি নিউ জার্সির একটি স্কুলে গিয়ে সেখানকার শিক্ষার্থীদের কোডিং বিষয়ে উত্সাহ দিয়ে এসেছেন লিন্ডসে। লিন্ডসে বলেছেন, ‘আমরা ভাবি যে প্রযুক্তিবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা হয়। এ ধরনের ধারণা ঠিক নয়। আমাদের ধারণার কারণেই এখন পর্যন্ত নারী আর সংখ্যালঘু কোডার কম দেখা যায়।’

লিন্ডসে স্কটের ওয়েবসাইটের ঠিকানা http://www.lyndseyscott.com/

নকিয়ার ভবিষ্যৎ কোন পথে?

নকিয়ার মুঠোফোন ইউনিট যাচ্ছে মাইক্রোসফটের অধীনে। নকিয়া থাকছে শুধু টেলিকম যন্ত্রাংশ নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে। মুঠোফোন ইউনিট নিয়ে মাইক্রোসফট কী পরিকল্পনা করছে আর নকিয়ার ভবিষ্যত্ই বা কোন পথে?
নকিয়ার মুঠোফোন ব্যবসা আর পেটেন্ট লাইসেন্স কিনেছে বিশ্বের বৃহত্তম সফটওয়্যার নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট। মুঠোফোন সেটের বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে মাইক্রোসফটের এই উদ্যোগ। যুক্তরাজ্যের বাজার-বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, মাইক্রোসফটের স্মার্টফোন প্রচেষ্টা শুরুতেই খুব বেশি সুখকর হচ্ছে না।
২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৭৪০ কোটি মার্কিন ডলারে নকিয়ার মুঠোফোন বিভাগ মাইক্রোসফট কিনে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর বছরের শেষ প্রান্তিক অর্থাত্ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর—এই তিন মাসে নকিয়ার মুঠোফোন বিক্রি ২৯ শতাংশ কমে গেছে। সেই সঙ্গে এই প্রান্তিকে নকিয়ার লোকসানের পাল্লাও ভারী হয়েছে। একসময় বাজারে জনপ্রিয় নকিয়ার তৈরি ফিচার ফোনের বিক্রি কমার পাশাপাশি নকিয়ার স্মার্টফোন বিক্রিও কমেছে প্রায় ৭ শতাংশ।
নকিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট টিমো ইয়ামোটিলা চতুর্থ প্রান্তিকে নকিয়ার অবস্থা প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, নকিয়ার বেশি দামের স্মার্টফোনের চেয়ে সাশ্রয়ী দামের লুমিয়া৫২০ মডেলটি বিক্রি হয়েছে বেশি। স্মার্টফোন নির্মাতা অ্যাপল, স্যামসাং, সনির সঙ্গে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ার কারণে নকিয়ার স্মার্টফোন বিক্রি কমেছে।
নকিয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ওভামের টেলিযোগাযোগ বিশ্লেষক নিক ডিলন জানিয়েছেন, মাইক্রোসফট ও নকিয়া জোটের পক্ষে হাই-এন্ড বা বেশি দামের স্মার্টফোনের বাজার থেকে বেরিয়ে আসা বড় রকমের চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়াও উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমনির্ভর স্মার্টফোনগুলোতে এখনো গ্রাহকের পছন্দের অনেক অ্যাপ্লিকেশন নেই। গুগলের অ্যান্ড্রয়েড ও অ্যাপলের আইওএস অপারেটিং সিস্টেম প্ল্যাটফর্মে যত অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, উইন্ডোজ এখনো সেদিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে।

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে নকিয়ার মুঠোফোন ব্যবসা কিনে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর মাইক্রোসফট তাদের পরিকল্পনা হিসেবে মাইক্রোসফটের পরিকল্পনা ও মার্কেটিং দলের সঙ্গে নকিয়ার কর্মীদের একসঙ্গে করে একটি দল করার ঘোষণা দিয়েছিল। নকিয়া ও মাইক্রোসফটের টিম একসঙ্গে মিলে স্মার্টফোন বাজারে উইন্ডোজ-নির্ভর স্মার্টফোনের জন্য নকিয়া ব্র্যান্ডকে আরও সামনে এগিয়ে নিতে কাজ করবে।
তবে বাজার-বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, স্মার্টফোনের বাজারে এখনই মাইক্রোসফট ও নকিয়া জোটকে ফেলে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ কিছু পরিকল্পনা করলে এখনো মাইক্রোসফট ও নকিয়ার জন্য সুযোগ রয়েছে। এজন্য মাইক্রোসফটকে চীন ও ভারতের মতো উন্নয়নশীল বাজারগুলোর দিকে নজর দিতে হবে। বর্তমানে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যবিত্তরা তাঁদের ফিচার ফোন থেকে স্মার্টফোনে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। এ সুযোগটি মাইক্রোসফট নিতে পারে।
নকিয়ার বর্তমান অবস্থা নিয়ে খুশি নন বিনিয়োগকারীরাও। মুঠোফোনের ব্যবসায় ভালো করতে না পারলে নকিয়ার অবস্থা কতটা শোচনীয় হবে, ২০১৩ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের আয় তা দেখিয়ে দিয়েছে।
বাজার-গবেষকেরা হিসাব করে দেখেছেন, মুঠোফোনের ব্যবসা ছাড়া ফিনল্যান্ডের কোম্পানি হিসেবে নকিয়ার চতুর্থ প্রান্তিকে আড়াই কোটি ইউরো লোকসান হয়েছে। মুঠোফোন ইউনিটটি বাদে নকিয়ার অন্য বিভাগের আয়ও কমে গেছে। তাই মুঠোফোন ইউনিট হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় নকিয়াকে এখন নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে হবে। এদিকে, মুঠোফোন ইউনিটের সঙ্গে নকিয়ার প্রধান নির্বাহী স্টিফেন ইলোপও মাইক্রোসফটে চলে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন টিমো ইয়ামোটিলা। এখন নকিয়ার একজন নতুন প্রধান নির্বাহীর প্রয়োজন পড়বে।
বাজার-বিশ্লেষকেরা অবশ্য নকিয়াকে পরামর্শ দিচ্ছেন যে, মুঠোফোন ইউনিট ছাড়া এখন নকিয়ার উচিত হবে তাদের নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ব্যবসায় জোর দেওয়া। মুঠোফোন নির্মাতা নয়, নকিয়া এখন ফিনল্যান্ডের টেলিকম প্রতিষ্ঠান হিসেবেই পরিচয় তৈরি করতে পারে।
এদিকে, নকিয়ার মুঠোফোন ইউনিটকে নিয়ে একটু ভিন্নভাবে ভাবছে মাইক্রোসফট কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের মার্চ মাসের মধ্যেই নকিয়ার মুঠোফোন ইউনিট পুরোপুরি মাইক্রোসফটের অধীনে চলে আসবে।
মাইক্রোসফটের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নকিয়ার এন্ট্রি লেভেলের আশা সিরিজের হ্যান্ডসেট ও সাশ্রয়ী হ্যান্ডসেটগুলোর পরিবর্তে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমনির্ভর সাশ্রয়ী স্মার্টফোন বাজারে আনার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে মাইক্রোসফট।
‘ইকোনমিক টাইমস’কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে মাইক্রোসফট ইন্ডিয়া অপারেটর চ্যানেল গ্রুপ পরিচালক শার্লিন জানিয়েছেন, নকিয়া ও মাইক্রোসফটের চুক্তির ফলে মুঠোফোন ক্রেতারা ভবিষ্যতে কম দামের হ্যান্ডসেটের আশা করতে পারেন।
ফিচার ফোন ও এন্ট্রি লেভেল স্মার্টফোনে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়াতে মাইক্রোসফট উদ্যোগ নেবে বলে মনে করেন শার্লিন।
শার্লিন আরও জানান, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মুঠোফোনের দাম কমে আসবে। দাম কমানোর বিষয়টি পর্যালোচনা করবে মাইক্রোসফট। ফিচার ফোন থেকে গ্রাহক যাতে আরও বেশি স্মার্টফোন মুখাপেক্ষী হন এবং বেশি করে অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করেন, এজন্য মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম-নির্ভর স্মার্টফোনের দামের বিষয়টি খেয়াল রাখবে বিশ্বের বৃহত্তম সফটওয়্যার নির্মাতাপ্রতিষ্ঠানটি।
থ্রিজি নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হওয়ায় এখন গ্রাহকেরা থ্রিজি সুবিধার স্মার্টফোনে ঝুঁকছেন। তাই থ্রিজি সুবিধার সাশ্রয়ী স্মার্টফোন বাজারে আনতে কাজ করবে মাইক্রোসফট।
শার্লিন জানিয়েছেন, বর্তমানে নকিয়া ও মাইক্রোসফট বাজার বিশ্লেষণ ও গ্রাহকদের চাহিদা পর্যালোচনা করে নতুন স্মার্টফোন তৈরিতে কাজ করছে। এর ফলে দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে মুঠোফোন সেটের দাম কমে যেতে পারে।

বাণিজ্য মেলায় তরুণীদের গয়নায় আগ্রহ বেশি তৈজসপত্র বিক্রি জমজমাট

beta I ব্যবহারবিধি FacebookTwitterGoogle+
Bangla Font Help
LoginRegister
Prothom Aloঅর্থনীতি
প্রচ্ছদআজকের পত্রিকাবাংলাদেশআন্তর্জাতিকঅর্থনীতিশেয়ারবাজারবাণিজ্য সংবাদবিশ্লেষণবিদেশের খবরপোশাক শিল্পমানবসম্পদঅপরাধবিবিধমতামতখেলাবিনোদনফিচারবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিজীবনযাপনআরও…
প্রচ্ছদঅর্থনীতিসংবাদ

বাণিজ্য মেলায় তরুণীদের গয়নায় আগ্রহ বেশি

তৈজসপত্র বিক্রি জমজমাট
নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ০১:৫০, জানুয়ারি ২৬, ২০১৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাণিজ্য মেলায় একটি স্টলে তৈজসপত্র কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতারা -ফোকাস বাংলাঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় নিত্যব্যবহার্য তৈজসপত্র এবং গয়না ও প্রসাধনসামগ্রী কেনার ধুম পড়েছে। আর মূল্য ছাড় ঘোষণা দিয়ে অবিরাম ক্রেতা আকর্ষণের চেষ্টা করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের প্যাভিলিয়ন ও স্টলে ক্রেতাদের ভিড় অন্য দোকানগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। আবার এসব দোকানে পুরুষদের চেয়ে নারী ক্রেতাই বেশি।
মেলায় ভারত, ইরান, তুরস্ক, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের বাহারি পণ্যের স্টলগুলোয়ও চলছে বেশ বেচাকেনা।
গতকাল শনিবার শেরেবাংলা নগরের বাণিজ্য মেলায় সরেজমিনে গিয়ে এই চিত্র পাওয়া গেছে। শুক্রবারের মতো গতকালও দুপুরের পর থেকে মেলায় ভিড় বাড়তে থাকে। শেষ বিকেলে তা জনারণ্যে পরিণত হয়।
মেলায় রয়েছে হাঁড়িপাতিল, ওভেন, থালাবাটি, সসপেন, ননস্টিকি হাঁড়িপাতিল, প্রেসার কুকার, হটপট, চামচসহ নানা ধরনের তৈজসপত্র। ঘর সাজানোর রয়েছে শোপিস, বেডশিট, পর্দা, পাপস ইত্যাদি। এ ছাড়া প্লাস্টিক পণ্যের চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক।
বিদেশি তৈজসপত্রে আগ্রহ: মেলা ঘুরে দেখা গেছে, তৈজসপত্রগুলোর মধ্যে নতুন ও ব্যতিক্রমী পণ্যের দিকে আগ্রহ বেশি ক্রেতাদের
ভারতীয় পণ্যের স্টলে দেখা গেছে, ভেজিটেবল চপার ৩০০ টাকা, ভেজিটেবল স্লাইসার ৪০০ টাকা ও টমোটো চপার ২০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। তাই এই দোকানে ক্রেতাদের ভিড় একটু বেশি।
আবার ইরানি পণ্যের স্টলে তিনটি হটপট একসঙ্গে নিলে এক হাজার ৩৫০ টাকায় ছেড়ে দিচ্ছেন বিক্রেতারা। মেলামাইনের একটি থালার দাম রাখা হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। আর ভাতের ডিশের দাম ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। মেলায় একাধিক ইরানি পণ্যের স্টল রয়েছে।
অন্যদিকে দিল্লি অ্যালুমিনিয়ামের দোকানে একটি মাঝারি আকারের ননস্টিকি কড়াইয়ের দাম ৬০০ টাকা হাঁকছেন বিক্রেতা।
মেলায় আসা মিরপুরের গৃহিণী ফারহানা শারমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিদেশী পণ্য তো আর এভাবে সারা বছর পাওয়া যায় না। তাই মেলায় এসে একসঙ্গে বিদেশি অনেক প্রতিষ্ঠানের তৈজসপত্র পাওয়া যায়। প্রতিবছরই কোনো না কোনো তৈজসপত্র কিনি। এবার ভারতীয় দোকান থেকে ভেজিটেবল ও টমেটো চপার কিনলাম।’
তবে শুধু বিদেশি নয়, দেশি তৈজসপত্রের দোকানে বেশ ভিড়। এ ক্ষেত্রে একটু দামি ব্র্যান্ডের দোকানেই বেশি ক্রেতা ঝুঁকছেন।
আরএফএল প্লাষ্টিকপণ্যের প্যাভিলিয়নে গিয়ে দেখা গেছে, পণ্যের মূল্য পরিশোধের একাধিক কাউন্টারে ক্রেতাদের ভিড়। এই দোকানে মূলত প্লাষ্টিকের বোল, বাটি, ঝুড়ি, বালতি, মগ ইত্যাদি বেশি বিক্রি হচ্ছে।
তবে মেলায় বিছানার চাদর, পর্দা, পাপসসহ এই ধরনের নিত্যপণ্যের চাহিদাও বেশ। খ্যাতনামা জাবের অ্যান্ড জুবায়েরের মাঝারি আকারের তিনটি বিছানার চাদর বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫০০ টাকায়।
কুমিল্লা এন্টারপ্রাইজে গিয়ে দেখা গেছে, ৪২ পিসের একটি ডিনারসেটের দাম সাড়ে আট হাজার টাকা। আর ৩১ পিসের সেটের দাম চার হাজার ২০০ টাকা।
ক্রেতা আকর্ষণে মূল্য ছাড়:
বিক্রি বাড়াতে বিভিন্ন হারে মূল্যছাড় দিয়ে হাঁকডাক করছেন বিক্রেতারা। আবার কেউ কেউ দোকানের সামনেই মূল্যছাড়ের ঘোষণাপত্র ঝুলিয়ে দিয়েছেন।
ওভেন, সসপেন, ননস্টিকি হাঁড়িপাতিলসহ বিভিন্ন পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে সুমি এন্টারপ্রাইজ। কেন এত ছাড় দেওয়া হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে বিক্রয় প্রতিনিধি জানান, মূলত পণ্যের বিক্রি বাড়াতেই এই ছাড়। মেলায় এতে খরচ করে স্টল নেওয়া হয়েছে, সেই খরচ তো পুষিয়ে আনতে হবে।
আর কুমিল্লা এন্টারপ্রাইজ ১০ শতাংশ মূল্য ছাড় ঘোষণা করেছে। এই দোকানের বেশির ভাগই ডিনারসেট বিক্রি হচ্ছে।
দিল্লি অ্যালুমিনিয়াম তাদের সব পণ্যে ১০ শতাংশ ছাড় দিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় সব দোকানেই ১০ থেকে ২০ শতাংশ মূল্যছাড় দিয়ে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে।
তরুণীদের আগ্রহ গয়নায়: দেশি-বিদেশি গয়নার দোকানে তরুণীদের সারা দিনই ভিড় লেগে থাকে। বিশেষ করে ইরান, তুরস্ক ও ভারতীয় প্রসাধনের স্টলে এই ভিড় একটু বেশি।
তুরস্কের স্টলে ক্রিস্টালের গয়না বিক্রি হচ্ছে। এই দোকানে একটি আংটি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা, গলার চেইন ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা, কানের দুল ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর পাশাপাশি থাইল্যান্ড, ইরান ও মালয়েশিয়ার গয়নার চাহিদাও বেশ।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী কায়নাজ মোস্তফা জানান, বছরের অন্য সময় একসঙ্গে এত বিদেশি গয়নার দোকান পাওয়া যায় না। তাই মেলা থেকে পছন্দমতো গয়না কেনা যায়।